অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৩/১. আনসারগণের মর্যাদা।
মোট ১৭৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৩৯১৬ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن صباح او بلغني عنه حدثنا اسماعيل عن عاصم عن ابي عثمان قال سمعت ابن عمر رضي الله عنهما اذا قيل له هاجر قبل ابيه يغضب قال وقدمت انا وعمر على رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجدناه قاىلا فرجعنا الى المنزل فارسلني عمر وقال اذهب فانظر هل استيقظ فاتيته فدخلت عليه فبايعته ثم انطلقت الى عمر فاخبرته انه قد استيقظ فانطلقنا اليه نهرول هرولة حتى دخل عليه فبايعه ثم بايعته
৩৯১৬. আবূ ‘উসমান (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তাঁকে একথা বলা হলে, "আপনি আপনার পিতার আগে হিজরত করেছেন" তিনি রাগ করতেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি এবং ‘উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলাম। তখন তাঁকে কায়লুলাহ অবস্থায় পেলাম। কাজেই আমরা আমাদের আবাসস্থলে ফিরে এলাম। কিছুক্ষণ পর ‘উমার (রাঃ) আমাকে পাঠালেন এবং বললেন যাও; গিয়ে দেখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগেছেন কিনা? আমি এসে তাঁর কাছে হাযির হলাম এবং তাঁর কাছে বায়‘আত করলাম। তারপর ‘উমার (রাঃ) এর নিকট এসে তাঁকে খবর দিলাম যে, তিনি জেগে গেছেন। তখন আমরা তাঁর নিকট গেলাম দ্রুতবেগে। তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করে বায়‘আত করলেন। তারপর আমিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে আবার বায়‘আত করলাম। (৪১৮৬, ৪১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩১)
হাদিস নং: ৩৯১৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن عثمان حدثنا شريح بن مسلمة حدثنا ابراهيم بن يوسف عن ابيه عن ابي اسحاق قال سمعت البراء يحدث قال ابتاع ابو بكر من عازب رحلا فحملته معه قال فساله عازب عن مسير رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اخذ علينا بالرصد فخرجنا ليلا فاحثثنا ليلتنا ويومنا حتى قام قاىم الظهيرة ثم رفعت لنا صخرة فاتيناها ولها شيء من ظل قال ففرشت لرسول الله صلى الله عليه وسلم فروة معي ثم اضطجع عليها النبي صلى الله عليه وسلم فانطلقت انفض ما حوله فاذا انا براع قد اقبل في غنيمة يريد من الصخرة مثل الذي اردنا فسالته لمن انت يا غلام فقال انا لفلان فقلت له هل في غنمك من لبن قال نعم قلت له هل انت حالب قال نعم فاخذ شاة من غنمه فقلت له انفض الضرع قال فحلب كثبة من لبن ومعي اداوة من ماء عليها خرقة قد رواتها لرسول الله صلى الله عليه وسلم فصببت على اللبن حتى برد اسفله ثم اتيت به النبي صلى الله عليه وسلم فقلت اشرب يا رسول الله فشرب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى رضيت ثم ارتحلنا والطلب في اثرنا
৩৯১৭. আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন, আমি বারা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আবূ বকর(রাঃ) আমার পিতা আযিব (রাঃ)-এর নিকট হাওদা কিনলেন। আমি আবূ বকরের সাথে কেনা হাওদাটি বয়ে নিয়ে চললাম। তখন আমার পিতা আযিব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর হিজাতের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমাদের খোঁজ করার জন্য মুশরিকরা লোক নিয়োগ করছিল। অবশেষে আমরা রাত্রিকালে বেরিয়ে পড়লাম এবং একরাত ও একদিন একটানা চলতে থাকলাম। যখন দুপুর হয়ে গেল, তখন একটি বিরাট পাথর নযরে পড়ল। আমরা সেটির কাছে এলাম, পাথরটির কিছু ছায়া পড়ছিল। আমি সেখানে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আমার সঙ্গের চামড়াখানি বিছিয়ে দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওটার উপর শুয়ে পড়লেন। আমি এদিক-ওদিক খোঁজ নেয়ার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ এক বকরীর রাখালকে দেখতে পেলাম। সে তার বকরীগুলো নিয়ে আসছে। সেও আমাদের মত পাথরের ছায়ায় আশ্রয় নিতে চায়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কার গোলাম? সে বলল, আমি অমুকের। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার বকরীর পালে দুধ আছে কি? সে বলল, হাঁ। আমি বললাম, তুমি কি কিছু দোহন করে দিবে? সে বলল, হাঁ। সে তাঁর পাল হতে একটি বকরী ধরে নিয়ে এল। আমি বললাম, বকরীর স্তন দু’টি ঝেড়ে মুছে সাফ করে নাও। সে একপাত্র ভর্তি দুধ দোহন করল। আমার সাথে একটি পানির পাত্র ছিল। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কাপড় দিয়ে তার মুখ বেঁধে রেখেছিলাম। আমি তা হতে দুধের মধ্যে কিছু পানি ঢেলে দিলাম। ফলে পাত্রের তলা পর্যন্ত শীতল হয়ে গেল। আমিতা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললাম, পান করুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে পান করলেন যে, আমি সন্তুষ্ট হলাম। এরপর আমরা যাত্রা করলাম এবং অনুসন্ধানকারী আমাদের পিছনে ছিল। (২৪৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩২ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৯১৮ সহিহ (Sahih)
قال البراء فدخلت مع ابي بكر على اهله فاذا عاىشة ابنته مضطجعة قد اصابتها حمى فرايت اباها فقبل خدها وقال كيف انت يا بنية
৩৯১৮. বারা (রাঃ) বলেন, আমি আবূ বকরের সঙ্গে তাঁর ঘরে ঢুকালাম।* তখন দেখলাম তাঁর মেয়ে ‘আয়িশাহ (রাঃ) বিছানায় শুয়ে আছেন। তাঁর জ্বর হয়েছে। তাঁর পিতা আবূ বকর (রাঃ)-কে দেখলাম তিনি মেয়ের গালে চুমু ** খেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, মা তুমি কেমন আছ? (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩২ শেষাংশ)
নোট: * আবূ বাক্‌র (রাঃ) -এর সাথে তাঁর ঘরে বারা‘ (রাঃ)-এর উক্ত প্রবেশটি ছিল পর্দার বিধান অবতীর্ণ হবার পূর্বে এবং তখন তিনি অপ্রাপ্ত বয়স্কা ছিলেন।
** আবূ বাক্‌র (রাঃ)- কর্তৃক স্বীয় কন্যা ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর চুমু খাওয়া ছিল স্নেহ ও সোহাগের; কেননা তিনি তখন ছোট্ট ছিলেন। (ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড ৩২৬ পৃষ্ঠা)
হাদিস নং: ৩৯১৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن عبد الرحمن حدثنا محمد بن حمير حدثنا ابراهيم بن ابي عبلة ان عقبة بن وساج حدثه عن انس خادم النبي صلى الله عليه وسلم قال قدم النبي صلى الله عليه وسلم وليس في اصحابه اشمط غير ابي بكر فغلفها بالحناء والكتم
৩৯১৯। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদিম আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় আগমন করলেন। এই সময় তাঁর সাহাবীদের মধ্যে সাদা কাল চুলওয়ালা আবূ বকর (রাঃ) ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। তিনি তাঁর চুলে মেহদী ও কতম (এক প্রকার পাতা) একত্র করে কলপ লাগিয়েছিলেন। (৩৯২০)
হাদিস নং: ৩৯২০ সহিহ (Sahih)
وقال دحيم حدثنا الوليد حدثنا الاوزاعي حدثني ابو عبيد عن عقبة بن وساج حدثني انس بن مالك قال قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة فكان اسن اصحابه ابو بكر فغلفها بالحناء والكتم حتى قنا لونها
৩৯২০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এলেন, তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন সবচেয়ে বয়স্ক। তিনি মেহেদী ও কতম একত্র করে কলপ লাগিয়েছিলেন। এতে তাঁর সাদা চুল টুকটুকে লাল রং ধারণ করেছিল। (৩৯১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৩)
হাদিস নং: ৩৯২১ সহিহ (Sahih)
حدثنا اصبغ حدثنا ابن وهب عن يونس عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير عن عاىشة ان ابا بكر تزوج امراة من كلب يقال لها ام بكر فلما هاجر ابو بكر طلقها فتزوجها ابن عمها هذا الشاعر الذي قال هذه القصيدة رثى كفار قريش
وماذا بالقليب قليب بــدر من الشيزى تزين بالسنــام
وماذا بالقليب قليب بــدر من القينات والشرب الكـرام
تحيينا السلامة ام بكـــر وهل لي بعد قومي من سلام
يحدثنا الرسول بان سنحيـا وكيف حياة اصداء وهــام
৩৯২১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) কালব গোত্রের উম্মে বাকর নাম্নী এক মহিলাকে বিয়ে করলেন। যখন আবূ বকর (রাঃ) হিজরত করেন, তখন তাকে তালাক দিয়ে যান। তারপর ঐ মহিলাকে তার চাচাত ভাই বিয়ে করে নিল। এই লোকটিই হল সেই কবি যে বদর যুদ্ধে নিহত কুরাইশ কাফিরদের শোকগাঁথা রচনা করেছিল।

বাদ্র প্রান্তে কালীব নামক কূপে নিক্ষিপ্ত ঐ সব কাফিরগণ আজ কোথায় যাদের শিযা নামক কাঠের তৈরি খাদ্য-পাত্রে উটের কুঁজের মাংসে সুসজ্জিত থাকত।

বদরের কালীব কূপে নিক্ষিপ্ত ব্যক্তিগণ আজ কোথায় যারা গায়িকা ও সম্মানিত মদ্যপানকারী নিয়ে নিমগ্ন ছিল।

উম্মু বাকর শান্তির স্বাগত জানাচ্ছে। আর আমার কাওমের পর আমার জন্য শান্তি কোথায়?

রাসূল আমাদের বলেছেন যে, শীঘ্রই আমাদের জীবিত করা হবে। কিন্তু চলে যাওয়া আত্মা ও মাথার খুলির জীবন ফিরবে আবার কিভাবে?’’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৪)
হাদিস নং: ৩৯২২ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا همام عن ثابت عن انس عن ابي بكر قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في الغار فرفعت راسي فاذا انا باقدام القوم فقلت يا نبي الله لو ان بعضهم طاطا بصره رانا قال اسكت يا ابا بكر اثنان الله ثالثهما
৩৯২২. আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে গুহায় ছিলাম। আমি আমার মাথা উঠিয়ে উপরের দিকে তাকালাম এবং লোকের পা দেখতে পেলাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! তাদের কেউ নীচের দিকে তাকালেই আমাদের দেখে ফেলবে। তিনি বললেন, হে আবূ বকর! চুপ থাক। আমরা দু’জন আল্লাহ্ হলেন যাদের তৃতীয়। (৩৬৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৫)
হাদিস নং: ৩৯২৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا الوليد بن مسلم حدثنا الاوزاعي وقال محمد بن يوسف حدثنا الاوزاعي حدثنا الزهري قال حدثني عطاء بن يزيد الليثي قال حدثني ابو سعيد قال جاء اعرابي الى النبي صلى الله عليه وسلم فساله عن الهجرة فقال ويحك ان الهجرة شانها شديد فهل لك من ابل قال نعم قال فتعطي صدقتها قال نعم قال فهل تمنح منها قال نعم قال فتحلبها يوم ورودها قال نعم قال فاعمل من وراء البحار فان الله لن يترك من عملك شيىا
৩৯২৩. আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং তাঁকে হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, ওহে! হিজরত বড় কঠিন কাজ। এরপর বললেন, তোমার কি উট আছে? সে বলল, হাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি উটের সাদকা আদায় কর? সে বলল, হাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি উটনীর দুধ অন্যকে পান করতে দাও। সে বলল, হাঁ। তিনি বললেন, যেদিন পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে উটগুলি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় সেদিন কি তুমি দুধ দোহন করে দান কর? সে বলল, হাঁ। তিনি বললেন, তবে তুমি সমুদ্রের অপর প্রাপ্ত থেকেই নেক ‘আমল করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমার ‘আমলের কিছুই ঘাটতি করবেন না।* (১৪৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৬)
নোট: * ইসলামের প্রতিকূল অবস্থায় থেকেও যথাসাধ্য আল্লাহ্‌র বিধান পালন করতে পারলে সে স্থান হতে হিজরাত ওয়াজিব নয়। উক্ত হাদীসে এরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, হিজরাত সম্পর্কে প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসাটি ছিল মক্কাহ বিজয়ের পর; কেননা তা বিজয়ের পূর্বে হিজরাত প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির উপর ওয়াজিব ছিল। (ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড ৩৩০ পৃষ্ঠা)
হাদিস নং: ৩৯২৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا شعبة قال انبانا ابو اسحاق سمع البراء قال اول من قدم علينا مصعب بن عمير وابن ام مكتوم ثم قدم علينا عمار بن ياسر وبلال رضي الله عنهم
