অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬২/১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের ফযীলত।*
মোট ১২৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৩৭৫৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا عبد الوارث عن خالد عن عكرمة عن ابن عباس قال ضمني النبي صلى الله عليه وسلم الى صدره وقال اللهم علمه الحكمة حدثنا ابو معمر حدثنا عبد الوارث وقال علمه الكتاب حدثنا موسى حدثنا وهيب عن خالد مثله والحكمة الاصابة في غير النبوة
৩৭৫৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্, তাকে হিকমত শিক্ষা দিন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮১)

‘আবদুল ওয়ারিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ কথাটিও বলেছিলেন, হে আল্লাহ্! তাকে কিতাবের জ্ঞান দান করুন। মূসা (রাঃ)....খালিদ (রহ.) হতে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন الْحِكْمَةُ অর্থ নবুওয়াতের বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা। (৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮২)
হাদিস নং: ৩৭৫৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن واقد حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن حميد بن هلال عن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم نعى زيدا وجعفرا وابن رواحة للناس قبل ان ياتيهم خبرهم فقال اخذ الراية زيد فاصيب ثم اخذ جعفر فاصيب ثم اخذ ابن رواحة فاصيب وعيناه تذرفان حتى اخذ سيف من سيوف الله حتى فتح الله عليهم
৩৭৫৭. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ, জা‘ফর ও ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর মৃত্যু সংবাদ যুদ্ধক্ষেত্র হতে সংবাদ আসার পূর্বেই আমাদেরকে শুনিয়েছিলেন। তিনি বলছিলেন, যায়দ (রাঃ) পতাকা ধারণ করে শাহাদাত লাভ করেছে। অতঃপর জা‘ফর (রাঃ) পতাকা ধারণ করে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করল। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) পতাকা হাতে নিয়ে শাহাদাত লাভ করল। তিনি যখন এ কথাগুলি বলছিলেন তখন তাঁর দু’ চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। (অতঃপর বললেন) আল্লাহ তা‘আলার তরবারিগুলোর এক তরবারি অর্থাৎ খালিদ ইবনু ওয়ালিদ পতাকা উঠিয়েছেন। অবশেষে আল্লাহ মুসলিমদেরকে বিজয় দিয়েছেন। (১২৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৩)
হাদিস নং: ৩৭৫৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة عن ابراهيم عن مسروق قال ذكر عبد الله عند عبد الله بن عمرو فقال ذاك رجل لا ازال احبه بعد ما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول استقرىوا القران من اربعة من عبد الله بن مسعود فبدا به وسالم مولى ابي حذيفة وابي بن كعب ومعاذ بن جبل قال لا ادري بدا بابي او بمعاذ بن جبل
৩৭৫৮. মাসরূক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর মজলিসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর আলোচনা হলে তিনি বললেন, আমি এই লোককে ঐদিন হতে অত্যন্ত ভালবাসি যেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা চার ব্যক্তি হতে কুরআন শিক্ষা কর, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ সর্বপ্রথম তাঁর নাম বললেন, আবূ হুযাইফাহ (রাঃ)-এর মুক্ত গোলাম সালিম, ‘উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে। উবাই (রাঃ) ও মু‘আয (রাঃ) এ দু’জনের কার নাম আগে বলেছিলেন সেটুকু আমার স্মরণ নেই। (৩৭৬০, ৩৮০৬, ৩৮০৮, ৪৯৯৯, মুসলিম ৪৪/২২ হাঃ ২৪৬৪) (১৪০৮আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৪)
হাদিস নং: ৩৭৫৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر حدثنا شعبة عن سليمان قال سمعت ابا واىل قال سمعت مسروقا قال قال عبد الله بن عمرو ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن فاحشا ولا متفحشا وقال ان من احبكم الي احسنكم اخلاقا
৩৭৫৯. মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগতভাবে বা ইচ্ছাপূর্বক অশ্লীল ভাষী ছিলেন না। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আমার সবচেয়ে প্রিয় যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। (৩৫৫৯) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৫ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৭৬০ সহিহ (Sahih)
وقال استقرىوا القران من اربعة من عبد الله بن مسعود وسالم مولى ابي حذيفة وابي بن كعب ومعاذ بن جبل
৩৭৬০. তিনি আরো বলেছেন, তোমরা চার ব্যক্তির নিকট হতে কুরআন শিক্ষা কর, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ, সালিম মাওলা আবূ হুযায়ফাহ, উবাই ইবনু কা‘ব ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)। (৩৭৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৫ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৭৬১ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى عن ابي عوانة عن مغيرة عن ابراهيم عن علقمة دخلت الشام فصليت ركعتين فقلت اللهم يسر لي جليسا فرايت شيخا مقبلا فلما دنا قلت ارجو ان يكون استجاب قال من اين انت قلت من اهل الكوفة قال افلم يكن فيكم صاحب النعلين والوساد والمطهرة اولم يكن فيكم الذي اجير من الشيطان اولم يكن فيكم صاحب السر الذي لا يعلمه غيره كيف قرا ابن ام عبدوالليل فقرات والليل اذا يغشى والنهار اذا تجلى والذكر والانثى (الليل : 1-3) قال اقرانيها النبي فاه الى في فما زال هولاء حتى كادوا يردوني
