হাদিস নং: ১০০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا سفيان، عن عبد الله بن ابي بكر، عن عباد بن تميم، عن عمه، قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم يستسقي وحول رداءه.
১০০৫. ‘আববাদ ইবনু তামীম (রহ.)-এর চাচা ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য দু‘আয় বের হলেন এবং তিনি স্বীয় চাদর পরিবর্তন করলেন। (১০১১, ১০১২, ১০২৩, ১০২৪, ১০২৫, ১০২৬, ১০২৭, ১০২৮, ৬৩৪৩; মুসলিম ৯/১, হাঃ ৮৯৪, আহমাদ ১৬৪৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫১)
হাদিস নং: ১০০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا مغيرة بن عبد الرحمن، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا رفع راسه من الركعة الاخرة يقول " اللهم انج عياش بن ابي ربيعة، اللهم انج سلمة بن هشام، اللهم انج الوليد بن الوليد، اللهم انج المستضعفين من المومنين، اللهم اشدد وطاتك على مضر، اللهم اجعلها سنين كسني يوسف ". وان النبي صلى الله عليه وسلم قال " غفار غفر الله لها، واسلم سالمها الله ". قال ابن ابي الزناد عن ابيه هذا كله في الصبح.
১০০৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শেষ রাক‘আত হতে মাথা উঠালেন, তখন বললেন, হে আল্লাহ্! আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী‘আহ্কে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ্! সালামাহ্ ইবনু হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে রক্ষা কর। হে আল্লাহ্! দুর্বল মু’মিনদেরকে মুক্তি কর। হে আল্লাহ্! মুযার গোত্রের উপর তোমার শাস্তি কঠোর করে দাও। হে আল্লাহ্! ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর মত (এদের উপরে) ও কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দাও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা কর। আর আসলাম গোত্র, আল্লাহ্ তাদেরকে নিরাপদে রাখ। ইবনু আবূ যিনাদ (রহ.) তাঁর পিতা হতে বলেন, এ সমস্ত দু‘আ ফজরের সালাতে ছিল। (৭৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫২)
হাদিস নং: ১০০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، قال حدثنا جرير، عن منصور، عن ابي الضحى، عن مسروق، قال كنا عند عبد الله فقال ان النبي صلى الله عليه وسلم لما راى من الناس ادبارا قال " اللهم سبع كسبع يوسف ". فاخذتهم سنة حصت كل شىء حتى اكلوا الجلود والميتة والجيف، وينظر احدهم الى السماء فيرى الدخان من الجوع، فاتاه ابو سفيان فقال يا محمد انك تامر بطاعة الله وبصلة الرحم وان قومك قد هلكوا، فادع الله لهم قال الله تعالى (فارتقب يوم تاتي السماء بدخان مبين) الى قوله (عاىدون * يوم نبطش البطشة الكبرى) فالبطشة يوم بدر، وقد مضت الدخان والبطشة واللزام واية الروم.
