হাদিস নং: ২৪৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن الحكم الانصاري حدثنا ابو عوانة عن سعيد بن مسروق عن عباية بن رفاعة بن رافع بن خديج عن جده قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بذي الحليفة فاصاب الناس جوع فاصابوا ابلا وغنما قال وكان النبي صلى الله عليه وسلم في اخريات القوم فعجلوا وذبحوا ونصبوا القدور فامر النبي صلى الله عليه وسلم بالقدور فاكفىت ثم قسم فعدل عشرة من الغنم ببعير فند منها بعير فطلبوه فاعياهم وكان في القوم خيل يسيرة فاهوى رجل منهم بسهم فحبسه الله ثم قال ان لهذه البهاىم اوابد كاوابد الوحش فما غلبكم منها فاصنعوا به هكذا فقال جدي انا نرجو او نخاف العدو غدا وليست معنا مدى افنذبح بالقصب قال ما انهر الدم وذكر اسم الله عليه فكلوه ليس السن والظفر وساحدثكم عن ذلك اما السن فعظم واما الظفر فمدى الحبشة
২৪৮৮. রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুল-হুলায়ফাতে ছিলাম। সাহাবীগণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন, তারা কিছু উট ও বকরী পেলেন। রাফি‘ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দলের পিছনে ছিলেন। তারা তাড়াহুড়া করে গনীমতের মাল বণ্টনের পূর্বে সেগুলোকে যবেহ করে পাত্রে চড়িয়ে দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে পাত্র উলটিয়ে ফেলা হল। তারপর তিনি (গনীমতের মাল) বণ্টন শুরু করলেন। তিনি একটি উটের সমান দশটি বকরী নির্ধারণ করেন। হঠাৎ একটি উট পালিয়ে গেল। সাহাবীগণ উটকে ধরার জন্য ছুটলেন, কিন্তু উটটি তাঁদেরকে ক্লান্ত করে ছাড়ল। সে সময় তাঁদের নিকট অল্প সংখ্যক ঘোড়া ছিল। অবশেষে তাঁদের মধ্যে একজন সেটির প্রতি তীর ছুড়লেন। তখন আল্লাহ উটটাকে থামিয়ে দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই পলায়নপর বন্য জন্তুদের মতো এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে কতক পলায়নপর হয়ে থাকে। কাজেই যদি এসব জন্তুর কোনটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠে তবে তার সাথে এরূপ করবে। (রাবী বলেন), তখন আমার দাদা [রাফি‘ (রাঃ)] বললেন, আমরা আশঙ্কা করছি যে, কাল শত্রুর সাথে মুকাবিলা হবে। আর আমাদের নিকট কোন ছুরি নেই। তাই আমরা ধারালো বাঁশ দিয়ে যবেহ করতে পারব কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে বস্তু রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়, সেটা তোমরা আহার করতে পার। কিন্তু দাঁত বা নখ দিয়ে যেন যবেহ না করা হয়। আমি তোমাদেরকে এর কারণ বলে দিচ্ছি। দাঁত তো হাড় আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি। (২৫০৭, ৩০৭৫, ৫৪৯৮, ৫৫০৩, ৫৫০৬, ৫৫০৯, ৫৫৪৩, ৫৫৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩২৬)
হাদিস নং: ২৪৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا خلاد بن يحيى حدثنا سفيان حدثنا جبلة بن سحيم قال سمعت ابن عمر يقول نهى النبي صلى الله عليه وسلم ان يقرن الرجل بين التمرتين جميعا حتى يستاذن اصحابه
২৪৮৯. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এক সাথে খেতে বসে) সঙ্গীদের অনুমতি ব্যতীত কাউকে এক সঙ্গে দু’টো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন। (২৪৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩২৭)
হাদিস নং: ২৪৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا شعبة عن جبلة قال كنا بالمدينة فاصابتنا سنة فكان ابن الزبير يرزقنا التمر وكان ابن عمر يمر بنا فيقول لا تقرنوا فان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الاقران الا ان يستاذن الرجل منكم اخاه
২৪৯০. জাবালাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মদ্বীনায় ছিলাম। একবার আমরা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ি। তখন ইবনু যুবাইর (রাঃ) আমাদেরকে (প্রত্যহ) খেজুর খেতে দিতেন। একদিন ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। (আমাদের খেজুর খেতে দেখে) তিনি বললেন, তোমরা এক সাথে দু’টো করে খেজুর খেও না। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ব্যতীত দু’টো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন। (২৪৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩২৮)