৩৭৬১. ‘আলকামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়া গেলাম। মসজিদে দু’রাকআত সালাত আদায় করে দু‘আ করলাম, হে আল্লাহ্, আমাকে একজন সৎ সাথী মিলিয়ে দিন। তখন আমি একজন বৃদ্ধকে আসতে দেখলাম। তিনি ছিলেন আবূ দারদা (রাঃ)। তিনি যখন আমার নিকটে আসলেন, তখন আমি বললাম, আশা করি আমার দু‘আ কবুল হয়েছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথাকার লোক? আমি বললাম, আমার ঠিকানা কুফায়। তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুতা, বালিস ও উযূর পাত্র বহনকারী [আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)] কি বিদ্যমান নেই? তোমাদের মাঝে ঐ ব্যক্তি কি নেই, যাকে শয়তান হতে নিরাপদ করে দেয়া হয়েছে? [অর্থাৎ আম্মার (রাঃ)]। তোমাদের মাঝে কি গোপন তথ্যাভিজ্ঞ ব্যক্তিটি [হুযাইফাহ (রাঃ)] নেই, যিনি ব্যতীত এসব গোপন রহস্য অন্য কেউ জানে না। (আমি বললাম, আছেন) অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) وَاللَّيْلِ কিভাবে পড়েন? আমি পড়লাম, وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى  এভাবে পড়েন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সূরাটি সরাসরি এভাবে পড়তে শিখিয়েছেন। কিন্তু এসব লোক বার বার ব’লে আমাকে এ থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। (৩২৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৬)
হাদিস নং: ৩৭৬২ সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن ابي اسحاق عن عبد الرحمن بن يزيد قال سالنا حذيفة عن رجل قريب السمت والهدي من النبي صلى الله عليه وسلم حتى ناخذ عنه فقال ما اعرف احدا اقرب سمتا وهديا ودلا بالنبي صلى الله عليه وسلم من ابن ام عبد
৩৭৬২. আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ (রাঃ)-কে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দিতে অনুরোধ করলাম যার আকার আকৃতি, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সবচেয়ে মিল আছে, আমরা তাঁর হতে শিক্ষা গ্রহণ করব। হুযায়ফাহ (রাঃ) বললেন, আকার-আকৃতি, চাল-চালন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সবচেয়ে মিল আছে এমন লোক ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) ছাড়া অন্য কাউকেও আমি জানি না। (৬০৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৭)
হাদিস নং: ৩৭৬৩ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن العلاء حدثنا ابراهيم بن يوسف بن ابي اسحاق قال حدثني ابي عن ابي اسحاق قال حدثني الاسود بن يزيد قال سمعت ابا موسى الاشعري يقول قدمت انا واخي من اليمن فمكثنا حينا ما نرى الا ان عبد الله بن مسعود رجل من اهل بيت النبي صلى الله عليه وسلم لما نرى من دخوله ودخول امه على النبي صلى الله عليه وسلم
৩৭৬৩. আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান হতে মদিনা্তে আসি এবং বেশ কিছুদিন মদিনা্তে অবস্থান করি। তখন আমরা মনে করতাম যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারেরই একজন লোক। কারণ আমরা তাঁকে এবং তাঁর মাকে সর্বদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে প্রবেশ করতে দেখতাম। (৪৩৮৪, মুসলিম ৪৪/২২ হাঃ ২৪৬০) (১৪০৮আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৮)
হাদিস নং: ৩৭৬৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن بشر حدثنا المعافى عن عثمان بن الاسود عن ابن ابي مليكة قال اوتر معاوية بعد العشاء بركعة وعنده مولى لابن عباس فاتى ابن عباس فقال دعه فانه قد صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم
৩৭৬৪. ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মু‘আবিয়াহ (রাঃ) ‘ইশার সালাতের পর এক রাক‘আত বিতরের সালাত আদায় করেন। তখন তাঁর নিকট ইবনু ‘আব্বাসের আযাদকৃত গোলাম হাযির ছিলেন। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করেন, তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তাঁকে কিছু বলোনা, কেননা, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন। (৩৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৯)
হাদিস নং: ৩৭৬৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي مريم حدثنا نافع بن عمر حدثني ابن ابي مليكة قيل لابن عباس هل لك في امير المومنين معاوية فانه ما اوتر الا بواحدة قال اصاب انه فقيه
৩৭৬৫. ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলা হল, আপনি আমীরুল মু’মিনীন মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর সঙ্গে এ বিষয় আলাপ করবেন কি? যেহেতু তিনি বিতর সালাত এক রাক‘আত আদায় করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি ঠিকই করেছেন, কারণ তিনি নিজেই একজন ফকীহ্। (৩৭৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯০)
হাদিস নং: ৩৭৬৬ সহিহ (Sahih)
حدثني عمرو بن عباس حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن ابي التياح قال سمعت حمران بن ابان عن معاوية قال انكم لتصلون صلاة لقد صحبنا النبي صلى الله عليه وسلم فما رايناه يصليها ولقد نهى عنهما يعني الركعتين بعد العصر
৩৭৬৬. মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা এমন এক সালাত আদায় কর, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করেছি, আমরা তাঁকে তা আদায় করতে দেখিনি বরং তিনি এ দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ ‘আসরের পর দু’ রাক‘আত। (৫৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯১)
হাদিস নং: ৩৭৬৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا ابن عيينة عن عمرو بن دينار عن ابن ابي مليكة عن المسور بن مخرمة رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فاطمة بضعة مني فمن اغضبها اغضبني
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةُ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফাতিমাহ (রাঃ) জান্নাতী নারীদের নেত্রী।


৩৭৬৭. মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফাতিমাহ আমার অংশ বিশেষ। যে তাকে কষ্ট দিল সে আমাকেই কষ্ট দিল। (৯২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯২*)

 
নোট: * আধুনিক প্রকাশনীর ৩৪৮৫ নং এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ৩৪৯৩ নং হাদীসটি মূল বুখারীতে এ স্থানে সংকলিত হয়নি। এ হাদীসটি ইমাম বুখারী অত্র গ্রন্থের যথাক্রমে ৩৩২৫-৩৩২৬ ও ৩৭১৫-৩৭১৬ নং হাদীসে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৩৭৬৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن يونس عن ابن شهاب قال ابو سلمة ان عاىشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما يا عاىش هذا جبريل يقرىك السلام فقلت وعليه السلام ورحمة الله وبركاته ترى ما لا ارى تريد رسول الله صلى الله عليه وسلم
৩৭৬৮. ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ‘আয়িশাহ! জিবরাঈল (আঃ) তোমাকে সালাম বলেছেন। আমি উত্তরে বললাম, ‘‘ওয়া আলাইহিস্ সালাম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। আপনি যা দেখতে পান আমি তা দেখতে পাই না। এ কথা দ্বারা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বুঝিয়েছেন। (৩২১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯৪)
হাদিস নং: ৩৭৬৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة قال و حدثنا عمرو اخبرنا شعبة عن عمرو بن مرة عن مرة عن ابي موسى الاشعري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كمل من الرجال كثير ولم يكمل من النساء الا مريم بنت عمران واسية امراة فرعون وفضل عاىشة على النساء كفضل الثريد على ساىر الطعام
৩৭৬৯. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়েছে, কিন্তু নারীদের মধ্যে মারইয়াম বিনত ‘ইমরান ও ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া (রহ.) ছাড়া অন্য কেউ তাদের মত পূর্ণতাপ্রাপ্ত হননি। আর ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য নারীদের উপর এমন যেমন সারীদ অর্থাৎ গোশ্ত এবং রুটি দ্বারা তৈরী খাদ্য বিশেষ এর মর্যাদা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের উপর। (৩৪১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯৫)
হাদিস নং: ৩৭৭০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله قال حدثني محمد بن جعفر عن عبد الله بن عبد الرحمن انه سمع انس بن مالك يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول فضل عاىشة على النساء كفضل الثريد على ساىر الطعام
৩৭৭০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা নারীদের উপর এমন যেমন সারীদের মর্যাদা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের উপর। (৪৫১৯, ৫৪২৮, মুসলিম ৪৪/১৩ হাঃ ২৪৪৬, আহমাদ ১৩৭৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯৬)
হাদিস নং: ৩৭৭১ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا عبد الوهاب بن عبد المجيد حدثنا ابن عون عن القاسم بن محمد ان عاىشة اشتكت فجاء ابن عباس فقال يا ام المومنين تقدمين على فرط صدق على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى ابي بكر
৩৭৭১. কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাঃ) যখন (মৃত্যু) রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন। তখন ইবনু ‘আব্বাস  (রাঃ) এসে বললেন, হে উম্মুল মু’মিনীন! আপনি প্রথম সত্যবাদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর-এর নিকট যাচ্ছেন। (৪৭৫৩, ৪৭৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯৭)
হাদিস নং: ৩৭৭২ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن الحكم سمعت ابا واىل قال لما بعث علي عمارا والحسن الى الكوفة ليستنفرهم خطب عمار فقال اني لاعلم انها زوجته في الدنيا والاخرة ولكن الله ابتلاكم لتتبعوه او اياها