১০০৭. ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন লোকদেরকে ইসলাম বিমুখ ভূমিকায় দেখলেন, তখন দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়ের সাত বছরের (দুর্ভিক্ষের) ন্যায় তাদের উপর সাতটি বছর দুর্ভিক্ষ দাও। ফলে তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ আপতিত হল যে, তা সব কিছুই ধ্বংস করে দিল। এমন কি মানুষ তখন চামড়া, মৃতদেহ এবং পচা ও গলিত জানোয়ারও খেতে লাগল। ক্ষুধার তাড়নায় অবস্থা এতদূর চরম আকার ধারণ করল যে, কেউ যখন আকাশের দিকে তাকাত তখন সে ধোঁয়া দেখতে পেত। এমতাবস্থায় আবূ সুফ্ইয়ান (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি তো আল্লাহর আদেশ মেনে চল এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দান কর। কিন্তু তোমার কওমের লোকেরা তো মরে যাচ্ছে। তুমি তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ কর। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘তুমি সে দিনটির অপেক্ষায় থাক যখন আকাশ সুস্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে...সেদিন আমি প্রবলভাবে তোমাদের পাকড়াও করব’’- (সূরাহ্ দুখান ৪৪/১০-১৬)। ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) বলেন, সে কঠিন আঘাতের দিন ছিল বদরের যুদ্ধের দিন। ধোঁয়াও দেখা গেছে, আঘাতও এসেছে। আর মক্কার মুশ্রিকদের নিহত ও গ্রেফতার হওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, তাও সত্য হয়েছে। সত্য হয়েছে সূরাহ্ রূম-এর এ আয়াতও (রুমবাসী দশ বছরের মধ্যে পারসিকদের উপর আবার বিজয়ী হবে)। (১০২০, ৪৬৯৩, ৪৭৬৭, ৪৭৭৪, ৪৮০৯, ৪৮২০, ৪৮২১, ৪৮২২, ৪৮২৩, ৪৮৩৪, ৪৮২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৩)
হাদিস নং: ১০০৮
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي قال حدثنا ابو قتيبة قال حدثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن دينار عن ابيه قال سمعت ابن عمر يتمثل بشعر ابي طالب وابيض يستسقى الغمام بوجهه ثمال اليتامى عصمة للارامل.
১০০৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে আবূ তালিব-এর এই কবিতা পাঠ করতে শুনেছিঃ তিনি শুভ্র, তাঁর চেহারার অসীলাহ দিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হতো। তিনি ইয়াতীমদের খাবার পরিবেশনকারী আর বিধবাদের তত্ত্বাবধায়ক। (১০০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৪)
হাদিস নং: ১০০৯
সহিহ (Sahih)
وقال عمر بن حمزة حدثنا سالم عن ابيه ربما ذكرت قول الشاعر وانا انظر الى وجه النبي صلى الله عليه وسلم يستسقي فما ينزل حتى يجيش كل ميزاب
وابيض يستسقى الغمام بوجهه ثمال اليتامى عصمة للارامل
وهو قول ابي طالب.
وابيض يستسقى الغمام بوجهه ثمال اليتامى عصمة للارامل
وهو قول ابي طالب.
১০০৯. সালিমের পিতা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বৃষ্টির জন্য দু‘আরত অবস্থায় আমি তাঁর পবিত্র চেহারার দিকে তাকালাম এবং কবির এ কবিতাটি আমার মনে পড়লো। আর তাঁর (মিম্বার হতে) নামতে না নামতেই প্রবলবেগে মীযাব* হতে পানি প্রবাহিত হতে দেখলাম।
তিনি শুভ্র, তাঁর চেহারার অসীলাহ দিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হতো।
তিনি ইয়াতীমদের খাবার পরিবেশনকারী আর বিধবাদের তত্ত্বাবধায়ক। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৪)
আর এটা হলো আবূ তালিবের বাণী (কবিতা)।
তিনি শুভ্র, তাঁর চেহারার অসীলাহ দিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হতো।
তিনি ইয়াতীমদের খাবার পরিবেশনকারী আর বিধবাদের তত্ত্বাবধায়ক। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৪)
আর এটা হলো আবূ তালিবের বাণী (কবিতা)।
নোট: *পানি প্রবাহিত হওয়ার নালা- আল কাওসার আধুনিক আরবী অভিধান দ্রঃ। হাদিসে মিযাব বলতে কাবা ঘরের ছাদের পানি নামার স্থানকে বুঝানো হয়েছে।
হাদিস নং: ১০১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن محمد، قال حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري، قال حدثني ابي عبد الله بن المثنى، عن ثمامة بن عبد الله بن انس، عن انس، ان عمر بن الخطاب ـ رضى الله عنه ـ كان اذا قحطوا استسقى بالعباس بن عبد المطلب فقال اللهم انا كنا نتوسل اليك بنبينا فتسقينا وانا نتوسل اليك بعم نبينا فاسقنا. قال فيسقون.