হাদিস নং: ২৪৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمران بن ميسرة حدثنا عبد الوارث حدثنا ايوب عن نافع عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من اعتق شقصا له من عبد او شركا او قال نصيبا وكان له ما يبلغ ثمنه بقيمة العدل فهو عتيق والا فقد عتق منه ما عتق قال لا ادري قوله عتق منه ما عتق قول من نافع او في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم
২৪৯১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (শরীকী) গোলাম হতে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে এবং তার কাছে গোলামের ন্যায্য মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকলে সে গোলাম (সম্পূর্ণ) আযাদ হয়ে যাবে (তবে আযাদকারী ন্যায্য মূল্যে শরীকদের ক্ষতিপূরণ দিবে) আর সে পরিমাণ অর্থ না থাকলে যতটুকু সে মুক্ত করবে ততটুকুই মুক্ত হবে। (২৫০৩, ২৫২১-২৫২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩২৯)
হাদিস নং: ২৪৯২
সহিহ (Sahih)
. حدثنا بشر بن محمد اخبرنا عبد الله اخبرنا سعيد بن ابي عروبة عن قتادة عن النضر بن انس عن بشير بن نهيك عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من اعتق شقيصا من مملوكه فعليه خلاصه في ماله فان لم يكن له مال قوم المملوك قيمة عدل ثم استسعي غير مشقوق عليه
২৪৯২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ তার (শরীক) গোলাম হতে অংশ আযাদ করে দিলে তার দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজস্ব অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তারপর (অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য) তাকে উপার্জনে যেতে হবে, তবে তার উপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না। (২৫০৪, ২৫২৬, ২৫২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩০)
হাদিস নং: ২৪৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا زكرياء قال سمعت عامرا يقول سمعت النعمان بن بشير عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مثل القاىم على حدود الله والواقع فيها كمثل قوم استهموا على سفينة فاصاب بعضهم اعلاها وبعضهم اسفلها فكان الذين في اسفلها اذا استقوا من الماء مروا على من فوقهم فقالوا لو انا خرقنا في نصيبنا خرقا ولم نوذ من فوقنا فان يتركوهم وما ارادوا هلكوا جميعا وان اخذوا على ايديهم نجوا ونجوا جميعا
২৪৯৩. নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং যে সীমা লঙ্ঘন করে, তাদের দৃষ্টান্ত সেই যাত্রীদলের মতো, যারা কুরআ’র মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। তাদের কেউ স্থান পেল উপর তলায় আর কেউ নীচ তলায় (পানির ব্যবস্থা ছিল উপর তলায়) কাজেই নীচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহ কালে উপর তলার লোকদের ডিঙ্গিয়ে যেত। তখন নীচ তলার লোকেরা বলল, উপর তলার লোকেদের কষ্ট না দিয়ে আমরা যদি নিজেদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই (তবে ভালো হয়) এমতাবস্থায় তারা যদি এদেরকে আপন মর্জির উপর ছেড়ে দেয় তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা এদের হাত ধরে রাখে (বিরত রাখে) তবে তারা এবং সকলেই রক্ষা পাবে। (২৬৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩১)
হাদিস নং: ২৪৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله العامري الاويسي حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب اخبرني عروة انه سال عاىشة وقال الليث حدثني يونس عن ابن شهاب قال اخبرني عروة بن الزبير انه سال عاىشة عن قول الله تعالى (وان خفتم ان لا تقسطوا الى ورباع) فقالت يا ابن اختي هي اليتيمة تكون في حجر وليها تشاركه في ماله فيعجبه مالها وجمالها فيريد وليها ان يتزوجها بغير ان يقسط في صداقها فيعطيها مثل ما يعطيها غيره فنهوا ان ينكحوهن الا ان يقسطوا لهن ويبلغوا بهن اعلى سنتهن من الصداق وامروا ان ينكحوا ما طاب لهم من النساء سواهن قال عروة قالت عاىشة ثم ان الناس استفتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد هذه الاية فانزل الله (ويستفتونك في النساء الى قوله وترغبون ان تنكحوهن) والذي ذكر الله انه يتلى عليكم في الكتاب الاية الاولى التي قال فيها (وان خفتم ان لا تقسطوا في اليتامى فانكحوا ما طاب لكم من النساء) قالت عاىشة وقول الله في الاية الاخرى ( وترغبون ان تنكحوهن ) يعني هي رغبة احدكم ليتيمته التي تكون في حجره حين تكون قليلة المال والجمال فنهوا ان ينكحوا ما رغبوا في مالها وجمالها من يتامى النساء الا بالقسط من اجل رغبتهم عنهن