৩৭৭২. আবূ ওয়াইল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) তাঁর স্বপক্ষে জিহাদে সাহায্য করার জন্য লোক সংগ্রহের জন্য আম্মার ও হাসান (রাঃ)-কে কুফায় পাঠান। আম্মার (রাঃ) তাঁর ভাষণে একদা বললেন, এ কথা আমি ভালভাবেই জানি যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়া ও আখিরাতের সম্মানিতা স্ত্রী। কিন্তু এখন আল্লাহ্ তোমাদেরকে পরীক্ষা করছেন যে তোমরা কি ‘আলী (রাঃ)-এর আনুগত্য করবে, না ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর আনুগত্য করবে? (৭১০০, ৭১০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯৮)
হাদিস নং: ৩৭৭৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها انها استعارت من اسماء قلادة فهلكت فارسل رسول الله صلى الله عليه وسلم ناسا من اصحابه في طلبها فادركتهم الصلاة فصلوا بغير وضوء فلما اتوا النبي صلى الله عليه وسلم شكوا ذلك اليه فنزلت اية التيمم فقال اسيد بن حضير جزاك الله خيرا فوالله ما نزل بك امر قط الا جعل الله لك منه مخرجا وجعل للمسلمين فيه بركة
৩৭৭৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আসমা (রাঃ)-এর নিকট হতে একটি হার চেয়ে নিয়েছিলেন। পরে হারটি হারিয়ে যায়। এর অনুসন্ধানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সাহাবীকে পাঠালেন। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেলে তাঁরা পানির অভাবে উযূ ব্যতীতই সালাত আদায় করলেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এই বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) বললেন, (হে ‘আয়িশাহ) আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদানে পুরস্কৃত করুন। আল্লাহর কসম! যখনই আপনি কোন সমস্যায় পড়েছেন, তখনই আল্লাহ তা‘আলা তা থেকে আপনাকে বের করে এনেছেন এবং মুসলিমদের জন্য এর মধ্যে বরকত রেখে দিয়েছেন। (৩৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯৯)
হাদিস নং: ৩৭৭৪ সহিহ (Sahih)
حدثني عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما كان في مرضه جعل يدور في نساىه ويقول اين انا غدا اين انا غدا حرصا على بيت عاىشة قالت عاىشة فلما كان يومي سكن
৩৭৭৪. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত তখন সহধর্মিণীদের ঘরে পালাক্রমে থাকতে লাগলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থানের ইচ্ছায় এ কথাটি বলতেন, ‘‘আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব? আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমার ঘরে অবস্থানের দিনই তিনি শান্তি লাভ করলেন। (৮৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫০০)
হাদিস নং: ৩৭৭৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب حدثنا حماد حدثنا هشام عن ابيه قال كان الناس يتحرون بهداياهم يوم عاىشة قالت عاىشة فاجتمع صواحبي الى ام سلمة فقلن يا ام سلمة والله ان الناس يتحرون بهداياهم يوم عاىشة وانا نريد الخير كما تريده عاىشة فمري رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يامر الناس ان يهدوا اليه حيث ما كان او حيث ما دار قالت فذكرت ذلك ام سلمة للنبي صلى الله عليه وسلم قالت فاعرض عني فلما عاد الي ذكرت له ذاك فاعرض عني فلما كان في الثالثة ذكرت له فقال يا ام سلمة لا توذيني في عاىشة فانه والله ما نزل علي الوحي وانا في لحاف امراة منكن غيرها
৩৭৭৫. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদীয়া প্রদানের জন্য ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর গৃহে তাঁর অবস্থানের দিন হিসাব করতেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, একদা আমার সতীনগণ উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট সমবেত হয়ে বললেন, হে উম্মু সালামাহ! আল্লাহর কসম, লোকজন তাদের উপঢৌকনসমূহ প্রেরণের জন্য ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর গৃহে অবস্থানের দিন গণনা করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মত আমরাও কল্যাণ আকাঙ্ক্ষা করি। আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, তিনি যেন লোকদের বলে দেন, তারা যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন যেখানেই অবস্থান করেন সেখানেই তারা হাদীয়া পাঠিয়ে দেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এ বিষয় উল্লেখ করলেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথা শুনে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পরে আমার গৃহে অবস্থানের জন্য পুনরায় আসলে আমি ঐ কথা তাঁকে বলি। এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয়বারেও আমি ঐ কথা তাঁকে বললাম, তিনি বললেন, হে উম্মু সালামাহ! ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ব্যাপারে তোমরা আমাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে ‘আয়িশাহ (রাঃ) ছাড়া অন্য কারো শয্যায় শায়িত থাকা কালীন আমার উপর ওয়াহী নাযিল হয়নি। (২৫৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫০১)
অধ্যায় তালিকা