১০১০. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) অনাবৃষ্টির সময় ‘আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযি.)-এর ওয়াসীলাহ দুয়া'র মাধ্যম দিয়ে বৃষ্টির জন্য দু‘আ করতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ্! (আগে) আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুয়া'র মাধ্যম ওয়াসীলাহ দিয়ে দু‘আ করতাম এবং আপনি বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চাচার দুয়া'র মাধ্যম ওয়াসীলাহ দিয়ে দু‘আ করছি, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, দু‘আর সাথে সাথেই বৃষ্টি বর্ষিত হত। (৩৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৫)
হাদিস নং: ১০১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق، قال حدثنا وهب، قال اخبرنا شعبة، عن محمد بن ابي بكر، عن عباد بن تميم، عن عبد الله بن زيد، ان النبي صلى الله عليه وسلم استسقى فقلب رداءه.
১০১১. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়িদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য দু‘আ করেন এবং নিজের চাদর উল্টিয়ে দেন। (১০০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ পৃষ্ঠা ৪২১ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৬)
হাদিস নং: ১০১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا سفيان، قال عبد الله بن ابي بكر انه سمع عباد بن تميم، يحدث اباه عن عمه عبد الله بن زيد، ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج الى المصلى فاستسقى، فاستقبل القبلة، وقلب رداءه، وصلى ركعتين. قال ابو عبد الله كان ابن عيينة يقول هو صاحب الاذان، ولكنه وهم، لان هذا عبد الله بن زيد بن عاصم المازني، مازن الانصار.
১০১২. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গেলেন এবং বৃষ্টির জন্য দু‘আ করলেন। অতঃপর কিব্লামুখী হয়ে নিজের চাদরখানি উল্টিয়ে নিলেন এবং দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.) বলতেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.) হলেন আযানের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সাহাবী। কিন্তু তা ঠিক নয়। কারণ ইনি হলেন, সেই ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আসিম মাযিনী, যিনি আনসারের মাযিন গোত্রের লোক। (১০০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৭)
হাদিস নং: ১০১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد، قال اخبرنا ابو ضمرة، انس بن عياض قال حدثنا شريك بن عبد الله بن ابي نمر، انه سمع انس بن مالك، يذكر ان رجلا، دخل يوم الجمعة من باب كان وجاه المنبر، ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاىم يخطب فاستقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم قاىما فقال يا رسول الله، هلكت المواشي وانقطعت السبل، فادع الله يغيثنا. قال فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه فقال " اللهم اسقنا، اللهم اسقنا، اللهم اسقنا ". قال انس ولا والله ما نرى في السماء من سحاب ولا قزعة ولا شيىا، وما بيننا وبين سلع من بيت ولا دار، قال فطلعت من وراىه سحابة مثل الترس، فلما توسطت السماء انتشرت ثم امطرت. قال والله ما راينا الشمس ستا، ثم دخل رجل من ذلك الباب في الجمعة المقبلة، ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاىم يخطب، فاستقبله قاىما فقال يا رسول الله، هلكت الاموال وانقطعت السبل، فادع الله يمسكها، قال فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه ثم قال " اللهم حوالينا ولا علينا، اللهم على الاكام والجبال والاجام والظراب والاودية ومنابت الشجر ". قال فانقطعت وخرجنا نمشي في الشمس. قال شريك فسالت انسا اهو الرجل الاول قال لا ادري.
15/5. بَابُ انْتِقَامِ الرَّبِّ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ خَلْقِةِ بِالْقَحْطِ إِذَا انْتُهِكَتْ مَحَارِمُهُ
১৫/৫. অধ্যায়ঃ আল্লাহর সৃষ্টজীবের মধ্য হতে কেউ তাঁর হারামকৃত বিধানসমূহের সীমা অতিক্রম করলে মহিমাময় প্রতিপালক কর্তৃক দুর্ভিক্ষ দ্বারা শাস্তি প্রদান।
১০১৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জুমু’আহ’র দিন মিম্বরের সোজাসুজি দরওয়াজা দিয়ে (মসজিদে) প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! গবাদি পশু ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর উভয় হাত তুলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন। আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা তখন আকাশে মেঘমালা, মেঘের চিহ্ন বা কিছুই দেখতে পাইনি। অথচ সাল’আ (মদিনার একটি পাহাড়) পর্বত ও আমাদের মধ্যে কোন ঘর-বাড়ি ছিল না। আনাস (রাযি.) বলেন, হঠাৎ সাল’আ পর্বতের পিছন হতে ঢালের মত মেঘ বেরিয়ে এল এবং তা মধ্য আকাশে পৌঁছে বিস্তৃত হয়ে পড়ল। অতঃপর বর্ষণ শুরু হল। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা ছয়দিন সূর্য দেখতে পাইনি। অতঃপর এক ব্যক্তি পরবর্তী জুমু’আহ’র দিন সে দরজা দিয়ে (মসজিদে) প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাটও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাজেই আপনি আল্লাহর নিকট বৃষ্টি বন্ধের জন্য দু’আ করুন। আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত তুলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের আশেপাশে, আমাদের উপর নয়; টিলা, পাহাড়, উচ্চভূমি, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন। আনাস (রাযি.) বলেন, এতে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা (মাসজিদ হতে বেরিয়ে) রোদে চলতে লাগলাম। শরীক (রহ.) (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আগের সেই লোকটি? তিনি বললেন, আমি জানি না। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৮)
১৫/৫. অধ্যায়ঃ আল্লাহর সৃষ্টজীবের মধ্য হতে কেউ তাঁর হারামকৃত বিধানসমূহের সীমা অতিক্রম করলে মহিমাময় প্রতিপালক কর্তৃক দুর্ভিক্ষ দ্বারা শাস্তি প্রদান।
১০১৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জুমু’আহ’র দিন মিম্বরের সোজাসুজি দরওয়াজা দিয়ে (মসজিদে) প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! গবাদি পশু ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর উভয় হাত তুলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ্! বৃষ্টি দিন। আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা তখন আকাশে মেঘমালা, মেঘের চিহ্ন বা কিছুই দেখতে পাইনি। অথচ সাল’আ (মদিনার একটি পাহাড়) পর্বত ও আমাদের মধ্যে কোন ঘর-বাড়ি ছিল না। আনাস (রাযি.) বলেন, হঠাৎ সাল’আ পর্বতের পিছন হতে ঢালের মত মেঘ বেরিয়ে এল এবং তা মধ্য আকাশে পৌঁছে বিস্তৃত হয়ে পড়ল। অতঃপর বর্ষণ শুরু হল। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা ছয়দিন সূর্য দেখতে পাইনি। অতঃপর এক ব্যক্তি পরবর্তী জুমু’আহ’র দিন সে দরজা দিয়ে (মসজিদে) প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাটও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাজেই আপনি আল্লাহর নিকট বৃষ্টি বন্ধের জন্য দু’আ করুন। আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত তুলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের আশেপাশে, আমাদের উপর নয়; টিলা, পাহাড়, উচ্চভূমি, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন। আনাস (রাযি.) বলেন, এতে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা (মাসজিদ হতে বেরিয়ে) রোদে চলতে লাগলাম। শরীক (রহ.) (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আগের সেই লোকটি? তিনি বললেন, আমি জানি না। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৮)
হাদিস নং: ১০১৪
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد قال حدثنا اسماعيل بن جعفر عن شريك عن انس بن مالك ان رجلا دخل المسجد يوم جمعة من باب كان نحو دار القضاء ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاىم يخطب فاستقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم قاىما ثم قال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هلكت الاموال وانقطعت السبل فادع الله يغيثنا فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه ثم قال اللهم اغثنا اللهم اغثنا اللهم اغثنا قال انس ولا والله ما نرى في السماء من سحاب ولا قزعة وما بيننا وبين سلع من بيت ولا دار قال فطلعت من وراىه سحابة مثل الترس فلما توسطت السماء انتشرت ثم امطرت فلا والله ما راينا الشمس ستا ثم دخل رجل من ذلك الباب في الجمعة ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاىم يخطب فاستقبله قاىما فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هلكت الاموال وانقطعت السبل فادع الله يمسكها عنا قال فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه ثم قال اللهم حوالينا ولا علينا اللهم على الاكام والظراب وبطون الاودية ومنابت الشجر قال فاقلعت وخرجنا نمشي في الشمس قال شريك سالت انس بن مالك اهو الرجل الاول فقال ما ادري.
