অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৪/১. ‘উশায়রাহ বা ‘উসাইরাহর যুদ্ধ।
মোট ৫২৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৩৪৯ সহিহ (Sahih)
احمد بن عثمان حدثنا شريح بن مسلمة حدثنا ابراهيم بن يوسف بن اسحاق بن ابي اسحاق حدثني ابي عن ابي اسحاق سمعت البراء رضي الله عنه بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم مع خالد بن الوليد الى اليمن قال ثم بعث عليا بعد ذلك مكانه فقال مر اصحاب خالد من شاء منهم ان يعقب معك فليعقب ومن شاء فليقبل فكنت فيمن عقب معه قال فغنمت اواق ذوات عدد.
৪৩৪৯. আহমাদ ইবনু ‘উসমান (রহ.) ........ বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-এর সঙ্গে ইয়ামানে পাঠালেন। বারাআ (রাঃ) বলেন, তিনি খালিদ (রাঃ)-এর স্থলে ‘আলী (রাঃ)-কে পাঠিয়ে বলে দিলেন যে, খালিদ (রাঃ)-এর সাথীদেরকে বলবে, তাদের মধ্যে যে তোমার সঙ্গে (ইয়ামানের দিকে) যেতে ইচ্ছা করে সে যেন তোমার সাথে চলে যায়, আর যে (মদিনা্য়) ফিরে যেতে চায় সে যেন ফিরে যায়। (রাবী বলেন) তখন আমি ‘আলী (রাঃ)-এর অনুগামীদের মধ্যে থাকলাম। ফলে আমি গানীমাত হিসেবে অনেক পরিমাণ উকিয়া[1] লাভ করলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৮)
নোট: [1] এক উকিয়া = ৪০ দিরহাম সমপরিমাণ।
হাদিস নং: ৪৩৫০ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا روح بن عبادة حدثنا علي بن سويد بن منجوف عن عبد الله بن بريدة عن ابيه رضي الله عنه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم عليا الى خالد ليقبض الخمس وكنت ابغض عليا وقد اغتسل فقلت لخالد الا ترى الى هذا فلما قدمنا على النبي صلى الله عليه وسلم ذكرت ذلك له فقال يا بريدة اتبغض عليا فقلت نعم قال لا تبغضه فان له في الخمس اكثر من ذلك.
৪৩৫০. বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে খুমুস (গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ) নিয়ে আসার জন্য খালিদ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। (রাবী বুরাইদাহ বলেন,) আমি ‘আলী (রাঃ)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট, আর তিনি গোসলও করেছেন। (রাবী বলেন) তাই আমি খালিদ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কি তার দিকে দেখছেন না? এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন, হে বুরাইদাহ! তুমি কি ‘আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেক না। কারণ খুমুসে তার প্রাপ্য এর চেয়েও অধিক আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১২)
হাদিস নং: ৪৩৫১ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا عبد الواحد عن عمارة بن القعقاع بن شبرمة حدثنا عبد الرحمن بن ابي نعم قال سمعت ابا سعيد الخدري يقول بعث علي بن ابي طالب رضي الله عنه الى رسول الله صلى الله عليه وسلم من اليمن بذهيبة في اديم مقروظ لم تحصل من ترابها قال فقسمها بين اربعة نفر بين عيينة بن بدر واقرع بن حابس وزيد الخيل والرابع اما علقمة واما عامر بن الطفيل فقال رجل من اصحابه كنا نحن احق بهذا من هولاء قال فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال الا تامنوني وانا امين من في السماء ياتيني خبر السماء صباحا ومساء قال فقام رجل غاىر العينين مشرف الوجنتين ناشز الجبهة كث اللحية محلوق الراس مشمر الازار فقال يا رسول الله اتق الله قال ويلك اولست احق اهل الارض ان يتقي الله قال ثم ولى الرجل قال خالد بن الوليد يا رسول الله الا اضرب عنقه قال لا لعله ان يكون يصلي فقال خالد وكم من مصل يقول بلسانه ما ليس في قلبه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اني لم اومر ان انقب عن قلوب الناس ولا اشق بطونهم قال ثم نظر اليه وهو مقف فقال انه يخرج من ضىضى هذا قوم يتلون كتاب الله رطبا لا يجاوز حناجرهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية واظنه قال لىن ادركتهم لاقتلنهم قتل ثمود.
৪৩৫১. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক প্রকার (রঙিণ) চামড়ার থলে করে সামান্য কিছু স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন। তখনও এগুলো থেকে সংযুক্ত মাটি পরিষ্কার করা হয়নি। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার জনের মাঝে স্বর্ণখন্ডটি বণ্টন করে দিলেন। তারা হলেন, ‘উয়াইনাহ ইবনু বাদর, আকরা ইবনু হাবিস, যায়দ আল-খায়ল এবং চতুর্থ জন ‘আলক্বামাহ কিংবা ‘আমির ইবনু তুফায়ল (রাঃ)। তখন সাহাবীগণের মধ্য থেকে একজন বললেন, এটা পাওয়ার ব্যাপারে তাঁদের অপেক্ষা আমরাই অধিক হাকদার ছিলাম। (রাবী) বলেন, কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি আমার উপর আস্থা রাখ না অথচ আমি আসমানের অধিবাসীদের আস্থাভাজন, সকাল-বিকাল আমার কাছে আসমানের সংবাদ আসছে। রাবী বলেন, এমন সময়ে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। লোকটির চোখ দু’টি ছিল কোটরাগত, চোয়ালের হাড় যেন বেরিয়ে পড়ছে, উঁচু কপাল বিশিষ্ট, দাড়ি অতি ঘন, মাথাটি ন্যাড়া, পরনের লুঙ্গী উপরে উত্থিত। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহকে ভয় করুন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার জন্য আফসোস! আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে দুনিয়াবাসীদের মধ্যে আমি কি অধিক হাকদার নই? রাবী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, লোকটি চলে গেলে খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি লোকটির গর্দান উড়িয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, হতে পারে সে সালাত আদায় করে। খালিদ (রাঃ) বললেন, অনেক সালাত আদায়কারী এমন আছে যারা মুখে এমন এমন কথা উচ্চারণ করে যা তাদের অন্তরে নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে মানুষের দিল ছিদ্র করে, পেট ফেড়ে দেখার জন্য বলা হয়নি। তারপর তিনি লোকটির দিকে তাকিয়ে দেখলেন। তখন লোকটি পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন, এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন এক জাতির উদ্ভব হবে যারা শ্রুতিমধুর কণ্ঠে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে অথচ আল্লাহর বাণী তাদের গলদেশের নিচে নামবে না। তারা দ্বীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে লক্ষ্যবস্তুর দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, যদি আমি তাদেরকে পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদেরকে সামূদ জাতির মতো হত্যা করে দেব। [৩৩৪৪; মুসলিম ১২/৪৭, হাঃ ১০৬৪, আহমাদ ১১৬৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১০)
হাদিস নং: ৪৩৫২ সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم عن ابن جريج قال عطاء قال جابر امر النبي صلى الله عليه وسلم عليا ان يقيم على احرامه زاد محمد بن بكر عن ابن جريج قال عطاء قال جابر فقدم علي بن ابي طالب رضي الله عنه بسعايته قال له النبي صلى الله عليه وسلم بم اهللت يا علي قال بما اهل به النبي صلى الله عليه وسلم قال فاهد وامكث حراما كما انت قال واهدى له علي هديا.
৪৩৫২. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে তাঁর কৃত ইহরামের উপর স্থির থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাকর ইবনু জুরায়জ-‘আত্বা (রহ.)-জাবির (রাঃ) সূত্রে আরও বর্ণনা করেন যে, জাবির (রাঃ) বলেছেনঃ ‘আলী ইবনু আবূ তালিব তাঁর আদায়কৃত কর খুমুস নিয়ে (মক্কা্য়) আসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে ‘আলী! তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তুমি কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দাও এবং ইহরাম বাঁধা এ অবস্থায় অবস্থান করতে থাক। বর্ণনাকারী [জাবির (রাঃ)] বলেন, সে সময় ‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কুরবানীর পশু পাঠিয়েছিলেন। [১৫৫৭; মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১১)
হাদিস নং: ৪৩৫৩ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا بشر بن المفضل عن حميد الطويل حدثنا بكر انه ذكر لابن عمر ان انسا حدثهم ان النبي صلى الله عليه وسلم اهل بعمرة وحجة فقال اهل النبي صلى الله عليه وسلم بالحج واهللنا به معه فلما قدمنا مكة قال من لم يكن معه هدي فليجعلها عمرة وكان مع النبي صلى الله عليه وسلم هدي فقدم علينا علي بن ابي طالب من اليمن حاجا فقال النبي صلى الله عليه وسلم بم اهللت فان معنا اهلك قال اهللت بما اهل به النبي صلى الله عليه وسلم قال فامسك فان معنا هديا.
৪৩৫৩-৪৩৫৪. বাকর (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এ কথা উল্লেখ করা হল, ‘আনাস (রাঃ) লোকেদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহর জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছেন, তাঁর সঙ্গে আমরাও হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধি। যখন আমরা মক্কা্য় পৌঁছলাম তিনি বললেন, তোমাদের যার সঙ্গে কুরবানীর পশু নেই সে যেন তার হাজ্জের ইহরাম ‘উমরাহর ইহরামে পরিণত করে। অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। অতঃপর ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হাজ্জের উদ্দেশে ইয়ামান থেকে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? কারণ আমাদের সঙ্গে তোমার স্ত্রী পরিবার আছে। তিনি উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন আমি সেটিরই ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে (এ অবস্থায়ই) থাক, কেননা আমাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে। [মুসলিম ১৫/২৭, হাঃ ১২৩১, ১২৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১২)

 
হাদিস নং: ৪৩৫৪ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا بشر بن المفضل عن حميد الطويل حدثنا بكر انه ذكر لابن عمر ان انسا حدثهم ان النبي صلى الله عليه وسلم اهل بعمرة وحجة فقال اهل النبي صلى الله عليه وسلم بالحج واهللنا به معه فلما قدمنا مكة قال من لم يكن معه هدي فليجعلها عمرة وكان مع النبي صلى الله عليه وسلم هدي فقدم علينا علي بن ابي طالب من اليمن حاجا فقال النبي صلى الله عليه وسلم بم اهللت فان معنا اهلك قال اهللت بما اهل به النبي صلى الله عليه وسلم قال فامسك فان معنا هديا.
৪৩৫৩-৪৩৫৪. বাকর (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এ কথা উল্লেখ করা হল, ‘আনাস (রাঃ) লোকেদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহর জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছেন, তাঁর সঙ্গে আমরাও হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধি। যখন আমরা মক্কা্য় পৌঁছলাম তিনি বললেন, তোমাদের যার সঙ্গে কুরবানীর পশু নেই সে যেন তার হাজ্জের ইহরাম ‘উমরাহর ইহরামে পরিণত করে। অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। অতঃপর ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হাজ্জের উদ্দেশে ইয়ামান থেকে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? কারণ আমাদের সঙ্গে তোমার স্ত্রী পরিবার আছে। তিনি উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন আমি সেটিরই ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে (এ অবস্থায়ই) থাক, কেননা আমাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে। [মুসলিম ১৫/২৭, হাঃ ১২৩১, ১২৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১২)

 
হাদিস নং: ৪৩৫৫ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا خالد حدثنا بيان عن قيس عن جرير قال كان بيت في الجاهلية يقال له ذو الخلصة والكعبة اليمانية والكعبة الشامية فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم الا تريحني من ذي الخلصة فنفرت في ماىة وخمسين راكبا فكسرناه وقتلنا من وجدنا عنده فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فاخبرته فدعا لنا ولاحمس.
৪৩৫৫. জারীর (ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ বাজালী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে একটি ঘর ছিল যাকে ‘যুল খালাসা’, ইয়ামানী কা‘বা এবং সিরীয় কা‘বা৭৯ বলা হত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসা থেকে আমাকে স্বস্তি দেবে না? এ কথা শুনে আমি একশ’ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী নিয়ে ছুটে চললাম। আর এ ঘরটি ভেঙ্গে টুকরা করে দিলাম এবং সেখানে যাদেরকে পেলাম তাদের হত্যা করে ফেললাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে এ সংবাদ জানালাম। তিনি আমাদের জন্য এবং (আমাদের গোত্র) আহমাসের জন্য দু‘আ করলেন। [৩০২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৩)
হাদিস নং: ৪৩৫৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى حدثنا اسماعيل حدثنا قيس قال قال لي جرير رضي الله عنه قال لي النبي صلى الله عليه وسلم الا تريحني من ذي الخلصة وكان بيتا في خثعم يسمى الكعبة اليمانية فانطلقت في خمسين وماىة فارس من احمس وكانوا اصحاب خيل وكنت لا اثبت على الخيل فضرب في صدري حتى رايت اثر اصابعه في صدري وقال اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا فانطلق اليها فكسرها وحرقها ثم بعث الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول جرير والذي بعثك بالحق ما جىتك حتى تركتها كانها جمل اجرب قال فبارك في خيل احمس ورجالها خمس مرات.
৪৩৫৬. ক্বায়স (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি  বলেন, জারীর (রাঃ) থেকে আমাকে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খালাসা থেকে স্বস্তি দেবে না? যুল খালাসা ছিল খাসআম গোত্রের একটি ঘর, যার নাম দেয়া হয়েছিল ইয়ামানী কা‘বা। এ কথা শুনে আমি আহ্মাস গোত্র থেকে একশ’ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে চললাম। তাঁদের সকলেই অশ্ব পরিচালনায় পারদর্শী ছিল। আর আমি তখন ঘোড়ার পিঠে স্থিরভাবে বসতে পারছিলাম না। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকের উপর হাত দিয়ে আঘাত করলেন। এমন কি আমি আমার বুকের উপর তার আঙ্গুলগুলোর ছাপ পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তিনি দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ! একে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াত দানকারী ও হিদায়াত লাভকারী বানিয়ে দিন। এরপর জারীর (রাঃ) সেখানে গেলেন এবং ঘরটি ভেঙ্গে দিলেন আর তা জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর তিনি [জারীর (রাঃ)] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দূত পাঠালেন। তখন জারীরের দূত [রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বলল, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি ঘরটিকে চর্মরোগে আক্রান্ত কাল উটের মতো রেখে আপনার কাছে এসেছি। রাবী বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীর জন্য পাঁচবার বারাকাতের দু‘আ করলেন। [৩০২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৪)
হাদিস নং: ৪৩৫৭ সহিহ (Sahih)
يوسف بن موسى اخبرنا ابو اسامة عن اسماعيل بن ابي خالد عن قيس عن جرير قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم الا تريحني من ذي الخلصة فقلت بلى فانطلقت في خمسين وماىة فارس من احمس وكانوا اصحاب خيل وكنت لا اثبت على الخيل فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فضرب يده على صدري حتى رايت اثر يده في صدري وقال اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا قال فما وقعت عن فرس بعد قال وكان ذو الخلصة بيتا باليمن لخثعم وبجيلة فيه نصب تعبد يقال له الكعبة قال فاتاها فحرقها بالنار وكسرها قال ولما قدم جرير اليمن كان بها رجل يستقسم بالازلام فقيل له ان رسول رسول الله صلى الله عليه وسلم ها هنا فان قدر عليك ضرب عنقك قال فبينما هو يضرب بها اذ وقف عليه جرير فقال لتكسرنها ولتشهدن ان لا اله الا الله او لاضربن عنقك قال فكسرها وشهد ثم بعث جرير رجلا من احمس يكنى ابا ارطاة الى النبي صلى الله عليه وسلم يبشره بذلك فلما اتى النبي صلى الله عليه وسلم قال يا رسول الله والذي بعثك بالحق ما جىت حتى تركتها كانها جمل اجرب قال فبرك النبي صلى الله عليه وسلم على خيل احمس ورجالها خمس مرات.
৪৩৫৭. জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খালাসা থেকে স্বস্তি দেবে না? আমি বললামঃ অবশ্যই। এরপর আমি (আমাদের) আহমাস গোত্র থেকে একশ’ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈনিক নিয়ে চললাম। তাদের সবাই ছিল অভিজ্ঞ অশ্বচালক। কিন্তু আমি ঘোড়ার উপর স্থির হয়ে বসতে পারতাম না। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের উপর আঘাত করলেন। এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর হাতের চিহ্ন পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তিনি দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! একে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতদানকারী ও হিদায়াত লাভকারী বানিয়ে দিন। জারীর (রাঃ) বলেনঃ এরপরে আর কখনো আমি আমার ঘোড়া থেকে পড়ে যাইনি। তিনি আরো বলেছেন যে, যুল খালাসা ছিল ইয়ামানের অন্তর্গত খাসআম ও বাজীলা গোত্রের একটি ঘর। সেখানে কতগুলো মূর্তি ছিল যেগুলোর পূজা করা হত এবং এ ঘরটিকে বলা হত কা‘বা। রাবী (কায়স) বলেন, এরপর তিনি সেখানে গেলেন এবং ঘরটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন আর একে ভেঙ্গে চুরে ফেললেন। রাবী আরো বলেন, আর যখন জারীর (রাঃ) ইয়ামানে গিয়ে উঠলেন তখন সেখানে এক লোক থাকত, সে তীরের সাহায্যে ভাগ্য নির্ণয় করত। লোকটিকে বলা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি এখানে আছেন, তিনি যদি তোমাকে পাকড়াও করেন তাহলে তোমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন। রাবী বলেন, এরপর যখন সে ভাগ্য নির্ণয়ের কাজে লিপ্ত ছিল, সেই অবস্থায় জারীর (রাঃ) সেখানে পৌঁছে গেলেন। তিনি বললেন, তীরগুলো ভেঙ্গে ফেল এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই-এ কথার সাক্ষ্য দাও, অন্যথায় তোমার গর্দান উড়িয়ে দেব। লোকটি তখন তীরগুলো ভেঙ্গে ফেলল এবং কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করল। এরপর জারীর (রাঃ) আবূ আরতাত ডাক নাম বিশিষ্ট আহমাস গোত্রের এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠালেন এ সংবাদ শোনানোর জন্য। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সে সত্তার কসম করে বলেছি, যিনি আপনাকে সত্য বাণী সহকারে পাঠিয়েছেন, ঘরটিকে চর্মরোগে আক্রান্ত উটের মতো কালো করে রেখে আমি এসেছি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী এবং পদাতিক সৈনিকদের বারকাতের জন্য পাঁচবার দু‘আ করলেন। [৩০২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৫)
হাদিস নং: ৪৩৫৮ সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا خالد بن عبد الله عن خالد الحذاء عن ابي عثمان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث عمرو بن العاص على جيش ذات السلاسل قال فاتيته فقلت اي الناس احب اليك قال عاىشة قلت من الرجال قال ابوها قلت ثم من قال عمر فعد رجالا فسكت مخافة ان يجعلني في اخرهم.
وَهِيَ غَزْوَةُ لَخْمٍ وَجُذَامَ قَالَهُ إِسْمَاعِيْلُ بْنُ أَبِيْ خَالِدٍ

وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ يَزِيْدَ عَنْ عُرْوَةَ هِيَ بِلَادُ بَلِيٍّ وَعُذْرَةَ وَبَنِي الْقَيْنِ.

ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহ.)-এর মতে, এটি লাখম ও জুযাম গোত্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধ।

ইবনু ইসহাক (রহ.) ইয়াযীদ (রহ.)-এর মাধ্যমে ’উরওয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, যাতুস্ সালাসিল হল বালী, উযরা এবং বনিল কাইন গোত্রসমূহের নির্মিত নগর।


৪৩৫৮. আবূ ’উসমান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনুল আস (রাঃ)-কে (সেনাপতি হিসেবে) যাতুস্ সালাসিল বাহিনীর বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমর ইবনুল আস বলেনঃ (যুদ্ধ শেষে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কাছে কোন্ লোকটি অধিকতর প্রিয়? তিনি উত্তর দিলেন, ’আয়িশাহ, আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তার (’আয়িশাহ’র) পিতা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বললেন, ’উমার। এভাবে তিনি পর পর আরো কয়েকজনের নাম বললেন। আমি চুপ হয়ে গেলাম এ ভয়ে যে, আমাকে না তিনি সকলের শেষে গণ্য করে বসেন। [৩৬৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৬)

 
হাদিস নং: ৪৩৫৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي شيبة العبسي حدثنا ابن ادريس عن اسماعيل بن ابي خالد عن قيس عن جرير قال كنت باليمن فلقيت رجلين من اهل اليمن ذا كلاع وذا عمرو فجعلت احدثهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له ذو عمرو لىن كان الذي تذكر من امر صاحبك لقد مر على اجله منذ ثلاث واقبلا معي حتى اذا كنا في بعض الطريق رفع لنا ركب من قبل المدينة فسالناهم فقالوا قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم واستخلف ابو بكر والناس صالحون فقالا اخبر صاحبك انا قد جىنا ولعلنا سنعود ان شاء الله ورجعا الى اليمن فاخبرت ابا بكر بحديثهم قال افلا جىت بهم فلما كان بعد قال لي ذو عمرو يا جرير ان بك علي كرامة واني مخبرك خبرا انكم معشر العرب لن تزالوا بخير ما كنتم اذا هلك امير تامرتم في اخر فاذا كانت بالسيف كانوا ملوكا يغضبون غضب الملوك ويرضون رضا الملوك.
৪৩৫৯. জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইয়ামানে ছিলাম। এ সময়ে একদা যুকালা ও যু‘আমর নামে ইয়ামানের দু’ব্যক্তির সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হল। আমি তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস শোনাতে লাগলাম। (বর্ণনাকারী বলেন) এমন সময়ে যু‘আমর জারীর (রাঃ)-কে বললেন, তুমি যা বর্ণনা করছ তা যদি তোমার সাথীরই [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] কথা হয়ে থাকে তা হলে জেনে নাও যে, তিনদিন আগে তিনি ইন্তিকাল করে গেছেন।[*] (জারীর বলেন, এ কথা শুনে আমি মদিনার দিকে ছুটলাম) তারা দু’জনেও আমার সঙ্গে সম্মুখের দিকে চললেন। অতঃপর আমরা একটি রাস্তার ধারে পৌঁছলে মদিনার দিক থেকে আসা একদল সওয়ারীর সাক্ষাৎ পেলাম। আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়ে গেছে। মুসলিমদের পরামর্শত্রুমে আবূ বকর (রাঃ) খলীফা নির্বাচিত হয়েছেন। তারপর তারা দু’জন (আমাকে) বলল, (মদিনা্য়) তোমার সাথী [আবূ বকর (রাঃ)]-কে বলবে যে, আমরা কিছুদূর পর্যন্ত এসেছিলাম। সম্ভবত আবার আসব ইনশাআল্লাহ, এ কথা বলে তারা দু’জনে ইয়ামানের দিকে ফিরে গেল। এরপর আমি আবূ বকর (রাঃ)-কে তাদের কথা জানালাম। তিনি বললেন, তাদেরকে তুমি নিয়ে আসলে না কেন? পরে আরেক সময় যু‘আমর আমাকে বললেন, হে জারীর! তুমি আমার চেয়ে অধিক সম্মানী। তবুও আমি তোমাকে একটি কথা জানিয়ে দিচ্ছি যে, তোমরা আরব জাতি ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা একজন আমীর মারা গেলে অপরজনকে (পরামর্শের ভিত্তিতে) আমীর বানিয়ে নেবে। আর তা যদি তরবারির জোরে ফায়সালা হয় তা হলে তোমাদের আমীরগণ রাজা বাদশাহর মতোই হয়ে যাবে। তারা রাজাদের রাগ করার মতই রাগ করবে। রাজাদের খুশি হওয়ার মতই খুশি হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৭)
নোট: [*] যু'আমর সম্ভবত কারো মুখে পূর্বেই অবগত হয়েছিলেন অথবা এও হতে পারে যে, তিনি জাহেলী যুগে জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে এ কথা বলেছিলেন। আল্লহই ভাল জানেন।
হাদিস নং: ৪৩৬০ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن وهب بن كيسان عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما انه قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثا قبل الساحل وامر عليهم ابا عبيدة بن الجراح وهم ثلاث ماىة فخرجنا وكنا ببعض الطريق فني الزاد فامر ابو عبيدة بازواد الجيش فجمع فكان مزودي تمر فكان يقوتنا كل يوم قليل قليل حتى فني فلم يكن يصيبنا الا تمرة تمرة فقلت ما تغني عنكم تمرة فقال لقد وجدنا فقدها حين فنيت ثم انتهينا الى البحر فاذا حوت مثل الظرب فاكل منها القوم ثماني عشرة ليلة ثم امر ابو عبيدة بضلعين من اضلاعه فنصبا ثم امر براحلة فرحلت ثم مرت تحتهما فلم تصبهما.
৪৩৬০. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমুদ্র তীরের দিকে একটি সৈন্যবাহিনী পাঠালেন। আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্ (রাঃ)-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিলেন। তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন তিনশ’। (রাবী বলেন) আমরা বেরিয়ে পড়লাম। আমরা এক রাস্তায় ছিলাম, তখন আমাদের রসদপত্র শেষ হয়ে গেল, তাই আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) আদেশ দিলেন সমগ্র সেনাদলের অবশিষ্ট পাথেয় একত্রিত করতে। অতএব সব একত্রিত করা হল। মাত্র দু’থলে খেজুর হল। এরপর তিনি প্রত্যহ অল্প অল্প করে আমাদের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ করতে লাগলেন। যখন তাও শেষ হয়ে গেল। তখন কেবল একটি একটি করে খেজুর আমরা পেতাম। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি জাবির (রাঃ)-কে বললাম, একটি করে খেজুর খেয়ে আপনাদের কতটুকু ক্ষুধা মিটত? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! একটি খেজুর পাওয়াও বন্ধ হয়ে গেলে আমরা একটির কদরও বুঝতে পারলাম। এরপর আমরা সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। তখন আমরা পর্বতের মতো বড় একটি মাছ পেয়ে গেলাম। বাহিনীর সকলে আঠানো দিন পর্যন্ত তা খেল। তারপর আবূ উবাইদা (রাঃ) মাছটির পাঁজরের দু’টি হাড় আনতে হুকুম দিলেন। (দু’টি হাড় আনা হলে) সেগুলো দাঁড় করানো হল। এরপর তিনি একটি সওয়ারী প্রস্তুত করতে বললেন। সাওয়ারী প্রস্তুত হল এবং হাড় দু’টির নিচ দিয়ে সওয়ারীটি অতিক্রম করল। কিন্তু হাড় দু’টিতে কোনই স্পর্শ লাগল না। [২৪৮৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৮)
হাদিস নং: ৪৩৬১ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال الذي حفظناه من عمرو بن دينار قال سمعت جابر بن عبد الله يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث ماىة راكب اميرنا ابو عبيدة بن الجراح نرصد عير قريش فاقمنا بالساحل نصف شهر فاصابنا جوع شديد حتى اكلنا الخبط فسمي ذلك الجيش جيش الخبط فالقى لنا البحر دابة يقال لها العنبر فاكلنا منه نصف شهر وادهنا من ودكه حتى ثابت الينا اجسامنا فاخذ ابو عبيدة ضلعا من اضلاعه فنصبه فعمد الى اطول رجل معه قال سفيان مرة ضلعا من اضلاعه فنصبه واخذ رجلا وبعيرا فمر تحته قال جابر وكان رجل من القوم نحر ثلاث جزاىر ثم نحر ثلاث جزاىر ثم نحر ثلاث جزاىر ثم ان ابا عبيدة نهاه وكان عمرو يقول اخبرنا ابو صالح ان قيس بن سعد قال لابيه كنت في الجيش فجاعوا قال انحر قال نحرت قال ثم جاعوا قال انحر قال نحرت قال ثم جاعوا قال انحر قال نحرت ثم جاعوا قال انحر قال نهيت.
৪৩৬১. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিনশ’ সাওয়ারীর একটি সৈন্যবাহিনীকে কুরাইশদের একটি কাফেলার উপর সুযোগ মতো আক্রমণ চালানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন। আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্ (রাঃ) ছিলেন আমাদের সেনাপতি। আমরা অর্ধমাস সমুদ্র তীরে অবস্থান করলাম। ভয়ানক ক্ষুধা আমাদেরকে পেয়ে বসল। ক্ষুধার জ্বালায় গাছের পাতা খেতে থাকলাম। এ জন্যই এ সৈন্যবাহিনীর নাম রাখা হয়েছে জায়শুল খাবাত অর্থাৎ পাতাওয়ালা সেনাদল। এরপর সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বর নামক একটি প্রাণী নিক্ষেপ করল। আমরা অর্ধমাস ধরে তা থেকে খেলাম। এর চর্বি শরীরে লাগালাম। ফলে আমাদের শরীর পূর্বের মত হৃষ্টপুষ্ট হয়ে গেল। এরপর আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) আম্বরটির শরীর থেকে একটি পাঁজর ধরে খাড়া করালেন। এরপর তাঁর সাথীদের মধ্যকার সবচেয়ে লম্বা লোকটিকে আসতে বললেন। সুফ্ইয়ান (রাঃ) আরেক বর্ণনায় বলেছেন, আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) আম্বরটির পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্য থেকে একটি হাড় ধরে খাড়া করালেন এবং (ঐ) লোকটিকে উটের পিঠে বসিয়ে এর নিচে দিয়ে অতিক্রম করালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, সেনাদলের এক ব্যক্তি (খাদ্যের অভাব দেখে) প্রথমে তিনটি উট যবহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবেহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবহ করেছিলেন। এরপর আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) তাকে (উট যবহ করতে) নিষেধ করলেন। আমর ইবনু দ্বীনার (রাঃ) বলতেন, আবূ সালিহ (রহ.) আমাদের জানিয়েছেন যে, কায়স ইবনু সা‘দ (রাঃ) (অভিযান থেকে ফিরে এসে) তাঁর পিতার কাছে বর্ণনা করেছিলেন যে, সেনাদলে আমিও ছিলাম, সেনাদল ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল, (কথাটা শোনামাত্র কায়সের পিতা) সা‘দ বললেন, এমতাবস্থায় তুমি উট যবহ করে দিতে। কায়স বললেন, (হ্যাঁ) আমি উট যবেহ করেছি। তিনি বললেন, তারপর আবার সবাই ক্ষুধার্ত হয়ে গেল। এবারো তার পিতা বললেন, তুমি যবহ করতে। তিনি বললেন, (হ্যাঁ) যবহ করেছি। তিনি বললেন, তারপর আবার সবাই ক্ষুধার্ত হল। সা‘দ বললেন, এবারো উট যবহ করতে। তিনি বললেন, (হ্যাঁ) যবহ করেছি। তিনি বললেন, এরপরও আবার সবাই ক্ষুধার্ত হল। সা‘দ (রাঃ) বললেন, উট যবহ করতে। যখন কায়স ইবনু সা‘দ (রাঃ) বললেন, তখন আমাকে (যবহ করতে) নিষেধ করা হল।৮২ [২৪৮৩; মুসলিম ৩৪/৪, হাঃ ১৯৩৫, আহমাদ ১৪৩১৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৯)
হাদিস নং: ৪৩৬২ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن ابن جريج قال اخبرني عمرو انه سمع جابرا رضي الله عنه يقول غزونا جيش الخبط وامر ابو عبيدة فجعنا جوعا شديدا فالقى البحر حوتا ميتا لم نر مثله يقال له العنبر فاكلنا منه نصف شهر فاخذ ابو عبيدة عظما من عظامه فمر الراكب تحته فاخبرني ابو الزبير انه سمع جابرا يقول قال ابو عبيدة كلوا فلما قدمنا المدينة ذكرنا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال كلوا رزقا اخرجه الله اطعمونا ان كان معكم فاتاه بعضهم فاكله.
৪৩৬২. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাইশুল খাবাত-এর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, আর আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ)-কে আমাদের সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল। পথে আমরা ভীষণ ক্ষুধায় ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ি। তখন সমুদ্র আমাদের জন্য একটি মরা মাছ তীরে নিক্ষেপ করে দিল। এত বড় মাছ আমরা আর কখনো দেখিনি, একে আমবার বলা হয়। এরপর মাছটি থেকে আমরা অর্ধমাস আহার করলাম। একবার আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) মাছটির হাড়গুলোর একটি হাড় তুলে ধরলেন আর সওয়ারীর পিঠে চড়ে একজন হাড়টির নিচ দিয়ে অতিক্রম করল। (ইবনু জুরায়জ বলেন) আবূ যুবায়র (রহ.) আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি জাবির (রাঃ) থেকে শুনেছেন, জাবির (রাঃ) বলেনঃ ঐ সময় আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) বললেনঃ তোমরা মাছটি আহার কর। এরপর আমরা মদিনা ফিরে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি অবগত করলাম। তিনি বললেন, খাও। এটি তোমাদের জন্য রিয্ক, আল্লাহ পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর তোমাদের কাছে কিছু অবশিষ্ট থাকলে আমাদেরকেও খাওয়াও। মাছটিরও কিছু অংশ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এনে দেয়া হল। তিনি তা খেলেন। [২৪৮৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২০)
হাদিস নং: ৪৩৬৩ সহিহ (Sahih)
سليمان بن داود ابو الربيع حدثنا فليح عن الزهري عن حميد بن عبد الرحمن عن ابي هريرة ان ابا بكر الصديق رضي الله عنه بعثه في الحجة التي امره النبي صلى الله عليه وسلم عليها قبل حجة الوداع يوم النحر في رهط يوذن في الناس لا يحج بعد العام مشرك ولا يطوف بالبيت عريان.
৪৩৬৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, বিদায় হাজ্জের পূর্ববর্তী হাজ্জে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে আমীরুল হাজ্জ নিযুক্ত করেছিলেন। সে সময় দশ তারিখে আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে] একটি ছোট দলসহ লোকজনের মধ্যে এ ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন যে, আগামী বছর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। আর উলঙ্গ অবস্থায়ও কেউ বাইতুল্লাহর তওয়াফ করতে পারবে না।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২১)
নোট: * পূর্বে নারী পুরুষ নির্বিশেষে উলঙ্গ হয়ে কা'বা গৃহ তাওয়াফ করতো। তাই এহেন জঘন্য কাজ না করার ঘোষণা পাঠিয়েছিলেন।
হাদিস নং: ৪৩৬৪ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن رجاء حدثنا اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء رضي الله عنه قال اخر سورة نزلت كاملة براءة واخر سورة نزلت خاتمة سورة (النسآ‍ء يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة).
৪৩৬৪. বারাআ (ইবনু আযিব) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বশেষে যে সূরাটি পূর্ণরূপে অবতীর্ণ হয়েছিল তা ছিল সূরাহ বারাআত। আর সর্বশেষ যে সূরার আয়াতটি সমাপ্তিরূপে অবতীর্ণ হয়েছিল সেটি ছিল সূরাহ আন-নিসার এ আয়াতঃ  النِسَاءِ يَسْتَفْتُوْنَكَ قُلْ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلَالَةِّ অর্থাৎ লোকেরা আপনার কাছে সমাধান জানতে চায়, বলুন পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে আল্লাহ সমাধান জানাচ্ছেন- (সূরাহ আন-নিসা ৪/১৭৬)। [৪৬০৫, ৪৬৫৪, ৬৭৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২২)
হাদিস নং: ৪৩৬৫ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن ابي صخرة عن صفوان بن محرز المازني عن عمران بن حصين رضي الله عنهما قال اتى نفر من بني تميم النبي صلى الله عليه وسلم فقال اقبلوا البشرى يا بني تميم قالوا يا رسول الله قد بشرتنا فاعطنا فرىي ذلك في وجهه فجاء نفر من اليمن فقال اقبلوا البشرى اذ لم يقبلها بنو تميم قالوا قد قبلنا يا رسول الله.
৪৩৬৫. ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু তামীমের একটি প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আসলে তিনি তাদেরকে বললেনঃ হে বানু তামীম! সুসংবাদ গ্রহণ কর। তারা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সুসংবাদ দিয়ে থাকেন, এবার আমাদেরকে কিছু (অর্থ-সম্পদ) দিন। কথাটি শুনে তাঁর চেহারায় অসন্তোষের ভাব প্রকাশ পেল। এরপর ইয়ামানের একটি প্রতিনিধি দল আসলে তিনি তাঁদেরকে বললেন, বানু তামীম যখন সুসংবাদ  গ্রহণ করলোই না তখন তোমরা সেটি গ্রহণ কর। তারা বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম হে আল্লাহর রাসূল! [৩১৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২৩)
হাদিস নং: ৪৩৬৬ সহিহ (Sahih)
زهير بن حرب حدثنا جرير عن عمارة بن القعقاع عن ابي زرعة عن ابي هريرة رضي الله عنه قال لا ازال احب بني تميم بعد ثلاث سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولها فيهم هم اشد امتي على الدجال وكانت فيهم سبية عند عاىشة فقال اعتقيها فانها من ولد اسماعيل وجاءت صدقاتهم فقال هذه صدقات قوم او قومي.
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ غَزْوَةُ عُيَيْنَةَ بْنِ حِصْنِ بْنِ حُذَيْفَةَ بْنِ بَدْرٍ بَنِي الْعَنْبَرِ مِنْ بَنِيْ تَمِيْمٍ بَعَثَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ فَأَغَارَ وَأَصَابَ مِنْهُمْ نَاسًا وَسَبَى مِنْهُمْ نِسَاءً.

বানু তামীমের উপগোত্র বানু আমবার-এর বিরুদ্ধে ‘উইয়াইনাহ ইবনু হিস্ন ইবনু হুযাইফাহ ইবনু বদরের যুদ্ধ। ইবনু ইসহাক (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উইয়াইনাহ (রাঃ)-কে এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পাঠিয়েছেন। তারপর তিনি রাতের শেষ ভাগে তাদের উপর আক্রমণ চালিয়ে কিছু লোককে হত্যা করেন এবং তাদের মহিলাদেরকে বন্দী করেন।


৪৩৬৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে তিনটি কথা শুনার পর থেকে আমি বানী তামীমকে ভালবাসতে থাকি। (তিনি বলেছেন) তারা আমার উম্মাতের মধ্যে দাজ্জালের বিরোধিতায় সবচেয়ে অধিক কঠোর হবে। তাদের গোত্রের একটি বাঁদী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একে আযাদ করে দাও, কারণ সে ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের সাদাকার অর্থ-সম্পদ আসলে তিনি বললেন, এটি একটি কাওমের সাদাকা বা তিনি বললেন, এটি আমার কাওমের সাদাকা। [২৫৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২৪)

 
হাদিস নং: ৪৩৬৭ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى حدثنا هشام بن يوسف ان ابن جريج اخبرهم عن ابن ابي مليكة ان عبد الله بن الزبير اخبرهم انه قدم ركب من بني تميم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر امر القعقاع بن معبد بن زرارة قال عمر بل امر الاقرع بن حابس قال ابو بكر ما اردت الا خلافي قال عمر ما اردت خلافك فتماريا حتى ارتفعت اصواتهما فنزل في (ذلك يٓايها الذين امنوا لا تقدموا) حتى انقضت.
৪৩৬৭. ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, বানী তামীম গোত্র থেকে একটি অশ্বারোহী দল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আসল। আবূ বকর (রাঃ) প্রস্তাব দিলেন, কা‘কা ইবনু মা‘বাদ ইবনু যারারা (রাঃ)-কে এদের আমীর নিযুক্ত করে দিন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, বরং আকরা ইবনু হাবিস (রাঃ)-কে আমীর বানিয়ে দিন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমার বিরোধিতা করাই তোমার উদ্দেশ্য। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছা আমি কখনো করি না। এর উপর দু’জনের বাক-বিতন্ডা চলতে চলতে শেষ পর্যায়ে উভয়ের আওয়াজ উঁচু হয়ে গেল। ফলে এ সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হল, ‘‘হে মু’মিনগণ! আল্লাহ এবং তার রাসূলের সামনে তোমরা কোন ব্যাপারে অগ্রবর্তী হয়ো না। বরং আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তাঁর সঙ্গে সেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না। কারণ এতে তোমাদের ‘আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে’’- (সূরাহ আল-হুজুরাত ৪৯/১-২)। [৪৮৪৫, ৪৮৪৭, ৭৩০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২৫)
হাদিস নং: ৪৩৬৮ সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا ابو عامر العقدي حدثنا قرة عن ابي جمرة قلت لابن عباس رضي الله عنهما ان لي جرة ينتبذ لي نبيذ فاشربه حلوا في جر ان اكثرت منه فجالست القوم فاطلت الجلوس خشيت ان افتضح فقال قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال مرحبا بالقوم غير خزايا ولا الندامى فقالوا يا رسول الله ان بيننا وبينك المشركين من مضر وانا لا نصل اليك الا في اشهر الحرم حدثنا بجمل من الامر ان عملنا به دخلنا الجنة وندعو به من وراءنا قال امركم باربع وانهاكم عن اربع الايمان بالله هل تدرون ما الايمان بالله شهادة ان لا اله الا الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وصوم رمضان وان تعطوا من المغانم الخمس وانهاكم عن اربع ما انتبذ في الدباء والنقير والحنتم والمزفت.
৪৩৬৮. আবূ জামরাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললামঃ আমার একটি কলসী আছে। তাতে আমার জন্য (খেজুর ভিজিয়ে) নবীয তৈরী করা হয় এবং পানি মিঠা হলে আমি তা আরেকটি পাত্রে ঢেলে পানি করি। কিন্তু কখনো যদি ঐ পানি অধিক পরিমাণ পান করে লোকজনের সঙ্গে বসে যাই এবং দীর্ঘ সময় মসজিদে বসে থাকি তখন আমার ভয় হয় যে, (নেশার কারণে) আমি অপমানিত হব। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, ‘আবদুল কায়স গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আসলে তিনি বললেন, কাওমের জন্য খোশ-আমদেদ যাদের আগমন না ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হয়েছে, না অপমানিত অবস্থায়। তারা আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ও আপনার মধ্যে মুদার গোত্রের মুশরিকরা প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। এ জন্য আমরা আপনার কাছে নিষিদ্ধ মাসসমূহ ব্যতীত অন্য সময়ে আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কথা বলে দিন, যেগুলোর উপর ‘আমল করলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। আর যাঁরা আমাদের পেছনে (বাড়িতে) রয়ে গেছে তাদেরকে এর দা‘ওয়াত দেব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি জিনিস পালন করার নির্দেশ দিচ্ছি। আর চারটি জিনিস থেকে বিরত থাকতে বলছি। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কাকে বলে? তা হলঃ ‘আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই’- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া, আর সালাত আদায় করা, যাকাত দেয়া, রমাযানের সওম পালন করা এবং গানীমাতের মালের এক-পঞ্চমাংশ জমা দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। আর চারটি জিনিস-লাউয়ের পাত্র, কাঠের তৈরী নাকীর নামক পাত্র, সবুজ কলসী এবং মুযাফ্ফাত নামক তৈল মাখানো পাত্রে নবীয* তৈরী করা থেকে নিষেধ করছি। [৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২৬)
নোট: *- খেজুরের পানি থেকে তৈরী খুবই নেশা সৃষ্টিকারী এক জাতীয় মদকে নাবীয বলা হয় এবং উপরোক্ত পাত্রগুলো ব্যবহারই হতো মদ প্রস্তুতের জন্য। এ কারণে এগুলোর ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে।
অধ্যায় তালিকা