হাদিস নং: ১০৪০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن عون، قال حدثنا خالد، عن يونس، عن الحسن، عن ابي بكرة، قال كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فانكسفت الشمس، فقام النبي صلى الله عليه وسلم يجر رداءه حتى دخل المسجد، فدخلنا فصلى بنا ركعتين، حتى انجلت الشمس فقال صلى الله عليه وسلم " ان الشمس والقمر لا ينكسفان لموت احد، فاذا رايتموهما فصلوا، وادعوا، حتى يكشف ما بكم ".
১০৪০. আবূ বকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা দূর না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু‘আ করতে থাকবে। (১০৪৮,১০৬২, ১০৬৩, ৫৭৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৩)
হাদিস নং: ১০৪১
সহিহ (Sahih)
حدثنا شهاب بن عباد، حدثنا ابراهيم بن حميد، عن اسماعيل، عن قيس، قال سمعت ابا مسعود، يقول قال النبي صلى الله عليه وسلم " ان الشمس والقمر لا ينكسفان لموت احد من الناس، ولكنهما ايتان من ايات الله، فاذا رايتموهما فقوموا فصلوا ".
১০৪১. আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং সালাত আদায় করবে। (১০৫৭, ৩২০৪; মুসলিম ১০/৫, হাঃ ৯১১, আহমাদ ১৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৪)
হাদিস নং: ১০৪২
সহিহ (Sahih)
اصبغ قال اخبرني ابن وهب قال اخبرني عمرو عن عبد الرحمن بن القاسم حدثه عن ابيه عن ابن عمر رضي الله عنهما انه كان يخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم ان الشمس والقمر لا يخسفان لموت احد ولا لحياته ولكنهما ايتان من ايات الله فاذا رايتموها فصلوا.
১০৪২. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কাজেই তোমরা যখনই গ্রহণ হতে দেখবে তখনই সালাত আদায় করবে। (৩২০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৫)
হাদিস নং: ১০৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا هاشم بن القاسم، قال حدثنا شيبان ابو معاوية، عن زياد بن علاقة، عن المغيرة بن شعبة، قال كسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم مات ابراهيم، فقال الناس كسفت الشمس لموت ابراهيم. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الشمس والقمر لا ينكسفان لموت احد ولا لحياته، فاذا رايتم فصلوا وادعوا الله ".
১০৪৩. মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যে দিন (তাঁর পুত্র) ইবরাহীম (রাযি.) ইন্তিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইব্রাহীম (রাযি.) এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে। (১০৬০, ৬১৯৯; মুসলিম ১০,৫, হাঃ ৯১৫, আহমদ ১৮১৬৫, ১৮২০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৬)
হাদিস নং: ১০৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، انها قالت خسفت الشمس في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس، فقام فاطال القيام، ثم ركع فاطال الركوع، ثم قام فاطال القيام وهو دون القيام الاول، ثم ركع فاطال الركوع، وهو دون الركوع الاول، ثم سجد فاطال السجود، ثم فعل في الركعة الثانية مثل ما فعل في الاولى، ثم انصرف وقد انجلت الشمس، فخطب الناس، فحمد الله، واثنى عليه ثم قال " ان الشمس والقمر ايتان من ايات الله، لا ينخسفان لموت احد ولا لحياته، فاذا رايتم ذلك فادعوا الله وكبروا، وصلوا وتصدقوا ". ثم قال " يا امة محمد، والله ما من احد اغير من الله ان يزني عبده او تزني امته، يا امة محمد، والله لو تعلمون ما اعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا ".
১০৪৪. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, অতঃপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘ করেন। অতঃপর পুনরায় (সালাতে) তিনি উঠে দাঁড়ান এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ‘ করেন এবং এ রুকূ‘ও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন এবং সিজদা্ও দীর্ঘক্ষণ করেন। অতঃপর তিনি প্রথম রাকা‘আতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকা‘আতে করেন এবং যখন সূর্য প্রকাশিত হয় তখন সালাত শেষ করেন। অতঃপর তিনি লোকজনের উদ্দেশে খুৎবা দান করেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে। তাঁর মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সদাক্বাহ প্রদান করবে। অতঃপর তিনি আরো বললেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, আল্লাহর কোন বান্দা যিনা করলে কিংবা কোন নারী যিনা করলে, আল্লাহর চেয়ে অধিক অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই হাসতে কম এবং বেশী করে কাঁদতে। (১০৪৬, ১০৪৭, ১০৫০, ১০৫০, ১০৫৬, ১০৫৮, ১০৬৪, ১০৬৫, ১০৬৬, ১২১২, ৩২০৩, ৪৬২৪, ৫২২১, ৬৬৫৩১; মুসলিম ১০/১, হাঃ ৯০১, আহমাদ ২৫৩৬৭, ২৫৪০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৭)
হাদিস নং: ১০৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق، قال اخبرنا يحيى بن صالح، قال حدثنا معاوية بن سلام بن ابي سلام الحبشي الدمشقي، قال حدثنا يحيى بن ابي كثير، قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف الزهري، عن عبد الله بن عمرو ـ رضى الله عنهما ـ قال لما كسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم نودي ان الصلاة جامعة.
১০৪৫. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ হলো, তখন ‘আস্-সালাতু জামি‘আতুন’ বলে (সালাতে সমবেত হবার জন্য) আহবান জানানো হল। (১০৫১; মুসলিম ১০/৪, হাঃ ৯১০, আহমাদ ৭০৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৮)
হাদিস নং: ১০৪৬
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير قال حدثني الليث عن عقيل عن ابن شهاب ح و حدثني احمد بن صالح قال حدثنا عنبسة قال حدثنا يونس عن ابن شهاب حدثني عروة عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت خسفت الشمس في حياة النبي صلى الله عليه وسلم فخرج الى المسجد فصف الناس وراءه فكبر فاقترا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قراءة طويلة ثم كبر فركع ركوعا طويلا ثم قال سمع الله لمن حمده فقام ولم يسجد وقرا قراءة طويلة هي ادنى من القراءة الاولى ثم كبر وركع ركوعا طويلا وهو ادنى من الركوع الاول ثم قال سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد ثم سجد ثم قال في الركعة الاخرة مثل ذلك فاستكمل اربع ركعات في اربع سجدات وانجلت الشمس قبل ان ينصرف ثم قام فاثنى على الله بما هو اهله ثم قال هما ايتان من ايات الله لا يخسفان لموت احد ولا لحياته فاذا رايتموهما فافزعوا الى الصلاة وكان يحدث كثير بن عباس ان عبد الله بن عباس رضي الله عنهما كان يحدث يوم خسفت الشمس بمثل حديث عروة عن عاىشة فقلت لعروة ان اخاك يوم خسفت بالمدينة لم يزد على ركعتين مثل الصبح قال اجل لانه اخطا السنة.
وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَأَسْمَاءُ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.
‘আয়িশাহ ও আসমা (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিয়েছিলেন।
১০৪৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশায় একবার সূর্যগ্রহণ হয়। তখন তিনি মসজিদে গমন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হলো। তিনি তাকবীর বললেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবীর বললেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে দাঁড়ালেন এবং সিজদা্য় না গিয়েই আবার দীর্ঘক্ষণ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী। অতঃপর তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ অতঃপর সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর তিনি পরবর্তী রাক‘আতেও অনুরূপ করলেন এবং এভাবে চার সিজদার সাথে চার রাক‘আত পূর্ণ করলেন। তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে। (৯৮৩)
রাবী বর্ণনা করেন, কাসীর ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলতেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে ‘উরওয়াহ (রহ.) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাই আমি ‘উরওয়াহ্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাই (‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র) তো মদিনা্য় যেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, সেদিন ফজরের সালাতের ন্যায় দু‘রাক‘আত সালাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করেননি। তিনি বললেন, তা ঠিক, তবে তিনি সুন্নাত অনুসরণ করতে ভুল করেছেন। (১০৪৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৯)
‘আয়িশাহ ও আসমা (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিয়েছিলেন।
১০৪৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশায় একবার সূর্যগ্রহণ হয়। তখন তিনি মসজিদে গমন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হলো। তিনি তাকবীর বললেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবীর বললেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে দাঁড়ালেন এবং সিজদা্য় না গিয়েই আবার দীর্ঘক্ষণ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী। অতঃপর তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ অতঃপর সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর তিনি পরবর্তী রাক‘আতেও অনুরূপ করলেন এবং এভাবে চার সিজদার সাথে চার রাক‘আত পূর্ণ করলেন। তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে। (৯৮৩)
রাবী বর্ণনা করেন, কাসীর ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলতেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে ‘উরওয়াহ (রহ.) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাই আমি ‘উরওয়াহ্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাই (‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র) তো মদিনা্য় যেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, সেদিন ফজরের সালাতের ন্যায় দু‘রাক‘আত সালাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করেননি। তিনি বললেন, তা ঠিক, তবে তিনি সুন্নাত অনুসরণ করতে ভুল করেছেন। (১০৪৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৯)
হাদিস নং: ১০৪৭
সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير قال حدثنا الليث حدثني عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني عروة بن الزبير ان عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى يوم خسفت الشمس فقام فكبر فقرا قراءة طويلة ثم ركع ركوعا طويلا ثم رفع راسه فقال سمع الله لمن حمده وقام كما هو ثم قرا قراءة طويلة وهي ادنى من القراءة الاولى ثم ركع ركوعا طويلا وهي ادنى من الركعة الاولى ثم سجد سجودا طويلا ثم فعل في الركعة الاخرة مثل ذلك ثم سلم وقد تجلت الشمس فخطب الناس فقال في كسوف الشمس والقمر انهما ايتان من ايات الله لا يخسفان لموت احد ولا لحياته فاذا رايتموهما فافزعوا الى الصلاة.
وَقَالَ اللهُ تَعَالَى وَخَسَفَ الْقَمَرُ.
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘আর চন্দ্র নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে’’। (সূরাহ্ ক্বিয়ামাহ ৭৫/৮)
১০৪৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। অতঃপর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। অতঃপর মাথা তুললেন, আর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে পূর্বের মতই দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা পূর্বের কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তবে এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। অতঃপর তিনি শেষ রাক‘আতে প্রথম রাক‘আতের অনুরূপ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর লোকদের উদ্দেশে তিনি খুৎবাহ দিলেন। খুৎবায় তিনি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন, এ হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করবে। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯০)
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘আর চন্দ্র নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে’’। (সূরাহ্ ক্বিয়ামাহ ৭৫/৮)
১০৪৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। অতঃপর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। অতঃপর মাথা তুললেন, আর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে পূর্বের মতই দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা পূর্বের কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তবে এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। অতঃপর তিনি শেষ রাক‘আতে প্রথম রাক‘আতের অনুরূপ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর লোকদের উদ্দেশে তিনি খুৎবাহ দিলেন। খুৎবায় তিনি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন, এ হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করবে। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯০)
হাদিস নং: ১০৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، قال حدثنا حماد بن زيد، عن يونس، عن الحسن، عن ابي بكرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الشمس والقمر ايتان من ايات الله، لا ينكسفان لموت احد، ولكن الله تعالى يخوف بها عباده ". وقال ابو عبد الله لم يذكر عبد الوارث وشعبة وخالد بن عبد الله وحماد بن سلمة عن يونس " يخوف بها عباده ". وتابعه موسى عن مبارك عن الحسن قال اخبرني ابو بكرة عن النبي صلى الله عليه وسلم. " ان الله تعالى يخوف بهما عباده "
وَقَالَ أَبُو مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তা বর্ণনা করেছেন।
১০৪৮. আবূ বকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। তবে এ দিয়ে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ওয়ারিস, শু‘আইব, খালিদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্, হাম্মাদ ইবনু সালাম (রহ.) ইউনুস (রহ.) হতে ‘এ দিয়ে আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন’ বাক্যটি বর্ণনা করেননি; আর মূসা (রহ.) মুবারক (রহ.) স্থলে হাসান (রহ.) হতে ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবূ বকরা (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ এ দিয়ে তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। (১০৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯১)
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তা বর্ণনা করেছেন।
১০৪৮. আবূ বকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। তবে এ দিয়ে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ওয়ারিস, শু‘আইব, খালিদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্, হাম্মাদ ইবনু সালাম (রহ.) ইউনুস (রহ.) হতে ‘এ দিয়ে আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন’ বাক্যটি বর্ণনা করেননি; আর মূসা (রহ.) মুবারক (রহ.) স্থলে হাসান (রহ.) হতে ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবূ বকরা (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ এ দিয়ে তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। (১০৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯১)
হাদিস নং: ১০৪৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن يحيى بن سعيد عن عمرة بنت عبد الرحمن عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان يهودية جاءت تسالها فقالت لها اعاذك الله من عذاب القبر فسالت عاىشة رضي الله عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم ايعذب الناس في قبورهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عاىذا بالله من ذلك.
১০৪৯. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর নিকট কিছু জিজ্ঞেস করতে এলো। সে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে বলল, আল্লাহ্ তা‘আলাও আপনাকে কবর আযাব হতে রক্ষা করুন। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করেন, কবরে কি মানুষকে আযাব দেয়া হবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এত্থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। (১০৫৫, ১৩৭২, ৬৩৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯২)
হাদিস নং: ১০৫০
সহিহ (Sahih)
ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات غداة مركبا، فخسفت الشمس، فرجع ضحى، فمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بين ظهرانى الحجر، ثم قام يصلي، وقام الناس وراءه، فقام قياما طويلا، ثم ركع ركوعا طويلا، ثم رفع فقام قياما طويلا، وهو دون القيام الاول ثم ركع ركوعا طويلا، وهو دون الركوع الاول، ثم رفع فسجد، ثم قام فقام قياما طويلا، وهو دون القيام الاول، ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الاول، ثم قام قياما طويلا وهو دون القيام الاول، ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الاول، ثم رفع فسجد وانصرف، فقال ما شاء الله ان يقول، ثم امرهم ان يتعوذوا من عذاب القبر.
১০৫০. পরে কোন এক সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন পরে মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম পূর্বের কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে এ রুকূ‘ পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। এ রুকূ‘ প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার রুকূ‘ করলেন এবং তা প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহর যা ইচ্ছা তিনি তা বললেন এবং কবর আযাব হতে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকেদের আদেশ করলেন। (১০৪৪; মুসলিম ১০/২, হাঃ ৯০৩, আহমাদ ১৪৭২, ১৪৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯২ শেষাংশ)
হাদিস নং: ১০৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا شيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، عن عبد الله بن عمرو، انه قال لما كسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم نودي ان الصلاة جامعة فركع النبي صلى الله عليه وسلم ركعتين في سجدة ثم قام فركع ركعتين في سجدة، ثم جلس، ثم جلي عن الشمس. قال وقالت عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ما سجدت سجودا قط كان اطول منها.
১০৫১. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যখন সূর্যুগ্রহণ হয় তখন ‘আস্-সালাতু জামিআতুন’ বলে ঘোষণা দেয়া হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক রাকা‘আতে দু’বার রুকূ‘ করেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকা‘আতেও দু’বার রুকূ‘ করেন অতঃপর বসেন আর ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেছেন, এ সালাত ছাড়া এত লম্বা সিজদা আমি কক্ষনো করিনি। (১০৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৩)
হাদিস নং: ১০৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن عبد الله بن عباس، قال انخسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقام قياما طويلا نحوا من قراءة سورة البقرة، ثم ركع ركوعا طويلا، ثم رفع فقام قياما طويلا، وهو دون القيام الاول، ثم ركع ركوعا طويلا، وهو دون الركوع الاول، ثم سجد، ثم قام قياما طويلا وهو دون القيام الاول، ثم ركع ركوعا طويلا، وهو دون الركوع الاول، ثم رفع فقام قياما طويلا، وهو دون القيام الاول، ثم ركع ركوعا طويلا، وهو دون الركوع الاول، ثم سجد، ثم انصرف وقد تجلت الشمس، فقال صلى الله عليه وسلم " ان الشمس والقمر ايتان من ايات الله، لا يخسفان لموت احد ولا لحياته، فاذا رايتم ذلك فاذكروا الله ". قالوا يا رسول الله، رايناك تناولت شيىا في مقامك، ثم رايناك كعكعت. قال صلى الله عليه وسلم " اني رايت الجنة، فتناولت عنقودا، ولو اصبته لاكلتم منه ما بقيت الدنيا، واريت النار، فلم ار منظرا كاليوم قط افظع، ورايت اكثر اهلها النساء ". قالوا بم يا رسول الله قال " بكفرهن ". قيل يكفرن بالله قال " يكفرن العشير، ويكفرن الاحسان، لو احسنت الى احداهن الدهر كله، ثم رات منك شيىا قالت ما رايت منك خيرا قط ".
وَصَلَّى ابْنُ عَبَّاسٍ لَهُمْ فِي صُفَّةِ زَمْزَمَ وَجَمَعَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَصَلَّى ابْنُ عُمَرَ.
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) লোকেদেরকে নিয়ে যম্যমের সুফ্ফায় সালাত আদায় করেন এবং ’আলী ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) জামা’আতে সালাত আদায় করেছেন। ইবনু ’উমার (রাযি.) গ্রহণ-এর সালাত আদায় করেছেন।
১০৫২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাত আদায় করেন এবং তিনি সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমাণ দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ’ করেন। অতঃপর মাথা তুলে পুনরায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ’ করলেন। তবে তা প্রথম রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন। আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ’ করেন, তবে তা পূর্বের রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কিয়াম করলেন, তবে তা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ’ করেন, তবে তা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন এবং সালাত শেষ করেন। ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গিয়েছে।
তারপর তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে তখনই আল্লাহকে স্মরণ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা হতে কি যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পিছনে সরে এলেন। তিনি বললেনঃ আমিতো জান্নাত দেখেছিলাম এবং এক গুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। অতঃপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা নারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে? তিনি বললেনঃ তাদের কুফরীর কারণে। জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ইহ্সান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, অতঃপর সে তোমার হতে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তা হলে বলে ফেলে, তোমার কাছ থেকে কখনো ভাল ব্যবহার পেলাম না। (২৯ মুসলিম ১০/৩, হাঃ ৯০৭, আহমাদ ২৭১১, ৩৩৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৪)
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) লোকেদেরকে নিয়ে যম্যমের সুফ্ফায় সালাত আদায় করেন এবং ’আলী ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) জামা’আতে সালাত আদায় করেছেন। ইবনু ’উমার (রাযি.) গ্রহণ-এর সালাত আদায় করেছেন।
১০৫২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাত আদায় করেন এবং তিনি সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমাণ দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ’ করেন। অতঃপর মাথা তুলে পুনরায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ’ করলেন। তবে তা প্রথম রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন। আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ’ করেন, তবে তা পূর্বের রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কিয়াম করলেন, তবে তা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ’ করেন, তবে তা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন এবং সালাত শেষ করেন। ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গিয়েছে।
তারপর তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে তখনই আল্লাহকে স্মরণ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা হতে কি যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পিছনে সরে এলেন। তিনি বললেনঃ আমিতো জান্নাত দেখেছিলাম এবং এক গুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। অতঃপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা নারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে? তিনি বললেনঃ তাদের কুফরীর কারণে। জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ইহ্সান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, অতঃপর সে তোমার হতে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তা হলে বলে ফেলে, তোমার কাছ থেকে কখনো ভাল ব্যবহার পেলাম না। (২৯ মুসলিম ১০/৩, হাঃ ৯০৭, আহমাদ ২৭১১, ৩৩৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৪)
হাদিস নং: ১০৫৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن امراته فاطمة بنت المنذر عن اسماء بنت ابي بكر رضي الله عنهما انها قالت اتيت عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين خسفت الشمس فاذا الناس قيام يصلون واذا هي قاىمة تصلي فقلت ما للناس فاشارت بيدها الى السماء وقالت سبحان الله فقلت اية فاشارت اي نعم قالت فقمت حتى تجلاني الغشي فجعلت اصب فوق راسي الماء فلما انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم حمد الله واثنى عليه ثم قال ما من شيء كنت لم اره الا قد رايته في مقامي هذا حتى الجنة والنار ولقد اوحي الي انكم تفتنون في القبور مثل او قريبا من فتنة الدجال لا ادري ايتهما قالت اسماء يوتى احدكم فيقال له ما علمك بهذا الرجل فاما المومن او الموقن لا ادري اي ذلك قالت اسماء فيقول محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءنا بالبينات والهدى فاجبنا وامنا واتبعنا فيقال له نم صالحا فقد علمنا ان كنت لموقنا واما المنافق او المرتاب لا ادري ايتهما قالت اسماء فيقول لا ادري سمعت الناس يقولون شيىا فقلته.
১০৫৩. আসমা বিনতে আবূ বকর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট গেলাম। তখন লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল। তখন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)ও সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকদের কী হয়েছে? তখন তিনি হাত দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন এবং ‘সুবহানাল্লাহ্’ বললেন। আমি বললাম, এ কি কোন নিদর্শন? তখন তিনি ইঙ্গিতে বললেন, হাঁ। আসমা (রাযি.) বলেন, আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম। এমন কি (দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে) আমি প্রায় বেহুঁশ হয়ে পড়লাম এবং মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, তখন আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি এ স্থান হতে দেখতে পেলাম, যা এর পূর্বে দেখিনি, এমন কি জান্নাত এবং জাহান্নাম। আর আমার নিকট ওয়াহী পাঠান হয়েছে যে, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে কবরের মধ্যে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা বলেছেন তার কাছাকাছি ফিতনায় লিপ্ত করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, (‘মিস্লা’ ও ‘কারীবান’) দু’টির মধ্যে কোনটি আসমা (রাযি.) বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই। তোমাদের এক একজনকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রশ্ন করা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে কী জান? তখন মু’মিন (ঈমানদার) অথবা ‘মুকিন’ (বিশ্বাসী) বলবেন- বর্ণনাকারী বলেন যে, আসমা (রাযি.) ‘মু’মিন’ শব্দ বলেছিলেন, না ‘মুকীন’ তা আমার স্মরণ নেই, তিনি হলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট দলীল ও হিদায়াত নিয়ে আমাদের নিকট এসেছিলেন এবং আমরা এতে সাড়া দিয়ে ঈমান এনেছি ও তাঁর অনুসরণ করেছি। অতঃপর তাঁকে বলা হবে, তুমি পুণ্যবান বান্দা হিসেবে ঘুমিয়ে থাক। আমরা অবশ্যই জানতাম যে, নিশ্চিতই তুমি দৃঢ়বিশ্বাস স্থাপনকারী ছিলে। আর মুনাফিক কিংবা সন্দেহকারী বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাযি.) ‘মুনাফিক’ না ‘সন্দেহকারী’ বলেছিলেন তা আমার মনে নেই, সে শুধু বলবে, আমি কিছুই জানি না। আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি এবং আমিও তাই বলেছি। (৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৫)
হাদিস নং: ১০৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ربيع بن يحيى، قال حدثنا زاىدة، عن هشام، عن فاطمة، عن اسماء، قالت لقد امر النبي صلى الله عليه وسلم بالعتاقة في كسوف الشمس.
১০৫৪. আসমা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৬)
হাদিস নং: ১০৫৫
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن يحيى بن سعيد عن عمرة بنت عبد الرحمن عن عاىشة رضي الله عنها ان يهودية جاءت تسالها فقالت اعاذك الله من عذاب القبر فسالت عاىشة رسول الله صلى الله عليه وسلم ايعذب الناس في قبورهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عاىذا بالله من ذلك.
১০৫৫. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী মহিলা তাঁর নিকট কিছু জিজ্ঞেস করতে এল। মহিলাটি বলল, আল্লাহ্ আপনাকে কবরের ‘আযাব হতে পানাহ্ দিন। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেন, কবরে কি মানুষকে ‘আযাব দেয়া হবে? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আল্লাহর নিকট পানাহ্ চাই কবরের ‘আযাব হতে। (১০৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৭)
হাদিস নং: ১০৫৬
সহিহ (Sahih)
ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات غداة مركبا، فكسفت الشمس فرجع ضحى، فمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بين ظهرانى الحجر، ثم قام فصلى، وقام الناس وراءه، فقام قياما طويلا، ثم ركع ركوعا طويلا، ثم رفع فقام قياما طويلا، وهو دون القيام الاول، ثم ركع ركوعا طويلا، وهو دون الركوع الاول، ثم رفع فسجد سجودا طويلا ثم قام فقام قياما طويلا، وهو دون القيام الاول، ثم ركع ركوعا طويلا، وهو دون الركوع الاول، ثم قام قياما طويلا، وهو دون القيام الاول، ثم ركع ركوعا طويلا، وهو دون الركوع الاول، ثم سجد وهو دون السجود الاول، ثم انصرف فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شاء الله ان يقول، ثم امرهم ان يتعوذوا من عذاب القبر
১০৫৬. পরে একদা সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি ফিরে এলেন, তখন ছিল সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হুজরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়াল। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। অতঃপর মাথা তুলে আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তবে এ রুকূ‘ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তবে এ রুকূ‘ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। অতঃপর তিনি আবার দাঁড়িয়ে কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। অবশ্য এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন। এ সিজদা্ প্রথম সিজদার চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করেন। এরপরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই বললেন। শেষে তিনি সবাইকে কবরের ‘আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনার আদেশ করলেন। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৭)
হাদিস নং: ১০৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال حدثنا يحيى، عن اسماعيل، قال حدثني قيس، عن ابي مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الشمس والقمر لا ينكسفان لموت احد ولا لحياته، ولكنهما ايتان من ايات الله، فاذا رايتموهما فصلوا ".
رَوَاهُ أَبُو بَكْرَةَ وَالْمُغِيرَةُ وَأَبُو مُوسَى وَابْنُ عَبَّاسٍ وَابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ.
আবূ বকরাহ, মুগীরাহ, আবূ মূসা, ইবনু ‘আব্বাস ও ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর এ বিষয়ে বিবরণ রয়েছে।
১০৫৭. আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো মৃত্যুর ও জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন সালাত আদায় করবে। (১০৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৮)
আবূ বকরাহ, মুগীরাহ, আবূ মূসা, ইবনু ‘আব্বাস ও ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর এ বিষয়ে বিবরণ রয়েছে।
১০৫৭. আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো মৃত্যুর ও জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন সালাত আদায় করবে। (১০৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৮)
হাদিস নং: ১০৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا هشام، اخبرنا معمر، عن الزهري، وهشام بن عروة، عن عروة، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت كسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام النبي صلى الله عليه وسلم فصلى بالناس، فاطال القراءة، ثم ركع فاطال الركوع، ثم رفع راسه فاطال القراءة، وهى دون قراءته الاولى، ثم ركع فاطال الركوع دون ركوعه الاول، ثم رفع راسه فسجد سجدتين، ثم قام فصنع في الركعة الثانية مثل ذلك، ثم قام فقال " ان الشمس والقمر لا يخسفان لموت احد ولا لحياته، ولكنهما ايتان من ايات الله يريهما عباده، فاذا رايتم ذلك فافزعوا الى الصلاة ".
১০৫৮. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়ালেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি কিরাআত দীর্ঘ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পড়েন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে স্বল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ‘ করেন এবং রুকূ‘ দীর্ঘ করেন। তবে এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুলেন এবং দু’টি সিজদা্ করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতেও অনুরূপ করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে হয় না। আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে এ হল দু’টি নিদর্শন; যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে আসবে। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৯)
হাদিস নং: ১০৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن العلاء، قال حدثنا ابو اسامة، عن بريد بن عبد الله، عن ابي بردة، عن ابي موسى، قال خسفت الشمس، فقام النبي صلى الله عليه وسلم فزعا، يخشى ان تكون الساعة، فاتى المسجد، فصلى باطول قيام وركوع وسجود رايته قط يفعله وقال " هذه الايات التي يرسل الله لا تكون لموت احد ولا لحياته، ولكن يخوف الله به عباده، فاذا رايتم شيىا من ذلك فافزعوا الى ذكره ودعاىه واستغفاره ".
১০৫৯. আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত অবস্থায় উঠলেন এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবার ভয় করছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর পূর্বে আমি তাঁকে যেমন করতে দেখেছি, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকূ‘ ও সিজদা্ সহকারে সালাত আদায় করলেন। আর তিনি বললেনঃ এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ্ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ্ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহর যিকর, দু‘আ এবং ইস্তিগ্ফারের দিকে ধাবিত হবে। (মুসলিম ১০/৫, হাঃ ৯১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০০)