অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৪৭৮ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن عبد الملك عن عمرو بن حريث عن سعيد بن زيد رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الكماة من المن وماوها شفاء للعين
(وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمْ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ الْمَنَّ وَالسَّلْوٰى كُلُوْا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُوْنَا وَلٰكِنْ كَانُوْآ أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُوْنَ)

وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْمَنُّ)صَمْغَةٌ (وَالسَّلْوَى) الطَّيْرُ.

‘‘আর আমি মেঘমালা দিয়ে তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া। তোমরা খাও সেসব পবিত্র বস্তু যা আমি তোমাদের দান করেছি। তারা আমার প্রতি কোন জুলুম করেনি, বরং তারা নিজেদের উপরই জুলুম করেছিল।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৫৭)

মুজাহিদ (রহ.) বলেন, মান্ন শিশির জাতীয় সুস্বাদু খাদ্য (যা পাথর ও গাছের উপর অবতীর্ণ হত পরে জমে গিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো হত) আর সাল্ওয়া-পাখি।


৪৪৭৮. সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...... -আল কামাআত (ব্যাঙের ছাতা) মান্ন জাতীয়। আর তার পানি চোখের রোগের প্রতিষেধক। [৪৬৩৯, ৫৭০৮; মুসলিম ৩৬/২৮, হাঃ ২০৪৯, আহমাদ ১৬২৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৩)

 
হাদিস নং: ৪৪৭৯ সহিহ (Sahih)
محمد حدثنا عبد الرحمن بن مهدي عن ابن المبارك عن معمر عن همام بن منبه عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال قيل لبني اسراىيل (ادخلوا الباب سجدا وقولوا حطة) فدخلوا يزحفون على استاههم فبدلوا وقالوا حطة حبة في شعرة.
(وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوْا هٰذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوْا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَّقُوْلُوْا حِطَّةٌ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيْدُ الْمُحْسِنِيْنَ) رَغَدًا وَاسِعٌ كَثِيْرٌ.

‘‘স্মরণ করুন, যখন আমি বললাম, এই জনপদে প্রবেশ কর, যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দে খাও, অবনত মস্তকে প্রবেশ কর দ্বার দিয়ে এবং বল حِطَّةٌ-‘ক্ষমা চাই’। আমি তোমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করব’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৫৮)। رَغَدًا প্রভূত স্বাচ্ছন্দ্য।


৪৪৭৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী ইসরাঈলকে বলা হয়েছিল যে, তোমরা সিজদা্ অবস্থায় নগর দ্বারে প্রবেশ কর এবং বল حِطَّةٌ (ক্ষমা চাই) কিন্তু তারা প্রবেশ করল নিতম্ব হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে এবং শব্দকে পরিবর্তন করে তদস্থলে বলল, গম ও যবের দানা। [৩৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৪)

 
হাদিস নং: ৪৪৮০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن منير سمع عبد الله بن بكر حدثنا حميد عن انس قال سمع عبد الله بن سلام بقدوم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في ارض يخترف فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اني ساىلك عن ثلاث لا يعلمهن الا نبي فما اول اشراط الساعة وما اول طعام اهل الجنة وما ينزع الولد الى ابيه او الى امه قال اخبرني بهن جبريل انفا قال جبريل قال نعم قال ذاك عدو اليهود من الملاىكة فقرا هذه الاية (من كان عدوا لجبريل فانه” نزله” على قلبك) باذن الله اما اول اشراط الساعة فنار تحشر الناس من المشرق الى المغرب واما اول طعام ياكله اهل الجنة فزيادة كبد حوت واذا سبق ماء الرجل ماء المراة نزع الولد واذا سبق ماء المراة نزعت قال اشهد ان لا اله الا الله واشهد انك رسول الله يا رسول الله ان اليهود قوم بهت وانهم ان يعلموا باسلامي قبل ان تسالهم يبهتوني فجاءت اليهود فقال النبي صلى الله عليه وسلم اي رجل عبد الله فيكم قالوا خيرنا وابن خيرنا وسيدنا وابن سيدنا قال ارايتم ان اسلم عبد الله بن سلام فقالوا اعاذه الله من ذلك فخرج عبد الله فقال اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله فقالوا شرنا وابن شرنا وانتقصوه قال فهذا الذي كنت اخاف يا رسول الله.
(مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيْلَ) وَقَالَ عِكْرِمَةُ جَبْرَ وَمِيْكَ وَسَرَافِ عَبْدٌ إِيْلْ اللهُ.

