অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬২/১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের ফযীলত।*
মোট ১২৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৩৬৬৯
সহিহ (Sahih)
وقال عبد الله بن سالم عن الزبيدي قال عبد الرحمن بن القاسم اخبرني القاسم ان عاىشة رضي الله عنها قالت شخص بصر النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال في الرفيق الاعلى ثلاثا وقص الحديث قالت فما كانت من خطبتهما من خطبة الا نفع الله بها لقد خوف عمر الناس وان فيهم لنفاقا فردهم الله بذلك
৩৬৬৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, মৃত্যুর সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখ দু’টি বার বার উপর দিকে উঠছিল এবং তিনি বার বার বলছিলেন, সর্বোচ্চ বন্ধুর সাক্ষাতের আমি আগ্রহী। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আবূ বকর ও ‘উমার (রাঃ)-এর খুত্বা দ্বারা আল্লাহ্ তা‘আলা এ চরম মুহূর্তে উম্মাতকে রক্ষা করেছেন। ‘উমার (রাঃ) জনগণকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এমন কিছু মানুষ আছে যাদের অন্তরে কপটতা আছে আল্লাহ্ তাদের ফাঁদ হতে উম্মাতকে রক্ষা করেছেন। (১২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৫ মধ্যমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ মধ্যমাংশ)
হাদিস নং: ৩৬৭০
সহিহ (Sahih)
ثم لقد بصر ابو بكر الناس الهدى وعرفهم الحق الذي عليهم وخرجوا به يتلونوما محمد الا رسول قد خلت من قبله الرسل الى الشاكرين (ال عمران 144)
৩৬৭০. এবং আবূ বকর (রাঃ) লোকেদেরকে সত্য সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন। হক ও ন্যায়ের পথ নির্দেশ করেছেন, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর সাহাবাগণ এ আয়াত পড়তে পড়তে চলে গেলেনঃ ‘‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রাসূল মাত্র। তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন.....কৃতজ্ঞ বান্দাদের।’’ (আলু ‘ইমরানঃ ১৪৪) (১২৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০২ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৬৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير اخبرنا سفيان حدثنا جامع بن ابي راشد حدثنا ابو يعلى عن محمد بن الحنفية قال قلت لابي اي الناس خير بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ابو بكر قلت ثم من قال ثم عمر وخشيت ان يقول عثمان قلت ثم انت قال ما انا الا رجل من المسلمين
৩৬৭১. মুহাম্মাদ ইবনু হানাফীয়া (রহ.) বলেন, আমি আমার পিতা ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, আবূ বকর (রাঃ)। আমি বললাম, অতঃপর কে? তিনি বললেন, ‘উমার (রাঃ)। আমার আশংকা হল যে, অতঃপর তিনি ‘উসমান (রাঃ)-এর নাম বলবেন, তাই আমি বললাম, অতঃপর আপনি? তিনি বললেন, না, আমি তো মুসলিমদের একজন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৩)
হাদিস নং: ৩৬৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد عن مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها انها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض اسفاره حتى اذا كنا بالبيداء او بذات الجيش انقطع عقد لي فاقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه واقام الناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فاتى الناس ابا بكر فقالوا الا ترى ما صنعت عاىشة اقامت برسول الله صلى الله عليه وسلم وبالناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فجاء ابو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم واضع راسه على فخذي قد نام فقال حبست رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء قالت فعاتبني وقال ما شاء الله ان يقول وجعل يطعنني بيده في خاصرتي فلا يمنعني من التحرك الا مكان رسول الله صلى الله عليه وسلم على فخذي فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اصبح على غير ماء فانزل الله اية التيمم فتيمموا فقال اسيد بن الحضير ما هي باول بركتكم يا ال ابي بكر فقالت عاىشة فبعثنا البعير الذي كنت عليه فوجدنا العقد تحته
৩৬৭২. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক যুদ্ধ সফরে গিয়েছিলাম। আমরা যখন বায়দা অথবা যাতুল জায়শ নামক স্থানে গিয়েছিলাম; তখন আমার হারটি গলা হতে ছিঁড়ে পড়ে যায়। হারটি খোঁজার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবস্থান করেন। এজন্য সাহাবীগণও তাঁর সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে পানি ছিল না এবং তাঁদের সঙ্গেও পানি ছিল না। তাই সাহাবীগণ আবূ বকর (রাঃ)-এ নিকট এসে বললেন, আপনি কি দেখছেন না, ‘আয়িশাহ (রাঃ) কী করলেন? তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সঙ্গে সাহাবীগণকে এমন স্থানে অবস্থান করালেন যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই। তখন আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঊরুর উপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে বলতে লাগলেন, তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এবং সাহাবীগণকে এমন এক স্থানে আটকিয়ে রেখেছ, যেখানে পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও পানি নেই। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে অনেক বকাবকি করলেন। এমনকি তিনি হাত দ্বারা আমার কোমরে খোঁচা মারতে লাগলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঊরুর উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকার কারণে আমি নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না। এমনি পানি না থাকা অবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল পর্যন্ত ঘুমন্ত থাকলেন। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন এবং সকলেই তায়াম্মুম করলেন। উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ) বলেন, হে আবূ বকর (রাঃ)-এর পরিবারবর্গ, এটা আপনাদের প্রথম বরকত নয়। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা সে উটটিকে উঠালাম যে উটের উপর আমি সাওয়ার ছিলাম। আমরা হারটি তার নীচে পেয়ে গেলাম। (৩৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৪)
হাদিস নং: ৩৬৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم بن ابي اياس حدثنا شعبة عن الاعمش قال سمعت ذكوان يحدث عن ابي سعيد الخدري قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تسبوا اصحابي فلو ان احدكم انفق مثل احد ذهبا ما بلغ مد احدهم ولا نصيفه تابعه جرير وعبد الله بن داود وابو معاوية ومحاضر عن الاعمش
৩৬৭৩. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ কর না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমাণ সোনা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তবুও তাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ-এর সমপরিমাণ সওয়াব হবে না। জারীর ‘আবদুল্লাহ ইবনু দাউদ, আবূ মু‘আবিয়াহ ও মুহাযির (রহ.) আ‘মাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় শুবা (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (মুসলিম ৪৪/৫৪, হাঃ ২৫৪০) আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৫)
হাদিস নং: ৩৬৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن مسكين ابو الحسن حدثنا يحيى بن حسان حدثنا سليمان عن شريك بن ابي نمر عن سعيد بن المسيب قال اخبرني ابو موسى الاشعري انه توضا في بيته ثم خرج فقلت لالزمن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاكونن معه يومي هذا قال فجاء المسجد فسال عن النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا خرج ووجه ها هنا فخرجت على اثره اسال عنه حتى دخل بىر اريس فجلست عند الباب وبابها من جريد حتى قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حاجته فتوضا فقمت اليه فاذا هو جالس على بىر اريس وتوسط قفها وكشف عن ساقيه ودلاهما في البىر فسلمت عليه ثم انصرفت فجلست عند الباب فقلت لاكونن بواب رسول الله صلى الله عليه وسلم اليوم فجاء ابو بكر فدفع الباب فقلت من هذا فقال ابو بكر فقلت على رسلك ثم ذهبت فقلت يا رسول الله هذا ابو بكر يستاذن فقال اىذن له وبشره بالجنة فاقبلت حتى قلت لابي بكر ادخل ورسول الله صلى الله عليه وسلم يبشرك بالجنة فدخل ابو بكر فجلس عن يمين رسول الله صلى الله عليه وسلم معه في القف ودلى رجليه في البىر كما صنع النبي صلى الله عليه وسلم وكشف عن ساقيه ثم رجعت فجلست وقد تركت اخي يتوضا ويلحقني فقلت ان يرد الله بفلان خيرا يريد اخاه يات به فاذا انسان يحرك الباب فقلت من هذا فقال عمر بن الخطاب فقلت على رسلك ثم جىت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلمت عليه فقلت هذا عمر بن الخطاب يستاذن فقال اىذن له وبشره بالجنة فجىت فقلت ادخل وبشرك رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة فدخل فجلس مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في القف عن يساره ودلى رجليه في البىر ثم رجعت فجلست فقلت ان يرد الله بفلان خيرا يات به فجاء انسان يحرك الباب فقلت من هذا فقال عثمان بن عفان فقلت على رسلك فجىت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته فقال اىذن له وبشره بالجنة على بلوى تصيبه فجىته فقلت له ادخل وبشرك رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة على بلوى تصيبك فدخل فوجد القف قد ملى فجلس وجاهه من الشق الاخر قال شريك بن عبد الله قال سعيد بن المسيب فاولتها قبورهم
