অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬১/১. আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
মোট ১৬০ টি হাদিস
হাদিস নং: ৩৫৪৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن سعيد ابو عبد الله حدثنا اسحاق بن منصور حدثنا ابراهيم بن يوسف عن ابيه عن ابي اسحاق قال سمعت البراء يقول كان رسول الله صلى الله عليه وسلم احسن الناس وجها واحسنه خلقا ليس بالطويل الباىن ولا بالقصير
৩৫৪৯. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা ছিল মানুষের মধ্যে[১] সর্বাপেক্ষা সুন্দর এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী। তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না। (মুসলিম ৪৩/২৫ হাঃ ২৩৩৭, আহমাদ ১৮৫৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯৪)
নোট: ১। নাবী ­(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুয়্যাতের আলামতসমূহের উপরে মহামতি ইমাম বুখারী (রহ.) সহীহ সানাদে প্রমাণিত কতিপয় নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে যে সমুদয় বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেছেন, তাতে এ কথা পরিষ্কারভাবেই প্রমাণিত হয় যে, মহানাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষ ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা‘আলার খাস নূরে তৈরী বা বিশেষ কোন নূরানী কায়দায় সৃষ্ট বা স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলাই মুহাম্মাদ নাম ধারণ করে মানবরূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবম্বিধ যাবতীয় চিন্তা-চেতনা, আক্বীদাহ্-বিশ্বাস ও কথাবার্তা নিঃসন্দেহে বিভ্রান্তিকর তথা কুফরী কার্য বটে।

কেননা আল্লাহ তা‘আলা উপরোক্ত বিষয়ে স্বীয় কুরআন মাজীদের মাধ্যমেই বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে অন্য কারো কোন অতিরিক্ত চিন্তা-ভাবনা করার অবকাশ নেই। স–রা কাহফের শেষ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে লক্ষ্য করে এরশাদ করেছেন- (قُلْ إِنَّمَآ أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ) (الكهف: من الآية১১০)

হে নাবী! তুমি বলে দাও, আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ।(আল-কাহ্ফ ১১০ আয়াতাংশ) এ বিষয়ে অন্যত্র আরো এরশাদ হচ্ছে- (لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ إِذْ بَعَثَ فِيْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْ أَنْفُسِهِمْ الخ) (آل عمران: من الآية১৬৪)

অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য হতেই (ফেরেশতা বা মানুষ নয় এমন কোন ভিন্ন জাতির মধ্য হতে প্রেরণ করেন নি বরং) একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন। সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং- ১৬৪। উক্ত আয়াতে উল্লেখিত رسولا من أنفسهم এই শব্দ দু’টির ব্যাখ্যায় হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে রুহুল মা‘আনীতে আল্লামা শাইখ শেহাবুদ্দীন আলুসী-আল্ হানাফী (রহ.) লিখেছেন- রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মানুষ বলে জানা ও তাঁকে মানুষের সন্তান মানুষ বলেই গ্রহণ করা সহীহ হওয়ার জন্য একান্ত শর্ত। তাঁকে ফেরেশতা, জ্বিন, নূরের দ্বারা তৈরী এসব কিছু বলা যাবে না বা চিন্তাও করা যাবে না। যেমন রহুল মা‘আনীর নিুোদ্ধৃত ভাষ্যে পরিষ্কার করেই বলা হয়েছে -

هل العلم وبكونه صلى الله عليه وسلم بشر ومن العرب شرط في صحه الإيمان أو من فروض الكناية؟ فأجاب بأنه شرط في صحة الإيمان ثم قال فلو قال شخص أو من برسالة محمد صلى الله عليه وسلم إلآ جميع الخلق لكن لا أدري هل هة من البشر أو من الملائكة أو من الجن أو لا أدري هل هو من العرب أو العجم؟ فلا شك في كفره لتكذيبه القرآن