২৪৯৪. ’উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার ’আয়িশাহ (রাযি.)-কে আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ’’আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তাহলে অন্য মহিলাদের মধ্য হতে তোমাদের পছন্দ মতো দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজনকে বিয়ে করতে পার’’- (আন-নিসাঃ ৩)। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে ’আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, আমার ভাগিনা! এ হচ্ছে সেই ইয়াতীম মেয়ের কথা, যে অভিভাবকের আশ্রয়ে থাকে এবং তার সম্পদে অংশীদার হয়। এদিকে মেয়ের ধন-রূপে মুগ্ধ হয়ে তার অভিভাবক মোহরানার ব্যাপারে সুবিচার না করে অর্থাৎ, অন্য কেউ যে পরিমাণ মোহরানা দিতে রাজী হত, তা না দিয়েই তাকে বিয়ে করতে চাইত। তাই প্রাপ্য মোহরানা আদায়ের মাধ্যমে সুবিচার না করা পর্যন্ত তাদেরকে আশ্রিতা ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পছন্দমত অন্য মহিলাদেরকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে। ’উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, ’আয়িশাহ (রাযি.) বলেছেন, পরে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট (মহিলাদের সম্পর্কে) ফাতওয়া জিজ্ঞেস করলেন তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করেন- ’’তারা আপনার নিকট মহিলাদের সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করে, আপনি বলুন, আল্লাহই তাদের সম্পর্কে তোমাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে কিতাব হতে তোমাদেরকে পাঠ করে শোনানো হয়, তাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ রয়েছে, তা তোমরা তাদের দাও না অথচ তাদের তোমরা বিয়ে করতে চাও’’- (আন-নিসা : ১২৭)। يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ বলে আল্লাহ তা’আলা পূর্বোক্ত আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; যেখানে বলা হয়েছে-
(وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ)
’’আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে অন্য নারীদের মধ্যে হতে তোমাদের পছন্দ মতো দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজন বিয়ে করতে পারবে’’। ’আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আর অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলার ইরশাদ এর মর্ম হল, ’’ধন ও রূপের স্বল্পতা হেতু তোমাদের আশ্রিতা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তোমাদের অনাগ্রহ’’। তাই ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি অনাগ্রহ সত্ত্বেও শুধু ধন-রূপের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য ন্যায়সঙ্গত মোহরানা আদায় করে বিয়ে করতে পারে। (২৭৬৩, ৪৫৭৩, ৪৫৭৪, ৪৬০০, ৫০৬৪, ৫০৯২, ৫০৯৮, ৫১২৮, ৫১৩১, ৫১৪০, ৬৯২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩২)
(وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ)
’’আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে অন্য নারীদের মধ্যে হতে তোমাদের পছন্দ মতো দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজন বিয়ে করতে পারবে’’। ’আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আর অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলার ইরশাদ এর মর্ম হল, ’’ধন ও রূপের স্বল্পতা হেতু তোমাদের আশ্রিতা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তোমাদের অনাগ্রহ’’। তাই ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি অনাগ্রহ সত্ত্বেও শুধু ধন-রূপের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য ন্যায়সঙ্গত মোহরানা আদায় করে বিয়ে করতে পারে। (২৭৬৩, ৪৫৭৩, ৪৫৭৪, ৪৬০০, ৫০৬৪, ৫০৯২, ৫০৯৮, ৫১২৮, ৫১৩১, ৫১৪০, ৬৯২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩২)
হাদিস নং: ২৪৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري عن ابي سلمة عن جابر بن عبد الله قال انما جعل النبي صلى الله عليه وسلم الشفعة في كل ما لم يقسم فاذا وقعت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة
২৪৯৫. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে সব (স্থাবর) সম্পত্তি এখনো ভাগ করা হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুফ‘আহ এর (তথা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার) বিধান দিয়েছেন। এরপর সীমানা ঠিক করা হলে এবং পথ আলাদা করে নেয়া হলে শুফ‘আহর অধিকার থাকে না। (২২১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৩)
হাদিস নং: ২৪৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا عبد الواحد حدثنا معمر عن الزهري عن ابي سلمة عن جابر بن عبد الله قال قضى النبي صلى الله عليه وسلم بالشفعة في كل ما لم يقسم فاذا وقعت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة
২৪৯৬. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ধরনের অবণ্টিত স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে শুফ‘আহর ফায়সালা দিয়েছেন। এরপর সীমানা নির্ধারণ করে পথ আলাদা করে নেয়া হলে শুফ‘আর অধিকার থাকে না। (২২১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৪)
হাদিস নং: ২৪৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن علي حدثنا ابو عاصم عن عثمان يعني ابن الاسود قال اخبرني سليمان بن ابي مسلم قال سالت ابا المنهال عن الصرف يدا بيد فقال اشتريت انا وشريك لي شيىا يدا بيد ونسيىة فجاءنا البراء بن عازب فسالناه فقال فعلت انا وشريكي زيد بن ارقم وسالنا النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال ما كان يدا بيد فخذوه وما كان نسيىة فذروه
২৪৯৭-২৪৯৮. আবূ মুসলিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবুল মিনহাল (রহ.)-কে মুদ্রার নগদ বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি এবং আমার এক অংশীদার একবার কিছু মুদ্রা নগদে ও বাকীতে বিনিময় করেছিলাম। এরপর বারা‘ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) আমাদের কাছে এলে আমরা তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি এবং আমার অংশীদার যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) এরূপ করেছিলাম। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, নগদে যা বিনিময় করেছ, তা বহাল রাখ, আর বাকীতে যা বিনিময় করেছ, তা ফিরিয়ে নাও। (২০৬০, ২০৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৫)
হাদিস নং: ২৪৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن علي حدثنا ابو عاصم عن عثمان يعني ابن الاسود قال اخبرني سليمان بن ابي مسلم قال سالت ابا المنهال عن الصرف يدا بيد فقال اشتريت انا وشريك لي شيىا يدا بيد ونسيىة فجاءنا البراء بن عازب فسالناه فقال فعلت انا وشريكي زيد بن ارقم وسالنا النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال ما كان يدا بيد فخذوه وما كان نسيىة فذروه
২৪৯৭-২৪৯৮. আবূ মুসলিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবুল মিনহাল (রহ.)-কে মুদ্রার নগদ বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি এবং আমার এক অংশীদার একবার কিছু মুদ্রা নগদে ও বাকীতে বিনিময় করেছিলাম। এরপর বারা‘ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) আমাদের কাছে এলে আমরা তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি এবং আমার অংশীদার যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) এরূপ করেছিলাম। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, নগদে যা বিনিময় করেছ, তা বহাল রাখ, আর বাকীতে যা বিনিময় করেছ, তা ফিরিয়ে নাও। (২০৬০, ২০৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৫)
হাদিস নং: ২৪৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا جويرية بن اسماء عن نافع عن عبد الله قال اعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم خيبر اليهود ان يعملوها ويزرعوها ولهم شطر ما يخرج منها
২৪৯৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের জমি এ শর্তে ইয়াহূদীদের দিয়েছিলেন যে, তারা নিজেদের শ্রমে তাতে চাষাবাদ করবে, তার বিনিময়ে উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক তাদের হবে। (২২৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৬)
হাদিস নং: ২৫০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا الليث عن يزيد بن ابي حبيب عن ابي الخير عن عقبة بن عامر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعطاه غنما يقسمها على صحابته ضحايا فبقي عتود فذكره لرسول الله فقال ضح به انت
