অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৮১/১. সুস্থতা আর অবসর, আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন।
মোট ১৮২ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৪৫২ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم بنحو من نصف هذا الحديث حدثنا عمر بن ذر حدثنا مجاهد ان ابا هريرة كان يقول االله الذي لا اله الا هو ان كنت لاعتمد بكبدي على الارض من الجوع وان كنت لاشد الحجر على بطني من الجوع ولقد قعدت يوما على طريقهم الذي يخرجون منه فمر ابو بكر فسالته عن اية من كتاب الله ما سالته الا ليشبعني فمر ولم يفعل ثم مر بي عمر فسالته عن اية من كتاب الله ما سالته الا ليشبعني فمر فلم يفعل ثم مر بي ابو القاسم صلى الله عليه وسلم فتبسم حين راني وعرف ما في نفسي وما في وجهي ثم قال يا ابا هر قلت لبيك يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الحق ومضى فتبعته فدخل فاستاذن فاذن لي فدخل فوجد لبنا في قدح فقال من اين هذا اللبن قالوا اهداه لك فلان او فلانة قال ابا هر قلت لبيك يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الحق الى اهل الصفة فادعهم لي قال واهل الصفة اضياف الاسلام لا ياوون الى اهل ولا مال ولا على احد اذا اتته صدقة بعث بها اليهم ولم يتناول منها شيىا واذا اتته هدية ارسل اليهم واصاب منها واشركهم فيها فساءني ذلك فقلت وما هذا اللبن في اهل الصفة كنت احق انا ان اصيب من هذا اللبن شربة اتقوى بها فاذا جاء امرني فكنت انا اعطيهم وما عسى ان يبلغني من هذا اللبن ولم يكن من طاعة الله وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم بد فاتيتهم فدعوتهم فاقبلوا فاستاذنوا فاذن لهم واخذوا مجالسهم من البيت قال يا ابا هر قلت لبيك يا رسول الله قال خذ فاعطهم قال فاخذت القدح فجعلت اعطيه الرجل فيشرب حتى يروى ثم يرد علي القدح فاعطيه الرجل فيشرب حتى يروى ثم يرد علي القدح فيشرب حتى يروى ثم يرد علي القدح حتى انتهيت الى النبي صلى الله عليه وسلم وقد روي القوم كلهم فاخذ القدح فوضعه على يده فنظر الي فتبسم فقال ابا هر قلت لبيك يا رسول الله قال بقيت انا وانت قلت صدقت يا رسول الله قال اقعد فاشرب فقعدت فشربت فقال اشرب فشربت فما زال يقول اشرب حتى قلت لا والذي بعثك بالحق ما اجد له مسلكا قال فارني فاعطيته القدح فحمد الله وسمى وشرب الفضلة.
৬৪৫২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলতেনঃ আল্লাহর কসম! যিনি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। আমি ক্ষুধার তাড়নায় উপুড় হয়ে পড়ে থাকতাম। আর কখনও পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। একদিন আমি (ক্ষুধার যন্ত্রণায় বাধ্য হয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণের রাস্তায় বসে থাকলাম। আবূ বকর (রাঃ) যাচ্ছিলেন। আমি কুরআনের একটা আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম এই উদ্দেশে যে, তিনি আমাকে পরিতৃপ্ত করে খাওয়াবেন। কিন্তু তিনি কিছু করলেন না। অতঃপর ’উমার (রাঃ) যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। আমি প্রশ্ন করলাম এ উদ্দেশে যে, তিনি আমাকে পরিতৃপ্ত করে খাওয়াবেন। কিন্তু তিনি চলে গেলেন। কিছু করলেন না।

