হাদিস নং: ১৮৪১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا شعبة قال اخبرني عمرو بن دينار سمعت جابر بن زيد سمعت ابن عباس قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يخطب بعرفات من لم يجد النعلين فليلبس الخفين ومن لم يجد ازارا فليلبس سراويل للمحرم
১৮৪১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুহরিমদের উদ্দেশে ‘আরাফাতে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যার চপ্পল নেই সে মোজা পরিধান করবে আর যার লুঙ্গি নেই সে পায়জামা পরিধান করবে। (১৭৪০, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৭৮, আহমাদ ৫০৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭০৯, ই,ফা ১৭১৯)
হাদিস নং: ১৮৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس حدثنا ابراهيم بن سعد حدثنا ابن شهاب عن سالم عن عبد الله سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يلبس المحرم من الثياب فقال لا يلبس القميص ولا العماىم ولا السراويلات ولا البرنس ولا ثوبا مسه زعفران ولا ورس وان لم يجد نعلين فليلبس الخفين وليقطعهما حتى يكونا اسفل من الكعبين
১৮৪২. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মুহরিম ব্যক্তি কোন্ কাপড় পরিধান করবে এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, পায়জামা, টুপী এবং জাফরান কিংবা ওয়ারস্ দ্বারা রঞ্জিত কাপড় ব্যবহার করতে পারবে না। যদি তার জুতা না থাকে তা হলে মোজা পরবে, তবে মোজা দু’টি পায়ের গিরার নিচ হতে কেটে নিবে। (১৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২০)
হাদিস নং: ১৮৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة حدثنا عمرو بن دينار عن جابر بن زيد عن ابن عباس قال خطبنا النبي صلى الله عليه وسلم بعرفات فقال من لم يجد الازار فليلبس السراويل ومن لم يجد النعلين فليلبس الخفين
১৮৪৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফার ময়দানে আমাদেরকে লক্ষ্য করে তাঁর ভাষণে বললেনঃ (মুহরিম অবস্থায়) যার লুঙ্গি নেই সে যেন পায়জামা পরিধান করে এবং যার জুতা নেই সে যেন মোজা পরিধান করে। (১৭৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২১ )
হাদিস নং: ১৮৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد الله عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة فابى اهل مكة ان يدعوه يدخل مكة حتى قاضاهم لا يدخل مكة سلاحا الا في القراب
وَقَالَ عِكْرِمَةُ إِذَا خَشِيَ الْعَدُوَّ لَبِسَ السِّلاَحَ وَافْتَدَى وَلَمْ يُتَابَعْ عَلَيْهِ فِي الْفِدْيَةِ
ইকরিমা (রহ.) বলেছেন, শত্রুর আশঙ্কা হলে মুহরিম অস্ত্রসজ্জিত থাকবে এবং ফিদয়া দিয়ে দেবে। তবে ফিদয়া আদায় করা সম্পর্কে আর কেউ তাঁকে সমর্থন করেননি।
১৮৪৪. বারা‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-কা‘দা মাসে ‘উমরাহ আদায় করার নিয়তে রওয়ানা হলে মক্কাবাসী লোকেরা তাঁকে মক্কা প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে তিনি তাদের সাথে এই শর্তে চুক্তি করেন যে, সশস্ত্র অবস্থায় নয় বরং তলোয়ার কোষবদ্ধ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করবেন। (১৭৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২২ )
ইকরিমা (রহ.) বলেছেন, শত্রুর আশঙ্কা হলে মুহরিম অস্ত্রসজ্জিত থাকবে এবং ফিদয়া দিয়ে দেবে। তবে ফিদয়া আদায় করা সম্পর্কে আর কেউ তাঁকে সমর্থন করেননি।
১৮৪৪. বারা‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-কা‘দা মাসে ‘উমরাহ আদায় করার নিয়তে রওয়ানা হলে মক্কাবাসী লোকেরা তাঁকে মক্কা প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে তিনি তাদের সাথে এই শর্তে চুক্তি করেন যে, সশস্ত্র অবস্থায় নয় বরং তলোয়ার কোষবদ্ধ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করবেন। (১৭৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২২ )
