অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৯১৮
সহিহ (Sahih)
. ابو نعيم حدثنا سفيان عن معبد بن خالد قال سمعت حارثة بن وهب الخزاعي قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول الا اخبركم باهل الجنة كل ضعيف متضعف لو اقسم على الله لابره الا اخبركم باهل النار كل عتل جواظ مستكبر
৪৯১৮. হারিস ইবনু ওয়াহাব খুযাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা দুর্বল এবং অসহায়; কিন্তু তাঁরা যদি কোন ব্যাপারে আল্লাহর নামে কসম করে বসেন, তাহলে তা পূরণ করে দেন। আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা রূঢ় স্বভাব, অধিক মোটা এবং অহংকারী তারাই জাহান্নামী। [৬০৭১, ৬৬৫৭; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৫৩, আহমাদ ১৮৭৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৩)
হাদিস নং: ৪৯১৯
সহিহ (Sahih)
. ادم حدثنا الليث عن خالد بن يزيد عن سعيد بن ابي هلال عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد رضي الله عنه قال سمعت النبي يقول يكشف ربنا عن ساقه فيسجد له كل مومن ومومنة فيبقى كل من كان يسجد في الدنيا رياء وسمعة فيذهب ليسجد فيعود ظهره طبقا واحدا.
৪৯১৯. আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমাদের প্রতিপালক যখন তাঁর পায়ের গোড়ালির জ্যোতি বিকীর্ণ করবেন, তখন ঈমানদার নারী ও পুরুষ সবাই তাকে সাজ্দাহ করবে। কিন্তু যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো ও প্রচারের জন্য সাজ্দাহ করত, তারা কেবল বাকী থাকবে। তারা সিজদা করতে ইচ্ছে করলে তাদের পিঠ একখন্ড কাঠের ন্যায় শক্ত হয়ে যাবে। [২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৪)
হাদিস নং: ৪৯২০
সহিহ (Sahih)
. ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام عن ابن جريج وقال عطاء عن ابن عباس رضي الله عنهما صارت الاوثان التي كانت في قوم نوح في العرب بعد اما ود كانت لكلب بدومة الجندل واما سواع كانت لهذيل واما يغوث فكانت لمراد ثم لبني غطيف بالجوف عند سبا واما يعوق فكانت لهمدان واما نسر فكانت لحمير لال ذي الكلاع اسماء رجال صالحين من قوم نوح فلما هلكوا اوحى الشيطان الى قومهم ان انصبوا الى مجالسهم التي كانوا يجلسون انصابا وسموها باسماىهم ففعلوا فلم تعبد حتى اذا هلك اولىك وتنسخ العلم عبدت
(69) سُوْرَةُ الْحَاقَّةِ
সূরাহ (৬৯) : আল-হাক্কাহ্
(حُسُوْمًا) مُتَتَابُعَةً وَقَالَ ابْنُ جُبَيْرٍ (عِيْشَةٍ رَّاضِيَةٍ) يُرِيْدُ فِيْهَا الرِّضَا (الْقَاضِيَةَ) الْمَوْتَةَ الْأُوْلَى الَّتِيْ مُتُّهَا لَمْ أُحْيَ بَعْدَهَا (مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِيْنَ) أَحَدٌ يَكُوْنُ لِلْجَمْعِ وَلِلْوَاحِدِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الْوَتِيْنَ) نِيَاطُ الْقَلْبِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (طَغٰى)كَثُرَ وَيُقَالُ بِالطَّاغِيَةِ بِطُغْيَانِهِمْ. وَيُقَالُ طَغَتْ عَلَى الْخَزَّانِ كَمَا طَغَى الْمَاءُ عَلَى قَوْمِ نُوْحٍ e. وَغِسْلِيْنٍ : مَا يَسِيْلُ مِنْ صَدِيْدِ أهْلِ النَّارِ. وَقَالَ غَيْرُهُ : (مِنْ غِسْلِنٍ) : كلُّ شَيْءٍ غَسَلْتَهُ فَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ فَهُوَ غَسْلَيْنٌ، فِعْلَيْنٌ مِنَ الغَسْلِ مِنَ الْجَرْحِ وَالدُّبُرِ. (أعْجَارُ نَخْلٍ) : أُصُوْلُهَا. (بَاقِيةٍ) : بِقيّةٍ.
عِيْشَةٍ رَّاضِيَةٍ সন্তোষজনক জীবন। الْقَاضِيَةَ প্রথম মৃত্যুটাই যদি এমন হত যে, তারপর আর জীবিত না করা হত। مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِيْنَ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তাকে রক্ষা করতে পারে। احِدِ শব্দটি একবচন ও বহুবচন উভয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْوَتِيْنَ হৃদপিন্ডের সঙ্গে যুক্ত রগ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, طَغٰى অতিরিক্ত হয়েছে বা বেশি হয়েছে। বলা হয় بِالطَّاغِيَةِ তাদের বিদ্রোহ এবং কুফরীর কারণে طَغَتْ عَلَى الْخَزَّانِ বায়ু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং সামূদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছে যেমন পানি নূহ্ সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
(70) سُوْرَةُ المعارج [سَأَلَ سَآئِلٌ]
সূরাহ (৭০) : আল-মা’আরিজ
(الْفَصِيْلَةُ) أَصْغَرُ آبَائِهِ الْقُرْبَى إِلَيْهِ يَنْتَمِيْ مَنْ انْتَمَى (لِلشَّوٰى) الْيَدَانِ وَالرِّجْلَانِ وَالأَطْرَافُ وَجِلْدَةُ الرَّأْسِ يُقَالُ لَهَا شَوَاةٌ وَمَا كَانَ غَيْرَ مَقْتَلٍ فَهُوَ شَوًى عِزِيْنَ (وَالْعِزُوْنَ) وَالْجَمَاعَاتُ وَوَاحِدُهَا عِزَةٌ. [(يُوْفِضُوْنَ) : الإيفاضُ الإسْرَاعِ]
الْفَصِيْلَةُ তাদের পূর্ব-পুরষদের থেকে সর্বাধিক নিকটাত্মীয়, যাদের থেকে তারা পৃথক হয়েছে এবং যাদের দিকে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়। لِلشَّوٰى দু’হাত, দু’পা, শরীরের বিভিন্ন প্রান্ত ভাগ এবং মাথার চামড়া সবগুলোকে شَوَاةٌ বলা হয়। الْعِزُوْنَ দলসমূহ। এর একবচন عِزَةٌ।
(71) سُوْرَةُ نُوْحٍ [إِنَّا أَرْسَلْنَا]
সূরাহ (৭১) : নূহ (ইন্না আরসালনা)
(أَطْوَارًا) طَوْرًا كَذَا وَطَوْرًا كَذَا يُقَالُ عَدَا طَوْرَهُ أَيْ قَدْرَهُ وَالْكُبَّارُ أَشَدُّ مِنَ الْكِبَارِ وَكَذَلِكَ جُمَّالٌ وَجَمِيْلٌ لِأَنَّهَا أَشَدُّ مُبَالَغَةً وَكُبَّارٌ الْكَبِيْرُ وَكُبَارًا أَيْضًا بِالتَّخْفِيْفِ وَالْعَرَبُ تَقُوْلُ رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ وَحُسَانٌ مُخَفَّفٌ وَجُمَالٌ مُخَفَّفٌ (دَيَّارًا) مِنْ دَوْرٍ وَلَكِنَّهُ فَيْعَالٌ مِنْ الدَّوَرَانِ كَمَا قَرَأَ عُمَرُ الْحَيُّ الْقَيَّامُ وَهِيَ مِنْ قُمْتُ وَقَالَ غَيْرُهُ (دَيَّارًا) أَحَدًا (تَبَارًا) هَلَاكًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (مِدْرَارًا) يَتْبَعُ بَعْضُهَا بَعْضًا (وَقَارًا) عَظَمَةً.
طْوَارًا পর্যায়ক্রমে, বলা হয়। عَدَا طَوْرَهُ সে তার মর্যাদাকে অতিক্রম করে গেছে। بِالتَّخْفِيْفِ الكُبَّارُ এর তুলনায় بالتشديد الكُبَّارُ এর অর্থের মাঝে কিছু আধিক্য ও কঠোরতা বিদ্যমান আছে। এমনিভাবে جُمَّالٌ এর মাঝে جَمِيْلٌ -এর তুলনায় অধিকতর সৌন্দর্যের অর্থ বিদ্যমান আছে। كُبَّارٌ الْكَبِيْرُ ও بِالتَّخْفِيْفِ الكُبَّارُ -এর অবস্থা অনুরূপই। আরবীয় লোকের তাশ্দীদের সঙ্গে رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ ও বলেন, এমনিভাবে তাখফীফের সঙ্গে رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ ও বলে থাকেন। دَيَّارًا শব্দটির উৎপত্তি دَوْرٍ ধাতু থেকে। তবে যদি তাকে فَيْعَالٌ এর ওযনে ধরা হয় তাহলে এর উৎপত্তি হবে الدَّوَرَانِ শব্দমূল থেকে। যেমন, ’উমার (রাঃ)الْحَيُّ الْقَيَّامُ পড়েছেন। قُمْتُথেকে الْقَيَّامُ শব্দটির উৎপত্তি। অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, دَيَّارًا কাউকে। تَبَارًا ধ্বংস। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, مِدْرَارًا একটি অপরটির পেছনে। وَقَارًا শ্রেষ্ঠত্ব।
৪৯২০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে প্রতিমার পূজা নূহ্ (আঃ)-এর কওমের মাঝে চালু ছিল, পরবর্তী সময়ে আরবদের মাঝেও তার পূজা প্রচলিত হয়েছিল। ওয়াদ ’’দুমাতুল জান্দাল’’ নামক জায়গার কাল্ব গোত্রের একটি দেবমূর্তি, সূওয়া’আ, হল, হুযায়ল গোত্রের একটি দেবমূর্তি এবং ইয়াগুছ ছিল মুরাদ গোত্রের, অবশ্য পরবর্তীতে তা গাতীফ গোত্রের হয়ে যায়। এর আস্তানা ছিল কওমে সাবার নিকটবর্তী ’জাওফ’ নামক স্থান। ইয়া’উক ছিল হামাদান গোত্রের দেবমূর্তি, নাসর ছিল যুলকালা’ গোত্রের হিময়ার শাখার মূর্তি। নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের কতিপয় নেক লোকের নাম নাসর ছিল। তারা মারা গেলে, শায়ত্বন তাদের কওমের লোকদের অন্তরে এ কথা ঢেলে দিল যে, তারা যেখানে বসে মাজলিস করত, সেখানে তোমরা কতিপয় মূর্তি স্থাপন কর এবং ঐ সমস্ত পুণ্যবান লোকের নামেই এগুলোর নামকরণ কর। কাজেই তারা তাই করল, কিন্তু তখনও ঐ সব মূর্তির পূজা করা হত না। তবে মূর্তি স্থাপনকারী লোকগুলো মারা গেলে এবং মূর্তিগুলোর ব্যাপারে সত্যিকারের জ্ঞান বিলুপ্ত হলে লোকজন তাদের পূজা আরম্ভ করে দেয়। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৫)
সূরাহ (৬৯) : আল-হাক্কাহ্
(حُسُوْمًا) مُتَتَابُعَةً وَقَالَ ابْنُ جُبَيْرٍ (عِيْشَةٍ رَّاضِيَةٍ) يُرِيْدُ فِيْهَا الرِّضَا (الْقَاضِيَةَ) الْمَوْتَةَ الْأُوْلَى الَّتِيْ مُتُّهَا لَمْ أُحْيَ بَعْدَهَا (مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِيْنَ) أَحَدٌ يَكُوْنُ لِلْجَمْعِ وَلِلْوَاحِدِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الْوَتِيْنَ) نِيَاطُ الْقَلْبِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (طَغٰى)كَثُرَ وَيُقَالُ بِالطَّاغِيَةِ بِطُغْيَانِهِمْ. وَيُقَالُ طَغَتْ عَلَى الْخَزَّانِ كَمَا طَغَى الْمَاءُ عَلَى قَوْمِ نُوْحٍ e. وَغِسْلِيْنٍ : مَا يَسِيْلُ مِنْ صَدِيْدِ أهْلِ النَّارِ. وَقَالَ غَيْرُهُ : (مِنْ غِسْلِنٍ) : كلُّ شَيْءٍ غَسَلْتَهُ فَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ فَهُوَ غَسْلَيْنٌ، فِعْلَيْنٌ مِنَ الغَسْلِ مِنَ الْجَرْحِ وَالدُّبُرِ. (أعْجَارُ نَخْلٍ) : أُصُوْلُهَا. (بَاقِيةٍ) : بِقيّةٍ.
عِيْشَةٍ رَّاضِيَةٍ সন্তোষজনক জীবন। الْقَاضِيَةَ প্রথম মৃত্যুটাই যদি এমন হত যে, তারপর আর জীবিত না করা হত। مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِيْنَ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তাকে রক্ষা করতে পারে। احِدِ শব্দটি একবচন ও বহুবচন উভয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْوَتِيْنَ হৃদপিন্ডের সঙ্গে যুক্ত রগ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, طَغٰى অতিরিক্ত হয়েছে বা বেশি হয়েছে। বলা হয় بِالطَّاغِيَةِ তাদের বিদ্রোহ এবং কুফরীর কারণে طَغَتْ عَلَى الْخَزَّانِ বায়ু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং সামূদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছে যেমন পানি নূহ্ সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
(70) سُوْرَةُ المعارج [سَأَلَ سَآئِلٌ]
সূরাহ (৭০) : আল-মা’আরিজ
(الْفَصِيْلَةُ) أَصْغَرُ آبَائِهِ الْقُرْبَى إِلَيْهِ يَنْتَمِيْ مَنْ انْتَمَى (لِلشَّوٰى) الْيَدَانِ وَالرِّجْلَانِ وَالأَطْرَافُ وَجِلْدَةُ الرَّأْسِ يُقَالُ لَهَا شَوَاةٌ وَمَا كَانَ غَيْرَ مَقْتَلٍ فَهُوَ شَوًى عِزِيْنَ (وَالْعِزُوْنَ) وَالْجَمَاعَاتُ وَوَاحِدُهَا عِزَةٌ. [(يُوْفِضُوْنَ) : الإيفاضُ الإسْرَاعِ]
الْفَصِيْلَةُ তাদের পূর্ব-পুরষদের থেকে সর্বাধিক নিকটাত্মীয়, যাদের থেকে তারা পৃথক হয়েছে এবং যাদের দিকে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়। لِلشَّوٰى দু’হাত, দু’পা, শরীরের বিভিন্ন প্রান্ত ভাগ এবং মাথার চামড়া সবগুলোকে شَوَاةٌ বলা হয়। الْعِزُوْنَ দলসমূহ। এর একবচন عِزَةٌ।
(71) سُوْرَةُ نُوْحٍ [إِنَّا أَرْسَلْنَا]
সূরাহ (৭১) : নূহ (ইন্না আরসালনা)
(أَطْوَارًا) طَوْرًا كَذَا وَطَوْرًا كَذَا يُقَالُ عَدَا طَوْرَهُ أَيْ قَدْرَهُ وَالْكُبَّارُ أَشَدُّ مِنَ الْكِبَارِ وَكَذَلِكَ جُمَّالٌ وَجَمِيْلٌ لِأَنَّهَا أَشَدُّ مُبَالَغَةً وَكُبَّارٌ الْكَبِيْرُ وَكُبَارًا أَيْضًا بِالتَّخْفِيْفِ وَالْعَرَبُ تَقُوْلُ رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ وَحُسَانٌ مُخَفَّفٌ وَجُمَالٌ مُخَفَّفٌ (دَيَّارًا) مِنْ دَوْرٍ وَلَكِنَّهُ فَيْعَالٌ مِنْ الدَّوَرَانِ كَمَا قَرَأَ عُمَرُ الْحَيُّ الْقَيَّامُ وَهِيَ مِنْ قُمْتُ وَقَالَ غَيْرُهُ (دَيَّارًا) أَحَدًا (تَبَارًا) هَلَاكًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (مِدْرَارًا) يَتْبَعُ بَعْضُهَا بَعْضًا (وَقَارًا) عَظَمَةً.
طْوَارًا পর্যায়ক্রমে, বলা হয়। عَدَا طَوْرَهُ সে তার মর্যাদাকে অতিক্রম করে গেছে। بِالتَّخْفِيْفِ الكُبَّارُ এর তুলনায় بالتشديد الكُبَّارُ এর অর্থের মাঝে কিছু আধিক্য ও কঠোরতা বিদ্যমান আছে। এমনিভাবে جُمَّالٌ এর মাঝে جَمِيْلٌ -এর তুলনায় অধিকতর সৌন্দর্যের অর্থ বিদ্যমান আছে। كُبَّارٌ الْكَبِيْرُ ও بِالتَّخْفِيْفِ الكُبَّارُ -এর অবস্থা অনুরূপই। আরবীয় লোকের তাশ্দীদের সঙ্গে رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ ও বলেন, এমনিভাবে তাখফীফের সঙ্গে رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ ও বলে থাকেন। دَيَّارًا শব্দটির উৎপত্তি دَوْرٍ ধাতু থেকে। তবে যদি তাকে فَيْعَالٌ এর ওযনে ধরা হয় তাহলে এর উৎপত্তি হবে الدَّوَرَانِ শব্দমূল থেকে। যেমন, ’উমার (রাঃ)الْحَيُّ الْقَيَّامُ পড়েছেন। قُمْتُথেকে الْقَيَّامُ শব্দটির উৎপত্তি। অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, دَيَّارًا কাউকে। تَبَارًا ধ্বংস। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, مِدْرَارًا একটি অপরটির পেছনে। وَقَارًا শ্রেষ্ঠত্ব।
৪৯২০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে প্রতিমার পূজা নূহ্ (আঃ)-এর কওমের মাঝে চালু ছিল, পরবর্তী সময়ে আরবদের মাঝেও তার পূজা প্রচলিত হয়েছিল। ওয়াদ ’’দুমাতুল জান্দাল’’ নামক জায়গার কাল্ব গোত্রের একটি দেবমূর্তি, সূওয়া’আ, হল, হুযায়ল গোত্রের একটি দেবমূর্তি এবং ইয়াগুছ ছিল মুরাদ গোত্রের, অবশ্য পরবর্তীতে তা গাতীফ গোত্রের হয়ে যায়। এর আস্তানা ছিল কওমে সাবার নিকটবর্তী ’জাওফ’ নামক স্থান। ইয়া’উক ছিল হামাদান গোত্রের দেবমূর্তি, নাসর ছিল যুলকালা’ গোত্রের হিময়ার শাখার মূর্তি। নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের কতিপয় নেক লোকের নাম নাসর ছিল। তারা মারা গেলে, শায়ত্বন তাদের কওমের লোকদের অন্তরে এ কথা ঢেলে দিল যে, তারা যেখানে বসে মাজলিস করত, সেখানে তোমরা কতিপয় মূর্তি স্থাপন কর এবং ঐ সমস্ত পুণ্যবান লোকের নামেই এগুলোর নামকরণ কর। কাজেই তারা তাই করল, কিন্তু তখনও ঐ সব মূর্তির পূজা করা হত না। তবে মূর্তি স্থাপনকারী লোকগুলো মারা গেলে এবং মূর্তিগুলোর ব্যাপারে সত্যিকারের জ্ঞান বিলুপ্ত হলে লোকজন তাদের পূজা আরম্ভ করে দেয়। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৫)
হাদিস নং: ৪৯২১
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن ابي بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال انطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم في طاىفة من اصحابه عامدين الى سوق عكاظ وقد حيل بين الشياطين وبين خبر السماء وارسلت عليهم الشهب فرجعت الشياطين فقالوا ما لكم فقالوا حيل بيننا وبين خبر السماء وارسلت علينا الشهب قال ما حال بينكم وبين خبر السماء الا ما حدث فاضربوا مشارق الارض ومغاربها فانظروا ما هذا الامر الذي حدث فانطلقوا فضربوا مشارق الارض ومغاربها ينظرون ما هذا الامر الذي حال بينهم وبين خبر السماء قال فانطلق الذين توجهوا نحو تهامة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم بنخلة وهو عامد الى سوق عكاظ وهو يصلي باصحابه صلاة الفجر فلما سمعوا القران تسمعوا له فقالوا هذا الذي حال بينكم وبين خبر السماء فهنالك رجعوا الى قومهم فقالوا يا قومنا انا سمعنا قرانا عجبا يهدي الى الرشد فامنا به ولن نشرك بربنا احدا وانزل الله عز وجل على نبيه صلى الله عليه وسلم(قل اوحي الي انه استمع نفر من الجن) وانما اوحي اليه قول الجن.
(72) سُوْرَةُ الجن [قُلْ أُوْحِيَ إِلَيَّ]
সূরাহ (৭২) : আল-জ্বিন (ক্বুল উহিয়্যা ইলাইয়া)
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِبَدًا أَعْوَانًا. (بَخْسًا) : نَقْصًا.
আর ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لِبَدًا সাহায্যকারী। بَخْسًا স্বল্পতার ভয় করবে না।
৪৯২১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সাহাবীকে নিয়ে উকায বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন। এ সময়ই জিনদের আসমানী খবরাদি শোনার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে এবং ছুঁড়ে মারা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে লেলিহান অগ্নিশিখা। ফলে জিন শায়ত্বনরা ফিরে আসলে অন্য জিনরা তাদেরকে বলল, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আসমানী খবরাদি সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আমাদের উপর বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের প্রতি লেলিহান অগ্নিশিখা ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন শায়ত্বন বলল, আসমানী খবরাদি সংগ্রহের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি যে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, অবশ্যই তা কোন নতুন ঘটনা ঘটার কারণেই হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত সফর কর এবং দেখ ব্যাপারটা কী ঘটেছে? তাই আসমানী খবরাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে, এর কারণ খুঁজে বের করার জন্য তারা সকলেই পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিমে অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়ল।
’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, যারা তিহামার উদ্দেশে বেরিয়েছিল, তারা ’নাখলা’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে উপস্থিত হল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখান থেকে উকায বাজারের দিকে যাওয়ার মনস্থ করেছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। জিনদের ঐ দলটি কুরআন মাজীদ শুনতে পেয়ে আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে লাগল এবং বলল, আসমানী খবর আর তোমাদের মাঝে এটাই সত্যিকারে বাধা সৃষ্টি করেছে। এরপর তারা তাদের কওমের কাছে ফিরে এসে বলল, হে আমাদের কওম! আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শ্রবণ করেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে। এতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করব না। এরপর আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি অবতীর্ণ করলেনঃ বল, আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরিত হয়েছে যে জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনেছে। জিনদের উপরোক্ত কথা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহীর মারফত জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। [৭৭৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৬)
সূরাহ (৭২) : আল-জ্বিন (ক্বুল উহিয়্যা ইলাইয়া)
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِبَدًا أَعْوَانًا. (بَخْسًا) : نَقْصًا.
আর ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لِبَدًا সাহায্যকারী। بَخْسًا স্বল্পতার ভয় করবে না।
৪৯২১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সাহাবীকে নিয়ে উকায বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন। এ সময়ই জিনদের আসমানী খবরাদি শোনার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে এবং ছুঁড়ে মারা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে লেলিহান অগ্নিশিখা। ফলে জিন শায়ত্বনরা ফিরে আসলে অন্য জিনরা তাদেরকে বলল, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আসমানী খবরাদি সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আমাদের উপর বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের প্রতি লেলিহান অগ্নিশিখা ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন শায়ত্বন বলল, আসমানী খবরাদি সংগ্রহের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি যে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, অবশ্যই তা কোন নতুন ঘটনা ঘটার কারণেই হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত সফর কর এবং দেখ ব্যাপারটা কী ঘটেছে? তাই আসমানী খবরাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে, এর কারণ খুঁজে বের করার জন্য তারা সকলেই পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিমে অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়ল।
’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, যারা তিহামার উদ্দেশে বেরিয়েছিল, তারা ’নাখলা’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে উপস্থিত হল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখান থেকে উকায বাজারের দিকে যাওয়ার মনস্থ করেছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। জিনদের ঐ দলটি কুরআন মাজীদ শুনতে পেয়ে আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে লাগল এবং বলল, আসমানী খবর আর তোমাদের মাঝে এটাই সত্যিকারে বাধা সৃষ্টি করেছে। এরপর তারা তাদের কওমের কাছে ফিরে এসে বলল, হে আমাদের কওম! আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শ্রবণ করেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে। এতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করব না। এরপর আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি অবতীর্ণ করলেনঃ বল, আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরিত হয়েছে যে জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনেছে। জিনদের উপরোক্ত কথা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহীর মারফত জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। [৭৭৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৬)
হাদিস নং: ৪৯২২
সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا وكيع عن علي بن المبارك عن يحيى بن ابي كثير سالت ابا سلمة بن عبد الرحمن عن اول ما نزل من القران قال (يٓايها المدثر) قلت يقولون (اقرا باسم ربك الذي خلق) فقال ابو سلمة سالت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما عن ذلك وقلت له مثل الذي قلت فقال جابر لا احدثك الا ما حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال جاورت بحراء فلما قضيت جواري هبطت فنوديت فنظرت عن يميني فلم ار شيىا ونظرت عن شمالي فلم ار شيىا ونظرت امامي فلم ار شيىا ونظرت خلفي فلم ار شيىا فرفعت راسي فرايت شيىا فاتيت خديجة فقلت دثروني وصبوا علي ماء باردا قال فدثروني وصبوا علي ماء باردا قال فنزلت(يٓايها المدثر قم فانذر وربك فكبر).
(73) سُوْرَةُ الْمُزَّمِّلِ
সূরাহ (৭৩) : আল-মুযযাম্মিল
وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وَتَبَتَّلْ) أَخْلِصْ وَقَالَ الْحَسَنُ (أَنْكَالًا) قُيُوْدًا مُنْفَطِرٌ بِهِ (مُثْقَلَةٌ بِهٰ) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (كَثِيْبًا مَّهِيْلًا) الرَّمْلُ السَّائِلُ (وَبِيْلًا) شَدِيْدًا.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, وَتَبَتَّلْ একনিষ্ঠভাবে মগ্ন হওয়া। হাসান (রহ.) বলেন, أَنْكَالًا শৃঙ্খল। مُثْقَلَةٌ بِهٰভারে অবনত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, كَثِيْبًامَّهِيْلًا বহমান বালুকারাশি। وَبِيْلًا কঠিন।
(74) سُوْرَةُ الْمُدَّثِّرِ
সূরাহ (৭৪) : আল-মুদদাসসির
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (عَسِيْرٌ) شَدِيْدٌ (قَسْوَرَةٌ) رِكْزُ النَّاسِ وَأَصْوَاتُهُمْ وَكُلُّ شَدِيْدٍ قَسْوَرَةٌ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ الْقَسْوَرَةُ قَسْوَرٌ الْأَسَدُ الرِّكْزُ الصَّوْتُ (مُسْتَنْفِرَةٌ) نَافِرَةٌ مَذْعُوْرَةٌ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, عَسِيْرٌ কঠিন। قَسْوَرَةٌ মানুষের কোলাহল, আওয়াজ। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, قَسْوَرَةٌ বাঘ। প্রত্যেক কঠিন বস্তুকে الْقَسْوَرَةُ বলা হয়। مُسْتَنْفِرَةٌ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়নপর।
৪৯২২. ইয়াহ্ইয়াহ ইবনু কাসীর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহ.)-কে কুরআন মাজীদের কোন্ আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, يٓٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, লোকেরা তো বলে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আবূ সালামাহ বললেন, আমি এ বিষয়ে জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তুমি যা বললে আমিও তাকে হুবহু তাই বলেছিলাম। জবাবে জাবির (রাঃ) বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যা বলেছিলেন, আমিও হুবহু তাই বলব। তিনি বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ই’তিকাফ করতে লাগলাম। আমার ই’তিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে নামলাম। তখন আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি ডানে তাকালাম; কিন্তু কিছু দেখতে পেলাম না, বামে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর সামনে তাকালাম, এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর পেছনে তাকালাম, কিন্তু এদিওক আমি কিছু দেখলাম না। শেষে আমি উপরের দিকে তাকালাম, এবার একটা বস্তু দেখতে পেলাম। এরপর আমি খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে এলাম এবং তাকে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠান্ডা পানি ঢাল। তিনি বলেন, তারপর তারা আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করে এবং ঠান্ডা পানি ঢালে। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর অবতীর্ণ হলঃ ’হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। [৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৭)
সূরাহ (৭৩) : আল-মুযযাম্মিল
وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وَتَبَتَّلْ) أَخْلِصْ وَقَالَ الْحَسَنُ (أَنْكَالًا) قُيُوْدًا مُنْفَطِرٌ بِهِ (مُثْقَلَةٌ بِهٰ) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (كَثِيْبًا مَّهِيْلًا) الرَّمْلُ السَّائِلُ (وَبِيْلًا) شَدِيْدًا.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, وَتَبَتَّلْ একনিষ্ঠভাবে মগ্ন হওয়া। হাসান (রহ.) বলেন, أَنْكَالًا শৃঙ্খল। مُثْقَلَةٌ بِهٰভারে অবনত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, كَثِيْبًامَّهِيْلًا বহমান বালুকারাশি। وَبِيْلًا কঠিন।
(74) سُوْرَةُ الْمُدَّثِّرِ
সূরাহ (৭৪) : আল-মুদদাসসির
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (عَسِيْرٌ) شَدِيْدٌ (قَسْوَرَةٌ) رِكْزُ النَّاسِ وَأَصْوَاتُهُمْ وَكُلُّ شَدِيْدٍ قَسْوَرَةٌ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ الْقَسْوَرَةُ قَسْوَرٌ الْأَسَدُ الرِّكْزُ الصَّوْتُ (مُسْتَنْفِرَةٌ) نَافِرَةٌ مَذْعُوْرَةٌ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, عَسِيْرٌ কঠিন। قَسْوَرَةٌ মানুষের কোলাহল, আওয়াজ। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, قَسْوَرَةٌ বাঘ। প্রত্যেক কঠিন বস্তুকে الْقَسْوَرَةُ বলা হয়। مُسْتَنْفِرَةٌ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়নপর।
৪৯২২. ইয়াহ্ইয়াহ ইবনু কাসীর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহ.)-কে কুরআন মাজীদের কোন্ আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, يٓٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, লোকেরা তো বলে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আবূ সালামাহ বললেন, আমি এ বিষয়ে জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তুমি যা বললে আমিও তাকে হুবহু তাই বলেছিলাম। জবাবে জাবির (রাঃ) বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যা বলেছিলেন, আমিও হুবহু তাই বলব। তিনি বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ই’তিকাফ করতে লাগলাম। আমার ই’তিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে নামলাম। তখন আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি ডানে তাকালাম; কিন্তু কিছু দেখতে পেলাম না, বামে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর সামনে তাকালাম, এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর পেছনে তাকালাম, কিন্তু এদিওক আমি কিছু দেখলাম না। শেষে আমি উপরের দিকে তাকালাম, এবার একটা বস্তু দেখতে পেলাম। এরপর আমি খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে এলাম এবং তাকে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠান্ডা পানি ঢাল। তিনি বলেন, তারপর তারা আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করে এবং ঠান্ডা পানি ঢালে। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর অবতীর্ণ হলঃ ’হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। [৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৭)
হাদিস নং: ৪৯২৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا عبد الرحمن بن مهدي وغيره قالا حدثنا حرب بن شداد عن يحيى بن ابي كثير عن ابي سلمة عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال جاورت بحراء مثل حديث عثمان بن عمر عن علي بن المبارك.
৪৯২৩. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করেছিলাম। ’উসমান ইবনু ’উমার ’আলী ইবনু মুবারক (রহ.) থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনিও একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৮)
হাদিস নং: ৪৯২৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور حدثنا عبد الصمد حدثنا حرب حدثنا يحيى قال سالت ابا سلمة اي القران انزل اول فقال (يٓايها المدثر) فقلت انبىت انه (اقرا باسم ربك الذي خلق) فقال ابو سلمة سالت جابر بن عبد الله اي القران انزل اول فقال (يٓايها المدثر) فقلت انبىت انه (اقرا باسم ربك الذي خلق) فقال لا اخبرك الا بما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم جاورت في حراء فلما قضيت جواري هبطت فاستبطنت الوادي فنوديت فنظرت امامي وخلفي وعن يميني وعن شمالي فاذا هو جالس على كرسي بين السماء والارض فاتيت خديجة فقلت دثروني وصبوا علي ماء باردا وانزل علي (يٓايها المدثر قم فانذر وربك فكبر).
৪৯২৪. ইয়াহ্ইয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামাহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন্ আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল? তিনি বললেন, يٓٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। আমি বললাম, আমাকে বলা হয়েছে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। এ কথা শুনে আবূ সালামাহ (রহ.) বললেন, কুরআনের কোন্ আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল, এ সম্পর্কে আমি জাবির (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বলেছেন يٓٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। তখন আমি বললাম, আমাকে বলা হয়েছে যে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, আমি তোমাকে তাই বলছি।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করেছিলাম। ইতিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে নেমে উপত্যকার মাঝে পৌঁছলে আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি তখন সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে তাকালাম। দেখলাম, সে আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলে রক্ষিত একটি আসনে উপবিষ্ট আছে। এরপর আমি খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠান্ডা পানি ঢাল। তখন আমার প্রতি অবতীর্ণ করা হলঃ ’’হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।’’ [৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৯)
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করেছিলাম। ইতিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে নেমে উপত্যকার মাঝে পৌঁছলে আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি তখন সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে তাকালাম। দেখলাম, সে আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলে রক্ষিত একটি আসনে উপবিষ্ট আছে। এরপর আমি খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠান্ডা পানি ঢাল। তখন আমার প্রতি অবতীর্ণ করা হলঃ ’’হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।’’ [৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫৯)
হাদিস নং: ৪৯২৫
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب ح و حدثني عبد الله بن محمد حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر قال الزهري فاخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يحدث عن فترة الوحي فقال في حديثه فبينا انا امشي اذ سمعت صوتا من السماء فرفعت راسي فاذا الملك الذي جاءني بحراء جالس على كرسي بين السماء والارض فجىثت منه رعبا فرجعت فقلت زملوني زملوني فدثروني فانزل الله تعالى (يٓايها المدثر) الى (والرجزفاهجر) قبل ان تفرض الصلاة وهي الاوثان.
৪৯২৫. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। তিনি ওয়াহী বন্ধ থাকার সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি তাঁর আলোচনার মাঝে বললেন, একদা আমি চলছিলাম, এমন সময় আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। মাথা উঠাতেই আমি দেখলাম, যে মালাক হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিল সে আসমান-যমীনের মাঝে একটি কুসরীতে বসা আছে। আমি তাঁর ভয়ে ভীত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি বাড়িতে ফিরে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর; আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তাঁরা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। তখন আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন, ’’হে বস্ত্রাবৃত! উঠ.....অপবিত্রতা হতে দূরে থাক।’’ এ আয়াতগুলো সালাত ফরয হওয়ার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছিল। الرِّجْزَ মূর্তিসমূহ। [৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬০)
হাদিস নং: ৪৯২৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث عن عقيل قال ابن شهاب سمعت ابا سلمة قال اخبرني جابر بن عبد الله انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يحدث عن فترة الوحي فبينا انا امشي سمعت صوتا من السماء فرفعت بصري قبل السماء فاذا الملك الذي جاءني بحراء قاعد على كرسي بين السماء والارض فجىثت منه حتى هويت الى الارض فجىت اهلي فقلت زملوني زملوني فزملوني فانزل الله تعالى (يٓايها المدثر قم فانذر) الى قوله (فاهجر) قال ابو سلمة والرجز الاوثان ثم حمي الوحي وتتابع
৪৯২৬. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলসাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহী বন্ধ হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন। তিনি বলেছেন, একদা আমি পথ চলছিলাম, এমন সময় আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। এরপর আমি আকাশের দিকে চোখ তুলে দেখলাম, যে ফেরেশতা হেরা গুহায় আমার কাছে আসত, সে আসমান-যমীনের মাঝে একটি কুরসীতে উপবিষ্ট আছে। তাকে দেখে আমি ভীষণ ভয় পেলাম। এমনকি যমীনে পড়ে গেলাম। তারপর আমি আমার স্ত্রীর কাছে গেলাম এবং বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। এরপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেনঃ ’’হে বস্ত্রাবৃত!.....অপবিত্রতা হতে দূরে থাক।’’ আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, الرِّجْزَ মূর্তিসমূহ। এরপর অধিক হারে ওয়াহী অবতীর্ণ হতে লাগল এবং লাগাতার ওয়াহী আসতে থাকল। [৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬১)
হাদিস নং: ৪৯২৭
সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان حدثنا موسى بن ابي عاىشة وكان ثقة عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا نزل عليه الوحي حرك به لسانه ووصف سفيان يريد ان يحفظه فانزل الله (لا تحرك به لسانك لتعجل به).
(75) سُوْرَةُ الْقِيَامَةِ
সূরাহ (৭৫) : আল-ক্বিয়ামাহ
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ) سَوْفَ أَتُوْبُ سَوْفَ أَعْمَلُ (لَاوَزَرَ) لَا حِصْنَ سُدًى هَمَلًا.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, , لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ শীঘ্রই তওবাহ করব, শীঘ্রই ’আমল করব। لَاوَزَرَ কোন আশ্রয়স্থল নেই, سُدًى নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন।
৪৯২৭. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি যখন ওয়াহী অবতীর্ণ করা হত, তখন তিনি দ্রুত তাঁর জিহ্বা নাড়তেন। রাবী সুফ্ইয়ান বলেন, এভাবে করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ওয়াহী মুখস্থ করা। তারপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেনঃ তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা সঞ্চালন করবে না। [৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬২)
সূরাহ (৭৫) : আল-ক্বিয়ামাহ
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ) سَوْفَ أَتُوْبُ سَوْفَ أَعْمَلُ (لَاوَزَرَ) لَا حِصْنَ سُدًى هَمَلًا.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, , لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ শীঘ্রই তওবাহ করব, শীঘ্রই ’আমল করব। لَاوَزَرَ কোন আশ্রয়স্থল নেই, سُدًى নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন।
৪৯২৭. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি যখন ওয়াহী অবতীর্ণ করা হত, তখন তিনি দ্রুত তাঁর জিহ্বা নাড়তেন। রাবী সুফ্ইয়ান বলেন, এভাবে করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ওয়াহী মুখস্থ করা। তারপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেনঃ তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা সঞ্চালন করবে না। [৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬২)
হাদিস নং: ৪৯২৮
সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن موسى بن ابي عاىشة انه سال سعيد بن جبير عن قوله تعالى (لا تحرك به لسانك) قال وقال ابن عباس كان يحرك شفتيه اذا انزل عليه فقيل له (لا تحرك به لسانك) يخشى ان ينفلت منه (ان علينا جمعه” وقرانه) ان نجمعه في صدرك وقرانه ان تقراه (فاذا قراناه) يقول انزل عليه (فاتبع قرانه” ج -ثم ان علينا بيانه”) ان نبينه على لسانك.
৪৯২৮. মূসা ইবনু আবূ ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি لِتَعْجَلَ بِهٰ আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি যখন ওয়াহী অবতীর্ণ করা হত, তখন তিনি তাঁর ঠোঁট দু’টো দ্রুত নাড়তেন। তখন তাঁকে বলা হল, তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা নাড়বে না। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহী ভুলে যাবার আশংকায় এমন করতেন। নিশ্চয়ই এ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ আমি নিজেই তাকে তোমার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করব। তাই আমি যখন তা পাঠ করব অর্থাৎ যখন তোমার প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হতে থাকবে, তখন তুমি তার অনুসরণ করবে। এরপর তা বর্ণনা করার দাযিত্ব আমারই অর্থাৎ এ কুরআনকে তোমার মুখ দিয়ে বর্ণনা করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার। [৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৩)
হাদিস নং: ৪৯২৯
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن موسى بن ابي عاىشة عن سعيد بن جبير عن ابن عباس في قوله (لا تحرك به لسانك لتعجل به) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا نزل جبريل بالوحي وكان مما يحرك به لسانه وشفتيه فيشتد عليه وكان يعرف منه فانزل الله الاية التي في (لا اقسم بيوم القيمة لا تحرك به لسانك لتعجل بهط- ان علينا جمعه” وقرانه) قال علينا ان نجمعه في صدرك وقرانه (فاذا قراناه فاتبع قرانه) فاذا انزلناه فاستمع () ثم ان علينا بيانه”) علينا ان نبينه بلسانك قال فكان اذا اتاه جبريل اطرق فاذا ذهب قراه كما وعده الله عز وجل (اولى لك فاولى) توعد
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (قَرَأْنَاهُ) بَيَّنَّاهُ (قَرَأْنَاهُ)اعْمَلْ بِهِ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, قَرَأْنَاهُ আমি যখন তা বর্ণনা করি قَرَأْنَاهُ তদনুযায়ী ’আমল কর।
৪৯২৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ لاَ تُحَرِّكْ بِهٰلِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰএ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, জিবরীল (আঃ) যখন ওয়াহী নিয়ে আসতেন তখন রাসূল তাঁর জিহ্বা ও ঠোঁট দু’টো দ্রুত নাড়তেন। এটা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হত এবং তাঁর চেহারা দেখেই বোঝা যেত। তাই আল্লাহ্ তা’আলাঃ ’’তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিহবা সঞ্চালন করবে না; এ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই’’ অবতীর্ণ করলেন। এতে আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ এ কুরআনকে আপনার বক্ষে সংরক্ষিত করা ও পড়িয়ে দেয়ার ভার আমার উপর। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর, অর্থাৎ আমি যখন ওয়াহী অবতীর্ণ করি তখন তুমি মনোযোগ দিয়ে শুন। তারপর এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ তোমার মুখে তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমারই। রাবী বলেন, এরপর জিবরীল (আঃ) চলে গেলে আল্লাহর ওয়াদা ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَه মুতাবিক তিনি তা পাঠ করতেন। أَوْلٰى لَكَ فَأَوْلٰى দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ! تَوَعُّدٌ এ আয়াতে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। [৫; মুসলিম ৪/৩২, হাঃ ৪৪৮, আহমাদ ৩১৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৪)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, قَرَأْنَاهُ আমি যখন তা বর্ণনা করি قَرَأْنَاهُ তদনুযায়ী ’আমল কর।
৪৯২৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ لاَ تُحَرِّكْ بِهٰلِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰএ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, জিবরীল (আঃ) যখন ওয়াহী নিয়ে আসতেন তখন রাসূল তাঁর জিহ্বা ও ঠোঁট দু’টো দ্রুত নাড়তেন। এটা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হত এবং তাঁর চেহারা দেখেই বোঝা যেত। তাই আল্লাহ্ তা’আলাঃ ’’তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিহবা সঞ্চালন করবে না; এ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই’’ অবতীর্ণ করলেন। এতে আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ এ কুরআনকে আপনার বক্ষে সংরক্ষিত করা ও পড়িয়ে দেয়ার ভার আমার উপর। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর, অর্থাৎ আমি যখন ওয়াহী অবতীর্ণ করি তখন তুমি মনোযোগ দিয়ে শুন। তারপর এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ তোমার মুখে তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমারই। রাবী বলেন, এরপর জিবরীল (আঃ) চলে গেলে আল্লাহর ওয়াদা ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَه মুতাবিক তিনি তা পাঠ করতেন। أَوْلٰى لَكَ فَأَوْلٰى দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ! تَوَعُّدٌ এ আয়াতে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। [৫; মুসলিম ৪/৩২, হাঃ ৪৪৮, আহমাদ ৩১৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৪)
হাদিস নং: ৪৯৩০
সহিহ (Sahih)
محمود حدثنا عبيد الله عن اسراىيل عن منصور عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله رضي الله عنه قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وانزلت عليه (والمرسلات) وانا لنتلقاها من فيه فخرجت حية فابتدرناها فسبقتنا فدخلت جحرها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وقيت شركم كما وقيتم شرها.
(76) سُوْرَةُ الإنسان [هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ]
সূরাহ (৭৬) : ইনসান (আদ্-দাহর) ’’কালের প্রবাহে মানুষের উপর এমন এক সময় এসেছিল কি?’’
يُقَالُ مَعْنَاهُ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ وَهَلْ تَكُوْنُ جَحْدًا وَتَكُوْنُ خَبَرًا وَهَذَا مِنَ الْخَبَرِ يَقُوْلُ كَانَ شَيْئًا فَلَمْ يَكُنْ مَذْكُوْرًا وَذَلِكَ مِنْ حِيْنِ خَلَقَهُ مِنْ طِيْنٍ إِلَى أَنْ يُنْفَخَ فِيْهِ الرُّوْحُ (أَمْشَاجٍ) الْأَخْلَاطُ مَاءُ الْمَرْأَةِ وَمَاءُ الرَّجُلِ الدَّمُ وَالْعَلَقَةُ وَيُقَالُ إِذَا خُلِطَ مَشِيْجٌ كَقَوْلِكَ خَلِيْطٌ وَمَمْشُوْجٌ مِثْلُ مَخْلُوْطٍ وَيُقَالُ (سَلَاسِلًا وَأَغْلَالًا) وَلَمْ يُجْرِ بَعْضُهُمْ (مُسْتَطِيْرًا) مُمْتَدًّا الْبَلَاءُ (وَالْقَمْطَرِيْرُ) الشَّدِيْدُ يُقَالُ يَوْمٌ قَمْطَرِيْرٌ وَيَوْمٌ قُمَاطِرٌ وَالْعَبُوْسُ وَالْقَمْطَرِيْرُ وَالْقُمَاطِرُ وَالْعَصِيْبُ أَشَدُّ مَا يَكُوْنُ مِنَ الْأَيَّامِ فِي الْبَلَاءِ وَقَالَ الْحَسَنُ (النُّضْرَةُ) فِي الْوَجْهِ وَالسُّرُوْرُ فِي الْقَلْبِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الأَرَآئِكِ) السُّرُرُ وَقَالَ الْبَرَاءُ (وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا) يَقْطِفُوْنَ كَيْفَ شَاءُوْا وَقَالَ مَعْمَرٌ (أَسْرَهُمْ) شِدَّةُ الْخَلْقِ وَكُلُّ شَيْءٍ شَدَدْتَهُ مِنْ قَتَبٍ وَغَبِيْطٍ فَهُوَ مَأْسُوْرٌ.
অর্থাৎ কালের প্রবাহে মানুষের উপর এক সময় এসেছিল। هَلْ শব্দটি কখনো নেতিবাচক, আবার কখনো ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে অবহিতকরণ তথা ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, এক সময় মানুষের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোন বস্তু ছিল না। আর ঐ সময়টা হল মাটি থেকে সৃষ্টি করা হতে তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা পর্যন্ত। أَمْشَاجٍ সংমিশ্রণ। অর্থাৎ মাতৃগর্ভে পুরুষ ও মহিলার বীর্যের সংমিশ্রণে রক্ত এবং পরে জমাট বাঁধা রক্ত সৃষ্টি হওয়াকে أَمْشَاجٍ বলা হয়েছে। এক বস্তুর অপর বস্তুর সঙ্গে মিশ্রিত হলে তাকে مَشِيْجٌ বলে। তাকে خَلِيْطٌ ও বলা হয়। আর مَمْشُوْجٌ ও مَخْلُوْطٍ এর অর্থ একই। কেউ কেউ سَلَاسِلًا وَأَغْلَالًا পড়ে থাকেন। কিন্তু কেউ কেউ এভাবে পড়াকে জায়িয মনে করেন না। مُسْتَطِيْرًا দীর্ঘস্থায়ী বিপদ। الْقَمْطَرِيْرُ ভয়ংকর ও কঠিন। সুতরাং يَوْمٌ قَمْطَرِيْرٌ এবং يَوْمٌ قُمَاطِرٌ উভয়ই ব্যবহৃত হয়। الْعَبُوْسُ، الْقَمْطَرِيْرُ، الْقُمَاطِرُ، এবং الْعَصِيْبُ বিপদের সবচেয়ে কঠিনতম দিনকে বলা হয়। হাসান (রহ.) বলেন, النُّضْرَةُ চেহারায় সজীবতা ও হৃদয়ে আনন্দ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْأَرَآئِكِ খাট-পালঙ্ক। আর বারা (রাঃ) বলেন, وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا তাদের ইচ্ছেমাফিক ফল পাড়বে। মা’মার (রহ.) বলেন, أَسْرَهُمْ সুদৃঢ় গঠন। উটের গদির সঙ্গে শক্ত করে যে জিনিস বাঁধা থাকে তাকে مَأْسُوْرٌ বলা হয়।
(77) سُوْرَةُ وَالْمُرْسَلَاتِ
সূরাহ (৭৭) : আল-মুরসালাত
وَقَالَ مُجَاهِدٌ (جِمَالَاتٌ) قَالَ مُجَاهِدٌ حِبَالٌ (ارْكَعُوْا) صَلُّوْا لَا يَرْكَعُوْنَ لَا يُصَلُّوْنَ وَسُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ قَوْلِهِ : (لَايَنْطِقُوْنَ)(وَاللهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِيْنَ)(الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰٓىأَفْوَاهِهِمْ) فَقَالَ إِنَّهُ ذُوْ أَلْوَانٍ مَرَّةً يَنْطِقُوْنَ وَمَرَّةً يُخْتَمُ عَلَيْهِمْ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, جِمَالَاتٌ উটের সারি। ارْكَعُوْا সালাত আদায় কর। لَا يَرْكَعُوْنَ তারা সালাত আদায় করে না। لَايَنْطِقُوْنَ (তার কথা বলতে সক্ষম হবে না), وَاللهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِيْنَ (আল্লাহর শপথ! আমরা কখনো মুশরিক ছিলাম না) এবং الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٓٓى أَفْوَاهِهِمْ (আমি আজ মোহর লাগিয়ে দেব) এ আয়াত সম্বন্ধে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের বিভিন্ন অবস্থা ঘটবে। কখনো সে কথা বলতে পারবে এবং নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, আবার কখনো তার মুখে মোহর লাগিয়ে দেয়া হবে। তখন সে আর কোন কথা বলতে পারবে না।
৪৯৩০. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল সূরাহ মুরসালাত। আমরা তাঁর মুখে শুনে সেটি শিখছিলাম। তখন একটি সাপ বেরিয়ে এল। আমরা ওদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের থেকে দ্রুত চলে গিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটাও তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল, তোমরা যেন ওটার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে। [১৮৩০; মুসলিম ৩৯/৩৭, হাঃ ২২৩৪, আহমাদ ৪৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৫)
সূরাহ (৭৬) : ইনসান (আদ্-দাহর) ’’কালের প্রবাহে মানুষের উপর এমন এক সময় এসেছিল কি?’’
يُقَالُ مَعْنَاهُ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ وَهَلْ تَكُوْنُ جَحْدًا وَتَكُوْنُ خَبَرًا وَهَذَا مِنَ الْخَبَرِ يَقُوْلُ كَانَ شَيْئًا فَلَمْ يَكُنْ مَذْكُوْرًا وَذَلِكَ مِنْ حِيْنِ خَلَقَهُ مِنْ طِيْنٍ إِلَى أَنْ يُنْفَخَ فِيْهِ الرُّوْحُ (أَمْشَاجٍ) الْأَخْلَاطُ مَاءُ الْمَرْأَةِ وَمَاءُ الرَّجُلِ الدَّمُ وَالْعَلَقَةُ وَيُقَالُ إِذَا خُلِطَ مَشِيْجٌ كَقَوْلِكَ خَلِيْطٌ وَمَمْشُوْجٌ مِثْلُ مَخْلُوْطٍ وَيُقَالُ (سَلَاسِلًا وَأَغْلَالًا) وَلَمْ يُجْرِ بَعْضُهُمْ (مُسْتَطِيْرًا) مُمْتَدًّا الْبَلَاءُ (وَالْقَمْطَرِيْرُ) الشَّدِيْدُ يُقَالُ يَوْمٌ قَمْطَرِيْرٌ وَيَوْمٌ قُمَاطِرٌ وَالْعَبُوْسُ وَالْقَمْطَرِيْرُ وَالْقُمَاطِرُ وَالْعَصِيْبُ أَشَدُّ مَا يَكُوْنُ مِنَ الْأَيَّامِ فِي الْبَلَاءِ وَقَالَ الْحَسَنُ (النُّضْرَةُ) فِي الْوَجْهِ وَالسُّرُوْرُ فِي الْقَلْبِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الأَرَآئِكِ) السُّرُرُ وَقَالَ الْبَرَاءُ (وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا) يَقْطِفُوْنَ كَيْفَ شَاءُوْا وَقَالَ مَعْمَرٌ (أَسْرَهُمْ) شِدَّةُ الْخَلْقِ وَكُلُّ شَيْءٍ شَدَدْتَهُ مِنْ قَتَبٍ وَغَبِيْطٍ فَهُوَ مَأْسُوْرٌ.
অর্থাৎ কালের প্রবাহে মানুষের উপর এক সময় এসেছিল। هَلْ শব্দটি কখনো নেতিবাচক, আবার কখনো ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে অবহিতকরণ তথা ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, এক সময় মানুষের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোন বস্তু ছিল না। আর ঐ সময়টা হল মাটি থেকে সৃষ্টি করা হতে তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা পর্যন্ত। أَمْشَاجٍ সংমিশ্রণ। অর্থাৎ মাতৃগর্ভে পুরুষ ও মহিলার বীর্যের সংমিশ্রণে রক্ত এবং পরে জমাট বাঁধা রক্ত সৃষ্টি হওয়াকে أَمْشَاجٍ বলা হয়েছে। এক বস্তুর অপর বস্তুর সঙ্গে মিশ্রিত হলে তাকে مَشِيْجٌ বলে। তাকে خَلِيْطٌ ও বলা হয়। আর مَمْشُوْجٌ ও مَخْلُوْطٍ এর অর্থ একই। কেউ কেউ سَلَاسِلًا وَأَغْلَالًا পড়ে থাকেন। কিন্তু কেউ কেউ এভাবে পড়াকে জায়িয মনে করেন না। مُسْتَطِيْرًا দীর্ঘস্থায়ী বিপদ। الْقَمْطَرِيْرُ ভয়ংকর ও কঠিন। সুতরাং يَوْمٌ قَمْطَرِيْرٌ এবং يَوْمٌ قُمَاطِرٌ উভয়ই ব্যবহৃত হয়। الْعَبُوْسُ، الْقَمْطَرِيْرُ، الْقُمَاطِرُ، এবং الْعَصِيْبُ বিপদের সবচেয়ে কঠিনতম দিনকে বলা হয়। হাসান (রহ.) বলেন, النُّضْرَةُ চেহারায় সজীবতা ও হৃদয়ে আনন্দ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْأَرَآئِكِ খাট-পালঙ্ক। আর বারা (রাঃ) বলেন, وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا তাদের ইচ্ছেমাফিক ফল পাড়বে। মা’মার (রহ.) বলেন, أَسْرَهُمْ সুদৃঢ় গঠন। উটের গদির সঙ্গে শক্ত করে যে জিনিস বাঁধা থাকে তাকে مَأْسُوْرٌ বলা হয়।
(77) سُوْرَةُ وَالْمُرْسَلَاتِ
সূরাহ (৭৭) : আল-মুরসালাত
وَقَالَ مُجَاهِدٌ (جِمَالَاتٌ) قَالَ مُجَاهِدٌ حِبَالٌ (ارْكَعُوْا) صَلُّوْا لَا يَرْكَعُوْنَ لَا يُصَلُّوْنَ وَسُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ قَوْلِهِ : (لَايَنْطِقُوْنَ)(وَاللهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِيْنَ)(الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰٓىأَفْوَاهِهِمْ) فَقَالَ إِنَّهُ ذُوْ أَلْوَانٍ مَرَّةً يَنْطِقُوْنَ وَمَرَّةً يُخْتَمُ عَلَيْهِمْ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, جِمَالَاتٌ উটের সারি। ارْكَعُوْا সালাত আদায় কর। لَا يَرْكَعُوْنَ তারা সালাত আদায় করে না। لَايَنْطِقُوْنَ (তার কথা বলতে সক্ষম হবে না), وَاللهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِيْنَ (আল্লাহর শপথ! আমরা কখনো মুশরিক ছিলাম না) এবং الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٓٓى أَفْوَاهِهِمْ (আমি আজ মোহর লাগিয়ে দেব) এ আয়াত সম্বন্ধে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের বিভিন্ন অবস্থা ঘটবে। কখনো সে কথা বলতে পারবে এবং নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, আবার কখনো তার মুখে মোহর লাগিয়ে দেয়া হবে। তখন সে আর কোন কথা বলতে পারবে না।
৪৯৩০. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল সূরাহ মুরসালাত। আমরা তাঁর মুখে শুনে সেটি শিখছিলাম। তখন একটি সাপ বেরিয়ে এল। আমরা ওদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের থেকে দ্রুত চলে গিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটাও তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল, তোমরা যেন ওটার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে। [১৮৩০; মুসলিম ৩৯/৩৭, হাঃ ২২৩৪, আহমাদ ৪৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৫)
হাদিস নং: ৪৯৩১
সহিহ (Sahih)
عبدة بن عبد الله اخبرنا يحيى بن ادم عن اسراىيل عن منصور بهذا وعن اسراىيل عن الاعمش عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله مثله وتابعه اسود بن عامر عن اسراىيل وقال حفص وابو معاوية وسليمان بن قرم عن الاعمش عن ابراهيم عن الاسود قال يحيى بن حماد اخبرنا ابو عوانة عن مغيرة عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله وقال ابن اسحاق عن عبد الرحمن بن الاسود عن ابيه عن عبد الله.
حدثنا قتيبة حدثنا جرير عن الاعمش عن ابراهيم عن الاسود قال قال عبد الله بينا نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في غار اذ نزلت عليه (والمرسلات) فتلقيناها من فيه وان فاه لرطب بها اذ خرجت حية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عليكم اقتلوها قال فابتدرناها فسبقتنا قال فقال وقيت شركم كما وقيتم شرها.
حدثنا قتيبة حدثنا جرير عن الاعمش عن ابراهيم عن الاسود قال قال عبد الله بينا نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في غار اذ نزلت عليه (والمرسلات) فتلقيناها من فيه وان فاه لرطب بها اذ خرجت حية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عليكم اقتلوها قال فابتدرناها فسبقتنا قال فقال وقيت شركم كما وقيتم شرها.
৪৯৩১. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। ইসরাঈল সূত্রে আসওয়াদ ইবনু ’আমির পূর্বের হাদীসটির অনুসরণ করেছেন। (অন্য সানাদে) হাফ্স, আবূ মু’আবীয়াহ এবং সুলাইমান ইবনু কারম (রহ.)....’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (অপর এক সানাদে) ইবনু ইসহাক (রহ.)....’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে ঠিক এমনি বর্ণনা করেছেন। [১৮৩০] (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৬)
’আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাস’ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক গুহার মধ্যে আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল সূরাহ ওয়াল মুরসালাত। আমরা তাঁর মুখ থেকে সেটা গ্রহণ করছিলাম। এ সুরার তিলাওয়াতে তখনও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ সিক্ত ছিঁল, হঠাৎ একটি সাপ বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’তোমরা ওটাকে মেরে ফেল।’’ ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, আমরা সেদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের আগে চলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটা তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল যেমনি তোমরা এর অনিষ্ট হতে বেঁচে গেলে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৭)
’আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাস’ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক গুহার মধ্যে আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল সূরাহ ওয়াল মুরসালাত। আমরা তাঁর মুখ থেকে সেটা গ্রহণ করছিলাম। এ সুরার তিলাওয়াতে তখনও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ সিক্ত ছিঁল, হঠাৎ একটি সাপ বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’তোমরা ওটাকে মেরে ফেল।’’ ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, আমরা সেদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের আগে চলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটা তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল যেমনি তোমরা এর অনিষ্ট হতে বেঁচে গেলে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৭)
হাদিস নং: ৪৯৩২
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان حدثنا عبد الرحمن بن عابس قال سمعت ابن عباس (انها ترمي بشرر كالقصر) قال كنا نرفع الخشب بقصر ثلاثة اذرع او اقل فنرفعه للشتاء فنسميه القصر
৪৯৩২. ’আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঐ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমরা তিন গজ বা এর চেয়ে ছোট কাঠের খন্ড জোগাড় করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রাখতাম। এটাকেই আমরা বলতাম الْقَصَرَ। [৪৯৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৮)
হাদিস নং: ৪৯৩৩
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا يحيى اخبرنا سفيان حدثني عبد الرحمن بن عابس سمعت ابن عباس رضي الله عنهما (ترمي بشرر كالقصر) قال كنا نعمد الى الخشبة ثلاثة اذرع او فوق ذلك فنرفعه للشتاء فنسميه القصر كانه جمالات صفر حبال السفن تجمع حتى تكون كاوساط الرجال.
৪৯৩৩. ’আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ আয়াত সম্পর্কে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমরা তিন গজ বা তার চেয়ে অধিক লম্বা কাষ্ঠ জড়ো করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রাখতাম। এটাকেই আমরা বলতাম الْقَصَرَ।جِمَالَاتٌ صُفْرٌ জাহাজের রশি, যা জমা করে রাখা হত। এমনকি তা মাঝারি গড়নের মানুষের সমান উঁচু হয়ে যেত। [৪৯৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৬৯)
হাদিস নং: ৪৯৩৪
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثني ابراهيم عن الاسود عن عبد الله قال بينما نحن مع النبي صلى الله عليه وسلم في غار اذ نزلت عليه (والمرسلات) فانه ليتلوها واني لاتلقاها من فيه وان فاه لرطب بها اذ وثبت علينا حية فقال النبي صلى الله عليه وسلم اقتلوها فابتدرناها فذهبت فقال النبي صلى الله عليه وسلم وقيت شركم كما وقيتم شرها قال عمر حفظته من ابي في غار بمنى.
৪৯৩৪. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক গুহায় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল ’সূরাহ ওয়াল মুরসালাত’। তিনি তা তিলাওয়াত করছিলেন, আর আমি তাঁর মুখ থেকে তা শিখছিলাম। তিলাওয়াতে তখনো তাঁর মুখ সিক্ত ছিল। হঠাৎ আমাদের সামনে একটি সাপ বেরিয়ে এলো। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটাকে মেরে ফেল। আমরা ওদিকে দৌড়িয়ে গেলাম। কিন্তু সাপটি চলে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটা তোমাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে গেল তোমরা যেমন তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেলে। ’উমার ইবনু হাফস্ বলেন, এ হাদীসটি আমি আমার পিতার নিকট হতে শুনে মুখস্থ করেছি। গুহাটি মিনায় অবস্থিত বলে উল্লেখ আছে। [১৮৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৭০)
হাদিস নং: ৪৯৩৫
সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا ابو معاوية عن الاعمش عن ابي صالح عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين النفختين اربعون قال اربعون يوما قال ابيت قال اربعون شهرا قال ابيت قال اربعون سنة قال ابيت قال ثم ينزل الله من السماء ماء فينبتون كما ينبت البقل ليس من الانسان شيء الا يبلى الا عظما واحدا وهو عجب الذنب ومنه يركب الخلق يوم القيامة
(78) سُوْرَةُ النبأ (عَمَّ يَتَسَاءَلُوْنَ)
সূরাহ (৭৮) : আননাবা
قَالَ مُجَاهِدٌ (لَا يَرْجُوْنَ حِسَابًا) لَا يَخَافُوْنَهُ (لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا) لَا يُكَلِّمُوْنَهُ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُمْ (صَوَابًا) حَقًّا فِي الدُّنْيَا وَعَمِلَ بِهِ (لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (ثَجاجًا) مُنْصَبًّا. (ألْفافًا) : مُلْتَفَّةً. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (وَهَّاجًا) مُضِيئًا وَقَالَ غَيْرُهُ (غَسَّاقًا)غَسَقَتْ عَيْنُهُ وَيَغْسِقُ الْجُرْحُ يَسِيْلُ كَأَنَّ الْغَسَاقَ وَالْغَسِيْقَ وَاحِدٌ (عَطَاءًحِسَابًا) جَزَاءً كَافِيًا أَعْطَانِيْ مَا أَحْسَبَنِيْ أَيْ كَفَانِي.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَا يَرْجُوْنَ حِسَابًا তারা কখনও হিসাবের ভয় করত না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ثَجاجًا অবিরাম বর্ষণ। ألْفافًا ঘন সন্নিবিষ্ট। لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا যাদেরকে আল্লাহ্ অনুমতি দিবেন, তাদের ছাড়া তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদনের ক্ষমতা কারো থাকবে না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَهَّاجًا উজ্জ্বল, ইবনু ’আব্বাস ব্যতীত অন্যরা বলেন, غَسَّاقًا যেমন আরবরা বলে, চোখে পিষ্টি হয়েছে এবং ক্ষত হতে পূঁজ চুয়ে চুয়ে পড়ছে। الْغَسَاقَ এবং الْغَسِيْقَ একই অর্থ বহন করে। عَطَاءً حِسَابًا যথোচিত দান। যেমন বলা হয়, أَعْطَانِيْ مَا أَحْسَبَنِيْ অর্থাৎ সে আমাকে যথেষ্ট দিয়েছে।
৪৯৩৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুৎকারের মধ্যে চল্লিশের ব্যবধান হবে। [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)]-এর জনৈক ছাত্র বললেন, চল্লিশ বলে-চল্লিশ দিন বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, আমি অস্বীকার করলাম। তারপর পুনরায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বলে চল্লিশ মাস বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও অস্বীকার করলাম। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বছর বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও আমি অস্বীকার করলাম। এরপর আল্লাহ্ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন। এতে মৃতরা জীবিত হয়ে উঠবে, যেমন বৃষ্টির পানিতে উদ্ভিদরাজি উৎপন্ন হয়ে থাকে। তখন শিরদাঁড়ার হাড় ছাড়া মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন ঐ হাড়খন্ড থেকেই আবার মানুষকে সৃষ্টি করা হবে। [৪৮১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৭১)
সূরাহ (৭৮) : আননাবা
قَالَ مُجَاهِدٌ (لَا يَرْجُوْنَ حِسَابًا) لَا يَخَافُوْنَهُ (لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا) لَا يُكَلِّمُوْنَهُ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُمْ (صَوَابًا) حَقًّا فِي الدُّنْيَا وَعَمِلَ بِهِ (لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (ثَجاجًا) مُنْصَبًّا. (ألْفافًا) : مُلْتَفَّةً. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (وَهَّاجًا) مُضِيئًا وَقَالَ غَيْرُهُ (غَسَّاقًا)غَسَقَتْ عَيْنُهُ وَيَغْسِقُ الْجُرْحُ يَسِيْلُ كَأَنَّ الْغَسَاقَ وَالْغَسِيْقَ وَاحِدٌ (عَطَاءًحِسَابًا) جَزَاءً كَافِيًا أَعْطَانِيْ مَا أَحْسَبَنِيْ أَيْ كَفَانِي.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَا يَرْجُوْنَ حِسَابًا তারা কখনও হিসাবের ভয় করত না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ثَجاجًا অবিরাম বর্ষণ। ألْفافًا ঘন সন্নিবিষ্ট। لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا যাদেরকে আল্লাহ্ অনুমতি দিবেন, তাদের ছাড়া তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদনের ক্ষমতা কারো থাকবে না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَهَّاجًا উজ্জ্বল, ইবনু ’আব্বাস ব্যতীত অন্যরা বলেন, غَسَّاقًا যেমন আরবরা বলে, চোখে পিষ্টি হয়েছে এবং ক্ষত হতে পূঁজ চুয়ে চুয়ে পড়ছে। الْغَسَاقَ এবং الْغَسِيْقَ একই অর্থ বহন করে। عَطَاءً حِسَابًا যথোচিত দান। যেমন বলা হয়, أَعْطَانِيْ مَا أَحْسَبَنِيْ অর্থাৎ সে আমাকে যথেষ্ট দিয়েছে।
৪৯৩৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুৎকারের মধ্যে চল্লিশের ব্যবধান হবে। [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)]-এর জনৈক ছাত্র বললেন, চল্লিশ বলে-চল্লিশ দিন বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, আমি অস্বীকার করলাম। তারপর পুনরায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বলে চল্লিশ মাস বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও অস্বীকার করলাম। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বছর বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও আমি অস্বীকার করলাম। এরপর আল্লাহ্ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন। এতে মৃতরা জীবিত হয়ে উঠবে, যেমন বৃষ্টির পানিতে উদ্ভিদরাজি উৎপন্ন হয়ে থাকে। তখন শিরদাঁড়ার হাড় ছাড়া মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন ঐ হাড়খন্ড থেকেই আবার মানুষকে সৃষ্টি করা হবে। [৪৮১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৭১)
হাদিস নং: ৪৯৩৬
সহিহ (Sahih)
احمد بن المقدام حدثنا الفضيل بن سليمان حدثنا ابو حازم حدثنا سهل بن سعد رضي الله عنه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال باصبعيه هكذا بالوسطى والتي تلي الابهام بعثت والساعة كهاتين.
(79) سُوْرَةُ وَالنَّازِعَاتِ
সূরাহ (৭৯) : আন্-নাযি’আত
(زَجْرَةٌ) : صَيْحَةٌ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ) : هِيَ الزَّلْزَلَةُ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْاٰيَةَ الْكُبْرٰى) عَصَاهُ وَيَدُهُ. (سَمكَهَا) : بَنَاها بِغَيْرِ عَمَدٍ. (طَغٰى) عَصَى. يُقَالُ النَّاخِرَةُ وَالنَّخِرَةُ سَوَاءٌ مِثْلُ الطَّامِعِ وَالطَّمِعِ وَالْبَاخِلِ وَالْبَخِيْلِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ النَّخِرَةُ الْبَالِيَةُ وَالنَّاخِرَةُ الْعَظْمُ الْمُجَوَّفُ الَّذِيْ تَمُرُّ فِيْهِ الرِّيْحُ فَيَنْخَرُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الْحَافِرَةِ) الَّتِيْ أَمْرُنَا الْأَوَّلُ إِلَى الْحَيَاةِ وَقَالَ غَيْرُهُ (أَيَّانَ مُرْسٰهَا) مَتَى مُنْتَهَاهَا وَمُرْسَى السَّفِيْنَةِ حَيْثُ تَنْتَهِي الطَّامَّةُ تَطِمُّ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ.
زَجْرَةٌ আওয়াজ বা শব্দ। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ দ্বারা ভূমিকম্প বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْاٰيَةَ الْكُبْرَى তার [মূসা (আঃ)] লাঠি এবং তার হাত। سَمكَها আকাশকে স্তম্ভ ব্যতীত নির্মাণ করেছেন। طَغَى লাঠি। النَّاخِرَةُ ও النَّخِرَةُ সমার্থবোধক শব্দ। যেমন الطَّامِعِ ও الطَّمِعِ এবং الْبَاخِلِ ও الْبَخِيْلِএক অর্থবোধক শব্দ। কোন কোন মুফাস্সির বলেছেন, النَّخِرَةُ গলিত (হাড্ডি) এবং النَّاخِرَةُ খোল হাড্ডি, যার মধ্যে বাতাস ঢোকার পর আওয়াজ সৃষ্টি হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْحَافِرَةِ পূর্ব জীবন। ইবনু ’আব্বাস ছাড়া অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন,أَيَّانَ مُرْسٰهَا কিয়ামতের শেষ কোথায়? যেমন (আরবী ভাষায়) জাহাজ নোঙ্গর করার স্থানকে مُرْسَى السَّفِيْنَةِ বলে।
৪৯৩৬. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মধ্যমা ও বুড়ো আঙ্গুলের নিকটবর্তী অঙ্গুলিদ্বয় এভাবে একত্র করে বললেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ও আমাকে এমনিভাবে পাঠানো হয়েছে। [৫৩০১, ৬৫০৩; মুসলিম ৫২/২৬, হাঃ ২৯৫০, আহমাদ ২২৮৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৭২)
সূরাহ (৭৯) : আন্-নাযি’আত
(زَجْرَةٌ) : صَيْحَةٌ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ) : هِيَ الزَّلْزَلَةُ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْاٰيَةَ الْكُبْرٰى) عَصَاهُ وَيَدُهُ. (سَمكَهَا) : بَنَاها بِغَيْرِ عَمَدٍ. (طَغٰى) عَصَى. يُقَالُ النَّاخِرَةُ وَالنَّخِرَةُ سَوَاءٌ مِثْلُ الطَّامِعِ وَالطَّمِعِ وَالْبَاخِلِ وَالْبَخِيْلِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ النَّخِرَةُ الْبَالِيَةُ وَالنَّاخِرَةُ الْعَظْمُ الْمُجَوَّفُ الَّذِيْ تَمُرُّ فِيْهِ الرِّيْحُ فَيَنْخَرُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الْحَافِرَةِ) الَّتِيْ أَمْرُنَا الْأَوَّلُ إِلَى الْحَيَاةِ وَقَالَ غَيْرُهُ (أَيَّانَ مُرْسٰهَا) مَتَى مُنْتَهَاهَا وَمُرْسَى السَّفِيْنَةِ حَيْثُ تَنْتَهِي الطَّامَّةُ تَطِمُّ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ.
زَجْرَةٌ আওয়াজ বা শব্দ। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ দ্বারা ভূমিকম্প বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْاٰيَةَ الْكُبْرَى তার [মূসা (আঃ)] লাঠি এবং তার হাত। سَمكَها আকাশকে স্তম্ভ ব্যতীত নির্মাণ করেছেন। طَغَى লাঠি। النَّاخِرَةُ ও النَّخِرَةُ সমার্থবোধক শব্দ। যেমন الطَّامِعِ ও الطَّمِعِ এবং الْبَاخِلِ ও الْبَخِيْلِএক অর্থবোধক শব্দ। কোন কোন মুফাস্সির বলেছেন, النَّخِرَةُ গলিত (হাড্ডি) এবং النَّاخِرَةُ খোল হাড্ডি, যার মধ্যে বাতাস ঢোকার পর আওয়াজ সৃষ্টি হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْحَافِرَةِ পূর্ব জীবন। ইবনু ’আব্বাস ছাড়া অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন,أَيَّانَ مُرْسٰهَا কিয়ামতের শেষ কোথায়? যেমন (আরবী ভাষায়) জাহাজ নোঙ্গর করার স্থানকে مُرْسَى السَّفِيْنَةِ বলে।
৪৯৩৬. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মধ্যমা ও বুড়ো আঙ্গুলের নিকটবর্তী অঙ্গুলিদ্বয় এভাবে একত্র করে বললেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ও আমাকে এমনিভাবে পাঠানো হয়েছে। [৫৩০১, ৬৫০৩; মুসলিম ৫২/২৬, হাঃ ২৯৫০, আহমাদ ২২৮৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৭২)
হাদিস নং: ৪৯৩৭
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا قتادة قال سمعت زرارة بن اوفى يحدث عن سعد بن هشام عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مثل الذي يقرا القران وهو حافظ له مع السفرة الكرام البررة ومثل الذي يقرا وهو يتعاهده وهو عليه شديد فله اجران.
(80) سُوْرَةُ عَبَسَ
সূরাহ (৮০) : ’আবাসা
(عَبَسَ) وَتَوَلَّى كَلَحَ وَأَعْرَضَ وَقَالَ غَيْرُهُ مُطَهَّرَةٍ لَا يَمَسُّهَا إِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ وَهُمْ الْمَلَائِكَةُ وَهَذَا مِثْلُ قَوْلِهِ (فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا) جَعَلَ الْمَلَائِكَةَ وَالصُّحُفَ مُطَهَّرَةً لِأَنَّ الصُّحُفَ يَقَعُ عَلَيْهَا التَّطْهِيْرُ فَجُعِلَ التَّطْهِيْرُ لِمَنْ حَمَلَهَا أَيْضًا (سَفَرَةٍ) الْمَلَائِكَةُ وَاحِدُهُمْ سَافِرٌ سَفَرْتُ أَصْلَحْتُ بَيْنَهُمْ وَجُعِلَتْ الْمَلَائِكَةُ إِذَا نَزَلَتْ بِوَحْيِ اللهِ وَتَأْدِيَتِهِ كَالسَّفِيْرِ الَّذِيْ يُصْلِحُ بَيْنَ الْقَوْمِ وَقَالَ غَيْرُهُ (تَصَدَّى) تَغَافَلَ عَنْهُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ لَمَّا يَقْضِ (لمَاَّ يَقْضِي) أَحَدٌ مَا أُمِرَ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (تَرْهَقُهَا) تَغْشَاهَا شِدَّةٌ (مُسْفِرَةٌ) مُشْرِقَةٌ (بِأَيْدِيْ سَفَرَةٍ) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَتَبَةٍ (أَسْفَارًا) كُتُبًا (تَلَهَّى) تَشَاغَلَ يُقَالُ وَاحِدُ الْأَسْفَارِ سِفْرٌ.
عَبَسَ সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। مُطَهَّرَة অর্থ যারা পূত-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। এখানে পূত-পবিত্র বলে মালাইকাকে বোঝানো হয়েছে। উল্লিখিত আয়াতটি আল্লাহর বাণীঃ فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا এর অনুরূপ। পূর্বের আয়াতে মালাক এবং সহীফা উভয়কেই مُطَهَّرَةً বলা হয়েছে। অথচ التَّطْهِيْرُ এর সম্পর্ক মূলতঃ সহীফার সঙ্গে, মালায়িকার সঙ্গে নয়। তবে মালাক যেহেতু উক্ত সহীফার হামিল ও বাহক, এই হিসাবে মালাককেও مُطَهَّرَةً বলা হয়েছে। سَفَرَةٍ অর্থ মালাক (ফেরেশতা)। এর এক বচন হচ্ছে سَافِرٌ।سَفَرْتُ أَصْلَحْتُ بَيْنَهُمْ আমি তাদের বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছি। ওয়াহী অবতীর্ণ করত তা নবীদের (নবীদের) পর্যন্ত পৌঁছানোর দায়িত্ব অর্পণ করে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন মালাকগণকে السَّفِيْرِ (দূত) সদৃশ ঘোষণা করেছেন যিনি কওমের পরস্পর বিবাদ মীমাংসা করেন। অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, تَصَدَّى সে এর থেকে অমনোযোগিতা প্রকাশ করেছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لمَاَّ يَقْضِيْ তিনি তাকে যা আদেশ করেছেন, সে এখনও তা পুরাপুরি করেনি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, تَرْهَقُهَا মানে সেগুলোকে আচ্ছন্ন করবে এক মহাবিপদ। مُسْفِرَةٌ উজ্জ্বল। بِأَيْدِيْ سَفَرَةٍ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, أَسْفَارًا কিতাবসমূহ। تَلَهَّى তুমি ব্যস্ত হলে। বলা হয়أَسْفَارِ এর একবচন سِفْرٌ।
৪৯৩৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, কুরআনের হাফিয পাঠক লিপিকর সম্মানিত মালাকের মত। খুব কষ্টদায়ক হওয়া সত্ত্বেও যে বারবার কুরআন মাজীদ পাঠ করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে। [মুসলিম ৬/৩৮, হাঃ ৭৯৮, আহমাদ ২৪৭২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৭৩)
সূরাহ (৮০) : ’আবাসা
(عَبَسَ) وَتَوَلَّى كَلَحَ وَأَعْرَضَ وَقَالَ غَيْرُهُ مُطَهَّرَةٍ لَا يَمَسُّهَا إِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ وَهُمْ الْمَلَائِكَةُ وَهَذَا مِثْلُ قَوْلِهِ (فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا) جَعَلَ الْمَلَائِكَةَ وَالصُّحُفَ مُطَهَّرَةً لِأَنَّ الصُّحُفَ يَقَعُ عَلَيْهَا التَّطْهِيْرُ فَجُعِلَ التَّطْهِيْرُ لِمَنْ حَمَلَهَا أَيْضًا (سَفَرَةٍ) الْمَلَائِكَةُ وَاحِدُهُمْ سَافِرٌ سَفَرْتُ أَصْلَحْتُ بَيْنَهُمْ وَجُعِلَتْ الْمَلَائِكَةُ إِذَا نَزَلَتْ بِوَحْيِ اللهِ وَتَأْدِيَتِهِ كَالسَّفِيْرِ الَّذِيْ يُصْلِحُ بَيْنَ الْقَوْمِ وَقَالَ غَيْرُهُ (تَصَدَّى) تَغَافَلَ عَنْهُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ لَمَّا يَقْضِ (لمَاَّ يَقْضِي) أَحَدٌ مَا أُمِرَ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (تَرْهَقُهَا) تَغْشَاهَا شِدَّةٌ (مُسْفِرَةٌ) مُشْرِقَةٌ (بِأَيْدِيْ سَفَرَةٍ) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَتَبَةٍ (أَسْفَارًا) كُتُبًا (تَلَهَّى) تَشَاغَلَ يُقَالُ وَاحِدُ الْأَسْفَارِ سِفْرٌ.
عَبَسَ সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। مُطَهَّرَة অর্থ যারা পূত-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। এখানে পূত-পবিত্র বলে মালাইকাকে বোঝানো হয়েছে। উল্লিখিত আয়াতটি আল্লাহর বাণীঃ فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا এর অনুরূপ। পূর্বের আয়াতে মালাক এবং সহীফা উভয়কেই مُطَهَّرَةً বলা হয়েছে। অথচ التَّطْهِيْرُ এর সম্পর্ক মূলতঃ সহীফার সঙ্গে, মালায়িকার সঙ্গে নয়। তবে মালাক যেহেতু উক্ত সহীফার হামিল ও বাহক, এই হিসাবে মালাককেও مُطَهَّرَةً বলা হয়েছে। سَفَرَةٍ অর্থ মালাক (ফেরেশতা)। এর এক বচন হচ্ছে سَافِرٌ।سَفَرْتُ أَصْلَحْتُ بَيْنَهُمْ আমি তাদের বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছি। ওয়াহী অবতীর্ণ করত তা নবীদের (নবীদের) পর্যন্ত পৌঁছানোর দায়িত্ব অর্পণ করে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন মালাকগণকে السَّفِيْرِ (দূত) সদৃশ ঘোষণা করেছেন যিনি কওমের পরস্পর বিবাদ মীমাংসা করেন। অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, تَصَدَّى সে এর থেকে অমনোযোগিতা প্রকাশ করেছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لمَاَّ يَقْضِيْ তিনি তাকে যা আদেশ করেছেন, সে এখনও তা পুরাপুরি করেনি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, تَرْهَقُهَا মানে সেগুলোকে আচ্ছন্ন করবে এক মহাবিপদ। مُسْفِرَةٌ উজ্জ্বল। بِأَيْدِيْ سَفَرَةٍ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, أَسْفَارًا কিতাবসমূহ। تَلَهَّى তুমি ব্যস্ত হলে। বলা হয়أَسْفَارِ এর একবচন سِفْرٌ।
৪৯৩৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, কুরআনের হাফিয পাঠক লিপিকর সম্মানিত মালাকের মত। খুব কষ্টদায়ক হওয়া সত্ত্বেও যে বারবার কুরআন মাজীদ পাঠ করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে। [মুসলিম ৬/৩৮, হাঃ ৭৯৮, আহমাদ ২৪৭২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৭৩)