৩৬৭৪. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদা ঘরে উযূ করে বের হলেন এবং আমি আজ সারাদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কাটাব, তার হতে পৃথক হব না। তিনি মসজিদে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খবর নিলেন, সাহাবীগণ বললেন, তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন, আমিও ঐ পথ ধরে তাঁর অনুসরণ করলাম। তাঁর খোঁজে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত আরীস কূপের নিকট গিয়ে পৌঁছলেন। আমি কূপের দরজার নিকট বসে পড়লাম। দরজাটি খেজুরের শাখা দিয়ে তৈরি ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর প্রয়োজন সেরে উযূ করলেন। তখন আমি তাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম তিনি আরীস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখানে বসে হাঁটু পর্যন্ত পা দু’টি খুলে কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমি তাঁকে সালাম করলাম। এবং ফিরে এসে দরজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে নিলাম যে আজ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করব। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আবূ বকর! আমি বললাম থামুন, আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি ফিরে এসে আবূ বকর (রাঃ) কে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডানপাশে কুপের ধারে বসে দু‘পায়ের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মত কূপের ভিতর ভাগে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়েন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে উযূ রত অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। তারও আমার সঙ্গে মিলিত হবার কথা ছিল। তাই আমি বলতে লাগলাম, আল্লাহ যদি তার কল্যাণ চান তবে তাকে নিয়ে আসুন। এমন সময় এক ব্যক্তি দরজা নাড়তে লাগল। আমি বললাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সালাম পেশ করে আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ‘উমার ইবনু খাত্তাব অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ জানিয়ে দাও। আমি এসে তাঁকে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিচ্ছেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বামপাশে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় উঠিয়ে কূপের ভিতর দিকে পা ঝুলিয়ে বসে গেলেন। আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম আল্লাহ্ যদি আমার ভাইয়ের কল্যাণ চান, তবে যেন তাকে নিয়ে আসেন। অতঃপর আর এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়তে লাগল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উসমান ইবনু আফ্ফান। আমি বললাম, থামুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে গিয়ে জানালাম। তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসতে বল এবং তাকেও জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়ে দাও। তবে কঠিন পরীক্ষা হবে। আমি এসে বললাম, ভিতরে আসুন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিচ্ছেন, তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে। তিনি ভিতরে এসে দেখলেন, কূপের ধারে খালি জায়গা নাই। তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন। শরীফ (রহ.) বলেন, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) বলেছেন, আমি এর দ্বারা তাদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করেছি।১ (৩৬৯৩, ৩৬৯৫, ৬২১৬, ৭০৯৭, ৭২৬২, মুসলিম ৪৪/৩, হাঃ ২৪০৩, আহমাদ ১৯৬৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৬)
হাদিস নং: ৩৬৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا يحيى عن سعيد عن قتادة ان انس بن مالك حدثهم ان النبي صلى الله عليه وسلم صعد احدا وابو بكر وعمر وعثمان فرجف بهم فقال اثبت احد فانما عليك نبي وصديق وشهيدان
