হাদিস নং: ১৬৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد حدثنا اسحاق الازرق حدثنا سفيان عن عبد العزيز بن رفيع قال سالت انس بن مالك قلت اخبرني بشيء عقلته عن النبي صلى الله عليه وسلم اين صلى الظهر والعصر يوم التروية قال بمنى قلت فاين صلى العصر يوم النفر قال بالابطح ثم قال افعل كما يفعل امراوك
25/82 بَاب الإِهْلاَلِ مِنْ الْبَطْحَاءِ وَغَيْرِهَا لِلْمَكِّيِّ وَلِلْحَاجِّ إِذَا خَرَجَ إِلَى مِنًى
২৫/৮২. অধ্যায় : মক্কাহ্র অধিবাসী এবং হাজ্জ (তামাত্তু’) সম্পন্নকারীদের ইহরাম বাঁধার জায়গা বাতহা ও এ ছাড়া অন্যান্য স্থান অর্থাৎ মক্কাহ্র সমস্ত ভূমি এবং মক্কাহ্বাসী হাজীগণ যখন মিনার দিকে রওয়ানা করবে তখন তাদের করণীয় কী?
وَسُئِلَ عَطَاءٌ عَنْ الْمُجَاوِرِ يُلَبِّي بِالْحَجِّ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُلَبِّي يَوْمَ التَّرْوِيَةِ إِذَا صَلَّى الظُّهْرَ وَاسْتَوَى عَلَى رَاحِلَتِهِ وَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ t قَدِمْنَا مَعَ النَّبِيِّ فَأَحْلَلْنَا حَتَّى يَوْمِ التَّرْوِيَةِ وَجَعَلْنَا مَكَّةَ بِظَهْرٍ لَبَّيْنَا بِالْحَجِّ وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَهْلَلْنَا مِنْ الْبَطْحَاءِ وَقَالَ عُبَيْدُ بْنُ جُرَيْجٍ لِابْنِ عُمَرَ رَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا الْهِلاَلَ وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى يَوْمَ التَّرْوِيَةِ فَقَالَ لَمْ أَرَ النَّبِيَّ يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ
’আত্বা (রহ.)-কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, ইবনু ’উমার (রাঃ) তালবিয়ার দিন (যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে) যুহরের সালাত শেষে সওয়ারীতে আরোহণ করে তালবিয়া পাঠ আরম্ভ করতেন। ’আবদুল মালিক (রহ.), ’আত্বা ও জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মক্কাহ্য় এসে যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ পর্যন্ত বিনা ইহরামে অবস্থান করি এবং মক্কাহ্ নগরীকে পিছনে রেখে যাওয়ার সময় আমরা হাজ্জের তালবিয়া পাঠ করেছিলাম। আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাঃ)-এর উক্তি বর্ণনা করেন যে, আমরা বাতহায় ইহরাম বাঁধি। ’উবাইদ ইবনু জুরাইজ (রহ.) ইবনু ’উমর (রাঃ)-কে বললেন, যিলহাজ্জ মাসের চাঁদ দেখেই লোকেরা ইহরাম বাঁধতেন, কিন্তু আপনাকে দেখেছি মক্কাহ্য় অবস্থান করেও যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ পর্যন্ত ইহরাম বাঁধেননি! তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে যতক্ষণ না সওয়ারী উঠে দাঁড়াতো ততক্ষণ তাঁকে তালবিয়া পাঠ করতে দেখিনি।
১৬৫৩. ’আবদুল ’আযীয ইবনু রুফাইয়’ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে যুহর ও ’আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা হতে ফিরার দিন ’আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাস্সাবে। এরপর আনাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর। (১৬৫৪, ১৭৬৩, মুসলিম ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৪৭)
২৫/৮২. অধ্যায় : মক্কাহ্র অধিবাসী এবং হাজ্জ (তামাত্তু’) সম্পন্নকারীদের ইহরাম বাঁধার জায়গা বাতহা ও এ ছাড়া অন্যান্য স্থান অর্থাৎ মক্কাহ্র সমস্ত ভূমি এবং মক্কাহ্বাসী হাজীগণ যখন মিনার দিকে রওয়ানা করবে তখন তাদের করণীয় কী?