অর্থাৎ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষ ছিলেন, কি আরবীয় মানুষ ছিলেন, এ বিষয়ে জ্ঞাত হওয়া এবং নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মানুষ বলেই জানা ঈমানের জন্য শর্ত না; ফারযি কিফায়াহ (كفاية)? এর জবাব এই যে, উক্ত বিষয়টি ঈমানের জন্য শর্ত বটে। অতঃপর কেউ যদি বলে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমস্ত মাখলুকের জন্য নাবী এটা বিশ্বাস করি, তবে তিনি মানুষ কি জ্বিন, কি ফেরেশতা, বা আরবের কি অনারবের এটা আমি জানি না। উক্ত ব্যক্তি নিঃসন্দেহে কাফের। কেননা সে কুরআনের ঘোষণাকে অস্বীকার করেছে। تفسير روح المعاني পৃষ্ঠা নং- ১১৩, ৪র্থ খণ্ড। অতএব এখানে লক্ষণীয় এই যে, কতিপয় বিভ্রান্ত লোক নিজেদেরকে হানাফী আল্-ক্বাদরী, আল্ চিশ্তী ইত্যাদি নাম দিয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অতিমাত্রায় ভক্তি ও শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে তাঁকে আল্লাহ্ও আসনে বসিয়েছে। أحد (আহাদ) ও أحمد (আহমাদ)-এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিজেদের অজ্ঞতাবশতঃ এ ব্যাখ্যাও দিয়েছে, যে أحد ও أحمد এর মধ্যে মাত্র একটি মীমের পার্থক্য ছাড়া আর কোন পার্থক্য নেই। نعوذ بالله প্রকাশ থাকে। পাক-ভারত উপমহাদেশের বিদ‘আতীরা কুরআন ও সহীহ হাদীস বিরোধী সমস্ত কার্যাবলী চালু করে নিজেদের নাম দিয়ে রেখেছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ্। এ যেন বেদানা ফলের মতোই অবস্থা। বেদানা ফল দানায় ভর্তি, অথচ নাম তার বেদানা তথাকথিত أهل السنة والجماعة (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ্) নাম দিয়ে বিদ‘আতীরা এ পৃথিবীর এমন কোন বিদ‘আত নেই, যা এরা করছে না। যেমন কবর পূজা, পীর পূজা, মীলাদ, ওরশ ওরসেকূল, ইসালে সওয়াব, জশ্নে জুলুস, মিছিল, ঈদে মিলাদুন্নাবী ইত্যাদি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, এক শ্রেণীর বিদ‘আতীরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মর্যাদা তথা অত্যধিক পরিমাণে শান-মান দেয়ার নামে এতোই সীমালঙ্ঘন করছে যে, (عالم الغيب) ‘আলিমুল গায়িব আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ ক্ষমতা হলো এই যে, তিনি সমস্ত গায়িবী খবরা-খবর জানেন। এ বিষয়ে বিদ‘আতীদের আক্বীদাহ এই যে, নাউযুবিল্লাহ মহানাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আল্লাহ তা‘আলার ন্যায় গায়িবী খবর জানতেন ও জানেন যা সরাসরি কুরআন, হাদীস, ইজমা, কিয়াস ও জমহারে ‘উলামাসহ হাকপন্থী সর্বশ্রেণীর মুসলিমদের আক্বীদাহ্র বিপরীত এ ব্যাপারে খোদ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- (وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لا يَعْلَمُهَا إِلاَّ هُو) (الأنعام: من الآية৫৯)

অদৃশ্য বিষয়সমূহের চাবিকাঠি আল্লাহর নিকটে, তিনি ব্যতীত উক্ত বিষয়াবলী আর কেউ জানে না। (সূরা আন‘আম ৫৯)

এ বিষয়ে ইমাম বুখারী (রহ.) বর্ণনা করেন-

عن سالم بن عبد الله عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : مفاتح الغيب خمس لا يعلمهن إلا الله، إن الله عنده علم الساعة وينـزل الغيث ويعلم ما في الأرحام وما تدري نفس ماذا تكسب غدا أو ما تدري نفس بأي ارض تموت إن الله عليم خبير تفسير ابن كثير (جزء الثاني)

অতীতকালের বিভ্রান্ত জাতিসমূহ তাদের নবীগণকে মাত্রাতিরিক্ত মর্যাদা দিতে গিয়ে আল্লাহ্র নামে র্শিক করেছিল। ইয়াহুদী ও খৃষ্টান জাতি ‘উযাইর ও ঈসা (আঃ)-দ্বয়কে আল্লাহ্র পুত্র বানিয়ে তাঁদের পূজা অর্চনা করতে শুরু করেছে এবং বর্তমানের বিভ্রান্ত মুসলিমদের একটা শ্রেণী উল্লেখিত জাতিদ্বয়কে ছাড়িয়ে গিয়ে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আল্লাহ্র সাথে একাকার করে ফেলেছে বা বড়ই পরিতাপের বিষয় বটে। এ জাতির বিদ‘আতীদেরকে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই কালজয়ীবাণীটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই لاَ تُطْرُونِيْ كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُوْلُوْا عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهُ (البخاري : ৩৪৪৫)

নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন- মারইয়াম তনয় ‘ঈসা (আঃ)কে নিয়ে খৃষ্টানরা যেভাবে বাড়াবাড়ি করছে তোমরা আমাকে নিয়ে সেভাবে বাড়াবাড়ি করো না, আমি কেবল একজন বান্দা। অতএব তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল বলে সম্বোধন করবে।
হাদিস নং: ৩৫৫০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا همام عن قتادة قال سالت انسا هل خضب النبي صلى الله عليه وسلم قال لا انما كان شيء في صدغيه
৩৫৫০. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুলে খেযাব লাগাতেন কি? তিনি বললেন, না। তাঁর কানের পাশে সামান্য কয়টা চুল সাদা হয়েছিল মাত্র। (৫৮৯৪, ৫৮৯৫, মুসলিম ৪৩/২৯ হাঃ ২৩৪১)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯৫)
হাদিস নং: ৩৫৫১ সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر حدثنا شعبة عن ابي اسحاق عن البراء بن عازب رضي الله عنهما قال كان النبي صلى الله عليه وسلم مربوعا بعيد ما بين المنكبين له شعر يبلغ شحمة اذنه رايته في حلة حمراء لم ار شيىا قط احسن منه قال يوسف بن ابي اسحاق عن ابيه الى منكبيه
৩৫৫১. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয়ে কাঁধের মধ্যস্থল প্রশস্ত ছিল। তাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আমি তাঁকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরা অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে বেশি সুন্দর আমি কখনো কাউকে দেখিনি। ইউসুফ ইবনু আবূ ইসহাক তাঁর পিতা হতে হাদীস বর্ণনায় বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথার চুল কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। (৫৮৪৮, ৫৯০১)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯৬)
হাদিস নং: ৩৫৫২ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا زهير عن ابي اسحاق قال سىل البراء اكان وجه النبي صلى الله عليه وسلم مثل السيف قال لا بل مثل القمر
৩৫৫২. আবূ ইসহাক তাবি-ঈ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারাআ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মুবারক কি তলোয়ারের মত ছিল? তিনি বললেন না, বরং চাঁদের ন্যায় ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯৭)
হাদিস নং: ৩৫৫৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن منصور ابو علي حدثنا حجاج بن محمد الاعور بالمصيصة حدثنا شعبة عن الحكم قال سمعت ابا جحيفة قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم بالهاجرة الى البطحاء فتوضا ثم صلى الظهر ركعتين والعصر ركعتين وبين يديه عنزة قال شعبة وزاد فيه عون عن ابيه ابي جحيفة قال كان يمر من وراىها المراة وقام الناس فجعلوا ياخذون يديه فيمسحون بها وجوههم قال فاخذت بيده فوضعتها على وجهي فاذا هي ابرد من الثلج واطيب راىحة من المسك
৩৫৫৩. হাকাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুপুর বেলায় বাতহার দিকে বেরোলেন। সে স্থানে উযূ করে যুহরের দু’ রাকআত ও আসরের দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তাঁর সামনে একটি বর্শা পোঁতা ছিল। বর্শার বাহির দিয়ে নারীরা যাতায়াত করছিল। সালাত শেষে লোকজন দাঁড়িয়ে গেল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’ হাত ধরে তারা নিজেদের মাথা ও মুখমণ্ডল
ে বুলাতে লাগলেন। আমিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরে আমার মুখমণ্ডল
ে বুলাতে লাগলাম। তাঁর হাত বরফের থেকেও স্নিগ্ধ শীতল ও কস্তুরীর থেকেও বেশি সুগন্ধিময় ছিল। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯৮)
হাদিস নং: ৩৫৫৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان حدثنا عبد الله اخبرنا يونس عن الزهري قال حدثني عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس رضي الله عنهما قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اجود الناس واجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل وكان جبريل عليه السلام يلقاه في كل ليلة من رمضان فيدارسه القران فلرسول الله صلى الله عليه وسلم اجود بالخير من الريح المرسلة
৩৫৫৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাপেক্ষা বেশি দানশীল ছিলেন। তাঁর দানশীলতা বহুগুণ বর্ধিত হত রমাযানের পবিত্র দিনে যখন জিবরাঈল (আঃ) তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন। জিব্রাঈল (আঃ) রমাযানের প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করে কুরআনের সবক দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ বণ্টনে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন। (৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯৯)
হাদিস নং: ৩৫৫৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى حدثنا عبد الرزاق حدثنا ابن جريج قال اخبرني ابن شهاب عن عروة عن عاىشة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليها مسرورا تبرق اسارير وجهه فقال الم تسمعي ما قال المدلجي لزيد واسامة وراى اقدامهما ان بعض هذه الاقدام من بعض
৩৫৫৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশি মনে তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। খুশীর কারণে তাঁর চেহারায় খুশীর চিহ্ন পরিস্ফুট হচ্ছিল। তিনি তখন ‘আয়িশাহ্কে বললেন, হে ‘আয়িশাহ্! তুমি শুননি, মুদলাজী যায়দ ও উসামাহ সম্পর্কে কী বলেছে? পিতা-পুত্রের শুধু পা দেখে বলল, এ পাগুলোর একটা অন্যটির অংশ। (৩৭৩১, ৬৭৭০, ৬৭৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০০)
হাদিস নং: ৩৫৫৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب ان عبد الله بن كعب قال سمعت كعب بن مالك يحدث حين تخلف عن تبوك قال فلما سلمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يبرق وجهه من السرور وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سر استنار وجهه حتى كانه قطعة قمر وكنا نعرف ذلك منه
৩৫৫৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে তার তাবূক যুদ্ধে না যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলাম, খুশী ও আনন্দে তাঁর চেহারা ঝলমল করে উঠলো। তাঁর চেহারা এমনিই আনন্দে টগবগ করত। মনে হত যেন চাঁদের একটি টুকরা। তাঁর মুখমণ্ডল
ের এ অবস্থা হতে আমরা তা বুঝতে পারতাম। (২৭৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০১)
হাদিস নং: ৩৫৫৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن عمرو عن سعيد المقبري عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بعثت من خير قرون بني ادم قرنا فقرنا حتى كنت من القرن الذي كنت فيه
৩৫৫৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বনি আদমের সর্বোত্তম যুগে আবির্ভূত হয়েছি। যুগের পর যুগ অতিবাহিত হয়ে আমি সেই যুগেই এসেছি যে যুগ আমার জন্য নির্দিষ্ট ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০২)
হাদিস নং: ৩৫৫৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن يونس عن ابن شهاب قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسدل شعره وكان المشركون يفرقون رءوسهم فكان اهل الكتاب يسدلون رءوسهم وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب موافقة اهل الكتاب فيما لم يومر فيه بشيء ثم فرق رسول الله صلى الله عليه وسلم راسه
৩৫৫৮. ইবনু ‘আব্বাস (রহ.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল পিছনে দিকে আঁচড়ে রাখতেন আর মুশ্রিকগণ তাদের চুল দু‘ভাগ করে সিঁথি কেটে রাখত। আহলে কিতাব তাদের চুল পিছন দিকে আঁচড়ে রাখত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আহলে কিতাবের অনুসরণ পছন্দ করতেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল দু’ভাগ করে সিঁথি করে রাখতে লাগলেন। (৩৯৪৪, ৫৯১৭, মুসলিম ৪৩/২৪ হাঃ ২৩৩৬, আহমাদ ১২৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০৩)
হাদিস নং: ৩৫৫৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن ابي واىل عن مسروق عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم فاحشا ولا متفحشا وكان يقول ان من خياركم احسنكم اخلاقا