৩৬৭৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, উমর, ‘উসমান (রাঃ) উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। পাহাড়টি নড়ে উঠল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উহুদ! থামো তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছেন। (৩৬৮৬, ৩৬৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৭)
হাদিস নং: ৩৬৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثني احمد بن سعيد ابو عبد الله حدثنا وهب بن جرير حدثنا صخر عن نافع ان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما انا على بىر انزع منها جاءني ابو بكر وعمر فاخذ ابو بكر الدلو فنزع ذنوبا او ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ثم اخذها ابن الخطاب من يد ابي بكر فاستحالت في يده غربا فلم ار عبقريا من الناس يفري فريه فنزع حتى ضرب الناس بعطن قال وهب العطن مبرك الابل يقول حتى رويت الابل فاناخت
৩৬৭৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা আমি একটি কূপ হতে পানি টেনে তুলছি। তখন আবূ বকর ও ‘উমার (রাঃ) আসলেন। আবূ বকর (রাঃ) আমার হাত হতে বালতি তার হাতে নিয়ে এক বালতি কি দু’বালতি পানি টেনে তুললেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বালতিটি আবূ বকরের হাত হতে নিলেন, তার হাতে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বালতির আকার বড় হয়ে গেল। কোন শক্তিশালী জোরওয়ালাকে তার মত পানি আমি উঠাতে দেখিনি। লোকজন তাদের উটগুলিকে পরিতৃপ্ত করে পানি পান করিয়ে উটশালায় নিয়ে গেল। ওয়াহাব (রাবী) বলেন, الْعَطَنُ অর্থ উটশালা। এমনকি উটগুলি পানি পান করে তৃপ্ত হয়ে বসে গেল। (৩৬৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৮)
হাদিস নং: ৩৬৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثني الوليد بن صالح حدثنا عيسى بن يونس حدثنا عمر بن سعيد بن ابي الحسين المكي عن ابن ابي مليكة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال اني لواقف في قوم فدعوا الله لعمر بن الخطاب وقد وضع على سريره اذا رجل من خلفي قد وضع مرفقه على منكبي يقول رحمك الله ان كنت لارجو ان يجعلك الله مع صاحبيك لاني كثيرا ما كنت اسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كنت وابو بكر وعمر وفعلت وابو بكر وعمر وانطلقت وابو بكر وعمر فان كنت لارجو ان يجعلك الله معهما فالتفت فاذا هو علي بن ابي طالب
৩৬৭৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমিও ঐ দলের সঙ্গে দু‘আয় রত ছিলাম, যারা ‘উমার ইবনু খাত্তাবের জন্য দু‘আ করেছিল। তখন তাঁর লাশটি খাটের উপর রাখা ছিল। এমন সময় এক লোক হঠাৎ আমার পিছন দিক হতে তার কনুই আমার কাঁধের উপর রেখে ‘উমার (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলল, আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন। আমি অবশ্য এ আশা পোষণ করি যে, আল্লাহ্ আপনাকে আপনার উভয় সঙ্গীর সঙ্গেই রাখবেন। কেননা, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অনেক বার বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বকর ও ‘উমার এক সঙ্গে ছিলাম, আমি, আবূ বকর ও ‘উমার এ কাজ করেছি। আমি, আবূ বকর ও ‘উমার চলেছি। আমি এ আশাই পোষণ করি যে, আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে তাদের দু’জনের সাথেই রাখবেন। আমি পেছনে চেয়ে দেখলাম, তিনি ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)। (৩৬৮৫, মুসলিম ৪৪/২, হাঃ ২৩৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৯)
হাদিস নং: ৩৬৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن يزيد الكوفي حدثنا الوليد عن الاوزاعي عن يحيى بن ابي كثير عن محمد بن ابراهيم عن عروة بن الزبير قال سالت عبد الله بن عمرو عن اشد ما صنع المشركون برسول الله صلى الله عليه وسلم قال رايت عقبة بن ابي معيط جاء الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فوضع رداءه في عنقه فخنقه به خنقا شديدا فجاء ابو بكر حتى دفعه عنه فقالاتقتلون رجلا ان يقول ربـي الله وقد جآءكم بالبينت من ربكم (غافر : 28)
