অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৪/১. ‘উশায়রাহ বা ‘উসাইরাহর যুদ্ধ।
মোট ৫২৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪১০৯ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن ابي اسحاق عن سليمان بن صرد قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يوم الاحزاب نغزوهم ولا يغزوننا.
৪১০৯. সুলাইমান ইবনু সুরাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এখন আমরাই তাদেরকে আক্রমণ করব, তারা আমাদের প্রতি আক্রমণ করতে পারবে না। [৪১১০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮০৬)
হাদিস নং: ৪১১০ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا يحيى بن ادم حدثنا اسراىيل سمعت ابا اسحاق يقول سمعت سليمان بن صرد يقول سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول حين اجلى الاحزاب عنه الان نغزوهم ولا يغزوننا نحن نسير اليهم.
৪১১০. সুলাইমান ইবনু সুরাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন কাফিরদের সম্মিলিত বাহিনী মদিনা ছেড়ে যেতে বাধ্য হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, এখন থেকে আমরাই তাদেরকে আক্রমণ করব। তারা আমাদেরকে আক্রমণ করতে পারবে না। আর আমরা তাদের এলাকায় গিয়ে আক্রমণ চালাব। [৪১০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮০৭)
হাদিস নং: ৪১১১ সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا روح حدثنا هشام عن محمد عن عبيدة عن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال يوم الخندق ملا الله عليهم بيوتهم وقبورهم نارا كما شغلونا عن صلاة الوسطى حتى غابت الشمس.
৪১১১. ‘আলী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, তিনি খন্দকের যুদ্ধের দিন বদদু‘আ করে বলেছিলেন, আল্লাহ তাদের ঘরবাড়ি ও কবর আগুন দ্বারা ভরে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাতের সময় ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে। [২৯৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮০৮)
হাদিস নং: ৪১১২ সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم حدثنا هشام عن يحيى عن ابي سلمة عن جابر بن عبد الله ان عمر بن الخطاب رضي الله عنه جاء يوم الخندق بعد ما غربت الشمس جعل يسب كفار قريش وقال يا رسول الله ما كدت ان اصلي حتى كادت الشمس ان تغرب قال النبي صلى الله عليه وسلم والله ما صليتها فنزلنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بطحان فتوضا للصلاة وتوضانا لها فصلى العصر بعدما غربت الشمس ثم صلى بعدها المغرب.
৪১১২. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, খন্দকের দিন সূর্যাস্তের পর ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এসে কুরায়শ কাফিরদের গালি দিতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সূর্যাস্তের পূর্বে আমি সালাত আদায় করতে পারিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ! আমিও আজ এ সালাত আদায় করতে পারিনি। [বর্ণনাকারী বলেন] অতঃপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বুতহান উপত্যকায় গেলাম। তিনি সালাতের জন্য ‘উযূ করলেন। আমরাও সালাতের ‘উযূ করলাম। তিনি সূর্যাস্তের পর আসরের সালাত আদায় করলেন তারপরে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। [৫৯৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮০৯)
হাদিস নং: ৪১১৩ সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن ابن المنكدر قال سمعت جابرا يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الاحزاب من ياتينا بخبر القوم فقال الزبير انا ثم قال من ياتينا بخبر القوم فقال الزبير انا ثم قال من ياتينا بخبر القوم فقال الزبير انا ثم قال ان لكل نبي حواري وان حواري الزبير.
৪১১৩. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুরায়শ কাফিরদের খবর আমাদের নিকট কে এনে দিতে পারবে? যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, কুরায়শদের খবর আমাদের নিকট কে এনে দিতে পারবে? তখনও যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি পুনরায় বললেন, কুরায়শদের সংবাদ আমাদের নিকট কে এনে দিতে পারবে? এবারও যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক নবীরই হাওয়ারী (বিশেষ সাহায্যকারী) ছিল। আমার হাওয়ারী হল যুবায়র। [২৮৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১০)
হাদিস নং: ৪১১৪ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا الليث عن سعيد بن ابي سعيد عن ابيه عن ابي هريرة رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول لا اله الا الله وحده اعز جنده ونصر عبده وغلب الاحزاب وحده فلا شيء بعده.
৪১১৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খন্দকের যুদ্ধের সময়) বলতেন, এক আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার অর্থে কোন ইলাহ নেই। তিনিই তাঁর বাহিনীকে মর্যাদাবান করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাভূত করেছেন। এরপর শত্রু ভয় বলতে আর কিছুই থাকল না। [মুসলিম ৪৮/১৮, হাঃ ২৭২৪, আহমাদ ১০৪১১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১১)
হাদিস নং: ৪১১৫ সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا الفزاري وعبدة عن اسماعيل بن ابي خالد قال سمعت عبد الله بن ابي اوفى رضي الله عنهما يقول دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم على الاحزاب فقال اللهم منزل الكتاب سريع الحساب اهزم الاحزاب اللهم اهزمهم وزلزلهم.
৪১১৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি  বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে দু‘আ করে বলেছেন, হে কিতাব অবতীর্ণকারী ও তৎপর হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ! আপনি সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করুন। হে আল্লাহ! তাদেরকে পরাজিত এবং তাদেরকে প্রকম্পিত করুন। [২৯৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১২)
হাদিস নং: ৪১১৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله اخبرنا موسى بن عقبة عن سالم ونافع عن عبد الله رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا قفل من الغزو او الحج او العمرة يبدا فيكبر ثلاث مرار ثم يقول لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير ايبون تاىبون عابدون ساجدون لربنا حامدون صدق الله وعده ونصر عبده وهزم الاحزاب وحده.
৪১১৬. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ, হাজ্জ বা ‘উমরাহ্ থেকে ফিরে আসতেন তখন প্রথমে তিনবার তাকবীর বলতেন। এরপর বলতেন, সত্যিকার অর্থে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শারীক নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। সব বিষয়ে তিনিই সর্বশক্তিমান। আমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী, তওবা্কারী, তাঁরই ‘ইবাদাতকারী। আমরা আমাদের প্রভুর কাছে সিজদা্কারী, তাঁরই প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাভূত করেছেন। [১৭৯৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১৩)
হাদিস নং: ৪১১৭ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي شيبة حدثنا ابن نمير عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت لما رجع النبي صلى الله عليه وسلم من الخندق ووضع السلاح واغتسل اتاه جبريل عليه السلام فقال قد وضعت السلاح والله ما وضعناه فاخرج اليهم قال فالى اين قال ها هنا واشار الى بني قريظة فخرج النبي صلى الله عليه وسلم اليهم.
৪১১৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দক যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে অস্ত্র রেখে গোসল করেছেন। এমনি মুহূর্তে তাঁর কাছে জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আমরা তা খুলিনি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে চলুন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যেতে হবে? তিনি বনূ কুরাইযাহর প্রতি ইশারা করে বললেন, ঐ দিকে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে বেরিয়ে পড়লেন। [৪৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১৪)
হাদিস নং: ৪১১৮ সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا جرير بن حازم عن حميد بن هلال عن انس رضي الله عنه قال كاني انظر الى الغبار ساطعا في زقاق بني غنم موكب جبريل صلوات الله عليه حين سار رسول الله صلى الله عليه وسلم الى بني قريظة.
৪১১৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনূ গান্ম গোত্রের গলিতে জিবরীল বাহিনীর গমনে উত্থিত ধূলারাশি এখনো দেখতে পাচ্ছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বানু কুরাইযার দিকে যাচ্ছিলেন। [৩২১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১৫)
হাদিস নং: ৪১১৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد بن اسماء حدثنا جويرية بن اسماء عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يوم الاحزاب لا يصلين احد العصر الا في بني قريظة فادرك بعضهم العصر في الطريق فقال بعضهم لا نصلي حتى ناتيها وقال بعضهم بل نصلي لم يرد منا ذلك فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فلم يعنف واحدا منهم.
৪১১৯. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধের দিন (যুদ্ধ শেষে) বললেন, বনূ কুরাইযায় না পৌঁছে কেউ ‘আসরের সালাত আদায় করবে না।[1] তাদের একাংশের পথিমধ্যে আসরের সালাতের সময় হয়ে গেলে কেউ কেউ বললেন, আমরা সেখানে পৌঁছার আগে সালাত আদায় করব না। আবার কেউ কেউ বললেন, আমরা এখনই সালাত আদায় করব, সময় হলেও রাস্তায় সালাত আদায় করা যাবে না উদ্দেশ্য তা নয়। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলা হলে তিনি তাদের কোন দলের প্রতিই অসন্তুষ্টি ব্যক্ত করেননি। [৯৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১৬)
নোট: [1] বনূ কুরাইযাহর বিশ্বাসঘাতকার কারণে আহযাব যুদ্ধের দিন যুদ্ধ শেষে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ মতে মুসলিম বাহিনী বনূ কুরাইয়া রওয়ানা হন। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরইযাহ্কে তাদের কৃতকর্মের কারণ দর্শানোর জন্য ডেকে পাঠান। কিন্তু বনূ কুরাইযাহ তখন দূর্গদ্বার বন্ধ করে দেয় এবং যুদ্ধের পুরোপুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এ সময় মুসলিমগণ জানতে পারেন যে, বনূ নাযীরের নেতা হুইয়াই ইবনু আখতাব যে বনূ কুরাইযাহ্কে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে এসেছিল সেও দূর্গের মধ্যে বিদ্যমান। বনূ কুরাইযাহ্র বিশ্বাসঘাতকার এটাই প্রথম ঘটনা ছিল না। বাদর যুদ্ধেও এরা কুরায়শদেরকে অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সাহায্য করলেও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তারা দূর্গ বন্ধ করে দেয়ায় বাধ্য হয়েই মুসলিমদেরকে যুদ্ধ করতে হয়েছি। যিলহাজ্জ মাসে তাদের দূর্গ অবরোধ করা হয়েছিল যা পঁচিশ দিন স্থায়ী ছিল। এ অবরোধের ফলে তারা কঠিন সংকটে পতিত হয়। ফলে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্মত করে নিল যে, তাউস গোত্রের সা‘আদ ইবনু মু‘আযকে বিচারক বানিয়ে দেয়া হোক। এবং তিনি যে মীমাংসা দিবেন সেটাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও মেনে নিবেন। হয়ত তারা এটা ভেবেছিল যে, যেহেতু তাউস গোত্রের মুসলিমদের সাথে তাদের পূর্বে বন্ধুত্ব ছিল তাই তারা মনে করলো যে, নিশ্চয়ই তারা তাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা হালকা শাস্তি দিবে। আল্লাহই ভাল জানেন। কিন্তু সব দিক বিচার বিশ্লেষণ করে তিনি যে ফায়সালা দিলেন তা হলোঃ (১) বনূ কুরাইযাহর পুরুষ যোদ্ধাদের হত্যা করা হবে। (২) মহিলা ও শিশুদেরকে দাস-দাসী বানিয়ে নেয়া হবে। (৩) ধন-সম্পদ বন্টন করে নেয়া হবে। কিন্তু আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) যে বর্ণনা করেছেন তাতে তাদের মহিলা ও শিশুদেরকে দাস দাসী বানিয়ে নেয়ার কথা উল্লেখ নেই।

তাদের নিজেদের মনোনীত ও নির্বাচিত বিচারক ঠিক ঐ ফায়সালাই দিলেন যা ইয়াহূদীরা তাদের শত্রুদেরকে দিয়ে থাকতো, যা তাদের শরী‘আতে আছে। (উর্দু তরজমা কাদীম হিন্দুস্তান কী তাহযীব)

এ ব্যাপারে যথেষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান আছে যে, যদি বনূ কুরাইযা তাদের ব্যাপারটা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অর্পণ করতো তাহলে তাদেরকে তিনি বড়জোর এ শাস্তি দিতেন যে, তাদেরকে বলতেনঃ ‘‘যাও তোমরা খায়বারে গিয়ে বসতি স্থাপন কর।’’ যেমনটি করেছিলেন বনূ কাইনুক ও বনূ নাযীরের ব্যাপারে। কেননা এরূপ ফায়সালার পরও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ কুরায়যার কয়েকজনের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে ভিন্ন ফায়সালা কার্যকর করেছিলেন। যেমন ইয়াহূদী যুবায়রের জন্য নির্দেশ ছিল যে, তার স্ত্রী-পুত্র, পরিবার ও ধনমাল সহ মুক্ত করে দেয়া হোক। অনুরূপ রিফা‘আহজ ইবনু শামূঈল নামক ইয়াহূদীকেও তিনি রেহাই দিয়েছিলেন। (তারীখে তাবারী ৫৭ ও ৫৮ পৃষ্ঠা)
হাদিস নং: ৪১২০ সহিহ (Sahih)
ابن ابي الاسود حدثنا معتمر ح و حدثني خليفة حدثنا معتمر قال سمعت ابي عن انس رضي الله عنه قال كان الرجل يجعل للنبي صلى الله عليه وسلم النخلات حتى افتتح قريظة والنضير وان اهلي امروني ان اتي النبي صلى الله عليه وسلم فاساله الذي كانوا اعطوه او بعضه وكان النبي صلى الله عليه وسلم قد اعطاه ام ايمن فجاءت ام ايمن فجعلت الثوب في عنقي تقول كلا والذي لا اله الا هو لا يعطيكهم وقد اعطانيها او كما قالت والنبي صلى الله عليه وسلم يقول لك كذا وتقول كلا والله حتى اعطاها حسبت انه قال عشرة امثاله او كما قال.
৪১২০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খেজুর গাছ হাদিয়া দিতেন। অতঃপর যখন তিনি বানু নাযীর এবং বানু কুরাইযাহর উপর জয়লাভ করলেন তখন আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে নির্দেশ দিল, যেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাদের দেয়া সবগুলো খেজুর গাছ অথবা কিছু সংখ্যক খেজুর গাছ তাঁর নিকট থেকে ফেরত গ্রহণের ব্যাপারে নিবেদন করি। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ গাছগুলো উম্মু আইমান (রাঃ)-কে দান করেছিলেন। উম্মু আইমান (রাঃ) আসলেন এবং আমার গলায় কাপড় লাগিয়ে বললেন, এটা কক্ষনো হতে পারে না। সেই আল্লাহর কসম! যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি ঐ গাছগুলো তোমাকে আর দেবেন না। তিনি এগুলো আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) যেমন তিনি বলেছেন। এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, তুমি ঐ গাছগুলোর বদলে আমার নিকট থেকে এত এত পাবে। কিন্তু উম্মু আইমান (রাঃ) বলছিলেন, আল্লাহর কসম! এটা কক্ষনো হতে পারে না। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দিলেন। বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর দশগুণ অথবা যেমন তিনি বলেছেন। [২৬৩০; মুসলিম ৩২/২৪, হাঃ ১৭৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১৭)
হাদিস নং: ৪১২১ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن سعد قال سمعت ابا امامة قال سمعت ابا سعيد الخدري رضي الله عنه يقول نزل اهل قريظة على حكم سعد بن معاذ فارسل النبي صلى الله عليه وسلم الى سعد فاتى على حمار فلما دنا من المسجد قال للانصار قوموا الى سيدكم او خيركم فقال هولاء نزلوا على حكمك فقال تقتل مقاتلتهم وتسبي ذراريهم قال قضيت بحكم الله وربما قال بحكم الملك.
৪১২১. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)-এর বিচার মতে বানী কুরাইযাহ গোত্রের লোকেরা দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘দকে আনার জন্য লোক পাঠালেন। তিনি গাধায় চড়ে আসলেন। তিনি মসজিদে নাবাবীর নিকটবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তোমাদের নেতা বা সর্বোত্তম লোককে স্বাগত জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে যাও। (অতঃপর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরা তোমার ফায়সালা মেনে নিয়ে দূর্গ থেকে নিচে নেমে এসেছে। তখন তিনি বললেন, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হবে এবং তাদের সন্তাদেরকে বন্দী করা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে সা‘দ! তুমি আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে ফায়সালা দিয়েছ। কোন কোন সময় তিনি বলেছেন, তুমি সকল রাজার রাজা আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক ফায়সালা করেছ। [৩০৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১৮)
হাদিস নং: ৪১২২ সহিহ (Sahih)
زكرياء بن يحيى حدثنا عبد الله بن نمير حدثنا هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت اصيب سعد يوم الخندق رماه رجل من قريش يقال له حبان بن العرقة وهو حبان بن قيس من بني معيص بن عامر بن لوي رماه في الاكحل فضرب النبي صلى الله عليه وسلم خيمة في المسجد ليعوده من قريب فلما رجع رسول الله صلى الله عليه وسلم من الخندق وضع السلاح واغتسل فاتاه جبريل عليه السلام وهو ينفض راسه من الغبار فقال قد وضعت السلاح والله ما وضعته اخرج اليهم قال النبي صلى الله عليه وسلم فاين فاشار الى بني قريظة فاتاهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فنزلوا على حكمه فرد الحكم الى سعد قال فاني احكم فيهم ان تقتل المقاتلة وان تسبى النساء والذرية وان تقسم اموالهم قال هشام فاخبرني ابي عن عاىشة ان سعدا قال اللهم انك تعلم انه ليس احد احب الي ان اجاهدهم فيك من قوم كذبوا رسولك واخرجوه اللهم فاني اظن انك قد وضعت الحرب بيننا وبينهم فان كان بقي من حرب قريش شيء فابقني له حتى اجاهدهم فيك وان كنت وضعت الحرب فافجرها واجعل موتتي فيها فانفجرت من لبته فلم يرعهم وفي المسجد خيمة من بني غفار الا الدم يسيل اليهم فقالوا يا اهل الخيمة ما هذا الذي ياتينا من قبلكم فاذا سعد يغذو جرحه دما فمات منها رضي الله عنه.
৪১২২. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধে সা‘দ (রাঃ) আহত হয়েছিলেন। কুরাইশ গোত্রের হিববান ইবনু আরেকা নামক এক ব্যক্তি তাঁর উভয় বাহুর মধ্যবর্তী রগে তীর বিদ্ধ করেছিল। নিকট থেকে তার সেবা করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নাববীতে একটি তাঁবু তৈরি করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে যখন হাতিয়ার রেখে গোসল শেষ করলেন তখন জিব্রীল (আঃ) নিজ মাথার ধূলাবালি ঝাড়তে ঝাড়তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাজির হলেন এবং বললেন, আপনি হাতিয়ার রেখে দিয়েছেন, কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি এখনো তা রেখে দেইনি। চলুন তাদের দিকে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন কোথায়? তিনি বানী কুরাইযা গোত্রের প্রতি ইশারা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরাইযার মহল্লায় এলেন। অবশেষে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফায়সালা মান্য করে দূর্গ থেকে নিচে নেমে এল। কিন্তু তিনি ফয়সালার ভার সা‘দ (রাঃ)-এর উপর ন্যস্ত করলেন। তখন সা‘দ (রাঃ) বললেন, তাদের ব্যাপারে আমি এই ফায়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হবে, নারী ও সন্তানদেরকে বন্দী করা হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ বণ্টন করা হবে। বর্ণনাকারী হিশাম (রহ.) বলেন, আমার পিতা ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, সা‘দ (রাঃ) আল্লাহর কাছে দু‘আ করেছিলেন, হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন, আপনার সন্তুষ্টির জন্য তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চেয়ে কোন কিছুই আমার কাছে অধিক প্রিয় নয়। যে সম্প্রদায় আপনার রাসূলকে মিথ্যাচারী বলেছে এবং দেশ থেকে বের করে দিয়েছে হে আল্লাহ! আমি মনে করি (খন্দক যুদ্ধের পর) আপনি তো আমাদের ও তাদের মধ্যে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। যদি এখনো কুরায়শদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ বাকী থেকে থাকে তাহলে আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন, যাতে আমি আপনার রাস্তায় তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে পারি। আর যদি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়ে থাকেন তাহলে ক্ষত হতে রক্ত প্রবাহিত করুন আর তাতেই আমার মৃত্যু দিন। এরপর তাঁর ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে তা প্রবাহিত হতে লাগল। মসজিদে বানী গিফার গোত্রের একটি তাঁবু ছিল। তাদের দিকে রক্ত প্রবাহিত হতে দেখে তারা বললেন, হে তাঁবুবাসীগণ! আপনাদের দিক থেকে এসব কী আমাদের দিকে আসছে? পরে তাঁরা জানলেন যে, সা‘দ (রাঃ)-এর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ জখমের কারণেই তিনি মারা যান, আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট থাকুন। [৪৬৩; মুসলিম ৩২/২২, হাঃ ১৭৬৯, আহমাদ ২৪৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২০)
হাদিস নং: ৪১২৩ সহিহ (Sahih)
الحجاج بن منهال اخبرنا شعبة قال اخبرني عدي انه سمع البراء رضي الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لحسان اهجهم او هاجهم وجبريل معك
৪১২৩. ‘আদী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বারাআ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান (রাঃ)-কে বলেছেন, কবিতার দ্বারা তাদের (কাফিরদের) দোষত্রুটি বর্ণনা কর অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তাদের দোষত্রুটি বর্ণনা করার জবাব দাও। জিবরীল (আঃ) তোমার সঙ্গে থাকবেন। [৩২১৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২০)
হাদিস নং: ৪১২৪ সহিহ (Sahih)
وزاد ابراهيم بن طهمان عن الشيباني عن عدي بن ثابت عن البراء بن عازب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم قريظة لحسان بن ثابت اهج المشركين فان جبريل معك.
৪১২৪. (অন্য এক সানাদে) ইবরাহীম ইবনু তাহমান (রহ.) ....... বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে অধিক বর্ণনা করে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু কুরাইযাহ’র সঙ্গে যুদ্ধের দিন হাস্সান ইবনু সাবিত [1] (রাঃ)-কে বলেছিলেন (কবিতা আবৃত্তি করে) মুশরিকদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধর। এ ব্যাপারে জিবরীল (আঃ) তোমার সঙ্গী। [৩২১৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২০)
নোট: [1] হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবি বা ইসলামের কবি বলা হতো। কারণ, কাফির কবিরা যেমন আল্লাহর রসূল ও ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা ও বদনাম করতো তেমনি তিনিও কাফিরদেরকে কবিতা ও সাহিত্যের মাধ্যমে তার জবাব দিতেন।
হাদিস নং: ৪১২৫ সহিহ (Sahih)
وقال عبد الله بن رجاء اخبرنا عمران القطان عن يحيى بن ابي كثير عن ابي سلمة عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى باصحابه في الخوف في غزوة السابعة غزوة ذات الرقاع قال ابن عباس صلى النبي صلى الله عليه وسلم الخوف بذي قرد
وَهِيَ غَزْوَةُ مُحَارِبِ خَصَفَةَ مِنْ بَنِيْ ثَعْلَبَةَ مِنْ غَطَفَانَ فَنَزَلَ نَخْلًا وَهِيَ بَعْدَ خَيْبَرَ لِأَنَّ أَبَا مُوْسَى جَاءَ بَعْدَ خَيْبَرَ.

গাতফানের শাখা গোত্র বনু সালাবার অন্তর্ভুক্ত খাসাফার বংশধর মুহারিব গোত্রের সঙ্গে এ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাখলা নামক স্থানে অবতরণ করেছিলেন। খায়বার যুদ্ধের পর এ যুদ্ধ হয়েছিল। কেননা আবূ মূসা (রাঃ) খায়বার যুদ্ধের পর (হাবশা থেকে) এসেছিলেন।


৪১২৫. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তম যুদ্ধ তথা যাতুর রিকার যুদ্ধে তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যূকারাদ[1]-এর যুদ্ধে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। [৪১২৬, ৪১২৭, ৪১৩০, ৪১৩৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)

 
নোট: [1] মদীনাহ’র অনতিদূরে গাতফান এলাকার নিকটস্থ একটি স্থানের নাম।
হাদিস নং: ৪১২৬ সহিহ (Sahih)
وقال بكر بن سوادة حدثني زياد بن نافع عن ابي موسى ان جابرا حدثهم صلى النبي صلى الله عليه وسلم بهم يوم محارب وثعلبة
৪১২৬. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মুহারিব ও সালাবা গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীবর্গকে সঙ্গে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। [৪১২৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৪১২৭ সহিহ (Sahih)
وقال ابن اسحاق سمعت وهب بن كيسان سمعت جابرا خرج النبي صلى الله عليه وسلم الى ذات الرقاع من نخل فلقي جمعا من غطفان فلم يكن قتال واخاف الناس بعضهم بعضا فصلى النبي ركعتي الخوف وقال يزيد عن سلمة غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم يوم القرد.
৪১২৭. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাখলা নামক স্থান থেকে যাতুর রিকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে গাতফান গোত্রের একটি দলের সম্মুখীন হন। কিন্তু সেখানে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। উভয় পক্ষ পরস্পর ভীতি প্রদর্শন করেছিল মাত্র। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাক‘আত সালাতুল খাওফ আদায় করেন। ইয়াযীদ (রহ.) সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করে বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যূকারাদ-এর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। [৪১২৫; মুসলিম ৬/৫৭, হাঃ ৮৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৪১২৮ সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا ابو اسامة عن بريد بن عبد الله بن ابي بردة عن ابي بردة عن ابي موسى رضي الله عنه قال خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة ونحن ستة نفر بيننا بعير نعتقبه فنقبت اقدامنا ونقبت قدماي وسقطت اظفاري وكنا نلف على ارجلنا الخرق فسميت غزوة ذات الرقاع لما كنا نعصب من الخرق على ارجلنا وحدث ابو موسى بهذا ثم كره ذاك قال ما كنت اصنع بان اذكره كانه كره ان يكون شيء من عمله افشاه.
৪১২৮. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন যুদ্ধে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন। আমাদের কাছে ছিল মাত্র একটি উট। পালাক্রমে আমরা এর পিঠে চড়তাম। (হেঁটে হেঁটে) আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল, নখগুলো খসে পড়ল। এ কারণে আমরা পায়ে নেকড়া জড়িয়ে নিলাম। এ জন্য একে যাতুর রিকা‘ যুদ্ধ বলা হয়। কেননা এ যুদ্ধে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া দিয়ে পট্টি বেঁধেছিলাম। আবূ মূসা (রাঃ) উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি এ ঘটনা বর্ণনা করাকে অপছন্দ করেন। তিনি বলেন, আমি এভাবে বর্ণনা করাকে ভাল মনে করি না। সম্ভবত তিনি তার কোন ‘আমল প্রকাশ করাকে অপছন্দ করতেন। [মুসলিম ৩২/৫০, হাঃ ১৮১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২১)
অধ্যায় তালিকা