হাদিস নং: ২০২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل قال حدثني مالك عن يزيد بن عبد الله بن الهاد عن محمد بن ابراهيم بن الحارث التيمي عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي سعيد الخدري ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعتكف في العشر الاوسط من رمضان فاعتكف عاما حتى اذا كان ليلة احدى وعشرين وهي الليلة التي يخرج من صبيحتها من اعتكافه قال من كان اعتكف معي فليعتكف العشر الاواخر وقد اريت هذه الليلة ثم انسيتها وقد رايتني اسجد في ماء وطين من صبيحتها فالتمسوها في العشر الاواخر والتمسوها في كل وتر فمطرت السماء تلك الليلة وكان المسجد على عريش فوكف المسجد فبصرت عيناي رسول الله صلى الله عليه وسلم على جبهته اثر الماء والطين من صبح احدى وعشرين
২০২৭. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ই‘তিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ই‘তিকাফ হতে বের হবেন, তখন তিনি বললেনঃ যারা আমার সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশকে ই‘তিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল কদর [ক্বদর]) দেখানো হয়েছিল, পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুরের পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কপালে কাদা-পানির চিহ্ন আমার এ দু’চোখ দেখতে পায়। (৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯৭)
হাদিস নং: ২০২৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن هشام قال اخبرني ابي عن عاىشة قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يصغي الي راسه وهو مجاور في المسجد فارجله وانا حاىض
২০২৮. নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে ই‘তিকাফরত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন আর আমি ঋতুমতী অবস্থায় তাঁর চুল আঁচড়িয়ে দিতাম। (২৯৫, মুসলিম ৩/৩, হাঃ ২৯৭, আহমাদ ২৬৩২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯৮)
হাদিস নং: ২০২৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا ليث عن ابن شهاب عن عروة وعمرة بنت عبد الرحمن ان عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت وان كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليدخل علي راسه وهو في المسجد فارجله وكان لا يدخل البيت الا لحاجة اذا كان معتكفا
২০২৯. নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ই‘তিকাফে থাকতেন তখন (প্রাকৃতিক) প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না। (২০৩৩, ২০৩৪, ২০৪১, ২০৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯৯)
হাদিস নং: ২০৩০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن منصور عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يباشرني وانا حاىض
২০৩০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঋতুমতী অবস্থায় আমার সঙ্গে (প্রাকৃতিক) প্রয়োজনে মিশতেন। (২৯৫, ৩০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০০)
হাদিস নং: ২০৩১
সহিহ (Sahih)
. وكان يخرج راسه من المسجد وهو معتكف فاغسله وانا حاىض
২০৩১. এবং তিনি ই‘তিকাফরত অবস্থায় মাসজিদ হতে তাঁর মাথা বের করে দিতেন, আমি ঋতুমতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম। (২৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০০ শেষাংশ)
হাদিস নং: ২০৩২
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى بن سعيد عن عبيد الله اخبرني نافع عن ابن عمر ان عمر سال النبي صلى الله عليه وسلم قال كنت نذرت في الجاهلية ان اعتكف ليلة في المسجد الحرام قال فاوف بنذرك
২০৩২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেন যে, আমি জাহিলিয়্যা যুগে মাসজিদুল হারামে এক রাত ই‘তিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। তিনি (উত্তরে) বললেনঃ তোমার মানৎ পুরা কর। (২০৪৩, ৩১৪৪, ৪৩২০, ৬৬৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০১)
হাদিস নং: ২০৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد حدثنا يحيى عن عمرة عن عاىشة قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتكف في العشر الاواخر من رمضان فكنت اضرب له خباء فيصلي الصبح ثم يدخله فاستاذنت حفصة عاىشة ان تضرب خباء فاذنت لها فضربت خباء فلما راته زينب ابنة جحش ضربت خباء اخر فلما اصبح النبي راى الاخبية فقال ما هذا فاخبر فقال النبي صلى الله عليه وسلم االبر ترون بهن فترك الاعتكاف ذلك الشهر ثم اعتكف عشرا من شوال
২০৩৩. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের শেষ দশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ করতেন। আমি তাঁর তাঁবু তৈরি করে দিতাম। তিনি ফজরের সালাত আদায় করে তাতে প্রবেশ করতেন। (নবী-সহধর্মিণী) হাফসাহ্ (রাযি.) তাঁবু খাটাবার জন্য ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলে হাফসাহ্ (রাযি.) তাঁবু খাটালেন। (নবী-সহধর্মিনী) যায়নাব বিনতু জাহশ (রাযি.) তা দেখে আরেকটি তাঁবু তৈরি করলেন। সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুগুলো দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এগুলো কী? তাঁকে জানানো হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি মনে কর এগুলো দিয়ে নেকী হাসিল হবে? এ মাসে তিনি ই‘তিকাফ ত্যাগ করলেন এবং পরে শাওয়াল মাসে দশ দিন (কাযা স্বরূপ) ই‘তিকাফ করেন। (২০২৬, ২০২৯, মুসলিম ১৪/২, হাঃ ১১৭৩, আহমাদ ২৪৫৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০২)
হাদিস নং: ২০৩৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن يحيى بن سعيد عن عمرة بنت عبد الرحمن عن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم اراد ان يعتكف فلما انصرف الى المكان الذي اراد ان يعتكف اذا اخبية خباء عاىشة وخباء حفصة وخباء زينب فقال االبر تقولون بهن ثم انصرف فلم يعتكف حتى اعتكف عشرا من شوال
২০৩৪. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলেন। এরপর যে স্থানে ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করেছিলেন সেখানে এসে কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন। (তাঁবুগুলো হল নবী-সহধর্মিণী) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.), হাফসাহ্ (রাযি.) ও যায়নাব (রাযি.)-এর তাঁবু। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি এগুলো দিয়ে নেকী হাসিলের ধারণা কর? এরপর তিনি চলে গেলেন আর ই‘তিকাফ করলেন না। পরে শাওয়াল মাসে দশ দিনের ই‘তিকাফ করলেন। (২০২৬, ২০২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০৩)
হাদিস নং: ২০৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني علي بن الحسين ان صفية زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته انها جاءت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم تزوره في اعتكافه في المسجد في العشر الاواخر من رمضان فتحدثت عنده ساعة ثم قامت تنقلب فقام النبي صلى الله عليه وسلم معها يقلبها حتى اذا بلغت باب المسجد عند باب ام سلمة مر رجلان من الانصار فسلما على رسول الله فقال لهما النبي صلى الله عليه وسلم على رسلكما انما هي صفية بنت حيي فقالا سبحان الله يا رسول الله صلى الله عليه وسلم وكبر عليهما فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان الشيطان يبلغ من الانسان مبلغ الدم واني خشيت ان يقذف في قلوبكما شيىا
২০৩৫. নবী-সহধর্মিণী সফীয়্যাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি রমাযানের শেষ দশকে মসজিদে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে উপস্থিত হন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফরত ছিলেন। সাফিয়্যাহ তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। অতঃপর ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি (উম্মুল মু’মিনীন) উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর গৃহ সংলগ্ন মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন দু’জন আনসারী সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা উভয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলেন। তাঁদের দু’জনকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা দু’জন থাম। ইনি তো (আমার স্ত্রী সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়ায়্যী (রাযি.)। এতে তাঁরা দু’জনে ‘সুবহানাল্লাহ হে আল্লাহর রাসূল’ বলে উঠলেন এবং তাঁরা বিব্রত বোধ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শয়তান মানুষের রক্তের শিরায় চলাচল করে। আমি ভয় করলাম যে, সে তোমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে। (২০৩৮, ২০৩৯, ৩১০১, ৩২৮১, ৬২১৯, ৭১৭১, মুসলিম ৩৯/৯, হাঃ ২১৭৫, আহমাদ ২৬৯২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০৪)
হাদিস নং: ২০৩৬
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن منير سمع هارون بن اسماعيل حدثنا علي بن المبارك قال حدثني يحيى بن ابي كثير قال سمعت ابا سلمة بن عبد الرحمن قال سالت ابا سعيد الخدري قلت هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر ليلة القدر قال نعم اعتكفنا مع رسول الله العشر الاوسط من رمضان قال فخرجنا صبيحة عشرين قال فخطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صبيحة عشرين فقال اني اريت ليلة القدر واني نسيتها فالتمسوها في العشر الاواخر في وتر فاني رايت اني اسجد في ماء وطين ومن كان اعتكف مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فليرجع فرجع الناس الى المسجد وما نرى في السماء قزعة قال فجاءت سحابة فمطرت واقيمت الصلاة فسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم في الطين والماء حتى رايت اثر الطين في ارنبته وجبهته
২০৩৬. আবূ সালামা ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে লাইলাতুল কাদর প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, আমরা রমাযানের মধ্যম দশকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছিলাম। রাবী বলেন, এরপর আমরা বিশ তারিখের সকালে বের হতে চাইলাম। তিনি বিশ তারিখের সকালে আমাদেরকে সম্বোধন করে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন আমাকে (স্বপ্নযোগে) লাইলাতুল কদর [ক্বদর] (-এর নির্দিষ্ট তারিখ) দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় তারিখে তা খোঁজ কর। আমি দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে সে যেন ফিরে আসে (বের হওয়া হতে বিরত থাকে)। লোকেরা মসজিদে ফিরে এল। আমরা তখন আকাশে এক খন্ড মেঘও দেখতে পাইনি। একটু পরে এক খন্ড মেঘ দেখা দিল ও বর্ষণ হল এবং সালাত শুরু হল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদা-পানির মাঝে সিজদা করলেন। এমনকি আমি তাঁর কপালে ও নাকে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। (৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০৫)
হাদিস নং: ২০৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا يزيد بن زريع عن خالد عن عكرمة عن عاىشة قالت اعتكفت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم امراة من ازواجه مستحاضة فكانت ترى الحمرة والصفرة فربما وضعنا الطست تحتها وهي تصلي
২০৩৭. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে তাঁর এক মুস্তাহাযা সহধর্মিণী ই‘তিকাফ করেন। তিনি লাল ও হলুদ রংয়ের স্রাব নির্গত হতে দেখতে পেতেন। অনেক সময় আমরা তাঁর নীচে একটি গামলা রেখে দিতাম আর তিনি তার উপর সালাত আদায় করতেন। (২০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০৬)
হাদিস নং: ২০৩৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير قال حدثني الليث قال حدثني عبد الرحمن بن خالد عن ابن شهاب عن علي بن الحسين ان صفية زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ح حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا هشام بن يوسف اخبرنا معمر عن الزهري عن علي بن الحسين كان النبي في المسجد وعنده ازواجه فرحن فقال لصفية بنت حيي لا تعجلي حتى انصرف معك وكان بيتها في دار اسامة فخرج النبي صلى الله عليه وسلم معها فلقيه رجلان من الانصار فنظرا الى النبي صلى الله عليه وسلم ثم اجازا وقال لهما النبي صلى الله عليه وسلم تعاليا انها صفية بنت حيي قالا سبحان الله يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الشيطان يجري من الانسان مجرى الدم واني خشيت ان يلقي في انفسكما شيىا
২০৩৮. ‘আলী ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী সাফিয়্যাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী (ই‘তিকাফ অবস্থায়) মসজিদে অবস্থান করছিলেন, ঐ সময় তাঁর নিকট তাঁর সহধর্মিণীগণ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন। তিনি (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়ায়্যীকে বললেনঃ তুমি তাড়াতাড়ি করো না। আমি তোমার সাথে যাব। তাঁর [সাফিয়্যাহ (রাযি.)]-এর ঘর ছিল উসামার বাড়িতে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সঙ্গে করে বের হলেন। এমতাবস্থায় দু’জন আনসার ব্যক্তির সাক্ষাৎ ঘটলে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেয়ে (দ্রুত) আগে বেড়ে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনকে বললেনঃ তোমরা এদিকে আস। এতো সাফিয়্যাহ বিন্তু হুয়ায়্যী। তাঁরা দু’জন বলে উঠলেন, সুবহানাল্লাহ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ শয়তান মানুষের শরীরে রক্তের মত চলাচল করে। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে তোমাদের মনে কিছু সন্দেহ ঢুকিয়ে দিবে। (২০৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০৭)
হাদিস নং: ২০৩৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله قال اخبرني اخي عن سليمان عن محمد بن ابي عتيق عن ابن شهاب عن علي بن الحسين ان صفية بنت حيي اخبرته ح و حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال سمعت الزهري يخبر عن علي بن الحسين ان صفية اتت النبي صلى الله عليه وسلم وهو معتكف فلما رجعت مشى معها فابصره رجل من الانصار فلما ابصره دعاه فقال تعال هي صفية وربما قال سفيان هذه صفية فان الشيطان يجري من ابن ادم مجرى الدم قلت لسفيان اتته ليلا قال وهل هو الا ليل
২০৩৯. সাফিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ই‘তিকাফ অবস্থায় একদা তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। তিনি যখন ফিরে যান তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কিছু দূর হেঁটে আসেন। ঐ সময়ে এক আনসার ব্যক্তি তাঁকে দেখতে পায়। তিনি যখন তাকে দেখতে পেলেন তখন তাকে ডাক দিলেন ও বললেনঃ এসো, এ তো সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়ায়্যী। শয়তান মানব দেহে রক্তের মত চলাচল করে থাকে। রাবী বলেন, আমি সুফইয়ান (রাঃ)-কে বললাম, তিনি রাতে এসেছিলেন? তিনি বললেন, রাতে ছাড়া আর কি? (২০৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০৮)
হাদিস নং: ২০৪০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الرحمن بن بشر حدثنا سفيان عن ابن جريج عن سليمان الاحول خال ابن ابي نجيح عن ابي سلمة عن ابي سعيد ح قال سفيان وحدثنا محمد بن عمرو عن ابي سلمة عن ابي سعيد ح قال واظن ان ابن ابي لبيد حدثنا عن ابي سلمة عن ابي سعيد قال اعتكفنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم العشر الاوسط فلما كان صبيحة عشرين نقلنا متاعنا فاتانا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من كان اعتكف فليرجع الى معتكفه فاني رايت هذه الليلة ورايتني اسجد في ماء وطين فلما رجع الى معتكفه وهاجت السماء فمطرنا فوالذي بعثه بالحق لقد هاجت السماء من اخر ذلك اليوم وكان المسجد عريشا فلقد رايت على انفه وارنبته اثر الماء والطين
২০৪০. আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রমাযানের মাঝের দশকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছিলাম। বিশ তারিখের সকালে (ই‘তিকাফ শেষ করে চলে আসার উদ্দেশে) আমরা আমাদের আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে এসে বললেনঃ যে ব্যক্তি ই‘তিকাফ করেছে সে যেন তার ই‘তিকাফ স্থলে ফিরে যায়। কারণ আমি এই রাতে (লাইলাতুল কদর [ক্বদর]) দেখতে পেয়েছি এবং আমি আরো দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। এরপর যখন তিনি তাঁর ই‘তিকাফের স্থানে ফিরে গেলেন ও আকাশে মেঘ দেখা দিল, তখন আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল। সেই সত্তার কসম! যিনি তাঁকে যথাযথই প্রেরণ করেছেন, ঐ দিনের শেষভাগে আকাশে মেঘ দেখা দিল। মাসজিদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। আমি তাঁর নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখেছিলাম। (৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০৯)
হাদিস নং: ২০৪১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد هو ابن سلام اخبرنا محمد بن فضيل بن غزوان عن يحيى بن سعيد عن عمرة بنت عبد الرحمن عن عاىشة قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعتكف في كل رمضان واذا صلى الغداة دخل مكانه الذي اعتكف فيه قال فاستاذنته عاىشة ان تعتكف فاذن لها فضربت فيه قبة فسمعت بها حفصة فضربت قبة وسمعت زينب بها فضربت قبة اخرى فلما انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم من الغداة ابصر اربع قباب فقال ما هذا فاخبر خبرهن فقال ما حملهن على هذا البر انزعوها فلا اراها فنزعت فلم يعتكف في رمضان حتى اعتكف في اخر العشر من شوال
২০৪১. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমাযানে ই‘তিকাফ করতেন। ফজরের সালাত শেষে ই‘তিকাফের নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) তাঁর কাছে ই‘তিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) মসজিদে (নিজের জন্য) একটি তাঁবু করে নিলেন। হাফসাহ (রাযি.) তা শুনে (নিজের জন্য) একটি তাঁবু তৈরি করে নিলেন এবং যায়নাব (রাযি.)-ও তা শুনে (নিজের জন্য) আর একটি তাঁবু তৈরি করে নিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত শেষে এসে চারটি তাঁবু দেখতে পেয়ে বললেনঃ একী? তাঁকে তাঁদের ব্যাপার জানানো হলে, তিনি বললেনঃ নেক আমলের প্রেরণা তাদেরকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেনি। সব খুলে ফেলা হল। তিনি সেই রমাযানে আর ই‘তিকাফ করলেন না। পরে শাওয়াল মাসের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করেন। (২০২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯১০)
