অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৭৮/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি মানুষের প্রতি ফরমান জারি করেছি। সূরাহ আনকাবূত ২৯/৮)
মোট ২৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৯৯০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن عباس، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن اسماعيل بن ابي خالد، عن قيس بن ابي حازم، ان عمرو بن العاص، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم جهارا غير سر يقول ‏"‏ ان ال ابي ‏"‏ ـ قال عمرو في كتاب محمد بن جعفر بياض ـ ليسوا باولياىي، انما وليي الله وصالح المومنين‏.‏ زاد عنبسة بن عبد الواحد عن بيان عن قيس عن عمرو بن العاص قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ولكن لهم رحم ابلها ببلالها ‏"‏‏.‏ يعني اصلها بصلتها‏.‏
৫৯৯০. ’আমর ইবনু ’আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উচ্চস্বরে বলতে শুনেছি, আস্তে নয়। তিনি বলেছেনঃ অমুকের বংশ আমার বন্ধু নয়। ’আমর বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফরের কিতাবে বংশের পরে জায়গা খালি রয়েছে। (কোন বংশের নাম নাই)। বরং আমার বন্ধু আল্লাহ ও নেককার মু’মিনগণ।

’আনবাসা অন্য সূত্রে ’আমর ইবনু ’আস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমি শুনেছিঃ বরং তাদের সাথে (আমার) আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে, আমি সুসম্পর্কের রস দিয়ে তা প্রাণবন্ত রাখি। [মুসলিম ১/৯৩, হাঃ ২১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫১)
হাদিস নং: ৫৯৯১ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن الاعمش، والحسن بن عمرو، وفطر، عن مجاهد، عن عبد الله بن عمرو ـ وقال سفيان لم يرفعه الاعمش الى النبي صلى الله عليه وسلم ورفعه حسن وفطر ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ ليس الواصل بالمكافى، ولكن الواصل الذي اذا قطعت رحمه وصلها ‏"‏‏.‏
৫৯৯১. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাবী সুফ্ইয়ান বলেন, আ’মাশ এ হাদীস মারফূ’রূপে বর্ণনা করেননি। অবশ্য হাসান (ইবনু ’আমর) ও ফিতর (রহ.) একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিদানকারী আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী নয়। বরং আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী সে ব্যক্তি, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবার পরও তা বজায় রাখে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫২)
হাদিস নং: ৫৯৯২ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، ان حكيم بن حزام، اخبره انه، قال يا رسول الله ارايت امورا كنت اتحنث بها في الجاهلية من صلة وعتاقة وصدقة، هل لي فيها من اجر‏.‏ قال حكيم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏‏ اسلمت على ما سلف من خير ‏"‏‏.‏ ويقال ايضا عن ابي اليمان اتحنث‏.‏ وقال معمر وصالح وابن المسافر اتحنث‏.‏ وقال ابن اسحاق التحنث التبرر، وتابعهم هشام عن ابيه‏.‏
৫৯৯২. হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার আরয করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলী হালাতে অনেক সাওয়াবের কাজ করেছি। যেমন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, গোলাম আযাদ করা এবং দান-খয়রাত করা, এসব কাজে কি আমি কোন সাওয়াব পাব? হাকীম (রাঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পূর্বকৃত নেকীর বদৌলতে তুমি ইসলাম গ্রহণ করতে পেরেছ।

ইমাম বুখারী (রহ.) অন্যত্র আবুল ইয়ামান সূত্রে (’আত্বান্নাসুর স্থলে) ’আত্বাহান্নাতু বর্ণনা করেছেন। (উভয় শব্দের অর্থ একই) মা’মার, সালিহ্ ও ইবনু মুসাফিরও ’আত্বাহান্নাসু বর্ণনা করেছেন। ইবনু ইসহাক (রহ.) বলেন, তাহান্নুস মানে সৎ কাজ করা। ইবনু শিহাব তাঁর পিতা সূত্রে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। [১৪৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫৩)
