হাদিস নং: ৩৪৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا خالد بن يزيد الكاهلي حدثنا ابو بكر عن ابي حصين عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما وجعلنكم شعوبا وقبآىل لتعارفوا (الحجرات : 13) قال الشعوب القباىل العظام والقباىل البطون
يٰٓأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنٰكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَّأُنْثٰى وَجَعَلْنٰكُمْ شُعُوْبًا وَّقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوْا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقٰكُمْ (الحجرات : 13) وَقَوْلِهِ وَاتَّقُوْا اللهَ الَّذِيْ تَسَّآءَلُوْنَ بِهٰ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْبًا (النساء : 1) وَمَا يُنْهَى عَنْ دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ الشُّعُوْبُ النَّسَبُ الْبَعِيْدُ وَالْقَبَائِلُ دُوْنَ ذَلِكَ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক থেকে এবং তোমাদেরকে পরিণত করেছি বিভিন্ন জাতিতে ও বিভিন্ন গোত্রে। (আল-হুজুরাত ১৩) আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ভয় কর আল্লাহকে যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে প্রার্থনা করে থাক এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের সম্পর্কে সতর্ক থাক। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন- (আন্-নিসা ১)। এবং জাহিলীয়্যাত আমলের কথা-বার্তা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে। الشُّعُوْبُ পূর্বতন বড় বংশ এবং الْقَبَائِلُ এর চেয়ে ছোট বংশ।
৩৪৮৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়াতে বর্ণিত الشُّعُوْبُ অর্থ বড় গোত্র এবং الْقَبَائِلُ অর্থ ছোট গোত্র। (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৩৯)
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক থেকে এবং তোমাদেরকে পরিণত করেছি বিভিন্ন জাতিতে ও বিভিন্ন গোত্রে। (আল-হুজুরাত ১৩) আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ভয় কর আল্লাহকে যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে প্রার্থনা করে থাক এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের সম্পর্কে সতর্ক থাক। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন- (আন্-নিসা ১)। এবং জাহিলীয়্যাত আমলের কথা-বার্তা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে। الشُّعُوْبُ পূর্বতন বড় বংশ এবং الْقَبَائِلُ এর চেয়ে ছোট বংশ।
৩৪৮৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়াতে বর্ণিত الشُّعُوْبُ অর্থ বড় গোত্র এবং الْقَبَائِلُ অর্থ ছোট গোত্র। (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৩৯)
হাদিস নং: ৩৪৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا يحيى بن سعيد عن عبيد الله قال حدثني سعيد بن ابي سعيد عن ابيه عن ابي هريرة قال قيل يا رسول الله من اكرم الناس قال اتقاهم قالوا ليس عن هذا نسالك قال فيوسف نبي الله
৩৪৯০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান কে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে সবচেয়ে আল্লাহভীরু, সে-ই অধিক সম্মানিত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এ ধরনের কথা জিজ্ঞেস করিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আল্লাহর নবী ইউসুফ (আঃ)। (৩৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪০)
হাদিস নং: ৩৪৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قيس بن حفص حدثنا عبد الواحد حدثنا كليب بن واىل قال حدثتني ربيبة النبي صلى الله عليه وسلم زينب بنت ابي سلمة قال قلت لها ارايت النبي صلى الله عليه وسلم اكان من مضر قالت فممن كان الا من مضر من بني النضر بن كنانة
৩৪৯১. কুলায়েব ইবনু ওয়ায়িল (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে পালিতা আবূ সালমার কন্যা যায়নাবকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি বলুন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মুযার গোত্রের ছিলেন? তিনি বললেন, বনু নযর ইবনু কিনানা উদ্ভুত গোত্র মুযার ব্যতীত আর কোন্ গোত্র হতে হবেন? এবং মুযার গোত্র নাযর ইবনু কিনানা গোত্রের একটি শাখা ছিল। (৩৪৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪১)
হাদিস নং: ৩৪৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى حدثنا عبد الواحد حدثنا كليب حدثتني ربيبة النبي واظنها زينب قالت نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الدباء والحنتم والنقير والمزفت وقلت لها اخبريني النبي صلى الله عليه وسلم ممن كان من مضر كان قالت فممن كان الا من مضر كان من ولد النضر بن كنانة