’’যারা জিবরীলের শত্রুতা করবে।’’ ’ইকরিমাহ (রহ.) বলেন, জবর, মীক, সরাফ অর্থ ’আবদ-বান্দা, ঈল-আল্লাহ্। (অর্থ হল ’আবদুল্লাহ-আল্লাহর বান্দা) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৪)

৪৪৮০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শুভাগমনের খবর পেলেন। তখন তিনি (’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম) বাগানে ফল সংগ্রহ করছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব যা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কেউ জানেন না। তা হল কিয়ামতের প্রথম আলামাত কী? জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কী হবে? এবং সন্তান কখন পিতার মত হয় আর কখন মাতার মত হয়? নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে জিব্রীল (আঃ) এখনই এসব ব্যাপারে জানিয়ে গেলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, জিবরীল? নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলল, হ্যাঁ। ইবনু সালাম বললেন, সে তো মালায়িকাদের মধ্যে ইয়াহূদীদের শত্রু। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করলেন, আপনি বলে দিনঃ যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু- এ কারণে যে, সে আল্লাহর নির্দেশে আপনার অন্তরে কুরআন অবতীর্ণ করেছে- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৯৭)। কিয়ামতের প্রথম আলামাত হল, এক রকম আগুন মানুষদেরকে পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত একত্রিত করবে। আর জান্নাতীরা প্রথমে যা খাবেন তা হল মাছের কলিজার টুকরা। আর যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান পিতার আকৃতি পায় এবং যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান মাতার আকৃতি পায়। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল। হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহূদরা চরম মিথ্যারোপকারী। যদি তারা আপনার প্রশ্ন করার পূর্বেই আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জেনে যায় তবে তারা আমার প্রতি অপবাদ আরোপ করবে। ইতোমধ্যে ইয়াহূদীরা এসে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদীদের জিজ্ঞেস করলেন, আবদুল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেমন লোক? তারা উত্তর দিল, তিনি আমাদের মধ্যে উত্তম এবং আমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র। তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার ছেলে। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম ইসলাম গ্রহণ করেন, তাহলে তোমাদের অভিমত কী? তারা বলল, আল্লাহ তাকে এর থেকে রক্ষা করুন। তখন [’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)] বের হয়ে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। তখন তারা বলল, সে আমাদের মধ্যে মন্দ ব্যক্তি ও মন্দ ব্যক্তির ছেলে। তারপর তারা ইবনু সালাম (রাঃ)-কে দোষী সাব্যস্ত করে সমালোচনা করতে লাগল। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এটাই আমি আশঙ্কা করছিলাম। [৩৩২৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৫)
হাদিস নং: ৪৪৮১ সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا يحيى حدثنا سفيان عن حبيب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال قال عمر رضي الله عنه اقرونا ابي واقضانا علي وانا لندع من قول ابي وذاك ان ابيا يقول لا ادع شيىا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد قال الله تعالى (ما ننسخ من اية او ننسها)
৪৪৮১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেন, উবাই (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ক্বারী, আর ‘আলী (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক। কিন্তু আমরা উবাই (রাঃ)-এর কিছু কথা বাদ দেই। কারণ উবাই (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছি তার কিছুই ছাড়ব না। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি যে আয়াত রহিত করি অথবা ভুলিয়ে দেই ........ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১০৬)। [৫০০৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৬)
হাদিস নং: ৪৪৮২ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن عبد الله بن ابي حسين حدثنا نافع بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال قال الله كذبني ابن ادم ولم يكن له ذلك وشتمني ولم يكن له ذلك فاما تكذيبه اياي فزعم اني لا اقدر ان اعيده كما كان واما شتمه اياي فقوله لي ولد فسبحاني ان اتخذ صاحبة او ولدا
৪৪৮২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আদম সন্তান আমার ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে। অথচ তার এ কাজ ঠিক নয়। আমাকে গালি দিয়েছে অথচ তার জন্য এটা ঠিক নয়। তার আমার প্রতি মিথ্যারোপ হল, সে বলে যে, আমি তাকে (মৃত্যুর) পূর্বের মত পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম নই। আর আমাকে তার গালি দেয়া হল-তার এ কথা যে, আমার সন্তান আছে অথচ আমি স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে পবিত্র। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১১৭)
হাদিস নং: ৪৪৮৩ সহিহ (Sahih)
مسدد عن يحيى بن سعيد عن حميد عن انس قال قال عمر وافقت الله في ثلاث او وافقني ربي في ثلاث قلت يا رسول الله لو اتخذت مقام ابراهيم مصلى وقلت يا رسول الله يدخل عليك البر والفاجر فلو امرت امهات المومنين بالحجاب فانزل الله اية الحجاب قال وبلغني معاتبة النبي صلى الله عليه وسلم بعض نساىه فدخلت عليهن قلت ان انتهيتن او ليبدلن الله رسوله صلى الله عليه وسلم خيرا منكن حتى اتيت احدى نساىه قالت يا عمر اما في رسول الله ما يعظ نساءه حتى تعظهن انت فانزل الله : (عسى ربه” ان طلقكن ان يبدله” ازواجا خيرا منكن مسلمت)
وقال ابن ابي مريم اخبرنا يحيى بن ايوب حدثني حميد سمعت انسا عن عمر
(مَثَابَةً) يَثُوْبُوْنَ يَرْجِعُوْنَ.

مَثَابَةً-ফিরে আসার স্থান। يَثُوْبُوْنَ লোকজন প্রত্যাবর্তন করে।

৪৪৮৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মতামত আল্লাহর ওয়াহীর অনুরূপ হয়েছে অথবা (তিনি বলেছেন) তিনটি বিষয়ে আমার মতামতের অনুকূলে আল্লাহ ওয়াহী অবতীর্ণ করেছেন। তা হল, আমি বলেছিলাম হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ করতেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন ....... তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সালাতের জায়গারূপে গ্রহণ কর- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১২৫)। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারের লোক আসে। কাজেই আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদেরকে পর্দা করার আদেশ করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কতক স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তখন আমি তাদের কাছে উপস্থিত হই এবং বলি যে, আপনারা এর থেকে বিরত থাকুন নচেৎ আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আপনাদের পরিবর্তে উত্তম স্ত্রী দান করবেন। এরপর আমি তাঁর কোন স্ত্রীর কাছে আসি, তখন তিনি বললেন, হে ’উমার! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারেও নাক গলাতে শুরু করেছ। তিনি সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীগণকে নাসীহাত করে থাকেন আর এখন তুমি তাদের নাসীহাত করতে আরম্ভ করেছ? তখন আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেন عَسٰى رَبُّه إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبَدِّلَه أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمٰتٍ ’’যদি নবী তোমাদের সবাইকে তালাক দেন, তবে তাঁর রব অচিরেই তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী তাঁকে দিবেন, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, অনুগত, তওবাকারিণী, ’ইবাদাতকারিণী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী ও কুমারী’’- (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/৫)।

ইবনু আবী মারইয়াম (রহ.) বলেন, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ’উমার (রাঃ) আমার কাছে এরূপ বলেছেন। [৪০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৮)
হাদিস নং: ৪৪৮৪ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ابن شهاب عن سالم بن عبد الله ان عبد الله بن محمد بن ابي بكر اخبر عبد الله بن عمر عن عاىشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الم تري ان قومك بنوا الكعبة واقتصروا عن قواعد ابراهيم فقلت يا رسول الله الا تردها على قواعد ابراهيم قال لولا حدثان قومك بالكفر فقال عبد الله بن عمر لىن كانت عاىشة سمعت هذا من رسول الله ما ارى رسول الله صلى الله عليه وسلم ترك استلام الركنين اللذين يليان الحجر الا ان البيت لم يتمم على قواعد ابراهيم
(وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيْمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيْلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ)

(الْقَوَاعِدُ) : أَسَاسُهُ وَاحِدَتُهَا، قَاعِدَةٌ، وَالْقَوَاعِدُ مِنْ النِّسَاءِ وَاحِدُهَا : قَاعِدٌ.

‘‘স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কা‘বাঘরের ভিত নির্মাণ করছিল তখন তারা দু‘আ করেছিলঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এ প্রয়াস ক্ববূল কর, নিশ্চয় তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১২৭)

الْقَوَاعِدُ ভিত্তি, একবচনে কায়িদাতু قَاعِدَةٌ।  আল কাওয়ায়িদ মহিলাদের সম্পর্কে বলা হলে এর অর্থ বৃদ্ধা নারী, তখন এর একবচন قَاعِدٌ হবে।


৪৪৮৪. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার কি জানা নেই যে, তোমার সম্প্রদায় কুরাইশ কা‘বা তৈরী করেছে এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির থেকে ছোট নির্মাণ করেছে? [‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন] আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর কা‘বাকে আবার নির্মাণ করবেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার গোত্রের কুফরীর যুগ নিকট অতীতে না হত। এ কথা শুনে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি ‘আয়িশাহ (রাঃ) এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তবে আমার মনে হয় যে এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ সংলগ্ন দু’ রুকনকে চুম্বন করতেন না, বর্জন করেছেন, যেহেতু বাইতুল্লাহর নির্মাণ কাজ ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিতের উপর সম্পূর্ণ করা হয়নি। [১২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৯)

 
হাদিস নং: ৪৪৮৫ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا عثمان بن عمر اخبرنا علي بن المبارك عن يحيى بن ابي كثير عن ابي سلمة عن ابي هريرة رضي الله عنه قال كان اهل الكتاب يقرءون التوراة بالعبرانية ويفسرونها بالعربية لاهل الاسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تصدقوا اهل الكتاب ولا تكذبوهم وقولوا (امنا بالله وما انزل الينا)
৪৪৮৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব (ইয়াহূদী) ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের কাছে তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আহলে কিতাবকে বিশ্বাসও কর না আর অবিশ্বাসও কর না এবং (আল্লাহর বাণী) ‘‘তোমরা বল, আমরা আল্লাহ্তে ঈমান এনেছি এবং যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে . . . .’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৩৬)। [৭৩৬২, ৭৫৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩০)
হাদিস নং: ৪৪৮৬ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم سمع زهيرا عن ابي اسحاق عن البراء رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الى بيت المقدس ستة عشر شهرا او سبعة عشر شهرا وكان يعجبه ان تكون قبلته قبل البيت وانه صلى او صلاها صلاة العصر وصلى معه قوم فخرج رجل ممن كان صلى معه فمر على اهل المسجد وهم راكعون قال اشهد بالله لقد صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم قبل مكة فداروا كما هم قبل البيت وكان الذي مات على القبلة قبل ان تحول قبل البيت رجال قتلوا لم ندر ما نقول فيهم فانزل الله (وما كان الله ليضيع ايمانكم ان الله بالناس لرءوف رحيم)
(سَيَقُوْلُ السُّفَهَآءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمْ الَّتِيْ كَانُوْا عَلَيْهَا قُلْ لِّـلّٰهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِيْ مَنْ يَّشَآءُ إِلٰى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ)

‘‘অচিরেই নির্বোধ লোকেরা বলবেঃ কিসে ফিরিয়ে দিল তাদের সে কিবলা থেকে, যে কিবলা তারা এ যাবৎ অনুসরণ করে আসছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪২)


৪৪৮৬. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে ষোল অথবা সতের মাস যাবৎ বাইতুল মাকদাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর দিকে তার কিবলা হওয়াকে পছন্দ করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসর এর সালাত (কা‘বার দিকে মুখ করে) আদায় করেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে সালাত আদায়কারী একজন বের হন এবং তিনি একটি মসজিদের লোকেদের পার্শ্ব দিয়ে গেলেন তখন তারা রুকু অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মক্কার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছি। এ কথা শোনার পর তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন, সে অবস্থায় বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে গেলেন। আর যারা কিবলা বাইতুল্লাহর দিকে পরিবর্তনের পূর্বে বাইতুল মাকদাসের দিকে সালাত আদায় অবস্থায় মারা গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের সম্পর্কে আমরা কী বলব তা আমাদের জানা ছিল না। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- ‘‘আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান ব্যর্থ করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম মমতাময়, পরম দয়ালু’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৩)। [৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩১)

 
হাদিস নং: ৪৪৮৭ সহিহ (Sahih)
يوسف بن راشد حدثنا جرير وابو اسامة واللفظ لجرير عن الاعمش عن ابي صالح وقال ابو اسامة حدثنا ابو صالح عن ابي سعيد الخدري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعى نوح يوم القيامة فيقول لبيك وسعديك يا رب فيقول هل بلغت فيقول نعم فيقال لامته هل بلغكم فيقولون ما اتانا من نذير فيقول من يشهد لك فيقول محمد وامته فتشهدون انه قد بلغ ويكون الرسول عليكم شهيدا فذلك قوله جل ذكره : (وكذلك جعلناكم امة وسطا لتكونوا شهدآء على الناس ويكون الرسول عليكم شهيد) والوسط العدلز.
(وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَّسَطًا لِّتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَيْكُمْ شَهِيْدًا)

‘‘আর এভাবে আমি তোমদেরকে করেছি এক মধ্যপন্থী জাতি যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষ্যদাতা হও এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষ্যদাতা হন।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৪৩)


৪৪৮৭. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন নূহ্ (আঃ)-কে ডাকা হবে। তখন তিনি বলবেনঃ হে আমাদের রব! আমি আপনার পবিত্র নিকটে হাযির (তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) তুমি কি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছে দিয়েছিলে? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। এরপর তার উম্মতকে জিজ্ঞেস করা হবে, [নূহ (আঃ) কি] তোমাদের নিকট (আল্লাহর বাণী) পৌঁছে দিয়েছে? তারা তখন বলবে, আমাদের কাছে কোন ভয়প্রদর্শনকারী আসেনি। তখন আল্লাহ তা‘আলা [নূহ (আঃ)-কে] বলবেন, তোমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মতগণ। তখন তারা সাক্ষ্য দেবে যে, নূহ (আঃ) তাঁর উম্মতের নিকট আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন। এটাই মহান আল্লাহর বাণী ‘‘আর এ ভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি মধ্যপন্থী উম্মাত করেছি যাতে তোমরা মানবজাতির সাক্ষী হতে পার আর রাসূল তোমাদের সাক্ষী হন।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৩) ‘ওয়াসাত’ ন্যায়নিষ্ঠ। [৩৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩২)

 
হাদিস নং: ৪৪৮৮ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن سفيان عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر رضي الله عنهما بينا الناس يصلون الصبح في مسجد قباء اذ جاء جاء فقال انزل الله على النبي صلى الله عليه وسلم قرانا ان يستقبل الكعبة فاستقبلوها فتوجهوا الى الكعبة.
(وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِيْ كُنْتَ عَلَيْهَآ إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَّتَّبِعُ الرَّسُوْلَ مِمَّنْ يَّنْقَلِبُ عَلٰى عَقِبَيْهِ ط وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيْرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِيْنَ هَدَى اللهُ ط وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِيْعَ إِيْمَانَكُمْ ط إِنَّ اللهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوْفٌ رَّحِيْمٌ (143).

আপনি যে কিবলার এ যাবত অনুসরণ করছিলেন তাকে আমি এজন্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যাতে জানতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে, আর কে পিঠটান দেয়? আল্লাহ যাদের সৎপথ প্রদর্শন করেছেন তাদের ব্যতীত অন্যদের কাছে এটা নিশ্চিত কঠোরতর বিষয়। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান ব্যর্থ করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম মমতাময়, পরম দয়ালু। (সূরাহ আল-বাকারাহ্ ২/১৪৩)


৪৪৮৮. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন লোকেরা কূবা মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন যে, তিনি যেন (সালাতে) কা‘বার দিকে মুখ করেন। কাজেই আপনারাও কা‘বার দিকে মুখ করুন। তখন লোকেরা কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। [৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩৩)

 
হাদিস নং: ৪৪৮৯ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا معتمر عن ابيه عن انس رضي الله عنه قال لم يبق ممن صلى القبلتين غيري
(قَدْ نَرٰى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَآءِ ج فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضٰهَا ص فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ط) إِلَى قوله : (عَمَّا تَعْمَلُوْنَ).

‘‘বার বার আকাশের দিকে আপনার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করছি..... আল্লাহ সে সম্বন্ধে বেখবর নন যা তারা করে।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৪)


৪৪৮৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারা উভয় কিবলার (বাইতুল মাকদাস কা‘বা-এর) দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন তাদের মধ্যে আমি ব্যতীত আর কেউ বেঁচে নেই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩৪)

 
হাদিস নং: ৪৪৯০ সহিহ (Sahih)
دثنا خالد بن مخلد حدثنا سليمان حدثني عبد الله بن دينار عن ابن عمر رضي الله عنهما بينما الناس في الصبح بقباء جاءهم رجل فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد انزل عليه الليلة قران وامر ان يستقبل الكعبة الا فاستقبلوها وكان وجه الناس الى الشام فاستداروا بوجوههم الى الكعبة.
(وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِيْنَ أُوْتُوا الْكِتٰبَ بِكُلِّ اٰيَةٍ مَّا تَبِعُوْا قِبْلَتَكَ) إِلَى قَوْلِهِ : (إِنَّكَ إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِيْنَ).

‘‘যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের কাছে আপনি সমস্ত প্রমাণ পেশ করলেও তারা আপনার কিবলার অনুসরণ করবে না, আর আপনি তাদের কিবলা অনুসরণ করার নন। আর তারা একে অন্যের কিবলা অনুসরণ করে না। আপনি যদি আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বেন।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৫)


৪৪৯০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা লোকেরা মসজিদে কুবায় ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের কাছে একজন লোক এসে বলল, এ রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং কা‘বার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করার জন্য তিনি নির্দেশিত হয়েছেন। অতএব আপনারা কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিন। আর তখন লোকেদের চেহারা শামের দিকে ছিল। তখন তারা তাদের চেহারা কা‘বার দিকে ঘুরিয়ে নিলেন। [৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩৫)

 
হাদিস নং: ৪৪৯১ সহিহ (Sahih)
يحيى بن قزعة حدثنا مالك عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر قال بينا الناس بقباء في صلاة الصبح اذ جاءهم ات فقال ان النبي صلى الله عليه وسلم قد انزل عليه الليلة قران وقد امر ان يستقبل الكعبة فاستقبلوها وكانت وجوههم الى الشام فاستداروا الى الكعبة.
(اَلَّذِيْنَ اٰتَيْنَاهُمُ الْكِتٰبَ يَعْرِفُوْنَه” كَمَا يَعْرِفُوْنَ أَبْنَآءَهُمْ ط وَإِنَّ فَرِيْقًا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُوْنَ الْحَقَّ) إِلَى قَوْلِهِ : (فَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِيْنَ).

’’যাদের আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে সেরূপ চেনে, যেরূপ তারা তাদের পুত্রদের চেনে। আর তাদের একদল জেনেশুনে নিশ্চিতভাবে সত্য গোপন করে। প্রকৃত সত্য তো তা, যা তোমার পালনকর্তার তরফ থেকে প্রাপ্ত। কাজেই তুমি সন্দিহানদের দলভুক্ত হয়ো না।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৬-১৪৭)


৪৪৯১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা লোকেরা কুবা মসজিদে ফজরের সালাতে ছিলেন, তখন তাদের কাছে একজন আগন্তুক এসে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি এ রাতে কুরআন (এর আয়াত) অবতীর্ণ করা হয়েছে, আর এতে তিনি কা’বার দিকে মুখ ফিরানোর জন্য নির্দেশিত হয়েছেন। কাজেই আপনারা কা’বার দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিন। আর তখন তাদের মুখ শামের দিকে ছিল। তখন তারা কা’বার দিকে ঘুরে গেলেন। [৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩৬)

 
হাদিস নং: ৪৪৯২ সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن سفيان حدثني ابو اسحاق قال سمعت البراء رضي الله عنه قال صلينا مع النبي صلى الله عليه وسلم نحو بيت المقدس ستة عشر او سبعة عشر شهرا ثم صرفه نحو القبلة
(وَلِكُلٍّ وِّجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيْهَا فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرٰتِ ط صـ أَيْنَ مَا تَكُوْنُوْا يَأْتِ بِكُمُ اللهُ جَمِيْعًا ط إِنَّ اللهَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ (148)).

‘‘আর প্রত্যেকেরই রয়েছে একটি দিক, যেদিকে সে মুখ করে। সুতরাং তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাক না কেন, আল্লাহ তোমাদের সবাইকে একত্র সমবেত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৮)


৪৪৯২. বারাআ (ইবনু ‘আযিব) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ষোল অথবা সতের মাস ব্যাপী (মদিনা্তে) বাইতুল মাকদাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছি। তারপর আল্লাহ তাঁকে কা‘বার পানে ফিরিয়ে দেন। [৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩৭)

 
হাদিস নং: ৪৪৯৩ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عبد العزيز بن مسلم حدثنا عبد الله بن دينار قال سمعت ابن عمر رضي الله عنهما يقول بينا الناس في الصبح بقباء اذ جاءهم رجل فقال انزل الليلة قران فامر ان يستقبل الكعبة فاستقبلوها واستداروا كهيىتهم فتوجهوا الى الكعبة وكان وجه الناس الى الشام.
(وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ط وَإِنَّه” لَلْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ ط وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ (149)) شَطْرُهُ تِلْقَاؤُهُ.

’যেখান থেকেই তুমি বের হও না কেন, তোমার মুখ আল-মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও। নিশ্চয় এটা হল তোমার পালনকর্তার তরফ থেকে অবধারিত সত্য। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ বেখবর নন’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৯)। شَطْرُهُ সেই দিকে।


৪৪৯৩. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কূবা মসজিদে সাহাবীগণ ফজরের সালাত সম্পাদন করছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, আজ রাতে [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি] কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে কা’বার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই আপনারা সেদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিন। তখন তারা আপন আপন অবস্থায় মুখ ঘুরিয়ে নেন এবং কা’বার দিকে মুখ করেন। তখন তাদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল। [৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩৮)
হাদিস নং: ৪৪৯৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، قال بينما الناس في صلاة الصبح بقباء اذ جاءهم ات فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد انزل عليه الليلة، وقد امر ان يستقبل الكعبة، فاستقبلوها‏.‏ وكانت وجوههم الى الشام فاستداروا الى القبلة‏.‏
(وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ط وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ) إِلَى قَوْلِهِ : (وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ).

’’এবং যেখান থেকেই তুমি বের হও না কেন, তোমার মুখ আল-মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন সেদিকেই মুখ ফেরাবে, যাতে ..... তোমরা সৎপথে পরিচালিত হতে পার।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৫০)


৪৪৯৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কূবাতে সাহাবীগণ ফজরের সালাত সম্পাদন করছিলেন এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, রাসূলুল্লাহ এর প্রতি আজ রাতে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি কা’বার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছেন। অতএব আপনারাও সেদিকে মুখ ফিরিয়ে নিন। তাদের মুখ তখন ছিল সিরিয়ার দিকে। তখন তারা কা’বার দিকে ফিরে গেলেন। [৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৩৯)
হাদিস নং: ৪৪৯৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن ابيه انه قال قلت لعاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وانا يومىذ حديث السن ارايت قول الله تبارك وتعالى (ان الصفا والمروة من شعاىر الله ج فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما) فما ارى على احد شيىا ان لا يطوف بهما فقالت عاىشة كلا لو كانت كما تقول كانت فلا جناح عليه ان لا يطوف بهما انما انزلت هذه الاية في الانصار كانوا يهلون لمناة وكانت مناة حذو قديد وكانوا يتحرجون ان يطوفوا بين الصفا والمروة فلما جاء الاسلام سالوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فانزل الله (ان الصفا والمروة من شعاىر الله ج فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما).
(إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا ط وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا لا فَإِنَّ اللهَ شَاكِرٌ عَلِيْمٌ (158))

(شَعَآئِرٌ) : عَلَامَاتٌ وَاحِدَتُهَا شَعِيْرَةٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الصَّفْوَانُ الْحَجَرُ وَيُقَالُ الْحِجَارَةُ الْمُلْسُ الَّتِيْ لَا تُنْبِتُ شَيْئًا وَالْوَاحِدَةُ صَفْوَانَةٌ بِمَعْنَى الصَّفَا وَالصَّفَا لِلْجَمِيْعِ.

নিশ্চয় সাফা ও মারওয়াহ হল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা’বা ঘরে হাজ্জ বা ’উমরাহ পালন করে তার পক্ষে এ দু’টির মধ্যে প্রদক্ষিণ করাতে কোন পাপ নেই। আর কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন নেক কাজ করলে আল্লাহ তার পুরস্কার দেবেন, তিনি সর্বজ্ঞ। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৫৮)

شَعَائِرٌ হলো شَعِيْرَةٌ এর বহুবচন। নিদর্শন। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাফওয়ান অর্থ পাথর; বলা হত এমন পাথর যা কিছু উৎপন্ন করে না। একবচনে صَفْوَانَةٌ হয়ে থাকে। الصَّفَا বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।


৪৪৯৫. ’উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম- আর তখন আমি অল্প বয়সের ছিলাম।

মহান আল্লাহর বাণীঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? ’’নিশ্চয় সাফা ও মারওয়াহ হল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা’বা ঘরে হাজ্জ বা ’উমরাহ পালন করে তার পক্ষে এ দু’টির মধ্যে প্রদক্ষিণ করাতে কোন পাপ নেই’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৫৮)। আমি মনে করি উক্ত দুই পর্বত সায়ী না করলে কোন ব্যক্তির উপর গুনাহ বর্তাবে না। তখন ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, কক্ষনো তা নয়। তুমি যা বলছ যদি তাই হত তাহলে বলা হত এভাবে فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ ’’উভয় পর্বত তাওয়াফ না করাতে কোন গুনাহ বর্তাবে না। বস্তুতঃ এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের ব্যাপারে। তারা ’মানাত’-এর পূজা করত। আর ’মানাত’ ছিল কুদায়েদের পথে অবস্থিত। আনসারগণ সাফা এবং মারওয়াহর মধ্যে সায়ী করা খারাপ জানত। ইসলামের আগমনের পর তারা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন- إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا। [১৬৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৪০)
হাদিস নং: ৪৪৯৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن عاصم بن سليمان قال سالت انس بن مالك رضي الله عنه عن الصفا والمروة فقال كنا نرى انهما من امر الجاهلية فلما كان الاسلام امسكنا عنهما فانزل الله تعالى (ان الصفا والمروة من شعاىر الله ج فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما).
৪৪৯৬. ’আসিম ইবনু সুলাইমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে সাফা ও মারওয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা ঐ দু’টিকে জাহিলী যুগের কাজ বলে মনে করতাম। যখন ইসলাম আসল, তখন আমরা এ দু’টির মধ্যে সায়ী করা থেকে বিরত থাকি। তখন আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেন- إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ থেকে أَنْ يَطَّوَّفَ পর্যন্ত। [১৬৪৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৪১)
হাদিস নং: ৪৪৯৭ সহিহ (Sahih)
عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن شقيق عن عبد الله قال النبي كلمة وقلت اخرى قال النبي صلى الله عليه وسلم من مات وهو يدعو من دون الله ندا دخل النار وقلت انا من مات وهو لا يدعو لله ندا دخل الجنة.
(وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّتَّخِذُ مِنْ دُوْنِ اللهِ أَنْدَادًا) أَنْدَادًا : وَاحِدُهَا نِدٌّ.

’’মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে তাঁর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৬৫)

এখানে أَنْدَادًا অর্থ সমকক্ষ ও বরাবর। نِدٌّ এর একবচন।


৪৪৯৭. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কথা বললেন, আর আমি একটি বললাম। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে আহবান করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে যাবে। আর আমি বললাম, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে সমকক্ষ হিসেবে আহবান না করা অবস্থায় মারা যায়? (তিনি বললেন) সে জান্নাতে যাবে। [১২৩৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৪২)
অধ্যায় তালিকা