২৫০০. ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর কিছু বকরী সাহাবীদের মাঝে ভাগ করার জন্য তাকে (দায়িত্ব) দিয়েছিলেন। ভাগ করা শেষে এক বছর বয়সী একটা ছাগল রয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সে কথা জানালে তিনি ইরশাদ করলেন, ওটা তুমিই কুরবানী কর। (২৩০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৭)
হাদিস নং: ২৫০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا اصبغ بن الفرج قال اخبرني عبد الله بن وهب قال اخبرني سعيد عن زهرة بن معبد عن جده عبد الله بن هشام وكان قد ادرك النبي صلى الله عليه وسلم وذهبت به امه زينب بنت حميد الى رسول الله فقالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم بايعه فقال هو صغير فمسح راسه ودعا له وعن زهرة بن معبد انه كان يخرج به جده عبد الله بن هشام الى السوق فيشتري الطعام فيلقاه ابن عمر وابن الزبير فيقولان له اشركنا فان النبي صلى الله عليه وسلم قد دعا لك بالبركة فيشركهم فربما اصاب الراحلة كما هي فيبعث بها الى المنزل
وَيُذْكَرُ أَنَّ رَجُلاً سَاوَمَ شَيْئًا فَغَمَزَهُ آخَرُ فَرَأَى عُمَرُ أَنَّ لَهُ شَرِكَةً
বর্ণিত আছে যে, জনৈক ব্যক্তি কোন জিনিসের দাম করছিল এমন সময় এক ব্যক্তি তাকে চোখের ইশারায় (অংশীদারিত্বের প্রস্তাব) করল। এ ঘটনায় ‘উমার (রাঃ) দ্বিতীয় ব্যক্তির অনুকূলে অংশীদারিত্বের রায় দিলেন।
২৫০১-২৫০২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তার মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ (রাযি.) একবার তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একে বায়‘আত করে নিন। তিনি বললেন, সে তো ছোট। তখন তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার জন্য দু‘আ করলেন। (একই সনদে) যুহরা ইবনু মা‘বাদ (রহ.) হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তার দাদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) তাকে নিয়ে বাজারে যেতেন, খাদ্য সামগ্রী খরিদ করতেন। পথে ইবনু ‘উমার (রাঃ) ও ইবনু যুবাইরের সাথে দেখা হলে তারা তাকে বলতেন (আপনার সাথে ব্যবসায়ে) আমাদেরও শরীক করে নিন। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য বরকতের দু‘আ করেছেন। এ কথায় তিনি তাদের শরীক করে নিতেন। অনেক সময় (লভ্যাংশ হিসাবে) এক উট বোঝাই মাল তিনি ভাগে পেতেন আর তা বাড়ীতে পাঠিয়ে দিতেন। (২৩৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৮)
বর্ণিত আছে যে, জনৈক ব্যক্তি কোন জিনিসের দাম করছিল এমন সময় এক ব্যক্তি তাকে চোখের ইশারায় (অংশীদারিত্বের প্রস্তাব) করল। এ ঘটনায় ‘উমার (রাঃ) দ্বিতীয় ব্যক্তির অনুকূলে অংশীদারিত্বের রায় দিলেন।
২৫০১-২৫০২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তার মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ (রাযি.) একবার তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একে বায়‘আত করে নিন। তিনি বললেন, সে তো ছোট। তখন তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার জন্য দু‘আ করলেন। (একই সনদে) যুহরা ইবনু মা‘বাদ (রহ.) হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তার দাদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) তাকে নিয়ে বাজারে যেতেন, খাদ্য সামগ্রী খরিদ করতেন। পথে ইবনু ‘উমার (রাঃ) ও ইবনু যুবাইরের সাথে দেখা হলে তারা তাকে বলতেন (আপনার সাথে ব্যবসায়ে) আমাদেরও শরীক করে নিন। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য বরকতের দু‘আ করেছেন। এ কথায় তিনি তাদের শরীক করে নিতেন। অনেক সময় (লভ্যাংশ হিসাবে) এক উট বোঝাই মাল তিনি ভাগে পেতেন আর তা বাড়ীতে পাঠিয়ে দিতেন। (২৩৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৮)
হাদিস নং: ২৫০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا اصبغ بن الفرج قال اخبرني عبد الله بن وهب قال اخبرني سعيد عن زهرة بن معبد عن جده عبد الله بن هشام وكان قد ادرك النبي وذهبت به امه زينب بنت حميد الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم بايعه فقال هو صغير فمسح راسه ودعا له وعن زهرة بن معبد انه كان يخرج به جده عبد الله بن هشام الى السوق فيشتري الطعام فيلقاه ابن عمر وابن الزبير فيقولان له اشركنا فان النبي صلى الله عليه وسلم قد دعا لك بالبركة فيشركهم فربما اصاب الراحلة كما هي فيبعث بها الى المنزل
২৫০১-২৫০২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তার মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ (রাযি.) একবার তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একে বায়‘আত করে নিন। তিনি বললেন, সে তো ছোট। তখন তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার জন্য দু‘আ করলেন। (একই সনদে) যুহরা ইবনু মা‘বাদ (রহ.) হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তার দাদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) তাকে নিয়ে বাজারে যেতেন, খাদ্য সামগ্রী খরিদ করতেন। পথে ইবনু ‘উমার (রাঃ) ও ইবনু যুবাইরের সাথে দেখা হলে তারা তাকে বলতেন (আপনার সাথে ব্যবসায়ে) আমাদেরও শরীক করে নিন। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য বরকতের দু‘আ করেছেন। এ কথায় তিনি তাদের শরীক করে নিতেন। অনেক সময় (লভ্যাংশ হিসাবে) এক উট বোঝাই মাল তিনি ভাগে পেতেন আর তা বাড়ীতে পাঠিয়ে দিতেন। (২৩৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৮)
হাদিস নং: ২৫০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا جويرية بن اسماء عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من اعتق شركا له في مملوك وجب عليه ان يعتق كله ان كان له مال قدر ثمنه يقام قيمة عدل ويعطى شركاوه حصتهم ويخلى سبيل المعتق
২৫০৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (শরীকী) গোলাম হতে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে সেই গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। যদি তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিশোধ পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে অংশীদারদের তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করা হবে এবং এবং আযাদ কৃত গোলামের পথ ছেড়ে দেয়া হবে। (২৪৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩৯)
হাদিস নং: ২৫০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا جرير بن حازم عن قتادة عن النضر بن انس عن بشير بن نهيك عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من اعتق شقصا له في عبد اعتق كله ان كان له مال والا يستسع غير مشقوق عليه
২৫০৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ (শরীকী) গোলাম হতে একটা অংশ আযাদ করে দিলে সম্পূর্ণ গোলামটাই আযাদ হয়ে যাবে। যদি তার কাছে (প্রয়োজনীয়) অর্থ থাকে (তাহলে সেখান হতে অন্য অংশীদারদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে) অন্যথায় অতিরিক্ত কষ্ট না চাপিয়ে তাকে উপার্জন করতে বলা হবে। (২৪৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৪০)
হাদিস নং: ২৫০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد اخبرنا عبد الملك بن جريج عن عطاء عن جابر وعن طاوس عن ابن عباس قالا قدم النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه صبح رابعة من ذي الحجة مهلين بالحج لا يخلطهم شيء فلما قدمنا امرنا فجعلناها عمرة وان نحل الى نساىنا ففشت في ذلك القالة قال عطاء فقال جابر فيروح احدنا الى منى وذكره يقطر منيا فقال جابر بكفه فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقام خطيبا فقال بلغني ان اقواما يقولون كذا وكذا والله لا×نا ابر واتقى لله منهم ولو اني استقبلت من امري ما استدبرت ما اهديت ولولا ان معي الهدي لاحللت فقام سراقة بن مالك بن جعشم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هي لنا او للابد فقال لا بل للابد قال وجاء علي بن ابي طالب فقال احدهما يقول لبيك بما اهل به رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال وقال الاخر لبيك بحجة رسول الله فامر النبي صلى الله عليه وسلم ان يقيم على احرامه واشركه في الهدي
وَإِذَا أَشْرَكَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي هَدْيِهِ بَعْدَ مَا أَهْدَى
কুরবানীর জানোয়ার (জবাই করার স্থানে) রওনা করার পর কেউ কোন ব্যক্তিকে তার কুরবানীর জানোয়ারের শরীক করলে তার বিধান।
