হাদিস নং: ১২০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى، اخبرنا وكيع، عن سفيان، عن ابي حازم، عن سهل بن سعد ـ رضى الله عنه ـ قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " التسبيح للرجال والتصفيح للنساء ".
১২০৪. সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতে (লোকমা দেয়ার জন্য) পুরুষদের জন্য ‘তাসবীহ্’ আর মহিলাদের জন্য তাসফীক। (৬৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩১)
হাদিস নং: ১২০৫
সহিহ (Sahih)
بشر بن محمد اخبرنا عبد الله قال يونس قال الزهري اخبرني انس بن مالك ان المسلمين بينا هم في الفجر يوم الاثنين وابو بكريصلي بهم ففجىهم النبي صلى الله عليه وسلم قد كشف ستر حجرة عاىشة رضي الله عنها فنظر اليهم وهم صفوف فتبسم يضحك فنكص ابو بكرعلى عقبيه وظن ان رسول الله صلى الله عليه وسلم يريد ان يخرج الى الصلاة وهم المسلمون ان يفتتنوا في صلاتهم فرحا بالنبي صلى الله عليه وسلم حين راوه فاشار بيده ان اتموا ثم دخل الحجرة وارخى الستر وتوفي ذلك اليوم.
رَوَاهُ سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
এ বিষয়ে সাহল ইবনু সা’দ (রাযী.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে রিওায়াত করেছেন।
১২০৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত; মুসলিমগণ সোমবার (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওফাতের দিন) ফজরের সালাতে ছিলেন, আবূ বকর (রাযি.) তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার পর্দা সরিয়ে তাঁদের দিকে তাকালেন। তখন তাঁরা সারিবদ্ধ ছিলেন। তা দেখে তিনি মৃদু হাসলেন। তখন আবূ বকর (রাযি.) তাঁর গোড়ালির উপর ভর দিয়ে পিছে সরে আসলেন। তিনি ধারণা করলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য আসার ইচ্ছা করছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখার আনন্দে মুসলিমগণের সালাত ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন তিনি সালাত সুসম্পন্ন করার জন্য তাদের দিকে হাতে ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করেন এবং পর্দা ছেড়ে দেন আর সে দিনই তাঁর মৃত্যু হয়। (৬৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩২)
এ বিষয়ে সাহল ইবনু সা’দ (রাযী.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে রিওায়াত করেছেন।
১২০৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত; মুসলিমগণ সোমবার (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওফাতের দিন) ফজরের সালাতে ছিলেন, আবূ বকর (রাযি.) তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার পর্দা সরিয়ে তাঁদের দিকে তাকালেন। তখন তাঁরা সারিবদ্ধ ছিলেন। তা দেখে তিনি মৃদু হাসলেন। তখন আবূ বকর (রাযি.) তাঁর গোড়ালির উপর ভর দিয়ে পিছে সরে আসলেন। তিনি ধারণা করলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য আসার ইচ্ছা করছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখার আনন্দে মুসলিমগণের সালাত ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন তিনি সালাত সুসম্পন্ন করার জন্য তাদের দিকে হাতে ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করেন এবং পর্দা ছেড়ে দেন আর সে দিনই তাঁর মৃত্যু হয়। (৬৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩২)
হাদিস নং: ১২০৬
সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني جعفر، عن عبد الرحمن بن هرمز، قال قال ابو هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " نادت امراة ابنها، وهو في صومعة قالت يا جريج. قال اللهم امي وصلاتي. قالت يا جريج. قال اللهم امي وصلاتي. قالت يا جريج. قال اللهم امي وصلاتي. قالت اللهم لا يموت جريج حتى ينظر في وجه المياميس. وكانت تاوي الى صومعته راعية ترعى الغنم فولدت فقيل لها ممن هذا الولد قالت من جريج نزل من صومعته. قال جريج اين هذه التي تزعم ان ولدها لي قال يا بابوس من ابوك قال راعي الغنم ".