অতঃপর আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে দেখেই মুচ্কি হাসলেন এবং আমার প্রাণের এবং আমার চেহারার অবস্থা কী তিনি তা আঁচ করতে পারলেন। অতঃপর বললেন, হে আবূ হির! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হাযির, তিনি বললেনঃ তুমি আমার সঙ্গে চল। এ বলে তিনি চললেন, আমিও তাঁর অনুসরণ করলাম। তিনি ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এবং আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। তারপর তিনি ঘরে প্রবেশ করে একটি পেয়ালায় কিছু দুধ পেলেন। তিনি বললেনঃ এ দুধ কোত্থেকে এসেছে? তাঁরা বললেন, এটা আপনাকে অমুক পুরুষ বা অমুক মহিলা হাদিয়া দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ হির! আমি বললাম, আমি হাযির হে আল্লাহর রাসূল! তুমি সুফফাবাসীদের কাছে যাও এবং তাদেরকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো।

রাবী বলেন, সুফফাবাসীরা ছিলেন ইসলামের মেহমান। তাদের ছিল না কোন পরিবার, ছিল না কোন সম্পদ এবং কারো উপর ভরসা করার মত তাদের কেউ ছিল না। যখন তাঁর কাছে কোন সাদাকা আসত তখন তিনি তা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। তিনি এর থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না। আর যখন কোন হাদিয়া আসত, তখন তার কিছু অংশ তাদেরকে দিয়ে দিতেন এবং নিজের জন্য কিছু রাখতেন। এর মধ্যে তাদেরকে শরীক করতেন। এ আদেশ শুনে আমি নিরাশ হয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম যে, এ সামান্য দুধ দ্বারা সুফ্ফাবাসীদের কী হবে? এ সামান্য দুধ আমার জন্যই যথেষ্ট হতো। এটা পান করে আমার শরীরে শক্তি আসত।

যখন তাঁরা এসে গেলেন, তখন তিনি আমাকে আদেশ দিলেন, আমিই যেন তা তাঁদেরকে দেই। আর আমার আশা রইল না যে, এ দুধ থেকে আমি কিছু পাব। কিন্তু আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ না মেনে কোন উপায় নেই। তাই তাঁদের কাছে গিয়ে তাঁদেরকে ডেকে আনলাম। তাঁরা এসে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন। তাঁরা এসে ঘরে আসন গ্রহণ করলেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ হির! আমি বললাম, আমি হাযির হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, তুমি পেয়ালাটি নাও আর তাদেরকে দাও। আমি পেয়ালা নিয়ে একজনকে দিলাম। তিনি তা তৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। আমি আরেকজনকে পেয়ালাটি দিলাম। তিনিও তৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। এমন কি আমি এভাবে দিতে দিতে শেষতক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছলাম। তাঁরা সবাই তৃপ্ত হলেন।

তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালাটি নিজ হাতে নিয়ে রেখে আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। আর বললেনঃ হে আবূ হির! আমি বললাম, আমি হাযির, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ এখন তো আমি আছি আর তুমি আছ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ঠিক বলছেন। তিনি বললেন, এখন তুমি বস এবং পান কর। তখন আমি বসে পান করলাম। তিনি বললেন, তুমি আরও পান কর। আমি আরও পান করলাম। তিনি আমাকে পান করার নির্দেশ দিতেই থাকলেন। এমন কি আমি বললাম যে, আর না। যে সত্তা আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম। আমার পেটে আর জায়গা পাচ্ছি না। তিনি বললেন, তাহলে আমাকে দাও। আমি পেয়ালাটি তাঁকে দিলাম। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও বিসমিল্লাহ্ বলে বাকী পান করলেন।[1] [৫৩৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৮)
নোট: [1] হাদীসটি হতে জানা যায় :
(১) বসে পান করা মুস্তাহাব।
(২) মেহমানদের কিছু পান করানোর সময় খাদিম নিজে পরিবেশন না করে পাত্র তাদের হাতে এভাবে ছেড়ে দেয়া যে, একজনের পান করা শেষ হলে সে তার পাশের সাথীকে পান করতে দিবে, এটা উচিত নয়। কেননা এটা মেহমানকে অসম্মানের শামিল।
(৩) এর মধ্যে বিরাট মু‘জিযা নিহিত রয়েছে।
(৪) অভাব অনটনের কথা প্রকাশ করা ও ঘোষণা দেয়া থেকে তা গোপন রাখা বা এর ইঙ্গিত দেয়া শ্রেষ্ঠতর।
(৫) রাসূল (সাঃ)’র উদারতা ও তাঁর নিজের, তাঁর খাদিমের ও তাঁর পরিবার পরিজনের স্বার্থ ত্যাগ।
(৬) নবী (সাঃ)’র যুগে কিছু কিছু সাহাবীর অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল সঙ্কটময়।
(৭) আহলে সুফ্ফার ফযীলাত।
(৮) আমন্ত্রিত ব্যক্তি আমন্ত্রণকারীর বাড়ীতে এসে বিনা অনুমতিতে যেন বাড়ীতে প্রবেশ না করে।
(৯) আবু বকর (রাঃ) ও উমার (রাঃ) নবী (সাঃ) এর সর্ব সময়ের সহযোগী- এর প্রমাণ বহন করে।
(১০) বড়রা তাদের খাদিমদের উপনাম ধরে ডাকতে পারে।
(১১) কাউকে ডাকার সময় নাম সংক্ষিপ্ত করা যায়। যেমন আবু হুরাইরাহ (রাঃ)-কে রাসূল (সাঃ) ইয়া আবা হির্ বলে ডাকতেন।
(১২) নবী (সাঃ) হাদীয়া বা উপঢৌকন গ্রহণ করতেন এবং খেতেন। কিন্তু সাদাকা খেতেন না বরং তা হক্বদারদের মাঝে বণ্টন করে দিতেন।
(১৩) আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিতে সম্বোধিত ব্যক্তির ‘লাববাইকা’ বলা।
(১৪) খাদিমকে মালিকের ঘরে প্রবেশকালে অনুমতি নিতে হবে।
(১৫) পরিবেশনকারী শেষে পান করবে আর বাড়ীর মালিক তার পরে পান করবে। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪৫৩ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن اسماعيل حدثنا قيس قال سمعت سعدا يقول اني لاول العرب رمى بسهم في سبيل الله ورايتنا نغزو وما لنا طعام الا ورق الحبلة وهذا السمر وان احدنا ليضع كما تضع الشاة ما له خلط ثم اصبحت بنو اسد تعزرني على الاسلام خبت اذا وضل سعيي.
৬৪৫৩. কায়স (রহ.) বর্ণনা করেন, আমি সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমিই সর্বপ্রথম আরব যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। যুদ্ধের সময় আমাদের অবস্থা দেখেছি যে হুবলা পাতা ও ঝাউগাছ ব্যতীত খাবারের কিছুই ছিল না। আমাদের মল বকরির মলের মত হয়ে গিয়েছিল। যা ছিল সম্পূর্ণ শুকনো। আর এখন আবার বনূ আসাদ এসে ইসলামের উপর চলার জন্য আমাকে তিরস্কার করছে। এখন আমি শংকিত যে আমার পূর্বেকার চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেল।[মুসলিম পর্ব ৫৩/হাঃ ২৯৬৬, আহমাদ ১৪৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৯)
হাদিস নং: ৬৪৫৪ সহিহ (Sahih)
عثمان حدثنا جرير عن منصور عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة قالت ما شبع ال محمد صلى الله عليه وسلم منذ قدم المدينة من طعام بر ثلاث ليال تباعا حتى قبض.
৬৪৫৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গ মদিনা্য় আসার পর থেকে এক নাগাড়ে তিন দিন গমের রুটি পরিতৃপ্ত হয়ে খাননি। এবং এ অবস্থায় তাঁর ওফাত হয়ে গেল। [৫৪১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১০)
হাদিস নং: ৬৪৫৫ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم بن عبد الرحمن حدثنا اسحاق هو الازرق عن مسعر بن كدام عن هلال الوزان عن عروة عن عاىشة قالت ما اكل ال محمد صلى الله عليه وسلم اكلتين في يوم الا احداهما تمر.
৬৪৫৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গ একদিনে দু’বেলা খানা খেয়ে একবেলা শুধু খুর্মা খেয়েই কাটিয়ে দিতেন। [(আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১১)
হাদিস নং: ৬৪৫৬ সহিহ (Sahih)
احمد ابن ابي رجاء حدثنا النضر عن هشام قال اخبرني ابي عن عاىشة قالت كان فراش رسول الله صلى الله عليه وسلم من ادم وحشوه من ليف.
৬৪৫৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিছানা ছিল চামড়ার তৈরি এবং তার ভেতরে ছিল খেজুরের ছাল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১২)
হাদিস নং: ৬৪৫৭ সহিহ (Sahih)
هدبة بن خالد حدثنا همام بن يحيى حدثنا قتادة قال كنا ناتي انس بن مالك وخبازه قاىم وقال كلوا فما اعلم النبي صلى الله عليه وسلم راى رغيفا مرققا حتى لحق بالله ولا راى شاة سميطا بعينه قط.
৬৪৫৭. ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর কাছে এমন অবস্থায় গেলাম যে, তাঁর পাচক (মেহমানদারির জন্য) ছিল দাঁড়ানো। আনাস (রাঃ) বললেন, আপনারা খান। আমি জানি না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকালের সময় পর্যন্ত পাতলা রুটি দেখেছেন কিনা। আর তিনি কখনও ভুনা বকরির মাংস্ দেখেননি। [৫৩৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১৩)
হাদিস নং: ৬৪৫৮ সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى حدثنا هشام اخبرني ابي عن عاىشة قالت كان ياتي علينا الشهر ما نوقد فيه نارا انما هو التمر والماء الا ان نوتى باللحيم.
৬৪৫৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উপর দিয়ে মাস কেটে যেত, আমরা এর মধ্যে ঘরে (রান্নার) আগুন জ্বালাতাম না। আমরা কেবল খুরমা ও পানির উপর চলতাম। তবে যৎ সামান্য মাংস আমাদের নিকট এসে যেত। [২৫৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১৪)
হাদিস নং: ৬৪৫৯ সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله الاويسي حدثني ابن ابي حازم عن ابيه عن يزيد بن رومان عن عروة عن عاىشة انها قالت لعروة ابن اختي ان كنا لننظر الى الهلال ثلاثة اهلة في شهرين وما اوقدت في ابيات رسول الله صلى الله عليه وسلم نار فقلت ما كان يعيشكم قالت الاسودان التمر والماء الا انه قد كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم جيران من الانصار كان لهم مناىح وكانوا يمنحون رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم من ابياتهم فيسقيناه.
৬৪৫৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার ’উরওয়াহ (রাঃ)-কে বললেন, বোন পুত্র! আমরা দু’মাসে তিনটি নতুন চাঁদ দেখতাম। কিন্তু (এর মধ্যে) আল্লাহর রাসূলের ঘরগুলোতে আগুন জ্বলত না। আমি বললাম, আপনারা কিভাবে দিনাতিপাত করতেন? তিনি বললেন, কালো দু’টি বস্ত্ত। খেজুর আর পানি। অবশ্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু আনসার প্রতিবেশীর কতকগুলো দুধেল প্রাণী ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা দিত। আর আমরা তাই পান করতাম।[1] [২৫৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১৫)
নোট: [1] ৬৪৪৯ হতে ৬৪৫৯নং হাদীসগুলো ধনীদের জন্য সাবধানবাণী ও দরিদ্রদের জন্য সুসংবাদবাহী। ধনী ব্যক্তিরা যেন মনে না করেন যে, আল্লাহ তাদের প্রতি খুব সন্তুষ্ট, এজন্য তাদেরকে ধনী বানিয়ে দিয়েছেন। কারণ একজন মুসলিমের জন্য দুনিয়া লাভ করা মুখ্য বিষয় নয় বরং মুখ্য বিষয় হচ্ছে আখেরাতে জান্নাত লাভ করা। আর আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ও তাঁর সাহাবীদের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় আর কে হবে? কিন্তু তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত গরীব। এ রকম গরীব ঈমানদান লোক দিয়েই জান্নাতকে পূর্ণ করা হবে। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪৬০ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا محمد بن فضيل عن ابيه عن عمارة عن ابي زرعة عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اللهم ارزق ال محمد قوتا.
৬৪৬০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ্! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গকে জীবিকা দান কর। [মুসলিম ১২/৪৩, হাঃ ১০৫৫, আহমাদ ১০২৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১৬)
হাদিস নং: ৬৪৬১ সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا ابي عن شعبة عن اشعث قال سمعت ابي قال سمعت مسروقا قال سالت عاىشة اي العمل كان احب الى النبي صلى الله عليه وسلم قالت الداىم قال قلت فاي حين كان يقوم قالت كان يقوم اذا سمع الصارخ.
৬৪৬১. মাসরূক (রহ.) বর্ণনা করেন। আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোন্ ’আমল সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল? তিনি বললেন, যা সর্বদা নিয়মিত করা হয়। আমি বললাম, তিনি রাতে কখন উঠতেন? তিনি বললেন, তিনি উঠতেন যখন তিনি মোরগের ডাক শুনতেন। [১১৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১৭)
হাদিস নং: ৬৪৬২ সহিহ (Sahih)
قتيبة عن مالك عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة انها قالت كان احب العمل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي يدوم عليه صاحبه.
৬৪৬২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিল সে ’আমল যা সব সময় নিয়মিত করা হয়। [১১৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১৮)
হাদিস নং: ৬৪৬৩ সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا ابن ابي ذىب عن سعيد المقبري عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لن ينجي احدا منكم عمله قالوا ولا انت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ولا انا الا ان يتغمدني الله برحمة سددوا وقاربوا واغدوا وروحوا وشيء من الدلجة والقصد القصد تبلغوا.
৬৪৬৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কস্মিনকালেও তোমাদের কাউকে তার নিজের ’আমল কক্ষনো নাজাত দিবে না। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেও না? তিনি বললেনঃ আমাকেও না। তবে আল্লাহ্ আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে আবৃত রেখেছেন। তোমরা যথারীতি ’আমল করে নৈকট্য লাভ কর। তোমরা সকালে, বিকালে এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহর ইবাদাত কর। মধ্য পন্থা অবলম্বন কর। মধ্য পন্থা তোমাদেরকে লক্ষ্যে পৌঁছাবে।[1] [৩৯; মুসলিম ৫০/১৭, হাঃ ২৮১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০১৯)
নোট: [1] হাদীসটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর রহমত ব্যতীত শুধু আমলের দ্বারা কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪৬৪ সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا سليمان عن موسى بن عقبة عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال سددوا وقاربوا واعلموا ان لن يدخل احدكم عمله الجنة وان احب الاعمال الى الله ادومها وان قل.
৬৪৬৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ঠিকভাবে নিষ্ঠাসহ কাজ করে নৈকট্য লাভ কর। জেনে রেখ, তোমাদের কাউকে তার ’আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না এবং আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ’আমল হলো, যা সদাসর্বদা নিয়মিত করা হয় যদিও তা অল্প হয়। [৬৪৬৭; মুসলিম ৫০/১৭, হাঃ ২৮১৮, আহমাদ ২৪৯৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২০)
হাদিস নং: ৬৪৬৫ সহিহ (Sahih)
محمد بن عرعرة حدثنا شعبة عن سعد بن ابراهيم عن ابي سلمة عن عاىشة انها قالت سىل النبي صلى الله عليه وسلم اي الاعمال احب الى الله قال ادومها وان قل وقال اكلفوا من الاعمال ما تطيقون.
৬৪৬৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ’আমল কী? তিনি বললেনঃ যে ’আমল সদাসর্বদা নিয়মিত করা হয়। যদিও তা অল্প হয়। তিনি আরও বললেন, তোমরা সাধ্যের অতীত কাজ নিজের উপর চাপিয়ে নিও না।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২১)
নোট: [1] এখানে পরস্পর কয়েকটি হাদীসে সৎ আমলের ধারাবাহিকতা বা স্থায়ীত্বের উপর উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, যদিও সৎ আমলগুলো অল্প হয়। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪৬৬ সহিহ (Sahih)
عثمان بن ابي شيبة حدثنا جرير عن منصور عن ابراهيم عن علقمة قال سالت ام المومنين عاىشة قلت يا ام المومنين كيف كان عمل النبي صلى الله عليه وسلم هل كان يخص شيىا من الايام قالت لا كان عمله ديمة وايكم يستطيع ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يستطيع.
৬৪৬৬. ’আলক্বামাহ (রহ.) বর্ণনা করেন। আমি উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ’আমল কেমন ছিল? তিনি কি কোন ইবাদাতের জন্য কোন দিন নির্দিষ্ট করতেন? তিনি বললেন, না। তাঁর ’আমল ছিল সার্বক্ষণিক ও নিয়মিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতে পারতেন, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে তা করতে পারবে? [১৯৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২২)
হাদিস নং: ৬৪৬৭ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا محمد بن الزبرقان حدثنا موسى بن عقبة عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال سددوا وقاربوا وابشروا فانه لا يدخل احدا الجنة عمله قالوا ولا انت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ولا انا الا ان يتغمدني الله بمغفرة ورحمة قال اظنه عن ابي النضر عن ابي سلمة عن عاىشة وقال عفان حدثنا وهيب عن موسى بن عقبة قال سمعت ابا سلمة عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم سددوا وابشروا قال مجاهد قولا سديدا وسدادا صدقا.
৬৪৬৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ তোমরা ঠিক ঠিকভাবে নিয়মিত কাজ করে যাও। আর সুসংবাদ নাও। কিন্তু (জেনে রেখো) কারো ’আমল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেও না? তিনি বললেনঃ আমাকেও না। তবে আল্লাহ্ আমাকে তাঁর ক্ষমা ও রহমতে আবৃত রেখেছেন। তিনি বলেছেন, এটি আমি ধারণা করছি আবূ নায্র..... ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’আফ্‌ফান (রহ.) ..... ’আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তোমরা যথাযথ ’আমল কর আর সুসংবাদ নাও। মুজাহিদ বলেছেন, سَدِيدًا وَسَدَادًا শব্দগুলোর অর্থ সত্য। [৬৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২৩)
হাদিস নং: ৬৪৬৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن المنذر، حدثنا محمد بن فليح، قال حدثني ابي، عن هلال بن علي، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال سمعته يقول ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى لنا يوما الصلاة، ثم رقي المنبر فاشار بيده قبل قبلة المسجد، فقال ‏ "‏ قد اريت الان ـ منذ صليت لكم الصلاة ـ الجنة والنار ممثلتين في قبل هذا الجدار، فلم ار كاليوم في الخير والشر، فلم ار كاليوم في الخير والشر ‏"‏‏.‏
৬৪৬৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর মিম্বারে উঠলেন এবং মসজিদের কিবলার দিকে হাত দিয়ে ইংগিত করে বললেনঃ এইমাত্র যখন আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলাম, তখন এ দেয়ালের সামনে আমাকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানো হলো। আমি অদ্যকার ন্যায় ভাল ও মন্দ আর কোন দিন দেখিনি। কথাটি দু’বার বললেন।[1] [৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২৪)
নোট: [1] আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের মতই রক্ত গোশতের মানুষ হওয়া সত্তেও তিনি মানুষকে যে সত্যের দিকে আহবান জানাতেন তা তাঁকে হর হামেশাই দেখানো হত। ফেরেশতাদের শ্রেষ্ঠ জিবরীল তাঁর কাছে সব সময় আসতেন, নাবী (সাঃ) কে জান্নাত-জাহান্নাম দেখানো হত্ । তদুপরি তাঁকে সাত আসমানের উপরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি পূর্ববর্তী অনেক নাবীকে দেখেছেন, পরকালের বহু দৃশ্যাবলী তাঁকে দেখানো হয়েছে, তাঁকে জান্নাতী খাবারও খাওয়ানো হয়েছে।
হাদিস নং: ৬৪৬৯ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن عمرو بن ابي عمرو عن سعيد بن ابي سعيد المقبري عن ابي هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يقول ان الله خلق الرحمة يوم خلقها ماىة رحمة فامسك عنده تسعا وتسعين رحمة وارسل في خلقه كلهم رحمة واحدة فلو يعلم الكافر بكل الذي عند الله من الرحمة لم ييىس من الجنة ولو يعلم المومن بكل الذي عند الله من العذاب لم يامن من النار.
وَقَالَ سُفْيَانُ مَا فِي الْقُرْآنِ آيَةٌ أَشَدُّ عَلَيَّ مِنْ (لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالإِنْجِيْلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ).

সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, কুরআনের মধ্যে আমার কাছ এত্থেকে কঠিন আয়াত দ্বিতীয়টি নেইঃ তাওরাত, ইঞ্জিল আর তোমাদের রবের নিকট হতে যা তোমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তার বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত তোমরা কোন ভিত্তির উপরই দন্ডায়মান নও। (সূরাহ মায়িদাহ ৫/৬৮)


৬৪৬৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। আল্লাহ্ যেদিন রহমত সৃষ্টি করেন সেদিন একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। নিরানব্বইটি তাঁর কাছে রেখে দিয়েছেন এবং একটি রহমত সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যদি কাফির আল্লাহর কাছে সুরক্ষিত রহমত সম্পর্কে জানে তাহলে সে জান্নাত লাভে নিরাশ হবে না। আর মু’মিন যদি আল্লাহর কাছে যে শাস্তি আছে সে সম্পর্কে জানে তা হলে সে জাহান্নাম থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে না। [৬০০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২৫)
হাদিস নং: ৬৪৭০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عطاء بن يزيد، ان ابا سعيد، اخبره ان اناسا من الانصار سالوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يساله احد منهم الا اعطاه حتى نفد ما عنده فقال لهم حين نفد كل شىء انفق بيديه ‏ "‏ ما يكن عندي من خير لا ادخره عنكم، وانه من يستعف يعفه الله، ومن يتصبر يصبره الله، ومن يستغن يغنه الله، ولن تعطوا عطاء خيرا واوسع من الصبر ‏"‏‏.‏
وَقَالَ عُمَرُ وَجَدْنَا خَيْرَ عَيْشِنَا بِالصَّبْرِ

’উমার (রাঃ) বলেন, আমরা উত্তম জীবন লাভ করেছিলাম ধৈর্য ধরার কারণেই।


৬৪৭০. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন। একবার আনসারদের কিছু সংখ্যক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাহায্য চাইলেন। তাদের যে যা চাইলেন, তিনি তা-ই দিলেন, এমন কি তাঁর কাছে যা কিছু ছিল নিঃশেষ হয়ে গেল। যখন তাঁর দু’হাতে দান করার পর সবকিছু শেষ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ আমার কাছে যা কিছু থাকে, তা থেকে আমি কিছুই সঞ্চয় করি না। অবশ্য যে নিজেকে চাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, আল্লাহ্ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন; আর যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে তিনি তাকে ধৈর্যশীলই রাখেন। আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ্ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। সবরের চেয়ে বেশি প্রশস্ত ও কল্যাণকর কিছু কক্ষনো তোমাদেরকে দান করা হবে না। [১৪৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২৬)
হাদিস নং: ৬৪৭১ সহিহ (Sahih)
خلاد بن يحيى حدثنا مسعر حدثنا زياد بن علاقة قال سمعت المغيرة بن شعبة يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي حتى ترم او تنتفخ قدماه فيقال له فيقول افلا اكون عبدا شكورا.
৬৪৭১. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত (দীর্ঘ সময় ধরে) সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর দু’পা ফুলে যেত। তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ আমি কি শোকরগুযার বান্দা হবো না? [১১৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২৭)
অধ্যায় তালিকা