হাদিস নং: ১৮৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسلم حدثنا وهيب حدثنا ابن طاوس عن ابيه عن ابن عباسان النبي صلى الله عليه وسلم وقت لاهل المدينة ذا الحليفة ولاهل نجد قرن المنازل ولاهل اليمن يلملم هن لهن ولكل ات اتى عليهن من غيرهم ممن اراد الحج والعمرة فمن كان دون ذلك فمن حيث انشا حتى اهل مكة من مكة
وَدَخَلَ ابْنُ عُمَرَ وَإِنَّمَا أَمَرَ النَّبِيُّ بِالإِهْلاَلِ لِمَنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ لِلْحَطَّابِينَ وَغَيْرِهِمْ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) ইহরাম ব্যতীত মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ আদায়ের সংকল্পকারী লোকেদেরকেই ইহরাম বাঁধার আদেশ করেছিলেন। কাঠ বহনকারী এবং অন্যান্যদের জন্য তিনি ইহরাম বাঁধার কথা উল্লেখ করেননি।
১৮৪৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্বাসীদের জন্য ‘যুল-হুলাইফা, নাজদবাসীদের জন্য ‘কারনুল মানাযিল’ এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য ‘ইয়ালামলাম’ নামক জায়গাকে ইহরামের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেছেন। এ জায়গাগুলোর অধিবাসীদের জন্য এবং হাজ্জ ও ‘উমরাহ্’র নিয়্যাত করে বাইরে হতে আগত যাত্রী, যারা এ জায়গা দিয়ে অতিক্রম করবে, তাদের জন্য এ স্থানগুলো মীকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর মীকাতের ভেতরে অবস্থানকারী লোকদের জন্য তারা যেখান হতে যাত্রা করবে সেটাই তাদের ইহরাম বাঁধার জায়গা। এমনকি মক্কাবাসী লোকেরা মক্কা হতেই ইহরাম বাঁধবে। (১৫২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৩ )
ইবনু ‘উমার (রাঃ) ইহরাম ব্যতীত মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ আদায়ের সংকল্পকারী লোকেদেরকেই ইহরাম বাঁধার আদেশ করেছিলেন। কাঠ বহনকারী এবং অন্যান্যদের জন্য তিনি ইহরাম বাঁধার কথা উল্লেখ করেননি।
১৮৪৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্বাসীদের জন্য ‘যুল-হুলাইফা, নাজদবাসীদের জন্য ‘কারনুল মানাযিল’ এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য ‘ইয়ালামলাম’ নামক জায়গাকে ইহরামের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেছেন। এ জায়গাগুলোর অধিবাসীদের জন্য এবং হাজ্জ ও ‘উমরাহ্’র নিয়্যাত করে বাইরে হতে আগত যাত্রী, যারা এ জায়গা দিয়ে অতিক্রম করবে, তাদের জন্য এ স্থানগুলো মীকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর মীকাতের ভেতরে অবস্থানকারী লোকদের জন্য তারা যেখান হতে যাত্রা করবে সেটাই তাদের ইহরাম বাঁধার জায়গা। এমনকি মক্কাবাসী লোকেরা মক্কা হতেই ইহরাম বাঁধবে। (১৫২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৩ )
হাদিস নং: ১৮৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عام الفتح وعلى راسه المغفر فلما نزعه جاء رجل فقال ان ابن خطل متعلق باستار الكعبة فقال اقتلوه
১৮৪৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরস্ত্রাণটি মাথা হতে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইবনু খাতাল কা‘বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ তাকে তোমরা হত্যা কর। (৩০৪৪, ৩২৮৬, ৫৮০৮, মুসলিম ১৫/৮৪, হাঃ ১৩৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৪ )
হাদিস নং: ১৮৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا همام حدثنا عطاء قال حدثني صفوان بن يعلى بن امية عن ابيه قال كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتاه رجل عليه جبة فيه اثر صفرة او نحوه كان عمر يقول لي تحب اذا نزل عليه الوحي ان تراه فنزل عليه ثم سري عنه فقال اصنع في عمرتك ما تصنع في حجك
وَقَالَ عَطَاءٌ إِذَا تَطَيَّبَ أَوْ لَبِسَ جَاهِلاً أَوْ نَاسِيًا فَلاَ كَفَّارَةَ عَلَيْهِ
‘আত্বা (রহ.) বলেন, অজ্ঞতাবশতঃ বা ভুলক্রমে যদি কেউ সুগন্ধি মাখে অথবা জামা পরিধান করে, তাহলে তার উপর কোন কাফফারা নেই।
১৮৪৭. সফওয়ান ইবনু ইয়া‘লা (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় হলুদ বা অনুরূপ রঙ্গের চিহ্ন বিশিষ্ট জামা পরিহিত এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলেন। আর ‘উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি যখন ওয়াহী নাযিল হয় সে মুহূর্তে তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও? এরপর (ঐ সময়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি ওয়াহী নাযিল হল। অতঃপর এ অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি (প্রশ্নকারীকে) বললেনঃ হাজ্জে তুমি যা কর ‘উমরাতেও তাই কর। (১৫৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৫ )
‘আত্বা (রহ.) বলেন, অজ্ঞতাবশতঃ বা ভুলক্রমে যদি কেউ সুগন্ধি মাখে অথবা জামা পরিধান করে, তাহলে তার উপর কোন কাফফারা নেই।
১৮৪৭. সফওয়ান ইবনু ইয়া‘লা (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় হলুদ বা অনুরূপ রঙ্গের চিহ্ন বিশিষ্ট জামা পরিহিত এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলেন। আর ‘উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি যখন ওয়াহী নাযিল হয় সে মুহূর্তে তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও? এরপর (ঐ সময়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি ওয়াহী নাযিল হল। অতঃপর এ অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি (প্রশ্নকারীকে) বললেনঃ হাজ্জে তুমি যা কর ‘উমরাতেও তাই কর। (১৫৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৫ )
হাদিস নং: ১৮৪৮
সহিহ (Sahih)
وعض رجل يد رجل ـ يعني فانتزع ثنيته ـ فابطله النبي صلى الله عليه وسلم.
১৮৪৮. এক ব্যক্তি অন্য একজনের হাত কামড়িয়ে ধরলে তার সামনের দু’টি দাঁত উৎপাটিত হয়ে যায়, এ সংক্রান্ত নালিশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতিল করে দেন। (২২৬৫, ২৯৭৩, ৪৪১৭, ৬৮৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই )
হাদিস নং: ১৮৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن عمرو بن دينار عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال بينا رجل واقف مع النبي صلى الله عليه وسلم بعرفة اذ وقع عن راحلته فوقصته او قال فاقعصته فقال النبي صلى الله عليه وسلم اغسلوه بماء وسدر وكفنوه في ثوبين او قال ثوبيه ولا تحنطوه ولا تخمروا راسه فان الله يبعثه يوم القيامة يلبي
১৮৪৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ‘আরাফাত ময়দানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উকূফ (অবস্থান) করছিলেন। হঠাৎ তিনি তাঁর সওয়ারী হতে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায় অথবা সাওয়ারীটি তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে অথবা বলেন তার পরিধেয় দু’টি কাপড়ে কাফন দাও। তবে তার মাথা ঢেকে দিও না এবং হানূত নামক সুগন্ধিও ব্যবহার কর না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাকে কিয়ামতের দিনে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৬ )
হাদিস নং: ১৮৫০
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد عن ايوب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال بينا رجل واقف مع النبي صلى الله عليه وسلم بعرفة اذ وقع عن راحلته فوقصته او قال فاوقصته فقال النبي اغسلوه بماء وسدر وكفنوه في ثوبين ولا تمسوه طيبا ولا تخمروا راسه ولا تحنطوه فان الله يبعثه يوم القيامة ملبيا
১৮৫০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ‘আরাফাতের মাঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে অবস্থান করছিলেন, অকস্মাৎ তিনি তাঁর সওয়ারী হতে পড়ে গেলে তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায় অথবা সওয়ারীটি তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। (ফলে তিনি মারা যান)। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে কাফন দাও। তবে তার শরীরে সুগন্ধি মাখাবে না আর তার মাথা ঢাকবে না এবং হানূতও লাগাবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাকে কিয়ামতের ময়দানে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৭ )
হাদিস নং: ১৮৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم حدثنا هشيم اخبرنا ابو بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس ان رجلا كان مع النبي صلى الله عليه وسلم فوقصته ناقته وهو محرم فمات فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اغسلوه بماء وسدر وكفنوه في ثوبيه ولا تمسوه بطيب ولا تخمروا راسه فانه يبعث يوم القيامة ملبيا
১৮৫১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলেন। হঠাৎ তাঁর সাওয়ারী তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। ফলে তিনি মারা যান। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল দাও এবং তার দু’ কাপড়ে কাফন দাও। তবে তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না; কেননা কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় তার উত্থান হবে। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৮)
হাদিস নং: ১৮৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن ابي بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباسان امراة من جهينة جاءت الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت ان امي نذرت ان تحج فلم تحج حتى ماتت افاحج عنها قال نعم حجي عنها ارايت لو كان على امك دين اكنت قاضية اقضوا الله فالله احق بالوفاء
১৮৫২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, আমার আম্মা হাজ্জের মানৎ করেছিলেন তবে তিনি হাজ্জ আদায় না করেই ইন্তিকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ হতে হাজ্জ করতে পারি? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার পক্ষ হতে তুমি হাজ্জ আদায় কর। তুমি এ ব্যাপারে কি মনে কর যদি তোমার আম্মার উপর ঋণ থাকত তা হলে কি তুমি তা আদায় করতে না? সুতরাং আল্লাহর হক আদায় করে দাও। কেননা আল্লাহ্র হকই সবচেয়ে বেশী আদায়যোগ্য। [1] (৬৬৯৯, ৭৩১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৯ )
নোট: [1] বদলি হাজ্জের আগের নিজের হাজ্জ করতে হবে। আবূ দাউদ ও ইবনু মাজাহ বর্ণিত হাদীস। ইবনু হিবান সহীহ বলেছেন।
হাদিস নং: ১৮৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عاصم عن ابن جريج عن ابن شهاب عن سليمان بن يسار عن ابن عباس عن الفضل بن عباس ان امراة ح
১৮৫৩. ফাযল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মহিলা বললেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩০)
হাদিস নং: ১৮৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا عبد العزيز بن ابي سلمة حدثنا ابن شهاب عن سليمان بن يسار عن ابن عباس قال جاءت امراة من خثعم عام حجة الوداع قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان فريضة الله على عباده في الحج ادركت ابي شيخا كبيرا لا يستطيع ان يستوي على الراحلة فهل يقضي عنه ان احج عنه قال نعم
১৮৫৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, বিদায় হজ্জের বছর খাস‘আম গোত্রের একজন মহিলা এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর তরফ হতে বান্দার উপর যে হাজ্জ ফরজ হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমন সময় ফরজ হয়েছে যখন তিনি সওয়ারীর উপর ঠিকভাবে বসে থাকতে সক্ষম নন। আমি তার পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করলে তার হাজ্জ আদায় হবে কি? তিনি বললেনঃ হাঁ (নিশ্চয়ই আদায় হবে)। (১৫১৩, মুসলিম ১৫/৭১, হাঃ ১৩৩৫, আহমাদ ১৮২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩০ )
হাদিস নং: ১৮৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابن شهاب عن سليمان بن يسار عن عبد الله بن عباس قال كان الفضل رديف النبي صلى الله عليه وسلم فجاءت امراة من خثعم فجعل الفضل ينظر اليها وتنظر اليه فجعل النبي يصرف وجه الفضل الى الشق الاخر فقالت ان فريضة الله ادركت ابي شيخا كبيرا لا يثبت على الراحلة افاحج عنه قال نعم وذلك في حجة الوداع
১৮৫৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফযল (ইবনু ‘আব্বাস) (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় খাস‘আম কবিলার এক মহিলা আগমন করলেন। ফযল (রাঃ) মহিলার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং মহিলাও তার দিকে তাকাতে লাগলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযল (রাঃ)-এর মুখটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে লাগলেন। এ সময় মহিলাটি বললেন, বৃদ্ধ অবস্থায় আমার পিতার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে এমন সময় হাজ্জ ফরজ হয়েছে, যখন তিনি সওয়ারীর উপর বসে থাকতে পারছেন না। আমি কি তার পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ হাঁ। এ ছিল বিদায় হজ্জের সময়কার ঘটনা। (১৫১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩১ )
হাদিস নং: ১৮৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن عبيد الله بن ابي يزيد قال سمعت ابن عباس يقول بعثني او قدمني النبي صلى الله عليه وسلم في الثقل من جمع بليل
১৮৫৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মালপত্রের সাথে মুযদালিফা হতে রাত্রিকালে প্রেরণ করেছিলেন। (১৬৭৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩২ )
হাদিস নং: ১৮৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق اخبرنا يعقوب بن ابراهيم حدثنا ابن اخي ابن شهاب عن عمه اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود ان عبد الله بن عباس قال اقبلت وقد ناهزت الحلم اسير على اتان لي ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاىم يصلي بمنى حتى سرت بين يدي بعض الصف الاول ثم نزلت عنها فرتعت فصففت مع الناس وراء رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال يونس عن ابن شهاب بمنى في حجة الوداع
১৮৫৭. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার গাধীর পিঠে আরোহণ করে (মিনায়) আগমন করলাম। তখন আমি সাবালক হওয়ার নিকটবর্তী ছিলাম। ঐ সময়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি চলতে চলতে প্রথম কাতারের কিছু অংশ অতিক্রম করে চলে যাই। এরপর সওয়ারী হতে নিচে অবতরণ করি। গাধীটি চরে খেতে লাগল। আর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পেছনে লোকদের সাথে কাতারে শামিল হয়ে যাই। ইউনুস (রহ.) ইবনু শিহাব (রহ.) সূত্রে তাঁর বর্ণনায় ‘‘মিনা’’ শব্দের পর ‘‘বিদায় হাজ্জের সময়’’ কথাটি বর্ণনা করেছেন। (৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩৩ )
হাদিস নং: ১৮৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الرحمن بن يونس حدثنا حاتم بن اسماعيل عن محمد بن يوسف عن الساىب بن يزيد قال حج بي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابن سبع سنين
১৮৫৮. সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সাত বছর বয়সে আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হাজ্জ করানো হয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩৪ )
হাদিস নং: ১৮৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن زرارة اخبرنا القاسم بن مالك عن الجعيد بن عبد الرحمن قال سمعت عمر بن عبد العزيز يقول للساىب بن يزيد وكان قد حج به في ثقل النبي صلى الله عليه وسلم
১৮৫৯. ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি সায়িব ইবনু ইয়াযীদ সম্পর্কে বলতেন, সায়িবকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সফর সামগ্রীর কাছে বসিয়ে হাজ্জ করানো হয়েছে। (৬৭১২, ৭৩৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩৫ )
হাদিস নং: ১৮৬০
সহিহ (Sahih)
و قال لي احمد بن محمد هو الازرقي حدثنا ابراهيم عن ابيه عن جده اذن عمر رضي الله عنه لازواج النبي صلى الله عليه وسلم في اخر حجة حجها فبعث معهن عثمان بن عفان وعبد الرحمن بن عوف
১৮৬০. ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। যে বছর ‘উমার (রাঃ) শেষবারের মত হাজ্জ আদায় করেন সে বছর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকল স্ত্রীকে হাজ্জ আদায় করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাঁদের সাথে ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-কে প্রেরণ করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ৫৮ কিতাবুল ‘উমরাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ)