হাদিস নং: ৪০১৪
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة عن حصين بن عبد الرحمن قال سمعت عبد الله بن شداد بن الهاد الليثي قال رايت رفاعة بن رافع الانصاري وكان شهد بدرا.
৪০১৪. ‘আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ইবনু হাদ লায়সী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রিফা‘আ ইবনু রাফি‘ আনসারী (রাঃ)-কে দেখেছি, তিনি বদর যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২০)
হাদিস নং: ৪০১৫
সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر ويونس عن الزهري عن عروة بن الزبير انه اخبره ان المسور بن مخرمة اخبره ان عمرو بن عوف وهو حليف لبني عامر بن لوي وكان شهد بدرا مع النبي صلى الله عليه وسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث ابا عبيدة بن الجراح الى البحرين ياتي بجزيتها وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو صالح اهل البحرين وامر عليهم العلاء بن الحضرمي فقدم ابو عبيدة بمال من البحرين فسمعت الانصار بقدوم ابي عبيدة فوافوا صلاة الفجر مع النبي صلى الله عليه وسلم فلما انصرف تعرضوا له فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم حين راهم ثم قال اظنكم سمعتم ان ابا عبيدة قدم بشيء قالوا اجل يا رسول الله قال فابشروا واملوا ما يسركم فوالله ما الفقر اخشى عليكم ولكني اخشى ان تبسط عليكم الدنيا كما بسطت على من كان قبلكم فتنافسوها كما تنافسوها وتهلككم كما اهلكتهم.
৪০১৫. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বদর যুদ্ধে যোগদানকারী সাহাবী, বানী আমির ইবনু লুওয়াই গোত্রের বন্ধু ‘আমর ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহকে জিযিয়া আনার জন্য বাহরাইনে প্রেরণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনবাসীদের সঙ্গে সন্ধি করে ‘আলা ইবনু হাযরামী (রাঃ)-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) বাহরাইন থেকে মাল নিয়ে এসে পৌঁছলে আনসারগণ তাঁর আগমনের খবর পেয়ে সকলেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায়ের উদ্দেশে হাজির হলেন। সালাত শেষে পর ফিরে বসলে তাঁরা সকলেই তাঁর সামনে আসলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, আমার মনে হয়, আবূ ‘উবাইদাহ কিছু মাল নিয়ে এসেছে বলে তোমরা শুনতে পেয়েছ। তারা সকলেই বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল তিনি বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং তোমাদের আনন্দদায়ক বিষয়ের আশায় থাক, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের জন্য দরিদ্রতার আশংকা করি না। বরং আমি আশংকা করি যে, তোমাদের কাছে দুনিয়ার প্রাচুর্য আসবে যেমন তোমাদের পূর্বেকার লোকেদের কাছে এসেছিল, তখন তোমরা সেটা পাওয়ার জন্য পরস্পরে প্রতিযোগিতা করবে যেমনভাবে তারা করেছিল। আর তা তাদেরকে যেমনিভাবে ধ্বংস করেছিল তোমাদেরকেও তেমনিভাবে ধ্বংস করে দেবে। [৩১৫৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২১)
হাদিস নং: ৪০১৬
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا جرير بن حازم عن نافع ان ابن عمر رضي الله عنهما كان يقتل الحيات كلها.
৪০১৬. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) সব ধরনের সাপকে হত্যা করতেন। [৩২৯৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২২)
হাদিস নং: ৪০১৭
সহিহ (Sahih)
حتى حدثه ابو لبابة البدري ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن قتل جنان البيوت فامسك عنها.
৪০১৭. অবশেষে বাদরী সাহাবী আবূ লুবাবাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে বসবাসকারী (শ্বেতবর্ণের) ছোট সাপ মারতে নিষেধ করেছেন। এতে তিনি তা মারা থেকে নিবৃত্ত থাকেন। [৩২৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২২)
হাদিস নং: ৪০১৮
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا محمد بن فليح عن موسى بن عقبة قال ابن شهاب حدثنا انس بن مالك ان رجالا من الانصار استاذنوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا اىذن لنا فلنترك لابن اختنا عباس فداءه قال والله لا تذرون منه درهما.
৪০১৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কতিপয় আনসারী সাহাবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তারা বললেন, আমাদেরকে আমাদের ভাগিনা ‘আব্বাসের[1] ফিদ্য়া ক্ষমা করে দেয়ার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! তোমরা তার একটি দিরহামও ক্ষমা করবে না। [২৫৩৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৩)
নোট: [1] বাদর যুদ্ধের সময় চাচা ‘আববাস কাফির অবস্থাতে মুসলিমদের হাতে বন্দী হন। তাদের শক্ত করে সারারাত বেঁধে রাখা হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তার প্রতি কোনরূপ সহমর্মিতা দেখাতে না পারলেও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচার প্রতি মম্ত্ববোধের কারণে সারারাত নিদ্রাহীনভাবে কাটিয়ে দেন। সাহাবীগণ তা বুঝতে পেরে তার বন্ধন হালকা করে দেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার মুক্তিপণ ক্ষমা করে দেয়ার জন্য আবেদন জানান। কিন্তু তিনি স্বজনপ্রীতি না করে অন্যান্য বন্দীদের সমপরিমাণ মুক্তিপণের বিনিময়েই মুক্তি দেয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
‘আববাসের দাদা কুরাইশ নেতা হাশেম বনী নাজ্জার গোত্রের ‘আমর ইবনু উহায়হার মেয়ে সালামাহকে বিবাহ করেছিলেন। ‘আববাসের দাদা হাশিম শাম দেশে বাণিজ্য করতে যাবার সময় মদীনাহ্তে খাযরাজ গোত্রের বানী নাজ্জার গোত্রের ‘আমর ইবনে উহায়হার বাড়ীতে অবস্থান করতেন। হাশিমের ‘আমর ইবনে উহায়হার মেয়ে সালামাহকে দেখে পছন্দ হলে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ‘আমর ইবনু উহায়হা এই শর্তে বিবাহে রাযী হন যে, বিবাহের পরও সালামাহ পিতৃগৃহেই অবস্থান করবে। হাশিম প্রস্তাব মেনে নিলে কুরাইশ নেতা হাশিমের সালামাহ বিনতু ‘আমর এর সঙ্গে বিবাহ হয়। এবং এই সালামাহ্র গর্ভ থেকেই ‘আববাসের পিতা ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদা ‘আবদুল মুত্তালিবের জন্ম হয়।
‘আববাসের দাদা কুরাইশ নেতা হাশেম বনী নাজ্জার গোত্রের ‘আমর ইবনু উহায়হার মেয়ে সালামাহকে বিবাহ করেছিলেন। ‘আববাসের দাদা হাশিম শাম দেশে বাণিজ্য করতে যাবার সময় মদীনাহ্তে খাযরাজ গোত্রের বানী নাজ্জার গোত্রের ‘আমর ইবনে উহায়হার বাড়ীতে অবস্থান করতেন। হাশিমের ‘আমর ইবনে উহায়হার মেয়ে সালামাহকে দেখে পছন্দ হলে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ‘আমর ইবনু উহায়হা এই শর্তে বিবাহে রাযী হন যে, বিবাহের পরও সালামাহ পিতৃগৃহেই অবস্থান করবে। হাশিম প্রস্তাব মেনে নিলে কুরাইশ নেতা হাশিমের সালামাহ বিনতু ‘আমর এর সঙ্গে বিবাহ হয়। এবং এই সালামাহ্র গর্ভ থেকেই ‘আববাসের পিতা ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদা ‘আবদুল মুত্তালিবের জন্ম হয়।
হাদিস নং: ৪০১৯
সহিহ (Sahih)
ابو عاصم عن ابن جريج عن الزهري عن عطاء بن يزيد عن عبيد الله بن عدي عن المقداد بن الاسود ح حدثني اسحاق حدثنا يعقوب بن ابراهيم بن سعد حدثنا ابن اخي ابن شهاب عن عمه قال اخبرني عطاء بن يزيد الليثي ثم الجندعي ان عبيد الله بن عدي بن الخيار اخبره ان المقداد بن عمرو الكندي وكان حليفا لبني زهرة وكان ممن شهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم اخبره انه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم ارايت ان لقيت رجلا من الكفار فاقتتلنا فضرب احدى يدي بالسيف فقطعها ثم لاذ مني بشجرة فقال اسلمت لله ااقتله يا رسول الله بعد ان قالها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تقتله فقال يا رسول الله انه قطع احدى يدي ثم قال ذلك بعد ما قطعها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلملا تقتله فان قتلته فانه بمنزلتك قبل ان تقتله وانك بمنزلته قبل ان يقول كلمته التي قال.
৪০১৯. বানী যুহরা গোত্রের হালীফ (মিত্র) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বদর যুদ্ধে যোগদানকারী সাহাবী মিকদাদ ইবনু ‘আমর কিনদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে বলুন, কোন কাফিরের সঙ্গে আমার যদি (যুদ্ধক্ষেত্রে) সাক্ষাৎ হয় এবং আমি যদি তার সঙ্গে লড়াই করি আর সে যদি তলোয়ারের আঘাতে আমার একখানা হাত কেটে ফেলে এবং তারপর আমার থেকে বাঁচার জন্য গাছের আড়ালে গিয়ে বলে ‘‘আমি আল্লাহর উদ্দেশে ইসলাম গ্রহণ করলাম’’ এ কথা বলার পরেও কি আমি তাকে হত্যা করব? তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হত্যা করবে না। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো আমার একখানা হাত কাটার পর এ কথা বলছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন, না, তুমি তাকে হত্যা করবে না। কেননা, তুমি তাকে হত্যা করলে হত্যা করার পূর্বে তোমার যে মর্যাদা ছিল সে সেই মর্যাদা লাভ করবে, আর ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার আগে তার যে স্তর ছিল তুমি সেই স্তরে পৌঁছে যাবে। [৬৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৪)
হাদিস নং: ৪০২০
সহিহ (Sahih)
يعقوب بن ابراهيم حدثنا ابن علية حدثنا سليمان التيمي حدثنا انس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم بدر من ينظر ما صنع ابو جهل فانطلق ابن مسعود فوجده قد ضربه ابنا عفراء حتى برد فقال انت ابا جهل قال ابن علية قال سليمان هكذا قالها انس قال انت ابا جهل قال وهل فوق رجل قتلتموه قال سليمان او قال قتله قومه قال وقال ابو مجلز قال ابو جهل فلو غير اكار قتلني.
৪০২০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন বললেন, আবূ জাহলের কী অবস্থা কেউ দেখে আসতে পার কি? তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) তার খোঁজে বের হলেন। এবং ‘আফরার দুই ছেলে তাকে আঘাত করে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে রেখেছে দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি কি আবূ জাহ্ল? (আবূ জাহ্ল বলল) একজন লোককে হত্যা করা ব্যতীত তোমরা তো অধিক কিছু করনি? সুলায়মান বলেন, অথবা সে (আবূ জাহ্ল) বলেছিল, একজন লোককে তার কাওমের লোকেরা হত্যা করেছে? আবূ মিজলায (রাঃ) বলেন, আবূ জাহ্ল বলেছিল, চাষী ব্যতীত অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করত![1] [৩৯৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৫)
নোট: [1] মদীনাহবাসীগণ অধিকাংশ কৃষিজীবী ছিলেন। এই কৃষিজীবী আনসারদের হাতেই আবূ জাহাল মারা গেলে সে অপমানিত বোধ করে এ উক্তি করেছিলো। অর্থাৎ কৃষিজীবী ব্যতীত অন্য কারো হাতে তার মৃত্যু হলে সে এতটা অপমান বোধ করতো না।
হাদিস নং: ৪০২১
সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا عبد الواحد حدثنا معمر عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله حدثني ابن عباس عن عمر رضي الله عنهم لما توفي النبي صلى الله عليه وسلم قلت لابي بكر انطلق بنا الى اخواننا من الانصار فلقينا منهم رجلان صالحان شهدا بدرا فحدثت به عروة بن الزبير فقال هما عويم بن ساعدة ومعن بن عدي.
৪০২১. ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যখন ওফাত হল তখন আমি আবূ বকরকে বললাম, আমাদেরকে আনসার ভাইদের নিকট নিয়ে চলুন। পথে আমরা আনসারদের দু‘জন সৎ ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম যাঁরা বদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়রের নিকট এ হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন, তাঁরা হলেন ‘উরওয়াহ ইবনু সা‘ঈদাহ এবং মা‘ন ইবনু ‘আদী (রাঃ)। [২৪৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৬)
হাদিস নং: ৪০২২
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم سمع محمد بن فضيل عن اسماعيل عن قيس كان عطاء البدريين خمسة الاف خمسة الاف وقال عمر لافضلنهم على من بعدهم.
৪০২২. কায়স (রহ.) হতে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সাহাবীদের ভাতা পাঁচ হাজার পাঁচ হাজার করে নির্ধারিত ছিল। ‘উমার (রহ.) বলেছেন, অবশ্যই আমি বদর যুদ্ধে শরীক সাহাবীদেরকে পরবর্তী লোকদের হতে অধিক মর্যাদা দেব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৭)
হাদিস নং: ৪০২৩
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن محمد بن جبير عن ابيه قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرا في المغرب بالطور وذلك اول ما وقر الايمان في قلبى.
৪০২৩. যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের সালাতে সূরাহ তূর পড়তে শুনেছি। এ ঘটনা থেকেই সর্বপ্রথম ঈমান আমার অন্তরে স্থান করে নেয়। [৭৬৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৮)
হাদিস নং: ৪০২৪
সহিহ (Sahih)
وعن الزهري عن محمد بن جبير بن مطعم عن ابيه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال في اسارى بدر لو كان المطعم بن عدي حيا ثم كلمني في هولاء النتنى لتركتهم له وقال الليث عن يحيى بن سعيد عن سعيد بن المسيب وقعت الفتنة الاولى يعني مقتل عثمان فلم تبق من اصحاب بدر احدا ثم وقعت الفتنة الثانية يعني الحرة فلم تبق من اصحاب الحديبية احدا ثم وقعت الثالثة فلم ترتفع وللناس طباخ.
৪০২৪. যুহরী (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র ইবনু মুত’ঈমের মাধ্যমে তার পিতা যুবায়র ইবনু মুত’ঈম (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে বলেছেন, আজ মুত’ঈম ইবনু ’আদী [1] যদি বেঁচে থাকতেন আর এসব অপবিত্র লোকদের সম্পর্কে যদি আমার নিকট সুপারিশ করতেন, তাহলে তার সম্মানে এদেরকে আমি (মুক্তিপণ ব্যতীতই) ছেড়ে দিতাম।
লায়স ইয়াহ্ইয়ার সূত্রে সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রথম ফিতনা অর্থাৎ ’উসমানের হত্যাকান্ড [2] সংঘটিত হবার পর বদরে যোগদানকারী সাহাবীদের আর কেউ বেঁচে ছিলেন না। দ্বিতীয় ফিতনা তথা হাররার ঘটনা সংঘটিত হবার পর হুদাইবিয়াহর সন্ধিকালীন সময়ের কোন সাহাবীই আর জীবিত ছিলেন না। এরপর তৃতীয় ফিতনা সংঘটিত হওয়ার পর তা কখনো শেষ হয়নি, যতদিন মানুষের মধ্যে আকল ও সৎ গুণাবলী বহাল ছিল। [৩১৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৮)
লায়স ইয়াহ্ইয়ার সূত্রে সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রথম ফিতনা অর্থাৎ ’উসমানের হত্যাকান্ড [2] সংঘটিত হবার পর বদরে যোগদানকারী সাহাবীদের আর কেউ বেঁচে ছিলেন না। দ্বিতীয় ফিতনা তথা হাররার ঘটনা সংঘটিত হবার পর হুদাইবিয়াহর সন্ধিকালীন সময়ের কোন সাহাবীই আর জীবিত ছিলেন না। এরপর তৃতীয় ফিতনা সংঘটিত হওয়ার পর তা কখনো শেষ হয়নি, যতদিন মানুষের মধ্যে আকল ও সৎ গুণাবলী বহাল ছিল। [৩১৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৮)
নোট: [1] মুতঈম ইবনু ‘আদী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিভিন্ন সময় কাফিরদের হাত থেকে নিরাপত্তা দিয়ে সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন। তাই তিনি নিজের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, আজ যদি সে জীবিত থাকতো আর অনুরোধ করতো তাহলে তিনি তাদেরকে ছেড়ে দিতেন।
[2] মিসরবাসী কতক বিদ্রোহী লোকের দ্বারা ঊনপঞ্চাশ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি তাদেরই হাতে শহীদ হন।
[2] মিসরবাসী কতক বিদ্রোহী লোকের দ্বারা ঊনপঞ্চাশ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি তাদেরই হাতে শহীদ হন।
হাদিস নং: ৪০২৫
সহিহ (Sahih)
الحجاج بن منهال حدثنا عبد الله بن عمر النميري حدثنا يونس بن يزيد قال سمعت الزهري قال سمعت عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص وعبيد الله بن عبد الله عن حديث عاىشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم كل حدثني طاىفة من الحديث قالت فاقبلت انا وام مسطح فعثرت ام مسطح في مرطها فقالت تعس مسطح فقلت بىس ما قلت تسبين رجلا شهد بدرا فذكر حديث الافك.
৪০২৫. যুহরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যিব, ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস ও ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহর প্রতি অপবাদের ঘটনা শুনেছি। তারা সকলেই হাদীসটির একটি অংশ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, আমি এবং উম্মু মিসতাহ্ (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) বের হলাম। তখন উম্মু মিসতাহ তার চাদরে পেঁচিয়ে পড়ে গেল। এতে সে বলল, মিসতাহ এর জন্য ধ্বংস। [‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন] তখন আমি বললাম, আপনি বড় খারাপ কথা বললেন। আপনি বদরে শরীক ব্যক্তিকে মন্দ বলছেন! অতঃপর অপবাদ-এর ঘটনা উল্লেখ করলেন। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭২৯)
হাদিস নং: ৪০২৬
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا محمد بن فليح بن سليمان عن موسى بن عقبة عن ابن شهاب قال هذه مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يلقيهم هل وجدتم ما وعدكم ربكم حقا قال موسى قال نافع قال عبد الله قال ناس من اصحابه يا رسول الله تنادي ناسا امواتا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما انتم باسمع لما قلت منهم
قال ابو عبد الله فجميع من شهد بدرا من قريش ممن ضرب له بسهمه احد وثمانون رجلا وكان عروة بن الزبير يقول قال الزبير قسمت سهمانهم فكانوا ماىة والله اعلم.
قال ابو عبد الله فجميع من شهد بدرا من قريش ممن ضرب له بسهمه احد وثمانون رجلا وكان عروة بن الزبير يقول قال الزبير قسمت سهمانهم فكانوا ماىة والله اعلم.
৪০২৬. ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত (তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জিহাদসমূহের বর্ণনা দেয়ার পর) বলেছেন, এগুলোই ছিল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামরিক অভিযান। এরপর তিনি ঘটনা বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ কাফিরদের লাশ কূপে নিক্ষেপ করার সময় বললেন, তোমাদের রব তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা পেয়েছ তো? মূসা নাফি‘র মাধ্যমে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের থেকে কেউ কেউ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মৃতলোকদের আহবান জানাচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কথাগুলো তোমরা তাদের থেকে অধিক শুনতে পাচ্ছ না।
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, গানীমাত লাভ করেছিলেন, এমন কুরাইশী সাহাবী বদরে শরীক ছিলেন তাঁদের সংখ্যা হল একাশি।[1] ‘উরওয়াহ ইব্ন যুবায়র বললেন যে, যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, (বাদ্রী) কুরাইশী সাহাবীদের অংশগুলো বণ্টন করা হয়েছিল। তাদের সংখ্যা ছিল সর্বমোট একশ’ (আল্লাহ্ই ভাল জানেন)। [১৩৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩০)
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, গানীমাত লাভ করেছিলেন, এমন কুরাইশী সাহাবী বদরে শরীক ছিলেন তাঁদের সংখ্যা হল একাশি।[1] ‘উরওয়াহ ইব্ন যুবায়র বললেন যে, যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, (বাদ্রী) কুরাইশী সাহাবীদের অংশগুলো বণ্টন করা হয়েছিল। তাদের সংখ্যা ছিল সর্বমোট একশ’ (আল্লাহ্ই ভাল জানেন)। [১৩৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩০)
নোট: [1] এখানে সম্ভবত অশ্বারোহীদের বাদ দিয়ে গণনা করা হয়েছে। কারণ পরেই একশত জনের কথা উল্লেখ আছে। আল্লাহই ভাল জানেন।
হাদিস নং: ৪০২৭
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام عن معمر عن هشام بن عروة عن ابيه عن الزبير قال ضربت يوم بدر للمهاجرين بماىة سهم.
৪০২৭. যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, বদরের দিন মুহাজিরদেরকে গানীমাতের একশ’ অংশ দেয়া হয়েছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩১)
হাদিস নং: ৪০২৮
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر حدثنا عبد الرزاق اخبرنا ابن جريج عن موسى بن عقبة عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال حاربت النضير وقريظة فاجلى بني النضير واقر قريظة ومن عليهم حتى حاربت قريظة فقتل رجالهم وقسم نساءهم واولادهم واموالهم بين المسلمين الا بعضهم لحقوا بالنبي صلى الله عليه وسلم فامنهم واسلموا واجلى يهود المدينة كلهم بني قينقاع وهم رهط عبد الله بن سلام ويهود بني حارثة وكل يهود المدينة.
64/13. بَاب تَسْمِيَةُ مَنْ سُمِّيَ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ فِي الْجَامِعِ الَّذِيْ وَضَعَهُ أَبُوْ عَبْدِ اللهِ عَلَى حُرُوْفِ الْمُعْجَمِ
৬৪/১৩. অধ্যায়: বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের নামের তালিকা যা আল-জামে গ্রন্থে (সহীহ বুখারীতে) উল্লেখ রয়েছে।
النَّبِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْهَاشِمِيُّ صلى الله عليه وسلم إِيَاسُ بْنُ الْبُكَيْرِ بِلَالُ بْنُ رَبَاحٍ مَوْلَى أَبِيْ بَكْرٍ الْقُرَشِيِّ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ الْهَاشِمِيُّ حَاطِبُ بْنُ أَبِيْ بَلْتَعَةَ حَلِيْفٌ لِقُرَيْشٍ أَبُوْ حُذَيْفَةَ بْنُ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيْعَةَ الْقُرَشِيُّ حَارِثَةُ بْنُ الرَّبِيْعِ الْأَنْصَارِيُّ قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ وَهُوَ حَارِثَةُ بْنُ سُرَاقَةَ كَانَ فِي النَّظَّارَةِ خُبَيْبُ بْنُ عَدِيٍّ الْأَنْصَارِيُّ خُنَيْسُ بْنُ حُذَافَةَ السَّهْمِيُّ رِفَاعَةُ بْنُ رَافِعٍ الْأَنْصَارِيُّ رِفاعَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُنْذِرِ أَبُوْ لُبَابَةَ الْأَنْصَارِيُّ الزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ الْقُرَشِيُّ زَيْدُ بْنُ سَهْلٍ أَبُوْ طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيُّ أَبُوْ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ سَعْدُ بْنُ مَالِكٍ الزُّهْرِيُّ سَعْدُ بْنُ خَوْلَةَ الْقُرَشِيُّ سَعِيْدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ الْقُرَشِيُّ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ الْأَنْصَارِيُّ ظُهَيْرُ بْنُ رَافِعٍ الْأَنْصَارِيُّ وَأَخُوْهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ أَبُوْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقُ الْقُرَشِيُّ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُوْدٍ الْهُذَلِيُّ عُتْبَةُ بْنُ مَسْعُوْدٍ الْهُذَلِيُّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ الزُّهْرِيُّ عُبَيْدَةُ بْنُ الْحَارِثِ الْقُرَشِيُّ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ الْأَنْصَارِيُّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ الْعَدَوِيُّ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ الْقُرَشِيُّ خَلَّفَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى ابْنَتِهِ وَضَرَبَ لَهُ بِسَهْمِهِ عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ الْهَاشِمِيُّ عَمْرُوْ بْنُ عَوْفٍ حَلِيْفُ بَنِيْ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ عُقْبَةُ بْنُ عَمْرٍو الْأَنْصَارِيُّ عَامِرُ بْنُ رَبِيْعَةَ الْعَنَزِيُّ عَاصِمُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ عُوَيْمُ بْنُ سَاعِدَةَ الْأَنْصَارِيُّ عِتْبَانُ بْنُ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيُّ قُدَامَةُ بْنُ مَظْعُوْنٍ قَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ الْأَنْصَارِيُّ مُعَاذُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوْحِ مُعَوِّذُ بْنُ عَفْرَاءَ وَأَخُوْهُ مَالِكُ بْنُ رَبِيْعَةَ أَبُوْ أُسَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ مُرَارَةُ بْنُ الرَّبِيْعِ الْأَنْصَارِيُّ مَعْنُ بْنُ عَدِيٍّ الْأَنْصَارِيُّ مِسْطَحُ بْنُ أُثَاثَةَ بْنِ عَبَّادِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ مِقْدَادُ بْنُ عَمْرٍو الْكِنْدِيُّ حَلِيْفُ بَنِيْ زُهْرَةَ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ الْأَنْصَارِيُّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْز
১. নবী মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ হাশিমী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২. ইয়াস ইবনু বুকায়র, ৩. আবূ বকর কুরাইশীর আযাদকৃত গোলাম বিলাল ইবনু রাবাহ, ৪. হামযা ইবনু ’আবদুল মুত্তালিব আল-হাশিমী, ৫. কুরাইশদের বন্ধু হাতিব ইবনু আবূ বালতাআ, ৬. আবূ হুযাইফা ইবনু ’উত্বাহ ইবনু রাবী’আহ কুরাইশী, ৭. হারিসা ইবনু রাবী’ আনসারী, যিনি বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন; তাঁকে হারিসা ইবনু সুরাকা বলা হয়, তিনি দেখার জন্য গিয়েছিলেন। ৮. খুবায়ব ইবনু আদী আনসারী, ৯. খুনায়স ইবনু হুযাফা সাহমী, ১০. রিফা’আ ইবনু রাফি আনসারী, ১১. রিফা’আ ইবনু আবদুল মুনযির, ১২. আবূ লুবাবা আনসারী, ১৩. যুবায়র ইবনুল আওয়াম কুরাইশী, ১৪. যায়দ ইবনু সাহল, ১৫. আবূ ত্বলহা আনসারী, ১৬. আবূ যায়দ আনসারী, ১৭. সা’দ ইবনু মালিক যুহরী, ১৮. সা’দ ইবনু খাওলা কুরাইশী, ১৯. সা’ঈদ ইবনু যায়দ ইবনু ’আমর ইবনু নুফাইল কুরাইশী, ২০. সাহল ইবনু হুনাইফ আনসারী, ২১. যুহায়র ইবনু রাফি’ আনসারী, ২২. এবং তাঁর ভাই (মুযহির ইবনু রাফি’ আনসারী), ২৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উসমান, ২৪. আবূ বকর সিদ্দীক কুরাইশী, ২৫. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ হুযালী; ২৬.’উতবাহ ইবনু মাসঊদ হুযালী, ২৭. ’আবদুর রাহমান ইবনু ’আওফ যুহরী, ২৮.’উবাইদাহ ইবনুল হারিস কুরাইশী, ২৯. উবাদাহ ইবনু সামিত আনসারী, ৩০.’উমার ইবনু খাত্তাব আদাবী, ৩১. ’উসমান ইবনু আফ্ফান কুরাইশী, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর অসুস্থ কন্যার দেখাশোনার জন্য (মদিনা্য়) রেখে গিয়েছিলেন। কিন্তু গানীমাতের মালের অংশ তাঁকে দিয়েছিলেন। ৩২.’আলী ইবনু আবী তালিব হাশিমী, ৩৩.’আমির ইবনু লুওয়াই গোত্রের মিত্র ’আমর ইবনু আউফ, ৩৪.’উকবাহ ইবনু ’আমর আনসারী, ৩৫.’আমির ইবনু রাবী’আ আনাযী, ৩৬.’আসিম ইবনু সাবিত আনসারী, ৩৭. উওয়াম ইবনু সাইদা আনসারী, ৩৮.’ইতবান ইবনু মালিক আনসারী, ৩৯. কুদামাহ ইবনু মাযউন, ৪০. ক্বাতাদাহ ইবনু নু’মান আনসারী, ৪১. মু’আয ইবনু ’আমর ইবনু জামূহ, ৪২. মু’আববিয ইবনু আফরা ৪৩. এবং তাঁর ভাই (মু’আয), ৪৪. মালিক ইবনু রাবী’আ, ৪৫. আবূ উসাইদ আনসারী, ৪৬. মুরারা ইবনু রাবী আনসারী। ৪৭. মা’ন ইবনু আ’দী আনসারী, ৪৮. মিসতাহ ইবনু উসাসা ইবনু আববাদ ইবনু মুত্তালিব ইবনু ’আবদে মানাফ, ৪৯. যুহরা গোত্রের মিত্র মিকদাদ ইবনু ’আমর কিনদী, ৫০. হিলাল ইবনু উমাইয়াহ আনসারী (রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম আজমা’ঈন)।
قَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ كَانَتْ عَلَى رَأْسِ سِتَّةِ أَشْهُرٍ مِنْ وَقْعَةِ بَدْرٍ قَبْلَ أُحُدٍ وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (هُوَ الَّذِيْٓ أَخْرَجَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَنْ يَّخْرُجُوْا) وَجَعَلَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ بَعْدَ بِئْرِ مَعُوْنَةَ وَأُحُدٍ
যুহরী (রহ.) ’উরওয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বানু নাযীর যুদ্ধ ওহুদ যুদ্ধের আগে এবং বদর যুদ্ধের পরে ষষ্ঠ মাসের প্রারম্ভে সংঘটিত হয়েছিল। মহান আল্লাহর বাণীঃ ’’তিনিই কিতাবওয়ালাদের মধ্যে যারা কাফির তাদেরকে প্রথম সমবেতভাবে তাদের নিবাস থেকে বিতাড়িত করেছিলেন’’- (সূরাহ হাশর ৫৯/২)। বানু নাযীর যুদ্ধের এ ঘটনাকে ইবনু ইসহাক (রহ.) বিরে মাউনার ঘটনা এবং উহূদ যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
৪০২৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, বনু নাযীর ও বনু কুরাইযাহ গোত্রের ইয়াহূদী সম্প্রদায় (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ শুরু করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাযীর গোত্রকে দেশত্যাগে বাধ্য করেন এবং বনু কুরাইযাহ গোত্রের প্রতি দয়া করে তাদেরকে থাকতে দেন। কিন্তু পরে বনূ কুরাইযাহ গোত্র (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ শুরু করলে কতক লোক যারা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দলভুক্ত হবার পর তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দান করেছিলেন তারা মুসলিম হয়ে গিয়েছিল তারা ব্যতীত অন্য সব পুরুষ লোককে হত্যা করা হয় এবং মহিলা সন্তান-সন্ততি ও মালামাল মুসলিমদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার সব ইয়াহূদীকে দেশান্তর করলেন। ’আবদুল্লাহ ইবনু সালামের গোত্র বনু কায়নুকা ও বনু হারিসাসহ অন্যান্য ইয়াহূদী গোষ্ঠীকেও তিনি দেশান্তর করেন। [মুসলিম ২৩/২০, হাঃ ১৭৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩২)
৬৪/১৩. অধ্যায়: বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের নামের তালিকা যা আল-জামে গ্রন্থে (সহীহ বুখারীতে) উল্লেখ রয়েছে।
النَّبِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْهَاشِمِيُّ صلى الله عليه وسلم إِيَاسُ بْنُ الْبُكَيْرِ بِلَالُ بْنُ رَبَاحٍ مَوْلَى أَبِيْ بَكْرٍ الْقُرَشِيِّ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ الْهَاشِمِيُّ حَاطِبُ بْنُ أَبِيْ بَلْتَعَةَ حَلِيْفٌ لِقُرَيْشٍ أَبُوْ حُذَيْفَةَ بْنُ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيْعَةَ الْقُرَشِيُّ حَارِثَةُ بْنُ الرَّبِيْعِ الْأَنْصَارِيُّ قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ وَهُوَ حَارِثَةُ بْنُ سُرَاقَةَ كَانَ فِي النَّظَّارَةِ خُبَيْبُ بْنُ عَدِيٍّ الْأَنْصَارِيُّ خُنَيْسُ بْنُ حُذَافَةَ السَّهْمِيُّ رِفَاعَةُ بْنُ رَافِعٍ الْأَنْصَارِيُّ رِفاعَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُنْذِرِ أَبُوْ لُبَابَةَ الْأَنْصَارِيُّ الزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ الْقُرَشِيُّ زَيْدُ بْنُ سَهْلٍ أَبُوْ طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيُّ أَبُوْ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ سَعْدُ بْنُ مَالِكٍ الزُّهْرِيُّ سَعْدُ بْنُ خَوْلَةَ الْقُرَشِيُّ سَعِيْدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ الْقُرَشِيُّ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ الْأَنْصَارِيُّ ظُهَيْرُ بْنُ رَافِعٍ الْأَنْصَارِيُّ وَأَخُوْهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ أَبُوْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقُ الْقُرَشِيُّ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُوْدٍ الْهُذَلِيُّ عُتْبَةُ بْنُ مَسْعُوْدٍ الْهُذَلِيُّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ الزُّهْرِيُّ عُبَيْدَةُ بْنُ الْحَارِثِ الْقُرَشِيُّ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ الْأَنْصَارِيُّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ الْعَدَوِيُّ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ الْقُرَشِيُّ خَلَّفَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى ابْنَتِهِ وَضَرَبَ لَهُ بِسَهْمِهِ عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ الْهَاشِمِيُّ عَمْرُوْ بْنُ عَوْفٍ حَلِيْفُ بَنِيْ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ عُقْبَةُ بْنُ عَمْرٍو الْأَنْصَارِيُّ عَامِرُ بْنُ رَبِيْعَةَ الْعَنَزِيُّ عَاصِمُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ عُوَيْمُ بْنُ سَاعِدَةَ الْأَنْصَارِيُّ عِتْبَانُ بْنُ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيُّ قُدَامَةُ بْنُ مَظْعُوْنٍ قَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ الْأَنْصَارِيُّ مُعَاذُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوْحِ مُعَوِّذُ بْنُ عَفْرَاءَ وَأَخُوْهُ مَالِكُ بْنُ رَبِيْعَةَ أَبُوْ أُسَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ مُرَارَةُ بْنُ الرَّبِيْعِ الْأَنْصَارِيُّ مَعْنُ بْنُ عَدِيٍّ الْأَنْصَارِيُّ مِسْطَحُ بْنُ أُثَاثَةَ بْنِ عَبَّادِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ مِقْدَادُ بْنُ عَمْرٍو الْكِنْدِيُّ حَلِيْفُ بَنِيْ زُهْرَةَ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ الْأَنْصَارِيُّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْز
১. নবী মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ হাশিমী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২. ইয়াস ইবনু বুকায়র, ৩. আবূ বকর কুরাইশীর আযাদকৃত গোলাম বিলাল ইবনু রাবাহ, ৪. হামযা ইবনু ’আবদুল মুত্তালিব আল-হাশিমী, ৫. কুরাইশদের বন্ধু হাতিব ইবনু আবূ বালতাআ, ৬. আবূ হুযাইফা ইবনু ’উত্বাহ ইবনু রাবী’আহ কুরাইশী, ৭. হারিসা ইবনু রাবী’ আনসারী, যিনি বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন; তাঁকে হারিসা ইবনু সুরাকা বলা হয়, তিনি দেখার জন্য গিয়েছিলেন। ৮. খুবায়ব ইবনু আদী আনসারী, ৯. খুনায়স ইবনু হুযাফা সাহমী, ১০. রিফা’আ ইবনু রাফি আনসারী, ১১. রিফা’আ ইবনু আবদুল মুনযির, ১২. আবূ লুবাবা আনসারী, ১৩. যুবায়র ইবনুল আওয়াম কুরাইশী, ১৪. যায়দ ইবনু সাহল, ১৫. আবূ ত্বলহা আনসারী, ১৬. আবূ যায়দ আনসারী, ১৭. সা’দ ইবনু মালিক যুহরী, ১৮. সা’দ ইবনু খাওলা কুরাইশী, ১৯. সা’ঈদ ইবনু যায়দ ইবনু ’আমর ইবনু নুফাইল কুরাইশী, ২০. সাহল ইবনু হুনাইফ আনসারী, ২১. যুহায়র ইবনু রাফি’ আনসারী, ২২. এবং তাঁর ভাই (মুযহির ইবনু রাফি’ আনসারী), ২৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উসমান, ২৪. আবূ বকর সিদ্দীক কুরাইশী, ২৫. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ হুযালী; ২৬.’উতবাহ ইবনু মাসঊদ হুযালী, ২৭. ’আবদুর রাহমান ইবনু ’আওফ যুহরী, ২৮.’উবাইদাহ ইবনুল হারিস কুরাইশী, ২৯. উবাদাহ ইবনু সামিত আনসারী, ৩০.’উমার ইবনু খাত্তাব আদাবী, ৩১. ’উসমান ইবনু আফ্ফান কুরাইশী, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর অসুস্থ কন্যার দেখাশোনার জন্য (মদিনা্য়) রেখে গিয়েছিলেন। কিন্তু গানীমাতের মালের অংশ তাঁকে দিয়েছিলেন। ৩২.’আলী ইবনু আবী তালিব হাশিমী, ৩৩.’আমির ইবনু লুওয়াই গোত্রের মিত্র ’আমর ইবনু আউফ, ৩৪.’উকবাহ ইবনু ’আমর আনসারী, ৩৫.’আমির ইবনু রাবী’আ আনাযী, ৩৬.’আসিম ইবনু সাবিত আনসারী, ৩৭. উওয়াম ইবনু সাইদা আনসারী, ৩৮.’ইতবান ইবনু মালিক আনসারী, ৩৯. কুদামাহ ইবনু মাযউন, ৪০. ক্বাতাদাহ ইবনু নু’মান আনসারী, ৪১. মু’আয ইবনু ’আমর ইবনু জামূহ, ৪২. মু’আববিয ইবনু আফরা ৪৩. এবং তাঁর ভাই (মু’আয), ৪৪. মালিক ইবনু রাবী’আ, ৪৫. আবূ উসাইদ আনসারী, ৪৬. মুরারা ইবনু রাবী আনসারী। ৪৭. মা’ন ইবনু আ’দী আনসারী, ৪৮. মিসতাহ ইবনু উসাসা ইবনু আববাদ ইবনু মুত্তালিব ইবনু ’আবদে মানাফ, ৪৯. যুহরা গোত্রের মিত্র মিকদাদ ইবনু ’আমর কিনদী, ৫০. হিলাল ইবনু উমাইয়াহ আনসারী (রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম আজমা’ঈন)।
قَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ كَانَتْ عَلَى رَأْسِ سِتَّةِ أَشْهُرٍ مِنْ وَقْعَةِ بَدْرٍ قَبْلَ أُحُدٍ وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (هُوَ الَّذِيْٓ أَخْرَجَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَنْ يَّخْرُجُوْا) وَجَعَلَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ بَعْدَ بِئْرِ مَعُوْنَةَ وَأُحُدٍ
যুহরী (রহ.) ’উরওয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বানু নাযীর যুদ্ধ ওহুদ যুদ্ধের আগে এবং বদর যুদ্ধের পরে ষষ্ঠ মাসের প্রারম্ভে সংঘটিত হয়েছিল। মহান আল্লাহর বাণীঃ ’’তিনিই কিতাবওয়ালাদের মধ্যে যারা কাফির তাদেরকে প্রথম সমবেতভাবে তাদের নিবাস থেকে বিতাড়িত করেছিলেন’’- (সূরাহ হাশর ৫৯/২)। বানু নাযীর যুদ্ধের এ ঘটনাকে ইবনু ইসহাক (রহ.) বিরে মাউনার ঘটনা এবং উহূদ যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
৪০২৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, বনু নাযীর ও বনু কুরাইযাহ গোত্রের ইয়াহূদী সম্প্রদায় (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ শুরু করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাযীর গোত্রকে দেশত্যাগে বাধ্য করেন এবং বনু কুরাইযাহ গোত্রের প্রতি দয়া করে তাদেরকে থাকতে দেন। কিন্তু পরে বনূ কুরাইযাহ গোত্র (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ শুরু করলে কতক লোক যারা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দলভুক্ত হবার পর তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দান করেছিলেন তারা মুসলিম হয়ে গিয়েছিল তারা ব্যতীত অন্য সব পুরুষ লোককে হত্যা করা হয় এবং মহিলা সন্তান-সন্ততি ও মালামাল মুসলিমদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার সব ইয়াহূদীকে দেশান্তর করলেন। ’আবদুল্লাহ ইবনু সালামের গোত্র বনু কায়নুকা ও বনু হারিসাসহ অন্যান্য ইয়াহূদী গোষ্ঠীকেও তিনি দেশান্তর করেন। [মুসলিম ২৩/২০, হাঃ ১৭৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩২)
হাদিস নং: ৪০২৯
সহিহ (Sahih)
الحسن بن مدرك حدثنا يحيى بن حماد اخبرنا ابو عوانة عن ابي بشر عن سعيد بن جبير قال قلت لابن عباس سورة الحشر قال قل سورة النضير تابعه هشيم عن ابي بشر.
৪০২৯. সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাসের নিকট সূরাহ হাশরকে সূরাহ হাশর নামে উল্লেখ করায়, তিনি বললেন, বরং তুমি বলবে ‘সূরাহ নাযীর’।[1] আবূ বিশর থেকে হুশাইমও এ বর্ণণায় তার (আবূ আওয়ানাহর) অনুসরণ করেছেন। [৪৬৪৫, ৪৮৮২, ৪৮৮৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৩)
নোট: [1] অত্র সূরাতে বনু নযীর গোত্রের লাঞ্ছনার বর্ণনা রয়েছে তাই ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আববাস সূরা হাশরকে সূরা নযীর উল্লেখ করতে বলেছেন।
হাদিস নং: ৪০৩০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي الاسود حدثنا معتمر عن ابيه سمعت انس بن مالك رضي الله عنه قال كان الرجل يجعل للنبي صلى الله عليه وسلم النخلات حتى افتتح قريظة والنضير فكان بعد ذلك يرد عليهم.
৪০৩০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারগণ কিছু কিছু খেজুর গাছ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। অবশেষে বনু কুরায়যা ও বনু নাযীর জয় করা হলে তিনি ঐ খেজুর গাছগুলো তাদেরকে ফেরত দিয়ে দেন। [২৬৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৪)
হাদিস নং: ৪০৩১
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا الليث عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال حرق رسول الله صلى الله عليه وسلم نخل بني النضير وقطع وهي البويرة فنزلت (ما قطعتم من لينة او تركتموها قآىمة على اصولها فباذن الله).
৪০৩১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুওয়াইরাই নামক জায়গায় বনু নাযীর গোত্রের যে খেজুর গাছ ছিল তার কিছু জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কিছু কেটে ফেলেছিলেন। এ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়ঃ (مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِيْنَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوْهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُوْلِهَا فَبِإِذْنِ اللهِ) ‘‘তোমরা যে খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলেছ অথবা যেগুলো কান্ডের উপর ঠিক রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে’’- (সূরাহ হাশর ৫৯/৫)। [২৩২৬; মুসলিম ৩২/১০, হাঃ ১৭৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৫)
হাদিস নং: ৪০৩২
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا حبان اخبرنا جويرية بن اسماء عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم حرق نخل بني النضير قال ولها يقول حسان بن ثابت
وهان على سراة بني لوي حريق بالبويرة مستطير
قال فاجابه ابو سفيان بن الحارث
ادام الله ذلك من صنيع وحرق في نواحيها السعير
ستعلم اينا منها بنزه وتعلم اي ارضينا تضير.
وهان على سراة بني لوي حريق بالبويرة مستطير
قال فاجابه ابو سفيان بن الحارث
ادام الله ذلك من صنيع وحرق في نواحيها السعير
ستعلم اينا منها بنزه وتعلم اي ارضينا تضير.
৪০৩২. উবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাযীর গোত্রের খেজুর গাছগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, এ সম্বন্ধেই হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেছেনঃ
‘‘বনূ লুওয়াই গোত্রের নেতাদের (কুরাইশদের) জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে
বুওয়াইরাহ নামক স্থানের সর্বত্রই অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হওয়া।’’
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, এর উত্তরে আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস বলেছিলঃ
‘‘আল্লাহ্ এ কাজকে স্থায়ী করুন
এবং জ্বালিয়ে রাখুন মদিনার আশে পাশে লেলিহান অগ্নিশিখা,
শীঘ্রই জানবে আমাদের মাঝে কারা নিরাপত্তায় থাকবে
এবং জানবে দুই নগরীর কোনটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’ [২৩২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৬)
‘‘বনূ লুওয়াই গোত্রের নেতাদের (কুরাইশদের) জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে
বুওয়াইরাহ নামক স্থানের সর্বত্রই অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হওয়া।’’
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, এর উত্তরে আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস বলেছিলঃ
‘‘আল্লাহ্ এ কাজকে স্থায়ী করুন
এবং জ্বালিয়ে রাখুন মদিনার আশে পাশে লেলিহান অগ্নিশিখা,
শীঘ্রই জানবে আমাদের মাঝে কারা নিরাপত্তায় থাকবে
এবং জানবে দুই নগরীর কোনটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’ [২৩২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৬)
হাদিস নং: ৪০৩৩
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني مالك بن اوس بن الحدثان النصري ان عمر بن الخطاب رضي الله عنه دعاه اذ جاءه حاجبه يرفا فقال هل لك في عثمان وعبد الرحمن والزبير وسعد يستاذنون فقال نعم فادخلهم فلبث قليلا ثم جاء فقال هل لك في عباس وعلي يستاذنان قال نعم فلما دخلا قال عباس يا امير المومنين اقض بيني وبين هذا وهما يختصمان في الذي افاء الله على رسوله صلى الله عليه وسلم من بني النضير فاستب علي وعباس فقال الرهط يا امير المومنين اقض بينهما وارح احدهما من الاخر فقال عمر اتىدوا انشدكم بالله الذي باذنه تقوم السماء والارض هل تعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا نورث ما تركنا صدقة يريد بذلك نفسه قالوا قد قال ذلك فاقبل عمر على عباس وعلي فقال انشدكما بالله هل تعلمان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد قال ذلك قالا نعم قال فاني احدثكم عن هذا الامر ان الله سبحانه كان خص رسوله صلى الله عليه وسلم في هذا الفيء بشيء لم يعطه احدا غيره فقال جل ذكره (ومآ افآء الله على رسوله منهم فمآ اوجفتم عليه من خيل ولا ركاب) الى قوله (قدير) فكانت هذه خالصة لرسول الله ثم والله ما احتازها دونكم ولا استاثرها عليكم لقد اعطاكموها وقسمها فيكم حتى بقي هذا المال منها فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينفق على اهله نفقة سنتهم من هذا المال ثم ياخذ ما بقي فيجعله مجعل مال الله فعمل ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم حياته ثم توفي النبي صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر فانا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقبضه ابو بكر فعمل فيه بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم وانتم حينىذ فاقبل على علي وعباس وقال تذكران ان ابا بكر فيه كما تقولان والله يعلم انه فيه لصادق بار راشد تابع للحق ثم توفى الله ابا بكر فقلت انا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم وابي بكر فقبضته سنتين من امارتي اعمل فيه بما عمل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر والله يعلم اني فيه صادق بار راشد تابع للحق ثم جىتماني كلاكما وكلمتكما واحدة وامركما جميع فجىتني يعني عباسا فقلت لكما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا نورث ما تركنا صدقة فلما بدا لي ان ادفعه اليكما قلت ان شىتما دفعته اليكما على ان عليكما عهد الله وميثاقه لتعملان فيه بما عمل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر وما عملت فيه منذ وليت والا فلا تكلماني فقلتما ادفعه الينا بذلك فدفعته اليكما افتلتمسان مني قضاء غير ذلك فوالله الذي باذنه تقوم السماء والارض لا اقضي فيه بقضاء غير ذلك حتى تقوم الساعة فان عجزتما عنه فادفعا الي فانا اكفيكماه.
৪০৩৩. মালিক ইবনু আ‘ওস ইবনু হাদসান নাসিরী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, (একদা) ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাকে ডাকলেন। এ সময় তার দ্বাররক্ষী ইয়ারফা এসে বলল, ‘উসমান, ‘আবদুর রাহমান, যুবায়র এবং সা‘দ (রাঃ) আপনার নিকট আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হাঁ তাঁদেরকে আসতে বল। কিছুক্ষণ পরে এসে বলল, ‘আব্বাস এবং ‘আলী (রাঃ) আপনার নিকট অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হাঁ। তাঁরা উভয়েই ভিতরে প্রবেশ করলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে, আমীরুল মু’মিনীন! আমার এবং তাঁর মাঝে (বিবাদের) মীমাংসা করে দিন। বনূ নাযীরের সম্পদ থেকে আল্লাহ্ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফাই (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসেবে যা দিয়েছিলেন তা নিয়ে তাদের উভয়ের মাঝে বিবাদ চলছিল। এ নিয়ে তারা তর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন, (এ দেখে আগত) দলের সকলেই বললেন, হে আমীরুল মু‘মিনীন! তাদের মাঝে একটি মীমাংসা করে তাদের এ বিবাদ থেকে মুক্তি দিন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, তাড়াহুড়া করবেন না। আমি আপনাদেরকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, যাঁর আদেশে আসমান ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে। আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সম্বন্ধে বলেছেন, আমরা (নবীগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না। যা রেখে যাই তা সাদাকা হিসাবেই গণ্য হয়। এর দ্বারা তিনি নিজের কথাই বললেন। উপস্থিত সকলেই বললেন, হাঁ, তিনি এ কথা বলেছেন। ‘উমার (রাঃ) ‘আলী এবং ‘আব্বাসের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে এ কথা বলেছেন, আপনারা তা জানেন কি? তারা উভয়েই বললেন, হাঁ, এরপর তিনি বললেন, এখন আমি আপনাদেরকে এ বিষয়ে আসল অবস্থা খুলে বলছি। ফাই এর কিছু অংশ আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যা তিনি আর অন্য কাউকে দেননি। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহ্ ইয়াহূদীদের নিকট হতে তাঁর রাসূলকে যে ফাই দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা অশ্ব কিংবা উষ্ট্র চালিয়ে যুদ্ধ করনি; আল্লাহ্ তো তাঁর রাসূলকে যার উপর ইচ্ছা তার উপর কর্তৃত্ব দান করেন; আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’’- (সূরাহ আন‘আম ৬/৫৯)। অতএব এ ফাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যই খাস ছিল। আল্লাহর কসম! এরপর তিনি তোমাদেরকে বাদ দিয়ে নিজের জন্য এ সম্পদকে সংরক্ষিতও রাখেননি এবং নিজের জন্য নির্ধারিতও করে যাননি। বরং এ অর্থকে তিনি তোমাদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। অবশেষে এ মাল উদ্বৃত্ত আছে। এ মাল থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবার পরিজনের এক বছরের খোরপোশ দিতেন। এর থেকে যা অবশিষ্ট থাকত তা তিনি আল্লাহর পথে খরচ করতে দিতেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় এরূপই করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এখন থেকে আমিই হলাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওলী (প্রতিনিধি)। এরপর আবূ বকর (রাঃ) তা স্বীয় তত্ত্বাবধানে নিয়ে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নীতি অনুসরণ করেছিলেন তিনিও সে নীতিই অনুসরণ করে চললেন। তিনি ‘আলী ও ‘আব্বাসের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আজ আপনারা যা বলছেন এ বিষয়ে আপনারা আবূ বকরের সঙ্গেও এ ধরনেরই আলোচনা করেছিলেন। আল্লাহর কসম! তিনিই জানেন, এ বিষয়ে আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ এবং হাকের অনুসারী এক মহান ব্যক্তিত্ব। এরপর আবূ বকরের ইন্তিকাল হলে আমি বললাম, (আজ থেকে) আমিই হলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকরের ওলী (প্রতিনিধি)। এরপর এ সম্পদকে আমি আমার খিলাফাতের দুই বছরকাল আমার তত্ত্বাবধানে রাখি এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকরের অনুসৃত নীতিই অনুসরণ করে চলছি। আল্লাহ্ তা‘আলাই ভাল জানেন, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও হাকের একনিষ্ঠ অনুসারী। তা সত্ত্বেও পুনরায় আপনারা দু’জনই আমার নিকট এসেছেন। আমি আপনাদের উভয়কেই বলেছিলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা (নবীগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী করি না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসাবেই গণ্য হয়। এরপর এ সম্পদটি আপনাদের উভয়ের তত্ত্বাবধানে দেয়ার বিষয়টি যখন আমার নিকট স্পষ্ট হল তখন আমি বলেছিলাম, যদি আপনারা চান তাহলে একটি শর্তে তা আমি আপনাদের নিকট অর্পণ করব। শর্তটি হচ্ছে আপনারা আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর দেয়া ওয়াদা অনুযায়ী এমনভাবে কাজ করবেন যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর করেছেন এবং আমার তত্ত্বাবধানে আসার পর আমি করেছি। অন্যথায় এ বিষয়ে আপনারা আমার সঙ্গে আর কোন আলোচনা করবেন না। তখন আপনারা বলেছিলেন, এ শর্তেই আপনি তা আমাদের নিকট অর্পণ করুন। আমি তা আপনাদের হাতে অর্পণ করেছি। এখন আপনারা আমার নিকট অন্য কোন ফায়সালা কামনা করেন কি? আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, যাঁর আদেশে আসমান যমীনটিকে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আমি এর বাইরে অন্য কোন ফয়সালা দিতে পারব না। আপনারা যদি এর দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে আমার নিকট ফিরিয়ে দিন। আপনাদের এ দায়িত্ব পালনে আমিই যথেষ্ট। [২৯০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৭)