২৫০৫-২৫০৬. জাবির ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ ৪ঠা যিলহাজ্জ ভোরে শুধু হাজ্জের ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসে পৌঁছলেন। কিন্তু আমরা মক্কায় এসে পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হাজ্জের ইহরামকে ‘উমরাহ-তে পরিবর্তিত করার আদেশ দিলেন। তখন আমরা হাজ্জকে ‘উমরাহ-তে পরিবর্তিত করলাম। তিনি আমাদেরকে স্ত্রীদের সাথে সহবাসেরও অনুমতি দিলেন। এ বিষয়ে কেউ কথা ছড়ালো (অধস্তন রাবী) আতা (রহ.) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে মিনায় যাবে। এ কথা বলে জাবির (রাঃ) নিজের হাত লজ্জাস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কানে পৌঁছলে তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। আমি শুনতে পেয়েছি যে, লোকেরা এটা সেটা বলছে। আল্লাহর কসম! আমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং অধিক আল্লাহ ভীরু। পরে যা জেনেছি তা আগে ভাগে জানতে পারলে হাদী (হাজ্জের কুরবানীর জন্তু) সাথে নিয়ে আসতাম না। আর সাথে হাদী না থাকলে আমিও ইহরাম হতে হালাল হয়ে যেতাম। তখন সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জু’সুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হুকুম শুধু আমাদের জন্য, না এটা সর্বকালের জন্য। তিনি বললেন, না, বরং সর্বকালের জন্য [রাবী আতা (রহ.)] বলেন, পরে ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) (ইয়ামান থেকে) মক্কায় এলেন। দুই রাবীর একজন বলেন যে, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ হাজ্জ করব। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাকেও হাদী এর মধ্যে শরীক করে দিলেন। (১০৮৫, ১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৪১)
কুরবানীর জানোয়ার (জবাই করার স্থানে) রওনা করার পর কেউ কোন ব্যক্তিকে তার কুরবানীর জানোয়ারের শরীক করলে তার বিধান।
২৫০৫-২৫০৬. জাবির ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ ৪ঠা যিলহাজ্জ ভোরে শুধু হাজ্জের ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসে পৌঁছলেন। কিন্তু আমরা মক্কায় এসে পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হাজ্জের ইহরামকে ‘উমরাহ-তে পরিবর্তিত করার আদেশ দিলেন। তখন আমরা হাজ্জকে ‘উমরাহ-তে পরিবর্তিত করলাম। তিনি আমাদেরকে স্ত্রীদের সাথে সহবাসেরও অনুমতি দিলেন। এ বিষয়ে কেউ কথা ছড়ালো (অধস্তন রাবী) আতা (রহ.) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে মিনায় যাবে। এ কথা বলে জাবির (রাঃ) নিজের হাত লজ্জাস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কানে পৌঁছলে তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। আমি শুনতে পেয়েছি যে, লোকেরা এটা সেটা বলছে। আল্লাহর কসম! আমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং অধিক আল্লাহ ভীরু। পরে যা জেনেছি তা আগে ভাগে জানতে পারলে হাদী (হাজ্জের কুরবানীর জন্তু) সাথে নিয়ে আসতাম না। আর সাথে হাদী না থাকলে আমিও ইহরাম হতে হালাল হয়ে যেতাম। তখন সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জু’সুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হুকুম শুধু আমাদের জন্য, না এটা সর্বকালের জন্য। তিনি বললেন, না, বরং সর্বকালের জন্য [রাবী আতা (রহ.)] বলেন, পরে ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) (ইয়ামান থেকে) মক্কায় এলেন। দুই রাবীর একজন বলেন যে, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ হাজ্জ করব। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাকেও হাদী এর মধ্যে শরীক করে দিলেন। (১০৮৫, ১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৪১)
হাদিস নং: ২৫০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد اخبرنا عبد الملك بن جريج عن عطاء عن جابر وعن طاوس عن ابن عباس قالا قدم النبي واصحابه صبح رابعة من ذي الحجة مهلين بالحج لا يخلطهم شيء فلما قدمنا امرنا فجعلناها عمرة وان نحل الى نساىنا ففشت في ذلك القالة قال عطاء فقال جابر فيروح احدنا الى منى وذكره يقطر منيا فقال جابر بكفه فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقام خطيبا فقال بلغني ان اقواما يقولون كذا وكذا والله لانا ابر واتقى لله منهم ولو اني استقبلت من امري ما استدبرت ما اهديت ولولا ان معي الهدي لاحللت فقام سراقة بن مالك بن جعشم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هي لنا او للابد فقال لا بل للابد قال وجاء علي بن ابي طالب فقال احدهما يقول لبيك بما اهل به رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال وقال الاخر لبيك بحجة رسول الله فامر النبي صلى الله عليه وسلم ان يقيم على احرامه واشركه في الهدي
২৫০৫-২৫০৬. জাবির ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ ৪ঠা যিলহাজ্জ ভোরে শুধু হাজ্জের ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসে পৌঁছলেন। কিন্তু আমরা মক্কায় এসে পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হাজ্জের ইহরামকে ‘উমরাহ-তে পরিবর্তিত করার আদেশ দিলেন। তখন আমরা হাজ্জকে ‘উমরাহ-তে পরিবর্তিত করলাম। তিনি আমাদেরকে স্ত্রীদের সাথে সহবাসেরও অনুমতি দিলেন। এ বিষয়ে কেউ কথা ছড়ালো (অধস্তন রাবী) আতা (রহ.) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে মিনায় যাবে। এ কথা বলে জাবির (রাঃ) নিজের হাত লজ্জাস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কানে পৌঁছলে তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। আমি শুনতে পেয়েছি যে, লোকেরা এটা সেটা বলছে। আল্লাহর কসম! আমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং অধিক আল্লাহ ভীরু। পরে যা জেনেছি তা আগে ভাগে জানতে পারলে হাদী (হাজ্জের কুরবানীর জন্তু) সাথে নিয়ে আসতাম না। আর সাথে হাদী না থাকলে আমিও ইহরাম হতে হালাল হয়ে যেতাম। তখন সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জু’সুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হুকুম শুধু আমাদের জন্য, না এটা সর্বকালের জন্য। তিনি বললেন, না, বরং সর্বকালের জন্য [রাবী আতা (রহ.)] বলেন, পরে ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) (ইয়ামান থেকে) মক্কায় এলেন। দুই রাবীর একজন বলেন যে, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ হাজ্জ করব। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাকেও হাদী এর মধ্যে শরীক করে দিলেন। (১০৮৫, ১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৪১)
হাদিস নং: ২৫০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد اخبرنا وكيع عن سفيان عن ابيه عن عباية بن رفاعة عن جده رافع بن خديج قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بذي الحليفة من تهامة فاصبنا غنما وابلا فعجل القوم فاغلوا بها القدور فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فامر بها فاكفىت ثم عدل عشرا من الغنم بجزور ثم ان بعيرا ند وليس في القوم الا خيل يسيرة فرماه رجل فحبسه بسهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لهذه البهاىم اوابد كاوابد الوحش فما غلبكم منها فاصنعوا به هكذا قال قال جدي يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انا نرجو او نخاف ان نلقى العدو غدا وليس معنا مدى فنذبح بالقصب فقال اعجل او ارني ما انهر الدم وذكر اسم الله عليه فكلوا ليس السن والظفر وساحدثكم عن ذلك اما السن فعظم واما الظفر فمدى الحبشة
২৫০৭. রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিহামার অন্তর্গত যুলহুলায়ফা নামক স্থানে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে অবস্থান করছিলাম। সে সময় আমরা (গনীমতের অংশ হিসাবে) কিছু বকরী কিংবা উট পেয়ে গেলাম। সাহাবীগণ (অনুমতির অপেক্ষা না করেই) তাড়াহুড়া করে পাত্রে মাংস চড়িয়ে দিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পাত্রগুলো উল্টিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। (বণ্টনকালে) প্রতি দশটি বকরীকে তিনি একটি উটের সমান ধার্য করলেন। ইতিমধ্যে একটি উট পালিয়ে গেল। সে সময় দলে ঘোড়ার সংখ্যাও ছিল খুব অল্প। তাই একজন তীর ছুঁড়ে সেটাকে আটকালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ পলায়নপর বন্য জন্তুদের মতো এই গৃহপালিত পশুগুলোর মধ্যেও কোন কোনটা পলায়নপর স্বভাব বিশিষ্ট। কাজেই সেগুলোর মধ্যে যেটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠবে তার সাথে এরূপই করবে। [রাবী আবায়াহ (রহ.)] বলেন, আমার দাদা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আশঙ্কা করি; আগামীকাল হয়ত আমরা শত্রুর মুখোমুখী হব। আমাদের সাথে তো কোন ছুরি নেই। এমতাবস্থায় আমরা কি বাঁশের ধারালো কঞ্চি দিয়ে যবেহ করতে পারি? তিনি বললেন, যে রক্ত বের করে দেয় তা দিয়ে দ্রুত কর। যা আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ হয়, তা তোমরা খেতে পার। তবে তা যেন দাঁত বা নখ না হয়। তোমাদের আমি এর কারণ বলছি, দাঁততো হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি। (২৪৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৪২)