৩৯২৪. বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বাগ্রে আমাদের মধ্যে মদিনা্য় আগমন করেন মুস‘আব ইবনু উমায়ের ও ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ)। অতঃপর আমাদের কাছে আসেন আম্মার ইবনু ইয়াসির ও বিলাল (রাঃ) (৩৯২৫, ৪৯৪১, ৪৯৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৭)
হাদিস নং: ৩৯২৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن ابي اسحاق قال سمعت البراء بن عازب رضي الله عنهما قال اول من قدم علينا مصعب بن عمير وابن ام مكتوم وكانا يقرىان الناس فقدم بلال وسعد وعمار بن ياسر ثم قدم عمر بن الخطاب في عشرين من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ثم قدم النبي صلى الله عليه وسلم فما رايت اهل المدينة فرحوا بشيء فرحهم برسول الله صلى الله عليه وسلم حتى جعل الاماء يقلن قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم فما قدم حتى قرات سبح اسم ربك الاعلى في سور من المفصل
৩৯২৫. বারা‘ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বাগ্রে আমাদের মধ্যে মদিনা্য় আসলেন মুস‘আব ইবনু উমায়ের এবং ইবনু উম্মু মাকতুম। তারা লোকদের কুরআন পড়াতেন। তারপর আসলেন, বিলাল, সা‘দ ও আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) এরপর ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশজন সাহাবীসহ মদিনায় আসলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন। তাঁর আগমনে মদিনাবাসী যতখানি আনন্দিত হয়েছিল ততখানি আনন্দিত হতে কখনো দেখিনি। এমনকি দাসীগণও বলছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভাগমন করেছেন। বারা (রাঃ) বলেন, তাঁর আগমনের পূর্বেই মুফাস্সালের* কয়েকটি সূরাহসহ আমি سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى  সূরাহ পর্যন্ত পড়ে ফেলেছিলাম। (৩৯২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৮)
নোট: * কুরআন মাজীদের শেষ অংশের সূরাহ সমূহকে মুফাস্‌সাল বলা হয়, কেননা তাতে প্রতিটি সূরাহ এর মধ্যে ছোট ছোট ধারায় বিভিন্ন বিষয়ের বর্ণনা করা হয়েছে। আর মুফাস্‌সালের শুরু হচ্ছেঃ সূরাহ আল হুজুরাত। অতঃপর মুফাস্‌সালকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ (১) তিওয়ালু মুফাস্‌সালঃ আল হুজুরাত হতে আল বুরুজ পর্যন্ত। (২) ওয়াসাতু মুফাস্‌সালঃ আল বুরুজ হতে আল বাইয়্যিনাহ পর্যন্ত। (৩) ক্বিসারু মুফাস্‌সালঃ আল বাইয়্যিনাহ হতে আল ফুরকানের শেষ পর্যন্ত। (সূত্রঃ ইতহাফুল কিয়াম- তা’লীক-বুলূগুল মারাম ৮৫ পৃষ্ঠা)
হাদিস নং: ৩৯২৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها انها قالت لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وعك ابو بكر وبلال قالت فدخلت عليهما فقلت يا ابت كيف تجدك ويا بلال كيف تجدك قالت فكان ابو بكر اذا اخذته الحمى يقول :
كل امرى مصبح في اهله والموت ادنى من شراك نعله
وكان بلال اذا اقلع عنه الحمى يرفع عقيرته ويقول :
الا ليت شعري هل ابيتن ليلـة بواد وحولي اذخر وجـليل
وهل اردن يوما مياه مــجنة وهل يبدون لي شامة وطـفيل
قالت عاىشة فجىت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته فقال اللهم حبب الينا المدينة كحبنا مكة او اشد وصححها وبارك لنا في صاعها ومدها وانقل حماها فاجعلها بالجحفة
৩৯২৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসলেন, তখন আবূ বকর ও বিলাল (রাঃ) ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আমি তাদেরকে দেখতে গেলাম এবং বললাম, আববাজান, কেমন আছেন? হে বিলাল, আপনি কেমন আছেন? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আবূ বকর (রাঃ) জ্বরে পড়লেই এ পংক্তিগুলি আবৃত্তি করতেন।

