হাদিস নং: ৪০২৯
সহিহ (Sahih)
الحسن بن مدرك حدثنا يحيى بن حماد اخبرنا ابو عوانة عن ابي بشر عن سعيد بن جبير قال قلت لابن عباس سورة الحشر قال قل سورة النضير تابعه هشيم عن ابي بشر.
৪০২৯. সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাসের নিকট সূরাহ হাশরকে সূরাহ হাশর নামে উল্লেখ করায়, তিনি বললেন, বরং তুমি বলবে ‘সূরাহ নাযীর’।[1] আবূ বিশর থেকে হুশাইমও এ বর্ণণায় তার (আবূ আওয়ানাহর) অনুসরণ করেছেন। [৪৬৪৫, ৪৮৮২, ৪৮৮৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৩)
নোট: [1] অত্র সূরাতে বনু নযীর গোত্রের লাঞ্ছনার বর্ণনা রয়েছে তাই ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আববাস সূরা হাশরকে সূরা নযীর উল্লেখ করতে বলেছেন।
হাদিস নং: ৪০৩০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي الاسود حدثنا معتمر عن ابيه سمعت انس بن مالك رضي الله عنه قال كان الرجل يجعل للنبي صلى الله عليه وسلم النخلات حتى افتتح قريظة والنضير فكان بعد ذلك يرد عليهم.
৪০৩০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারগণ কিছু কিছু খেজুর গাছ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। অবশেষে বনু কুরায়যা ও বনু নাযীর জয় করা হলে তিনি ঐ খেজুর গাছগুলো তাদেরকে ফেরত দিয়ে দেন। [২৬৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৪)
হাদিস নং: ৪০৩১
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا الليث عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال حرق رسول الله صلى الله عليه وسلم نخل بني النضير وقطع وهي البويرة فنزلت (ما قطعتم من لينة او تركتموها قآىمة على اصولها فباذن الله).
৪০৩১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুওয়াইরাই নামক জায়গায় বনু নাযীর গোত্রের যে খেজুর গাছ ছিল তার কিছু জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কিছু কেটে ফেলেছিলেন। এ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়ঃ (مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِيْنَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوْهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُوْلِهَا فَبِإِذْنِ اللهِ) ‘‘তোমরা যে খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলেছ অথবা যেগুলো কান্ডের উপর ঠিক রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে’’- (সূরাহ হাশর ৫৯/৫)। [২৩২৬; মুসলিম ৩২/১০, হাঃ ১৭৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৫)
হাদিস নং: ৪০৩২
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا حبان اخبرنا جويرية بن اسماء عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم حرق نخل بني النضير قال ولها يقول حسان بن ثابت
وهان على سراة بني لوي حريق بالبويرة مستطير
قال فاجابه ابو سفيان بن الحارث
ادام الله ذلك من صنيع وحرق في نواحيها السعير
ستعلم اينا منها بنزه وتعلم اي ارضينا تضير.
وهان على سراة بني لوي حريق بالبويرة مستطير
قال فاجابه ابو سفيان بن الحارث
ادام الله ذلك من صنيع وحرق في نواحيها السعير
ستعلم اينا منها بنزه وتعلم اي ارضينا تضير.
৪০৩২. উবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাযীর গোত্রের খেজুর গাছগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, এ সম্বন্ধেই হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেছেনঃ
‘‘বনূ লুওয়াই গোত্রের নেতাদের (কুরাইশদের) জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে
বুওয়াইরাহ নামক স্থানের সর্বত্রই অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হওয়া।’’
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, এর উত্তরে আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস বলেছিলঃ
‘‘আল্লাহ্ এ কাজকে স্থায়ী করুন
এবং জ্বালিয়ে রাখুন মদিনার আশে পাশে লেলিহান অগ্নিশিখা,
শীঘ্রই জানবে আমাদের মাঝে কারা নিরাপত্তায় থাকবে
এবং জানবে দুই নগরীর কোনটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’ [২৩২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৬)
‘‘বনূ লুওয়াই গোত্রের নেতাদের (কুরাইশদের) জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে
বুওয়াইরাহ নামক স্থানের সর্বত্রই অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হওয়া।’’
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, এর উত্তরে আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস বলেছিলঃ
‘‘আল্লাহ্ এ কাজকে স্থায়ী করুন
এবং জ্বালিয়ে রাখুন মদিনার আশে পাশে লেলিহান অগ্নিশিখা,
শীঘ্রই জানবে আমাদের মাঝে কারা নিরাপত্তায় থাকবে
এবং জানবে দুই নগরীর কোনটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’ [২৩২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৬)
হাদিস নং: ৪০৩৩
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني مالك بن اوس بن الحدثان النصري ان عمر بن الخطاب رضي الله عنه دعاه اذ جاءه حاجبه يرفا فقال هل لك في عثمان وعبد الرحمن والزبير وسعد يستاذنون فقال نعم فادخلهم فلبث قليلا ثم جاء فقال هل لك في عباس وعلي يستاذنان قال نعم فلما دخلا قال عباس يا امير المومنين اقض بيني وبين هذا وهما يختصمان في الذي افاء الله على رسوله صلى الله عليه وسلم من بني النضير فاستب علي وعباس فقال الرهط يا امير المومنين اقض بينهما وارح احدهما من الاخر فقال عمر اتىدوا انشدكم بالله الذي باذنه تقوم السماء والارض هل تعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا نورث ما تركنا صدقة يريد بذلك نفسه قالوا قد قال ذلك فاقبل عمر على عباس وعلي فقال انشدكما بالله هل تعلمان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد قال ذلك قالا نعم قال فاني احدثكم عن هذا الامر ان الله سبحانه كان خص رسوله صلى الله عليه وسلم في هذا الفيء بشيء لم يعطه احدا غيره فقال جل ذكره (ومآ افآء الله على رسوله منهم فمآ اوجفتم عليه من خيل ولا ركاب) الى قوله (قدير) فكانت هذه خالصة لرسول الله ثم والله ما احتازها دونكم ولا استاثرها عليكم لقد اعطاكموها وقسمها فيكم حتى بقي هذا المال منها فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينفق على اهله نفقة سنتهم من هذا المال ثم ياخذ ما بقي فيجعله مجعل مال الله فعمل ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم حياته ثم توفي النبي صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر فانا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقبضه ابو بكر فعمل فيه بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم وانتم حينىذ فاقبل على علي وعباس وقال تذكران ان ابا بكر فيه كما تقولان والله يعلم انه فيه لصادق بار راشد تابع للحق ثم توفى الله ابا بكر فقلت انا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم وابي بكر فقبضته سنتين من امارتي اعمل فيه بما عمل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر والله يعلم اني فيه صادق بار راشد تابع للحق ثم جىتماني كلاكما وكلمتكما واحدة وامركما جميع فجىتني يعني عباسا فقلت لكما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا نورث ما تركنا صدقة فلما بدا لي ان ادفعه اليكما قلت ان شىتما دفعته اليكما على ان عليكما عهد الله وميثاقه لتعملان فيه بما عمل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر وما عملت فيه منذ وليت والا فلا تكلماني فقلتما ادفعه الينا بذلك فدفعته اليكما افتلتمسان مني قضاء غير ذلك فوالله الذي باذنه تقوم السماء والارض لا اقضي فيه بقضاء غير ذلك حتى تقوم الساعة فان عجزتما عنه فادفعا الي فانا اكفيكماه.
৪০৩৩. মালিক ইবনু আ‘ওস ইবনু হাদসান নাসিরী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, (একদা) ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাকে ডাকলেন। এ সময় তার দ্বাররক্ষী ইয়ারফা এসে বলল, ‘উসমান, ‘আবদুর রাহমান, যুবায়র এবং সা‘দ (রাঃ) আপনার নিকট আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হাঁ তাঁদেরকে আসতে বল। কিছুক্ষণ পরে এসে বলল, ‘আব্বাস এবং ‘আলী (রাঃ) আপনার নিকট অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হাঁ। তাঁরা উভয়েই ভিতরে প্রবেশ করলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে, আমীরুল মু’মিনীন! আমার এবং তাঁর মাঝে (বিবাদের) মীমাংসা করে দিন। বনূ নাযীরের সম্পদ থেকে আল্লাহ্ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফাই (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসেবে যা দিয়েছিলেন তা নিয়ে তাদের উভয়ের মাঝে বিবাদ চলছিল। এ নিয়ে তারা তর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন, (এ দেখে আগত) দলের সকলেই বললেন, হে আমীরুল মু‘মিনীন! তাদের মাঝে একটি মীমাংসা করে তাদের এ বিবাদ থেকে মুক্তি দিন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, তাড়াহুড়া করবেন না। আমি আপনাদেরকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, যাঁর আদেশে আসমান ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে। আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সম্বন্ধে বলেছেন, আমরা (নবীগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না। যা রেখে যাই তা সাদাকা হিসাবেই গণ্য হয়। এর দ্বারা তিনি নিজের কথাই বললেন। উপস্থিত সকলেই বললেন, হাঁ, তিনি এ কথা বলেছেন। ‘উমার (রাঃ) ‘আলী এবং ‘আব্বাসের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে এ কথা বলেছেন, আপনারা তা জানেন কি? তারা উভয়েই বললেন, হাঁ, এরপর তিনি বললেন, এখন আমি আপনাদেরকে এ বিষয়ে আসল অবস্থা খুলে বলছি। ফাই এর কিছু অংশ আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যা তিনি আর অন্য কাউকে দেননি। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহ্ ইয়াহূদীদের নিকট হতে তাঁর রাসূলকে যে ফাই দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা অশ্ব কিংবা উষ্ট্র চালিয়ে যুদ্ধ করনি; আল্লাহ্ তো তাঁর রাসূলকে যার উপর ইচ্ছা তার উপর কর্তৃত্ব দান করেন; আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’’- (সূরাহ আন‘আম ৬/৫৯)। অতএব এ ফাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যই খাস ছিল। আল্লাহর কসম! এরপর তিনি তোমাদেরকে বাদ দিয়ে নিজের জন্য এ সম্পদকে সংরক্ষিতও রাখেননি এবং নিজের জন্য নির্ধারিতও করে যাননি। বরং এ অর্থকে তিনি তোমাদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। অবশেষে এ মাল উদ্বৃত্ত আছে। এ মাল থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবার পরিজনের এক বছরের খোরপোশ দিতেন। এর থেকে যা অবশিষ্ট থাকত তা তিনি আল্লাহর পথে খরচ করতে দিতেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় এরূপই করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এখন থেকে আমিই হলাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওলী (প্রতিনিধি)। এরপর আবূ বকর (রাঃ) তা স্বীয় তত্ত্বাবধানে নিয়ে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নীতি অনুসরণ করেছিলেন তিনিও সে নীতিই অনুসরণ করে চললেন। তিনি ‘আলী ও ‘আব্বাসের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আজ আপনারা যা বলছেন এ বিষয়ে আপনারা আবূ বকরের সঙ্গেও এ ধরনেরই আলোচনা করেছিলেন। আল্লাহর কসম! তিনিই জানেন, এ বিষয়ে আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ এবং হাকের অনুসারী এক মহান ব্যক্তিত্ব। এরপর আবূ বকরের ইন্তিকাল হলে আমি বললাম, (আজ থেকে) আমিই হলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকরের ওলী (প্রতিনিধি)। এরপর এ সম্পদকে আমি আমার খিলাফাতের দুই বছরকাল আমার তত্ত্বাবধানে রাখি এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকরের অনুসৃত নীতিই অনুসরণ করে চলছি। আল্লাহ্ তা‘আলাই ভাল জানেন, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও হাকের একনিষ্ঠ অনুসারী। তা সত্ত্বেও পুনরায় আপনারা দু’জনই আমার নিকট এসেছেন। আমি আপনাদের উভয়কেই বলেছিলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা (নবীগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী করি না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসাবেই গণ্য হয়। এরপর এ সম্পদটি আপনাদের উভয়ের তত্ত্বাবধানে দেয়ার বিষয়টি যখন আমার নিকট স্পষ্ট হল তখন আমি বলেছিলাম, যদি আপনারা চান তাহলে একটি শর্তে তা আমি আপনাদের নিকট অর্পণ করব। শর্তটি হচ্ছে আপনারা আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর দেয়া ওয়াদা অনুযায়ী এমনভাবে কাজ করবেন যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর করেছেন এবং আমার তত্ত্বাবধানে আসার পর আমি করেছি। অন্যথায় এ বিষয়ে আপনারা আমার সঙ্গে আর কোন আলোচনা করবেন না। তখন আপনারা বলেছিলেন, এ শর্তেই আপনি তা আমাদের নিকট অর্পণ করুন। আমি তা আপনাদের হাতে অর্পণ করেছি। এখন আপনারা আমার নিকট অন্য কোন ফায়সালা কামনা করেন কি? আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, যাঁর আদেশে আসমান যমীনটিকে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আমি এর বাইরে অন্য কোন ফয়সালা দিতে পারব না। আপনারা যদি এর দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে আমার নিকট ফিরিয়ে দিন। আপনাদের এ দায়িত্ব পালনে আমিই যথেষ্ট। [২৯০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৭)
হাদিস নং: ৪০৩৪
সহিহ (Sahih)
قال فحدثت هذا الحديث عروة بن الزبير فقال صدق مالك بن اوس انا سمعت عاىشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم تقول ارسل ازواج النبي صلى الله عليه وسلم عثمان الى ابي بكر يسالنه ثمنهن مما افاء الله على رسوله صلى الله عليه وسلم فكنت انا اردهن فقلت لهن الا تتقين الله الم تعلمن ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول لا نورث ما تركنا صدقة يريد بذلك نفسه انما ياكل ال محمد في هذا المال فانتهى ازواج النبي صلى الله عليه وسلم الى ما اخبرتهن قال فكانت هذه الصدقة بيد علي منعها علي عباسا فغلبه عليها ثم كان بيد حسن بن علي ثم بيد حسين بن علي ثم بيد علي بن حسين وحسن بن حسن كلاهما كانا يتداولانها ثم بيد زيد بن حسن وهي صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم حقا.
৪০৩৪. বর্ণনাকারী (যুহরী) বলেন, আমি হাদীসটি উরওয়াহ ইবনু যুবায়রের নিকট বর্ণনা করার পর তিনি (আমাকে) বললেন, মালিক ইবনু আওস (রাঃ) ঠিকই বর্ণনা করেছেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, (বানী নাযীর গোত্রের সম্পদ থেকে) ফায় হিসাবে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে যে সম্পদ দিয়েছেন তার অষ্টমাংশ আনার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণীগণ ‘উসমানকে আবূ বকরের নিকট পাঠাতে চাইলে এই বলে আমি তাদেরকে বারণ করছিলাম যে, আপনারা কি আল্লাহকে ভয় করেন না? আপনারা কি জানেন না যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন আমরা (নবী-রাসূলগণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকা হিসাবেই থেকে যায়। এ দ্বারা তিনি নিজেকে মালিক করেছেন। এ সম্পদ থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরগণ খেতে পারবেন। (তারা এ সম্পদের মালিক হতে পারবেন না।) আমার এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণ বিরত হলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অবশেষে সাদাকার এ মাল ‘আলীর তত্ত্বাবধানে ছিল। তিনি ‘আব্বাসকে তা দিতে অস্বীকার করেন এবং পরিশেষে তিনি ‘আব্বাসের উপর জয়ী হন। এরপর তা যথাক্রমে হাসান ইবনু ‘আলী এবং হুসাইন ইবনু ‘আলীর হাতে ছিল। পুনরায় তা ‘আলী ইবনু হুসাইন এবং হাসান ইবনু হাসানের হস্তগত হয়। তাঁরা উভয়ই পর্যায়ক্রমে তার দেখাশোনা করতেন। এরপর তা যায়দ ইবনু হাসানের তত্ত্বাবধানে যায়। তা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদাকা। [৬৭২৭, ৬৭৩০; মুসলিম ৩২/১৫, হাঃ ১৭৫৭, আহমাদ ৩৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৭)
হাদিস নং: ৪০৩৫
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري عن عروة عن عاىشة ان فاطمة رضي الله عنها والعباس اتيا ابا بكر يلتمسان ميراثهما ارضه من فدك وسهمه من خيبر.
৪০৩৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ এবং ‘আব্বাস (রাঃ) আবূ বকরের কাছে এসে ফাদাক এবং খাইবারের (ভূমির) অংশ দাবী করেন। [৩০৯২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৮)
হাদিস নং: ৪০৩৬
সহিহ (Sahih)
فقال ابو بكر سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لا نورث ما تركنا صدقة انما ياكل ال محمد في هذا المال والله لقرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم احب الي ان اصل من قرابتي.
৪০৩৬. আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমরা (নবী-রাসূলগণ আমাদের সম্পদের) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই সাদাকা হিসেবেই রেখে যাই। এ মাল থেকে মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনে ভোগ করবে। আল্লাহর কসম! আমার আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে আত্মীয়তা দৃঢ় করার চেয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়তাই আমার নিকট প্রিয়তর। [৩০৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৮)
হাদিস নং: ৪০৩৭
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال عمرو سمعت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من لكعب بن الاشرف فانه قد اذى الله ورسوله فقام محمد بن مسلمة فقال يا رسول الله اتحب ان اقتله قال نعم قال فاذن لي ان اقول شيىا قال قل فاتاه محمد بن مسلمة فقال ان هذا الرجل قد سالنا صدقة وانه قد عنانا واني قد اتيتك استسلفك قال وايضا والله لتملنه قال انا قد اتبعناه فلا نحب ان ندعه حتى ننظر الى اي شيء يصير شانه وقد اردنا ان تسلفنا وسقا او وسقين و حدثنا عمرو غير مرة فلم يذكر وسقا او وسقين او فقلت له فيه وسقا او وسقين فقال ارى فيه وسقا او وسقين فقال نعم ارهنوني قالوا اي شيء تريد قال ارهنوني نساءكم قالوا كيف نرهنك نساءنا وانت اجمل العرب قال فارهنوني ابناءكم قالوا كيف نرهنك ابناءنا فيسب احدهم فيقال رهن بوسق او وسقين هذا عار علينا ولكنا نرهنك اللامة قال سفيان يعني السلاح فواعده ان ياتيه فجاءه ليلا ومعه ابو ناىلة وهو اخو كعب من الرضاعة فدعاهم الى الحصن فنزل اليهم فقالت له امراته اين تخرج هذه الساعة فقال انما هو محمد بن مسلمة واخي ابو ناىلة وقال غير عمرو قالت اسمع صوتا كانه يقطر منه الدم قال انما هو اخي محمد بن مسلمة ورضيعي ابو ناىلة ان الكريم لو دعي الى طعنة بليل لاجاب قال ويدخل محمد بن مسلمة معه رجلين قيل لسفيان سماهم عمرو قال سمى بعضهم قال عمرو جاء معه برجلين وقال غير عمرو ابو عبس بن جبر والحارث بن اوس وعباد بن بشر قال عمرو جاء معه برجلين فقال اذا ما جاء فاني قاىل بشعره فاشمه فاذا رايتموني استمكنت من راسه فدونكم فاضربوه وقال مرة ثم اشمكم فنزل اليهم متوشحا وهو ينفح منه ريح الطيب فقال ما رايت كاليوم ريحا اي اطيب وقال غير عمرو قال عندي اعطر نساء العرب واكمل العرب قال عمرو فقال اتاذن لي ان اشم راسك قال نعم فشمه ثم اشم اصحابه ثم قال اتاذن لي قال نعم فلما استمكن منه قال دونكم فقتلوه ثم اتوا النبي صلى الله عليه وسلم فاخبروه.
৪০৩৭. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কা‘ব ইবনু আশরাফের হত্যা করার জন্য কে প্রস্তুত আছ? কেননা সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) দাঁড়ালেন, এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হাঁ। তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, তাহলে আমাকে কিছু প্রতারণাময় কথা বলার অনুমতি দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ বল। এরপর মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) কা‘ব ইবনু আশরাফের নিকট গিয়ে বললেন, এ লোকটি [রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সাদাকা চায় এবং সে আমাদেরকে বহু কষ্টে ফেলেছে। তাই আমি আপনার নিকট কিছু ঋণের জন্য এসেছি। কা‘ব ইবনু আশরাফ বলল, আল্লাহর কসম পরে সে তোমাদেরকে আরো বিরক্ত করবে এবং আরো অতিষ্ঠ করে তুলবে। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, আমরা তাঁর অনুসরণ করছি। পরিণাম কী দাঁড়ায় তা না দেখে এখনই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করা ভাল মনে করছি না। এখন আমি আপনার কাছে এক ওসাক বা দুই ওসাক খাদ্য ধার চাই।
বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান বলেন, ‘আমর (রহ.) আমার নিকট হাদীসটি কয়েকবার বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথা উল্লেখ করেননি। আমি তাকে বললাম, এ হাদীসে তো এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে, তিনি বললেন, মনে হয় হাদীসে এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে। কা‘ব ইবনু আশরাফ বলল, ধার তো পাবে তবে কিছু বন্ধক রাখ। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, কী জিনিস আপনি বন্ধক চান। সে বলল, তোমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখ। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, আপনি আরবের একজন সুশ্রী ব্যক্তি, আপনার নিকট কীভাবে, আমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখব? তখন সে বলল, তাহলে তোমাদের ছেলে সন্তানদেরকে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, আমাদের পুত্র সন্তানদেরকে আপনার নিকট কী করে বন্ধক রাখি? তাদেরকে এ বলে সমালোচনা করা হবে যে, মাত্র এক ওসাক বা দুই ওসাকের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। এটা তো আমাদের জন্য খুব লজ্জাজনক বিষয়। তবে আমরা আপনার নিকট অস্ত্রশস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফ্ইয়ান বলেন, লামা শব্দের মানে হচ্ছে অস্ত্রশস্ত্র। শেষে তিনি (মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ) তার কাছে আবার যাওয়ার ওয়াদা করে চলে আসলেন। এরপর তিনি কা’ব ইবনু আশরাফের দুধ ভাই আবূ নাইলাকে সঙ্গে করে রাতের বেলা তার নিকট গেলেন। কা’ব তাদেরকে দূর্গের মধ্যে ডেকে নিল এবং সে নিজে উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসার জন্য প্রস্তুত হল। তখন তার স্ত্রী বলল, এ সময় তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বলল, এই তো মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ এবং আমার ভাই আবূ নাইলা এসেছে। ‘আমর ব্যতীত বর্ণনাকারীগণ বলেন যে, কা’বের স্ত্রী বলল, আমি তো এমনই একটি ডাক শুনতে পাচ্ছি যার থেকে রক্তের ফোঁটা ঝরছে বলে আমার মনে হচ্ছে। কা’ব ইবনু আশরাফ বলল, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ এবং দুধ ভাই আবূ নাইলা, (অপরিচিত কোন লোক তো নয়) ভদ্র মানুষকে রাতের বেলা বর্শা বিদ্ধ করার জন্য ডাকলে তার যাওয়া উচিত। (বর্ণনাকারী বলেন) মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) সঙ্গে আরো দুই ব্যক্তিকে নিয়ে সেখানে গেলেন। সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘আমর কি তাদের দু’জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন? উত্তরে সুফ্ইয়ান বললেন, একজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। ‘আমর বর্ণনা করেন যে, তিনি আরো দু’জন মানুষ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, যখন সে (কা’ব ইবনু আশরাফ) আসবে। ‘আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ (মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামার সাথীদের সম্পর্কে) বলেছেন যে (তারা হলেন) আবূ আবস্ ইবনু জাব্র হারিস ইবনু আওস এবং আববাদ ইবনু বিশ্র। ‘আমর বলেছেন, তিনি অপর দুই লোককে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাদেরকে বলেছিলেন, যখন সে আসবে তখন আমি তার মাথার চুল ধরে শুঁকতে থাকব। যখন তোমরা আমাকে দেখবে যে, খুব শক্তভাবে আমি তার মাথা আঁকড়িয়ে ধরেছি, তখন তোমরা তরবারি দ্বারা তাকে আঘাত করবে। তিনি (মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ) একবার বলেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকেও শুঁকাব। সে (কা‘ব) চাদর নিয়ে নিচে নেমে আসলে তার শরীর থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, আজকের মত এতো উত্তম সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি। ‘আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, কা‘ব বলল, আমার নিকট আরবের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাসম্পন্ন সুগন্ধী ব্যবহারকারী মহিলা আছে। ‘আমর বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, আমাকে আপনার মাথা শুঁকতে অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ। এরপর তিনি তার মাথা শুঁকলেন এবং এরপর তার সাথীদেরকে শুঁকালেন। তারপর তিনি আবার বললেন, আমাকে আবার শুকবার অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ। এরপর তিনি তাকে কাবু করে ধরে সাথীদেরকে বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। তাঁরা তাকে হত্যা করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এ খবর দিলেন। [২৫১০; মুসলিম ৩২/৪৩, হাঃ ১৮০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৯)
বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান বলেন, ‘আমর (রহ.) আমার নিকট হাদীসটি কয়েকবার বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথা উল্লেখ করেননি। আমি তাকে বললাম, এ হাদীসে তো এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে, তিনি বললেন, মনে হয় হাদীসে এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে। কা‘ব ইবনু আশরাফ বলল, ধার তো পাবে তবে কিছু বন্ধক রাখ। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, কী জিনিস আপনি বন্ধক চান। সে বলল, তোমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখ। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, আপনি আরবের একজন সুশ্রী ব্যক্তি, আপনার নিকট কীভাবে, আমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখব? তখন সে বলল, তাহলে তোমাদের ছেলে সন্তানদেরকে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, আমাদের পুত্র সন্তানদেরকে আপনার নিকট কী করে বন্ধক রাখি? তাদেরকে এ বলে সমালোচনা করা হবে যে, মাত্র এক ওসাক বা দুই ওসাকের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। এটা তো আমাদের জন্য খুব লজ্জাজনক বিষয়। তবে আমরা আপনার নিকট অস্ত্রশস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফ্ইয়ান বলেন, লামা শব্দের মানে হচ্ছে অস্ত্রশস্ত্র। শেষে তিনি (মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ) তার কাছে আবার যাওয়ার ওয়াদা করে চলে আসলেন। এরপর তিনি কা’ব ইবনু আশরাফের দুধ ভাই আবূ নাইলাকে সঙ্গে করে রাতের বেলা তার নিকট গেলেন। কা’ব তাদেরকে দূর্গের মধ্যে ডেকে নিল এবং সে নিজে উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসার জন্য প্রস্তুত হল। তখন তার স্ত্রী বলল, এ সময় তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বলল, এই তো মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ এবং আমার ভাই আবূ নাইলা এসেছে। ‘আমর ব্যতীত বর্ণনাকারীগণ বলেন যে, কা’বের স্ত্রী বলল, আমি তো এমনই একটি ডাক শুনতে পাচ্ছি যার থেকে রক্তের ফোঁটা ঝরছে বলে আমার মনে হচ্ছে। কা’ব ইবনু আশরাফ বলল, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ এবং দুধ ভাই আবূ নাইলা, (অপরিচিত কোন লোক তো নয়) ভদ্র মানুষকে রাতের বেলা বর্শা বিদ্ধ করার জন্য ডাকলে তার যাওয়া উচিত। (বর্ণনাকারী বলেন) মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) সঙ্গে আরো দুই ব্যক্তিকে নিয়ে সেখানে গেলেন। সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘আমর কি তাদের দু’জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন? উত্তরে সুফ্ইয়ান বললেন, একজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। ‘আমর বর্ণনা করেন যে, তিনি আরো দু’জন মানুষ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, যখন সে (কা’ব ইবনু আশরাফ) আসবে। ‘আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ (মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামার সাথীদের সম্পর্কে) বলেছেন যে (তারা হলেন) আবূ আবস্ ইবনু জাব্র হারিস ইবনু আওস এবং আববাদ ইবনু বিশ্র। ‘আমর বলেছেন, তিনি অপর দুই লোককে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাদেরকে বলেছিলেন, যখন সে আসবে তখন আমি তার মাথার চুল ধরে শুঁকতে থাকব। যখন তোমরা আমাকে দেখবে যে, খুব শক্তভাবে আমি তার মাথা আঁকড়িয়ে ধরেছি, তখন তোমরা তরবারি দ্বারা তাকে আঘাত করবে। তিনি (মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ) একবার বলেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকেও শুঁকাব। সে (কা‘ব) চাদর নিয়ে নিচে নেমে আসলে তার শরীর থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, আজকের মত এতো উত্তম সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি। ‘আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, কা‘ব বলল, আমার নিকট আরবের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাসম্পন্ন সুগন্ধী ব্যবহারকারী মহিলা আছে। ‘আমর বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, আমাকে আপনার মাথা শুঁকতে অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ। এরপর তিনি তার মাথা শুঁকলেন এবং এরপর তার সাথীদেরকে শুঁকালেন। তারপর তিনি আবার বললেন, আমাকে আবার শুকবার অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ। এরপর তিনি তাকে কাবু করে ধরে সাথীদেরকে বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। তাঁরা তাকে হত্যা করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এ খবর দিলেন। [২৫১০; মুসলিম ৩২/৪৩, হাঃ ১৮০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৯)
নোট: *কা‘ব ইবনু আশরাফ বনী কুরায়যা গোত্রের একজন কবি ও নেতা ছিল যে বিভিন্ন সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে বিদ্রুপাত্মক কথা প্রচার করতো। এমনকি সম্ভ্রান্ত মুসলিমদের স্ত্রী কন্যাদের সম্পর্কেও কুৎসিত অশালীন উদ্ভট কথা রচনা করতো। এসকল কর্মকাণ্ডে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে অবশেষে তৃতীয় হিজরী সনের রবীউল আওয়াল মাসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহামমাদ ইবনু মাসলামাহকে নির্দেশ দেন তাকে যেন হত্যা করা হয়। এবং সে আদেশ মতে তাকে হত্যা করা হয়।
হাদিস নং: ৪০৩৮
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر حدثنا يحيى بن ادم حدثنا ابن ابي زاىدة عن ابيه عن ابي اسحاق عن البراء بن عازب رضي الله عنهما قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم رهطا الى ابي رافع فدخل عليه عبد الله بن عتيك بيته ليلا وهو ناىم فقتله.
وَيُقَالُ سَلَّامُ بْنُ أَبِي الْحُقَيْقِ كَانَ بِخَيْبَرَ وَيُقَالُ فِيْ حِصْنٍ لَهُ بِأَرْضِ الْحِجَازِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ هُوَ بَعْدَ كَعْبِ بْنِ الْأَشْرَفِ.
তাকে সাল্লাম ইবনু আবুল হুকায়কও বলা হত। সে খায়বারের অধিবাসী ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, হিজায ভূমিতে তার একটি দূর্গ ছিল।
যুহরী (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, তার হত্যার ঘটনা কা‘ব ইবনু আশরাফের হত্যার পর ঘটেছিল।
৪০৩৮. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ জনের কম একটি দলকে আবূ রাফির উদ্দেশে পাঠালেন (তাদের একজন) ‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) রাতের বেলা তার ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে খুন করেন। [৩০২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪০)
তাকে সাল্লাম ইবনু আবুল হুকায়কও বলা হত। সে খায়বারের অধিবাসী ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, হিজায ভূমিতে তার একটি দূর্গ ছিল।
যুহরী (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, তার হত্যার ঘটনা কা‘ব ইবনু আশরাফের হত্যার পর ঘটেছিল।
৪০৩৮. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ জনের কম একটি দলকে আবূ রাফির উদ্দেশে পাঠালেন (তাদের একজন) ‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) রাতের বেলা তার ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে খুন করেন। [৩০২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪০)
হাদিস নং: ৪০৩৯
সহিহ (Sahih)
يوسف بن موسى حدثنا عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء بن عازب قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الى ابي رافع اليهودي رجالا من الانصار فامر عليهم عبد الله بن عتيك وكان ابو رافع يوذي رسول الله صلى الله عليه وسلم ويعين عليه وكان في حصن له بارض الحجاز فلما دنوا منه وقد غربت الشمس وراح الناس بسرحهم فقال عبد الله لاصحابه اجلسوا مكانكم فاني منطلق ومتلطف للبواب لعلي ان ادخل فاقبل حتى دنا من الباب ثم تقنع بثوبه كانه يقضي حاجة وقد دخل الناس فهتف به البواب يا عبد الله ان كنت تريد ان تدخل فادخل فاني اريد ان اغلق الباب فدخلت فكمنت فلما دخل الناس اغلق الباب ثم علق الاغاليق على وتد قال فقمت الى الاقاليد فاخذتها ففتحت الباب وكان ابو رافع يسمر عنده وكان في علالي له فلما ذهب عنه اهل سمره صعدت اليه فجعلت كلما فتحت بابا اغلقت علي من داخل قلت ان القوم نذروا بي لم يخلصوا الي حتى اقتله فانتهيت اليه فاذا هو في بيت مظلم وسط عياله لا ادري اين هو من البيت فقلت يا ابا رافع قال من هذا فاهويت نحو الصوت فاضربه ضربة بالسيف وانا دهش فما اغنيت شيىا وصاح فخرجت من البيت فامكث غير بعيد ثم دخلت اليه فقلت ما هذا الصوت يا ابا رافع فقال لامك الويل ان رجلا في البيت ضربني قبل بالسيف قال فاضربه ضربة اثخنته ولم اقتله ثم وضعت ظبة السيف في بطنه حتى اخذ في ظهره فعرفت اني قتلته فجعلت افتح الابواب بابا بابا حتى انتهيت الى درجة له فوضعت رجلي وانا ارى اني قد انتهيت الى الارض فوقعت في ليلة مقمرة فانكسرت ساقي فعصبتها بعمامة ثم انطلقت حتى جلست على الباب فقلت لا اخرج الليلة حتى اعلم اقتلته فلما صاح الديك قام الناعي على السور فقال انعى ابا رافع تاجر اهل الحجاز فانطلقت الى اصحابي فقلت النجاء فقد قتل الله ابا رافع فانتهيت الى النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته فقال ابسط رجلك فبسطت رجلي فمسحها فكانها لم اشتكها قط.
৪০৩৯. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীককে আমীর বানিয়ে তার নেতৃত্বে আনসারদের কয়েকজন সাহাবীকে ইয়াহূদী আবূ রাফির (হত্যার) উদ্দেশে প্রেরণ করেন। আবূ রাফি‘ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দিত এবং এ ব্যাপারে লোকদেরকে সাহায্য করত। হিজায ভূমিতে তার একটি দূর্গ ছিল (যেখানে যে বাস করত)। তারা যখন তার দূর্গের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন তখন সূর্য ডুবে গেছে এবং লোকজন নিজেদের পশু পাল নিয়ে রওয়ানা হয়েছে (নিজ নিজ গৃহে) ‘আবদুল্লাহ (ইবনু আতীক) তার সাথীদেরকে বললেন, তোমরা তোমাদের স্থানে বসে থাক। আমি চললাম, ভিতরে প্রবেশ করার জন্য দ্বার রক্ষীর সঙ্গে আমি কৌশল দেখাই। এরপর তিনি সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজার কাছে পৌঁছলেন এবং কাপড় দ্বারা নিজেকে এমনভাবে ঢাকলেন যেন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে রত আছেন। তখন সবাই ভিতরে প্রবেশ করলে দারোয়ান তাকে ডেকে বলল, ওহে ‘আবদুল্লাহ্! ভিতরে ঢুকতে চাইলে ঢুকে পড়। আমি এখনই দরজা বন্ধ করে দেব। আমি তখন ভিতরে প্রবেশ করলাম এবং আত্মগোপন করে থাকলাম। সকলে ভিতরে প্রবেশ করার পর সে দরজা বন্ধ করে দিল এবং একটি পেরেকের সঙ্গে চাবিটা লটকিয়ে রাখল।
[‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন] এরপর আমি চাবিটার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং চাবিটা নিয়ে দরজাটি খুললাম। আবূ রাফি‘র নিকট রাতের বেলা গল্পের আসর বসত, এ সময় সে তার উপর তলার কামরায় অবস্থান করছিল। গল্পের আসরে আগত লোকজন চলে গেলে, আমি সিঁড়ি বেয়ে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময় আমি একটি করে দরজা খুলছিলাম এবং ভিতর দিক থেকে তা আবার বন্ধ করে দিয়ে যাচ্ছিলাম, যাতে লোকজন আমার ব্যাপারে জানতে পারলেও হত্যা না করা পর্যন্ত আমার নিকট পৌঁছতে না পারে। আমি তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময় সে একটি অন্ধকার কক্ষে ছেলেমেয়েদের মাঝে শুয়েছিল। কক্ষের কোন্ অংশে সে শুয়ে আছে আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই আবূ রাফি‘ বলে ডাক দিলাম। সে বলল, কে আমাকে ডাকছ? আমি তখন আওয়াজটি লক্ষ্য করে এগিয়ে গিয়ে তরবারি দ্বারা প্রচন্ড জোরে আঘাত করলাম। আমি তখন কাঁপছিলাম। এ আঘাতে আমি তার কোন কিছুই করতে পারলাম না। সে চীৎকার করে উঠলে আমি কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে আসলাম। এরপর পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে (কন্ঠস্বর পরিবর্তন করতঃ তার আপন লোকের ন্যায়) জিজ্ঞেস করলাম, আবূ রাফি‘ এ আওয়াজ হল কিসের? সে বলল, তোমার মায়ের সর্বনাশ হোক! একটু আগে ঘরের ভিতর কে যেন আমাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, তখন আমি আবার তাকে ভীষণ আঘাত করলাম এবং মারাত্মকভাবে ক্ষত বিক্ষত করে ফেললাম। কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারিনি। তাই তরবারির ধারাল দিকটি তার পেটের উপর চেপে ধরলাম এবং পিঠ পার করে দিলাম। এবার আমি নিশ্চিতরূপে বুঝলাম যে, এখন আমি তাকে হত্যা করতে পেরেছি। এরপর আমি এক এক করে দরজা খুলে নীচে নামতে শুরু করলাম। নামতে নামতে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছলাম। পূর্ণিমার রাত্র ছিল। (চাঁদের আলোতে তাড়াহুড়ার মধ্যে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পেরে) আমি মনে করলাম, (সিঁড়ির সকল ধাপ অতিক্রম করে) আমি মাটির নিকটে এসে পড়েছি। (কিন্তু তখনও একটি ধাপ অবশিষ্ট ছিল) তাই নিচে পা রাখতেই আমি পড়ে গেলাম। অমনিই আমার পায়ের গোছার হাড় ভেঙ্গে গেল। আমি আমার মাথার পাগড়ি দিয়ে পা খানা বেঁধে নিলাম এবং একটু হেঁটে গিয়ে দরজার সামনে বসে রইলাম। মনে মনে স্থির করলাম, তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে আজ রাতে আমি এখান থেকে যাব না। ভোর রাতে মোরগের ডাক আরম্ভ হলে মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরের উপরে উঠে ঘোষণা করল, হিজায অধিবাসীদের অন্যতম ব্যবসায়ী আবূ রাফির মৃত্যু সংবাদ শুন। তখন আমি আমার সাথীদের নিকট গিয়ে বললাম, তাড়াতাড়ি চল, আল্লাহ্ আবূ রাফিকে হত্যা করেছেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, তোমার পা লম্বা করে দাও। আমি আমার পা লম্বা করে দিলে তিনি তাতে স্বীয় হাত বুলিয়ে দিলেন। (তাতে এমন সুস্থ হলাম) যেন আমি কোন আঘাতই পায়নি। [৩০২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪১)
[‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন] এরপর আমি চাবিটার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং চাবিটা নিয়ে দরজাটি খুললাম। আবূ রাফি‘র নিকট রাতের বেলা গল্পের আসর বসত, এ সময় সে তার উপর তলার কামরায় অবস্থান করছিল। গল্পের আসরে আগত লোকজন চলে গেলে, আমি সিঁড়ি বেয়ে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময় আমি একটি করে দরজা খুলছিলাম এবং ভিতর দিক থেকে তা আবার বন্ধ করে দিয়ে যাচ্ছিলাম, যাতে লোকজন আমার ব্যাপারে জানতে পারলেও হত্যা না করা পর্যন্ত আমার নিকট পৌঁছতে না পারে। আমি তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময় সে একটি অন্ধকার কক্ষে ছেলেমেয়েদের মাঝে শুয়েছিল। কক্ষের কোন্ অংশে সে শুয়ে আছে আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই আবূ রাফি‘ বলে ডাক দিলাম। সে বলল, কে আমাকে ডাকছ? আমি তখন আওয়াজটি লক্ষ্য করে এগিয়ে গিয়ে তরবারি দ্বারা প্রচন্ড জোরে আঘাত করলাম। আমি তখন কাঁপছিলাম। এ আঘাতে আমি তার কোন কিছুই করতে পারলাম না। সে চীৎকার করে উঠলে আমি কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে আসলাম। এরপর পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে (কন্ঠস্বর পরিবর্তন করতঃ তার আপন লোকের ন্যায়) জিজ্ঞেস করলাম, আবূ রাফি‘ এ আওয়াজ হল কিসের? সে বলল, তোমার মায়ের সর্বনাশ হোক! একটু আগে ঘরের ভিতর কে যেন আমাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, তখন আমি আবার তাকে ভীষণ আঘাত করলাম এবং মারাত্মকভাবে ক্ষত বিক্ষত করে ফেললাম। কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারিনি। তাই তরবারির ধারাল দিকটি তার পেটের উপর চেপে ধরলাম এবং পিঠ পার করে দিলাম। এবার আমি নিশ্চিতরূপে বুঝলাম যে, এখন আমি তাকে হত্যা করতে পেরেছি। এরপর আমি এক এক করে দরজা খুলে নীচে নামতে শুরু করলাম। নামতে নামতে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছলাম। পূর্ণিমার রাত্র ছিল। (চাঁদের আলোতে তাড়াহুড়ার মধ্যে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পেরে) আমি মনে করলাম, (সিঁড়ির সকল ধাপ অতিক্রম করে) আমি মাটির নিকটে এসে পড়েছি। (কিন্তু তখনও একটি ধাপ অবশিষ্ট ছিল) তাই নিচে পা রাখতেই আমি পড়ে গেলাম। অমনিই আমার পায়ের গোছার হাড় ভেঙ্গে গেল। আমি আমার মাথার পাগড়ি দিয়ে পা খানা বেঁধে নিলাম এবং একটু হেঁটে গিয়ে দরজার সামনে বসে রইলাম। মনে মনে স্থির করলাম, তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে আজ রাতে আমি এখান থেকে যাব না। ভোর রাতে মোরগের ডাক আরম্ভ হলে মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরের উপরে উঠে ঘোষণা করল, হিজায অধিবাসীদের অন্যতম ব্যবসায়ী আবূ রাফির মৃত্যু সংবাদ শুন। তখন আমি আমার সাথীদের নিকট গিয়ে বললাম, তাড়াতাড়ি চল, আল্লাহ্ আবূ রাফিকে হত্যা করেছেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, তোমার পা লম্বা করে দাও। আমি আমার পা লম্বা করে দিলে তিনি তাতে স্বীয় হাত বুলিয়ে দিলেন। (তাতে এমন সুস্থ হলাম) যেন আমি কোন আঘাতই পায়নি। [৩০২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪১)
হাদিস নং: ৪০৪০
সহিহ (Sahih)
احمد بن عثمان حدثنا شريح هو ابن مسلمة حدثنا ابراهيم بن يوسف عن ابيه عن ابي اسحاق قال سمعت البراء بن عازب رضي الله عنه قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الى ابي رافع عبد الله بن عتيك وعبد الله بن عتبة في ناس معهم فانطلقوا حتى دنوا من الحصن فقال لهم عبد الله بن عتيك امكثوا انتم حتى انطلق انا فانظر قال فتلطفت ان ادخل الحصن ففقدوا حمارا لهم قال فخرجوا بقبس يطلبونه قال فخشيت ان اعرف قال فغطيت راسي وجلست كاني اقضي حاجة ثم نادى صاحب الباب من اراد ان يدخل فليدخل قبل ان اغلقه فدخلت ثم اختبات في مربط حمار عند باب الحصن فتعشوا عند ابي رافع وتحدثوا حتى ذهبت ساعة من الليل ثم رجعوا الى بيوتهم فلما هدات الاصوات ولا اسمع حركة خرجت قال ورايت صاحب الباب حيث وضع مفتاح الحصن في كوة فاخذته ففتحت به باب الحصن قال قلت ان نذر بي القوم انطلقت على مهل ثم عمدت الى ابواب بيوتهم فغلقتها عليهم من ظاهر ثم صعدت الى ابي رافع في سلم فاذا البيت مظلم قد طفى سراجه فلم ادر اين الرجل فقلت يا ابا رافع قال من هذا قال فعمدت نحو الصوت فاضربه وصاح فلم تغن شيىا قال ثم جىت كاني اغيثه فقلت ما لك يا ابا رافع وغيرت صوتي فقال الا اعجبك لامك الويل دخل علي رجل فضربني بالسيف قال فعمدت له ايضا فاضربه اخرى فلم تغن شيىا فصاح وقام اهله قال ثم جىت وغيرت صوتي كهيىة المغيث فاذا هو مستلق على ظهره فاضع السيف في بطنه ثم انكفى عليه حتى سمعت صوت العظم ثم خرجت دهشا حتى اتيت السلم اريد ان انزل فاسقط منه فانخلعت رجلي فعصبتها ثم اتيت اصحابي احجل فقلت انطلقوا فبشروا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاني لا ابرح حتى اسمع الناعية فلما كان في وجه الصبح صعد الناعية فقال انعى ابا رافع قال فقمت امشي ما بي قلبة فادركت اصحابي قبل ان ياتوا النبي صلى الله عليه وسلم فبشرته.
৪০৪০. বারাআ বিন ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ রাফি‘র হত্যার উদ্দেশে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ্কে একদল লোকসহ প্রেরণ করেন। যেতে যেতে তারা দূর্গের কাছে গিয়ে পৌঁছলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) তাদেরকে বললেন, তোমরা অপেক্ষা কর। আমি যাই, দেখি কীভাবে সুযোগ করা যায়। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, দূর্গের ভিতর প্রবেশ করার জন্য আমি কৌশল করলাম। ইতোমধ্যে তারা একটি গাধা হারিয়ে ফেলল এবং একটি আলো নিয়ে এর খোঁজে বের হল। তিনি বলেন, আমাকে চিনে ফেলবে আমি এ আশংকা করছিলাম। তাই আমি আমার মাথা ও পা ঢেকে ফেললাম এবং এমনভাবে বসে রইলাম যেন আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে মলমূত্র ত্যাগ করার জন্য বসেছি। এরপর দারোয়ান ডাক দিয়ে বলল, কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে এখনই দরজা বন্ধ করার আগে ভিতরে ঢুকে পড়ুন। আমি প্রবেশ করলাম এবং দূর্গের দরজার পার্শ্বে গাধা বাঁধার জায়গায় আত্মগোপন করে থাকলাম। আবূ রাফি‘র নিকট সবাই বসে রাতের খানা খেয়ে গল্প গুজব করল। এভাবে রাতের কিছু অংশ কেটে যাওয়ার পর সকলেই নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেল। যখন হৈ চৈ থেমে গেল এবং কোন নড়াচড়া শুনতে পাচ্ছিলাম না তখন আমি বের হলাম।
‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, দূর্গের চাবি যে ছিদ্রপথে রাখা হয়েছিল তা আমি পূর্বেই দেখেছিলাম। তাই রক্ষিত স্থান থেকে চাবিটি নিয়ে আমি দূর্গের দরজা খুললাম। তিনি বলেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, কাওমের লোকেরা যদি আমাকে দেখে নেয় তাহলে সহজেই আমি পালিয়ে যেতে পারব। এরপর দূর্গের ভিতরে তাদের যত ঘর ছিল সবগুলোর দরজা আমি বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলাম। এরপর সিঁড়ি বেয়ে আবূ রাফি‘র কক্ষে উঠলাম। বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়েছিল বলে ঘরটি ছিল খুবই অন্ধকার। লোকটি কোথায়, কিছুতেই আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। সুতরাং আমি তাকে ডাকলাম, হে আবূ রাফি‘। সে বলল, কে ডাকছ? তিনি বলেন, আওয়াজটি লক্ষ্য করে আমি একটু এগিয়ে গেলাম এবং তাকে আঘাত করলাম। সে চীৎকার করে উঠল। এ আঘাতে কোন কাজই হয়নি। অতঃপর আবার আমি তার কাছে গেলাম, যেন আমি তাকে সাহায্য করব। আমি এবার স্বর বদল করে বললাম, হে আবূ রাফি‘! তোমার কী হয়েছে? সে বলল, কী আশ্চর্য ব্যাপার, তার মায়ের সর্বনাশ হোক, এই তো এক ব্যক্তি আমার ঘরে ঢুকে আমাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আতীক বলেন, তাকে লক্ষ্য করে আবার আমি আঘাত করলাম এবারও কোন কাজ হল না। সে চীৎকার করলে তার পরিবারের সবাই জেগে উঠল। তারপর আবার আমি সাহায্যকারীর ভান করে আওয়াজ বদল করে তার দিকে এগিয়ে গেলাম। এ সময় সে পিঠের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে ছিল। আমি তরবারির অগ্রভাগ তার পেটের উপর রেখে এমন জোরে চাপ দিলাম যে, আমি তার হাড়ের আওয়াজ শুনতে পেলাম। এরপর আমি কাঁপতে কাঁপতে সিঁড়ির নিকট এসে পৌঁছলাম। ইচ্ছে ছিল নেমে যাব। কিন্তু আছাড় খেয়ে পড়ে গেলাম এবং এতে আমার পা খানা ভেঙে গেল। সঙ্গে সঙ্গে (পাগড়ি দিয়ে) আমি তা বেঁধে ফেললাম এবং আস্তে আস্তে হেঁটে সাথীদের নিকট চলে এলাম। এরপর বললাম, তোমরা যাও এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুসংবাদ দাও। আমি তার মৃত্যু সংবাদ না শুনে আসব না। প্রত্যুষে মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরে উঠে বলল, আমি আবূ রাফি‘র মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করছি। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, এরপর আমি উঠে চলতে লাগলাম। এ সময় আমার কোন ব্যথাই ছিল না। আমার সাথীরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছার আগেই আমি তাদেরকে পেয়ে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার মৃত্যুর সুসংবাদ দিলাম।[1] [৩০২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪২)
‘আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, দূর্গের চাবি যে ছিদ্রপথে রাখা হয়েছিল তা আমি পূর্বেই দেখেছিলাম। তাই রক্ষিত স্থান থেকে চাবিটি নিয়ে আমি দূর্গের দরজা খুললাম। তিনি বলেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, কাওমের লোকেরা যদি আমাকে দেখে নেয় তাহলে সহজেই আমি পালিয়ে যেতে পারব। এরপর দূর্গের ভিতরে তাদের যত ঘর ছিল সবগুলোর দরজা আমি বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলাম। এরপর সিঁড়ি বেয়ে আবূ রাফি‘র কক্ষে উঠলাম। বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়েছিল বলে ঘরটি ছিল খুবই অন্ধকার। লোকটি কোথায়, কিছুতেই আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। সুতরাং আমি তাকে ডাকলাম, হে আবূ রাফি‘। সে বলল, কে ডাকছ? তিনি বলেন, আওয়াজটি লক্ষ্য করে আমি একটু এগিয়ে গেলাম এবং তাকে আঘাত করলাম। সে চীৎকার করে উঠল। এ আঘাতে কোন কাজই হয়নি। অতঃপর আবার আমি তার কাছে গেলাম, যেন আমি তাকে সাহায্য করব। আমি এবার স্বর বদল করে বললাম, হে আবূ রাফি‘! তোমার কী হয়েছে? সে বলল, কী আশ্চর্য ব্যাপার, তার মায়ের সর্বনাশ হোক, এই তো এক ব্যক্তি আমার ঘরে ঢুকে আমাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আতীক বলেন, তাকে লক্ষ্য করে আবার আমি আঘাত করলাম এবারও কোন কাজ হল না। সে চীৎকার করলে তার পরিবারের সবাই জেগে উঠল। তারপর আবার আমি সাহায্যকারীর ভান করে আওয়াজ বদল করে তার দিকে এগিয়ে গেলাম। এ সময় সে পিঠের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে ছিল। আমি তরবারির অগ্রভাগ তার পেটের উপর রেখে এমন জোরে চাপ দিলাম যে, আমি তার হাড়ের আওয়াজ শুনতে পেলাম। এরপর আমি কাঁপতে কাঁপতে সিঁড়ির নিকট এসে পৌঁছলাম। ইচ্ছে ছিল নেমে যাব। কিন্তু আছাড় খেয়ে পড়ে গেলাম এবং এতে আমার পা খানা ভেঙে গেল। সঙ্গে সঙ্গে (পাগড়ি দিয়ে) আমি তা বেঁধে ফেললাম এবং আস্তে আস্তে হেঁটে সাথীদের নিকট চলে এলাম। এরপর বললাম, তোমরা যাও এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুসংবাদ দাও। আমি তার মৃত্যু সংবাদ না শুনে আসব না। প্রত্যুষে মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরে উঠে বলল, আমি আবূ রাফি‘র মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করছি। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, এরপর আমি উঠে চলতে লাগলাম। এ সময় আমার কোন ব্যথাই ছিল না। আমার সাথীরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছার আগেই আমি তাদেরকে পেয়ে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার মৃত্যুর সুসংবাদ দিলাম।[1] [৩০২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪২)
নোট: [1] দেশের মুসলিম শাসকের অনুমতি ছাড়া এরূপ গেরিলা হত্যা বৈধ নয়- এটাই হাদীসটি হতে প্রমাণিত হলো।
হাদিস নং: ৪০৪১
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا عبد الوهاب حدثنا خالد عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يوم احد هذا جبريل اخذ براس فرسه عليه اداة الحرب.
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِيْنَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ وَاللهُ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ) وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ(وَلَا تَهِنُوْا وَلَا تَحْزَنُوْا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ (139) إِنْ يَّمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُه” ط وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ ج وَلِيَعْلَمَ اللهُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ط وَاللهُ لَا يُحِبُّ الظّٰلِمِيْنَ لا (140) وَلِيُمَحِّصَ اللهُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَيَمْحَقَ الْكٰفِرِيْنَ (141) أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللهُ الَّذِيْنَ جٰهَدُوْا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصّٰبِرِيْنَ (142) وَلَقَدْ كُنْتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَلْقَوْهُ ص فَقَدْ رَأَيْتُمُوْهُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ ع (143)) وَقَوْلِهِ (وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللهُ وَعْدَه”ٓ إِذْ تَحُسُّوْنَهُمْ بِإِذْنِهٰ ج حَتّٰىٓ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُمْ مِّنْم بَعْدِ مَآ أَرَاكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَ ط مِنْكُمْ مَّنْ يُّرِيْدُ الدُّنْيَا وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرِيْدُ الْاٰخِرَةَ ج ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ج وَلَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ ط وَاللهُ ذُوْ فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ (152)) وَقَوْلِهِ (وَلَا تَحْسِبَنَّ الَّذِيْنَ قُتِلُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ أَمْوَاتًا) الْآيَةَ
মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘[হে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম!] আর স্মরণ কর, যখন তুমি তোমার পরিজনদের নিকট হতে ভোরবেলায় বের হয়ে মুমিনদের যুদ্ধের জন্য ঘাঁটিতে বিন্যস্ত করছিলেন, আর আল্লাহ তা‘আলা তো সব শোনেন, সব জানেন’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১২১)। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর তোমরা সাহস হারিয়ো না এবং দুঃখও কর না, তোমরাই পরিণামে বিজয়ী হবে, যদি তোমরা প্রকৃত মু’মিন হও। যদি তোমাদের আঘাত লেগে থাকে তবে অনুরূপ আঘাত তো তাদেরও লেগেছিল। আর এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মাঝে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত করি। যাতে আল্লাহ জানতে পারেন কারা ঈমান এনেছে এবং যাতে তিনি তোমাদের মধ্য থেকে কতককে শাহীদরূপে গ্রহণ করতে পারেন। আল্লাহ যালিমদের ভালবাসেন না। এবং যাতে আল্লাহ নির্মল করতে পারেন মুমিনদের আর নিপাত করতে পারেন কাফিরদের। তোমরা কি ধারণা কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনও আল্লাহ প্রকাশ করেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্যশীল? আর তোমরা তো মরণ কামনা করতে মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার পূর্বেই। এখন তো তোমরা তা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছ’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৩৯-১৪৩)। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি তোমাদের সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছেন যখন তোমরা কাফিরদের খতম করছিলে তাঁরই আদেশে। তারপর তোমরা সাহস হারিয়ে ফেললে এবং পরস্পর মতবিরোধ করলে নির্দেশ পালনে, আর যা তোমরা ভালবাস তা তোমাদের দেখাবার পরও তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের মাঝে কতক এরূপ ছিল যারা কামনা করছিল দুনিয়া এবং কতক কামনা করছিল আখিরাত। তারপর পরীক্ষা করার জন্য তিনি তাদের থেকে তোমাদের ফিরিয়ে দিলেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহ তো মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৫২)। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তোমরা কখনও তাদের মৃত ধারণা কর না। বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত এবং জীবিকাপ্রাপ্ত’’- (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/১৬৯)।
৪০৪১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহূদের দিন [1] বলেছেন, এই তো জিবরীল, তাঁর ঘোড়ার মস্তকে হাত রেখে আছেন; তাঁর পরিধানে আছে যুদ্ধাস্ত্র। [৩৯৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৩)
মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘[হে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম!] আর স্মরণ কর, যখন তুমি তোমার পরিজনদের নিকট হতে ভোরবেলায় বের হয়ে মুমিনদের যুদ্ধের জন্য ঘাঁটিতে বিন্যস্ত করছিলেন, আর আল্লাহ তা‘আলা তো সব শোনেন, সব জানেন’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১২১)। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর তোমরা সাহস হারিয়ো না এবং দুঃখও কর না, তোমরাই পরিণামে বিজয়ী হবে, যদি তোমরা প্রকৃত মু’মিন হও। যদি তোমাদের আঘাত লেগে থাকে তবে অনুরূপ আঘাত তো তাদেরও লেগেছিল। আর এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মাঝে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত করি। যাতে আল্লাহ জানতে পারেন কারা ঈমান এনেছে এবং যাতে তিনি তোমাদের মধ্য থেকে কতককে শাহীদরূপে গ্রহণ করতে পারেন। আল্লাহ যালিমদের ভালবাসেন না। এবং যাতে আল্লাহ নির্মল করতে পারেন মুমিনদের আর নিপাত করতে পারেন কাফিরদের। তোমরা কি ধারণা কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনও আল্লাহ প্রকাশ করেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্যশীল? আর তোমরা তো মরণ কামনা করতে মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার পূর্বেই। এখন তো তোমরা তা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছ’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৩৯-১৪৩)। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি তোমাদের সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছেন যখন তোমরা কাফিরদের খতম করছিলে তাঁরই আদেশে। তারপর তোমরা সাহস হারিয়ে ফেললে এবং পরস্পর মতবিরোধ করলে নির্দেশ পালনে, আর যা তোমরা ভালবাস তা তোমাদের দেখাবার পরও তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের মাঝে কতক এরূপ ছিল যারা কামনা করছিল দুনিয়া এবং কতক কামনা করছিল আখিরাত। তারপর পরীক্ষা করার জন্য তিনি তাদের থেকে তোমাদের ফিরিয়ে দিলেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহ তো মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৫২)। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তোমরা কখনও তাদের মৃত ধারণা কর না। বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত এবং জীবিকাপ্রাপ্ত’’- (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/১৬৯)।
৪০৪১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহূদের দিন [1] বলেছেন, এই তো জিবরীল, তাঁর ঘোড়ার মস্তকে হাত রেখে আছেন; তাঁর পরিধানে আছে যুদ্ধাস্ত্র। [৩৯৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৩)
নোট: [1] ইবনু হাজার আসকালানী অত্র হাদীসটির ব্যাপারে স্বীয় ফতহুল বারীতে লিখেছেনঃ
وقع في رواية أبي الوقت والأصيلي هنا قبل حديث عقبة بن عامر حديث ابن عباس " قال النبي صلى الله عليه وسلم يوم أحد : هذا جبريل آخذ برأس فرسه " الحديث , وهو وهم من وجهين : أحدهما : أن هذا الحديث تقدم بسنده ومتنه في " باب شهود الملائكة بدرا " ولهذا لم يذكره هنا أبو ذر ولا غيره من متقني رواة البخاري , ولا استخرجه الإسماعيلي ولا أبو نعيم ثانيهما . أن المعروف في هذا المتن يوم بدر كما تقدم لا يوم أحد , والله المستعان .
আবূল ওয়াক্ত ও আসীলির বর্ণনাতে সেখানে ‘উকবাহ বিন ‘আমিরের পূর্বে ইবনু ‘আববাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহূদ যুদ্ধে বলেছিলেনঃ সেহেতু তার মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত কথাটি বাদরের দিন বলেছিলেন। এই তো জিবরীল, তাঁর ঘোড়ার মস্তকে হাত রেখে আছেন। .............হাদীসের শেষ পর্যন্ত। হাদীসটিতে দুটি কারণে ভুল পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রথমতঃ হাদীসটি সানাদ ও মতন সহ باب شهود الملائكة بدرا অধ্যায়ে অতিবাহিত হয়েছে। ফলে এখানে আবূ যর ও বুখারীর অন্য কোন গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের কেউই এটি উল্লেখ করেননি। ইমাম ইসমা‘ঈলী ও আবূ না‘ঈম কেউই এটিকে বর্ণনা করেননি। দ্বিতীয়তঃ এটা প্রসিদ্ধ যে, অত্র হাদীসের মতনে বাদর যুদ্ধের বর্ণনাটিই অধিক পরিচিত, উহূদ যুদ্ধ নয়। আল্লাহ সাহায্যকারী।
وقع في رواية أبي الوقت والأصيلي هنا قبل حديث عقبة بن عامر حديث ابن عباس " قال النبي صلى الله عليه وسلم يوم أحد : هذا جبريل آخذ برأس فرسه " الحديث , وهو وهم من وجهين : أحدهما : أن هذا الحديث تقدم بسنده ومتنه في " باب شهود الملائكة بدرا " ولهذا لم يذكره هنا أبو ذر ولا غيره من متقني رواة البخاري , ولا استخرجه الإسماعيلي ولا أبو نعيم ثانيهما . أن المعروف في هذا المتن يوم بدر كما تقدم لا يوم أحد , والله المستعان .
আবূল ওয়াক্ত ও আসীলির বর্ণনাতে সেখানে ‘উকবাহ বিন ‘আমিরের পূর্বে ইবনু ‘আববাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহূদ যুদ্ধে বলেছিলেনঃ সেহেতু তার মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত কথাটি বাদরের দিন বলেছিলেন। এই তো জিবরীল, তাঁর ঘোড়ার মস্তকে হাত রেখে আছেন। .............হাদীসের শেষ পর্যন্ত। হাদীসটিতে দুটি কারণে ভুল পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রথমতঃ হাদীসটি সানাদ ও মতন সহ باب شهود الملائكة بدرا অধ্যায়ে অতিবাহিত হয়েছে। ফলে এখানে আবূ যর ও বুখারীর অন্য কোন গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের কেউই এটি উল্লেখ করেননি। ইমাম ইসমা‘ঈলী ও আবূ না‘ঈম কেউই এটিকে বর্ণনা করেননি। দ্বিতীয়তঃ এটা প্রসিদ্ধ যে, অত্র হাদীসের মতনে বাদর যুদ্ধের বর্ণনাটিই অধিক পরিচিত, উহূদ যুদ্ধ নয়। আল্লাহ সাহায্যকারী।
হাদিস নং: ৪০৪২
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الرحيم اخبرنا زكرياء بن عدي اخبرنا ابن المبارك عن حيوة عن يزيد بن ابي حبيب عن ابي الخير عن عقبة بن عامر قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على قتلى احد بعد ثماني سنين كالمودع للاحياء والاموات ثم طلع المنبر فقال اني بين ايديكم فرط وانا عليكم شهيد وان موعدكم الحوض واني لانظر اليه من مقامي هذا واني لست اخشى عليكم ان تشركوا ولكني اخشى عليكم الدنيا ان تنافسوها قال فكانت اخر نظرة نظرتها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم .
৪০৪২. ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আট বছর পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহূদের শহীদদের জন্য (কবরস্থানে) এমনভাবে দু‘আ করলেন যেমন কোন বিদায় গ্রহণকারী জীবিত ও মৃতদের জন্য দু‘আ করেন। তারপর তিনি (ফিরে এসে) মিম্বারে উঠে বললেন, আমি তোমাদের অগ্রে প্রেরিত এবং আমিই তোমাদের সাক্ষীদাতা। এরপর (কাউসার) হাউযের ধারে তোমাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটবে। আমার এ স্থান থেকেই আমি হাউয দেখতে পাচ্ছি। তোমরা শির্কে জড়িয়ে যাবে আমি এ ভয় করি না। তবে আমার আশঙ্কা হয় যে, তোমরা দুনিয়ায় সুখ-শান্তি লাভে প্রতিযোগিতা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার এ দর্শনই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শেষবারের মতো দর্শন। (১৩৪৪, ৩৫৯৬, ৪০৮৫, ৬৪২৬, ৬৫৯০) [১৩৪৪; মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২২৯৬, আহমাদ ১৭৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৪)
হাদিস নং: ৪০৪৩
সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء رضي الله عنه قال لقينا المشركين يومىذ واجلس النبي صلى الله عليه وسلم جيشا من الرماة وامر عليهم عبد الله وقال لا تبرحوا ان رايتمونا ظهرنا عليهم فلا تبرحوا وان رايتموهم ظهروا علينا فلا تعينونا فلما لقينا هربوا حتى رايت النساء يشتددن في الجبل رفعن عن سوقهن قد بدت خلاخلهن فاخذوا يقولون الغنيمة الغنيمة فقال عبد الله عهد الي النبي صلى الله عليه وسلم ان لا تبرحوا فابوا فلما ابوا صرف وجوههم فاصيب سبعون قتيلا واشرف ابو سفيان فقال افي القوم محمد فقال لا تجيبوه فقال افي القوم ابن ابي قحافة قال لا تجيبوه فقال افي القوم ابن الخطاب فقال ان هولاء قتلوا فلو كانوا احياء لاجابوا فلم يملك عمر نفسه فقال كذبت يا عدو الله ابقى الله عليك ما يخزيك قال ابو سفيان اعل هبل فقال النبي صلى الله عليه وسلم اجيبوه قالوا ما نقول قال قولوا الله اعلى واجل قال ابو سفيان لنا العزى ولا عزى لكم فقال النبي صلى الله عليه وسلم اجيبوه قالوا ما نقول قال قولوا الله مولانا ولا مولى لكم قال ابو سفيان يوم بيوم بدر والحرب سجال وتجدون مثلة لم امر بها ولم تسوني.
৪০৪৩. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহূদ যুদ্ধের দিন আমরা মুখোমুখী অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুল্লাহ [ইবনু যুবায়র (রাঃ)]-কে তীরন্দাজ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করে তাদেরকে (নির্দিষ্ট এক স্থানে) মোতায়েন করলেন এবং বললেন, যদি তোমরা আমাদেরকে দেখ যে, আমরা তাদের উপর বিজয় লাভ করেছি, তাহলেও তোমরা এখান থেকে নড়বে না। আর যদি তোমরা তাদেরকে দেখ যে, তারা আমাদের উপর বিজয় লাভ করেছে, তবুও তোমরা এই স্থান ত্যাগ করে আমাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে না। এরপর আমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করলে তারা পালাতে আরম্ভ করল। এমনকি আমরা দেখতে পেলাম যে, মহিলারা দ্রুত দৌড়ে পর্বতে আশ্রয় নিচ্ছে। তারা পায়ের গোছা থেকে কাপড় টেনে তুলেছে, ফলে পায়ের অলঙ্কারগুলো পর্যন্ত বেরিয়ে পড়ছে। এ সময় তারা (তীরন্দাজরা) বলতে লাগলেন, গানীমাত-গানীমাত! তখন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তোমরা যাতে এ স্থান ত্যাগ না কর এ ব্যাপার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারা অগ্রাহ্য করল। যখন তারা অগ্রাহ্য করল, তখন তাদের মুখ ফিরিয়ে দেয়া হলো এবং তাদের সত্তর জন শাহীদ হলেন। আবূ সুফ্ইয়ান একটি উঁচু স্থানে উঠে বলল, কাওমের মধ্যে মুহাম্মাদ জীবিত আছে কি? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার কোন উত্তর দিও না। সে আবার বলল, কাওমের মধ্যে ইবনু আবূ কুহাফা জীবিত আছে কি? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার কোন জবাব দিও না। সে আবার বলল, কাওমের মধ্যে ইবনুল খাত্তাব বেঁচে আছে কি? তারপর সে বলল, এরা সকলেই নিহত হয়েছে। বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই জবাব দিত। এ সময় ‘উমার (রাঃ) নিজেকে সামলাতে না পেরে বললেন, হে আল্লাহর দুশমন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ। যে জিনিসে তোমাকে অপমানিত করবে আল্লাহ তা বাকী রেখেছেন। আবূ সুফ্ইয়ান বলল, হুবালের জয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা তার উত্তর দাও। তারা বললেন, আমরা কী বলব? তিনি বললেন, তোমরা বল, আল্লাহ সমুন্নত ও মহান। আবূ সুফ্ইয়ান বলল, আমাদের উয্যা আছে, তোমাদের উয্যা নেই। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার জবাব দাও। তারা বললেন, আমরা কী জবাব দেব? তিনি বললেন, বল- আল্লাহ আমাদের অভিভাবক, তোমাদের তো কোন অভিভাবক নেই। শেষে আবূ সুফ্ইয়ান বলল, আজ বদর যুদ্ধের বিনিময়ের দিন। যুদ্ধ কূপ থেকে পানি উঠানোর পাত্রের মতো (অর্থাৎ একবার এ হাতে আরেকবার ও হাতে) তোমরা নাক-কান কাটা কিছু লাশ দেখতে পাবে। আমি এরূপ করতে নির্দেশ দেইনি। অবশ্য তাতে আমি নাখোশও নই। [৩০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৫)
হাদিস নং: ৪০৪৪
সহিহ (Sahih)
اخبرني عبد الله بن محمد حدثنا سفيان عن عمرو عن جابر قال اصطبح الخمر يوم احد ناس ثم قتلوا شهداء.
৪০৪৪. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহূদ যুদ্ধের দিন কতক সাহাবী সকাল বেলা মদ পান করেছিলেন।[1] অতঃপর তাঁরা শাহাদাত লাভ করেন। [২৮১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই)
নোট: [1] তখন পর্যন্ত মদ পান করা হারাম হয়নি।
হাদিস নং: ৪০৪৫
সহিহ (Sahih)
عبدان حدثنا عبد الله اخبرنا شعبة عن سعد بن ابراهيم عن ابيه ابراهيم ان عبد الرحمن بن عوف اتي بطعام وكان صاىما فقال قتل مصعب بن عمير وهو خير مني كفن في بردة ان غطي راسه بدت رجلاه وان غطي رجلاه بدا راسه واراه قال وقتل حمزة وهو خير مني ثم بسط لنا من الدنيا ما بسط او قال اعطينا من الدنيا ما اعطينا وقد خشينا ان تكون حسناتنا عجلت لنا ثم جعل يبكي حتى ترك الطعام.
৪০৪৫. সা‘দ ইবনু ইবরাহীমের পিতা ইবরাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুর রহমান ইবন ‘আওফ (রাঃ)-এর নিকট কিছু খানা আনা হল। তিনি তখন সায়েম ছিলেন। তিনি বললেন, মুস‘আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) ছিলেন আমার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। তাঁকে এমন একটি চাদরে কাফন দেয়া হয়েছিল যে, তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, হামযাহ (রাঃ) আমার চেয়েও উত্তম লোক ছিলেন। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। এরপর দুনিয়াতে আমাদেরকে অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া হয়েছে অথবা বলেছেন যথেষ্ট পরিমাণে দুনিয়ার ধন-মাল দেয়া হয়েছে। আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো আমাদের নেকীর বদলা এখানেই দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাদ্য পরিহার করলেন। [১২৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৬)
হাদিস নং: ৪০৪৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا سفيان عن عمرو سمع جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال قال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم يوم احد ارايت ان قتلت فاين انا قال في الجنة فالقى تمرات في يده ثم قاتل حتى قتل.
৪০৪৬. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি উহূদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমি যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে আমি কোথায় থাকব বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেন, জান্নাতে। তখন ঐ ব্যক্তি হাতের খেজুরগুলো ছুঁড়ে ফেললেন, এরপর তিনি লড়াই করলেন, এমনকি শহীদ হয়ে গেলেন। [মুসলিম ৩৩/৪১, হাঃ ১৮৯৯, আহমাদ ১৪৩১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৭)
হাদিস নং: ৪০৪৭
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا زهير حدثنا الاعمش عن شقيق عن خباب بن الارت رضي الله عنه قال هاجرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم نبتغي وجه الله فوجب اجرنا على الله ومنا من مضى او ذهب لم ياكل من اجره شيىا كان منهم مصعب بن عمير قتل يوم احد لم يترك الا نمرة كنا اذا غطينا بها راسه خرجت رجلاه واذا غطي بها رجلاه خرج راسه فقال لنا النبي صلى الله عليه وسلم غطوا بها راسه واجعلوا على رجله الاذخر او قال القوا على رجله من الاذخر ومنا من قد اينعت له ثمرته فهو يهدبها.
৪০৪৭. খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হিজরত করেছিলাম। ফলে আল্লাহর কাছে আমাদের পুরস্কার লিখিত হয়ে গেছে। আমাদের কতক দুনিয়াতে কোন পুরস্কার ভোগ না করেই অতীত হয়ে গেছেন এবং চলে গেছেন। মাস‘আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) তাদের একজন। তিনি উহূদ যুদ্ধে শাহাদাত লাভ করেন। তিনি একটি পাড় বিশিষ্ট পশমী বস্ত্র ব্যতীত আর কিছুই রেখে যাননি। এ দিয়ে আমরা তার মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত এবং পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কাপড় দিয়ে তার মাথা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর দাও ইযখির অথবা তিনি বলেছেন, ইযখির দ্বারা তার পা ঢেকে দাও। আমাদের কতক এমনও আছেন, যাদের ফল পেকেছে এবং তিনি এখন তা সংগ্রহ করছেন। [১২৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৮)
হাদিস নং: ৪০৪৮
সহিহ (Sahih)
اخبرنا حسان بن حسان حدثنا محمد بن طلحة حدثنا حميد عن انس رضي الله عنه ان عمه غاب عن بدر فقال غبت عن اول قتال النبي صلى الله عليه وسلم لىن اشهدني الله مع النبي صلى الله عليه وسلم ليرين الله ما اجد فلقي يوم احد فهزم الناس فقال اللهم اني اعتذر اليك مما صنع هولاء يعني المسلمين وابرا اليك مما جاء به المشركون فتقدم بسيفه فلقي سعد بن معاذ فقال اين يا سعد اني اجد ريح الجنة دون احد فمضى فقتل فما عرف حتى عرفته اخته بشامة او ببنانه وبه بضع وثمانون من طعنة وضربة ورمية بسهم.
৪০৪৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তাঁর চাচা [আনাস ইবনু নযর (রাঃ)] বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি [আনাস ইবনু নযর (রাঃ)] বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বপ্রথম যুদ্ধে তাঁর সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। যদি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোন যুদ্ধে শারীক করেন তাহলে অবশ্যই আল্লাহ দেখবেন, আমি কত প্রাণপণে লড়াই করি। এরপর তিনি উহূদ যুদ্ধের দিন সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার পর লোকেরা পরাজিত হলে তিনি বললেন, হে আল্লাহ! এ সব লোক অর্থাৎ মুসলিমগণ যা করলেন, আমি এর জন্য আপনার নিকট ওযর পেশ করছি এবং মুশরিকগণ যা করল তা থেকে আমি আমার সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করছি। এরপর তিনি তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে গেলেন। এ সময় সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি বললেন, তুমি কোথায় যাচ্ছ হে সা‘দ? আমি উহূদের অপর প্রান্ত হতে জান্নাতের খোশবু পাচ্ছি। এরপর তিনি যুদ্ধ করে শাহাদাত লাভ করলেন। তাঁকে চেনা যাচ্ছিল না। অবশেষে তাঁর বোন তাঁর শরীরের একটি তিল অথবা আঙ্গুলের মাথা দেখে তাঁকে চিনলেন। তাঁর শরীরে আশিটিরও বেশী বর্শা, তরবারি ও তীরের আঘাত ছিল। [২৮০৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৯)