৩৫৫৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্লীল ভাষী ও অসদাচরণের অধিকারী ছিলেন না। তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে নৈতিকতায় সর্বোত্তম। (৩৭৫৯, ৬০২৯, ৬০৩৫, মুসলিম ৪৩/১৬ হাঃ ২৩২১, আহমাদ ৬৫১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০৪)
হাদিস নং: ৩৫৬০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير عن عاىشة رضي الله عنها انها قالت ما خير رسول الله صلى الله عليه وسلم بين امرين الا اخذ ايسرهما ما لم يكن اثما فان كان اثما كان ابعد الناس منه وما انتقم رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه الا ان تنتهك حرمة الله فينتقم لله بها
৩৫৬০. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখনই দু’টি জিনিসের একটি গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়া হত, তখন তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন যদি তা গুনাহ না হত। গুনাহ হতে তিনি অনেক দূরে অবস্থান করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রতিশোধ নিতেন। (৬১২৬, ৬৭৮৬, ৬৮৫৩, মুসলিম ৪৩/২০ হাঃ ২৩২৭, আহমাদ ১৩০৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০৫)
হাদিস নং: ৩৫৬১ সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد عن ثابت عن انس قال ما مسست حريرا ولا ديباجا الين من كف النبي صلى الله عليه وسلم ولا شممت ريحا قط او عرفا قط اطيب من ريح او عرف النبي صلى الله عليه وسلم
৩৫৬১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালুর চেয়ে মোলায়েম কোন নরম ও গরদকেও আমি স্পর্শ করিনি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীরের সুঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক সুঘ্রাণ আমি কখনো পাইনি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০৬)
হাদিস নং: ৩৫৬২ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن شعبة عن قتادة عن عبد الله بن ابي عتبة عن ابي سعيد الخدري قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اشد حياء من العذراء في خدرها حدثني محمد بن بشار حدثنا يحيى وابن مهدي قالا حدثنا شعبة مثله واذا كره شيىا عرف في وجهه
৩৫৬২. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহবাসিনী পর্দানশীন কুমারীদের চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। মুহাম্মাদ (রহ.)....শু’বাহ (রহ.) হতে একই রূপ রিওয়ায়াত বর্ণিত হয়েছে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কিছু অপছন্দ করতেন তা চেহারায় বুঝা যেত। (৬১০২, ৬১১৯, মুসলিম ৪৩/১৬ হাঃ ২৩২০, আহমাদ ১১৭৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯৮, ৩২৯৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০৭)
হাদিস নং: ৩৫৬৩ সহিহ (Sahih)
حدثني علي بن الجعد اخبرنا شعبة عن الاعمش عن ابي حازم عن ابي هريرة قال ما عاب النبي صلى الله عليه وسلم طعاما قط ان اشتهاه اكله والا تركه
৩৫৬৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোন খাদ্যকে মন্দ বলতেন না। রুচি হলে খেতেন না হলে বাদ দিতেন। (৫৪০৯, মুসলিম ৩৩/৩৫ হাঃ ২০৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০৮)
হাদিস নং: ৩৫৬৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا بكر بن مضر عن جعفر بن ربيعة عن الاعرج عن عبد الله بن مالك ابن بحينة الاسدي قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا سجد فرج بين يديه حتى نرى ابطيه قال وقال ابن بكير حدثنا بكر بياض ابطيه
৩৫৬৪. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহায়নাহ আসাদিইয়ি (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহুকে শরীর হতে এমনভাবে আলাদা করতেন যে, আমরা তাঁর বগল দেখতে পেতাম। ইবনু বুকাইর বলেন, বাকর হাদীস বর্ণনা করে বলেছেন, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেতাম। (৩৯০ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০৯)