হাদিস নং: ৫৯৯৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا حبان، اخبرنا عبد الله، عن خالد بن سعيد، عن ابيه، عن ام خالد بنت خالد بن سعيد، قالت اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم مع ابي وعلى قميص اصفر، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ سنه سنه ‏"‏‏.‏ قال عبد الله وهى بالحبشية حسنة‏.‏ قالت فذهبت العب بخاتم النبوة، فزجرني ابي‏.‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ دعها ‏"‏‏.‏ ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ابلي واخلقي، ثم ابلي واخلقي، ثم ابلي واخلقي ‏"‏‏.‏ قال عبد الله فبقيت حتى ذكر‏.‏ يعني من بقاىها‏.‏
৫৯৯৩. উম্মু খালিদ বিন্ত খালিদ ইবনু সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। আমার গায়ে তখন হলুদ রং এর জামা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সানাহ্ সানাহ্। ’আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় এর অর্থ সুন্দর, সুন্দর। উম্মু খালিদ বলেনঃ আমি তখন মোহরে নবূওয়াত নিয়ে খেলতে লাগলাম। আমার পিতা আমাকে ধমক দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ও যা করছে করতে দাও। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কাপড় পুরোনো কর ও জীর্ণ কর, আবার পুরোনো কর, জীর্ণ কর, আবার পুরোনো কর জীর্ণ কর। তিনবার বললেন। ’আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেনঃ তিনি দীর্ঘ জীবন লাভকারী হিসেবে আলোচিত হয়েছিলেন। [৩০৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫৪)
হাদিস নং: ৫৯৯৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا مهدي، حدثنا ابن ابي يعقوب، عن ابن ابي نعم، قال كنت شاهدا لابن عمر وساله رجل عن دم البعوض‏.‏ فقال ممن انت فقال من اهل العراق‏.‏ قال انظروا الى هذا، يسالني عن دم البعوض وقد قتلوا ابن النبي صلى الله عليه وسلم وسمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ هما ريحانتاى من الدنيا ‏"‏‏.‏
وَقَالَ ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ أَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِبْرَاهِيمَ فَقَبَّلَه وَشَمَّهُ

সাবিত (রহ.) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর পুত্র) ইবরাহীমকে চুমু দিয়েছেন ও তার ঘ্রাণ গ্রহণ করেছেন।


৫৯৯৪. ইবনু আবূ নু’আয়ম থেকে বণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তখন তাঁর কাছে একটি লোক মশার রক্তের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ কোন্ দেশের লোক তুমি? সে বললোঃ আমি ইরাকের বাসিন্দা। ইবনু ’উমার (রাঃ) বললেনঃ তোমরা এর দিকে তাকাও, সে আমাকে মশার রক্তের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে, অথচ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তানকে হত্যা করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ওরা দু’জন (অর্থাৎ হাসান ও হুসাইন) দুনিয়াতে আমার দু’টি সুগদ্ধি ফুল। [৩৭৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫৫)
হাদিস নং: ৫৯৯৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال حدثني عبد الله بن ابي بكر، ان عروة بن الزبير، اخبره ان عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حدثته قالت جاءتني امراة معها ابنتان تسالني، فلم تجد عندي غير تمرة واحدة، فاعطيتها، فقسمتها بين ابنتيها، ثم قامت فخرجت، فدخل النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته فقال ‏ "‏ من يلي من هذه البنات شيىا فاحسن اليهن كن له سترا من النار ‏"‏‏.‏
৫৯৯৫. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একটি স্ত্রীলোক দু’টি মেয়ে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে কিছু চাইলো। আমার কাছে একটি খুরমা ব্যতীত আর কিছুই সে পেলো না। আমি তাকে ওটা দিলাম। স্ত্রীলোকটি তার দু’মেয়েকে খুরমাটি ভাগ করে দিল। তারপর সে উঠে বের হয়ে গেল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। আমি তাঁকে ব্যাপারটি জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ যাকে এ সব কন্যা সন্তান দিয়ে কোন পরীক্ষা করা হয়, অতঃপর সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে, এ কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে প্রতিবন্ধক হবে। [১৪১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫৬)
হাদিস নং: ৫৯৯৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا الليث، حدثنا سعيد المقبري، حدثنا عمرو بن سليم، حدثنا ابو قتادة، قال خرج علينا النبي صلى الله عليه وسلم وامامة بنت ابي العاص على عاتقه، فصلى فاذا ركع وضعها، واذا رفع رفعها‏.‏
৫৯৯৬. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে আসলেন। তখন উমামাহ বিন্ত আবুল ’আস তাঁর স্কন্ধের উপর ছিলেন। এই অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দন্ডায়মান হলেন। যখন তিনি রুকূতে যেতেন, তাকে নামিয়ে রাখতেন, আবার যখন উঠে দাঁড়াতেন, তখন তাকেও উঠিয়ে নিতেন। [৫১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫৭)
হাদিস নং: ৫৯৯৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، حدثنا ابو سلمة بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قبل رسول الله صلى الله عليه وسلم الحسن بن علي وعنده الاقرع بن حابس التميمي جالسا‏.‏ فقال الاقرع ان لي عشرة من الولد ما قبلت منهم احدا‏.‏ فنظر اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال ‏ "‏ من لا يرحم لا يرحم ‏"‏‏.‏
৫৯৯৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা হাসান ইবনু ’আলীকে চুম্বন করেন। সে সময় তাঁর নিকট আকরা’ ইবনু হাবিস তামীমী উপবিষ্ট ছিলেন। আকরা’ ইবনু হাবিস বললেনঃ আমার দশটি পুত্র আছে, আমি তাদের কাউকেই কোন দিন চুম্বন দেইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পানে তাকালেন, অতঃপর বললেনঃ যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না। [মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৮, আহমাদ ৭২৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫৮)
হাদিস নং: ৫৯৯৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن هشام، عن عروة، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت جاء اعرابي الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال تقبلون الصبيان فما نقبلهم‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ او املك لك ان نزع الله من قلبك الرحمة ‏"‏‏.‏
৫৯৯৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো। আপনারা শিশুদের চুম্বন করেন, কিন্তু আমরা ওদের চুম্বন করি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ যদি তোমার হৃদয় হতে দয়া উঠিয়ে নেন, তবে তোমার উপর আমার কি কোন অধিকার আছে? [মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৭, আহমাদ ২৪৪৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫৯)
হাদিস নং: ৫৯৯৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي مريم، حدثنا ابو غسان، قال حدثني زيد بن اسلم، عن ابيه، عن عمر بن الخطاب ـ رضى الله عنه ـ قدم على النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم سبى، فاذا امراة من السبى قد تحلب ثديها تسقي، اذا وجدت صبيا في السبى اخذته فالصقته ببطنها وارضعته، فقال لنا النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اترون هذه طارحة ولدها في النار ‏"‏‏.‏ قلنا لا وهى تقدر على ان لا تطرحه‏.‏ فقال ‏"‏ الله ارحم بعباده من هذه بولدها ‏"‏‏.‏
৫৯৯৯. ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কতকগুলো বন্দী আসে। বন্দীদের মধ্যে একজন স্ত্রীলোক ছিল। তার স্তন ছিল দুধে পূর্ণ। সে বন্দীদের মধ্যে কোন শিশু পেলে তাকে কোলে তুলে নিত এবং দুধ পান করাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ তোমরা কি মনে কর এ স্ত্রীলোকটি তার সন্তানকে আগুনে ফেলে দিতে পারে? আমরা বললামঃ ফেলার ক্ষমতা রাখলেও সে কখনো ফেলবে না। তারপর তিনি বললেনঃ এ স্ত্রীলোকটি তার সন্তানের উপর যতটা দয়ালু, আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর তার চেয়েও বেশি দয়ালু। [মুসলিম ৪৯/৪, হাঃ ২৭৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬০)
হাদিস নং: ৬০০০ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحكم بن نافع، اخبرنا شعيب، عن الزهري، اخبرنا سعيد بن المسيب، ان ابا هريرة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ جعل الله الرحمة ماىة جزء، فامسك عنده تسعة وتسعين جزءا، وانزل في الارض جزءا واحدا، فمن ذلك الجزء يتراحم الخلق، حتى ترفع الفرس حافرها عن ولدها خشية ان تصيبه ‏"‏‏.‏
৬০০০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ রহমতকে একশ’ ভাগে বিভক্ত করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগ তিনি নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন। আর পৃথিবীতে একভাগ পাঠিয়েছেন। ঐ এক ভাগ পাওয়ার কারণেই সৃষ্ট জগত পরস্পরের প্রতি দয়া করে। এমনকি ঘোড়া তার বাচ্চার উপর থেকে পা উঠিয়ে নেয় এই আশঙ্কায় যে, সে ব্যথা পাবে। [৬৪২৯; মুসলিম ৪৯/৪, হাঃ ৬৪৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬১)
হাদিস নং: ৬০০১ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن منصور، عن ابي واىل، عن عمرو بن شرحبيل، عن عبد الله، قال قلت يا رسول الله اى الذنب اعظم قال ‏"‏ ان تجعل لله ندا وهو خلقك ‏"‏‏.‏ ثم قال اى قال ‏"‏ ان تقتل ولدك خشية ان ياكل معك ‏"‏‏.‏ قال ثم اى قال ‏"‏ ان تزاني حليلة جارك ‏"‏‏.‏ وانزل الله تصديق قول النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم ‏(‏والذين لا يدعون مع الله الها اخر‏)‏‏.‏
৬০০১. ’আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ গুনাহ সব হতে বড়? তিনি বললেনঃ কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ গণ্য করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বললেনঃ তারপরে কোনটি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সাথে খাবে, এ আশঙ্কায় তোমার সন্তানকে হত্যা করা। [1] তিনি বললেনঃ তারপরে কোনটি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার সত্যতা প্রতিপন্ন করে অবতীর্ণ হলোঃ ’’আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে না’’- (সূরা আল-ফুরক্বান (২৫/৬৮)। [৪৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬২)
নোট: [1] অধিক সন্তান জন্ম নিলে সংসারে অভাব অনটন দেখা দিবে। তাদেরকে খাওয়াতে পরাতে পারবে না, নিজেদের খাবারেও কষ্ট হবে এরূপ মন মানসিকতা নিয়ে সন্তান হত্যা ও ভ্রুণ হত্যা সমান গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি জীবকে আল্লাহ তা‘আলা রিযক সহকারে দুনিয়াতে পাঠিয়ে থাকেন এবং তিনি তাদের আহারের ব্যবস্থা করে থাকেন। যেমন সূরা আন‘আমের ১৫১ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, {وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ مِنْ إِمْلاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ} অর্থাৎ ‘‘দরিদ্রতার ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না’’

ইসলামী অর্থ ব্যবস্থায় দুনিয়াতে খাদ্যের কোন অভাব নেই। অনৈসলামিক ব্যবস্থার ফলে সমাজে অভাব কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
হাদিস নং: ৬০০২ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى بن سعيد، عن هشام، قال اخبرني ابي، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم وضع صبيا في حجره يحنكه، فبال عليه، فدعا بماء فاتبعه‏.‏
৬০০২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিশুকে নিজের কোলে উঠিয়ে নিলেন। তারপর তাকে তাহনীক [1] করালেন। শিশুটি তাঁর কোলে প্রস্রাব করে দিল। তখন তিনি পানি আনতে বললেন এবং তা প্রস্রাবের জায়গায়) ঢেলে দিলেন। [২২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৩)
নোট: [1] খেজুর চিবিয়ে রসালো করে নবজাতকের মুখে দেয়াকে তাহনীক বলা হয়।
হাদিস নং: ৬০০৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا عارم، حدثنا المعتمر بن سليمان، يحدث عن ابيه، قال سمعت ابا تميمة، يحدث عن ابي عثمان النهدي، يحدثه ابو عثمان عن اسامة بن زيد ـ رضى الله عنهما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ياخذني فيقعدني على فخذه، ويقعد الحسن على فخذه الاخرى، ثم يضمهما ثم يقول ‏ "‏ اللهم ارحمهما فاني ارحمهما ‏"‏‏.‏ وعن علي، قال حدثنا يحيى، حدثنا سليمان، عن ابي عثمان، قال التيمي فوقع في قلبي منه شىء، قلت حدثت به كذا وكذا، فلم اسمعه من ابي عثمان، فنظرت فوجدته عندي مكتوبا فيما سمعت‏.‏
৬০০৩. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে তাঁর এক রানের উপর আমাকে বসাতেন এবং হাসানকে বসাতেন অন্য রানে। তারপর দু’জনকে একত্রে মিলিয়ে নিতেন। পরে বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি এদের দু’জনের উপর রহম করুন, কেননা আমিও এদের ভালবাসি।

অপর এক সূত্রে তামীমী বলেন, এ হাদীসটি সম্পর্কে আমার মনে সন্দেহ জাগল। ভাবলাম, আবূ ’উসমান থেকে আমি এতো এতো হাদীস বর্ণনা করেছি, এ হাদীসটি মনে হয় তার কাছ হতে শুনিনি। পরে খোঁজ করে দেখলাম যে, আবূ ’উসমানের নিকট হতে শোনা যে সব হাদীস আমার কাছে লেখা ছিল, তাতে এটি পেয়ে গেলাম। [৩৭৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৪)
হাদিস নং: ৬০০৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت ما غرت على امراة ما غرت على خديجة، ولقد هلكت قبل ان يتزوجني بثلاث سنين، لما كنت اسمعه يذكرها، ولقد امره ربه ان يبشرها ببيت في الجنة من قصب، وان كان ليذبح الشاة ثم يهدي في خلتها منها‏.‏
৬০০৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অন্য কোন মহিলার উপর ততটা ঈর্ষা পোষণ করতাম না, যতটা ঈর্ষা করতাম খাদীজার উপর। অথচ আমার বিয়ের তিন বছর আগেই তিনি মারা যান। কারণ, আমি শুনতাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম উল্লেখ করতেন। আর জান্নাতের মাঝে মণি-মুক্তার একটি ঘরের খোশ-খবর খাদীজাকে শোনানোর জন্যে তাঁর প্রতিপালক তাঁকে নির্দেশ দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও ছাগল যবহ করলে তার একটি টুকরো খাদীজার বান্ধবীদের কাছে অবশ্যই পাঠাতেন। [৩৮১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৫)
হাদিস নং: ৬০০৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، قال حدثني عبد العزيز بن ابي حازم، قال حدثني ابي قال، سمعت سهل بن سعد، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ انا وكافل اليتيم، في الجنة هكذا ‏"‏‏.‏ وقال باصبعيه السبابة والوسطى‏.‏
৬০০৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি ও ইয়াতীমের দেখাশুনাকারী জান্নাতে এভাবে (একত্রে) থাকব। এ কথা বলার সময় তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় মিলিয়ে ইঙ্গিত করে দেখালেন। ([৫৩০৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৬)
হাদিস নং: ৬০০৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله، قال حدثني مالك، عن صفوان بن سليم، يرفعه الى النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ الساعي على الارملة والمسكين كالمجاهد في سبيل الله، او كالذي يصوم النهار ويقوم الليل ‏"‏‏.‏ حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن ثور بن زيد الديلي، عن ابي الغيث، مولى ابن مطيع عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله
৬০০৬. সফওয়ান ইবনু সুলায়ম হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ’রূপে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বিধবা ও মিসকীনদের ভরণ-পোষণের ব্যাপারে চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মত। অথবা সে ঐ ব্যক্তির মত, যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে (’ইবাদাতে) দন্ডায়মান থাকে। ([৫৩৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৭)

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৮)
হাদিস নং: ৬০০৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، حدثنا مالك، عن ثور بن زيد، عن ابي الغيث، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الساعي على الارملة والمسكين كالمجاهد في سبيل الله ـ واحسبه قال، يشك القعنبي ـ كالقاىم لا يفتر، وكالصاىم لا يفطر ‏"‏‏.‏
৬০০৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিধবা ও মিসকীনদের অভাব দূর করার জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায়। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] আমার ধারণা যে কা’নবী (বুখারীর উস্তাদ ’আবদুল্লাহ) সন্দেহ প্রকাশ করেছেনঃ সে রাতভর দাঁড়ানো ব্যক্তির মত যে (’ইবাদাতে) ক্লান্ত হয় না এবং এমন সিয়াম পালনকারীর মত, যে সিয়াম ভঙ্গ করে না। [৫৩৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৯)
হাদিস নং: ৬০০৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا اسماعيل، حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، عن ابي سليمان، مالك بن الحويرث قال اتينا النبي صلى الله عليه وسلم ونحن شببة متقاربون، فاقمنا عنده عشرين ليلة، فظن انا اشتقنا اهلنا، وسالنا عمن تركنا في اهلنا، فاخبرناه، وكان رفيقا رحيما فقال ‏ "‏ ارجعوا الى اهليكم فعلموهم ومروهم، وصلوا كما رايتموني اصلي، واذا حضرت الصلاة فليوذن لكم احدكم، ثم ليومكم اكبركم ‏"‏‏.‏
৬০০৮. আবূ সুলাইমান মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কয়জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে আসলাম। তখন আমরা ছিলাম প্রায় সমবয়সী যুবক। বিশ দিন তাঁর কাছে আমরা থাকলাম। তিনি বুঝতে পারলেন, আমরা আমাদের পরিবারের নিকট প্রত্যাবর্তন করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছি। যাদের আমরা বাড়িতে রেখে এসেছি তাদের ব্যাপারে তিনি আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করলেন। আমরা তা তাঁকে জানালাম। তিনি ছিলেন কোমল হৃদয় ও দয়ার্দ্র। তাই তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যাও। তাদের (কুরআন) শিক্ষা দাও, (সৎ কাজের) আদেশ কর এবং যে ভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক তেমনভাবে সালাত আদায় কর। সালাতের ওয়াক্ত হলে, তোমাদের একজন আযান দেবে এবং যে তোমাদের মধ্যে বড় সে ইমামাত করবে। [৬২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭০)
হাদিস নং: ৬০০৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، حدثني مالك، عن سمى، مولى ابي بكر عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ بينما رجل يمشي بطريق اشتد عليه العطش، فوجد بىرا فنزل فيها فشرب ثم خرج، فاذا كلب يلهث ياكل الثرى من العطش فقال الرجل لقد بلغ هذا الكلب من العطش مثل الذي كان بلغ بي، فنزل البىر فملا خفه، ثم امسكه بفيه، فسقى الكلب، فشكر الله له فغفر له ‏"‏‏.‏ قالوا يا رسول الله وان لنا في البهاىم اجرا‏.‏ فقال ‏"‏ في كل ذات كبد رطبة اجر ‏"‏‏.‏
৬০০৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার এক লোক পথে হেঁটে যাচ্ছিল। তার ভীষণ পিপাসা লাগে। সে একটি কূপ পেল। সে তাতে নামল এবং পানি পান করলো, তারপরে উঠে এলো। হঠাৎ দেখলো, একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে। পিপাসার্ত হয়ে কাদা চাটছে। লোকটি ভাবলো, এ কুকুরটি পিপাসায় সেরূপ কষ্ট পাচ্ছে, যেরূপ কষ্ট আমার হয়েছিল। তখন সে কূপে নামল এবং তার মোজার মধ্যে পানি ভরলো, তারপর মুখ দিয়ে তা (কামড়ে) ধরে উপরে উঠে এলো। তারপর সে কুকুরটিকে পানি পান করালো। আল্লাহ তাকে এর প্রতিদান দিলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! জীব-জন্তুর (প্রতি দয়া প্রদর্শনের) জন্যও কি আমাদের পুরস্কার আছে? তিনি বললেনঃ হাঁ, প্রত্যেক দয়ালু অন্তরের অধিকারীদের জন্যে প্রতিদান আছে। [১৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭১)
অধ্যায় তালিকা