৩৪৯২. কুলায়ব বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে পালিতা কন্যা বলেনঃ আর আমার ধারণা তিনি হলেন যায়নাব। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদুর বাওশ, সবুজ মাটির পাত্র মুকাইয়ার ও মুযাফ্ফাত (আলকাতরা লাগানো পাত্র বিশেষ) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। কুলায়ব বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, বলেন তো দেখি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন গোত্রের ছিলেন? তিনি কি মুযার গোত্রের অন্তর্গত ছিলেন? তিনি জবাব দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযার গোত্র ব্যতীত আর কোন গোত্রের হবেন? আর মুযার নাযর ইবনু কিনানার বংশধর ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪২)
হাদিস নং: ৩৪৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق بن ابراهيم اخبرنا جرير عن عمارة عن ابي زرعة عن ابي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال تجدون الناس معادن خيارهم في الجاهلية خيارهم في الاسلام اذا فقهوا وتجدون خير الناس في هذا الشان اشدهم له كراهية
৩৪৯৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মানুষকে খণির মত পাবে। আইয়্যামে জাহিলীয়্যাতের উত্তম ব্যক্তিগণ ইসলাম গ্রহণের পরও তারা উত্তম। যখন তারা দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করে আর তোমরা শাসন ও কর্তৃত্বের ব্যাপারে লোকদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তিকে পাবে যে এই ব্যাপারে তাদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক অনাসক্ত। (৩৪৯৬, ৩৫৮৮) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৩)
হাদিস নং: ৩৪৯৪
সহিহ (Sahih)
وتجدون شر الناس ذا الوجهين الذي ياتي هولاء بوجه وياتي هولاء بوجه
৩৪৯৪. আর মানুষের মধ্যে সব থেকে নিকৃষ্ট ঐ দু’মুখী ব্যক্তি যে একদলের সঙ্গে এক ভাবে কথা বলে, অপর দলের সঙ্গে আরেকভাবে কথা বলে। (৬০৫৮, ৭১৭৯, মুসলিম ৪৪/৪৮ হাঃ ২৫২৬, আহমাদ ১০৭৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৩ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৪৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا المغيرة عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال الناس تبع لقريش في هذا الشان مسلمهم تبع لمسلمهم وكافرهم تبع لكافرهم
৩৪৯৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খিলাফত ও নেতৃত্বের ব্যাপারে সকলেই কুরাইশের অনুগত থাকবে। মুসলিমগণ তাদের মুসলিমদের এবং কাফিররা তাদের কাফিরদের অনুগত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৪ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৪৯৬
সহিহ (Sahih)
والناس معادن خيارهم في الجاهلية خيارهم في الاسلام اذا فقهوا تجدون من خير الناس اشد الناس كراهية لهذا الشان حتى يقع فيه
৩৪৯৬. আর মানব সমাজ খণির মত। জাহিলী যুগের উত্তম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পরও উত্তম যদি তারা দ্বীনী ইল্ম অর্জন করে। তোমরা নেতৃত্ব ও শাসনের ব্যাপারে ঐ লোককেই সবচেয়ে উত্তম পাবে যে এর প্রতি অনাসক্ত, যে পর্যন্ত না সে তা গ্রহণ করে। (৩৪৯৩, মুসলিম ৩৩/১ হাঃ ১৮১৮, আহমাদ ৯১৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৪ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৪৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن شعبة حدثني عبد الملك عن طاوس عن ابن عباس رضي الله عنهما الا المودة في القربى (الشوري : 23) قال فقال سعيد بن جبير قربى محمد فقال ان النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن بطن من قريش الا وله فيه قرابة فنزلت عليه الا ان تصلوا قرابة بيني وبينكم
৩৪৯৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى এ আয়াতের প্রসঙ্গে রাবী তাউস(রহ.) বলেন যে, সায়িদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বলেন, কুরবা শব্দ দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আত্মীয়কে বুঝান হয়েছে। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, কুরাইশের এমন কোন শাখা-গোত্র নেই যাঁদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়তার বন্ধন ছিল না। আয়াতটি তখনই নাযিল হয়। অর্থাৎ তোমরা আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার প্রতি খেয়াল রাখ। (৪৮১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৫)
হাদিস নং: ৩৪৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن اسماعيل عن قيس عن ابي مسعود يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال من ها هنا جاءت الفتن نحو المشرق والجفاء وغلظ القلوب في الفدادين اهل الوبر عند اصول اذناب الابل والبقر في ربيعة ومضر
৩৪৯৮. আবূ মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই পূর্বদিক হতে ফিতনা-ফাসাদের উৎপত্তি হবে। নির্মমতা ও অন্তরের কাঠিন্য উট ও গরু নিয়ে ব্যস্ত লোকদের মধ্যে। পশ্মী তাঁবুর অধিবাসীরা রাবী‘আ ও মুযার গোত্রের যারা উট ও গরুর পিছনে চিৎকার করে (হাঁকায়), তাদের মধ্যেই রয়েছে নির্মমতা ও কঠোরতা। (৩৩০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৬)
হাদিস নং: ৩৪৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن ان ابا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول الفخر والخيلاء في الفدادين اهل الوبر والسكينة في اهل الغنم والايمان يمان والحكمة يمانية قال ابو عبد الله سميت اليمن لانها عن يمين الكعبة والشام لانها عن يسار الكعبة والمشامة الميسرة واليد اليسرى الشومى والجانب الايسر الاشام
৩৪৯৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, গর্ব-অহংকার পশমের তৈরি তাঁবুতে বসবাসকারী যারা (উট-গরু হাঁকানোর সময় চিৎকার করে) তাদের মধ্যে الْمَشْأَمَةُ অর্থ বাম দিক, বাম হাতকে الشُّؤْمَى এবং বাম দিককে أشْأَمُُ বলা হয়। আর শান্তভাব রয়েছে বকরী পালকদের মধ্যে। ঈমানের দৃশ্যতা এবং হিক্মাত ইয়ামানবাসীদের মধ্যে রয়েছে। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ইয়ামান নাম দেয়া হয়েছে যেহেতু তা কা‘বা ঘরের ডানদিকে (দক্ষিণ) অবস্থিত এবং শাম (সিরিয়া) কা’বা ঘরের বাম (উত্তর) দিকে অবস্থিত বিধায় তার শাম নাম দেয়া হয়েছে। (৩৩০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৭)
হাদিস নং: ৩৫০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال كان محمد بن جبير بن مطعم يحدث انه بلغ معاوية وهو عنده في وفد من قريش ان عبد الله بن عمرو بن العاص يحدث انه سيكون ملك من قحطان فغضب معاوية فقام فاثنى على الله بما هو اهله ثم قال اما بعد فانه بلغني ان رجالا منكم يتحدثون احاديث ليست في كتاب الله ولا توثر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فاولىك جهالكم فاياكم والاماني التي تضل اهلها فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان هذا الامر في قريش لا يعاديهم احد الا كبه الله على وجهه ما اقاموا الدين
৩৫০০. মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়ের ইবনু মুত্‘ঈম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর নিকট কুরাইশ প্রতিনিধিদের সাথে তার উপস্থিতিতে সংবাদ পৌঁছলো যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) বর্ণনা করেন, শীঘ্রই কাহতান বংশীয় জনৈক বাদশাহর আগমন ঘটবে। এতদশ্রবণে মু‘আবিয়াহ (রাঃ) ক্রুদ্ধ হয়ে খুৎবা দেয়ার উদ্দেশে দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য হামদ ও সানার পর তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি, তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক এমন সব কথাবার্তা বলতে শুরু করেছে যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও বর্ণিত হয়নি। এরাই মূর্খ, এদের হতে সাবধান থাক এবং এমন কাল্পনিক ধারণা হতে সতর্ক থাক যা ধারণাকারীকে বিপথগামী করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, যত দিন তারা দ্বীন কায়েমে লেগে থাকবে তত দিন খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের হাতেই থাকবে। এ বিষয়ে যে-ই তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ্ তাকে অধোঃমুখে নিক্ষেপ করবেন। (৭১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৮)
হাদিস নং: ৩৫০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا عاصم بن محمد قال سمعت ابي عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا يزال هذا الامر في قريش ما بقي منهم اثنان
৩৫০১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ বিষয় (খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা) সর্বদাই কুরাইশদের হাতে থাকবে, যতদিন তাদের দু’জন লোকও বেঁচে থাকবে। (৭১৪০, মুসলিম ৩৩/১ হাঃ ১৮২০, আহমাদ ২০৯৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪৯)
হাদিস নং: ৩৫০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن ابن المسيب عن جبير بن مطعم قال مشيت انا وعثمان بن عفان فقال يا رسول الله اعطيت بني المطلب وتركتنا وانما نحن وهم منك بمنزلة واحدة فقال النبي صلى الله عليه وسلم انما بنو هاشم وبنو المطلب شيء واحد