হাদিস নং: ৩৫৬৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الاعلى بن حماد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد عن قتادة ان انسا حدثهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان لا يرفع يديه في شيء من دعاىه الا في الاستسقاء فانه كان يرفع يديه حتى يرى بياض ابطيه وقال ابو موسى دعا النبي صلى الله عليه وسلم ورفع يديه ورايت بياض ابطيه
৩৫৬৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তিস্কায় যতটা উঠাতেন অন্য কোন দু’আয় তাঁর বাহুদ্বয় এতটা ঊর্ধ্বে উঠাতেন না, কেননা এতে হাত এত ঊর্ধ্বে উঠাতেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। আবূ মূসা (রহ.) হাদীস বর্ণনায় বলেন, আনাস (রাঃ) বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আর মধ্যে দু’ হাত উপরে উঠিয়েছেন এবং আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখেছি। (১০৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১০)
হাদিস নং: ৩৫৬৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن الصباح حدثنا محمد بن سابق حدثنا مالك بن مغول قال سمعت عون بن ابي جحيفة ذكر عن ابيه قال دفعت الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالابطح في قبة كان بالهاجرة خرج بلال فنادى بالصلاة ثم دخل فاخرج فضل وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم فوقع الناس عليه ياخذون منه ثم دخل فاخرج العنزة وخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم كاني انظر الى وبيص ساقيه فركز العنزة ثم صلى الظهر ركعتين والعصر ركعتين يمر بين يديه الحمار والمراة
৩৫৬৬. আবূ জুহায়ফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নেয়া হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবতাহ নামক জায়গায় দুপুর বেলায় একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। বিলাল (রাঃ) তাঁবু হতে বেরিয়ে এসে যুহরের সালাতের আযান দিলেন এবং আবার প্রবেশ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বেরিয়ে এলেন। লোকজন তা নেয়ার জন্য ঝাপিয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি আবার তাঁবুতে ঢুকে একটি ছোট্ট বর্শা নিয়ে বেরিয়ে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও বেরিয়ে আসলেন। আমি যেন তাঁর পায়ের গোছার উজ্জ্বলতা, এখনো দেখতে পাচ্ছি। বর্শাটি সম্মুখে পুঁতে রাখলেন। অতঃপর যুহরের দু’ রাক‘আত এবং পরে ‘আসরের দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। বর্শার বাহির দিয়ে গাধা ও নারীরা চলাফেরা করছিল। (১৮৭ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১১)
হাদিস নং: ৩৫৬৭ সহিহ (Sahih)
حدثني الحسن بن صباح البزار حدثنا سفيان عن الزهري عن عروة عن عاىشة رضي الله عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يحدث حديثا لو عده العاد لاحصاه
৩৫৬৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে কথা বলতেন যে, কোন গণনাকারী গুণতে চাইলে তাঁর কথাগুলি গণনা করতে পারত।  (৩৫৬৮ ) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১২ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৫৬৮ সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني يونس عن ابن شهاب انه قال اخبرني عروة بن الزبير عن عاىشة انها قالت الا يعجبك ابو فلان جاء فجلس الى جانب حجرتي يحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمعني ذلك وكنت اسبح فقام قبل ان اقضي سبحتي ولو ادركته لرددت عليه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يسرد الحديث كسردكم
৩৫৬৮. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুমি অমুকের অবস্থা দেখে কি অবাক হও না? তিনি এসে আমার হুজরার পাশে বসে আমাকে শুনিয়ে হাদীস বর্ণনা করেন। আমি তখন সালাতে ছিলাম। আমার সালাত শেষ হবার আগেই তিনি উঠে চলে যান। যদি আমি তাকে পেতাম তবে আমি অবশ্যই তাকে সতর্ক করে দিতাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মত দ্রুততার সঙ্গে কথা বলতেন না। (৩৫৬৭, মুসলিম ৪৪/৩৫ হাঃ ২৪৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১২ শেষাংশ)
অধ্যায় তালিকা