অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

১৮/১. সালাত ক্বাসর করা
মোট ৪০ টি হাদিস
হাদিস নং: ১১০০ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن سعيد، قال حدثنا حبان، قال حدثنا همام، قال حدثنا انس بن سيرين، قال استقبلنا انسا حين قدم من الشام، فلقيناه بعين التمر، فرايته يصلي على حمار ووجهه من ذا الجانب، يعني عن يسار القبلة‏.‏ فقلت رايتك تصلي لغير القبلة‏.‏ فقال لولا اني رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم فعله لم افعله‏.‏ رواه ابن طهمان عن حجاج عن انس بن سيرين عن انس ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم‏.‏
১১০০. আনাস ইবনু সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) যখন সিরিয়া হতে ফিরে আসছিলেন, তখন আমরা তাঁকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিলাম। আইনুত্ তামর (নামক) স্থানে আমরা তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম। তখন আমি তাঁকে দেখলাম গাধার পিঠে (আরোহী অবস্থায়) সামনের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। অর্থাৎ কিবলাহর বাম দিকে মুখ করে। তখন তাঁকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনাকে তো দেখলাম কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন? তিনি বললেন, যদি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এমন করতে না দেখতাম, তবে আমিও তা করতাম না। (মুসলিম ৬/৪, হাঃ ৭০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৭)
হাদিস নং: ১১০১ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن سليمان، قال حدثني ابن وهب، قال حدثني عمر بن محمد، ان حفص بن عاصم، حدثه قال سافر ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ فقال صحبت النبي صلى الله عليه وسلم فلم اره يسبح في السفر، وقال الله جل ذكره ‏(‏لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة‏)‏‏.‏
১১০১. হাফস ইবনু ‘আসিম হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাযি.) একবার সফর করেন এবং বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে থেকেছি, সফরে তাঁকে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি এবং আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’’ (সূরাহ্ আল-আহযাব ৩৩/২১১) (১১০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৮)
হাদিস নং: ১১০২ সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يحيى عن عيسى بن حفص بن عاصم قال حدثني ابي انه سمع ابن عمر يقول صحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان لا يزيد في السفر على ركعتين وابا بكر وعمر وعثمان كذلك رضي الله عنهم.
১১০২. হাফস ইবনু ‘আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম, তিনি সফরে দু’ রাক‘আতের অধিক আদায় করতেন না। আবূ বকর, ‘উমার ও ‘উসমান (রাযি.)-এর এ রীতি ছিল।* (১১০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৯)
নোট: * অত্র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে চিরকালই কস্‌র করেন, কখনো পূর্ণ সালাত আদায় করেননি। তাই একদল আলিমের মতে সফরে কাসর করতেই হবে। পূর্ণ পড়লে চলবে না। ইবনু ‘উমর বলেন, সফরের সালাত দু’রাক’আত। যে ব্যক্তি এ সুন্নাত ত্যাগ করবে সে কুফরী করে- (মুহাল্লা ৪র্থ খণ্ড ২৬৬ পৃষ্ঠা)। ইবনু ‘আব্বাস বলেন, যে ব্যক্তি সফরে চার রাক’আত পড়ে, সে যেন ঘরে দু’রাক’আত পড়ে। (ঐ ২৭০ পৃষ্ঠা)
ইমাম ইবনু কাইয়ূম বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে ৪ রাক’আত বিশিষ্ট সালাত গুলো ৪ রাক’আতই আদায় করেছেন এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। আর ‘‘আয়িশা (রাঃ)-এর হাদীসে আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাস্‌র এবং পূর্ণ দু’রকমই আদায় করেছেন-সে হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম ইবনু তাইমিয়া বলেন, হাদীসটি সহীহ্ নয়, বরং এটা আল্লাহ্‌র রসূলের উপরে একটা মিথ্যা অপবাদ। (যাদুল মা’আদ ১ম খণ্ড ১২৮ পৃষ্ঠা)
হাদিস নং: ১১০৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر، قال حدثنا شعبة، عن عمرو، عن ابن ابي ليلى، قال ما انبا احد، انه راى النبي صلى الله عليه وسلم صلى الضحى غير ام هانى ذكرت ان النبي صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة اغتسل في بيتها، فصلى ثمان ركعات، فما رايته صلى صلاة اخف منها، غير انه يتم الركوع والسجود‏.‏
وَرَكَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ فِي السَّفَرِ.

সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) আদায় করেছেন।


১১০৩. ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। উম্মু হানী (রাযি.) ব্যতীত অন্য কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাতুয্ যুহা (পূর্বাহ্নের সালাত) আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাদের জানাননি। তিনি [উম্মু হানী (রাযি.)] বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর ঘরে গোসল করার পর আট রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। আমি তাঁকে এর চেয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি, তবে তিনি রুকূ’ ও সিজদা্ পূর্ণভাবে আদায় করেছিলেন। (১১৭৬, ৪২৯২; মুসলিম ৩/১৬, হাঃ ৩৩৬, আহমাদ ২৬৯৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪০)
হাদিস নং: ১১০৪ সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني يونس، عن ابن شهاب، قال حدثني عبد الله بن عامر، ان اباه، اخبره انه، راى النبي صلى الله عليه وسلم صلى السبحة بالليل في السفر على ظهر راحلته حيث توجهت به‏.‏
১১০৪. ‘আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রাতের বেলা সফরে বাহনের পিঠে বাহনের গতিপথ অভিমুখী হয়ে নফল সালাত আদায় করতে দেখেছেন। (১০৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪০ শেষাংশ)
হাদিস নং: ১১০৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني سالم بن عبد الله، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسبح على ظهر راحلته حيث كان وجهه، يومى براسه، وكان ابن عمر يفعله‏.‏
১১০৫. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সফরে) তাঁর বাহনের পিঠে এর গতিপথ অভিমুখী হয়ে মাথার দ্বারা ইঙ্গিত করে নফল সালাত আদায় করতেন। আর ইবনু ‘উমার (রাযি.)ও তা করতেন। (৯৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪১)
হাদিস নং: ১১০৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا سفيان، قال سمعت الزهري، عن سالم، عن ابيه، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يجمع بين المغرب والعشاء اذا جد به السير‏.‏
১১০৬. সালিম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্রুত সফর করতেন, তখন মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করতেন। (১০৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪২)
হাদিস নং: ১১০৭ সহিহ (Sahih)
وقال ابراهيم بن طهمان عن الحسين المعلم، عن يحيى بن ابي كثير، عن عكرمة، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجمع بين صلاة الظهر والعصر اذا كان على ظهر سير، ويجمع بين المغرب والعشاء‏.‏
১১০৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে দ্রুত চলার সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসরের সালাত একত্রে আদায় করতেন আর মাগরিব ‘ইশা একত্রে আদায় করতেন।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩৮ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪২)
নোট: * অত্র হাদীস দ্বারা দু’ওয়াক্তের সালাত এক ওয়াক্তে একত্রিত করা চলে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে জমা করতেন এ সম্পর্কে মু’আয ইবনু জাবালের হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। তিনি বলেন, তাবূক যুদ্ধের সময় আল্লাহ্‌র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর শুরু করার পূর্বে সূর্য ঢলে যেত তখন তিনি (যুহরের ওয়াক্তেই) যুহর ও ‘আসর জমা করতেন এবং সূর্য ঢলার পূর্বে যদি তিনি রওয়ানা হতেন তাহলে যুহরকে দেরী করতেন এবং ‘আসরের সময় সাওয়ারী থেকে নেমে যুহর ও ‘আসর জমা করতেন। আর মাগরিবেও তিনি এরূপ করতেন। অর্থাৎ রওয়ানা হওয়ার পূর্বে যদি সূর্য ডুবে যেত তাহলে (মাগরিবের ওয়াক্তে) তিনি মাগরিব ও ‘ইশা জমা করতেন এবং সূর্য ডোববার পূর্বে যদি রওয়ানা হতেন তাহলে মাগরীবকে দেরী করতেন এবং ইশার সময়ে নেমে মাগরিব ও ‘ইশা জমা করতেন (আবূ দাউদ, তিরমিযী, মিশকাত ১১৮ পৃষ্ঠা)
হানাফিগণ বলেন, সালাত জমা করতে হলে প্রথম ওয়াক্তকে দেরী করে শেষ ওয়াক্তে নিয়ে গিয়ে এবং দ্বিতীয় ওয়াক্তকে একটু আগে টেনে দু’ওয়াক্তের মাঝখানে জমা করতে হবে। অর্থাৎ যুহরের আওয়াল ওয়াক্তে ‘আসর জমা হবে না এবং ‘আসরের আউয়াল ওয়াক্তে যুহর জমা হবে না। বরং যুহরের শেষ ওয়াক্তে যুহর ও ‘আসরকে জমা করতে হবে। আল্লামা রহমানী বলেন, বুখারী; মুসলিম, আবূ দাউদ ও নাসায়ীর রিওয়াতকৃত আনাস, ইবনু ‘উমর ও জাবির কর্তৃক বর্ণিত সহীহ ও স্পষ্ট হাদীসগুলো হানাফিগণের উক্ত মতটিকে বাতিল বলে প্রমাণিত করে এবং এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, দু’ওয়াক্তের মধ্যে যে কোন এক ওয়াক্তে দু‘ওয়াক্তের সালাত জমা হতে পারে- (মিরআত ২/২৬৯)। ইমাম শাফি’ঈ, মালিক ও আহমাদের মতও তাই- (আওনুল মা’বূদ ১/৪৭২)।
হাদিস নং: ১১০৮ সহিহ (Sahih)
وعن حسين، عن يحيى بن ابي كثير، عن حفص بن عبيد الله بن انس، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يجمع بين صلاة المغرب والعشاء في السفر‏.‏ وتابعه علي بن المبارك وحرب عن يحيى عن حفص عن انس جمع النبي صلى الله عليه وسلم‏.‏
১১০৮. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং ‘আলী ইবনু মুবারাক ও হারব (রহ.) ....আনাস (রাযি.) হতে হাদীস বর্ণনায় হুসায়ন (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একত্রে আদায় করেছেন। (১১১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪২)
হাদিস নং: ১১০৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني سالم، عن عبد الله بن عمر ـ رضى الله عنهما ـ قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اعجله السير في السفر يوخر صلاة المغرب، حتى يجمع بينها وبين العشاء‏.‏ قال سالم وكان عبد الله يفعله اذا اعجله السير، ويقيم المغرب فيصليها ثلاثا، ثم يسلم، ثم قلما يلبث حتى يقيم العشاء، فيصليها ركعتين، ثم يسلم ولا يسبح بينها بركعة، ولا بعد العشاء بسجدة حتى يقوم من جوف الليل‏.‏
১১০৯. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি যখন সফরে তাঁকে দ্রুত পথ অতিক্রম করতে হত, তখন মাগরিবের সালাত এত বিলম্বিত করতেন যে মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করতেন। সালিম (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)ও দ্রুত সফরকালে ঐ রকমই করতেন। তখন ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের পর মাগরিব তিন রাক‘আত আদায় করতেন এবং সালাম ফিরাতেন। অতঃপর অল্প সময় অপেক্ষা করেই ‘ইশা-এর ইকামাত দিয়ে তা দু‘রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরাতেন। এ দু’য়ের মাঝখানে কোন নফল সালাত আদায় করতেন না এবং ‘ইশার পরেও না। অতঃপর মধ্যরাতে (তাহাজ্জুদের জন্য) উঠতেন। (১০৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪৩)
হাদিস নং: ১১১০ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث حدثنا حرب حدثنا يحيى قال حدثني حفص بن عبيد الله بن انس ان انسا حدثه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يجمع بين هاتين الصلاتين في السفر يعني المغرب والعشاء
১১১০. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে এ দু’ সালাত একত্রে আদায় করতেন অর্থাৎ মাগরিব ও ‘ইশা। (১১০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪৪)
হাদিস নং: ১১১১ সহিহ (Sahih)
حدثنا حسان الواسطي، قال حدثنا المفضل بن فضالة، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا ارتحل قبل ان تزيغ الشمس اخر الظهر الى وقت العصر، ثم يجمع بينهما، واذا زاغت صلى الظهر ثم ركب‏.‏
فِيهِ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর বর্ণনা রয়েছে।


১১১১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহর বিলম্বিত করতেন এবং উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন। আর (সফর শুরুর আগেই) সূর্য ঢলে গেলে যুহর আদায় করে নিতেন। অতঃপর সওয়ারীতে উঠতেন। (১১১২; মুসলিম ৬/৫, হাঃ ৭০৪, আহমাদ ১৩৮০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪৫)
হাদিস নং: ১১১২ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، قال حدثنا المفضل بن فضالة، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن انس بن مالك، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا ارتحل قبل ان تزيغ الشمس اخر الظهر الى وقت العصر، ثم نزل فجمع بينهما، فان زاغت الشمس قبل ان يرتحل صلى الظهر ثم ركب‏.‏
১১১২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহরের সালাত বিলম্বিত করতেন। অতঃপর অবতরণ করে দু’ সালাত একসাথে আদায় করতেন। আর যদি সফর শুরু করার পূর্বেই সূর্য ঢলে পড়তো তাহলে যুহরের সালাত আদায় করে নিতেন। অতঃপর সওয়ারীতে চড়তেন। (১১১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪২ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪৬)
হাদিস নং: ১১১৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ انها قالت صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيته وهو شاك، فصلى جالسا وصلى وراءه قوم قياما، فاشار اليهم ان اجلسوا، فلما انصرف قال ‏ "‏ انما جعل الامام ليوتم به، فاذا ركع فاركعوا، واذا رفع فارفعوا ‏"‏‏.‏
১১১৩. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাই তিনি বসে বসে সালাত আদায় করছিলেন এবং এক দল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন তিনি বসে পড়ার জন্য তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর সালাত শেষ করে তিনি বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার উদ্দেশে। কাজেই তিনি রুকূ‘ করলে তোমরা রুকূ‘ করবে এবং তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে। (৬৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪৭)
হাদিস নং: ১১১৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا ابن عيينة، عن الزهري، عن انس ـ رضى الله عنه ـ قال سقط رسول الله صلى الله عليه وسلم من فرس فخدش ـ او فجحش ـ شقه الايمن، فدخلنا عليه نعوده، فحضرت الصلاة فصلى قاعدا فصلينا قعودا وقال ‏ "‏ انما جعل الامام ليوتم به، فاذا كبر فكبروا واذا ركع فاركعوا، واذا رفع فارفعوا، واذا قال سمع الله لمن حمده‏.‏ فقولوا ربنا ولك الحمد ‏"‏‏.‏
১১১৪. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া হতে পড়ে গেলেন। এতে আঘাত লেগে তাঁর ডান পাশের চামড়া ছিলে গেল। আমরা তাঁর রোগের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য তাঁর নিকট গেলাম। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হলে তিনি বসে সালাত আদায় করলেন। আমরাও বসে সালাত আদায় করলাম। পরে তিনি বললেনঃ ইমাম তো নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্যে। কাজেই তিনি তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, রুকূ‘ করলে তোমরাও রুকূ‘ করবে, তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে। তিনি যখন قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪৮)
হাদিস নং: ১১১৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، قال اخبرنا روح بن عبادة، اخبرنا حسين، عن عبد الله بن بريدة، عن عمران بن حصين ـ رضى الله عنه ـ انه سال نبي الله صلى الله عليه وسلم‏.‏ اخبرنا اسحاق قال اخبرنا عبد الصمد قال سمعت ابي قال حدثنا الحسين عن ابن بريدة قال حدثني عمران بن حصين ـ وكان مبسورا ـ قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صلاة الرجل قاعدا فقال ‏ "‏ ان صلى قاىما فهو افضل، ومن صلى قاعدا فله نصف اجر القاىم، ومن صلى ناىما فله نصف اجر القاعد ‏"‏‏.‏
১১১৫. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ছিলেন অর্শরোগী। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ যদি কেউ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তা-ই উত্তম। আর যে ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করবে, তার জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব আর যে শুয়ে আদায় করবে তার জন্য বসে আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব। (১১১৬, ১১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪৯)
হাদিস নং: ১১১৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، قال حدثنا عبد الوارث، قال حدثنا حسين المعلم، عن عبد الله بن بريدة، ان عمران بن حصين ـ وكان رجلا مبسورا ـ وقال ابو معمر مرة عن عمران، قال سالت النبي صلى الله عليه وسلم عن صلاة الرجل وهو قاعد فقال ‏ "‏ من صلى قاىما فهو افضل، ومن صلى قاعدا فله نصف اجر القاىم، ومن صلى ناىما فله نصف اجر القاعد ‏"‏‏.‏ قال ابو عبد الله ناىما عندي مضطجعا ها هنا‏.‏
১১১৬. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি অর্শরোগী ছিলেন, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করল সে উত্তম আর যে ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করল তার জন্য দাঁড়ান ব্যক্তির অর্ধেক সওয়াব আর যে শুয়ে সালাত আদায় করল, তার জন্য বসে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, আমার মতে এ হাদীসে نَائِمًا  (ঘুমন্ত) এর দ্বারা مُضْطَجِعًا  (শায়িত) অবস্থা বুঝানো হয়েছে। (১১১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫০)
হাদিস নং: ১১১৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان، عن عبد الله، عن ابراهيم بن طهمان، قال حدثني الحسين المكتب، عن ابن بريدة، عن عمران بن حصين ـ رضى الله عنه ـ قال كانت بي بواسير فسالت النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة فقال ‏ "‏ صل قاىما، فان لم تستطع فقاعدا، فان لم تستطع فعلى جنب ‏"‏‏.‏
وَقَالَ عَطَاءٌ إِنْ لَمْ يَقْدِرْ أَنْ يَتَحَوَّلَ إِلَى الْقِبْلَةِ صَلَّى حَيْثُ كَانَ وَجْهُهُ.

‘আত্বা (রহ.) বলেন, কিবলার দিকে মুখ করতে অক্ষম ব্যক্তি যেদিকে সম্ভব সেদিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে।


১১১৭. ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অর্শরোগ ছিল। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেনঃ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তা না পারলে বসে; যদি তাও না পার তাহলে শুয়ে। (১১১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫১)
হাদিস নং: ১১১৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ام المومنين انها اخبرته انها لم تر رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي صلاة الليل قاعدا قط حتى اسن، فكان يقرا قاعدا حتى اذا اراد ان يركع قام، فقرا نحوا من ثلاثين اية او اربعين اية، ثم ركع‏.‏
وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ شَاءَ الْمَرِيضُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ قَائِمًا وَرَكْعَتَيْنِ قَاعِدًا.

হাসান (রহ.) বলেছেন, অসুস্থ ব্যক্তি ইচ্ছা করলে দু’ রাক‘আত সালাত বসে এবং দু’ রাক‘আত দাঁড়িয়ে আদায় করতে পারে।


১১১৮. উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অধিক বয়সে পৌঁছার পূর্বে কখনো রাতের সালাত বসে আদায় করতে দেখেননি। (বার্ধক্যের) পরে তিনি বসে কিরাআত পাঠ করতেন। যখন তিনি রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতেন, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং প্রায় ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করে রুকূ‘ করতেন। (১১১৯, ১১৪৮, ১১৬১, ১১৬৮, ৪৮৩৭; মুসলিম ৬/১৬, হাঃ ৭৩১, আহমাদ ২৫৮৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫২)
হাদিস নং: ১১১৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن عبد الله بن يزيد وابي النضر مولى عمر بن عبيد الله عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن عاىشة ام المومنين رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي جالسا فيقرا وهو جالس فاذا بقي من قراءته نحو من ثلاثين او اربعين اية قام فقراها وهو قاىم ثم يركع ثم سجد يفعل في الركعة الثانية مثل ذلك فاذا قضى صلاته نظر فان كنت يقظى تحدث معي وان كنت ناىمة اضطجع.
১১১৯. উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায় করতেন। বসেই তিনি কিরা‘আত পাঠ করতেন। যখন তাঁর কিরা‘আতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন, অতঃপর রুকূ‘ করতেন; পরে সিজদা্ করতেন। দ্বিতীয় রাক‘আতেও তেমনই করতেন। সালাত শেষ করে তিনি লক্ষ্য করতেন, আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথা বলতেন আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন। (১১১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫৩)
অধ্যায় তালিকা