৩৫০২. জুবায়র ইবনু মুত‘ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে হাযির হলাম। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মুত্তালিবের সন্তানদেরকে দান করলেন এবং আমাদেরকে বাদ দিলেন। অথচ তারা ও আমরা আপনার বংশগতভাবে সম স্তরের। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিব এক ও অভিন্ন। (৩১৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪১ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫০ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৫০৩
সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني ابو الاسود محمد عن عروة بن الزبير قال ذهب عبد الله بن الزبير مع اناس من بني زهرة الى عاىشة وكانت ارق شيء عليهم لقرابتهم من رسول الله صلى الله عليه وسلم
৩৫০৩. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বনূ যুহরার কতিপয় লোকের সঙ্গে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকটে হাযির হলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাদের প্রতি অত্যন্ত নম্র ও দয়ার্দ্র ছিলেন। কেননা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁদের আত্মীয়তা ছিল। (৩৫০৫, ৬০৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫০ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৫০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا سفيان عن سعد قال يعقوب بن ابراهيم حدثنا ابي عن ابيه قال حدثني عبد الرحمن بن هرمز الاعرج عن ابي هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قريش والانصار وجهينة ومزينة واسلم واشجع وغفار موالي ليس لهم مولى دون الله ورسوله
৩৫০৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুরাইশ, আনসার, জুহায়না, মুযায়না, আসলাম, আশজা‘ ও গিফার গোত্রগুলো আমার সাহায্যকারী। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ছাড়া তাঁদের সাহায্যকারী আর কেউ নেই। (৩৫১২, মুসলিম ৪৪/৪৭ হাঃ ২৫২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫০)
হাদিস নং: ৩৫০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني ابو الاسود عن عروة بن الزبير قال كان عبد الله بن الزبير احب البشر الى عاىشة بعد النبي صلى الله عليه وسلم وابي بكر وكان ابر الناس بها وكانت لا تمسك شيىا مما جاءها من رزق الله الا تصدقت فقال ابن الزبير ينبغي ان يوخذ على يديها فقالت ايوخذ على يدي علي نذر ان كلمته فاستشفع اليها برجال من قريش وباخوال رسول الله صلى الله عليه وسلم خاصة فامتنعت فقال له الزهريون اخوال النبي منهم عبد الرحمن بن الاسود بن عبد يغوث والمسور بن مخرمة اذا استاذنا فاقتحم الحجاب ففعل فارسل اليها بعشر رقاب فاعتقتهم ثم لم تزل تعتقهم حتى بلغت اربعين فقالت وددت اني جعلت حين حلفت عملا اعمله فافرغ منه
৩৫০৫. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ)-এর পর ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট সকল লোকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়পাত্র ছিলেন এবং তিনি সকল লোকদের মধ্যে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রতি সবচেয়ে অধিক সদাচারী ছিলেন। ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে রিয্ক হিসেবে যা কিছু আস্ত তা জমা না রেখে সাদাকা করে দিতেন। এতে ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, অধিক দান খয়রাত করা হতে তাকে বারণ করা উচিত। তখন ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমাকে দান করা হতে বারণ করা হবে? আমি যদি তার সঙ্গে কথা বলি, তাহলে আমাকে কাফ্ফারা দিতে হবে এবং ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তাঁর নিকট কুরাইশের কিছু লোক, বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতৃবংশের কিছু লোক দ্বারা সুপারিশ করালেন। তবুও তিনি তাঁর সঙ্গে কথা বলা হতে বিরত থাকলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতৃবংশ বনী যুহরার কতক বিশিষ্ট লোক যাদের মধ্যে ’আবদুর রহমান ইবনু আস্ওয়াদ এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) ছিলেন তারা বললেন, আমরা যখন ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইব তখন তুমি পর্দার ভিতরে ঢুকে পড়বে। তিনি তাই করলেন। পরে ইবনু যুবায়র (রাঃ) কাফ্ফারা আদায়ের জন্য তার নিকট দশটি ক্রীতদাস পাঠিয়ে দিলেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) তাদের সবাইকে আযাদ করে দিলেন। অতঃপর তিনি বরাবর আযাদ করতে থাকলেন। এমন কি তার সংখ্যা চল্লিশে পৌঁছে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমি যখন কোন কাজ করার কসম করি, তখন আমার এরাদা থাকে যে আমি যেন সে কাজটা করে দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যাই এবং তিনি আরো বলেন, আমি যখন কোন কাজ করার কসম করি তা যথাযথ পূরণের ইচ্ছা রাখি। (৩৫০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫২)