১০১৪. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জুমু’আহ’র দিন দারুল কাযা (বিচার করার স্থান)-এর দিকের দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। এ সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। লোকটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ নষ্ট হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেল। আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দান করেন।তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ হাত তুলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন।
আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মেঘ নেই, মেঘের সামান্য টুকরা ও নেই। অথচ সাল’আ পর্বত ও আমাদের মধ্যে কোন ঘরবাড়ি ছিল না। তিনি বলেন, হঠাৎ সাল’আর ওপাশ হতে ঢালের মত মেঘ উঠে এল এবং মধ্য আকাশে এসে ছড়িয়ে পড়লো। অতঃপর প্রচুর বর্ষণ হতে লাগল। আল্লাহর কসম! আমরা ছয়দিন সূর্য দেখতে পাইনি। এর পরের জুমু’আয় সে দরজা দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। লোকটি তাঁর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাজেই আপনি বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করুন।
আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু’ হাত তুলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ্! টিলা, মালভূমি, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন। আনাস (রাযি.) বলেন, তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা বেরিয়ে রোদে চলতে লাগলাম। (রাবী) শরীক (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আগের সেই লোক? তিনি বললেন, আমি জানি না। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৯)
আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মেঘ নেই, মেঘের সামান্য টুকরা ও নেই। অথচ সাল’আ পর্বত ও আমাদের মধ্যে কোন ঘরবাড়ি ছিল না। তিনি বলেন, হঠাৎ সাল’আর ওপাশ হতে ঢালের মত মেঘ উঠে এল এবং মধ্য আকাশে এসে ছড়িয়ে পড়লো। অতঃপর প্রচুর বর্ষণ হতে লাগল। আল্লাহর কসম! আমরা ছয়দিন সূর্য দেখতে পাইনি। এর পরের জুমু’আয় সে দরজা দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন। লোকটি তাঁর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাজেই আপনি বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করুন।
আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু’ হাত তুলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ্! টিলা, মালভূমি, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন। আনাস (রাযি.) বলেন, তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা বেরিয়ে রোদে চলতে লাগলাম। (রাবী) শরীক (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আগের সেই লোক? তিনি বললেন, আমি জানি না। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৯)
হাদিস নং: ১০১৫
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا ابو عوانة عن قتادة عن انس بن مالك قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة اذ جاءه رجل فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قحط المطر فادع الله ان يسقينا فدعا فمطرنا فما كدنا ان نصل الى منازلنا فما زلنا نمطر الى الجمعة المقبلة قال فقام ذلك الرجل او غيره فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ادع الله ان يصرفه عنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم حوالينا ولا علينا قال فلقد رايت السحاب يتقطع يمينا وشمالا يمطرون ولا يمطر اهل المدينة.
১০১৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহ’র দিন খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে। আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন। তিনি যেন আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন। তিনি তখন দু‘আ করলেন। ফলে এত অধিক বৃষ্টি হল যে, আমাদের নিজ নিজ ঘরে পৌঁছতে পারছিলাম না। এমনকি পরের জুমু‘আ পর্যন্ত বৃষ্টি হতে থাকল। আনাস (রাযি.) বলেন, তখন সে লোকটি অথবা অন্য একটি লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি দু‘আ করুন, আল্লাহ্ যেন আমাদের উপর হতে বৃষ্টি সরিয়ে দেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। আনাস (রাযি.) বলেন, আমি তখন দেখতে পেলাম, মেঘ ডানে ও বামে পৃথক হয়ে বৃষ্টি হতে লাগল, মদিনা্বাসীর উপর বর্ষণ হচ্ছিল না। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৯৫৪ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬০)
হাদিস নং: ১০১৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن شريك بن عبد الله عن انس بن مالك قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال هلكت المواشي وتقطعت السبل فدعا فمطرنا من الجمعة الى الجمعة ثم جاء فقال تهدمت البيوت وتقطعت السبل وهلكت المواشي فادع الله يمسكها فقام فقال اللهم على الاكام والظراب والاودية ومنابت الشجر فانجابت عن المدينة انجياب الثوب.