হাদিস নং: ২০৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله عن اخيه عن سليمان بن بلال عن عبيد الله بن عمر عن نافع عن عبد الله بن عمر عن عمر بن الخطاب انه قال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اني نذرت في الجاهلية ان اعتكف ليلة في المسجد الحرام فقال له النبي اوف نذرك فاعتكف ليلة
২০৪২. ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলিয়্যাতের যুগে মসজিদে হারামে এক রাত ই‘তিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তোমার মানৎ পুরা কর। তিনি এক রাতের ই‘তিকাফ করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯১১)
হাদিস নং: ২০৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر ان عمر نذر في الجاهلية ان يعتكف في المسجد الحرام قال اراه قال ليلة قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم اوف بنذرك
২০৪৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) জাহিলিয়্যাতের যুগে মসজিদে হারামে ই‘তিকাফ করার মানত করেছিলেন। (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার মনে হয় তিনি এক রাতের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তোমার মানৎ পুরা কর। (২০৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯১২)
হাদিস নং: ২০৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن ابي شيبة حدثنا ابو بكر عن ابي حصين عن ابي صالح عن ابي هريرة قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتكف في كل رمضان عشرة ايام فلما كان العام الذي قبض فيه اعتكف عشرين يوما
২০৪৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমাযানে দশ দিনের ই‘তিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর তিনি বিশ দিনের ইতিকাফ করেছিলেন। (৪৯৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯১৩)
হাদিস নং: ২০৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن مقاتل ابو الحسن اخبرنا عبد الله اخبرنا الاوزاعي قال حدثني يحيى بن سعيد قال حدثتني عمرة بنت عبد الرحمن عن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر ان يعتكف العشر الاواخر من رمضان فاستاذنته عاىشة فاذن لها وسالت حفصة عاىشة ان تستاذن لها ففعلت فلما رات ذلك زينب ابنة جحش امرت ببناء فبني لها قالت وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا صلى انصرف الى بناىه فبصر بالابنية فقال ما هذا قالوا بناء عاىشة وحفصة وزينب فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم االبر اردن بهذا ما انا بمعتكف فرجع فلما افطر اعتكف عشرا من شوال
২০৪৫. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করার ইচ্ছ প্রকাশ করলে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) তাঁর কাছে ই‘তিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। এরপর হাফসাহ্ (রাযি.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তা দেখে যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) নিজের জন্য তাঁবু লাগানোর নির্দেশ দিলে তা পালন করা হল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করে নিজের তাঁবুতে ফিরে এসে কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেনঃ এ কী ব্যাপার? লোকেরা বলল, ‘আয়িশাহ্, হাফসাহ্ ও যায়নাব (রাযি.)-এর তাঁবু। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কি নেকী পেতে চায়? আমি আর ই‘তিকাফ করবো না। এরপর তিনি ফিরে আসলেন। পরে সওম শেষ করে শাওয়াল মাসের দশ দিন ই‘তিকাফ করেন। (২০২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯১৪)
হাদিস নং: ২০৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا هشام بن يوسف اخبرنا معمر عن الزهري عن عروة عن عاىشة انها كانت ترجل النبي صلى الله عليه وسلم وهي حاىض وهو معتكف في المسجد وهي في حجرتها يناولها راسه
২০৪৬. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ঋতুমতী অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চুল আঁচড়িয়ে দিতেন। ঐ সময়ে তিনি মসজিদে ই‘তিকাফ অবস্থায় থাকতেন আর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) তাঁর হুজরায় অবস্থান করতেন। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর দিকে তাঁর মাথা বাড়িয়ে দিতেন। (২৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯১৫)