অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৮৯৮ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن عبد الوهاب حدثنا عبد العزيز اخبرني ثور عن ابي الغيث عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم لناله رجال من هولاء.
৪৮৯৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, আমাদের লোক অথবা তাদের কতক লোক অবশ্যই তা পেয়ে যাবে। [৪৮৯৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৩৪)
হাদিস নং: ৪৮৯৯ সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا خالد بن عبد الله حدثنا حصين عن سالم بن ابي الجعد وعن ابي سفيان عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال اقبلت عير يوم الجمعة ونحن مع النبيصلى الله عليه وسلم فثار الناس الا اثني عشر رجلا فانزل الله (واذا راوا تجارة او لهوا انفضوآ اليها).
৪৮৯৯. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার জুমু’আহর দিন একটি বাণিজ্য দল আসল, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। বারোজন লোক ছাড়া সকলেই সেদিকে ছুটে গেল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেনঃ ’’এবং যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক, তখন তারা (তোমাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে) তার দিকে ছুটে গেল-’’ (সূরাহ আল-জুমু’আহ ৬২/১১)।[৯৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৩৫)
হাদিস নং: ৪৯০০ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن رجاء حدثنا اسراىيل عن ابي اسحاق عن زيد بن ارقم قال كنت في غزاة فسمعت عبد الله بن ابي يقول لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا من حوله ولىن رجعنا من عنده ليخرجن الاعز منها الاذل فذكرت ذلك لعمي او لعمر فذكره للنبي صلى الله عليه وسلم فدعاني فحدثته فارسل رسول الله صلى الله عليه وسلم الى عبد الله بن ابي واصحابه فحلفوا ما قالوا فكذبني رسول الله صلى الله عليه وسلم وصدقه فاصابني هم لم يصبني مثله قط فجلست في البيت فقال لي عمي ما اردت الى ان كذبك رسول الله صلى الله عليه وسلم ومقتك فانزل الله تعالى (اذا جآءك المنفقون) فبعث الي النبي صلى الله عليه وسلم فقرا فقال ان الله قد صدقك يا زيد.
(63) سُوْرَةُ الْمُنَافِقِيْنَ

সূরাহ (৬৩) : মুনাফিকূন

৪৯০০. যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি শারীক হয়েছিলাম। তখন ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাইকে বলতে শুনলাম, আল্লাহর রাসূলের সঙ্গীদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল, আমরা মদিনা্য় ফিরলে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে। এ কথা আমি আমার চাচা কিংবা ’উমার (রাঃ)-এর কাছে বলে দিলাম। তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানালেন। ফলে তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁকে বিস্তারিত এ সব কথা বলে দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই এবং তার সাথী-সঙ্গীদের কাছে খবর পাঠালেন, তারা সকলেই কসম করে বলল, এমন কথা তারা বলেননি।

ফলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথাকে মিথ্যা ও তার কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন। এতে আমি এমন মনে কষ্ট পেলাম, যেরূপ কষ্ট আর কখনও পাইনি। আমি (মনের দুঃখে) ঘরে বসে গেলাম। আমার চাচা আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে মিথ্যাচারী মনে করেছেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে তুমি কী করে মনে করলে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন, ’’যখন মুনাফিকগণ তোমার কাছে আসে।’’ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং এ সূরাহ পাঠ করলেন। এরপর বললেন, হে যায়দ! আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। [৪৯০১, ৪৯০২, ৪৯০৩, ৪৯০৪; মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৭২, আহমাদ ১৯৩০৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৩৬)
হাদিস নং: ৪৯০১ সহিহ (Sahih)
ادم بن ابي اياس حدثنا اسراىيل عن ابي اسحاق عن زيد بن ارقم رضي الله عنه قال كنت مع عمي فسمعت عبد الله بن ابي ابن سلول يقول لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا وقال ايضا لىن رجعنا الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل فذكرت ذلك لعمي فذكر عمي لرسول الله صلى الله عليه وسلم فارسل رسول الله صلى الله عليه وسلم الى عبد الله بن ابي واصحابه فحلفوا ما قالوا فصدقهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذبني فاصابني هم لم يصبني مثله قط فجلست في بيتي فانزل الله عز وجل (اذا جآءك المنفقون) الى قوله (هم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله) الى قوله (ليخرجن الاعز منها الاذل) فارسل الي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقراها علي ثم قال ان الله قد صدقك.
৪৯০১. যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে ছিলাম। এ সময় আমি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গীদের জন্য ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তার থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল যে, আমরা মদিনা্য় ফিরলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে। এ কথা আমি আমার চাচার কাছে বলে দিলাম। আমার চাচা তা (রাসূল) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই এবং তার সাথী-সঙ্গীদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা সকলেই কসম করে বলল, তারা এ কথা বলেনি।

ফলে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কথাকে সত্য এবং আমার কথাকে মিথ্যা মনে করলেন। এতে আমার এমন দুঃখ হল যেমন দুঃখ আর কখনও হয়নি। এমনকি আমি ঘরে বসে গেলাম। তখন আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ ’’যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে।’’ থেকে ’’তারা বলে আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে’’ এবং ’’তথা থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে বহিষ্কৃত করবেই।’’ এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং আমার সামনে তা তিনি পাঠ করলেন। তারপর বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেছেন। [৪৯০০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৩৭)
হাদিস নং: ৪৯০২ সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة عن الحكم قال سمعت محمد بن كعب القرظي قال سمعت زيد بن ارقم رضي الله عنه قال لما قال عبد الله بن ابي لا تنفقوا على من عند رسول الله وقال ايضا لىن رجعنا الى المدينة اخبرت به النبي صلى الله عليه وسلم فلامني الانصار وحلف عبد الله بن ابي ما قال ذلك فرجعت الى المنزل فنمت فدعاني رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتيته فقال ان الله قد صدقك ونزل (هم الذين يقولون لا تنفقوا) الاية وقال ابن ابي زاىدة عن الاعمش عن عمرو عن ابن ابي ليلى عن زيد عن النبي صلى الله عليه وسلم
৪৯০২. যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই যখন বলল, ’’আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না’’ এবং এ-ও বলল যে, ’’যদি আমরা মদিনা্য় প্রত্যাবর্তন করি.....।’’ তখন এ খবর আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানিয়ে দিলাম। এ কারণে আনসারগণ আমাকে ভৎর্সনা করলেন এবং ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই কসম করে বলল, এমন কথা সে বলেনি। এরপর আমি আমার অবস্থানে ফিরে আসলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে সত্য বলে ঘোষণা করেছেন এবং অবতীর্ণ করেছেন- ’’তারা বলে তোমরা ব্যয় করবে না....শেষ পর্যন্ত। ইবনু আবূ যায়িদাহ (রহ.) উক্ত হাদীস যায়দ ইবনু আরকামের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [৪৯০০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৩৮)
হাদিস নং: ৪৯০৩ সহিহ (Sahih)
عمرو بن خالد حدثنا زهير بن معاوية حدثنا ابو اسحاق قال سمعت زيد بن ارقم قال خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر اصاب الناس فيه شدة فقال عبد الله بن ابي لاصحابه لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا من حوله وقال لىن رجعنا الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فاخبرته فارسل الى عبد الله بن ابي فساله فاجتهد يمينه ما فعل قالوا كذب زيد رسول الله صلى الله عليه وسلم فوقع في نفسي مما قالوا شدة حتى انزل الله عز وجل تصديقي في (اذا جآءك المنفقون) فدعاهم النبي صلى الله عليه وسلم ليستغفر لهم فلووا رءوسهم وقوله (خشب مسندة) قال كانوا رجالا اجمل شيء.
৪৯০৩. যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। সফরে এক কঠিন অবস্থা লোকদেরকে গ্রাস করে নিল। তখন ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই তার সাথী-সঙ্গীদেরকে বলল, ’’আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না যতক্ষণ তারা সরে পড়ে যারা তার আশে পাশে আছে।’’ সে এও বলল, ’’আমরা মদিনা্য় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই।’’ (এ কথা শুনে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম এবং তাঁকে এ সম্পর্কে জানালাম। তখন তিনি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাইকে ডেকে পাঠালেন। সে অতি জোর দিয়ে কসম খেয়ে বলল, এ কথা সে বলেনি। তখন লোকেরা বলল, যায়দ রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে। তাদের এ কথায় আমার খুব দুঃখ হল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তা’আলা আমার সত্যতার পক্ষে আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ’’যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে।’’ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ডাকলেন, যাতে তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, ’’কিন্তু তারা তাদের মাথা ফিরিয়ে নিল।’’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৩৯)

আল্লাহর বাণীঃ ’’দেয়ালে ঠেস লাগানো কাঠ সদৃশ’’- (সূরাহ মুনাফিকূন ৬৩/৪)। রাবী বলেন, লোকগুলো দেখতে খুব সুন্দর ছিল। [৪৯০০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৪৯০৪ সহিহ (Sahih)
. عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن زيد بن ارقم قال كنت مع عمي فسمعت عبد الله بن ابي ابن سلول يقول لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ولىن رجعنا الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل فذكرت ذلك لعمي فذكر عمي للنبي صلى الله عليه وسلم فدعاني فحدثته فارسل الى عبد الله بن ابي واصحابه فحلفوا ما قالوا وكذبني النبي صلى الله عليه وسلم وصدقهم فاصابني غم لم يصبني مثله قط فجلست في بيتي وقال عمي ما اردت الى ان كذبك النبي صلى الله عليه وسلم ومقتك فانزل الله تعالى (اذا جاءك المنافقون قالوا نشهد انك لرسول الله) وارسل الي النبي صلى الله عليه وسلم فقراها وقال ان الله قد صدقك
وَإِذَاقِيْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُوْلُ اللهِ لَوَّوْا رُؤُوْسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّوْنَ وَهُمْ مُّسْتَكْبِرُوْنَ)

আর যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা এসো আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা নিজেদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়। আর আপনি তাদের দেখবেন যে, তারা অহংকারের সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সূরাহ মুনাফিকুন ৬৩/৫)

حَرَّكُوا اسْتَهْزَءُوْا بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَيُقْرَأُ بِالتَّخْفِيْفِ مِنْ لَوَيْتُ.

لَوَّوْا তারা মাথা নেড়ে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ঠাট্টা করত। কেউ কেউ لَوَّوْا শব্দটিকে لَوَيْتُ (تَخْفِيْفِ সহকারে) পড়ে থাকেন।


৪৯০৪. যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে ছিলাম। এ সময় শুনলাম, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই ইবনু সালূল বলছে, ’’আল্লাহর রাসূলের সঙ্গীদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে’’ এবং ’’আমরা মদিনা্য় ফিরলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে’’। এ কথা আমি আমার চাচার কাছে জানালাম। আমার চাচা তা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানালেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন। আমি বিস্তারিতভাবে এ কথা তাঁর কাছে বললাম। তখন তিনি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই ও তার সাথী-সঙ্গীদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা সকলেই কসম করে বলল, এ কথা তারা বলেনি।

ফলে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মিথ্যাচারী ও তাদেরকে সত্যবাদী মনে করলেন। এতে আমি এমন দুঃখ পেলাম যে, এমন দুঃখ আর কখনও পাইনি। এরপর আমি ঘরে বসে গেলাম। তখন আমার চাচা আমাকে বললেন, এমন কাজের কেন ইচ্ছে করলে, যার ফলে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে মিথ্যাচারী স্থির করলেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন? এ সময় আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ ’’যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে তারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল’’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং সূরাটি আমার সামনে তিলাওয়াত করলেন ও বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেছেন। [৪৯০০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪০)
হাদিস নং: ৪৯০৫ সহিহ (Sahih)
علي حدثنا سفيان قال عمرو سمعت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال كنا في غزاة قال سفيان مرة في جيش فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الانصار فقال الانصاري يا للانصار وقال المهاجري يا للمهاجرين فسمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ما بال دعوى الجاهلية قالوا يا رسول الله كسع رجل من المهاجرين رجلا من الانصار فقال دعوها فانها منتنة فسمع بذلك عبد الله بن ابي فقال فعلوها اما والله لىن رجعنا الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقام عمر فقال يا رسول الله دعني اضرب عنق هذا المنافق فقال النبي صلى الله عليه وسلم دعه لا يتحدث الناس ان محمدا يقتل اصحابه وكانت الانصار اكثر من المهاجرين حين قدموا المدينة ثم ان المهاجرين كثروا بعد قال سفيان فحفظته من عمرو قال عمرو سمعت جابرا كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم
৪৯০৫. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান (রহ.) একবার جَيْشٍ এর স্থলে غَزَاةٍ বর্ণনা করেছেন। এ সময় জনৈক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী হে আনসারী ভাইগণ! বলে সাহায্য প্রার্থনা করলেন এবং মুহাজির সাহাবী, ওহে মুহাজির ভাইগণ! বলে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন, কী খবর, জাহিলী যুগের মত ডাকাডাকি করছ কেন? তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। তিনি বললেন, এমন ডাকাডাকি পরিত্যাগ কর। এটা অত্যন্ত গন্ধময় কথা। এরপর ঘটনাটি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবায়র কানে পৌঁছল, সে বলল, আচ্ছা, মুহাজিররা এমন কাজ করেছে? ’’আল্লাহর কসম! আমরা মদিনা্য় ফিরলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকেদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে।’

এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছল। তখন ’উমার (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এক্ষুণি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গী-সাথীদেরকে হত্যা করেন। জাবির (রাঃ) বলেন, মুহাজিররা যখন মদিনা্য় হিজরত করে আসেন, তখন মুহাজিরদের তুলনায় আনসাররা সংখ্যায় বেশি ছিলেন। অবশ্য পরে মুহাজিররা সংখ্যায় বেশি হয়ে যান। সুফ্ইয়ান (রহ.).....বলেন, এ হাদীসটি আমি আমর (রহ.) থেকে মুখস্থ করেছি। ’আমর (রহ.) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। [৩৫১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪১)
হাদিস নং: ৪৯০৬ সহিহ (Sahih)
. اسماعيل بن عبد الله قال حدثني اسماعيل بن ابراهيم بن عقبة عن موسى بن عقبة قال حدثني عبد الله بن الفضل انه سمع انس بن مالك يقول حزنت على من اصيب بالحرة فكتب الي زيد بن ارقم وبلغه شدة حزني يذكر انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اللهم اغفر للانصار ولابناء الانصار وشك ابن الفضل في ابناء ابناء الانصار فسال انسا بعض من كان عنده فقال هو الذي يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا الذي اوفى الله له باذنه.
৪৯০৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হার্রায় যাদেরকে শহীদ করা হয়েছিল তাদের খবর শুনে শোকে মুহ্যমান হয়েছিলাম। আমার এ শোকের সংবাদ যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি আমার কাছে পত্র লিখেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসূলকে বলতে শুনেছেন, হে আল্লাহ্! আনসার ও আনসারদের সন্তানদেরকে তুমি ক্ষমা করে দাও। এ দু’আয় রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের জন্য দু’আ করেছেন কিনা এ ব্যাপারে ইবনু ফায্ল (রাঃ) সন্দেহ করেছেন। এ ব্যাপারে আনাস (রাঃ) তার কাছে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাউকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) ঐ ব্যক্তি যার শ্রবণকে আল্লাহ্ তা’আলা সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন। [মুসলিম ৪৪/৪৩, হাঃ ২৫০৬, আহমাদ ১৯৬৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪২)
হাদিস নং: ৪৯০৭ সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان قال حفظناه من عمرو بن دينار قال سمعت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما يقول كنا في غزاة فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الانصار فقال الانصاري يا للانصار وقال المهاجري يا للمهاجرين فسمعها الله رسوله صلى الله عليه وسلم قال ما هذا فقالوا كسع رجل من المهاجرين رجلا من الانصار فقال الانصاري يا للانصار وقال المهاجري يا للمهاجرين فقال النبي صلى الله عليه وسلم دعوها فانها منتنة قال جابر وكانت الانصار حين قدم النبي صلى الله عليه وسلم اكثر ثم كثر المهاجرون بعد فقال عبد الله بن ابي اوقد فعلوا والله لىن رجعنا الى المدينة ليخرجن الاعز منها الاذل فقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه دعني يا رسول الله اضرب عنق هذا المنافق قال النبي صلى الله عليه وسلم دعه لا يتحدث الناس ان محمدا يقتل اصحابه.
৪৯০৭. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা যোগদান করেছিলাম। জনৈক মুহাজির আনসারদের এক ব্যক্তির নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী সাহাবী ’’আনসারী ভাইগণ!’’ বলে এবং মুহাজির সাহাবী ’’হে মুহাজির ভাইগণ!’’ বলে ডাক দিলেন। আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের কানে এ কথা পৌঁছিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এটা কেমন ডাকাডাকি? উপস্থিত লোকেরা বললেন, জনৈক মুহাজির ব্যক্তি এক আনসারী ব্যক্তির নিতম্বে আঘাত করেছে। আনসারী ব্যক্তি ’’হে আনসারী ভাইগণ!’’ বলে এবং মুহাজির ব্যক্তি ’’হে মুহাজির ভাইগণ!’’ বলে নিজ নিজ গোত্রকে ডাক দিলেন। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ রকম ডাকাডাকি ত্যাগ কর। এগুলো অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত কথা।

জাবির (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা্য় হিজরত করে আসেন তখন আনসার সাহাবীগণ ছিলেন সংখ্যায় বেশি। পরে মুহাজিরগণ সংখ্যায় বেশি হয়ে যান। এ সব কথা শুনার পর ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই বলল, সত্যিই তারা কি এমন করেছে? আল্লাহর কসম! আমরা মদিনা্য় ফিরলে সেখান হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে বের করে দিবেই। তখন ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’উমার! তাকে ছেড়ে দাও, যাতে লোকেরা এমন কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথীদের হত্যা করছেন। [৩৫১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪৩)
হাদিস নং: ৪৯০৮ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني سالم ان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما اخبره انه طلق امراته وهي حاىض فذكر عمر لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتغيظ فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال ليراجعها ثم يمسكها حتى تطهر ثم تحيض فتطهر فان بدا له ان يطلقها فليطلقها طاهرا قبل ان يمسها فتلك العدة كما امر الله عز وجل.
(64) سُوْرَةُ التَّغَابُنِ

সূরাহ (৬৪) : আত্-তাগাবুন

وَقَالَ عَلْقَمَةُ عَنْ عَبْدِ اللهِ (وَمَنْ يُّؤْمِنْ بِاللهِ يَهْدِ قَلْبَه”) هُوَ الَّذِيْ إِذَا أَصَابَتْهُ مُصِيْبَةٌ رَضِيَ وَعَرَفَ أَنَّهَا مِنْ اللهِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ التَّغَابُنُ غَبْنُ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَهْلَ النَّارِ.

’আলক্বামাহ (রহ.) ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর বাণীঃ وَمَنْ يُّؤْمِنْ بِاللهِ يَهْدِ قَلْبَه ’’আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন।’’ (সূরাহ আত্-তাগাবুন ৬৪/১১)-এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এর দ্বারা এমন লোককে বোঝানো হয়েছে, যখন বিপদগ্রস্ত হয় তখন আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং এ কথা বুঝতে পারে যে, এ বিপদ আল্লাহর পক্ষ হতেই এসেছে।

(65) سُوْرَةُ الطَّلَاقِ

সূরাহ (৬৫) : আত্-তালাক

وَقَالَ مُجَاهِدٌ (إِنْ ارْتَبْتُمْ) إِنْ لَمْ تَعْلَمُوْا أَتَحِيْضُ أَمْ لَا تَحِيْضُ فَاللَّائِيْ قَعَدْنَ عَنِ الْمَحِيْضِ وَاللَائِيْ لَمْ يَحِضْنَ بَعْدُ (فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ) وَبَالَ أَمْرِهَا جَزَاءَ أَمْرِهَا.

মুজাহিদ (রহ.) বলেন, إِنْ ارْتَبْتُمْ যদি তোমরা অবগত না থাক যে তারা ঋতুমতী হবে কি না, যারা ঋতু হতে অবসর গ্রহণ করেছে আর যাদের এখনও তা শুরু হয়নি। فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ তাদের কৃতকর্মের শাস্তি স্বরূপ।


৪৯০৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর ঋতুমতী স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) দেয়ার পর ’উমার (রাঃ) তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত নাখোশ হলেন। এরপর তিনি বললেন, সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর পবিত্রাবস্থা না আসা পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিক। এরপর ঋতু এসে আবার পবিত্র হলে তখন যদি ত্বলাক (তালাক) দিতে চায় তাহলে পবিত্রাবস্থায় স্পর্শ করার পূর্বে সে যেন তাকে ত্বলাক (তালাক) দেয়। এটি সেই ইদ্দত যেটি পালনের নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন। [৫২৫১, ৫২৫২, ৫২৫৩, ৫২৫৮, ৫২৬৪, ৫৩৩২, ৫৩৩৩, ৭১৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪৪)
হাদিস নং: ৪৯০৯ সহিহ (Sahih)
سعد بن حفص حدثنا شيبان عن يحيى قال اخبرني ابو سلمة قال جاء رجل الى ابن عباس وابو هريرة جالس عنده فقال افتني في امراة ولدت بعد زوجها باربعين ليلة فقال ابن عباس اخر الاجلين قلت انا (واولات الاحمال اجلهن ان يضعن حملهن) قال ابو هريرة انا مع ابن اخي يعني ابا سلمة فارسل ابن عباس غلامه كريبا الى ام سلمة يسالها فقالت قتل زوج سبيعة الاسلمية وهي حبلى فوضعت بعد موته باربعين ليلة فخطبت فانكحها رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان ابو السنابل فيمن خطبها.
(وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَّضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ط وَمَنْ يَّتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَّه” مِنْ أَمْرِهٰيُسْرًا)

’’তবে গর্ভবতী স্ত্রীলোকদের ইদ্দাত তাদের গর্ভের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার প্রত্যেক কাজ সহজ করে দেন।’’ (সূরা আত্-ত্বলাক ৬৫/৪)

وَأُوْلَاتُ الْأَحْمَالِ وَاحِدُهَا ذَاتُ حَمْلٍ.

أُوْلَاتُ الْأَحْمَالِ এর একবচন ذَاتُ حَمْلٍ


৪৯০৯. আবূ সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এলেন এবং বললেন, এক মহিলা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর বাচ্চা প্রসব করেছে। সে এখন কীভাবে ইদ্দত পালন করবে, এ বিষয়ে আমাকে ফতোয়া দিন। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, ইদ্দত সম্পর্কিত হুকুম্ দু’টির যেটি দীর্ঘ, তাকে সেটি পালন করতে হবে। আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর হুকুম তো হলঃ গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি আমার ভ্রাতুষ্পুত্র অর্থাৎ আবূ সালামাহর সঙ্গে আছি। তখন ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) তাঁর ক্রীতদাস কুরায়বকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করার জন্য উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি বললেন, সুবায়’আ আসলামিয়া (রাঃ)-এর স্বামীকে হত্যা করা হল, তিনি তখন গর্ভবতী ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তিনি সন্তান প্রসব করলেন। এরপরই তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিয়ে করিয়ে দিলেন। যারা তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন আবুস্ সানাবিল তাদের মধ্যে একজন। [৫৩১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪৫)
হাদিস নং: ৪৯১০ সহিহ (Sahih)
وقال سليمان بن حرب وابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن محمد قال كنت في حلقة فيها عبد الرحمن بن ابي ليلى وكان اصحابه يعظمونه فذكروا له فذكر اخر الاجلين فحدثت بحديث سبيعة بنت الحارث عن عبد الله بن عتبة قال فضمز لي بعض اصحابه قال محمد ففطنت له فقلت اني اذا لجريء ان كذبت على عبد الله بن عتبة وهو في ناحية الكوفة فاستحيا وقال لكن عمه لم يقل ذاك فلقيت ابا عطية مالك بن عامر فسالته فذهب يحدثني حديث سبيعة فقلت هل سمعت عن عبد الله فيها شيىا فقال كنا عند عبد الله فقال اتجعلون عليها التغليظ ولا تجعلون عليها الرخصة لنزلت سورة النساء القصرى بعد الطولى (واولات الاحمال اجلهن ان يضعن حملهن).
৪৯১০. (অন্য এক সানাদে) সুলায়মান ইবনু হারব (রহ.) ও আবুন নু’মান, হাম্মাদ ইবনু যায়দ ও আইয়ুবের মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি ঐ মজলিসে ছিলাম, যেখানে ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহ.)-ও হাজির ছিলেন। তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে খুব সম্মান করতেন। তিনি ইদ্দত সম্পর্কিত হুকুম দু’টি থেকে দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ হুকুমটির কথা উল্লেখ করলে আমি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উতবাহর বরাত দিয়ে সুবায়’আ বিন্ত হারিছ আসলামিয়া (রহ.) সম্পর্কিত হাদীসটি বর্ণনা করলাম। মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন (রহ.) বলেন, এতে তাঁর কতক সঙ্গী আমাকে থামিয়ে দিল। তিনি বলেন, আমি বুঝলাম, তারা আমার হাদীসটি অস্বীকার করছে।

তাই আমি বললাম, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উত্বাহ (রহ.) কূফাতে এখনও জীবিত আছেন, এমতাবস্থায় যদি আমি তাঁর নাম নিয়ে মিথ্যা কথা বলি, তাহলে এতে আমার চরম দুঃসাহসিকতা দেখানো হবে। এ কথা শুনে ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা লজ্জিত হলেন এবং বললেন, কিন্তু তার চাচা তো এ হাদীস বর্ণনা করেননি। তখন আমি আবূ আতিয়া মালিক ইবনু ’আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি সুবায়’আ (রাঃ)-এর হাদীসটি বর্ণনা করে আমাকে শোনাতে লাগলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, (এ বিষয়ে) আপনি ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে কোন কথা শুনছেন কি? তিনি বললেন, আমরা ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, তোমরা কি এ সকল মহিলাদের ব্যাপারে সহজ পন্থা ছেড়ে কঠোর পন্থা গ্রহণ করতে চাও? সূরাহ নিসা আল্কুসরা এরপরে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। [৪৫৩২; মুসলিম ১৮/৮, হাঃ ১৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪৫)
হাদিস নং: ৪৯১১ সহিহ (Sahih)
معاذ بن فضالة حدثنا هشام عن يحيى عن ابن حكيم هو يعلى بن حكيم الثقفي عن سعيد بن جبير ان ابن عباس رضي الله عنهما قال في الحرام يكفر وقال ابن عباس (لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة).
(66) سُوْرَةُ التَّحْرِيْمِ

সূরাহ (৬৬) : আত্-তাহরীম

৪৯১১. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, এরূপ হারাম করে নেয়া হলে কাফ্ফারা দিতে হবে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এ-ও বলেছেন যে, ’’রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।’’ [৫২৬৬; মুসলিম ১৮/৩, হাঃ ১৪৭৩, আহমাদ ১৯৭৬] আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪৬)
হাদিস নং: ৪৯১২ সহিহ (Sahih)
. ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام بن يوسف عن ابن جريج عن عطاء عن عبيد بن عمير عن عاىشة رضي الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يشرب عسلا عند زينب بنت جحش ويمكث عندها فواطيت انا وحفصة على ايتنا دخل عليها فلتقل له اكلت مغافير اني اجد منك ريح مغافير قال لا ولكني كنت اشرب عسلا عند زينب بنت جحش فلن اعود له وقد حلفت لا تخبري بذلك احدا.
৪৯১২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নব বিনত জাহশ (রাঃ)-এর কাছে মধু পান করতেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। তাই আমি এবং হাফ্সাহ স্থির করলাম যে, আমাদের যার ঘরেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবেন, সে তাঁকে বলবে, আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? আপনার মুখ থেকে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি বললেন, না, বরং আমি যয়নব বিন্ত জাহশ (রাঃ)-এর নিকট মধু পান করেছি। আমি কসম করলাম, আর কখনও মধু পান করব না। তুমি এ ব্যাপারে অন্য কাউকে জানাবে না। [৫২১৬, ৫২৬৭, ৫২৬৮, ৫৪৩১, ৫৫৯৯, ৫৬১৪, ৫৬৮২, ৬৬৯১, ৬৯৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪৭)
হাদিস নং: ৪৯১৩ সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا سليمان بن بلال عن يحيى عن عبيد بن حنين انه سمع ابن عباس رضي الله عنهما يحدث انه قال مكثت سنة اريد ان اسال عمر بن الخطاب عن اية فما استطيع ان اساله هيبة له حتى خرج حاجا فخرجت معه فلما رجعنا وكنا ببعض الطريق عدل الى الاراك لحاجة له قال فوقفت له حتى فرغ ثم سرت معه فقلت يا امير المومنين من اللتان تظاهرتا على النبي صلى الله عليه وسلم من ازواجه فقال تلك حفصة وعاىشة قال فقلت والله ان كنت لاريد ان اسالك عن هذا منذ سنة فما استطيع هيبة لك قال فلا تفعل ما ظننت ان عندي من علم فاسالني فان كان لي علم خبرتك به قال ثم قال عمر والله ان كنا في الجاهلية ما نعد للنساء امرا حتى انزل الله فيهن ما انزل وقسم لهن ما قسم قال فبينا انا في امر اتامره اذ قالت امراتي لو صنعت كذا وكذا قال فقلت لها ما لك ولما ها هنا وفيم تكلفك في امر اريده فقالت لي عجبا لك يا ابن الخطاب ما تريد ان تراجع انت وان ابنتك لتراجع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يظل يومه غضبان فقام عمر فاخذ رداءه مكانه حتى دخل على حفصة فقال لها يا بنية انك لتراجعين رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يظل يومه غضبان فقالت حفصة والله انا لنراجعه فقلت تعلمين اني احذرك عقوبة الله وغضب رسوله صلى الله عليه وسلم يا بنية لا يغرنك هذه التي اعجبها حسنها حب رسول الله صلى الله عليه وسلم اياها يريد عاىشة قال ثم خرجت حتى دخلت على ام سلمة لقرابتي منها فكلمتها فقالت ام سلمة عجبا لك يا ابن الخطاب دخلت في كل شيء حتى تبتغي ان تدخل بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وازواجه فاخذتني والله اخذا كسرتني عن بعض ما كنت اجد فخرجت من عندها وكان لي صاحب من الانصار اذا غبت اتاني بالخبر واذا غاب كنت انا اتيه بالخبر ونحن نتخوف ملكا من ملوك غسان ذكر لنا انه يريد ان يسير الينا فقد امتلات صدورنا منه فاذا صاحبي الانصاري يدق الباب فقال افتح افتح فقلت جاء الغساني فقال بل اشد من ذلك اعتزل رسول الله صلى الله عليه وسلم ازواجه فقلت رغم انف حفصة وعاىشة فاخذت ثوبي فاخرج حتى جىت فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم في مشربة له يرقى عليها بعجلة وغلام لرسول الله صلى الله عليه وسلماسود على راس الدرجة فقلت له قل هذا عمر بن الخطاب فاذن لي قال عمر فقصصت على رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا الحديث فلما بلغت حديث ام سلمة تبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وانه لعلى حصير ما بينه وبينه شيء وتحت راسه وسادة من ادم حشوها ليف وان عند رجليه قرظا مصبوبا وعند راسه اهب معلقة فرايت اثر الحصير في جنبه فبكيت فقال ما يبكيك فقلت يا رسول الله ان كسرى وقيصر فيما هما فيه وانت رسول الله فقال اما ترضى ان تكون لهم الدنيا ولنا الاخرة.
(تَبْتَغِيْ مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ ط وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ - قَدْ فَرَضَ اللهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ ج وَاللهُ مَوْلٰكُمْ ج وَهُوَ الْعَلِيْمُ الْحَكِيْمُ).

আপনি আপনার স্ত্রীদের খুশী করতে চাইছেন। আল্লাহ তো তোমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন কসম থেকে মুক্তির ব্যবস্থা। আল্লাহ তোমাদের বন্ধু। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/১-২)


৪৯১৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে এ আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য আমি এক বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু তাঁর বাক্তিত্বের প্রভাবের ভয়ে আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারিনি। অবশেষে তিনি হজ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হলে, আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। ফেরার পথে আমরা যখন কোন একটি রাস্তা অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য একটি পিলু গাছের আড়ালে গেলেন। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি প্রয়োজন সেরে না আসা পর্যন্ত আমি সেখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম।

এরপর তাঁর সঙ্গে পথ চলতে চলতে বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কোন্ দু’জন তার বিপক্ষে একমত হয়ে পরস্পর একে অন্যকে সহযোগিতা করেছিলেন? তিনি বললেন, তাঁরা দু’জন হল হাফসাহ ও ’আয়িশাহ (রাঃ)। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য এক বছর যাবৎ ইচ্ছে করেছিলাম। কিন্তু আপনার ভয়ে আমার পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। তখন ’উমার (রাঃ) বললেন, এ রকম করবে না। যে বিষয়ে তুমি মনে করবে যে, আমি তা জানি, তা আমাকে জিজ্ঞেস করবে। এ বিষয়ে আমার জানা থাকলে আমি তোমাকে জানিয়ে দেব।

তিনি বলেন, এরপর ’উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! জাহিলী যুগে মহিলাদের কোন অধিকার আছে বলে আমরা মনে করতাম না। অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা তাদের সম্পর্কে যে বিধান অবতীর্ণ করার ছিল তা অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের হক হিসাবে যা নির্দিষ্ট করার ছিল তা নির্দিষ্ট করলেন। তিনি বলেন, একদিন আমি কোন এক ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করছিলাম, এমন সময় আমার স্ত্রী আমাকে বললেন, কাজটি যদি তুমি এভাবে এভাবে করতে। আমি বললাম, তোমার কী প্রয়োজন? এবং আমার কাজে তোমার এ অনধিকার চর্চা কেন।

সে আমাকে বলল, হে খাত্তাবের বেটা! কি আশ্চর্য, তুমি চাও না যে, আমি তোমার কথার উত্তর দান করি অথচ তোমার কন্যা হাফ্সাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার পৃষ্ঠে কথা বলে থাকে। এমনকি একদিন তো সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাগান্বিত করে ফেলে। এ কথা শুনে ’উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং চাদরখানা নিয়ে তার বাড়িতে চলে গেলেন। তিনি তাকে বললেন, বেটী! তুমি নাকি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার প্রতি-উত্তর করে থাক। ফলে তিনি দিনভর দুঃখিত থাকেন।

হাফসাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা তো অবশ্যই তাঁর কথার জবাব দিয়ে থাকি। ’উমার (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, জেনে রাখ! আমি তোমাকে আল্লাহর শাস্তি এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি সম্পর্কে সতর্ক করছি। রূপ-সৌন্দর্যের কারণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালবাসা যাকে গর্বিতা করে রেখেছে, সে যেন তোমাকে প্রতারিত না করতে পারে। এ কথা বলে ’উমার (রাঃ) ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বোঝাচ্ছিলেন। ’উমার (রাঃ) বলেন, এরপর আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আসলাম এবং উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম ও এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করলাম। কারণ, তাঁর সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল।

তখন উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, হে খাত্তাবের বেটা! কি আশ্চর্য, তুমি প্রত্যেক ব্যাপারেই নাক গলাচ্ছ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার স্ত্রীদের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছ। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে এমন শক্তভাবে ধরলেন যে, আমার রাগ খতম হয়ে গেল। এরপর আমি তাঁর নিকট হতে চলে আসলাম। আমার একজন আনসার বন্ধু ছিল। যদি আমি কোন মাজলিসে অনুপস্থিত থাকতাম তাহলে সে এসে মাজলিসের খবর আমাকে জানাত। আর সে যদি অনুপস্থিত থাকত তাহলে আমি এসে তাকে মাজলিসের খবর জানাতাম।

সে সময় আমরা গাসসানী বাদশাহর আক্রমণের আশংকা করছিলাম। আমাদেরকে বলা হয়েছিল যে, সে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য রওয়ানা হয়েছে। তাই আমাদের হৃদয়-মন এ ভয়ে শংকিত ছিল। এমন সময় আমার আনসার বন্ধু এসে দরজায় আঘাত করে বললেন, দরজা খুলুন, দরজা খুলুন। আমি বললাম, গাস্সানীরা চলে এসেছে নাকি? তিনি বললেন, বরং এর চেয়েও কঠিন ব্যাপার ঘটে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধর্মিণীদের থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছেন। তখন আমি বললাম, হাফসাহ ও ’আয়িশাহর নাক ধূলায় ধূসরিত হোক।

এরপর আমি কাপড় নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উঁচু কক্ষে অবস্থান করছেন। সিঁড়ি বেয়ে সেখানে পৌঁছতে হয়। সিঁড়ির মুখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন কালো গোলাম বসা ছিল। আমি বললাম, বলুন, ’উমার ইবনু খাত্তাব এসেছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অনুমতি দিলেন, আমি তাঁকে সব কথা বললাম, আমি যখন উম্মু সালামাহর কপোপকথন পর্যন্ত পৌঁছলাম তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন।

এ সময় তিনি একটা চাটাইয়ের উপর শুয়ে ছিলেন। চাটাই এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে আর কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার একটি বালিশ এবং পায়ের কাছে ছিল সল্ম বৃক্ষের পাতার একটি স্তূপ ও মাথার উপর লটকানো ছিল চামড়ার একটি মশক। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক পার্শ্বে চাটাইয়ের দাগ দেখে কেঁদে ফেললে তিনি বললেন, তুমি কেন কাঁদছ? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিসরা ও কায়সার পার্থিব ভোগ-বিলাসের মধ্যে ডুবে আছে, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা দুনিয়া লাভ করুক, আর আমরা আখিরাত লাভ করি। [৮৯; মুসলিম ১৮/৫, হাঃ ১৪৭৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪৮)
হাদিস নং: ৪৯১৪ সহিহ (Sahih)
علي حدثنا سفيان حدثنا يحيى بن سعيد قال سمعت عبيد بن حنين قال سمعت ابن عباس يقول اردت ان اسال عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقلت يا امير المومنين من المراتان اللتان تظاهرتا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فما اتممت كلامي حتى قال عاىشة وحفصة رضي الله عنهما. قوا (انفسكم واهليكم) قال مجاهد اوصوا.
(وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلٰى بَعْضِ أَزْوَاجِهٰحَدِيْثًا ج فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِهٰوَأَظْهَرَهُ اللهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَه” وَأَعْرَضَ عَنْمبَعْضٍ ج فَلَمَّا نَبَّأَهَا بِهٰقَالَتْ مَنْ أَنْـ.ـبَأَكَ هٰذَا ط قَالَ نَبَّأَنِيَ الْعَلِيْمُ الْخَبِيْرُ)

’’স্মরণ কর, নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনের কাছে গোপনে কিছু কথা বলেছিলেন, তারপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিলেন, তখন নবী সে বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করলেন এবং কিছু ব্যক্ত করলেন না। অতঃপর যখন তিনি তা তার স্ত্রীকে বললেন তখন সে বললঃ কে আপনাকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছেন? নবী বললেনঃ আমাকে অবহিত করেছেন আল্লাহ্ যিনি সর্বজ্ঞ, সব কিছুর খবর রাখেন।’’ (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/৩)

فِيْهِ عَائِشَةُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

এ বিষয়ে ’আয়িশাহ (রাঃ)-ও এক হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

৪৯১৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে চাইলাম। আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীদের কোন্ দু’জন তাঁর ব্যাপারে একমত হয়ে পরস্পর একে অন্যকে সহযোগিতা করেছিলেন? আমি আমার কথা শেষ করার আগেই তিনি বললেন, ’আয়িশাহ এবং হাফসাহ (রাঃ)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৪৯)
হাদিস নং: ৪৯১৫ সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان حدثنا يحيى بن سعيد قال سمعت عبيد بن حنين يقول سمعت ابن عباس يقول كنت اريد ان اسال عمر عن المراتين اللتين تظاهرتا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فمكثت سنة فلم اجد له موضعا حتى خرجت معه حاجا فلما كنا بظهران ذهب عمر لحاجته فقال ادركني بالوضوء فادركته بالاداوة فجعلت اسكب عليه الماء ورايت موضعا فقلت يا امير المومنين من المراتان اللتان تظاهرتا قال ابن عباس فما اتممت كلامي حتى قال عاىشة وحفصة.
صَغَوْتُ وَأَصْغَيْتُ مِلْتُ لِتَصْغَى لِتَمِيْلَ وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيْلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيْرٌ عَوْنٌ تَظَاهَرُوْنَ تَعَاوَنُوْنَ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (قُوْآ أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ) أَوْصُوْا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَأَدِّبُوْهُمْ.

صَغَوْتُ এবং َأَصْغَيْتُ(ثلاثى مجرد وموزيد فيه) উভয়ের অর্থ আমি ঝুঁকে পড়েছি। لِتَصْغَى অর্থ- لِتَمِيْلَ মানে যেন সে অনুরাগী হয়, ঝুঁকে পড়ে। ’’কিন্তু যদি তোমরা নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর তবে জেনে রাখ, আল্লাহ্ই তাঁর বন্ধু এবং জিব্রীল ও নেককার মু’মিনরাও, তাছাড়া অন্যান্য মালাকগণও তাঁর সাহায্যকারী’’- (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/৪)।ظَهِيْرٌ সাহায্যকারী تَظَاهَرُوْنَ পরস্পর তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ। মুজাহিদ (রহ.) বলেন,قُوْآ أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَأَدِّبُوْهُمْ ’’তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর’’- (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/৬)। তাকওয়া অবলম্বন করার জন্য ওসীয়াত কর এবং তাদেরকে আদব শিক্ষা দাও।


৪৯১৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে দু’জন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে পরস্পর একে অন্যকে সাহায্য করেছিল, তাদের সম্পর্কে ’উমার (রাঃ)-কে আমি জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে করছিলাম। কিন্তু জিজ্ঞেস করার সুযোগ না পেয়ে আমি এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। শেষে একবার হজ্জ করার জন্য তাঁর সঙ্গে আমি যাত্রা করলাম। আমরা ’যাহরান’ নামক স্থানে পৌঁছলে ’উমার (রাঃ) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে গেলেন। এরপর আমাকে বললেন, আমার জন্য ওযুর পানির ব্যবস্থা কর। আমি পাত্র ভরে পানি নিয়ে আসলাম এবং ঢেলে দিতে লাগলাম। সুযোগ মনে করে আমি তাঁকে বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! ঐ দু’জন মহিলা কে কে, যারা একে অন্যকে সাহায্য করেছিল? ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি আমার কথা শেষ করার আগেই তিনি বললেন, ’আয়িশাহ (রাঃ)ও হাফ্সাহ (রাঃ)। [৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫০)
হাদিস নং: ৪৯১৬ সহিহ (Sahih)
عمرو بن عون حدثنا هشيم عن حميد عن انس قال قال عمر رضي الله عنه اجتمع نساء النبي صلى الله عليه وسلم في الغيرة عليه فقلت لهن (عسى ربه”ٓ ان طلقكن ان يبدلهٓ” ازواجا خيرا منكن) فنزلت هذه الاية.
(عَسٰى رَبُّه”ٓإِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبْدِلَهٓ” أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمٰتٍ مُّؤْمِنٰتٍ قٰنِتٰتٍ تَآئِبٰتٍ عَابِدٰتٍ سَآئِحٰتٍ ثَيِّبٰتٍ وَّأَبْكَارًا)

’’যদি নবী তোমাদের সবাইকে ত্বলাক (তালাক) দেন, তবে তাঁর রব অচিরেই তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী তাঁকে দিবেন, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, অনুগত, তওবা্কারিণী, ’ইবাদাতকারিণী, সওম পালনকারীণী, অকুমারী ও কুমারী।’’ (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/৫)


৪৯১৬. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সতর্কতা দানের জন্য তাঁর সহধর্মিণীগণ একত্রিত হয়েছিলেন। আমি তাঁদেরকে বললাম, যদি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর প্রতিপালক সম্ভবত তাঁকে দেবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল। [৪০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫১)
হাদিস নং: ৪৯১৭ সহিহ (Sahih)
محمود حدثنا عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن ابي حصين عن مجاهد عن ابن عباس رضي الله عنهما عتل بعد ذلك زنيم قال رجل من قريش له زنمة مثل زنمة الشاة.
(67) سُوْرَةُ الْمُلْكِ تَبَارَكَ الَّذِيْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ

সূরাহ (৬৭) : আল-মুলক

(التَّفَاوُتُ) الِاخْتِلَافُ وَالتَّفَاوُتُ وَالتَّفَوُّتُ وَاحِدٌ (تَمَيَّزُ) تَقَطَّعُ (مَنَاكِبِهَا) جَوَانِبِهَا (تَدَّعُوْنَ) وَتَدْعُوْنَ وَاحِدٌ مِثْلُ تَذَّكَّرُوْنَ وَتَذْكُرُوْنَ (وَيَقْبِضْنَ) يَضْرِبْنَ بِأَجْنِحَتِهِنَّ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صَافَّاتٍ) بَسْطُ أَجْنِحَتِهِنَّ (وَنُفُوْرٌ) الْكُفُوْرُ.

التَّفَاوُتُ বিভিন্নতা। التَّفَاوُتُএবং التَّفَوُّتُ শব্দ দু’টো একই অর্থবোধক। تَمَيَّزُ টুকরো হয়ে যাবে বা ফেটে পড়বে। مَنَاكِبِهَا তার দিগদিগন্ত। تَدَّعُوْنَ এবং تَدْعُوْنَ বাক্যদ্বয় تَذَّكَّرُوْنَ ও تَذْكُرُوْنَ এর মতই। يَقْبِضْنَ তারা তাদের পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَافَّاتٍ তারা তাদের পাখা বিস্তার করে। نُفُوْرٌ কুফর ও সত্যবিমুখতা।

(68) سُوْرَةُ ن وَالْقَلَمِ

সূরাহ (৬৮) : আল-ক্বলাম

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَتَخَافَتُوْنَ يَنْتَجُوْنَ السِّرَارَ وَالْكَلَامَ الْخَفِيَّ وَقَالَ قَتَادَةُ (حَرْدٍ) جِدٍّ فِيْ أَنْفُسِهِمْ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَضَآلُّوْنَ) أَضْلَلْنَا مَكَانَ جَنَّتِنَا وَقَالَ غَيْرُهُ (كَالصَّرِيْمِ) كَالصُّبْحِ انْصَرَمَ مِنْ اللَّيْلِ وَاللَّيْلِ انْصَرَمَ مِنْ النَّهَارِ وَهُوَ أَيْضًا كُلُّ رَمْلَةٍ انْصَرَمَتْ مِنْ مُعْظَمِ الرَّمْلِ وَالصَّرِيْمُ أَيْضًا الْمَصْرُوْمُ مِثْلُ قَتِيْلٍ وَمَقْتُوْلٍ. [(مَكْظُوْمٌ) وَكَظِيْمٌ مَغْمُوْمٌ، تُدْهِنُ فِيُدْهِنُوْن تَرْخُصُ فَيَرْ خُصُوْنَ].

ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, حَرْدٍ অর্থ جِدٍّ فِيْٓأَنْفُسِهِمْ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, اِنَّالَضَآلُّوْنَ অর্থ আমরা আমাদের জান্নাতের স্থানের কথা ভুলে গিয়েছি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত অন্যান্য ভাষ্যকার বলেছেন, كَالصَّرِيْمِ অর্থ রাত থেকে বিচ্ছিন্ন প্রভাতের মত বা দিন থেকে বিচ্ছিন্ন রাতের মত। صَّرِيْمُ ঐ বালুকণাকেও বলা হয় যা বালুস্তূপ হতে বিচ্ছিন্ন। مَصْرُوْمُ- صَرِيْمُ শব্দ قَتِيْلٍ এবং مَقْتُوْلٍ এর মত।


৪৯১৭. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি عُتُلٍّ بَعْدَ ذٰلِكَ زَنِيْمٍ (রূঢ় স্বভাব এবং তদুপরি কুখ্যাত) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এ লোকটি হলো কুরাইশ গোত্রের এমন এক লোক, যার স্কন্ধে ছাগলের চিহ্নের মত একটি বিশেষ চিহ্ন ছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫৫২)
অধ্যায় তালিকা