‘‘প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজ পরিবারে সুপ্রভাত বলা হয়

অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চাইতেও অতি নিকটে।’’

আর বিলাল (রাঃ)-এর অবস্থা ছিল এই যখন তাঁর জ্বর ছেড়ে যেত

তখন কন্ঠস্বর উঁচু করে এ কবিতাটি আবৃত্তি করতেনঃ

‘‘হায়, আমি যদি জানতাম আমি এ মক্কা উপত্যকায় আবার রাত্রি কাটাতে পারব কিনা

যেখানে ইয্খির ও জলীল ঘাস আমার চারপাশের বিরাজমান থাকত।

হায়, আর কি আমার ভাগ্যে জুটবে যে, আমি মাজান্নাহ নামক কূপের পানি পান করতে পারব! এবং শামাহ ও তাফিল পাহাড় কি আর আমার চোখে পড়বে!’’

‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে এ সংবাদ জানালাম। তখন তিনি এ দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! মদিনাকে আমাদের প্রিয় করে দাও যেমন প্রিয় ছিল আমাদের মক্কা বরং তার থেকেও অধিক প্রিয় করে দাও। আমাদের জন্য মদিনাকে স্বাস্থ্যকর করে দাও। মদিনার সা ও মুদ এর মধ্যে বকরত দান কর। আর এখানকার জ্বরকে সরিয়ে জুহ্ফায় নিয়ে যাও। (১৮৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৯)
হাদিস নং: ৩৯২৭ সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد حدثنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري حدثني عروة بن الزبير ان عبيد الله بن عدي بن الخيار اخبره دخلت على عثمان وقال بشر بن شعيب حدثني ابي عن الزهري حدثني عروة بن الزبير ان عبيد الله بن عدي بن خيار اخبره قال دخلت على عثمان فتشهد ثم قال اما بعد فان الله بعث محمدا بالحق وكنت ممن استجاب لله ولرسوله وامن بما بعث به محمد ثم هاجرت هجرتين ونلت صهر رسول الله صلى الله عليه وسلم وبايعته فوالله ما عصيته ولا غششته حتى توفاه الله
تابعه اسحاق الكلبي حدثني الزهري مثله
৩৯২৭. ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আদী (রহ.) বলেন, আমি ‘‘উসমান (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি আমার বক্তব্য শুনার পর তাশাহ্হুদ পাঠের পর বললেন, আম্মা বা‘দু। আল্লাহ্ তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহবানে সাড়া দিয়েছিলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে সত্যসহ প্রেরণ করা হয়েছিল তৎপ্রতি ঈমান এনেছিলেন আমিও তাঁদের মধ্যে ছিলাম। উভয় হিজরতে[১] অংশ নিয়েছি। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাতা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি। আমি তাঁর হাতে বায়‘আত করেছি, আল্লাহর শপথ আমি কখনো তাঁর নাফরমানী করিনি তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। এই অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। (৩৬৯৬)

ইসহাক কালবী শু‘য়ায়বের অনুসরণ করে যুহরী সূত্রে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪০)
নোট: [১] উভয় হিজরত বলতে আবিসিনিয়া ও মদীনা দু’স্থানের হিজরত।
হাদিস নং: ৩৯২৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن سليمان حدثني ابن وهب حدثنا مالك واخبرني يونس عن ابن شهاب قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله ان عبد الله بن عباس اخبره ان عبد الرحمن بن عوف رجع الى اهله وهو بمنى في اخر حجة حجها عمر فوجدني فقال عبد الرحمن فقلت يا امير المومنين ان الموسم يجمع رعاع الناس وغوغاءهم واني ارى ان تمهل حتى تقدم المدينة فانها دار الهجرة والسنة والسلامة وتخلص لاهل الفقه واشراف الناس وذوي رايهم قال عمر لاقومن في اول مقام اقومه بالمدينة
৩৯২৮. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, যে বছর ‘উমার (রাঃ) শেষ হাজ্জ আদায় করেন সে বছর ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আউফ (রাঃ) মিনায় তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে আসেন এবং সেখানে আমার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ‘আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, হাজ্জ মওসুমে বুদ্ধিমান ও বুদ্ধিহীন সব রকমের মানুষ জড় হয়। তাই আমার বিবেচনায় আপনি ভাষণ দান করবেন না এবং মদিনা গিয়ে ভাষণ দান করুন। মদিনা হল দারুল হিজরত, (হিজরতের স্থান) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের পবিত্র ভূমি। সেখানে আপনি অনেক জ্ঞানী, গুণী ও বুদ্ধিদীপ্ত লোককে একত্র পাবেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, মদিনায় গিয়েই প্রথমেই অবশ্যই আমার ভাষণ দিব। (২৪৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪১)
হাদিস নং: ৩৯২৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا ابراهيم بن سعد اخبرنا ابن شهاب عن خارجة بن زيد بن ثابت ان ام العلاء امراة من نساىهم بايعت النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ان عثمان بن مظعون طار لهم في السكنى حين اقترعت الانصار على سكنى المهاجرين قالت ام العلاء فاشتكى عثمان عندنا فمرضته حتى توفي وجعلناه في اثوابه فدخل علينا النبي صلى الله عليه وسلم فقلت رحمة الله عليك ابا الساىب شهادتي عليك لقد اكرمك الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم وما يدريك ان الله اكرمه قالت قلت لا ادري بابي انت وامي يا رسول الله فمن قال اما هو فقد جاءه والله اليقين والله اني لارجو له الخير وما ادري والله وانا رسول الله ما يفعل بي قالت فوالله لا ازكي احدا بعده قالت فاحزنني ذلك فنمت فريت لعثمان بن مظعون عينا تجري فجىت رسول الله فاخبرته فقال ذلك عمله
৩৯২৯. খারিজাহ ইবনু যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, উম্মুল ‘আলা’ (রাঃ) নাম্নী এক আনসারী মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়‘আত করেন। তিনি বর্ণনা করেন, যখন মুহাজিরদের বাসস্থানের ব্যাপারে আনসারদের মধ্যে লটারী হয় তখন ‘উসমান ইবনু মায‘উনের বসবাস আমাদের অংশে পড়ল। উম্মুল ‘আলা (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি আমাদের এখানে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমি তার সেবা শুশ্রূষা করলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়ে গেল। আমরা কাফনের কাপড় পরিয়ে দিলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে আসলেন। ঐ সময় আমি ‘উসমান (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলছিলাম। হে আবূ সায়িব! তোমার উপর আল্লাহর রহমত হোক। তোমার সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন করে জানলে যে, আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো জানি না। তবে কাকে আল্লাহ্ সম্মানিত করবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ! ‘উসমানের মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! আমি তার সম্পর্কে কল্যাণের আশা পোষণ করছি। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানিনা আল্লাহ আমার সাথে কী ব্যবহার করবেন। উম্মুল ‘আলা’ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি এ কথা শুনার পর আর কাউকে পূত-পবিত্র বলব না। উম্মুল ‘আলা’ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা আমাকে চিন্তিত করল। এরপর আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, ‘‘উসমান ইবনু মায‘উন (রাঃ)-এর জন্য একটি নহর জারি রয়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে আমার স্বপ্নটি বললে তিনি বললেন, এ হচ্ছে তার সৎ ‘আমল’’। (১২৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪২)
হাদিস নং: ৩৯৩০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد الله بن سعيد حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت كان يوم بعاث يوما قدمه الله عز وجل لرسوله صلى الله عليه وسلم فقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وقد افترق ملوهم وقتلت سراتهم في دخولهم في الاسلام
৩৯৩০. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বু‘আস যুদ্ধ এমন একটি যুদ্ধ ছিল যা আল্লাহ্ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে তাঁর হিজরতের পূর্বেই সংঘটিত করিয়েছিলেন, যা তাদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে সহায়ক হয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসলেন তখন তাদের গোত্রগুলো ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে নানা দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের অনেক নেতা নিহত হয়েছিল। (৩৭৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪৩)
হাদিস নং: ৩৯৩১ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن المثنى حدثنا غندر حدثنا شعبة عن هشام عن ابيه عن عاىشة ان ابا بكر دخل عليها والنبي صلى الله عليه وسلم عندها يوم فطر او اضحى وعندها قينتان تغنيان بما تقاذفت الانصار يوم بعاث فقال ابو بكر مزمار الشيطان مرتين فقال النبي صلى الله عليه وسلم دعهما يا ابا بكر ان لكل قوم عيدا وان عيدنا هذا اليوم
৩৯৩১. ‘ ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) ঈদুল তিফত্র অথবা ঈদুল আযহার দিনে তাঁকে দেখতে এলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দু’জন অল্প বয়স্কা বালিকা এ কবিতাটি উচ্চস্বরে আবৃত্তি করছিল যা আনসারগণ বু‘আস যুদ্ধে আবৃত্তি করেছিল। তখন আবূ বকর (রাঃ) দু‘বার বললেন, এ হল শয়তানের ঢাল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ বকর, ওদেরকে ছাড়। প্রত্যেক সম্প্রদায়েরই ‘ঈদ আছে আর আজ হল আমাদের ‘ঈদের দিন। (৯৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪৪)
হাদিস নং: ৩৯৩২ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا عبد الوارث ح و حدثنا اسحاق بن منصور اخبرنا عبد الصمد قال سمعت ابي يحدث حدثنا ابو التياح يزيد بن حميد الضبعي قال حدثني انس بن مالك قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة نزل في علو المدينة في حي يقال لهم بنو عمرو بن عوف قال فاقام فيهم اربع عشرة ليلة ثم ارسل الى ملا بني النجار قال فجاءوا متقلدي سيوفهم قال وكاني انظر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته وابو بكر ردفه وملا بني النجار حوله حتى القى بفناء ابي ايوب قال فكان يصلي حيث ادركته الصلاة ويصلي في مرابض الغنم قال ثم انه امر ببناء المسجد فارسل الى ملا بني النجار فجاءوا فقال يا بني النجار ثامنوني حاىطكم هذا فقالوا لا والله لا نطلب ثمنه الا الى الله قال فكان فيه ما اقول لكم كانت فيه قبور المشركين وكانت فيه خرب وكان فيه نخل فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقبور المشركين فنبشت وبالخرب فسويت وبالنخل فقطع قال فصفوا النخل قبلة المسجد قال وجعلوا عضادتيه حجارة قال قال جعلوا ينقلون ذاك الصخر وهم يرتجزون ورسول الله صلى الله عليه وسلم معهم يقولون :
اللهم انه لا خير الا خير الاخره فانصر الانصار والمهاجره
৩৯৩২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা্য় আসলেন তখন মদিনার উঁচু এলাকার ‘আমর ইবনু ‘আউফ গোত্রে অবস্থান করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, সেখানে তিনি চৌদ্দ দিন থাকলেন। এরপর তিনি বানু নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকেদের কাছে খবর পাঠালেন। তারা সকলেই তরবারি ঝুলিয়ে হাযির হলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, সেই দৃশ্য এখনো যেন আমি দেখতে পাচ্ছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীর উপর এবং আবূ বকর (রাঃ) তাঁর পিছনে উপবিষ্ট রয়েছেন, আর বনু নাজ্জারের নেতাগণ রয়েছেন তাদের পার্শ্বে। অবশেষে আবূ আইউব (রাঃ)-এর বাড়ির চত্বরে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মালপত্র নামালেন। রাবী বলেন, ঐ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানেই সালাতের সময় হত সেখানেই সালাত আদায় করে নিতেন। এবং তিনি কোন কোন সময় ছাগল-ভেড়ার খোঁয়াড়েও সালাত আদায় করতেন। রাবী বলেন, তারপর তিনি মাসজিদ তৈরির নির্দেশ দিলেন। তিনি বনী নাজ্জারের নেতাদের ডাকলেন এবং তারা এলে তিনি বললেন, তোমাদের এ বাগানটি আমার নিকট বিক্রি কর। তারা বলল, আল্লাহর শপথ, আমরা বিক্রি করব না। আল্লাহ শপথ-এর বিনিময় আল্লাহর নিকটই চাই। রাবী বলেন, এখানে কি ছিল, আমি তোমাদের বলছি স্থানে তখন ছিল মুশরিকদের পুরাতন কবর, বাড়ী ঘরের কিছু ভগ্নাবশেষ কয়েকটি খেজুরের গাছ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে মুশরিকদের কবরগুলি মিশিয়ে দেয়া হল। ভগ্ন চিহ্ন সমতল করা হল, খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলা হল। রাবী বলে, কাটা খেজুর গাছের কান্ডগুলি মসজিদের কেবলার দিকে এর খুঁটি হিসেবে এক লাইনে স্থাপন করা হল এবং খুঁটির ফাঁকা স্থানে রাখা হল পাথর। তখন সাহাবাগণ পাথর বয়ে আনছিলেন এবং ছন্দ যুক্ত কবিতা আবৃত্তি করছিলেনঃ আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাদের সঙ্গে ছিলেন এবং বলেছিলেন,

হে আল্লাহ্! আসল কল্যাণ কেবলমাত্র আখিরাতের কল্যাণ।

হে আল্লাহ্! তুমি মুহাজির ও আনসারদের সাহায্য কর। (২৩৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪৫)
হাদিস নং: ৩৯৩৩ সহিহ (Sahih)
حدثني ابراهيم بن حمزة حدثنا حاتم عن عبد الرحمن بن حميد الزهري قال سمعت عمر بن عبد العزيز يسال الساىب ابن اخت النمر ما سمعت في سكنى مكة قال سمعت العلاء بن الحضرمي قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث للمهاجر بعد الصدر
৩৯৩৩. ‘উমার ইবনু আবদুল ‘আযীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি সাইব ইবনু উখতিননাম্র (রাঃ) কে জিজ্ঞস করলেন, আপনি মক্কা্য় অবস্থান ব্যাপারে কী শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি ‘আলা ইবনুল হাযরামী (রাঃ)-এর কাছে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুহাজিরদের জন্য তাওয়াফে সদর [১] আদায় করার পর তিন দিন মক্কা্য় থাকার অনুমতি আছে। [২] (মুসলিম ১৫/৮১, হাঃ নং ১৩৫২, আহমাদ ২০৫৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪৬)
নোট: ১. হাজ্জ কার্যসমূহ সমাপন করে মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করার পর কাবা ঘরের যে তাওয়াফ করা হয় তাকে বুঝানো হয়েছে।

২. মক্কাহ বিজয়ের পূর্বে যারা হিজরাত করেছিলেন তাদের জন্য পুনরায় মক্কাহয় অবস্থান করা হারাম ছিল। কিন্তু যারা হাজ্জ বা ‘উমরাহ এর উদ্দেশ্যে মক্কাহয় আসবে তারা তাদের হাজ্জ ‘উমরাহ এর কাজ সমাধা করে মাত্র তিন দিন প্রয়োজন হলে অবস্থান করতে পারবে-তাতে নিষেধ নেই।
হাদিস নং: ৩৯৩৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة حدثنا عبد العزيز عن ابيه عن سهل بن سعد قال ما عدوا من مبعث النبي صلى الله عليه وسلم ولا من وفاته ما عدوا الا من مقدمه المدينة
৩৯৩৪. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, লোকেরা বছর গণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়াত প্রাপ্তির দিন হতে করেনি এবং তাঁর মৃত্যুর দিন থেকেও করেনি বরং তাঁর মদিনা্য় হিজরত হতে বছর গণনা করা হয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪৭)
হাদিস নং: ৩৯৩৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا معمر عن الزهري عن عروة عن عاىشة رضي الله عنها قالت فرضت الصلاة ركعتين ثم هاجر النبي صلى الله عليه وسلم ففرضت اربعا وتركت صلاة السفر على الاولى تابعه عبد الرزاق عن معمر
৩৯৩৫. ‘ ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় দু‘ দু‘ রাক‘আত করে সালাত ফরয করা হয়েছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করলেন, ঐ সময় সালাত চার রাক‘আত করে দেয়া হয়। এবং সফর কালে আগের অবস্থা অর্থাৎ দু‘ রাক‘আত বহাল রাখা হয়। আব্দুর রাজ্জাক (রহ.) মা‘মার সূত্রে রিওয়ায়াত বর্ণনায় ইয়াযীদ ইবনু যরায়-এর অনুসরণ করেছেন। (৩৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪৮)
অধ্যায় তালিকা