১২০৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মহিলা তার ছেলেকে ডাকল। তখন তার ছেলে গীর্জায় ছিল। বলল, হে জুরায়জ! ছেলে মনে মনে বলল, হে আল্লাহ্! (এক দিকে) আমার মা (এর ডাক) আর (অন্য দিকে) আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরাইজ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ্! আমার মা আর আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরায়জ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ্! আমার মা ও আমার সালাত। মা বললেন, হে আল্লাহ্! পতিতাদের সামনে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত যেন জুরায়জের মৃত্যু না হয়। এক রাখালিনী যে বকরী চরাতো, সে জুরায়জের গীর্জায় আসা যাওয়া করত। সে একটি সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল- এ সন্তান কার ঔরসজাত? সে জবাব দিল, জুরায়জের ঔরসের। জুরায়জ তাঁর গীর্জা হতে নেমে এসে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় সে মেয়েটি, যে বলে যে, তার সন্তানটি আমার? (সন্তানসহ মেয়েটিকে উপস্থিত করা হলে) জুরায়জ বলেন, হে বাবূস! তোমার পিতা কে? সে বলল, বকরীর অমুক রাখাল। (২৪৮২, ৩৪৩৬, ৩৪৬৬; মুসলিম ৪৫/২, হাঃ ২৫৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৩)
হাদিস নং: ১২০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا شيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، قال حدثني معيقيب، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال في الرجل يسوي التراب حيث يسجد قال " ان كنت فاعلا فواحدة ".
১২০৭. মু‘আইকিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যে সিজদার স্থান হতে মাটি সমান করে। তিনি বলেন, যদি তোমার একান্তই করতে হয়, তবে একবার। (মুসলিম ৫/১২, হাঃ ৫৪৬, আহমাদ ১৫৫০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৪)
হাদিস নং: ১২০৮
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا بشر حدثنا غالب القطان عن بكر بن عبد الله عن انس بن مالكقال كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم في شدة الحر فاذا لم يستطع احدنا ان يمكن وجهه من الارض بسط ثوبه فسجد عليه.
১২০৮. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের মধ্যে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে তার চেহারা (কপাল) স্থির রাখতে সক্ষম না হলে সে তার কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা্ করত। (৩৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৫)
হাদিস নং: ১২০৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا مالك عن ابي النضر عن ابي سلمة عن عاىشة رضي الله عنها قالت كنت امد رجلي في قبلة النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فاذا سجد غمزني فرفعتها فاذا قام مددتها.
১২০৯. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালে আমি তাঁর কিবলার দিকে পা ছড়িয়ে রাখতাম; তিনি সিজদা্ করার সময় আমাকে খোঁচা দিলে আমি পা সরিয়ে নিতাম; তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আবার পা ছড়িয়ে দিতাম। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৬)
হাদিস নং: ১২১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود، حدثنا شبابة، حدثنا شعبة، عن محمد بن زياد، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم انه صلى صلاة قال " ان الشيطان عرض لي، فشد على ليقطع الصلاة على، فامكنني الله منه، فذعته، ولقد هممت ان اوثقه الى سارية حتى تصبحوا فتنظروا اليه فذكرت قول سليمان ـ عليه السلام ـ رب هب لي ملكا لا ينبغي لاحد من بعدي. فرده الله خاسيا ". ثم قال النضر بن شميل فذعته بالذال اى خنقته وفدعته من قول الله (يوم يدعون) اى يدفعون والصواب، فدعته الا انه كذا قال بتشديد العين والتاء.
