অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৭৮/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি মানুষের প্রতি ফরমান জারি করেছি। সূরাহ আনকাবূত ২৯/৮)
মোট ২৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৯৭০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا شعبة، قال الوليد بن عيزار اخبرني قال سمعت ابا عمرو الشيباني، يقول اخبرنا صاحب، هذه الدار ـ واوما بيده الى دار عبد الله ـ قال سالت النبي صلى الله عليه وسلم اى العمل احب الى الله قال ‏"‏ الصلاة على وقتها ‏"‏‏.‏ قال ثم اى قال ‏"‏ ثم بر الوالدين ‏"‏‏.‏ قال ثم اى قال ‏"‏ الجهاد في سبيل الله ‏"‏‏.‏ قال حدثني بهن ولو استزدته لزادني‏.‏
৫৯৭০. ’আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট কোন্ কাজ সব থেকে অধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেনঃ সময় মত সালাত আদায় করা। (’আবদুল্লাহ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা। ’আবদুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেনঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। ’আবদুল্লাহ বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো সম্পর্কে আমাকে বলেছেন। আমি তাঁকে আরও অধিক প্রশ্ন করলে, তিনি আমাকে আরো জানাতেন। [৫২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩২)
নোট: আচার-ব্যবহার [1]

[1] এ পর্বে বর্ণিত হাদীসসমূহে মানুষের সৎ স্বভাব সম্পর্কিত যে সব গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলোঃ

১। পিতামাতার সঙ্গে- তারা মুসলিম হোক আর অমুসলিম হোক-দয়া-মায়া ও বিনয় নম্রতায় পূরিপূর্ণ অতি উচ্চ মানের সৌজন্যমূলক আচরণ করা।
২। কারো ন্যায্য প্রাপ্য আটকে না রাখা।
৩। দরিদ্রতার ভয়ে কন্যা শিশুকে হত্যা না করা।
৪। মিথ্যা না বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য না দেয়া।
৫। শির্ক না করা।
৬। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা।
৭। সালাত আদায় করা।
৮। যাকাত দেয়া।
৯। পবিত্র থাকা।
১০। রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখা।
১১। সন্তানদের আদর স্নেহ করা।
১২। পিতা-মাতার প্রিয়জন, স্বামী ও স্ত্রীর নিকটত্মায়ীদের প্রতি উত্তম ব্যবহার করা।
১৩। বিধবা, ইয়াতীম, গরীব ও দুঃস্থদের ভরণ পোষণের চেষ্টা করা ও তাদেরকে সাহায্য করা।
১৪। জীব জন্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শন করা।
১৫। বৃক্ষ রোপন করা।
১৬। প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথিক ও অধীনস্থ দাস-দাসীর প্রতি উত্তম ব্যবহার করা।
১৭। মেহমানকে সম্মান করা।
১৮। হাসিমুখে মিষ্ট ভাষায় কথা বলা এবং অশালীনতা বর্জন করা।
১৯। সকল কাজে নম্রতা অবলম্বন করা।
২০। মু’মিনদেরকে পারস্পরিক সহযোগিতা করা ও সৎ পরামর্শ দেয়া।
২১। দানশীল হওয়া, কৃপণতা পরিহার করা।
২২। পারিবারিক কাজকর্মে সময় দেয়া।
২৩। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাউকে ভালবাসা।
২৪। অন্যকে উপহাস না করা, হেয়জ্ঞান না করা।
২৫। কাউকে গালি ও অভিশাপ না দেয়া।
২৬। কাউকে খারাপ নামে না ডাকা।
২৭। কারো গীবত না করা।
২৮। চোগলখোরী একজনের কাছে গিয়ে অন্যের প্রতি অপবাদ দেয়া বা তার দুর্নাম করা) থেকে বিরত থাকা।
২৯। মুনাফিকী বর্জন করা।
৩০। কারো অতিরিক্ত প্রশংসা না করা।
৩১। আত্মীয় অনাত্মীয় সকল ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার করা।
৩২। কারো প্রতি যুলম অত্যাচার না করা।
৩৩। কারো প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষণ না করা।
৩৪। যাদু-টোনা ইত্যাদি না করা।
৩৫। কারো প্রতি কু ধারণা পোষণ না করা।
৩৬। অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজার জন্য গোয়েন্দাগিরি না করা।
৩৭। আন্দাজ অনুমান করা থেকে বিরত থাকা।
৩৮। অন্যের দোষ ত্রুটি গোপন করা।
৩৯। সম্পূর্ণরূপে অহংকার বর্জন করা।
৪০। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।
৪১। অন্যের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বন্ধ না রাখা।
৪২। আল্লাহর অবাধ্যগণের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
৪৩। আপন লোকের সঙ্গে যথাসম্ভব বেশি বেশি সাক্ষাত করা।
৪৪। নেককার সঙ্গী সাথীর বাড়িতে আহার করা।
৪৫। সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উত্তম পোশাক পরা।
৪৬। মুসলিমদের সঙ্গে ভ্রাতৃ বন্ধনে আবদ্ধ থাকা।
৪৭। আলা জিহবা বের করে হো হো করে না হাসা।
৪৮। সৎকাজ করতে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জেনে নিতে লজ্জাবোধ না করা।
৪৯। ধৈর্যশীল হওয়া।
৫০। লজ্জাশীল হওয়া।
৫১। সরাসরি কাউকে তিরস্কার না করে সাধারণভাবে নাসীহাতের মাধ্যমে ভুল শুধরে দেয়া।
৫২। কাউকে কাফির না বলা।
৫৩। কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কঠোরতা প্রদর্শন করা।
৫৪। ক্রোধ দমন করা।
৫৫। মানুষকে ক্ষমা করা।
৫৬। কথায় ও কর্মে সহজতা ও সরলতা অবলম্বন করা।
৫৭। আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্র ছাড়া ব্যক্তিগত কারণে কারো নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ না করা।
৫৮। মানুষের পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ্য করে নাসীহাত প্রদান করা।
৫৯। স্বীয় পরিবার পরিজনের সঙ্গে হাসি তামাশা করা।
৬০। একই রকমের ভুল কাজ দ্বিতীয়বার না করা।
৬১। সংশ্লিষ্ট সকলের অধিকারের প্রতি মনোযোগী থেকে প্রত্যেকের অধিকার আদায় করা।
৬২। বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা।
৬৩। আগন্তুককে মারহাবা বলে স্বাগত জানানো।
৬৪। সময়কে গালি না দেয়া।
৬৫। ভাল নাম রাখা এবং ভাল নামে ডাকা।
৬৬। আশ্চর্যবোধ করলে আল্লাহু আকবার ও সুবহানাল্লাহ বলা।
৬৭। ঢিল ছুঁড়া হতে বিরত থাকা।
৬৮। হাঁচি দিলে আল হামদুলিল্লাহ বলা এবং হাই উঠলে মুখ ঢাকা।
৬৯। রোগীর সেবা করা।
৭০। জানাযায় অংশ গ্রহণ করা।
৭১। কেউ দাওয়াত দিলে কবূল করা।
৭২। সালামের জওয়াব দেয়া।
৭৩। মযলুমকে সাহায্য করা।
৭৪। শপথ পূর্ণ করা।
হাদিস নং: ৫৯৭১ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جرير، عن عمارة بن القعقاع بن شبرمة، عن ابي زرعة، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله من احق بحسن صحابتي قال ‏"‏ امك ‏"‏‏.‏ قال ثم من قال ‏"‏ امك ‏"‏‏.‏ قال ثم من قال ‏"‏ امك ‏"‏‏.‏ قال ثم من قال ‏"‏ ثم ابوك ‏"‏‏.‏ وقال ابن شبرمة ويحيى بن ايوب حدثنا ابو زرعة مثله‏.‏
৫৯৭১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি বললেনঃ তোমার মা। লোকটি বললঃ অতঃপর কে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার মা। সে বললঃ অতঃপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বললঃ অতঃপর কে? তিনি বললেনঃ অতঃপর তোমার বাপ।

ইবনু শুবরুমাহ বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আইউব আবূ যুর’আ থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৪৫/১, হাঃ ২৫৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৩)
হাদিস নং: ৫৯৭২ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن سفيان، وشعبة، قالا حدثنا حبيب، ح قال وحدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن حبيب، عن ابي العباس، عن عبد الله بن عمرو، قال قال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم اجاهد‏.‏ قال ‏"‏ لك ابوان ‏"‏‏.‏ قال نعم‏.‏ قال ‏"‏ ففيهما فجاهد ‏"‏‏.‏
৫৯৭২. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলঃ আমি কি জিহাদে যাব? তিনি বললেনঃ তোমার কি পিতা-মাতা আছে? সে বললঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তা হলে তাদের (সেবা করার মাধ্যমে) জিহাদ কর। [৩০০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৪)
হাদিস নং: ৫৯৭৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن ابيه، عن حميد بن عبد الرحمن، عن عبد الله بن عمرو ـ رضى الله عنهما ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ان من اكبر الكباىر ان يلعن الرجل والديه ‏"‏‏.‏ قيل يا رسول الله وكيف يلعن الرجل والديه قال ‏"‏ يسب الرجل ابا الرجل، فيسب اباه، ويسب امه ‏"‏‏.‏