৩৬৭৮. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, মক্কার মুশরিকরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সবচেয়ে কঠিন আচরণ কী করেছিল? তিনি বললেন, আমি ‘উক্বাহ ইবনু আবূ মুআইতকে দেখেছি; সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। সে নিজের চাদর দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গলায় জড়িয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। আবূ বকর (রাঃ) এসে ‘উকবাহ্কে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, ‘‘তোমরা কি এমন লোককে মেরে ফেলতে চাও, যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহ্ই আমার রব। যিনি তাঁর দাবীর স্বপক্ষে তোমাদের রবের কাছ হতে স্পষ্ট প্রমাণ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন?’’ (আল-মু’মিন/গাফিরঃ ২৮) (৩৮৫৬, ৪৮১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১০)
হাদিস নং: ৩৬৭৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا حجاج بن منهال، حدثنا عبد العزيز الماجشون، حدثنا محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله ـ رضى الله عنهما ـ قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " رايتني دخلت الجنة، فاذا انا بالرميصاء امراة ابي طلحة وسمعت خشفة، فقلت من هذا فقال هذا بلال. ورايت قصرا بفناىه جارية، فقلت لمن هذا فقال لعمر. فاردت ان ادخله فانظر اليه، فذكرت غيرتك ". فقال عمر بامي وابي يا رسول الله اعليك اغار
৩৬৭৯. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি স্বপ্নে আমাকে দেখলাম যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি। হঠাৎ আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর স্ত্রী রুমায়সাকে দেখতে পেলাম এবং আমি পদচারণার শব্দও শুনতে পেলাম। তখন আমি বললাম, এই ব্যক্তি কে? এক ব্যক্তি বলল, তিনি বিলাল (রাঃ)। আমি একটি প্রাসাদও দেখতে পেলাম যার উঠানে এক মহিলা আছে। আমি বললাম, ঐ প্রাসাদটি কার? এক ব্যক্তি বলল, প্রাসাদটি ‘উমার ইবনু খাত্তাবের (রাঃ)। আমি প্রাসাদটিতে প্রবেশ করে দেখার ইচ্ছা করলাম। তখন তোমার [‘উমার (রাঃ)] সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধের কথা স্মরণ করলাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবান, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছেও কি মর্যাদাবোধ দেখাতে পারি? (৫২২৬, ৭০২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১১)
হাদিস নং: ৩৬৮০
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم اخبرنا الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني سعيد بن المسيب ان ابا هريرة قال بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ قال بينا انا ناىم رايتني في الجنة فاذا امراة تتوضا الى جانب قصر فقلت لمن هذا القصر قالوا لعمر فذكرت غيرته فوليت مدبرا فبكى عمر وقال اعليك اغار يا رسول الله
৩৬৮০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। স্বপ্নে আমি নিজেকে জান্নাতে দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম, এক নারী একটি প্রাসাদের উঠানে উযূ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ প্রাসাদটি কার? ফেরেশতামন্ডলী বললেন, তা ‘উমার (রাঃ)-এর। আমি ‘উমার (রাঃ)-এর সূক্ষ্ম মর্যাদাবোধের কথা মনে করে ফিরে এলাম। ‘উমার (রাঃ) (শুনে) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, আপনার নিকটও কি মর্যাদাবোধ দেখাব হে আল্লাহর রাসূল? (৩২৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১২)
হাদিস নং: ৩৬৮১
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن الصلت ابو جعفر الكوفي حدثنا ابن المبارك عن يونس عن الزهري قال اخبرني حمزة عن ابيه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا انا ناىم شربت يعني اللبن حتى انظر الى الري يجري في ظفري او في اظفاري ثم ناولت عمر فقالوا فما اولته قال العلم
৩৬৮১. হামযাহ (রহ.)-এর পিতা [‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)] হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঘুমিয়েছিলাম। (স্বপ্নে) দুধ পান করতে দেখলাম যে তৃপ্তির নিদর্শন যেন আমার নখগুলির মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর দুধ ‘উমার (রাঃ)-কে দিলাম। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন? তিনি বললেন, ইলম। (৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৩)
হাদিস নং: ৩৬৮২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير حدثنا محمد بن بشر حدثنا عبيد الله قال حدثني ابو بكر بن سالم عن سالم عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم قال اريت في المنام اني انزع بدلو بكرة على قليب فجاء ابو بكر فنزع ذنوبا او ذنوبين نزعا ضعيفا والله يغفر له ثم جاء عمر بن الخطاب فاستحالت غربا فلم ار عبقريا يفري فريه حتى روي الناس وضربوا بعطن قال ابن جبير العبقري عتاق الزرابي وقال يحيى الزرابي الطنافس لها خمل رقيق مبثوثة كثيرة
৩৬৮২. আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, একটি কূপের পাড়ে বড় বালতি দিয়ে পানি তুলছি। তখন আবূ বকর (রাঃ) এসে এক বালতি বা দু’বালতি পানি তুললেন। তবে পানি তোলার মধ্যে তাঁর দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। অতঃপর ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এলেন। বালতিটি তাঁর হাতে গিয়ে বড় আকার ধারণ করল। তাঁর মত এমন দৃঢ়ভাবে পানি উঠাতে আমি কোন তাকৎওয়ালাকেও দেখেনি। এমনকি লোকেরা তৃপ্তির সাথে পানি পান করে গৃহে বিশ্রাম নিল। ইবনু জুবাইর (রহ.) বলেন, الْعَبْقَرِيُّ হল উন্নত মানের সুন্দর বিছানা। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, الزَّرَابِيِّ হল মখমলের সূক্ষ্ম সূতার তৈরি বিছানা। مَبْثُوْثَةٌ অর্থ বিস্তারিত। আর الْعَبْقَرِيَّ হল গোত্রপতি। (৩৬৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৪)
হাদিস নং: ৩৬৮৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا يعقوب بن ابراهيم قال حدثني ابي عن صالح عن ابن شهاب اخبرني عبد الحميد ان محمد بن سعد اخبره ان اباه قال ح حدثني عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب عن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد عن محمد بن سعد بن ابي وقاص عن ابيه قال استاذن عمر بن الخطاب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعنده نسوة من قريش يكلمنه ويستكثرنه عالية اصواتهن على صوته فلما استاذن عمر بن الخطاب قمن فبادرن الحجاب فاذن له رسول الله فدخل عمر ورسول الله يضحك فقال عمر اضحك الله سنك يا رسول الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم عجبت من هولاء اللاتي كن عندي فلما سمعن صوتك ابتدرن الحجاب فقال عمر فانت احق ان يهبن يا رسول الله ثم قال عمر يا عدوات انفسهن اتهبنني ولا تهبن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلن نعم انت افظ واغلظ من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ايها يا ابن الخطاب والذي نفسي بيده ما لقيك الشيطان سالكا فجا قط الا سلك فجا غير فجك
৩৬৮৩. সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর সঙ্গে কুরাইশের কয়েকজন নারী কথা বলছিলেন এবং তাঁরা অধিক পরিমাণ দাবী দাওয়া করতে গিয়ে তাঁর আওয়াজের চেয়ে তাদের আওয়াজ উচ্চ ছিল। যখন ‘উমার ইবনু খাত্তাব প্রবেশের অনুমতি চাইলেন তখন তাঁরা উঠে দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। আর ‘উমার (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করলেন, রাসূলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ আপনাকে সদা হাস্য রাখুন হে আল্লাহর রাসূল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নারীদের ব্যাপার দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তাঁরা আমার নিকট ছিল, অথচ তোমার আওয়াজ শুনা মাত্র তারা সব দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেই-তো অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) ঐ মহিলাগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে নিজের ক্ষতিকারী নারীরা! তোমরা আমাকে ভয় কর, অথচ আল্লাহর রাসূলকে ভয় কর না? তারা উত্তরে বললেন, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনেক কঠোর ভাষী ও শক্ত অন্তরের। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ ঠিকই হে ইবনু খাত্তাব! যে সত্তার হাতে আমার জান, তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোন রাস্তায় তোমাকে দেখতে পায় সে তখনই তোমার ভয়ে এ রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা ধরে। (৩২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৫)
হাদিস নং: ৩৬৮৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن اسماعيل حدثنا قيس قال قال عبد الله مازلنا اعزة منذ اسلم عمر
৩৬৮৪. আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেদিন ‘উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন, সেদিন হতে আমরা অত্যন্ত মর্যাদাশীল হয়ে আসছি। (৩৮৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৬)
হাদিস নং: ৩৬৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان اخبرنا عبد الله حدثنا عمر بن سعيد عن ابن ابي مليكة انه سمع ابن عباس يقول وضع عمر على سريره فتكنفه الناس يدعون ويصلون قبل ان يرفع وانا فيهم فلم يرعني الا رجل اخذ منكبي فاذا علي بن ابي طالب فترحم على عمر وقال ما خلفت احدا احب الي ان القى الله بمثل عمله منك وايم الله ان كنت لاظن ان يجعلك الله مع صاحبيك وحسبت اني كنت كثيرا اسمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ذهبت انا وابو بكر وعمر ودخلت انا وابو بكر وعمر وخرجت انا وابو بكر وعمر
৩৬৮৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর লাশ খাটের উপর রাখা হল। খাটটি কাঁধে তুলে নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত লোকজন তা ঘিরে দু’আ পাঠ করছিল। আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। হঠাৎ একজন আমার স্কন্ধে হাত রাখায় আমি চমকে উঠলাম। চেয়ে দেখলাম, তিনি ‘আলী (রাঃ)। তিনি ‘উমার (রাঃ)-এর জন্য আল্লাহর অশেষ রহমতের দু‘আ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, হে ‘উমার! আমার জন্য আপনার চেয়ে বেশি প্রিয় এমন কোন ব্যক্তি আপনি রেখে যাননি, যাঁর কালের অনুসরণ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করব। আল্লাহর কসম। আমার এ বিশ্বাস যে আল্লাহ্ আপনাকে আপনার সঙ্গীদ্বয়ের সঙ্গে রাখবেন। আমার মনে আছে, আমি অনেকবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বকর ও ‘উমার গেলাম। আমি, আবূ বকর ও ‘উমার প্রবেশ করলাম এবং আমি, আবূ বকর ও ‘উমার বাহির হলাম ইত্যাদি। (৩৬৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৭)
হাদিস নং: ৩৬৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد بن ابي عروبة ح و قال لي خليفة حدثنا محمد بن سواء وكهمس بن المنهال قالا حدثنا سعيد عن قتادة عن انس بن مالك قال صعد النبي صلى الله عليه وسلم الى احد ومعه ابو بكر وعمر وعثمان فرجف بهم فضربه برجله قال اثبت احد فما عليك الا نبي او صديق او شهيدان
৩৬৮৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবূ বাক্ও, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ)। তাদেরকে নিয়ে পাহাড়টি দুলে উঠল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়কে পায়ে আঘাত করে বললেন, হে উহুদ, থামো। তোমার উপর নবী, সিদ্দীক ও শহীদ ছাড়া অন্য কেউ নেই। (৩৬৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৮)
হাদিস নং: ৩৬৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر هو ابن محمد ان زيد بن اسلم حدثه عن ابيه قال سالني ابن عمر عن بعض شانه يعني عمر فاخبرته فقال ما رايت احدا قط بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم من حين قبض كان اجد واجود حتى انتهى من عمر بن الخطاب
৩৬৮৭. আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে ‘উমার (রাঃ)-এর বিভিন্ন গুণাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আমি তাকে সে সম্পর্কে জ্ঞাত করলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর কাউকে (এ সব গুণের অধিকারী) আমি দেখিনি। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়চেতা দানবীর ছিলেন। এ সকল গুণাগুণ যেন ‘উমার (রাঃ) পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১৯)
হাদিস নং: ৩৬৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن انس ان رجلا سال النبي صلى الله عليه وسلم عن الساعة فقال متى الساعة قال وماذا اعددت لها قال لا شيء الا اني احب الله ورسوله فقال انت مع من احببت قال انس فما فرحنا بشيء فرحنا بقول النبي صلى الله عليه وسلم انت مع من احببت قال انس فانا احب النبي صلى الله عليه وسلم وابا بكر وعمر وارجو ان اكون معهم بحبي اياهم وان لم اعمل بمثل اعمالهم
৩৬৮৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কী জোগাড় করেছ? সে বলল, কোন কিছুই জোগাড় করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তখন তিনি বললেন, তুমি তাঁদের সঙ্গেই থাকবে যাঁদেরকে তুমি ভালবাস। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা দ্বারা আমরা এত আনন্দিত হয়েছি যে, অন্য কোন কথায় এত আনন্দিত হইনি। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালবাসি এবং আবূ বকর ও ‘উমার (রাঃ)-কেও। আশা করি তাঁদেরকে আমার ভালবাসার কারণে তাদের সঙ্গে জান্নাতে বসবাস করতে পারব; যদিও তাঁদের ‘আমলের মত ‘আমল আমি করতে পারিনি। (৬১৬৭, ৬১৭১, ৬১৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২০)