১২১০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাত আদায় করার পর বললেনঃ শয়তান আমার সামনে এসে আমার সালাত বিনষ্ট করার জন্য আমার উপর আক্রমণ করল। তখন আল্লাহ্ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দান করলেন, আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম। আমার ইচ্ছা হয়েছিল, তাকে কোন স্তম্ভের সাথে বেঁধে রাখি। যাতে তোমরা সকাল বেলা উঠে তাকে দেখতে পাও। তখন সুলাইমান ‘আলাইহিস সালাম-এর এ দু‘আ আমার মনে পড়ে গেল, رَبِّ هَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي ‘‘হে রব! আমাকে এমন এক রাজ্য দান করুন যার অধিকারী আমার পরে আর কেউ না হয়’’। তখন আল্লাহ্ তাকে (শয়তানকে) অপমানিত করে দূর করে দিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩১)
নায্র ইবনু শুমায়ল (রহ.) বলেন, فَذَعَتُّهُ শব্দটি زال সহ অর্থাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম এবং فَذَعَتُّهُ আল্লাহর কালাম يَوْمَ يُدَعُّونَ হতে অর্থাৎ তাদেরকে ধাক্কা মেরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সঠিক হল তবে عين ও التاء অক্ষর দু’টি তাশদীদ সহ পাঠ করেছেন। (৪৬১) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৭)
নায্র ইবনু শুমায়ল (রহ.) বলেন, فَذَعَتُّهُ শব্দটি زال সহ অর্থাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম এবং فَذَعَتُّهُ আল্লাহর কালাম يَوْمَ يُدَعُّونَ হতে অর্থাৎ তাদেরকে ধাক্কা মেরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সঠিক হল তবে عين ও التاء অক্ষর দু’টি তাশদীদ সহ পাঠ করেছেন। (৪৬১) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৭)
হাদিস নং: ১২১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، حدثنا الازرق بن قيس، قال كنا بالاهواز نقاتل الحرورية، فبينا انا على جرف نهر اذا رجل يصلي، واذا لجام دابته بيده فجعلت الدابة تنازعه، وجعل يتبعها ـ قال شعبة ـ هو ابو برزة الاسلمي ـ فجعل رجل من الخوارج يقول اللهم افعل بهذا الشيخ. فلما انصرف الشيخ قال اني سمعت قولكم، واني غزوت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ست غزوات او سبع غزوات وثمانيا، وشهدت تيسيره، واني ان كنت ان اراجع مع دابتي احب الى من ان ادعها ترجع الى مالفها فيشق على.
وَقَالَ قَتَادَةُ إِنْ أُخِذَ ثَوْبُهُ يَتْبَعُ السَّارِقَ وَيَدَعُ الصَّلاَةَ.
ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, কাপড় যদি (চুরি করে) নিয়ে যাওয়া হয়, তবে সালাত ছেড়ে দিয়ে চোরকে অনুসরণ করবে।
১২১১. আযরাক্ব ইবনু ক্বায়স (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আহওয়ায শহরে হারুরী (খারিজী) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলাম। যখন আমরা নহরের তীরে ছিলাম তখন সেখানে এক ব্যক্তি এসে সালাত আদায় করতে লাগল আর তার বাহনের লাগাম তার হাতে আছে। বাহনটি (ছুটে যাওয়ার জন্য) টানাটানি করতে লাগল, তিনিও তার অনুসরণ করতে লাগলেন। রাবী শু’বাহ (রহ.) বলেন, তিনি ছিলেন আবূ বারযাহ আসলামী (রাযি.)। এ অবস্থা দেখে এক খারিজী বলে উঠলো, ইয়া আল্লাহ্! এ বৃদ্ধকে কিছু করুন। বৃদ্ধ সালাত শেষ করে বললেন- আমি তোমাদের কথা শুনেছি। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছয়, সাত কিংবা আট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং আমি তাঁর সহজীকরণ লক্ষ্য করেছি। আমার বাহনটির সাথে আগপিছ হওয়া বাহনটিকে তার চারণ ভূমিতে ছেড়ে দেয়ার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা, তা আমার জন্য কষ্টদায়ক হবে। (৬১২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৮)
ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, কাপড় যদি (চুরি করে) নিয়ে যাওয়া হয়, তবে সালাত ছেড়ে দিয়ে চোরকে অনুসরণ করবে।
১২১১. আযরাক্ব ইবনু ক্বায়স (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আহওয়ায শহরে হারুরী (খারিজী) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলাম। যখন আমরা নহরের তীরে ছিলাম তখন সেখানে এক ব্যক্তি এসে সালাত আদায় করতে লাগল আর তার বাহনের লাগাম তার হাতে আছে। বাহনটি (ছুটে যাওয়ার জন্য) টানাটানি করতে লাগল, তিনিও তার অনুসরণ করতে লাগলেন। রাবী শু’বাহ (রহ.) বলেন, তিনি ছিলেন আবূ বারযাহ আসলামী (রাযি.)। এ অবস্থা দেখে এক খারিজী বলে উঠলো, ইয়া আল্লাহ্! এ বৃদ্ধকে কিছু করুন। বৃদ্ধ সালাত শেষ করে বললেন- আমি তোমাদের কথা শুনেছি। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছয়, সাত কিংবা আট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং আমি তাঁর সহজীকরণ লক্ষ্য করেছি। আমার বাহনটির সাথে আগপিছ হওয়া বাহনটিকে তার চারণ ভূমিতে ছেড়ে দেয়ার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা, তা আমার জন্য কষ্টদায়ক হবে। (৬১২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৮)
হাদিস নং: ১২১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس، عن الزهري، عن عروة، قال قالت عاىشة خسفت الشمس، فقام النبي صلى الله عليه وسلم فقرا سورة طويلة، ثم ركع فاطال، ثم رفع راسه، ثم استفتح بسورة اخرى، ثم ركع حتى قضاها وسجد، ثم فعل ذلك في الثانية، ثم قال " انهما ايتان من ايات الله، فاذا رايتم ذلك فصلوا حتى يفرج عنكم، لقد رايت في مقامي هذا كل شىء وعدته، حتى لقد رايتني اريد ان اخذ قطفا من الجنة حين رايتموني جعلت اتقدم، ولقد رايت جهنم يحطم بعضها بعضا حين رايتموني تاخرت، ورايت فيها عمرو بن لحى وهو الذي سيب السواىب ".
১২১২. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সালাতে) দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ সূরাহ্ পাঠ করলেন, অতঃপর রুকূ‘ করলেন, আর তা দীর্ঘ করলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে মাথা তুলেন এবং অন্য একটি সূরাহ্ পাঠ করতে শুরু করলেন। পরে রুকূ‘ সমাপ্ত করে সিজদা্ করলেন। দ্বিতীয় রাকা‘আতেও এরূপ করলেন। অতঃপর বললেনঃ এ দু’টি (চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তোমরা তা দেখলে গ্রহণ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে। আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে, আমাকে যা ওয়াদা করা হয়েছে তা সবই দেখতে পেয়েছি। এমনকি যখন তোমরা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে দেখেছিলে তখন আমি দেখলাম যে, জান্নাতের একটি (আঙ্গুর) গুচ্ছ নেয়ার ইচ্ছা করছি এবং জাহান্নামে দেখতে পেলাম যে, তার একাংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলছে। আর যখন তোমরা আমাকে পিছনে সরে আসতে দেখেছিলে আমি দেখলাম সেখানে আমর ইবনু লুহাইকে যে সায়িবাহ* প্রথা প্রবর্তন করেছিল। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৯)
নোট: * السَوائِبَ বহুবচন, السائِبَة একবচনে - অর্থ বিমুক্ত, পরিত্যক্ত, বাঁধনমুক্ত । জাহিলী যুগে দেব-দেবীর নামে উট ছেড়ে দেওয়ার কু-প্রথা ছিল । এসব উটের দুধ পান করা এবং তাকে বাহনরূপে ব্যবহার করা অবৈধ মনে করা হত ।
হাদিস নং: ১২১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، عن ايوب، عن نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ ان النبي صلى الله عليه وسلم راى نخامة في قبلة المسجد، فتغيظ على اهل المسجد وقال " ان الله قبل احدكم، فاذا كان في صلاته، فلا يبزقن ـ او قال ـ لا يتنخمن ". ثم نزل فحتها بيده. وقال ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ اذا بزق احدكم فليبزق على يساره.
وَيُذْكَرُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو نَفَخَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي سُجُودِهِ فِي كُسُوفٍ.