৫৯৭৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো নিজের পিতা-মাতাকে লা’নত করা। জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপন পিতা-মাতাকে কোন লোক কীভাবে লা’নত করতে পারে? তিনি বললেনঃ সে অন্যের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্যের মাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাকে গালি দেয়। [মুসলিম ১/৩৮, হাঃ ৯০, আহমাদ ৬৫৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৫)
হাদিস নং: ৫৯৭৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم بن عقبة، قال اخبرني نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ بينما ثلاثة نفر يتماشون اخذهم المطر، فمالوا الى غار في الجبل، فانحطت على فم غارهم صخرة من الجبل، فاطبقت عليهم، فقال بعضهم لبعض انظروا اعمالا عملتموها لله صالحة، فادعوا الله بها لعله يفرجها‏.‏ فقال احدهم اللهم انه كان لي والدان شيخان كبيران، ولي صبية صغار كنت ارعى عليهم، فاذا رحت عليهم فحلبت بدات بوالدى اسقيهما قبل ولدي، وانه ناء بي الشجر فما اتيت حتى امسيت، فوجدتهما قد ناما، فحلبت كما كنت احلب، فجىت بالحلاب فقمت عند رءوسهما، اكره ان اوقظهما من نومهما، واكره ان ابدا بالصبية قبلهما، والصبية يتضاغون عند قدمى، فلم يزل ذلك دابي ودابهم حتى طلع الفجر، فان كنت تعلم اني فعلت ذلك ابتغاء وجهك، فافرج لنا فرجة نرى منها السماء، ففرج الله لهم فرجة حتى يرون منها السماء‏.‏ وقال الثاني اللهم انه كانت لي ابنة عم، احبها كاشد ما يحب الرجال النساء، فطلبت اليها نفسها، فابت حتى اتيها بماىة دينار، فسعيت حتى جمعت ماىة دينار، فلقيتها بها، فلما قعدت بين رجليها قالت يا عبد الله اتق الله، ولا تفتح الخاتم‏.‏ فقمت عنها، اللهم فان كنت تعلم اني قد فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج لنا منها ففرج لهم فرجة‏.‏ وقال الاخر اللهم اني كنت استاجرت اجيرا بفرق ارز فلما قضى عمله قال اعطني حقي‏.‏ فعرضت عليه حقه، فتركه ورغب عنه، فلم ازل ازرعه حتى جمعت منه بقرا وراعيها، فجاءني فقال اتق الله ولا تظلمني، واعطني حقي‏.‏ فقلت اذهب الى ذلك البقر وراعيها‏.‏ فقال اتق الله ولا تهزا بي‏.‏ فقلت اني لا اهزا بك، فخذ ذلك البقر وراعيها‏.‏ فاخذه فانطلق بها، فان كنت تعلم اني فعلت ذلك ابتغاء وجهك، فافرج ما بقي، ففرج الله عنهم ‏"‏‏.‏
৫৯৭৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনজন লোক হেঁটে চলছিল। তাদের উপর বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয়। এমন সময় পাহাড় হতে একটি পাথর তাদের গুহার মুখের উপর গড়িয়ে পড়ে এবং মুখ বন্ধ করে ফেলে। তাদের একজন অন্যদের বললঃ তোমরা তোমাদের কৃত ’আমলের প্রতি লক্ষ্য করো যে নেক ’আমল তোমরা আল্লাহর জন্য করেছ; তার ওয়াসীলাহ্য় আল্লাহর নিকট দু’আ করো। হয়তো তিনি এটি হটিয়ে দেবেন।

তখন তাদের একজন বললঃ হে আল্লাহ! আমার বয়োবৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিল এবং ছোট ছোট শিশু ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্যে মাঠে পশু চরাতাম। যখন সন্ধ্যায় ফিরতাম, তখন দুধ দোহন করতাম এবং আমার সন্তানদের আগেই পিতা-মাতাকে পান করতে দিতাম। একদিন পশুগুলো দূরে বনের মধ্যে চলে যায়। ফলে আমার ফিরে আসতে দেরী হয়ে যায়। ফিরে দেখলাম তারা উভয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি যেমন দুধ দোহন করতাম, তেমনি দোহন করলাম। তারপর দুধ নিয়ে এলাম এবং উভয়ের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘুম থেকে তাদের উভয়কে জাগানো ভাল মনে করলাম না। আর তাদের আগে শিশুদের পান করানোও অপছন্দ করলাম। আর শিশুরা আমাদের দু’পায়ের কাছে কান্নাকাটি করছিল। তাদের ও আমার মাঝে এ অবস্থা চলতে থাকে। শেষে ভোর হয়ে গেল। (হে আল্লাহ) আপনি জানেন যে, আমি কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যেই এ কাজ করেছি। তাই আপনি আমাদের জন্য একটু ফাঁক করে দিন, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তাদের জন্যে একটু ফাঁক করে দিলেন, যাতে তারা আকাশ দেখতে পায়।