وَسُئِلَ عَطَاءٌ عَنْ الْمُجَاوِرِ يُلَبِّي بِالْحَجِّ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُلَبِّي يَوْمَ التَّرْوِيَةِ إِذَا صَلَّى الظُّهْرَ وَاسْتَوَى عَلَى رَاحِلَتِهِ وَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ t قَدِمْنَا مَعَ النَّبِيِّ فَأَحْلَلْنَا حَتَّى يَوْمِ التَّرْوِيَةِ وَجَعَلْنَا مَكَّةَ بِظَهْرٍ لَبَّيْنَا بِالْحَجِّ وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَهْلَلْنَا مِنْ الْبَطْحَاءِ وَقَالَ عُبَيْدُ بْنُ جُرَيْجٍ لِابْنِ عُمَرَ رَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا الْهِلاَلَ وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى يَوْمَ التَّرْوِيَةِ فَقَالَ لَمْ أَرَ النَّبِيَّ يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ
’আত্বা (রহ.)-কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, ইবনু ’উমার (রাঃ) তালবিয়ার দিন (যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে) যুহরের সালাত শেষে সওয়ারীতে আরোহণ করে তালবিয়া পাঠ আরম্ভ করতেন। ’আবদুল মালিক (রহ.), ’আত্বা ও জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মক্কাহ্য় এসে যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ পর্যন্ত বিনা ইহরামে অবস্থান করি এবং মক্কাহ্ নগরীকে পিছনে রেখে যাওয়ার সময় আমরা হাজ্জের তালবিয়া পাঠ করেছিলাম। আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাঃ)-এর উক্তি বর্ণনা করেন যে, আমরা বাতহায় ইহরাম বাঁধি। ’উবাইদ ইবনু জুরাইজ (রহ.) ইবনু ’উমর (রাঃ)-কে বললেন, যিলহাজ্জ মাসের চাঁদ দেখেই লোকেরা ইহরাম বাঁধতেন, কিন্তু আপনাকে দেখেছি মক্কাহ্য় অবস্থান করেও যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ পর্যন্ত ইহরাম বাঁধেননি! তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে যতক্ষণ না সওয়ারী উঠে দাঁড়াতো ততক্ষণ তাঁকে তালবিয়া পাঠ করতে দেখিনি।
১৬৫৩. ’আবদুল ’আযীয ইবনু রুফাইয়’ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে যুহর ও ’আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা হতে ফিরার দিন ’আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাস্সাবে। এরপর আনাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর। (১৬৫৪, ১৭৬৩, মুসলিম ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৪৭)
হাদিস নং: ১৬৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي سمع ابا بكر بن عياش حدثنا عبد العزيز لقيت انسا ح وحدثني اسماعيل بن ابان حدثنا ابو بكر عن عبد العزيز قال خرجت الى منى يوم التروية فلقيت انسا ذاهبا على حمار فقلت اين صلى النبي صلى الله عليه وسلم هذا اليوم الظهر فقال انظر حيث يصلي امراوك فصل
১৬৫৪. ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে মিনার দিকে বের হলাম, তখন আনাস (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ লাভ করি, তিনি গাধার পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন, তুমি লক্ষ্য রাখবে যেখানে তোমার আমীরগণ সালাত আদায় করবে, তুমিও সেখানেই সালাত আদায় করবে। (১৬৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৪৮)
হাদিস নং: ১৬৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن المنذر حدثنا ابن وهب اخبرني يونس عن ابن شهاب قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عمر عن ابيه قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنى ركعتين وابو بكر وعمر وعثمان صدرا من خلافته
১৬৫৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন এবং আবূ বকর, ‘উমার (রাঃ)-ও। আর ‘উসমান (রাঃ) তাঁর খিলাফতের প্রথম ভাগেও দু’ রাক‘আত আদায় করেছেন। (১০৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৪৯)
হাদিস নং: ১৬৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة عن ابي اسحاق الهمداني عن حارثة بن وهب الخزاعي قال صلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم ونحن اكثر ما كنا قط وامنه بمنى ركعتين
১৬৫৬. হারিসাহ ইবনু ওয়াহব খুযা‘য় (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে মিনাতে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। এ সময় আমরা আগের তুলনায় সংখ্যায় বেশি ছিলাম এবং অতি নিরাপদে ছিলাম। (১০৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫০)
হাদিস নং: ১৬৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قبيصة بن عقبة حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابراهيم عن عبد الرحمن بن يزيد عن عبد الله قال صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ركعتين ومع ابي بكر ركعتين ومع عمر ركعتين ثم تفرقت بكم الطرق فيا ليت حظي من اربع ركعتان متقبلتان
১৬৫৭. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (মিনায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। আবূ বকর-এর সাথে দু’ রাক‘আত এবং ‘উমার-এর সাথেও দু’ রাক‘আত আদায় করেছি। এরপর তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে [অর্থাৎ ‘উসমান (রাঃ)-এর সময় হতে চার রাক‘আত সালাত আদায় করা শুরু হয়েছে] আহা! যদি চার রাক‘আতের পরিবর্তে মকবূল দু’রাক‘আতই আমার ভাগ্যে জুটত! (১০৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫১)
হাদিস নং: ১৬৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن الزهري حدثنا سالم قال سمعت عميرا مولى ام الفضل عن ام الفضل شك الناس يوم عرفة في صوم النبي صلى الله عليه وسلم فبعثت الى النبي بشراب فشربه
১৬৫৮. উম্মু ফাযল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আরাফার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওমের ব্যাপারে লোকজন সন্দেহ করতে লাগলেন। তাই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট শরবত পাঠিয়ে দিলাম। তিনি তা পান করলেন। (১৬৬১, ১৯৮৮, ৫২০৪, ৫২১৮, ৫২৩৬, মুসলিম ১৩/১৮, হাঃ ১১২৩, আহমাদ ২৬৯৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫২)
হাদিস নং: ১৬৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن محمد بن ابي بكر الثقفي انه سال انس بن مالك وهما غاديان من منى الى عرفة كيف كنتم تصنعون في هذا اليوم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال كان يهل منا المهل فلا ينكر عليه ويكبر منا المكبر فلا ينكر عليه
১৬৫৯. মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাকার সাকাফী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা হতে ‘আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে থেকে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাতে বাধা দেয়া হতো না এবং যারা তাকবীর পড়তে চাইত তারা তাকবীর পড়ত, এতেও বাধা দেয়া হতো না। (৯৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫৩)
হাদিস নং: ১৬৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن سالم قال كتب عبد الملك الى الحجاج ان لا يخالف ابن عمر في الحج فجاء ابن عمر وانا معه يوم عرفة حين زالت الشمس فصاح عند سرادق الحجاج فخرج وعليه ملحفة معصفرة فقال ما لك يا ابا عبد الرحمن فقال الرواح ان كنت تريد السنة قال هذه الساعة قال نعم قال فانظرني حتى افيض على راسي ثم اخرج فنزل حتى خرج الحجاج فسار بيني وبين ابي فقلت ان كنت تريد السنة فاقصر الخطبة وعجل الوقوف فجعل ينظر الى عبد الله فلما راى ذلك عبد الله قال صدق
১৬৬০. সালিম (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (খলীফা) ‘আবদুল মালিক (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজের নিকট লিখে পাঠালেন যে, হাজ্জের ব্যাপারে ইবনু ‘উমার-এর বিরোধিতা করবে না। ‘আরাফার দিনে সূর্য ঢলে যাবার পর ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাজ্জাজের তাঁবুর কাছে গিয়ে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তখন তাঁর (ইবনু ‘উমারের) সাথেই ছিলাম, হাজ্জাজ হলুদ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, কী ব্যাপার, হে আবূ ‘আবদুর রহমান? ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চাও তা হলে চল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলেন, এ মুহূর্তেই? তিনি বললেন, হাঁ। হাজ্জাজ বললেন, সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তা হলে খুত্বা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। হাজ্জাজ ‘আবদুল্লাহর দিকে তাকাতে লাগলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন তাঁকে দেখলেন তখন বললেন, সে ঠিকই বলেছে। (১৬৬২, ১৬৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫৪)
হাদিস নং: ১৬৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابي النضر عن عمير مولى عبد الله بن العباس عن ام الفضل بنت الحارث ان ناسا اختلفوا عندها يوم عرفة في صوم النبي صلى الله عليه وسلم فقال بعضهم هو صاىم وقال بعضهم ليس بصاىم فارسلت اليه بقدح لبن وهو واقف على بعيره فشربه
১৬৬১. উম্মু ফাযল বিনত হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে ‘আরাফার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওম সম্পর্কে মতভেদ করছিলেন। কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম আবার কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম নন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এক পিয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম, তিনি তখন উটের উপর উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি তা পান করে নিলেন। (১৬৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫৫)
হাদিস নং: ১৬৬২
সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني سالم ان الحجاج بن يوسف عام نزل بابن الزبير سال عبد الله كيف تصنع في الموقف يوم عرفة فقال سالم ان كنت تريد السنة فهجر بالصلاة يوم عرفة فقال عبد الله بن عمر صدق انهم كانوا يجمعون بين الظهر والعصر في السنة فقلت لسالم افعل ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال سالم وهل تتبعون في ذلك الا سنته
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاَةُ مَعَ الإِمَامِ جَمَعَ بَيْنَهُمَا
ইবনু ‘উমার (রাঃ) ইমামের সাথে সালাত আদায় করতে না পারলে উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন।
১৬৬২. সালিম (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ইবনু যুবাইরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, সে বছর তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আরাফার দিনে উকূফের সময় আমরা কিরূপে কাজ করব? সালিম (রহ.) বললেন, আপনি যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে ‘আরাফার দিনে দুপুরে সালাত আদায় করবেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, সালিম ঠিক বলেছে। সুন্নাত মুতাবিক সাহাবীগণ যুহর ও ‘আসর এক সাথেই আদায় করতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও কি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে তোমরা কি আল্লাহর রাসূল (স)-এর সুন্নাত ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ করবে? (১৬৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ১০৪৯)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) ইমামের সাথে সালাত আদায় করতে না পারলে উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন।
১৬৬২. সালিম (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ইবনু যুবাইরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, সে বছর তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আরাফার দিনে উকূফের সময় আমরা কিরূপে কাজ করব? সালিম (রহ.) বললেন, আপনি যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে ‘আরাফার দিনে দুপুরে সালাত আদায় করবেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, সালিম ঠিক বলেছে। সুন্নাত মুতাবিক সাহাবীগণ যুহর ও ‘আসর এক সাথেই আদায় করতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও কি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে তোমরা কি আল্লাহর রাসূল (স)-এর সুন্নাত ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ করবে? (১৬৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ১০৪৯)