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাতের সিজদার সময় ফুঁ দিয়েছিলেন।
১২১৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকে নাকের শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে মসজিদের লোকদের উপর রাগান্বিত হলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের প্রত্যেকের সামনে রয়েছেন, কাজেই তোমাদের কেউ সালাতে থাকাকালে থুথু ফেলবে না বা বর্ণনাকারী বলেছেন, নাক ঝাড়বে না। এ কথা বলার পর তিনি (মিম্বার হতে) নেমে এসে নিজের হাতে তা ঘষে ঘষে পরিষ্কার করলেন এবং ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, তোমাদের কেউ যখন থুথু ফেলে তখন সে যেন তার বাঁ দিকে ফেলে। (৪০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪০)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাতের সিজদার সময় ফুঁ দিয়েছিলেন।
১২১৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকে নাকের শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে মসজিদের লোকদের উপর রাগান্বিত হলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের প্রত্যেকের সামনে রয়েছেন, কাজেই তোমাদের কেউ সালাতে থাকাকালে থুথু ফেলবে না বা বর্ণনাকারী বলেছেন, নাক ঝাড়বে না। এ কথা বলার পর তিনি (মিম্বার হতে) নেমে এসে নিজের হাতে তা ঘষে ঘষে পরিষ্কার করলেন এবং ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, তোমাদের কেউ যখন থুথু ফেলে তখন সে যেন তার বাঁ দিকে ফেলে। (৪০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪০)
হাদিস নং: ১২১৪
সহিহ (Sahih)
محمد حدثنا غندر حدثنا شعبة قال سمعت قتادة عن انس بن مالكعن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا كان في الصلاة فانه يناجي ربه فلا يبزقن بين يديه ولا عن يمينه ولكن عن شماله تحت قدمه اليسرى.
১২১৪. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন তো সে তার রবের সাথে নিবিড় আলাপে মশগুল থাকে। কাজেই সে যেন তার সামনে বা ডানে থু থু না ফেলে; তবে (প্রয়োজনে) বাঁ দিকে বা পায়ের নীচে ফেলবে। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪১)
হাদিস নং: ১২১৫
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن ابي حازم عن سهل بن سعدقال كان الناس يصلون مع النبي صلى الله عليه وسلم وهم عاقدو ازرهم من الصغر على رقابهم فقيل للنساء لا ترفعن رءوسكن حتى يستوي الرجال جلوسا.
21/13. بَابُ مَنْ صَفَّقَ جَاهِلاً مِنَ الرِّجَالِ فِي صَلاَتِهِ
২১/১৩ যে ব্যাক্তি অজান্তে সালাতে হাততালি দেয় তার সালাত বিনষ্ট হয় না।
لَمْ تَفْسُدْ صَلاَتُهُ فِيهِ سَهْلُ بْنُ سَعْدٍtعَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
এ বিষয়ে সাহল ইবনু সা’দ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
১২১৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন এবং তাঁরা তাদের লুঙ্গি ছোট হবার কারণে ঘাড়ের সাথে বেঁধে রাখতেন। তাই মহিলাগণকে বলা হল, পুরুষগণ সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত তোমরা (সাজ্দাহ হতে) মাথা তুলবে না। (৩৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪২)
২১/১৩ যে ব্যাক্তি অজান্তে সালাতে হাততালি দেয় তার সালাত বিনষ্ট হয় না।
لَمْ تَفْسُدْ صَلاَتُهُ فِيهِ سَهْلُ بْنُ سَعْدٍtعَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
এ বিষয়ে সাহল ইবনু সা’দ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
১২১৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন এবং তাঁরা তাদের লুঙ্গি ছোট হবার কারণে ঘাড়ের সাথে বেঁধে রাখতেন। তাই মহিলাগণকে বলা হল, পুরুষগণ সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত তোমরা (সাজ্দাহ হতে) মাথা তুলবে না। (৩৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪২)
হাদিস নং: ১২১৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي شيبة حدثنا ابن فضيل عن الاعمش عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله قال كنت اسلم على النبي صلى الله عليه وسلم وهو في الصلاة فيرد علي فلما رجعنا سلمت عليه فلم يرد علي وقال ان في الصلاة لشغلا.