হাদিস নং: ৩৫০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابن شهاب عن انس ان عثمان دعا زيد بن ثابت وعبد الله بن الزبير وسعيد بن العاص وعبد الرحمن بن الحارث بن هشام فنسخوها في المصاحف وقال عثمان للرهط القرشيين الثلاثة اذا اختلفتم انتم وزيد بن ثابت في شيء من القران فاكتبوه بلسان قريش فانما نزل بلسانهم ففعلوا ذلك
৩৫০৬. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘উসমান (রাঃ), যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ), ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ), সা‘ঈদ ইবনুল ‘আস (রাঃ) ‘আবদুর রাহমান ইবনু হারিস (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তাঁরা সংরক্ষিত কুরআনকে সমবেতভাবে লিপিবদ্ধ করলেন। ‘উসমান (রাঃ) কুরাইশ বংশীয় তিন জনকে বললেন, যদি যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) এবং তোমাদের মধ্যে কোন শব্দে মতবিরোধ দেখা দেয় তবে কুরাইশের ভাষায় তা লিপিবদ্ধ কর। যেহেতু কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তাঁরা তা-ই করলেন। (৪৯৮৪, ৪৯৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫৩)
হাদিস নং: ৩৫০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن يزيد بن ابي عبيد حدثنا سلمة قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على قوم من اسلم يتناضلون بالسوق فقال ارموا بني اسماعيل فان اباكم كان راميا وانا مع بني فلان لاحد الفريقين فامسكوا بايديهم فقال ما لهم قالوا وكيف نرمي وانت مع بني فلان قال ارموا وانا معكم كلكم
مِنْهُمْ أَسْلَمُ بْنُ أَفْصَى بْنِ حَارِثَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ مِنْ خُزَاعَةَ
তার মধ্যে আসলাম ইবনু আফসা ইবনু হারিসাহ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আমির ও খুযা‘আহ গোত্রের অন্তর্গত।
৩৫০৭. সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আসলাম গোত্রের কিছু লোক বাজারের নিকটে প্রতিযোগিতামূলক তীর নিক্ষেপের চর্চা করছিল। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং তাদেরকে দেখে বললেন, হে ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। কেননা তোমাদের পিতাও তীর নিক্ষেপে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং আমি তোমাদের অমুক দলের পক্ষে রয়েছি। তখন একটি পক্ষ তাদের হাত গুটিয়ে নিল। বর্ণনাকারী বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কী হল? তারা বলল, আপনি অমুক পক্ষে থাকলে আমরা কী করে তীর নিক্ষেপ করতে পারি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। আমি তোমাদের উভয় দলের সাথে আছি। (২৮৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫৪)
তার মধ্যে আসলাম ইবনু আফসা ইবনু হারিসাহ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আমির ও খুযা‘আহ গোত্রের অন্তর্গত।
৩৫০৭. সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আসলাম গোত্রের কিছু লোক বাজারের নিকটে প্রতিযোগিতামূলক তীর নিক্ষেপের চর্চা করছিল। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং তাদেরকে দেখে বললেন, হে ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। কেননা তোমাদের পিতাও তীর নিক্ষেপে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং আমি তোমাদের অমুক দলের পক্ষে রয়েছি। তখন একটি পক্ষ তাদের হাত গুটিয়ে নিল। বর্ণনাকারী বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কী হল? তারা বলল, আপনি অমুক পক্ষে থাকলে আমরা কী করে তীর নিক্ষেপ করতে পারি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। আমি তোমাদের উভয় দলের সাথে আছি। (২৮৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫৪)
হাদিস নং: ৩৫০৮
সহিহ (Sahih)
باب حدثنا ابو معمر حدثنا عبد الوارث عن الحسين عن عبد الله بن بريدة قال حدثني يحيى بن يعمر ان ابا الاسود الديلي حدثه عن ابي ذر انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ليس من رجل ادعى لغير ابيه وهو يعلمه الا كفر ومن ادعى قوما ليس له فيهم فليتبوا مقعده من النار
৩৫০৮. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, কোন লোক যদি নিজ পিতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও অন্য কাকে তার পিতা বলে দাবী করে তবে সে আল্লাহর কুফরী করল এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সঙ্গে বংশ সম্পর্কিত দাবী করল যে বংশের সঙ্গে তার কোন বংশ সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (৬০৩৫, মুসলিম ১/২৭ হাঃ ৬১, আহমাদ ২১৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫৫)