অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৮১/১. সুস্থতা আর অবসর, আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন।
মোট ১৮২ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৪১২ সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم اخبرنا عبد الله بن سعيد هو ابن ابي هند عن ابيه عن ابن عباس قال قال النبي صلى الله عليه وسلم نعمتان مغبون فيهما كثير من الناس الصحة والفراغ قال عباس العنبري حدثنا صفوان بن عيسى عن عبد الله بن سعيد بن ابي هند عن ابيه سمعت ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.
৬৪১২. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন দু’টি নিয়ামত আছে, যে দু’টোতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর। ’আব্বাস আম্বরী (রহ.) .....সা’ঈদ ইবনু আবূ হিন্দ (রহ.) থেকে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকমই হাদীস বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭০)
হাদিস নং: ৬৪১৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن معاوية بن قرة، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال"‏ اللهم لا عيش الا عيش الاخرة، فاصلح الانصار والمهاجرة ‏"‏‏.‏
৬৪১৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আয় আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন। কাজেই আপনি আনসার আর মুহাজিরদের কল্যাণ করুন। [২৮৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭১)
হাদিস নং: ৬৪১৪ সহিহ (Sahih)
حدثني احمد بن المقدام، حدثنا الفضيل بن سليمان، حدثنا ابو حازم، حدثنا سهل بن سعد الساعدي، كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في الخندق وهو يحفر ونحن ننقل التراب ويمر بنا فقال ‏ "‏ اللهم لا عيش الا عيش الاخره، فاغفر للانصار والمهاجره ‏"‏‏.‏ تابعه سهل بن سعد عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله‏.‏
৬৪১৪. সাহল ইবনু সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খন্দকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি (মাটি) খনন করছিলেন এবং আমরা মাটি সরিয়ে দিচ্ছিলাম। তিনি আমাদের দেখছিলেন। তখন তিনি বলছিলেনঃ হে আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন। কাজেই আপনি আনসার ও মুহাজিরদেরকে ক্ষমা করুন।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭২)
নোট: [1] (৬৪১৩-১৪) এ দু’টি হাদীস থেকে দুনিয়ার পঙ্কিলতা ও নোংরামি এবং ধ্বংসের দ্রুততা প্রকাশে দুনিয়ার জীবন যাত্রার প্রতি অবজ্ঞার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪১৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا عبد العزيز بن ابي حازم عن ابيه عن سهل قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول موضع سوط في الجنة خير من الدنيا وما فيها ولغدوة في سبيل الله او روحة خير من الدنيا وما فيها.
وَقَوْلِهِ تَعَالَى: (أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِيْنَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُه” ثُمَّ يَهِيْجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُوْنُ حُطَامًا وَفِي الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِنْ اللهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلاَّ مَتَاعُ الْغُرُوْرِ)

আল্লাহর বাণীঃ ’’তোমরা জেনে রেখ, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার আর ধন-মাল ও সন্তানাদিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। তার উদাহরণ হল বৃষ্টি, আর তা হতে উৎপন্ন শষ্যাদি কৃষকের মনকে আনন্দে ভরে দেয়, তারপর তা পেকে যায়, তখন তুমি তাকে হলুদ বর্ণ দেখতে পাও, পরে তা খড় ভুষি হয়ে যায়। (আর আখিরাতের চিত্র অন্যরকম, পাপাচারীদের জন্য), আখিরাতে আছে কঠিন শাস্তি, (আর নেক্কারদের জন্য আছে) আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার বস্তু ছাড়া আর কিছুই না।’’ (সূরাহ আল-হাদীদ ৫৭/২০)


৬৪১৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, জান্নাতের মাঝে এক চাবুক পরিমিত জায়গা দুনিয়া এবং তার মাঝে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। আর আল্লাহর পথে সকালের এক মুহূর্ত কিংবা বিকালের (সন্ধ্যা) এক মুহূর্ত দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। [২৭৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭৩)
হাদিস নং: ৬৪১৬ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا محمد بن عبد الرحمن ابو المنذر الطفاوي عن سليمان الاعمش قال حدثني مجاهد عن عبد الله بن عمر قال اخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بمنكبي فقال كن في الدنيا كانك غريب او عابر سبيل وكان ابن عمر يقول اذا امسيت فلا تنتظر الصباح واذا اصبحت فلا تنتظر المساء وخذ من صحتك لمرضك ومن حياتك لموتك.
৬৪১৬. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার দু’ কাঁধ ধরে বললেনঃ তুমি দুনিয়াতে থাক যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী।

আর ইবনু ’উমার (রাঃ) বলতেন, তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের আর অপেক্ষা করো না এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার আর অপেক্ষা করো না। তোমার সুস্থতার সময় তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য প্রস্তুতি লও। আর তোমার জীবিত অবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি লও। [1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৮, ই.ফা ৫৯৭৪)
নোট: [1] অর্থাৎ সুস্থ থাকা অবস্থায় তুমি মহৎ কাজে ব্যস্ত থাক। কারণ রোগ ব্যধির সময় যদি তুমি তা পালনে অক্ষম হও তখন যেন তা পালন করতে বাধ্য করা না হয়।

হাদীসটি থেকে শিক্ষণীয় :

(১) শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষা বা উপদেশ দেয়ার সময় মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য ছাত্রের কোন অঙ্গ ধরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাউকে আকৃষ্ট করার জন্য এমন করা হয় ।

(২) একজনকে সম্বোধন করা হলেও সবাইকে উদ্দেশ্য নেয়া।

(৩) উম্মতের কল্যাণ হবে এমন প্রত্যেক কাজের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’র আগ্রহ।

(৪) দুনিয়াদারী ত্যাগ করা এবং যা অপরিহার্য তার প্রতি সীমাবদ্ধ থাকার উৎসাহ প্রদান।
(ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪১৭ সহিহ (Sahih)
صدقة بن الفضل اخبرنا يحيى بن سعيد عن سفيان قال حدثني ابي عن منذر عن ربيع بن خثيم عن عبد الله قال خط النبي صلى الله عليه وسلم خطا مربعا وخط خطا في الوسط خارجا منه وخط خططا صغارا الى هذا الذي في الوسط من جانبه الذي في الوسط وقال هذا الانسان وهذا اجله محيط به او قد احاط به وهذا الذي هو خارج امله وهذه الخطط الصغار الاعراض فان اخطاه هذا نهشه هذا وان اخطاه هذا نهشه هذا.
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلاَّ مَتَاعُ الْغُرُورِ)، (ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ).
وَقَالَ عَلِيٌّ ارْتَحَلَتِ الدُّنْيَا مُدْبِرَةً، وَارْتَحَلَتِ الآخِرَةُ مُقْبِلَةً، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُونَ، فَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الآخِرَةِ، وَلاَ تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا، فَإِنَّ الْيَوْمَ عَمَلٌ وَلاَ حِسَابَ، وَغَدًا حِسَابٌ وَلاَ عَمَلَ.
(بِمُزَحْزِحِهِ) بِمُبَاعِدِهِ.

আল্লাহর বাণীঃ যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করা হল এবং জান্নাতে দাখিল করা হল, অবশ্যই সে ব্যক্তি সফলকাম হল, কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।- (সূরাহ আলে ’ইমরান ৩/১৮৫)। ছেড়ে দাও ওদেরকে, ওরা খেতে থাক আর ভোগ করতে থাক, আর (মিথ্যে) আশা ওদেরকে উদাসীনতায় ডুবিয়ে রাখুক, শীঘ্রই ওরা (ওদের ’আমলের পরিণতি) জানতে পারবে। (সূরাহ আল-হিজর ১৫/৩)। ’আলী (রাঃ) বলেন, এ দুনিয়া পেছনের দিকে যাচ্ছে, আর আখিরাত সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। এ দু’টির প্রতিটির আছে সন্তানাদি। অতএব তোমরা আখিরাতের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হও। দুনিয়ার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। কারণ, আজ ’আমলের দিন, অতএব হিসাব নেই। আর আগামীকাল হিসাব, কোন ’আমল নেই। [1]


৬৪১৭. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন এবং এর মধ্যখানে একটি রেখা টানলেন, যা তাত্থেকে বের হয়ে গেল। তারপর দু’পাশ দিয়ে মধ্যের রেখার সঙ্গে ভেতরের দিকে কয়েকটা ছোট ছোট রেখা মিলালেন এবং বললেন, এ মাঝের রেখাটা হলো মানুষ। আর এ চতুর্ভুজটি হলো তার আয়ু, যা বেষ্টন করে আছে। আর বাইরে বেরিয়ে যাওয়া রেখাটি হলো তার আশা। আর এ ছোট ছোট রেখাগুলো বাধা-বন্ধন। যদি সে এর একটা এড়িয়ে যায়, তবে আরেকটা তাকে দংশন করে। আর আরেকটি যদি এড়িয়ে যায় তবে আরেকটি তাকে দংশন করে। (আধুনিক প্রকাশনী-৫৯৬৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭৫)
নোট: [1] যারা সর্তক হয়ে জীবিকা নির্বাহ করে তারা পরকালের সন্তান আর হিসাব ছাড়াই জীবিকা নির্বহ করে তারা ইহকালের সন্তান। ইহকাল শুধু কর্মের জায়গা কোন হিসাব লাগে না আর পরকাল শুধু হিসাবের জায়গা কোন কর্ম চলে না।
হাদিস নং: ৬৪১৮ সহিহ (Sahih)
مسلم حدثنا همام عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس قال خط النبي صلى الله عليه وسلم خطوطا فقال هذا الامل وهذا اجله فبينما هو كذلك اذ جاءه الخط الاقرب.
৬৪১৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি রেখা টানলেন এবং বললেন, এটা আশা আর এটা তার আয়ু। মানুষ যখন এ অবস্থার মাঝে থাকে হঠাৎ নিকটবর্তী রেখা (মৃত্যু) এসে যায়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭৬)
হাদিস নং: ৬৪১৯ সহিহ (Sahih)
عبد السلام بن مطهر حدثنا عمر بن علي عن معن بن محمد الغفاري عن سعيد بن ابي سعيد المقبري عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اعذر الله الى امرى اخر اجله حتى بلغه ستين سنة تابعه ابو حازم وابن عجلان عن المقبري.
لِقَوْلِهِ: (أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ)

আল্লাহর বাণীঃ আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি যে, তখন কেউ নাসীহাত গ্রহণ করতে চাইলে নাসীহাত গ্রহণ করতে পারতে? আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল.....। (সূরাহ ফাতির ৩৫/৩৭)


৬৪১৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ যার আয়ু দীর্ঘ করেছেন, এমনকি তাকে ষাট বছরে পৌঁছে দিয়েছেন তার ওযর পেশ করার সুযোগ রাখেননি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭৭)

ইবনু আজলান মুকবেরী হতেও এরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৬৪২০ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا ابو صفوان عبد الله بن سعيد حدثنا يونس عن ابن شهاب قال اخبرني سعيد بن المسيب ان ابا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يقول لا يزال قلب الكبير شابا في اثنتين في حب الدنيا وطول الامل قال الليث حدثني يونس وابن وهب عن يونس عن ابن شهاب قال اخبرني سعيد وابو سلمة.
৬৪২০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বৃদ্ধ লোকের অন্তর দু’টি ব্যাপারে সর্বদা যুবক থাকে। দুনিয়ার প্রতি ভালবাসার ব্যাপারে আর দীর্ঘ আশার ব্যাপারে। আরেকটি হল উচ্চাকাঙ্ক্ষা। লায়স (রহ.) ..... সা’ঈদ ও আবূ সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ১২/৩৮, হাঃ ১০৪৬, আহমাদ ১০৫১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭৮)
হাদিস নং: ৬৪২১ সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم حدثنا هشام حدثنا قتادة عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يكبر ابن ادم ويكبر معه اثنان حب المال وطول العمر رواه شعبة عن قتادة
৬৪২১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তানের বয়স বাড়ে আর তার সঙ্গে দু’টি জিনিসও বাড়ে; ধন-মালের প্রতি ভালবাসা আর দীর্ঘ বয়সের আশা। [মুসলিম ১২/৩৮, হাঃ ১০৪৭, আহমাদ ১২১৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭৯)

শু’বাহ (রহঃ) কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৬৪২২ সহিহ (Sahih)
معاذ بن اسد اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر عن الزهري قال اخبرني محمود بن الربيع وزعم محمود انه عقل رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وقال وعقل مجة مجها من دلو كانت في دارهم.
৬৪২২. মাহমুদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা তিনি স্মরণ করেন। আর তিনি বলেন, তাদের ঘরের পানির বালতি থেকে পানি মুখে নিয়ে তিনি তার মুখে ছিটিয়েছিলেন তাও তিনি স্মরণ করেন। [৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮০)
হাদিস নং: ৬৪২৩ সহিহ (Sahih)
قال سمعت عتبان بن مالك الانصاري، ثم احد بني سالم قال غدا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏ "‏ لن يوافي عبد يوم القيامة يقول لا اله الا الله‏.‏ يبتغي به وجه الله، الا حرم الله عليه النار ‏"‏‏.‏
৬৪২৩. তিনি বলেন, ইতবান ইবনু মালিক আনসারীকে, অতঃপর বানী সালিমের এক লোককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালে আমার নিকট এলেন এবং বললেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলবে এবং এ বিশ্বাস সহকারে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, আল্লাহ্ তার উপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।[1] [৪২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮০)
নোট: [1] হাদীসটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূল (সাঃ) তাঁর বাড়ীতে সকালে আগমন করার পরপরই এ কথাটি বলেননি। বরং এতদুভয়ের মাঝে অনেক কাজই হয়েছিল। যেমন, রাসূল (সাঃ) তাঁর বাড়ীতে প্রবেশ করেন। সালাত আদায় করেন। তাদের নিকট অপেক্ষার করার আবদার করেন। অবশেষে তারা তাকে পানাহার করান। তিনি মালেক বিন দাখশাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন ইত্যাদি। সব শেষে হাদীসে উল্লেখিত কথাটি বলেন। (ফাতহুল বারী)

মক্কা নগরীর লোকেরা আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসাবে মানলেও তিনিই যে একমাত্র ইলাহ, যাবতীয় ইবাদাত বন্দেগী লাভের একমাত্র মাবূদ (উপাস্য), সকল ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী, আইন দাতা, বুদ্ধিদাতা, বিপদে উদ্ধারকর্তা, একমাত্র হুকুম-বিধান দাতা এটা তারা স্বীকার করত না। তারা নানান দেবদেবীর পূজা করত এবং বিশ্ব পরিচালনায় সে সব দেবদেবীকে আল্লাহর অংশীদার মনে করত। তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর নাবীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, যারা আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ বলে স্বীকার করে নিবে এবং এ বিশ্বাসের উপর অটল থেকে শির্কমুক্ত অবস্থায় মারা যাবে, জাহান্নাম তাদের জন্য হারাম করে দেয়া হবে। নবুয়তের প্রাথমিক অবস্থায় সালাত, সওম, হজ্জ, যাকাত কিছুই ফরয করা হয়নি। সে সময়ে আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ হিসাবে বিশ্বাস করে নেয়াই ছিল বড় কঠিন ব্যাপার। তাই তখন তাওহীদের প্রতি ঈমান আনাই জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। অতঃপর যখন উক্ত ইবাদাতগুলো ফরয হিসাবে বিধিবদ্ধ করা হল, তখন শুধুমাত্র ‘আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন মাবূদ নেই’ এর স্বীকৃতি প্রদানই জান্নাতে প্রবেশের জন্য আর যথেষ্ট থাকল না। অতএব এখন আল্লাহর তাওহীদে বিশ্বাস করার অর্থই হল তাঁর যাবতীয় নির্দেশকে মান্য করা। তবে বর্তমানে কেউ যদি নতুনভাবে ইসলাম কবূল করে কোন ফরয ইবাদাত কার্যকর করার আগেই তার মৃত্যু হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে এ হাদীস প্রযোজ্য হবে। তাওহীদে বিশ্বাসী কোন লোক যদি এমন অবস্থা ও পরিবেশে বাস করেন যেখানে কোন ফরয এবাদত করা একেবারেই অসম্ভব তবে সেক্ষেত্রেও এ হাদীস প্রযোজ্য হতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন।
হাদিস নং: ৬৪২৪ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن عمرو عن سعيد المقبري عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال يقول الله تعالى ما لعبدي المومن عندي جزاء اذا قبضت صفيه من اهل الدنيا ثم احتسبه الا الجنة
৬৪২৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ বলেন, আমি যখন আমার মু’মিন বান্দার কোন প্রিয়বস্তু দুনিয়া হতে উঠিয়ে নেই আর সে ধৈর্য ধারণ করে, আমার কাছে তার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু (প্রতিদান) নেই। [1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮১)
নোট: [1] ইবনু বাত্তাল অত্র হাদীস দ্বারা যে ব্যক্তির তিনটি অথবা দু’টি সন্তান মৃত্যু রবণ করেছে তাদের সাথে কিতাবুল জানায়িযের অন্তর্গত ‘যে ব্যক্তির একটি সন্তান মারা গেছে তার ফযীলত’ অধ্যায়ের বর্ণনা অনুযায়ী যে ব্যক্তির একটি সন্তান মারা গেছে তাকেও সম্পৃক্ত করার প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪২৫ সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن عبد الله قال حدثني اسماعيل بن ابراهيم بن عقبة عن موسى بن عقبة قال ابن شهاب حدثني عروة بن الزبير ان المسور بن مخرمة اخبره ان عمرو بن عوف وهو حليف لبني عامر بن لوي كان شهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بعث ابا عبيدة بن الجراح الى البحرين ياتي بجزيتها وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم هو صالح اهل البحرين وامر عليهم العلاء بن الحضرمي فقدم ابو عبيدة بمال من البحرين فسمعت الانصار بقدومه فوافته صلاة الصبح مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما انصرف تعرضوا له فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم حين راهم وقال اظنكم سمعتم بقدوم ابي عبيدة وانه جاء بشيء قالوا اجل يا رسول الله قال فابشروا واملوا ما يسركم فوالله ما الفقر اخشى عليكم ولكن اخشى عليكم ان تبسط عليكم الدنيا كما بسطت على من كان قبلكم فتنافسوها كما تنافسوها وتلهيكم كما الهتهم.
৬৪২৫. ’আমর ইবনু ’আওফ (রাঃ), তিনি বানী ’আমর ইবনু লুওয়াই-এর সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধেও অংশ গ্রহণ করেন। তিনি বর্ণনা করেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ’উবাইদাহ ইবনু জাররাহকে জিযিয়া আদায় করার উদ্দেশে বাহরাইনে প্রেরণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনের অধিবাসীদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন এবং তাদের জন্য আলা ইবনু হাযরামী (রাঃ)-কে ’আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। আবূ ’উবাইদাহ (রাঃ) বাহরাইন হতে ধনসম্পদ নিয়ে আসেন, আনসারগণ তাঁর আগমনের সংবাদ শুনলেন এবং ফজরের সালাতে রাসূলল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে শরীক হলেন। সালাত শেষ হলে তাঁরা তাঁর সামনে এলেন।

তখন তিনি তাঁদের দেখে হেসে দিলেন এবং বললেনঃ আমি মনে করি তোমরা আবূ ’উবাইদাহ (রাঃ)-এর আগমনের খবর শুনেছ এবং তিনি যে মাল নিয়ে এসেছেন তাও (শুনেছ)। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং তোমরা আশা পোষণ কর, যা তোমাদের খুশী করবে। তবে, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের জন্য দারিদ্রের ভয় করছি না বরং ভয় করছি যে, তোমাদের উপর দুনিয়া প্রশস্ত করে দেয়া হবে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের উপর যেমন দুনিয়া প্রশস্ত করে দেয়া হয়েছিল। আর তোমরা তা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করবে যেমন তারা তা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করেছিল। আর তা তোমাদেরকে আখিরাত বিমুখ করে ফেলবে, যেমন তাদেরকে আখিরাত বিমুখ করেছিল।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮২)
নোট: [1] দুনিয়ার তুলনায় আখিরাতকে সব সময় প্রাধান্য দিতে হবে। অর্জিত ধন সম্পদ আমাদেরকে যেন আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। আখিরাতের চিন্তা মাথায় রেখে দুনিয়াতে বেঁচে থাকার জন্য হালাল উপায়ে রিযক আহরণে সচেষ্ট থাকতে হবে।
হাদিস নং: ৬৪২৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا الليث، عن يزيد بن ابي حبيب، عن ابي الخير، عن عقبة بن عامر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج يوما فصلى على اهل احد صلاته على الميت، ثم انصرف الى المنبر فقال ‏ "‏ اني فرطكم وانا شهيد عليكم، واني والله لانظر الى حوضي الان، واني قد اعطيت مفاتيح خزاىن الارض ـ او مفاتيح الارض ـ واني والله ما اخاف عليكم ان تشركوا بعدي، ولكني اخاف عليكم ان تنافسوا فيها ‏"‏‏.‏
৬৪২৬. ’উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং উহুদের শহীদদের জন্য সালাত আদায় করলেন, যেমন তিনি মৃতদের জন্য সালাত আদায় করতেন। তারপর মিম্বরে ফিরে এসে বললেনঃ আমি তোমাদের অগ্রবর্তী। আমি তোমাদের সাক্ষী হব। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি এখন আমার ’হাওয্’কে দেখছি। আমাকে তো দুনিয়ার ধনাগারের চাবিসমূহ অথবা দুনিয়ার চাবিসমূহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে এ আশংকা করছি না যে, তোমরা আমার পরে শির্কে লিপ্ত হবে, তবে আমি আশংকা করছি যে, তোমরা দুনিয়ার সম্পদ লাভের জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। [১৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮৩)
হাদিস নং: ৬৪২৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ان اكثر ما اخاف عليكم ما يخرج الله لكم من بركات الارض ‏"‏‏.‏ قيل وما بركات الارض قال ‏"‏ زهرة الدنيا ‏"‏‏.‏ فقال له رجل هل ياتي الخير بالشر فصمت النبي صلى الله عليه وسلم حتى ظننا انه ينزل عليه، ثم جعل يمسح عن جبينه فقال ‏"‏ اين الساىل ‏"‏‏.‏ قال انا‏.‏ قال ابو سعيد لقد حمدناه حين طلع ذلك‏.‏ قال ‏"‏ لا ياتي الخير الا بالخير، ان هذا المال خضرة حلوة، وان كل ما انبت الربيع يقتل حبطا او يلم، الا اكلة الخضرة، اكلت حتى اذا امتدت خاصرتاها استقبلت الشمس، فاجترت وثلطت وبالت، ثم عادت فاكلت، وان هذا المال حلوة، من اخذه بحقه ووضعه في حقه، فنعم المعونة هو، ومن اخذه بغير حقه، كان الذي ياكل ولا يشبع ‏"‏‏.‏
৬৪২৭. আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ ব্যাপারেই সর্বাধিক আশংকা করছি যে, আল্লাহ তোমাদের জন্য যমীনের বারাকাতসমূহ প্রকাশিত করে দেবেন। জিজ্ঞেস করা হলো, যমীনের বারাকাতসমূহ কী? তিনি বললেনঃ দুনিয়ার চাকচিক্য। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে বললেন, কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসবে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, যাতে আমরা ধারণা করলাম যে, তাঁর উপর ওয়াহী নাযিল হচ্ছে। এরপর তিনি তাঁর কপাল থেকে ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল, আমি। আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন, যখন এটি প্রকাশ পেল, তখন আমরা প্রশ্নকারীর প্রশংসা করলাম।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কল্যাণ কেবল কল্যাণই বয়ে আনে। নিশ্চয়ই এ ধনদৌলত সবুজ সুমিষ্ট। অবশ্য বসন্ত যে সবজি উৎপাদন করে, তা ভক্ষণকারী পশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় অথবা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে, তবে যে প্রাণী পেট ভরে খেয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে জাবর কাটে, মল-মূত্র ত্যাগ করে এবং আবার খায় (এর অবস্থা ভিন্ন)। এ পৃথিবীর ধনদৌলত তেমন সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সৎভাবে গ্রহণ করবে এবং সৎভাবে ব্যয় করবে, তা তার খুবই উপকারী হবে। আর যে তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে, সে ঐ ব্যক্তির মত যে খেতে থাকে কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না।[1] [৯২১; মুসলিম ১২/৪১, হাঃ ১০৫২, আহমাদ ১১১৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮৪)
নোট: [1] হাদীসটি হতে জানা যায় :

(১) বক্তার চারপাশে শ্রোতাদের বসা এবং পার্থিব কোন বিষয়ের প্রতিযোগিতা থেকে ভীতি প্রদর্শন।

(২) জটিল কোন বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা এবং বিরোধ নিরসনের জন্য প্রমাণ চাওয়া।

(৩) রাসূল (সাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য ওয়াহীর অপেক্ষা করতেন।

(৪) যদি কোন বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার প্রয়োজন হয় তবে সে ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে উত্তর দেয়া পরিহার করা। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪২৮ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة قال سمعت ابا جمرة قال حدثني زهدم بن مضرب قال سمعت عمران بن حصين عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خيركم قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم قال عمران فما ادري قال النبي صلى الله عليه وسلم بعد قوله مرتين او ثلاثا ثم يكون بعدهم قوم يشهدون ولا يستشهدون ويخونون ولا يوتمنون وينذرون ولا يفون ويظهر فيهم السمن.
৬৪২৮. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে আমার যুগের লোকেরাই সর্বোত্তম। তারপর এর পরবর্তী যুগের লোকেরা। তারপর এর পরবর্তী যুগের লোকেরা। ’ইমরান (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি দু’বার কি তিনবার বললেন, তা আমার স্মরণ নেই- তারপর এমন লোকেরা আসবে যে, তারা সাক্ষ্য দিবে, অথচ তাদের সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। তারা খিয়ানতকারী হবে। তাদের নিকট আমানত রাখা হবে না। তারা মানত করে তা পূরণ করবে না। তারা দেখতে মোটা তাজা হবে।[1] [২৬৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮৫)
নোট: [1] তারা দেখতে মোটা তাজা হবে অর্থাৎ তারা যে কোন উপায়ে অর্জিত হারাম মাল ভক্ষণ করে নিজেদেরকে মোটা তাজা করবে।
হাদিস নং: ৬৪২৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان، عن ابي حمزة، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن عبيدة، عن عبد الله ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم يجيء من بعدهم قوم تسبق شهادتهم ايمانهم وايمانهم شهادتهم ‏"‏‏.‏
৬৪২৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম হল আমার যুগের লোকেরা। তারপর উত্তম হল এদের পরবর্তী যুগের লোকেরা, তারপর উত্তম হল তাদের পরবর্তী যুগের লোকেরা, তারপর এমন সব লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যাদের সাক্ষ্য হবে কসমের পূর্বে, আর কসম হবে সাক্ষ্যের পূর্বে। [২৬৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮৬)
হাদিস নং: ৬৪৩০ সহিহ (Sahih)
يحيى بن موسى حدثنا وكيع حدثنا اسماعيل عن قيس قال سمعت خبابا وقد اكتوى يومىذ سبعا في بطنه وقال لولا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم نهانا ان ندعو بالموت لدعوت بالموت ان اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم مضوا ولم تنقصهم الدنيا بشيء وانا اصبنا من الدنيا ما لا نجد له موضعا الا التراب.
৬৪৩০. কায়স (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাব্বাব (রাঃ) তার পেটে সাতটি উত্তপ্ত লোহার দাগ নেয়ার পর আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু কামনা করা নিষিদ্ধ না করতেন, তাহলে আমি মৃত্যু কামনা করতাম। নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবার অনেকেই (দুনিয়া থেকে কিছু না নিয়েই) চলে গেছেন। অথচ দুনিয়া তাঁদের (আখিরাতের) কোনই ক্ষতি করতে পারেনি। আর আমরা দুনিয়ার ধনসম্পদ সংগ্রহ করেছি, তাই মাটি ব্যতীত আর কোন জায়গা পাচ্ছি না। [৫৬৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮৭)
হাদিস নং: ৬৪৩১ সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن اسماعيل قال حدثني قيس قال اتيت خبابا وهو يبني حاىطا له فقال ان اصحابنا الذين مضوا لم تنقصهم الدنيا شيىا وانا اصبنا من بعدهم شيىا لا نجد له موضعا الا التراب.
৬৪৩১. কায়স (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার খাব্বাব (রাঃ)-এর কাছে এলাম। তখন তিনি একটা দেয়াল তৈরি করছিলেন। তখন তিনি বললেন, আমাদের যেসব সঙ্গীরা দুনিয়া হতে চলে গেছেন, দুনিয়া তাদের কোন ক্ষতি করতে পারেনি। আর আমরা তাদের পর দুনিয়ার মালধন জোগাড় করেছি, যেগুলোর জন্য আমরা মাটি ভিন্ন আর কোন জায়গা পাচ্ছি না। [৫৬৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮৮)
অধ্যায় তালিকা