১২১৬. ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর সালাতে সালাম করতাম। তিনি আমাকে সালামের জবাব দিতেন। আমরা (আবিসিনিয়া হতে) ফিরে এসে তাঁকে (সালাতে) সালাম করলাম। তিনি জওয়াব দিলেন না এবং পরে বললেনঃ সালাতে আছে নিমগ্নতা। (১১৯৯; মুসলিম ৫/৭, হাঃ ৫৪০, আহমাদ ১৪৫৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪৩)
হাদিস নং: ১২১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، حدثنا عبد الوارث، حدثنا كثير بن شنظير، عن عطاء بن ابي رباح، عن جابر بن عبد الله ـ رضى الله عنهما ـ قال بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم في حاجة له فانطلقت، ثم رجعت وقد قضيتها، فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فسلمت عليه، فلم يرد على، فوقع في قلبي ما الله اعلم به فقلت في نفسي لعل رسول الله صلى الله عليه وسلم وجد على اني ابطات عليه، ثم سلمت عليه فلم يرد على، فوقع في قلبي اشد من المرة الاولى، ثم سلمت عليه فرد على فقال " انما منعني ان ارد عليك اني كنت اصلي ". وكان على راحلته متوجها الى غير القبلة.
১২১৭. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর একটি কাজে পাঠালেন, আমি গেলাম এবং কাজটি সেরে ফিরে এলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলাম। তিনি জওয়াব দিলেন না। এতে আমার মনে এমন খটকা লাগল যা আল্লাহ্ই ভাল জানেন। আমি মনে মনে বললাম, সম্ভবত আমি বিলম্বে আসার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আবার আমি তাঁকে সালাম করলাম; তিনি জওয়াব দিলেন না। ফলে আমার মনে প্রথম বারের চেয়েও অধিক খটকা লাগল। (সালাত শেষে) আবার আমি তাঁকে সালাম করলাম এবার তিনি সালামের জওয়াব দিলেন এবং বললেনঃ সালাতে ছিলাম বলে তোমার সালামের জওয়াব দিতে পারিনি। তিনি তখন তাঁর বাহনের পিঠে কিবলা হতে অন্যমুখে ছিলেন। (মুসলিম ৫/৭, হাঃ ৫৪০, আহমাদ ১৪৫৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪৪)
হাদিস নং: ১২১৮
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا عبد العزيز عن ابي حازم عن سهل بن سعدقال بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم ان بني عمرو بن عوف بقباء كان بينهم شيء فخرج يصلح بينهم في اناس من اصحابه فحبس رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وحانت الصلاة فجاء بلال الى ابي بكر رضي الله عنهما فقال يا ابا بكر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد حبس وقد حانت الصلاة فهل لك ان توم الناس قال نعم ان شىت فاقام بلال الصلاة وتقدم ابو بكرفكبر للناس وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يمشي في الصفوف يشقها شقا حتى قام في الصف فاخذ الناس في التصفيح قال سهل التصفيح هو التصفيق قال وكان ابو بكر رضي الله عنه لا يلتفت في صلاته فلما اكثر الناس التفت فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فاشار اليه يامره ان يصلي فرفع ابو بكريده فحمد الله ثم رجع القهقرى وراءه حتى قام في الصف وتقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فصلى للناس فلما فرغ اقبل على الناس فقال يا ايها الناس ما لكم حين نابكم شيء في الصلاة اخذتم بالتصفيح انما التصفيح للنساء من نابه شيء في صلاته فليقل سبحان الله ثم التفت الى ابي بكرفقال يا ابا بكر ما منعك ان تصلي للناس حين اشرت اليك قال ابو بكر ما كان ينبغي لابن ابي قحافة ان يصلي بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم .
১২১৮. সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছল যে, কুবায় বনূ আমর ইবনু আওফ গোত্রে কোন ব্যাপার ঘটেছে। তাদের মধ্যে মীমাংসার উদ্দেশে তিনি কয়েকজন সাহাবীসহ বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। বিলাল (রাযি.) আবূ বকর (রাযি.)-এর নিকট এসে বললেন, হে আবূ বকর! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্মব্যস্ত রয়েছেন। এদিকে সালাতের সময় উপস্থিত। আপনি কি লোকদের ইমামাত করবেন? তিনি বললেন, হাঁ, যদি তুমি চাও। তখন বিলাল (রাযি.) সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বললেন এবং আবূ বকর (রাযি.) এগিয়ে গেলেন এবং তাকবীর বললেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনলেন এবং কাতার ফাঁক করে সামনে এগিয়ে গিয়ে কাতারে দাঁড়ালেন। মুসল্লীগণ তখন তাস্ফীহ্ করতে লাগলেন। সাহল (রাযি.) বলেন, তাসফীহ্ মানে তাস্ফীক (হাতে তালি দেয়া) তিনি আরো বললেন, আবূ বকর (রাযি.) সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। মুসল্লীগণ অধিক (তালি দেয়া) করবে, তিনি লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁকে ইঙ্গিতে সালাত আদায় করার আদেশ দিলেন। তখন আবূ বকর (রাযি.) তাঁর দু’হাত তুললেন এবং আল্লাহর হাম্দ বর্ণনা করলেন। অতঃপর পিছু হেঁটে পিছনে চলে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে গেলেন এবং মুসল্লীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি মুসল্লীগণের দিকে মুখ করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কী হয়েছে? সালাতে কোন ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাত চাপড়াতে শুরু কর কেন? হাত চাপড়ানো তো মেয়েদের জন্য। সালাতে আদায়রত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে পুরুষরা সুব্হানাল্লাহ্ বলবে। অতঃপর তিনি আবূ বকর (রাযি.)-এর দিকে লক্ষ্য করে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ বকর! তোমাকে আমি ইঙ্গিত করা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে সালাত আদায়ে বাধা দিল? আবূ বকর (রাযি.) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা ইবনু আবূ কুহাফার* জন্য সমীচীন নয়। (৬৮৪) (আধুনিক প্রকাশনী-ঃ ১১৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪৫)
নোট: *আবূ কুহাফাহ আবু বাকর (রাযী.) এর পিতা।
হাদিস নং: ১২১৯
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد عن ايوب عن محمد عن ابي هريرةقال نهي عن الخصر في الصلاة وقال هشام وابو هلال عن ابن سيرين عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
১২১৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে কোমরে হাত রাখা নিষেধ করা হয়েছে। হিশাম ও আবূ হিলাল (রহ.) ইবনু সীরীন (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (১২২০; মুসলিম ৫/১১, হাঃ ৫৪৫, আহমাদ ৭১৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪৬)
হাদিস নং: ১২২০
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا يحيى حدثنا هشام حدثنا محمد عن ابي هريرةقال نهى النبي صلى الله عليه وسلم ان يصلي الرجل مختصرا.
১২২০. আবূ হুরাইরাহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে লোকেদের নিষেধ করা হয়েছে। (১২১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৪০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪৭)
হাদিস নং: ১২২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، حدثنا روح، حدثنا عمر ـ هو ابن سعيد ـ قال اخبرني ابن ابي مليكة، عن عقبة بن الحارث ـ رضى الله عنه ـ قال صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم العصر، فلما سلم قام سريعا دخل على بعض نساىه، ثم خرج وراى ما في وجوه القوم من تعجبهم لسرعته فقال " ذكرت وانا في الصلاة تبرا عندنا، فكرهت ان يمسي او يبيت عندنا فامرت بقسمته ".
وَقَالَ عُمَرُtإِنِّي لَأُجَهِّزُ جَيْشِي وَأَنَا فِي الصَّلاَةِ.
‘উমার (রাযি.) বলেছেন, আমি সালাতের মধ্যে আমার সেনাবাহিনী বিন্যাসের চিন্তা করে থাকি।*
১২২১. ‘ঊকবাহ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ‘আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম করেই তিনি দ্রুত উঠে তাঁর কোন এক সহধর্মিণীর নিকট গেলেন, অতঃপর বেরিয়ে এলেন। তাঁর দ্রুত যাওয়া আসার ফলে (উপস্থিত) সাহাবীগণের চেহারায় বিস্ময়ের আভাস দেখে তিনি বললেনঃ সালাতে আমার নিকট রাখা একটি সোনার টুকরার কথা আমার মনে পড়ে গেল। সন্ধ্যায় বা রাতে তা আমার নিকট থাকবে আমি এটা অপছন্দ করলাম। তাই, তা বণ্টন করে দেয়ার নির্দেশ দিলাম। (৮৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪৮)
‘উমার (রাযি.) বলেছেন, আমি সালাতের মধ্যে আমার সেনাবাহিনী বিন্যাসের চিন্তা করে থাকি।*
১২২১. ‘ঊকবাহ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ‘আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম করেই তিনি দ্রুত উঠে তাঁর কোন এক সহধর্মিণীর নিকট গেলেন, অতঃপর বেরিয়ে এলেন। তাঁর দ্রুত যাওয়া আসার ফলে (উপস্থিত) সাহাবীগণের চেহারায় বিস্ময়ের আভাস দেখে তিনি বললেনঃ সালাতে আমার নিকট রাখা একটি সোনার টুকরার কথা আমার মনে পড়ে গেল। সন্ধ্যায় বা রাতে তা আমার নিকট থাকবে আমি এটা অপছন্দ করলাম। তাই, তা বণ্টন করে দেয়ার নির্দেশ দিলাম। (৮৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪৮)
নোট: * জিহাদ এবং আখিরাতের কাজ বিধায় বিশেষ পরিস্থিতিতে উমর (রাঃ) সালাতে এরূপ চিন্তা করেছেন।
হাদিস নং: ১২২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن جعفر، عن الاعرج، قال قال ابو هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا اذن بالصلاة ادبر الشيطان له ضراط حتى لا يسمع التاذين، فاذا سكت الموذن اقبل، فاذا ثوب ادبر فاذا سكت اقبل، فلا يزال بالمرء يقول له اذكر ما لم يكن يذكر حتى لا يدري كم صلى ". قال ابو سلمة بن عبد الرحمن اذا فعل احدكم ذلك فليسجد سجدتين وهو قاعد. وسمعه ابو سلمة من ابي هريرة ـ رضى الله عنه.
১২২২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ সালাতের আযান হলে শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে সে আযান শুনতে না পায়। তখন তার পশ্চাদ-বায়ু নিঃসরণ হতে থাকে। মুআয্যিন আযান শেষে নীরব হলে সে আবার এগিয়ে আসে। আবার ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলা হলে পালিয়ে যায়। মুআয্যিন (ইক্বামাত(ইকামত/একামত)) শেষ করলে এগিয়ে আসে। তখন সে মুসল্লীকে বলতে থাকে, (ওটা) স্মরণ কর, যে বিষয় তার স্মরণে ছিল না। শেষ পর্যন্ত কত রাক‘আত সালাত আদায় করল তা মনে করতে পারে না। আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) বলেছেন, তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থায় পড়লে (শেষ বৈঠকে) বসা অবস্থায় যেন দু’টি সিজদা্ করে। এ কথা আবূ সালামাহ (রহ.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে শুনেছেন। (৬০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪৯)
হাদিস নং: ১২২৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عثمان بن عمر، قال اخبرني ابن ابي ذىب، عن سعيد المقبري، قال قال ابو هريرة ـ رضى الله عنه ـ يقول الناس اكثر ابو هريرة، فلقيت رجلا فقلت بم قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم البارحة في العتمة فقال لا ادري. فقلت لم تشهدها قال بلى. قلت لكن انا ادري، قرا سورة كذا وكذا.
১২২৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকে বলে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) অধিক হাদীস বর্ণনা করেছে। এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে ‘ইশার সালাতে কোন সূরাহ্ পড়েছেন? লোকটি বলল, আমি জানি না। আমি বললাম, কেন, তুমি কি সে সালাতে উপস্থিত ছিলে না? সে বলল, হাঁ, ছিলাম। আমি বললাম, আমি কিন্তু জানি তিনি অমুক অমুক সূরাহ্ পড়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৫০)