দ্বিতীয় ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমার একটি চাচাত বোন ছিল। আমি তাকে এতখানি ভালবাসতাম, যতখানি একজন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসতে পারে। আমি তাকে একান্তে পেতে চাইলাম। সে অসম্মতি জানাল, যতক্ষণ আমি তার কাছে একশ’ দ্বীনার উপস্থিত না করি। আমি চেষ্টা করলাম এবং একশ’ স্বর্ণমুদ্রা জোগাড় করলাম। এগুলো নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যে বসলাম, তখন সে বললঃ হে আল্লাহর বান্দাহ! আল্লাহকে ভয় করো, আমার কুমারিত্ব নষ্ট করো না। তখন আমি উঠে গেলাম। হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যেই আমি তা করেছি। তাই আমাদের জন্যে এটি ফাঁক করে দিন। তখন তাদের জন্যে আল্লাহ আরও কিছু ফাঁক করে দিলেন।

শেষের লোকটি বললঃ হে আল্লাহ! আমি একজন মজদুরকে এক ’ফারক’[1] চাউলের বিনিময়ে কাজে নিয়োগ করেছিলাম। সে তার কাজ শেষ করে এসে বলল, আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি তার প্রাপ্য তার সামনে উপস্থিত করলাম। কিন্তু সে তা ছেড়ে দিল ও প্রত্যাখ্যান করলো। তারপর তার প্রাপ্যটা আমি ক্রমাগত কৃষিকাজে খাটাতে লাগলাম। তা দিয়ে অনেকগুলো গরু ও রাখাল জমা করলাম। এরপর সে একদিন আমার কাছে এসে বললঃ আল্লাহকে ভয় কর, আমার উপর যুল্ম করো না এবং আমার প্রাপ্য দিয়ে দাও। আমি বললামঃ ঐ গরু ও রাখালের কাছে চলে যাও। সে বললঃ আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস কর না। আমি বললামঃ তোমার সাথে আমি উপহাস করছি না। তুমি ঐ গরুগুলো ও তার রাখাল নিয়ে যাও। তারপর সে ওগুলো নিয়ে চলে গেল। (হে আল্লাহ!) আপনি জানেন যে, তা আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্যেই করেছি, তাই আপনি অবশিষ্ট অংশ উন্মুক্ত করে দিন। তারপর আল্লাহ তাদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দিলেন। [২২১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৬)
নোট: [1] فَرَقِ ‘ফারক’ তৎকালীন সময়ে প্রচলিত একটি পরিমাপের পাত্র যা ১৬ রাতল-এর সমান।
হাদিস নং: ৫৯৭৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا سعد بن حفص، حدثنا شيبان، عن منصور، عن المسيب، عن وراد، عن المغيرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ ان الله حرم عليكم عقوق الامهات، ومنع وهات، وواد البنات، وكره لكم قيل وقال، وكثرة السوال، واضاعة المال ‏"‏‏.‏
قَالَ بْنُ عَمْرٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

ইবনু ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।


৫৯৭৫. মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মা-বাপের নাফরমানী করা, প্রাপকের প্রাপ্য আটক রাখা, যে জিনিস গ্রহণ করা তোমাদের জন্য ঠিক নয় তা তলব করা এবং কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেয়া। আর তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেছেন গল্প-গুজব করা, অতিরিক্ত প্রশ্ন করা ও সম্পদ অপচয় করা। [৮৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৭)
হাদিস নং: ৫৯৭৬ সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق، حدثنا خالد الواسطي، عن الجريري، عن عبد الرحمن بن ابي بكرة، عن ابيه ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الا انبىكم باكبر الكباىر ‏"‏‏.‏ قلنا بلى يا رسول الله‏.‏ قال ‏"‏ الاشراك بالله، وعقوق الوالدين ‏"‏‏.‏ وكان متكىا فجلس فقال ‏"‏ الا وقول الزور وشهادة الزور، الا وقول الزور وشهادة الزور ‏"‏‏.‏ فما زال يقولها حتى قلت لا يسكت‏.‏
৫৯৭৬. আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের সব থেকে বড় গুনাহ সম্পর্কে সতর্ক করব না? আমরা বললামঃ অবশ্যই সতর্ক করবেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে অংশীদার গণ্য করা, পিতা-মাতার নাফরমানী করা। এ কথা বলার সময় তিনি হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর (সোজা হয়ে) বসলেন এবং বললেনঃ মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, দু’বার করে বললেন এবং ক্রমাগত বলেই চললেন। এমনকি আমি বললাম, তিনি মনে হয় থামবেন না। [২৬৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৮)
হাদিস নং: ৫৯৭৭ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن الوليد، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، قال حدثني عبيد الله بن ابي بكر، قال سمعت انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الكباىر، او سىل عن الكباىر فقال ‏"‏ الشرك بالله، وقتل النفس، وعقوق الوالدين ‏"‏‏.‏ فقال ‏"‏ الا انبىكم باكبر الكباىر ـ قال ـ قول الزور ـ او قال ـ شهادة الزور ‏"‏‏.‏ قال شعبة واكثر ظني انه قال ‏"‏ شهادة الزور ‏"‏‏.‏
৫৯৭৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবীরা গুনাহর কথা উল্লেখ করলেন অথবা তাঁকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শারীক করা, মানুষ হত্যা করা ও মা-বাপের নাফরমানী করা। তারপর তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের কবীরা গুনাহর অন্যতম গুনাহ হতে সতর্ক করবো না? পরে বললেনঃ মিথ্যা কথা বলা, অথবা বলেছেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।

শু’বাহ (রহ.) বলেন, আমার বেশি ধারণা হয় যে, তিনি বলেছেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৯)
হাদিস নং: ৫৯৭৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا هشام بن عروة، اخبرني ابي، اخبرتني اسماء ابنة ابي بكر ـ رضى الله عنهما ـ قالت اتتني امي راغبة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فسالت النبي صلى الله عليه وسلم اصلها قال ‏"‏ نعم ‏"‏‏.‏ قال ابن عيينة فانزل الله تعالى فيها ‏(‏لا ينهاكم الله عن الذين لم يقاتلوكم في الدين‏)‏
৫৯৭৮. আবূ বকর (রাঃ)-এর কন্যা আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলামঃ তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবো কি না? তিনি বললেন, হাঁ।

ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, এ ঘটনা প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ ’’দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের করে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেননি।’’ (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০ঃ ৮) [২৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪০)
হাদিস নং: ৫৯৭৯ সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني هشام، عن عروة، عن اسماء، قالت قدمت امي وهى مشركة في عهد قريش ومدتهم، اذ عاهدوا النبي صلى الله عليه وسلم مع ابيها، فاستفتيت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت ان امي قدمت وهى راغبة ‏(‏افاصلها‏)‏ قال ‏ "‏ نعم صلي امك ‏"‏‏.‏
৫৯৭৯. আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ কুরাইশরা যে সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করেছিল, ঐ চুক্তিবদ্ধ সময়ে আমার মা তাঁর পিতার সঙ্গে এলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলামঃ আমার মা এসেছেন, তবে সে অমুসলিম। আমি কি তাঁর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবো? তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমার মায়ের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো। [২৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৫৯৮০ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله، ان عبد الله بن عباس، اخبره ان ابا سفيان اخبره ان هرقل ارسل اليه فقال يعني النبي صلى الله عليه وسلم يامرنا بالصلاة والصدقة والعفاف والصلة‏.‏
৫৯৮০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ সুফ্ইয়ান থেকে জানিয়েছেন যে, (রোম সম্রাট) হিরাক্লিয়াস তাকে ডেকে পাঠায়। আবূ সুফ্ইয়ান বললো যে, তিনি অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে, যাকাত দিতে, পবিত্র থাকতে এবং রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। [৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪১)
হাদিস নং: ৫৯৮১ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا عبد العزيز بن مسلم، حدثنا عبد الله بن دينار، قال سمعت ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ يقول راى عمر حلة سيراء تباع فقال يا رسول الله ابتع هذه، والبسها يوم الجمعة، واذا جاءك الوفود‏.‏ قال ‏"‏ انما يلبس هذه من لا خلاق له ‏"‏‏.‏ فاتي النبي صلى الله عليه وسلم منها بحلل، فارسل الى عمر بحلة فقال كيف البسها وقد قلت فيها ما قلت قال ‏"‏ اني لم اعطكها لتلبسها، ولكن تبيعها او تكسوها ‏"‏‏.‏ فارسل بها عمر الى اخ له من اهل مكة قبل ان يسلم‏.‏
৫৯৮১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ’উমার (রাঃ) এক জোড়া রেশমী ডোরাদার কাপড় বিক্রি হতে দেখেন। এরপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি ক্রয় করুন, জুমু’আর দিনে, আর আপনার কাছে যখন প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরবেন। তিনি বললেনঃ এটা সে-ই পরতে পারে, যার জন্য কল্যাণের কোন হিস্যা নেই। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ জাতীয় কারুকার্য খচিত কিছু কাপড় আসে। তিনি তা থেকে এক জোড়া কাপড় (হুল্লা) ’উমার (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দেন। তিনি (এসে) বললেনঃ আমি কীভাবে এটি পরবো? অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার তা বলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাকে এটি পরার জন্য দেইনি, বরং এ জন্যেই দিয়েছি যে, তুমি ওটা বিক্রি করে দেবে অথবা অন্যকে পরতে দেবে। তখন ’উমার (রাঃ) তা মক্কায় তার ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দেন, যে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। [৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪২)
হাদিস নং: ৫৯৮২ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا شعبة، قال اخبرني ابن عثمان، قال سمعت موسى بن طلحة، عن ابي ايوب، قال قيل يا رسول الله، اخبرني بعمل، يدخلني الجنة‏.‏
৫৯৮২ আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি ’আমল শিখিয়ে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। [১৩৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৩)
হাদিস নং: ৫৯৮৩ সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الرحمن، حدثنا بهز، حدثنا شعبة، حدثنا ابن عثمان بن عبد الله بن موهب، وابوه، عثمان بن عبد الله انهما سمعا موسى بن طلحة، عن ابي ايوب الانصاري ـ رضى الله عنه ان رجلا قال يا رسول الله اخبرني بعمل يدخلني الجنة‏.‏ فقال القوم ماله ماله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ارب ماله ‏"‏‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ تعبد الله لا تشرك به شيىا، وتقيم الصلاة، وتوتي الزكاة، وتصل الرحم، ذرها ‏"‏‏.‏ قال كانه كان على راحلته‏.‏
৫৯৮৩. আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি ’আমল শিক্ষা দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। উপস্থিত লোকজন বললঃ তার কী হয়েছে? তার কী হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর ’ইবাদাত করবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার গণ্য করবে না, সালাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে। একে অর্থাৎ সওয়ারীকে) ছেড়ে দাও।বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি ঐ সময় তার সাওয়ারীর উপর ছিলেন। [১৩৯৬; মুসলিম ১/৪, হাঃ ১৩, আহমাদ ২৩৫৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৪)
হাদিস নং: ৫৯৮৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، ان محمد بن جبير بن مطعم، قال ان جبير بن مطعم اخبره انه، سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ لا يدخل الجنة قاطع ‏"‏‏.‏
৫৯৮৪. যুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [মুসলিম ৪৫/৬, হাঃ ২৫৫৬, আহমাদ ১৬৭৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৫)
হাদিস নং: ৫৯৮৫ সহিহ (Sahih)
حدثني ابراهيم بن المنذر، حدثنا محمد بن معن، قال حدثني ابي، عن سعيد بن ابي سعيد، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ من سره ان يبسط له في رزقه، وان ينسا له في اثره، فليصل رحمه ‏"‏‏.‏
৫৯৮৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে লোক তার জীবিকা প্রশস্ত করতে এবং আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৬)
হাদিস নং: ৫৯৮৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ من احب ان يبسط له في رزقه، وينسا له في اثره، فليصل رحمه ‏"‏‏.‏
৫৯৮৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চায় যে, তার রিযক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বর্ধিত হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। [২০৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৭)
হাদিস নং: ৫৯৮৭ সহিহ (Sahih)
حدثني بشر بن محمد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا معاوية بن ابي مزرد، قال سمعت عمي، سعيد بن يسار يحدث عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ ان الله خلق الخلق حتى اذا فرغ من خلقه، قالت الرحم هذا مقام العاىذ بك من القطيعة‏.‏ قال نعم اما ترضين ان اصل من وصلك‏.‏ واقطع من قطعك‏.‏ قالت بلى يا رب‏.‏ قال فهو لك ‏"‏‏.‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فاقرءوا ان شىتم ‏(‏فهل عسيتم ان توليتم ان تفسدوا في الارض وتقطعوا ارحامكم‏)‏‏"‏‏.‏
৫৯৮৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যাবতীয় সৃষ্টিকে পয়দা করলেন। যখন তিনি সৃষ্টি কাজ সমাধা করলেন, তখন আত্মীয়তারসম্পর্ক বলে উঠলোঃ সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে আপনার আশ্রয় লাভকারীদের এটাই যথাযোগ্য স্থান। তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ হাঁ তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার সাথে যে সুসম্পর্ক রাখবে, আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখবো। আর যে তোমা হতে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো। সে (রক্ত সম্পর্ক) বললোঃ হাঁ আমি সন্তুষ্ট হে আমার রব! আল্লাহ বললেনঃ তা হলে এ মর্যাদা তোমাকে দেয়া হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইচ্ছে করলে (এ আয়াতটি) পড়োঃ ’’ক্ষমতা পেলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।’’ (সূরাহ মুহাম্মাদ ৪৭/২২) [৪৮৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৮)
হাদিস নং: ৫৯৮৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا خالد بن مخلد، حدثنا سليمان، حدثنا عبد الله بن دينار، عن ابي صالح، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ ان الرحم سجنة من الرحمن، فقال الله من وصلك وصلته، ومن قطعك قطعته ‏"‏‏.‏
৫৯৮৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রক্ত সম্পর্কে মূল হল রাহমান। আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ যে তোমার সাথে সুসম্পর্ক রাখবে, আমি তার সাথে সুসম্পর্ক রাখব। আর যে তোমা হতে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও সে লোক হতে সম্পর্ক ছিন্ন করব। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৪৯)
হাদিস নং: ৫৯৮৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، حدثنا سليمان بن بلال، قال اخبرني معاوية بن ابي مزرد، عن يزيد بن رومان، عن عروة، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ زوج النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ الرحم شجنة، فمن وصلها وصلته، ومن قطعها قطعته ‏"‏‏.‏
৫৯৮৯. ’আয়িশাহ হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার হক রাহমানের মূল। যে তা সংরক্ষণ করবে, আমি তাকে সংরক্ষণ করব। আর যে তা ছিন্ন করবে, আমি তাকে আমা হতে) ছিন্ন করবো। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫০)
অধ্যায় তালিকা