হাদিস নং: ১৬৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن سالم بن عبد الله ان عبد الملك بن مروان كتب الى الحجاج ان ياتم بعبد الله بن عمر في الحج فلما كان يوم عرفة جاء ابن عمر وانا معه حين زاغت الشمس او زالت فصاح عند فسطاطه اين هذا فخرج اليه فقال ابن عمر الرواح فقال الان قال نعم قال انظرني افيض علي ماء فنزل ابن عمر حتى خرج فسار بيني وبين ابي فقلت ان كنت تريد ان تصيب السنة اليوم فاقصر الخطبة وعجل الوقوف فقال ابن عمر صدق
১৬৬৩. সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, (খলীফা) ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজকে লিখে পাঠালেন, তিনি যেন হাজ্জের ব্যাপারে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে অনুসরণ করেন। যখন ‘আরাফার দিন হল, তখন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ইবনু ‘উমার (রহ.) আসলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তাঁর তাঁবুর কাছে এসে উচ্চস্বরে ডাকলেন ও কোথায়? হাজ্জাজ বেরিয়ে আসলেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, চল। হাজ্জাজ বললেন, এখনই? তিনি বললেন, হাঁ। হাজ্জাজ বললেন, আমাকে একটু অবকাশ দিন, আমি গায়ে একটু পানি ঢেলে নিই। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর তিনি আমার ও আমার পিতার মাঝে চলতে লাগলেন। আমি বললাম, আজ আপনি যদি সঠিকভাবে সুন্নাত মুতাবিক কাজ করতে চান তাহলে খুত্বা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে (সালিম) ঠিকই বলেছে। (১৬৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫৬)
হাদিস নং: ১৬৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان حدثنا عمرو حدثنا محمد بن جبير بن مطعم عن ابيه كنت اطلب بعيرا لي ح وحدثنا مسدد حدثنا سفيان عن عمرو سمع محمد بن جبير عن ابيه جبير بن مطعم قال اضللت بعيرا لي فذهبت اطلبه يوم عرفة فرايت النبي صلى الله عليه وسلم واقفا بعرفة فقلت هذا والله من الحمس فما شانه ها هنا
১৬৬৪. জুবাইর ইবনু মুত‘য়িম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে ‘আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ‘আরাফায় উকূফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! তিনি তো কুরায়শ বংশীয়।[1] এখানে তিনি কী করছেন? (মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫৭)
নোট: [1] মক্কাহর অধিবাসী কতক হঠকারী উদ্ধত গোত্র অন্যান্য লোকদের সঙ্গে আরাফাতে যেত না এবং মুজদালিফায় সংক্ষিপ্ত অবস্থান করত। তাদের ঔদ্ধত্যের কারণে তাদেরকে তিরস্কার করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে অন্যান্য হাজীদের ন্যায় তাদেরকেও হাজ্জের সকল নিয়ম পালন করতে হবে। ইসলাম হচ্ছে সমতার ধর্ম। জাহিলী যুগের প্রথা অনুযায়ী যুবাইর ইবনু মুত‘য়িম (রাঃ)-এর ধারণা ছিল কুরাইশদের আরাফাতে আমার প্রয়োজন নেই। তাই তিনি বলে উঠেন, আল্লাহর নাবী (সাঃ) তো কুরাইশ; তিনি কেন আরাফাতে এসেছেন। আল্লাহর নির্দেশে রসূলুল্লাহ (সাঃ) ঐ জাহিলী নিয়ম ভেঙ্গে ফেলেন এবং আরাফাতে অবস্থানসহ হাজ্জের যাবতীয় নিয়মই সকলের জন্য সমানভাবে আবশ্যকীয় করেন। (সূরা আল-বাক্বারাহ ১৯৮-১৯৯)
হাদিস নং: ১৬৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا فروة بن ابي المغراء حدثنا علي بن مسهر عن هشام بن عروة قال عروة كان الناس يطوفون في الجاهلية عراة الا الحمس والحمس قريش وما ولدت وكانت الحمس يحتسبون على الناس يعطي الرجل الرجل الثياب يطوف فيها وتعطي المراة المراة الثياب تطوف فيها فمن لم يعطه الحمس طاف بالبيت عريانا وكان يفيض جماعة الناس من عرفات ويفيض الحمس من جمع قال واخبرني ابي عن عاىشة ان هذه الاية نزلت في الحمس (ثم افيضوا من حيث افاض الناس) قال كانوا يفيضون من جمع فدفعوا الى عرفات
১৬৬৫. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করত। আর হুমস্ হলো কুরায়শ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকেদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা হতে। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ (ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ) (এরপর যেখান হতে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করবে) রাবী বলেন, তারা মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের ‘আরাফাহ পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হল। (৪৫২০, মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫৮)
হাদিস নং: ১৬৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن ابيه انه قال سىل اسامة وانا جالس كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسير في حجة الوداع حين دفع قال كان يسير العنق فاذا وجد فجوة نص قال هشام والنص فوق العنق قال ابو عبد الله فجوة متسع والجميع فجوات وفجاء وكذلك ركوة وركاء مناص ليس حين فرار
১৬৬৬. ’উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন আমি সেখানে উপবিষ্ট ছিলাম, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ’আরাফা হতে ফিরতেন তখন তাঁর চলার গতি কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তার চাইতেও দ্রুতগতিতে চলতেন।
রাবী হিশাম (রহ.) বলেন,عَنَقَ হতেও দ্রুতগতির ভ্রমণকে نَصَّ বলা হয়। আবূ ’আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, فَجْوَةٌ অর্থ مُتَّسَعٌ খোলা পথ, এর বহুবচন হল فَجَوَاتٌ ও فِجَاءٌ। رَكْوَةٌ ও رِكَاءٌ শব্দদ্বয়ও অনুরূপ। (কুরআনে বর্ণিত) (مَنَاصٌ) (ص : ৩০) এর অর্থ হল, ’’পরিত্রাণের কোন উপায়-অবকাশ নেই।’’ (সদঃ ৩০) (২৯৯৯, ৪৪১৩, মুসলিম ১৫/৪৭, হাঃ ১২৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৩ ,ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫৯)
রাবী হিশাম (রহ.) বলেন,عَنَقَ হতেও দ্রুতগতির ভ্রমণকে نَصَّ বলা হয়। আবূ ’আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, فَجْوَةٌ অর্থ مُتَّسَعٌ খোলা পথ, এর বহুবচন হল فَجَوَاتٌ ও فِجَاءٌ। رَكْوَةٌ ও رِكَاءٌ শব্দদ্বয়ও অনুরূপ। (কুরআনে বর্ণিত) (مَنَاصٌ) (ص : ৩০) এর অর্থ হল, ’’পরিত্রাণের কোন উপায়-অবকাশ নেই।’’ (সদঃ ৩০) (২৯৯৯, ৪৪১৩, মুসলিম ১৫/৪৭, হাঃ ১২৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৩ ,ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫৯)
হাদিস নং: ১৬৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا حماد بن زيد عن يحيى بن سعيد عن موسى بن عقبة عن كريب مولى ابن عباس عن اسامة بن زيد ان النبي صلى الله عليه وسلم حيث افاض من عرفة مال الى الشعب فقضى حاجته فتوضا فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اتصلي فقال الصلاة امامك
১৬৬৭. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটিয়ে উযূ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে। (১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬০)
হাদিস নং: ১৬৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا جويرية عن نافع قال كان عبد الله بن عمر يجمع بين المغرب والعشاء بجمع غير انه يمر بالشعب الذي اخذه رسول الله صلى الله عليه وسلم فيدخل فينتفض ويتوضا ولا يصلي حتى يصلي بجمع
১৬৬৮. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশার সালাত এক সাথে আদায় করতেন। এছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং উযূ করতেন কিন্তু সালাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছে সালাত আদায় করতেন। (১৬৬৮, ১০৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬১)
হাদিস নং: ১৬৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا اسماعيل بن جعفر عن محمد بن ابي حرملة عن كريب مولى ابن عباس عن اسامة بن زيد انه قال ردفت رسول الله صلى الله عليه وسلم من عرفات فلما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم الشعب الايسر الذي دون المزدلفة اناخ فبال ثم جاء فصببت عليه الوضوء فتوضا وضوءا خفيفا فقلت الصلاة يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الصلاة امامك فركب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اتى المزدلفة فصلى ثم ردف الفضل رسول الله صلى الله عليه وسلم غداة جمع
১৬৬৯. উসামাহ ইবনু যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আরাফা হতে সওয়ারীতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুযদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটটি বসালেন। এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাঁকে উযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হালকাভাবে উযূ করে নিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে। এ কথা বলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফা আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আরোহণ করলেন। (১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬২)
হাদিস নং: ১৬৭০
সহিহ (Sahih)
. قال كريب فاخبرني عبد الله بن عباس عن الفضل ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يزل يلبي حتى بلغ الجمرة
১৬৭০. কুরাইব (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ফযল (রাঃ) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন। (১৫৪৪, মুসলিম ১৫/৪৫, হাঃ ১৬৮০, ১৬৮১, আহমাদ ২১৮০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬২ শেষাংশ)
হাদিস নং: ১৬৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم حدثنا ابراهيم بن سويد حدثني عمرو بن ابي عمرو مولى المطلب اخبرني سعيد بن جبير مولى والبة الكوفي حدثني ابن عباس انه دفع مع النبي يوم عرفة فسمع النبي صلى الله عليه وسلم وراءه زجرا شديدا وضربا وصوتا للابل فاشار بسوطه اليهم وقال ايها الناس عليكم بالسكينة فان البر ليس بالايضاع اوضعوا اسرعوا (خلالكم) من التخلل بينكم (وفجرنا خلالهما) بينهما
১৬৭১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘আরাফার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ফিরে আসছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দিকে খুব হাঁকডাক ও উট পিটানোর শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের চাবুক দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা ধীরস্থিরতা অবলম্বন কর। কেননা, উট দ্রুত হাঁকানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।
أَوْضَعُوا অর্থাৎ তারা দ্রুত চলত। (خِلاَلَكُمْ)তোমাদের ফাঁকে ঢুকে, (وَفَجَّرْنَا خِلاَلَهُمَا) উভয়টির মধ্যে প্রবাহিত করেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬৩)
أَوْضَعُوا অর্থাৎ তারা দ্রুত চলত। (خِلاَلَكُمْ)তোমাদের ফাঁকে ঢুকে, (وَفَجَّرْنَا خِلاَلَهُمَا) উভয়টির মধ্যে প্রবাহিত করেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬৩)
হাদিস নং: ১৬৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن موسى بن عقبة عن كريب عن اسامة بن زيد انه سمعه يقول دفع رسول الله صلى الله عليه وسلم من عرفة فنزل الشعب فبال ثم توضا ولم يسبغ الوضوء فقلت له الصلاة فقال الصلاة امامك فجاء المزدلفة فتوضا فاسبغ ثم اقيمت الصلاة فصلى المغرب ثم اناخ كل انسان بعيره في منزله ثم اقيمت الصلاة فصلى ولم يصل بينهما
১৬৭২. উসামাহ ইবনু যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফা হতে ফেরার সময় গিরিপথে অবতরণ করে পেশাব করলেন এবং উযূ করলেন। তবে পূর্ণাঙ্গ উযূ করলেন না। আমি তাঁকে বললাম, সালাত? তিনি বললেন, সালাত তো তোমার সামনে। অতঃপর তিনি মুযদালিফায় এসে উযূ করলেন এবং পূর্ণাঙ্গ উযূ করলেন। অতঃপর সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হলে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এরপর প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে নিজ নিজ উট দাঁড় করিয়ে রাখার পর সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। ‘ইশা ও মাগরিবের মধ্যে তিনি আর কোন সালাত আদায় করেননি। (১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬৪)