হাদিস নং: ৩৯৮৯
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا ابراهيم اخبرنا ابن شهاب قال اخبرني عمر بن اسيد بن جارية الثقفي حليف بني زهرة وكان من اصحاب ابي هريرة عن ابي هريرة قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عشرة عينا وامر عليهم عاصم بن ثابت الانصاري جد عاصم بن عمر بن الخطاب حتى اذا كانوا بالهدة بين عسفان ومكة ذكروا لحي من هذيل يقال لهم بنو لحيان فنفروا لهم بقريب من ماىة رجل رام فاقتصوا اثارهم حتى وجدوا ماكلهم التمر في منزل نزلوه فقالوا تمر يثرب فاتبعوا اثارهم فلما حس بهم عاصم واصحابه لجىوا الى موضع فاحاط بهم القوم فقالوا لهم انزلوا فاعطوا بايديكم ولكم العهد والميثاق ان لا نقتل منكم احدا فقال عاصم بن ثابت ايها القوم اما انا فلا انزل في ذمة كافر ثم قال اللهم اخبر عنا نبيك صلى الله عليه وسلم فرموهم بالنبل فقتلوا عاصما ونزل اليهم ثلاثة نفر على العهد والميثاق منهم خبيب وزيد بن الدثنة ورجل اخر فلما استمكنوا منهم اطلقوا اوتار قسيهم فربطوهم بها.
قال الرجل الثالث هذا اول الغدر والله لا اصحبكم ان لي بهولاء اسوة يريد القتلى فجرروه وعالجوه فابى ان يصحبهم فانطلق بخبيب وزيد بن الدثنة حتى باعوهما بعد وقعة بدر فابتاع بنو الحارث بن عامر بن نوفل خبيبا وكان خبيب هو قتل الحارث بن عامر يوم بدر فلبث خبيب عندهم اسيرا حتى اجمعوا قتله فاستعار من بعض بنات الحارث موسى يستحد بها فاعارته فدرج بني لها وهي غافلة حتى اتاه فوجدته مجلسه على فخذه والموسى بيده قالت ففزعت فزعة عرفها خبيب فقال اتخشين ان اقتله ما كنت لافعل ذلك قالت والله ما رايت اسيرا قط خيرا من خبيب والله لقد وجدته يوما ياكل قطفا من عنب في يده وانه لموثق بالحديد وما بمكة من ثمرة وكانت تقول انه لرزق رزقه الله خبيبا فلما خرجوا به من الحرم ليقتلوه في الحل قال لهم خبيب دعوني اصلي ركعتين فتركوه فركع ركعتين فقال والله لولا ان تحسبوا ان ما بي جزع لزدت ثم قال اللهم احصهم عددا واقتلهم بددا ولا تبق منهم احدا ثم انشا يقول :
فـلسـت ابـالي حين اقتـل مسـلـما عـلـى اي جـنـب كـان لله مـصـرعـي
وذلـك في ذات الالـه وان يـشــا يـبـارك عـلـى اوصـال شـلـو مـمـزع
ثم قام اليه ابو سروعة عقبة بن الحارث فقتله وكان خبيب هو سن لكل مسلم قتل صبرا الصلاة واخبر اصحابه يوم اصيبوا خبرهم وبعث ناس من قريش الى عاصم بن ثابت حين حدثوا انه قتل ان يوتوا بشيء منه يعرف وكان قتل رجلا عظيما من عظماىهم فبعث الله لعاصم مثل الظلة من الدبر فحمته من رسلهم فلم يقدروا ان يقطعوا منه شيىا وقال كعب بن مالك ذكروا مرارة بن الربيع العمري وهلال بن امية الواقفي رجلين صالحين قد شهدا بدرا.
قال الرجل الثالث هذا اول الغدر والله لا اصحبكم ان لي بهولاء اسوة يريد القتلى فجرروه وعالجوه فابى ان يصحبهم فانطلق بخبيب وزيد بن الدثنة حتى باعوهما بعد وقعة بدر فابتاع بنو الحارث بن عامر بن نوفل خبيبا وكان خبيب هو قتل الحارث بن عامر يوم بدر فلبث خبيب عندهم اسيرا حتى اجمعوا قتله فاستعار من بعض بنات الحارث موسى يستحد بها فاعارته فدرج بني لها وهي غافلة حتى اتاه فوجدته مجلسه على فخذه والموسى بيده قالت ففزعت فزعة عرفها خبيب فقال اتخشين ان اقتله ما كنت لافعل ذلك قالت والله ما رايت اسيرا قط خيرا من خبيب والله لقد وجدته يوما ياكل قطفا من عنب في يده وانه لموثق بالحديد وما بمكة من ثمرة وكانت تقول انه لرزق رزقه الله خبيبا فلما خرجوا به من الحرم ليقتلوه في الحل قال لهم خبيب دعوني اصلي ركعتين فتركوه فركع ركعتين فقال والله لولا ان تحسبوا ان ما بي جزع لزدت ثم قال اللهم احصهم عددا واقتلهم بددا ولا تبق منهم احدا ثم انشا يقول :
فـلسـت ابـالي حين اقتـل مسـلـما عـلـى اي جـنـب كـان لله مـصـرعـي
وذلـك في ذات الالـه وان يـشــا يـبـارك عـلـى اوصـال شـلـو مـمـزع
ثم قام اليه ابو سروعة عقبة بن الحارث فقتله وكان خبيب هو سن لكل مسلم قتل صبرا الصلاة واخبر اصحابه يوم اصيبوا خبرهم وبعث ناس من قريش الى عاصم بن ثابت حين حدثوا انه قتل ان يوتوا بشيء منه يعرف وكان قتل رجلا عظيما من عظماىهم فبعث الله لعاصم مثل الظلة من الدبر فحمته من رسلهم فلم يقدروا ان يقطعوا منه شيىا وقال كعب بن مالك ذكروا مرارة بن الربيع العمري وهلال بن امية الواقفي رجلين صالحين قد شهدا بدرا.
৩৯৮৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু ‘উমার ইবনু খাত্তাবের নাতি আসিম ইবনু সাবিত আনসারীর পরিচালনায় দশজন সাহাবীর একটি দল গোয়েন্দা কাজের জন্য পাঠালেন। তাঁরা উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থান হান্দায় পৌঁছলে হুযাইল গোত্রের একটি শাখা বানু লিহয়ানকে তাদের আগমনের কারণ সম্পর্কে জানানো হয়। (এ সংবাদ শুনে) তারা প্রায় একশ’ জন তীরন্দাজ প্রস্তুত হয়ে মুসলিমদের বিপক্ষে যুদ্ধ করার জন্য রওয়ানা হয়ে তাদের পদচিহ্ন ধরে পথ চলতে আরম্ভ করে। যেতে যেতে তারা এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যেখানে অবস্থান করে সাহাবীগণ খেজুর খেয়েছিলেন। তা দেখে বানু লিহ্য়ানের লোকেরা ইয়াসরিবের খেজুর বলে তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাদেরকে খুঁজতে লাগল। আসিম ও তাঁর সঙ্গীগণ তাদের আগমন সম্পর্কে বুঝতে পেরে একটি স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেন। লিহয়ান কাওমের লোকেরা তাদেরকে ঘিরে ফেলে। তারপর তারা মুসলিমদেরকে নিচে নেমে আত্মসমর্পণের আহবান জানিয়ে বলল, তোমাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছি, আমরা তোমাদের কাউকে হত্যা করব না। তখন আসিম ইবনু সাবিত (রাঃ) বললেন, হে আমার সাথী ভ্রাতৃবৃন্দ! কাফিরের নিরাপত্তায় আশ্বস্ত হয়ে আমি কখনো নিচে নামব না। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! আমাদের খবর আপনার নবীকে জানিয়ে দিন। এরপর তারা মুসলিমদের প্রতি তীর ছুঁড়তে শুরু করল এবং ‘আসিমকে (ছয়জন সহ) শহীদ করে ফেলল। বাকী তিনজন, খুবায়ব, যায়দ ইবনু দাসিনা এবং অপর একজন তাদের ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে তাদের নিকট নেমে আসলেন। শত্রুগণ তাঁদেরকে পরাস্ত করে নিজেদের ধনুকের রশি খুলে তা দিয়ে তাদেরকে বেঁধে ফেলল। এ দেখে তৃতীয়জন বললেন, এটাই প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের সঙ্গে যাব না, আমার জন্য শহীদ সঙ্গীদের আদর্শই অনুসরণীয়। অর্থাৎ আমিও শহীদ হয়ে যাব। তারা তাকে বহু টানা হেচড়া করল। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করলেন। (তারা তাঁকে শহীদ করে দিল) এরপর খুবায়ব এবং যায়িদ ইবনু দাসিনাকে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে বিক্রি করে দিল। এটা ছিল বদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। বদর যুদ্ধে খুবায়ব যেহেতু হারিস ইবনু আমিরকে হত্যা করেছিলেন। তাই (বদলা নেয়ার জন্য) হারিস ইবনু আমির ইবনু নাওফিলের পুত্রগণ তাঁকে ক্রয় করে নিল। খুবায়ব তাদের নিকট বন্দী অবস্থায় কাটাতে লাগলেন। এরপর তারা সবাই তাকে হত্যা করার দৃঢ় সংকল্প করল। তিনি হারিসের কোন এক কন্যার নিকট থেকে ক্ষৌরকর্মের জন্য একটি ক্ষুর চেয়ে নিলেন। হারিসের কন্যার অসতর্ক অবস্থায় তার একটি ছোট বাচ্চা খুবাইবের কাছে গিয়ে পৌঁছল। হারিসের কন্যা দেখতে পেল খুবায়ব তার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রানের উপর বসিয়ে ক্ষুরখানা হাতে ধরে আছেন। হারিসের কন্যা বর্ণনা করেছে, আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম, খুবায়ব তা বুঝতে পারলেন, তিনি বললেন, আমি শিশুটিকে মেরে ফেলব বলে তুমি কি ভয় পেয়েছ? আমি কখনো এমন কাজ করব না। সে আরো বলেছে, আল্লাহর কসম! আমি খুবায়বের মত উত্তম বন্দী আর কখনো দেখিনি। আল্লাহর কসম একদিন আমি তাকে আঙ্গুরের গুচ্ছ হাতে নিয়ে আঙ্গুর খেতে দেখেছি। অথচ সে লোহার শিকলে বাঁধা ছিল এবং সে সময় মক্কা্য় কোন ফলই ছিল না। হারিসের কন্যা বলত, ঐ আঙ্গুরগুলো আল্লাহ্ তা‘আলা খুবায়বকে রিয্কস্বরূপ দান করেছিলেন। অবশেষে একদিন তারা খুবায়বকে হত্যা করার জন্য যখন হারামের সীমানার বাইরে নিয়ে গেল তখন খুবায়ব (রাঃ) তাদেরকে বললেন, আমাকে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করার সুযোগ দাও, তারা সুযোগ দিলে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি, তোমরা এ কথা না ভাবলে আমি সালাত আরো দীর্ঘায়িত করতাম। এরপর তিনি এ বলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! তাদেরকে এক এক করে গুণে রাখ, তাদেরকে বিক্ষিপ্তভাবে হত্যা কর এবং তাদের একজনকেও বাকী রেখ না। তারপর তিনি আবৃত্তি করলেনঃ
‘‘আমি যখন মুসলিম হয়ে মৃত্যুর সৌভাগ্য লাভ করছি, তাই আমার কোনই ভয় নেই।
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে যে কোন অবস্থাতেই আমার মৃত্যু হোক।
তা যেহেতু একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই,
তাই তিনি ইচ্ছে করলে আমার প্রতিটি কর্তিত অঙ্গে বারাকাত প্রদান করতে পারেন।’’
এরপর হারিসের পুত্র আবূ সারুআ ‘উকবাহ তাঁর দিকে দাঁড়াল এবং তাঁকে শহীদ করে দিল। এভাবেই খুবায়ব (রাঃ) সে সব মুসলিমের জন্য দু’ রাক‘আত সালাতের সুন্নাত চালু করে গেলেন যারা ধৈর্যের সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐদিনই সাহাবীদেরকে জানিয়েছিলেন যে দিন তাঁরা শত্রু বেষ্টিত হয়ে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। কুরাইশদের নিকট আসিম (রাঃ)-এর নিহত হওয়ার খবর পৌঁছলে তারা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসিমের শরীরের কোন অঙ্গ কেটে আনার জন্য কতক কুরাইশ কাফিরকে প্রেরণ করল। যেহেতু (বদরের দিন) আসিম ইবনু সাবিত তাদের একজন বড় নেতাকে হত্যা করেছিলেন। এদিকে আল্লাহ্ ‘আসিমের লাশকে হিফাযাত করার জন্য মেঘের মত এক ঝাঁক মৌমাছি পাঠিয়ে দিলেন। মৌমাছিগুলো আসিম (রাঃ)-এর লাশকে শত্রু সেনাদের হাত থেকে রক্ষা করল। ফলে তারা তাঁর দেহের কোন অঙ্গ কেটে নিতে পারল না। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, মুরারাহ ইবনু রাবী‘ আল ‘উমারী এবং হিলাল ইবনু ‘উমাইয়াহ আল ওয়াকিফী[1] সম্পর্কে লোকেরা বলেছেন যে, তাঁরা দু’জনই আল্লাহর নেক বান্দা ছিলেন এবং দু’জনই বদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। [৩০৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৯৭)
‘‘আমি যখন মুসলিম হয়ে মৃত্যুর সৌভাগ্য লাভ করছি, তাই আমার কোনই ভয় নেই।
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে যে কোন অবস্থাতেই আমার মৃত্যু হোক।
তা যেহেতু একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই,
তাই তিনি ইচ্ছে করলে আমার প্রতিটি কর্তিত অঙ্গে বারাকাত প্রদান করতে পারেন।’’
এরপর হারিসের পুত্র আবূ সারুআ ‘উকবাহ তাঁর দিকে দাঁড়াল এবং তাঁকে শহীদ করে দিল। এভাবেই খুবায়ব (রাঃ) সে সব মুসলিমের জন্য দু’ রাক‘আত সালাতের সুন্নাত চালু করে গেলেন যারা ধৈর্যের সঙ্গে শাহাদাত বরণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐদিনই সাহাবীদেরকে জানিয়েছিলেন যে দিন তাঁরা শত্রু বেষ্টিত হয়ে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। কুরাইশদের নিকট আসিম (রাঃ)-এর নিহত হওয়ার খবর পৌঁছলে তারা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসিমের শরীরের কোন অঙ্গ কেটে আনার জন্য কতক কুরাইশ কাফিরকে প্রেরণ করল। যেহেতু (বদরের দিন) আসিম ইবনু সাবিত তাদের একজন বড় নেতাকে হত্যা করেছিলেন। এদিকে আল্লাহ্ ‘আসিমের লাশকে হিফাযাত করার জন্য মেঘের মত এক ঝাঁক মৌমাছি পাঠিয়ে দিলেন। মৌমাছিগুলো আসিম (রাঃ)-এর লাশকে শত্রু সেনাদের হাত থেকে রক্ষা করল। ফলে তারা তাঁর দেহের কোন অঙ্গ কেটে নিতে পারল না। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, মুরারাহ ইবনু রাবী‘ আল ‘উমারী এবং হিলাল ইবনু ‘উমাইয়াহ আল ওয়াকিফী[1] সম্পর্কে লোকেরা বলেছেন যে, তাঁরা দু’জনই আল্লাহর নেক বান্দা ছিলেন এবং দু’জনই বদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। [৩০৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৯৭)
নোট: [1] এ দু’জন বাদ্রী সাহাবী ছিলেন। তথাপিও তারা বিনা ওযরে তাবূক যুদ্ধে অংশ নেয়া হতে বিরত ছিলেন। ফলে আল্লাহর নির্দেশে তাদেরকে কিছুদিনের জন্য বয়কট করা হয়। অতঃপর তারা খালিসভাবে আল্লাহর নিকট তওবাহ করলে আল্লাহ তা‘আলা তা কবূল করেন এবং তারা পুনরায় মুসলিমদের সাথে স্বাভাবিক জীবন শুরু করেন।
হাদিস নং: ৩৯৯০
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا ليث عن يحيى عن نافع ان ابن عمر ذكر له ان سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل وكان بدريا مرض في يوم جمعة فركب اليه بعد ان تعالى النهار واقتربت الجمعة وترك الجمعة.
৩৯৯০. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, সা‘ঈদ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল (রাঃ) ছিলেন বদর যুদ্ধে যোগদানকারী একজন সাহাবী। তিনি জুমু‘আহর দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে ইবনু ‘উমারের নিকট জুমু‘আহর দিন এ খবর পৌঁছলে তিনি সাওয়ারীর পিঠে আরোহণ করে তাঁকে দেখতে গেলেন। তখন বেলা হয়ে গেছে এবং জুমু‘আহর সালাতের সময়ও ঘনিয়ে আসছে দেখে তিনি জুমু‘আহর সালাত ছেড়ে দিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৯৮)
হাদিস নং: ৩৯৯১
সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني يونس عن ابن شهاب قال حدثني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة ان اباه كتب الى عمر بن عبد الله بن الارقم الزهري يامره ان يدخل على سبيعة بنت الحارث الاسلمية فيسالها عن حديثها وعن ما قال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم حين استفتته فكتب عمر بن عبد الله بن الارقم الى عبد الله بن عتبة يخبره ان سبيعة بنت الحارث اخبرته انها كانت تحت سعد بن خولة وهو من بني عامر بن لوي وكان ممن شهد بدرا فتوفي عنها في حجة الوداع وهي حامل فلم تنشب ان وضعت حملها بعد وفاته فلما تعلت من نفاسها تجملت للخطاب فدخل عليها ابو السنابل بن بعكك رجل من بني عبد الدار فقال لها ما لي اراك تجملت للخطاب ترجين النكاح فانك والله ما انت بناكح حتى تمر عليك اربعة اشهر وعشر قالت سبيعة فلما قال لي ذلك جمعت علي ثيابي حين امسيت واتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فسالته عن ذلك فافتاني باني قد حللت حين وضعت حملي وامرني بالتزوج ان بدا لي تابعه اصبغ عن ابن وهب عن يونس وقال الليث حدثني يونس عن ابن شهاب وسالناه فقال اخبرني محمد بن عبد الرحمن بن ثوبان مولى بني عامر بن لوي ان محمد بن اياس بن البكير وكان ابوه شهد بدرا اخبره.
৩৯৯১. (আর এক সানাদে) লায়স (রহ.) ..... ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম আয যুহরী সুবাই‘আহ বিনত হারিস আসলামিয়্যা (রাঃ) এর কাছে গিয়ে তার ঘটনা ও (গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত সম্পর্কে) তার প্রশ্নের উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে পত্র মারফত জিজ্ঞেস করে জানতে আদেশ করলেন। এরপর ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ্কে লিখে জানালেন যে, সুবাই‘আহ বিনতুল হাসির তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বানু আমির ইবনু লুয়াই গোত্রের সাদ ইবনু খাওলার স্ত্রী ছিলেন, সা‘দ (রাঃ) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তিনি বিদায় হাজ্জের বছর মারা যান। তখন তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। তার ইন্তিকালের কিছুদিন পরেই তিনি সন্তান প্রসব করলেন। এরপর নিফাস থেকে পবিত্র হয়েই তিনি বিবাহের পয়গাম দাতাদের উদ্দেশে সাজসজ্জা আরম্ভ করলেন। এ সময় আবদুদ্দার গোত্রের আবুস সানাবিল ইবনু বা’কাক নামক এক ব্যক্তি তাকে গিয়ে বললেন, কী ব্যাপার, আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি বিবাহের আশায় পয়গাম দাতাদের উদ্দেশে সাজসজ্জা আরম্ভ করে দিয়েছ? আল্লাহর কসম! চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তুমি বিবাহ করতে পারবে না। সুবাই‘আহ (রাঃ) বলেন, (আবুস সানাবিল আমাকে) এ কথা বলার পর আমি ঠিকঠাক মত কাপড় চোপড় পরিধান করে বিকেল বেলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞস করলাম। তখন তিনি বললেন, যখন আমি সন্তান প্রসব করেছি তখন থেকেই আমি হালাল হয়ে গেছি। এরপর তিনি আমাকে বিয়ে করার নির্দেশ দিলেন যদি আমার ইচ্ছে হয়। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আসবাগ....ইউনুসের সূত্রে লায়সের মতই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। লায়স (রহ.) বলেছেন, ইউনুস আমার নিকট ইবনু শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, বানু আমির ইবনু লুয়াই গোত্রের আযাদকৃত গোলাম মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু সাওবান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, বদর যুদ্ধে যোগদানকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াস ইবনু বুকায়র-এর পিতা তাকে জানিয়েছেন। [৫৩১৯; মুসলিম ১৮/৮, হাঃ ১৪৮৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৯৮)
হাদিস নং: ৩৯৯২
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم اخبرنا جرير عن يحيى بن سعيد عن معاذ بن رفاعة بن رافع الزرقي عن ابيه وكان ابوه من اهل بدر قال جاء جبريل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ما تعدون اهل بدر فيكم قال من افضل المسلمين او كلمة نحوها قال وكذلك من شهد بدرا من الملاىكة.
৩৯৯২. মু‘আয বিন রিফাআ‘ ইবনু রাফি ‘যুরাকী (রহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বদর যুদ্ধে যোগদানকারীদের একজন। তিনি বলেন, একদা জিব্রীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আপনারা বদর যুদ্ধে যোগদানকারী মুসলিমদেরকে কিরূপ গণ্য করেন? তিনি বললেন, তারা সর্বোত্তম মুসলিম অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) এরূপ কোন শব্দ তিনি বলেছিলেন। জিব্রীল (আ) বললেন, মালায়িকাদের মধ্যে বদর যুদ্ধে যোগদানকারীগণও তেমনি মর্যাদার অধিকারী। [৩৯৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৯৯)
হাদিস নং: ৩৯৯৩
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد عن يحيى عن معاذ بن رفاعة بن رافع وكان رفاعة من اهل بدر وكان رافع من اهل العقبة فكان يقول لابنه ما يسرني اني شهدت بدرا بالعقبة قال سال جبريل النبي صلى الله عليه وسلم بهذا حدثنا اسحاق بن منصور اخبرنا يزيد اخبرنا يحيى سمع معاذ بن رفاعة ان ملكا سال النبي نحوه وعن يحيى ان يزيد بن الهاد اخبره انه كان معه يوم حدثه معاذ هذا الحديث فقال يزيد فقال معاذ ان الساىل هو جبريل عليه السلام.
৩৯৯৩. মু‘আয ইবনু রিফাআ‘ ইবনু রাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত, রিফাঅ‘ (রাঃ) ছিলেন বদর যুদ্ধে যোগদানকারী একজন সাহাবী আর রাফি‘ (রাঃ) ছিলেন বায়‘আতে আকাবায় উপস্থিত একজন সাহাবী। রাফি‘ (রাঃ) তার পুত্র (রিফাআ‘)-কে বলতেন, বায়‘আতে ‘আকাবায় শরীক থাকার চেয়ে বদর যুদ্ধে হাজির থাকা আমার কাছে অধিক আনন্দের বিষয় বলে মনে হয় না। কেননা জিবরীল (আঃ) এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০০)
হাদিস নং: ৩৯৯৪
সহিহ (Sahih)
৩৯৯৪. মু‘আয ইবনু রিফাআ‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, একজন মালাক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। (ভিন্ন সনদে) ইয়াহ্ইয়া হতে বর্ণিত যে, ইয়াযীদ ইবনুল হাদ (রহ.) তাকে জানিয়েছেন যে, যেদিন মু‘আয (রাঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন সেদিন আমি তার কাছেই ছিলাম। ইয়াযীদ বলেছেন, মু‘আয (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, প্রশ্নকারী ফেরেশ্তা হলেন জিবরীল (আঃ)। [৩৯৯২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০১)
হাদিস নং: ৩৯৯৫
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا عبد الوهاب حدثنا خالد عن عكرمة عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم بدر هذا جبريل اخذ براس فرسه عليه اداة الحرب.
৩৯৯৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, বদরের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই তো জিবরীল (আঃ) সমর সাজে সজ্জিত হয়ে অশ্বের মস্তক হস্তে ধারণ করে আছেন। [৪০৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০২)
হাদিস নং: ৩৯৯৬
সহিহ (Sahih)
خليفة حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري حدثنا سعيد عن قتادة عن انس قال مات ابو زيد ولم يترك عقبا وكان بدريا.
৩৯৯৬. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আবূ যায়দ (রাঃ) মারা যান। তিনি কোন সন্তানাদি ছেড়ে যাননি। তিনি ছিলেন বাদ্রী সাহাবী। [৩৮১০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ হাদীস নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০৩)
হাদিস নং: ৩৯৯৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني يحيى بن سعيد عن القاسم بن محمد عن ابن خباب ان ابا سعيد بن مالك الخدري قدم من سفر فقدم اليه اهله لحما من لحوم الاضحى فقال ما انا باكله حتى اسال فانطلق الى اخيه لامه وكان بدريا قتادة بن النعمان فساله فقال انه حدث بعدك امر نقض لما كانوا ينهون عنه من اكل لحوم الاضحى بعد ثلاثة ايام.
৩৯৯৭. ইবনু খববাব (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আবূ সা‘ঈদ ইবনু মালিক খুদরী (রাঃ) সফর থেকে গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর তার পরিবারের লোকেরা তাঁকে কুরবানীর গোশ্ত থেকে কিছু গোশ্ত খেতে দিলেন। তিনি বললেন, আমি জিজ্ঞেস না করে এ গোশ্ত খেতে পারি না। তারপর তিনি তার মায়ের গর্ভজাত ভ্রাতা কাতাদাহ ইবনু নু‘মানের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি ছিলেন একজন বাদ্রী সাহাবী। তখন তিনি তাকে বললেন, তিন দিন পর কুরবানীর গোশ্ত খাওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা ছিল পরে তা পুরোপুরিভাবে রহিত করে দেয়া হয়েছে। [৫৫৬৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০৪)
হাদিস নং: ৩৯৯৮
সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن هشام بن عروة عن ابيه قال قال الزبير لقيت يوم بدر عبيدة بن سعيد بن العاص وهو مدجج لا يرى منه الا عيناه وهو يكنى ابو ذات الكرش فقال انا ابو ذات الكرش فحملت عليه بالعنزة فطعنته في عينه فمات قال هشام فاخبرت ان الزبير قال لقد وضعت رجلي عليه ثم تمطات فكان الجهد ان نزعتها وقد انثنى طرفاها قال عروة فساله اياها رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاه فلما قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذها ثم طلبها ابو بكر فاعطاه فلما قبض ابو بكر سالها اياه عمر فاعطاه اياها فلما قبض عمر اخذها ثم طلبها عثمان منه فاعطاه اياها فلما قتل عثمان وقعت عند ال علي فطلبها عبد الله بن الزبير فكانت عنده حتى قتل.
৩৯৯৮. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, বদরের দিন আমি ‘উবাইদাহ ইবনু সা‘ঈদ ইবনু আস (রাঃ) কে এমনভাবে বস্ত্রাবৃত দেখলাম যে, তার দু’চোখ ব্যতীত আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাকে আবূ যাতুল কারিশ বলে ডাকা হত। সে বলল, আমি আবূ যাতুল কারিশ। (তা শুনে) বর্শা দিয়ে আমি তার উপর হামলা চালালাম এবং তার চোখ ফুঁড়ে দিলাম। সে তক্ষুণি মারা গেল। হিশাম বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, ‘উবাইদাহ ইবনু সা‘ঈদ ইবনু আসের লাশের উপর পা রেখে বেশ শক্তি খাটিয়ে আমি বর্শাটি টেনে বের করলাম। এতে বর্শার দু’ প্রান্তভাগ বাঁকা হয়ে যায়। ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়রের নিকট বর্শাটি চাইলে তিনি তা তাঁকে দিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর তিনি তা নিয়ে যান এবং পরে আবূ বকর (রাঃ) তা চাইলে তিনি তাকে বর্শাটি দিয়ে দেন। আবূ বকরের মৃত্যুর পর ‘উমার (রাঃ) তা চাইলেন। তিনি তাকে বর্শাটি দিয়ে দিলেন। কিন্তু ‘উমারের মৃত্যুর পর যুবায়র (রাঃ) পুনরায় বর্শাটি নিয়ে যান। এরপর ‘উসমান (রাঃ) তাঁর নিকট বর্শাখানা চাইলে তিনি ‘উসমানকে তা দিয়ে দেন। তবে ‘উসমানের শাহাদতের পর তা ‘আলীর লোকজনের হাতে যাওয়ার পর ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তা চেয়ে নিয়ে যান। অতঃপর শহীদ হওয়া পর্যন্ত বর্শাটি তাঁর নিকটই বিদ্যমান ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০৫)
হাদিস নং: ৩৯৯৯
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني ابو ادريس عاىذ الله بن عبد الله ان عبادة بن الصامت وكان شهد بدرا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بايعوني.
৩৯৯৯. আবূ ইদরীস ‘আয়িযুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)- যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন- বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার হাতে বায়‘আত গ্রহণ কর। [১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০৬)
হাদিস নং: ৪০০০
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب اخبرني عروة بن الزبير عن عاىشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان ابا حذيفة وكان ممن شهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم تبنى سالما وانكحه بنت اخيه هند بنت الوليد بن عتبة وهو مولى لامراة من الانصار كما تبنى رسول الله صلى الله عليه وسلم زيدا وكان من تبنى رجلا في الجاهلية دعاه الناس اليه وورث من ميراثه حتى انزل الله تعالى (ادعوهم لابآىهم) فجاءت سهلة النبي صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث.
৪০০০. নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বদর যুদ্ধে যোগদানকারী সাহাবী আবূ হুযাইফাহ (রাঃ) এক আনসারী মহিলার আযাদকৃত গোলাম সালিমকে পালকপুত্র গ্রহণ করেন, যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দকে পালকপুত্র গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তাকে তার ভ্রাতুস্পুত্রী হিন্দা বিন্তে ওয়ালীদ ইবনু উতবার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। জাহিলীয়্যাতের যুগে কেউ পালকপুত্র গ্রহণ করলে লোকেরা তাকে পালনকারীর প্রতিই সম্বোধন করত এবং সে তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদের উত্তরাধিকারী হত। অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, (ادْعُوْهُمْ لِآبَآئِهِمْ) অর্থাৎ ’’তোমরা তাদেরকে ডাক তাদের পিতার পরিচয়ে।’’ এরপর (আবূ হুযাইফাহর স্ত্রী সাহলাহ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে হাদীসে বর্ণিত ঘটনা বর্ণনা করলেন। [৫০৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০৭)
হাদিস নং: ৪০০১
সহিহ (Sahih)
علي حدثنا بشر بن المفضل حدثنا خالد بن ذكوان عن الربيع بنت معوذ قالت دخل علي النبي صلى الله عليه وسلمغداة بني علي فجلس على فراشي كمجلسك مني وجويريات يضربن بالدف يندبن من قتل من اباىهن يوم بدر حتى قالت جارية وفينا نبي يعلم ما في غد فقال النبي صلى الله عليه وسلم لا تقولي هكذا وقولي ما كنت تقولين.
৪০০১. রুবায়ই বিনতু মু‘আওয়িয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার বাসর রাতের পরদিন সকালে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং তুমি (খালিদ ইবনু যাকওয়ান) যেমন আমার কাছে বসে আছ ঠিক সেভাবে আমার পাশে আমার বিছানায় এসে বসলেন। তখন কয়েকজন ছোট বালিকা দুফ্[1] বাজিয়ে বদরে নিহত শহীদ পিতাদের প্রশংসা গীতি আবৃত্তি করছিল। শেষে একটি বালিকা বলে উঠল, আমাদের মাঝে এমন একজন নবী আছেন, যিনি জানেন, আগামীকল্য কী হবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন কথা বলবে না, বরং আগে যা বলেছিলে তাই বল। [৫১৪৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০৮)
নোট: [1] একমুখ খোলা অপর প্রান্তে চামড়া লাগানো তবলাকে দুফ্ বলা হয়, বিবাহ ও ‘ঈদের দিন আনন্দ প্রকাশের জন্য তা বাজিয়ে নাবালিকা মেয়েদের আপত্তিকর কথা বিবর্জিত গীত গাওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ।
হাদিস নং: ৪০০২
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام عن معمر عن الزهري ح حدثنا اسماعيل قال حدثني اخي عن سليمان عن محمد بن ابي عتيق عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود ان ابن عباس رضي الله عنهما قال اخبرني ابو طلحة رضي الله عنه صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان قد شهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال لا تدخل الملاىكة بيتا فيه كلب ولا صورة يريد التماثيل التي فيها الارواح.
৪০০২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বদরে যোগদানকারী সাহাবী আবূ ত্বল্হা (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ঘরে কুকুর কিংবা ছবি[1] থাকে সে ঘরে (রহমতের) মালাক প্রবেশ করেন না। ইবনু ‘আব্বাসের মতে ছবির অর্থ প্রাণীর ছবি। [৩২২৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭০৯)
নোট: [1] অত্র হাদীস দ্বারা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, যে বাড়ীতে কুকুর পালা হয় কিংবা যে ঘরে কোন প্রাণীর ছবি থাকে সেখানে রহমাতের মালাক প্রবেশ করে না। শুধুমাত্র শিকারী কুকুর পোষা জায়িয তবে তাকে বাড়ির বাইরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে যেন সে বাড়ির ভিতর প্রবেশ না করে। ঘরের মধ্যে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি তা মুর্তি বা পুতুল হোক কিংবা ঘরের বা বাথরুমের দেয়ালে অংকণ করা হোক তা রাখা হচ্ছে অবৈধ কাজ। ছবি বা মূর্তির ব্যবসা সন্দেহাতীতভাবে হারাম, তা মুসলিমদের কাছে বিক্রির জন্য হোক আর কাফিরদের নিকট বিক্রির জন্য হোক। যারা কাফিরদের অনুসরণ করে নিজেদেরকে আধুনিক হিসেবে জাহির করার জন্য এহেন জঘন্য ও নোংরা কাজ করে তারা মূলত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং তাদের নির্দেশের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে।
হাদিস নং: ৪০০৩
সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس ح و حدثنا احمد بن صالح حدثنا عنبسة حدثنا يونس عن الزهري اخبرنا علي بن حسين ان حسين بن علي عليهم السلام اخبره ان عليا قال كانت لي شارف من نصيبي من المغنم يوم بدر وكان النبي صلى الله عليه وسلم اعطاني مما افاء الله عليه من الخمس يومىذ فلما اردت ان ابتني بفاطمة عليها السلام بنت النبي صلى الله عليه وسلم واعدت رجلا صواغا في بني قينقاع ان يرتحل معي فناتي باذخر فاردت ان ابيعه من الصواغين فنستعين به في وليمة عرسي فبينا انا اجمع لشارفي من الاقتاب والغراىر والحبال وشارفاي مناخان الى جنب حجرة رجل من الانصار حتى جمعت ما جمعت فاذا انا بشارفي قد اجبت اسنمتها وبقرت خواصرهما واخذ من اكبادهما فلم املك عيني حين رايت المنظر قلت من فعل هذا قالوا فعله حمزة بن عبد المطلب وهو في هذا البيت في شرب من الانصار عنده قينة واصحابه فقالت في غناىها.
الا يا حمز للشرف النواء فوثب حمزة الى السيف فاجب اسنمتهما وبقر خواصرهما واخذ من اكبادهما قال علي فانطلقت حتى ادخل على النبي صلى الله عليه وسلم وعنده زيد بن حارثة وعرف النبي صلى الله عليه وسلم الذي لقيت فقال ما لك قلت يا رسول الله ما رايت كاليوم عدا حمزة على ناقتي فاجب اسنمتهما وبقر خواصرهما وها هو ذا في بيت معه شرب فدعا النبي صلى الله عليه وسلم برداىه فارتدى ثم انطلق يمشي واتبعته انا وزيد بن حارثة حتى جاء البيت الذي فيه حمزة فاستاذن عليه فاذن له فطفق النبي صلى الله عليه وسلم يلوم حمزة فيما فعل فاذا حمزة ثمل محمرة عيناه فنظر حمزة الى النبي صلى الله عليه وسلم ثم صعد النظر فنظر الى ركبته ثم صعد النظر فنظر الى وجهه ثم قال حمزة وهل انتم الا عبيد لابي فعرف النبي انه ثمل فنكص رسول الله صلى الله عليه وسلم على عقبيه القهقرى فخرج وخرجنا معه.
الا يا حمز للشرف النواء فوثب حمزة الى السيف فاجب اسنمتهما وبقر خواصرهما واخذ من اكبادهما قال علي فانطلقت حتى ادخل على النبي صلى الله عليه وسلم وعنده زيد بن حارثة وعرف النبي صلى الله عليه وسلم الذي لقيت فقال ما لك قلت يا رسول الله ما رايت كاليوم عدا حمزة على ناقتي فاجب اسنمتهما وبقر خواصرهما وها هو ذا في بيت معه شرب فدعا النبي صلى الله عليه وسلم برداىه فارتدى ثم انطلق يمشي واتبعته انا وزيد بن حارثة حتى جاء البيت الذي فيه حمزة فاستاذن عليه فاذن له فطفق النبي صلى الله عليه وسلم يلوم حمزة فيما فعل فاذا حمزة ثمل محمرة عيناه فنظر حمزة الى النبي صلى الله عليه وسلم ثم صعد النظر فنظر الى ركبته ثم صعد النظر فنظر الى وجهه ثم قال حمزة وهل انتم الا عبيد لابي فعرف النبي انه ثمل فنكص رسول الله صلى الله عليه وسلم على عقبيه القهقرى فخرج وخرجنا معه.
৪০০৩. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাদর দিনের গানীমাতের মাল থেকে আমার ভাগে আমি একটি উট পেয়েছিলাম। ‘ফায়’ থেকে প্রাপ্ত এক পঞ্চমাংশ থেকেও সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি উট দান করেন। আমি যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমার সঙ্গে বাসর রাত যাপন করার ইচ্ছে করলাম এবং বানু কায়নুকা গোত্রের একজন ইয়াহূদী স্বর্ণকারকে ঠিক করলাম যেন সে আমার সঙ্গে যায়। আমরা ইয্খির ঘাস সংগ্রহ করে নিয়ে আসব। অতঃপর সেই ঘাস স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রি করে তা আমি আমার বিয়ের ওয়ালিমায় খরচ করার ইচ্ছে করেছিলাম। আমি আমার উট দু’টোর জন্য গদি, বস্তা এবং দড়ির ব্যবস্থা করছিলাম আর উট দু’টো এক আনসারীর ঘরের পাশে বসানো ছিল। আমার যা কিছু জোগাড় করার তা জোগাড় করে এনে দেখলাম উট দু’টির চূড়া কেটে দেয়া হয়েছে এবং সে দু’টির বুক ফেড়ে কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার অশ্রু সংবরণ করতে পারলাম না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কাজ কে করেছে? তারা বললেন, আবদুল মুত্তালিবের পুত্র হামযা এ কাজ করেছেন। এখন তিনি এ ঘরে আনসারদের কিছু মদ্যপায়ীদের সঙ্গে মদপান করছেন। সেখানে আছে একদল গায়িকা ও কতিপয় সঙ্গী সাথী। গায়িকা ও তার সঙ্গীগণ গানের মধ্যে বলেছিল, ‘‘হে হামযা! মোটা উট দু’টির প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়’’।
এ কথা শুনে হামযাহ দৌড়িয়ে গিয়ে তলোয়ার হাতে নিল এবং উট দু’টির চূড়া দু’টো কেটে নিল আর তাদের পেট ফেড়ে কলিজা বের করে নিয়ে আসল। ‘আলী (রাঃ) বলেন, তখন আমি পথ চলতে চলতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চলে গেলাম। তখন তাঁর নিকট যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। আমি যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বুঝে ফেললেন। তিনি বললেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আজকের মত কষ্টদায়ক ঘটনা আমি কখনো দেখিনি। হামযা আমার উট দু’টোর উপর খুব জুলুম করেছেন, তিনি উট দু’টোর চূড়া কেটে ফেলেছেন এবং বুক ফেড়ে দিয়েছেন। এখন তিনি একটি ঘরে একদল মদ পানকারীর সঙ্গে আছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদরখানা চেয়ে নিলেন এবং তা গায়ে দিয়ে হেঁটে চললেন। (‘আলী বলেন) এরপর আমি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) তাঁর পেছনে চললাম। (হাঁটতে হাঁটতে) তিনি যে ঘরে হামযা অবস্থান করছিলেন সে ঘরের কাছে পৌঁছে তার নিকট অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাকে তার কর্মের জন্য ভৎর্সনা করতে শুরু করলেন। হামযাহ তখন নেশাগ্রস্ত।[1] চোখ দু’টো তার লাল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাকালেন এবং দৃষ্টি উপর দিকে উঠিয়ে তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর দিকে তাকালেন। এরপর দৃষ্টি আরো একটু উপর দিকে উঠিয়ে তিনি তাঁর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারার প্রতি তাকালেন। এরপর হামযা বললেন, তোমরা তো আমার পিতার দাস। (শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝলেন যে, তিনি এখন নেশাগ্রস্ত। তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনের দিকে হটে বেরিয়ে পড়লেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। [২০৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭১১)
এ কথা শুনে হামযাহ দৌড়িয়ে গিয়ে তলোয়ার হাতে নিল এবং উট দু’টির চূড়া দু’টো কেটে নিল আর তাদের পেট ফেড়ে কলিজা বের করে নিয়ে আসল। ‘আলী (রাঃ) বলেন, তখন আমি পথ চলতে চলতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চলে গেলাম। তখন তাঁর নিকট যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। আমি যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বুঝে ফেললেন। তিনি বললেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আজকের মত কষ্টদায়ক ঘটনা আমি কখনো দেখিনি। হামযা আমার উট দু’টোর উপর খুব জুলুম করেছেন, তিনি উট দু’টোর চূড়া কেটে ফেলেছেন এবং বুক ফেড়ে দিয়েছেন। এখন তিনি একটি ঘরে একদল মদ পানকারীর সঙ্গে আছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদরখানা চেয়ে নিলেন এবং তা গায়ে দিয়ে হেঁটে চললেন। (‘আলী বলেন) এরপর আমি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) তাঁর পেছনে চললাম। (হাঁটতে হাঁটতে) তিনি যে ঘরে হামযা অবস্থান করছিলেন সে ঘরের কাছে পৌঁছে তার নিকট অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাকে তার কর্মের জন্য ভৎর্সনা করতে শুরু করলেন। হামযাহ তখন নেশাগ্রস্ত।[1] চোখ দু’টো তার লাল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাকালেন এবং দৃষ্টি উপর দিকে উঠিয়ে তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর দিকে তাকালেন। এরপর দৃষ্টি আরো একটু উপর দিকে উঠিয়ে তিনি তাঁর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারার প্রতি তাকালেন। এরপর হামযা বললেন, তোমরা তো আমার পিতার দাস। (শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝলেন যে, তিনি এখন নেশাগ্রস্ত। তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনের দিকে হটে বেরিয়ে পড়লেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। [২০৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭১১)
নোট: [1] মদ হারাম হবার পূর্বে এ ঘটনাটি ঘটেছিল। মদ হারাম হয়ে যাবার পর কোন সাহাবী কখনো মদ পান করেননি বরং পরিপূর্ণভাবে বর্জন করেছেন।
হাদিস নং: ৪০০৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن عباد اخبرنا ابن عيينة قال انفذه لنا ابن الاصبهاني سمعه من ابن معقل ان عليا رضي الله عنه كبر على سهل بن حنيف فقال انه شهد بدرا.
৪০০৪. ইবনু মা‘কিল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে (তিনি বলেছেন), ‘আলী (রাঃ) সাহল ইবনু হুনায়ফের (জানাযার সালাতে) তাকবীর উচ্চারণ করলেন এবং বললেন, তিনি (সাহল ইবনু হুনায়ফ) বদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭১২)
হাদিস নং: ৪০০৫
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سالم بن عبد الله انه سمع عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يحدث ان عمر بن الخطاب حين تايمت حفصة بنت عمر من خنيس بن حذافة السهمي وكان من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قد شهد بدرا توفي بالمدينة قال عمر فلقيت عثمان بن عفان فعرضت عليه حفصة فقلت ان شىت انكحتك حفصة بنت عمر قال سانظر في امري فلبثت ليالي فقال قد بدا لي ان لا اتزوج يومي هذا قال عمر فلقيت ابا بكر فقلت ان شىت انكحتك حفصة بنت عمر فصمت ابو بكر فلم يرجع الي شيىا فكنت عليه اوجد مني على عثمان فلبثت ليالي ثم خطبها رسول الله صلى الله عليه وسلم فانكحتها اياه فلقيني ابو بكر فقال لعلك وجدت علي حين عرضت علي حفصة فلم ارجع اليك قلت نعم قال فانه لم يمنعني ان ارجع اليك فيما عرضت الا اني قد علمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد ذكرها فلم اكن لافشي سر رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو تركها لقبلتها.
৪০০৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সালিম বিন ‘আবদুল্লাহ (রহ.)-এর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাবের কন্যা হাফসাহর স্বামী খুনায়স ইবনু হুযাইফাহ সাহ্মী (রাঃ) যিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, মদিনা্য় ইন্তিকাল করলে হাফসাহ (রাঃ) বিধবা হয়ে পড়লেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তখন আমি ‘উসমান ইবনু আফফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর নিকট হাফসাহর কথা উল্লেখ করে তাঁকে বললাম, আপনি ইচ্ছে করলে আমি আপনার সঙ্গে ‘উমারের মেয়ে হাফসাহর বিয়ে দিয়ে দেব। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, ব্যাপারটি আমি একটু চিন্তা করে দেখি। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। পরে ‘উসমান (রাঃ) বললেন, আমার স্পষ্ট মতামত যে, এ সময় আমি বিয়ে করব না। ‘উমার (রাঃ) বলেন, এরপর আমি আবূ বকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনি ইচ্ছা করলে ‘উমারের কন্যা হাফসাকে আমি আপনার নিকট বিয়ে দিয়ে দেব। আবূ বকর (রাঃ) চুপ রইলেন, কোন জবাব দিলেন না। এতে আমি ‘উসমানের চেয়েও অধিক দুঃখ পেলাম। এরপর আমি কয়েকদিন চুপ করে থাকলাম, এই অবস্থায় হাফসার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই প্রস্তাব দিলেন। আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলাম। এরপর আবূ বকর (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমার সঙ্গে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর আমি আপনাকে কোন উত্তর না দেয়ার কারণে সম্ভবত আপনি মনোকষ্ট পেয়েছেন। আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আপনার প্রস্তাবের জবাব দিতে একটি জিনিসই আমাকে বাধা দিয়েছে আর তা হ’ল এই যে, আমি জানতাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই হাফসাহ (রাঃ)-এর সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন, তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপনীয় বিষয়টি প্রকাশ করার আমার ইচ্ছে ছিল না। যদি তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে গ্রহণ না করতেন, তাঁকে অবশ্যই আমি গ্রহণ করতাম। [৫১২২, ৫১২৯, ৫১৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭১২)
হাদিস নং: ৪০০৬
সহিহ (Sahih)
مسلم حدثنا شعبة عن عدي عن عبد الله بن يزيد سمع ابا مسعود البدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال نفقة الرجل على اهله صدقة.
৪০০৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ বাদরী সাহাবী আবূ মাস‘উদ (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন, স্বীয় আহলের (পরিবার পরিজনের) জন্য ব্যয় করাও সদাক্বাহ। [৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭১৩)
হাদিস নং: ৪০০৭
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري سمعت عروة بن الزبير يحدث عمر بن عبد العزيز في امارته اخر المغيرة بن شعبة العصر وهو امير الكوفة فدخل عليه ابو مسعود عقبة بن عامر الانصاري جد زيد بن حسن شهد بدرا فقال لقد علمت نزل جبريل فصلى فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم خمس صلوات ثم قال هكذا امرت كذلك كان بشير بن ابي مسعود يحدث عن ابيه.
৪০০৭. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘উমার ইবনু ‘আবদুল আযীয (রহ.) তাঁর খিলাফাত কালের বর্ণনা করেছেন যে, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) কুফার আমীর থাকা কালে একদা আসরের সালাত আদায় করতে দেরি করে ফেললে যায়দ ইবনু হাসানের দাদা বাদ্রী সাহাবী আবূ মাস‘উদ ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির আনসারী (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, আপনি তো জানেন যে, জিবরীল (আঃ) এসে সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলেন এবং বললেন, আমি এভাবেই সালাত আদায় করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। বাশীর ইব্ন আবূ মাস‘উদ তার পিতার নিকট হতে হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করতেন। [৫২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭১৪)
হাদিস নং: ৪০০৮
সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا ابو عوانة عن الاعمش عن ابراهيم عن عبد الرحمن بن يزيد عن علقمة عن ابي مسعود البدري رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الايتان من اخر سورة البقرة من قراهما في ليلة كفتاه قال عبد الرحمن فلقيت ابا مسعود وهو يطوف بالبيت فسالته فحدثنيه.
৪০০৮. বাদরী সাহাবী আবূ মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূরাহ বাকারার শেষে এমন দু’টি আয়াত রয়েছে যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দু’টি তিলাওয়াত করবে তার জন্য এ আয়াত দু’টোই যথেষ্ট। অর্থাৎ রাত্রে কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করার যে হাক রয়েছে, কমপক্ষে সূরাহ বাকারার শেষ দু’টি আয়াত তেলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট। ‘আবদুর রহমান (রহ.) বলেন, পরে আমি আবূ মাস‘উদের সঙ্গে দেখা করলাম। তখন তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করছিলেন। এ হাদীসটির ব্যাপারে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সেটা আমার নিকট বর্ণনা করলেন। [৫০০৮, ৫০০৯, ৫০৪০, ৫০৫১; মুসলিম ৬/৪৩, হাঃ ৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭১৫)