১০১৬. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, গৃহপালিত পশুগুলো মরে যাচ্ছে এবং রাস্তাগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি দু‘আ করলেন। ফলে সে জুমু‘আহ হতে পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকল। অতঃপর সে ব্যক্তি আবার এসে বলল, (অতি বৃষ্টির ফলে) ঘরবাড়ী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, রাস্তা অচল হয়ে যাচ্ছে এবং পশুগুলোও মরে যাচ্ছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ্! টিলা, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন। তখন মদিনা হতে মেঘ এমনভাবে কেটে গেল, যেমন কাপড় ছিঁড়ে ফাঁক হয়ে যায়। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬১)
হাদিস নং: ১০১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن شريك بن عبد الله بن ابي نمر، عن انس بن مالك، قال جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله، هلكت المواشي وانقطعت السبل، فادع الله، فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم فمطروا من جمعة الى جمعة، فجاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله، تهدمت البيوت وتقطعت السبل وهلكت المواشي. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم على رءوس الجبال والاكام وبطون الاودية ومنابت الشجر ". فانجابت عن المدينة انجياب الثوب.
১০১৭. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! পশুগুলো মারা যাচ্ছে, এবং রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করলেন। ফলে সে জুমু‘আ হতে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকল। অতঃপর এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়েছে, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে এবং পশুগুলোও মরে যাচ্ছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ হে আল্লাহ্! পাহাড়ের চূড়ায়, টিলায়, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বৃষ্টি বর্ষণ করুন। অতঃপর মাদ্বীনার আকাশ হতে মেঘ সরে গেল, যেমন কাপড় ছিঁড়ে ফাঁক হয়ে যায়। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬২)
হাদিস নং: ১০১৮
সহিহ (Sahih)
الحسن بن بشر قال حدثنا معافى بن عمران عن الاوزاعي عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس بن مالك ان رجلا شكا الى النبي صلى الله عليه وسلم هلاك المال وجهد العيال فدعا الله يستسقي ولم يذكر انه حول رداءه ولا استقبل القبلة.
১০১৮. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সম্পদ বিনষ্ট হবার এবং পরিবার-পরিজনের দুঃখ-কষ্টের অভিযোগ জানান। তখন তিনি আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য দু‘আ করলেন। বর্ণনাকারী এ কথা বলেননি, তিনি (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তাঁর চাদর উল্টিয়ে ছিলেন এবং এও বলেননি, তিনি কিবলামুখী হয়েছিলেন। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৩)
হাদিস নং: ১০১৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن شريك بن عبد الله بن ابي نمر عن انس بن مالك انه قال جاء رجل الى رسول الله فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هلكت المواشي وتقطعت السبل فادع الله فدعا الله فمطرنا من الجمعة الى الجمعة فجاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم تهدمت البيوت وتقطعت السبل وهلكت المواشي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم على ظهور الجبال والاكام وبطون الاودية ومنابت الشجر فانجابت عن المدينة انجياب الثوب.
১০১৯. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! পশুগুলো মরে যাচ্ছে এবং রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই আপনি আল্লাহর নিকট (বৃষ্টির জন্য) দু‘আ করুন। তখন তিনি দু‘আ করলেন। ফলে এক জুমু‘আহ হতে পরের জুমু‘আহ পর্যন্ত আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হতে থাকল। অতঃপর এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে এবং পশুগুলোও মরে যাচ্ছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ্! পাহাড়ের উপর, টিলার উপর, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন। ফলে মদিনা হতে মেঘ এমনভাবে কেটে গেল যেমন কাপড় ছিড়ে ফাঁক হয়ে যায়। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৪)
হাদিস নং: ১০২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير، عن سفيان، حدثنا منصور، والاعمش، عن ابي الضحى، عن مسروق، قال اتيت ابن مسعود فقال ان قريشا ابطىوا عن الاسلام،، فدعا عليهم النبي صلى الله عليه وسلم فاخذتهم سنة حتى هلكوا فيها واكلوا الميتة والعظام، فجاءه ابو سفيان فقال يا محمد، جىت تامر بصلة الرحم، وان قومك هلكوا، فادع الله. فقرا (فارتقب يوم تاتي السماء بدخان مبين) ثم عادوا الى كفرهم فذلك قوله تعالى (يوم نبطش البطشة الكبرى) يوم بدر. قال وزاد اسباط عن منصور فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فسقوا الغيث، فاطبقت عليهم سبعا، وشكا الناس كثرة المطر فقال " اللهم حوالينا ولا علينا ". فانحدرت السحابة عن راسه، فسقوا الناس حولهم.
১০২০. ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরাইশরা যখন ইসলাম গ্রহণে দেরি করছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে দু‘আ করলেন। পরিণামে তাদেরকে দুর্ভিক্ষ এমনভাবে গ্রাস করল যে, তারা ধ্বংস হতে লাগল এবং মৃত দেহ ও হাড়গোড় খেতে লাগল। তখন আবূ সুফ্ইয়ান (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি তো আত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়ে থাক। অথচ তোমার জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তুমি মহান আল্লাহর নিকট দু‘আ কর। তখন তিনি তিলাওয়াত করলেন, ‘‘তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের যে দিন আসমানে প্রকাশ্য ধোঁয়া দেখা দিবে’’- (সূরাহ্ দুখান ৪৪/১০)। অতঃপর (আল্লাহ্ যখন তাদের বিপদমুক্ত করলেন তখন) তারা আবার কুফরীর দিকে ফিরে গেল। এর পরিণতি স্বরূপ আল্লাহর এ বাণীঃ ‘‘যেদিন আমি কঠোরভাবে পাকড়াও করব’’- (সূরাহ্ দুখান ৪৪/১৬) অর্থাৎ বদরের দিন। মানসূর (রহ.) হতে (বর্ণনাকারী) আসবাত (রহ.) আরো বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করেন। ফলে লোকজনের উপর বৃষ্টিপাত হয় এবং অবিরাম সাতদিন পর্যন্ত বর্ষিত হতে থাকে। লোকেরা অতিবৃষ্টির বিষয়টি পেশ করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করে বলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। অতঃপর তাঁর মাথার উপর হতে মেঘ সরে গেল। তাঁদের পার্শ্ববর্তী লোকদের উপর বর্ষিত হল। (১০০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৫)
হাদিস নং: ১০২১
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر حدثنا معتمر عن عبيد الله عن ثابت عن انس بن مالك قال كان النبي يخطب يوم جمعة فقام الناس فصاحوا فقالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قحط المطر واحمرت الشجر وهلكت البهاىم فادع الله يسقينا فقال اللهم اسقنا مرتين وايم الله ما نرى في السماء قزعة من سحاب فنشات سحابة وامطرت ونزل عن المنبر فصلى فلما انصرف لم تزل تمطر الى الجمعة التي تليها فلما قام النبي يخطب صاحوا اليه تهدمت البيوت وانقطعت السبل فادع الله يحبسها عنا فتبسم النبي ثم قال اللهم حوالينا ولا علينا فكشطت المدينة فجعلت تمطر حولها ولا تمطر بالمدينة قطرة فنظرت الى المدينة وانها لفي مثل الاكليل.
১০২১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমু‘আহর দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। তখন লোকেরা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বলতে লাগল, হে আল্লাহর রাসূল! বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে, গাছপালা লাল হয়ে গেছে এবং পশুগুলো মারা যাচ্ছে। তাই আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন, যেন তিনি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন। এভাবে দু’বার বললেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) আল্লাহর কসম! আমরা তখন আকাশে এক খন্ড মেঘও দেখতে পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ মেঘ দেখা দিল এবং বর্ষণ হলো। তিনি (রাসূলুল্লাহ্) মিম্বার হতে নেমে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর যখন তিনি চলে গেলেন, তখন হতে পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত বৃষ্টি হতে থাকে। অতঃপর যখন তিনি (দাঁড়িয়ে) জুমু‘আহর খুৎবাহ দিচ্ছিলেন, তখন লোকেরা উচ্চস্বরে তাঁর নিকট নিবেদন করল, ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হচ্ছে, রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তাই আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন যেন আমাদের হতে তিনি বৃষ্টি বন্ধ করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃদু হেসে বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। তখন মদিনার আকাশ মুক্ত হলো আর এর আশে পাশে বৃষ্টি হতে লাগল। মদিনা্য় তখন এক ফোঁটা বৃষ্টিও হচ্ছিল না। আমি মদিনার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মদিনা যেন মুকুটের ন্যায় শোভা পাচ্ছিল। (৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৬)
হাদিস নং: ১০২২
সহিহ (Sahih)
وقال لنا ابو نعيم عن زهير، عن ابي اسحاق، خرج عبد الله بن يزيد الانصاري وخرج معه البراء بن عازب وزيد بن ارقم رضى الله عنهم فاستسقى، فقام بهم على رجليه على غير منبر فاستغفر، ثم صلى ركعتين يجهر بالقراءة ولم يوذن، ولم يقم. قال ابو اسحاق وراى عبد الله بن يزيد النبي صلى الله عليه وسلم.
১০২২. আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ইয়াযীদ আনসারী (রাযি.) বের হলেন এবং, বারাআ ইবনু ‘আযিব ও যায়দ ইবনু আরকাম (রাযি.) ও তাঁর সঙ্গে বের হলেন। তিনি মিম্বার ছাড়াই পায়ের উপরে দাঁড়িয়ে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টির জন্য দু‘আ করলেন। অতঃপর ইস্তিগফার করে আযান ও ইকামাত ব্যতীত সশব্দে কিরাআত পড়ে দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। (রাবী) আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ইয়াযীদ (আনসারী) (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছেন। (সুতরাং তিনি সাহাবী)। (মুসলিম ১৫/৩২, হাঃ ১২৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ পৃষ্ঠা ৪২৬ ও ৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ ৬৫০)
হাদিস নং: ১০২৩
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان قال اخبرنا شعيب عن الزهري قال حدثني عباد بن تميم ان عمه وكان من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم اخبره ان النبي خرج بالناس يستسقي لهم فقام فدعا الله قاىما ثم توجه قبل القبلة وحول رداءه فاسقوا.
১০২৩. ‘আববাদ ইবনু তামীম হতে বর্ণিত। তাঁর চাচা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী ছিলেন, তিনি তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে তাঁদের জন্য বৃষ্টির দু‘আর উদ্দেশে বের হলেন। তিনি দাঁড়ালেন এবং দাঁড়িয়েই আল্লাহর নিকট দু‘আ করলেন। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে নিজ চাদর উল্টিয়ে দিলেন। অতঃপর তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল। (১০০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৭)
হাদিস নং: ১০২৪
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا ابن ابي ذىب عن الزهري عن عباد بن تميم عن عمه قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم يستسقي فتوجه الى القبلة يدعو وحول رداءه ثم صلى ركعتين جهر فيهما بالقراءة.
১০২৪. ‘আববাদ ইবনু তামীম (রাযি.) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির দু‘আর জন্য বের হলেন, কিবলামুখী হয়ে দু‘আ করলেন এবং নিজের চাদরখানি উল্টে দিলেন। অতঃপর দু‘রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তিনি উভয় রাক‘আতে সশব্দে কিরাআত পাঠ করলেন। (১০০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৮)