অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৬/১. ওয়াহী কীভাবে অবতীর্ণ হয় এবং সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছিল।
মোট ৮৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫০১৮ সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني يزيد بن الهاد عن محمد بن ابراهيم عن اسيد بن حضير قال بينما هو يقرا من الليل سورة البقرة وفرسه مربوطة عنده اذ جالت الفرس فسكت فسكتت فقرا فجالت الفرس فسكت وسكتت الفرس ثم قرا فجالت الفرس فانصرف وكان ابنه يحيى قريبا منها فاشفق ان تصيبه فلما اجتره رفع راسه الى السماء حتى ما يراها فلما اصبح حدث النبي صلى الله عليه وسلم فقال اقرا يا ابن حضير اقرا يا ابن حضير قال فاشفقت يا رسول الله ان تطا يحيى وكان منها قريبا فرفعت راسي فانصرفت اليه فرفعت راسي الى السماء فاذا مثل الظلة فيها امثال المصابيح فخرجت حتى لا اراها قال وتدري ما ذاك قال لا قال تلك الملاىكة دنت لصوتك ولو قرات لاصبحت ينظر الناس اليها لا تتوارى منهم قال ابن الهاد وحدثني هذا الحديث عبد الله بن خباب عن ابي سعيد الخدري عن اسيد بن حضير.
৫০১৮. লায়স (রহ.) উসাইদ ইবনু হুযায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা রাত্রে তিনি সুরা বাকারা পাঠ করছিলেন। তখন তাঁর ঘোড়াটি তারই পাশে বাঁধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়াটি ভীত হয়ে লাফ দিয়ে উঠল এবং ছুটাছুটি শুরু করল। যখন পাঠ বন্ধ করলেন তখনই ঘোড়াটি শান্ত হল। আবার পাঠ শুরু করলেন। ঘোড়াটি আগের মত করল। যখন পাঠ বন্ধ করলেন ঘোড়াটি শান্ত হল। আবার পাঠ আরম্ভ করলে ঘোড়াটি আগের মত করতে লাগল। এ সময় তার পুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়াটির নিকটে ছিল। তার ভয় হচ্ছিল যে, ঘোড়াটি তার পুত্রকে পদদলিত করবে। তখন তিনি পুত্রকে টেনে আনলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলেন। পরদিন সকালে তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উক্ত ঘটনা বললেন। ঘটনা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু হুদায়র (রাঃ)! তুমি যদি পাঠ করতে, হে ইবনু হুদায়র (রাঃ)! তুমি যদি পাঠ করতে।

ইবনু হুযায়র আরয করলেন, আমার ছেলেটি ঘোড়ার নিকট থাকায় আমি ভয় পেয়ে গেলাম হয়ত বা ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করবে, সুতরাং আমি আমার মাথা উপরে উঠাতেই মেঘের মত কিছু দেখলাম, যা আলোর মত ছিল। আমি যখন বাইরে এলাম তখন আর কিছু দেখ্লাম না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জানো, ওটা কী ছিল? বললেন, না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা ছিল মালায়িকাহ। তোমার তিলাওয়াত শুনে তোমার কাছে এসেছিল। তুমি যদি সকাল পর্যন্ত তিলাওয়াত করতে তারাও ততক্ষণ পর্যন্ত এখানে অবস্থান করত এবং লোকেরা তাদেরকে দেখতে পেত। এরপর হাদীসের অন্য একটি সনদ বর্ণিত হয়েছে। [মুসলিম ৬/৩৬, হাঃ ৭৯৬, আহমাদ ১১৭৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৫০১৯ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن عبد العزيز بن رفيع قال دخلت انا وشداد بن معقل على ابن عباس فقال له شداد بن معقل اترك النبي صلى الله عليه وسلم من شيء قال ما ترك الا ما بين الدفتين قال ودخلنا على محمد بن الحنفية فسالناه فقال ما ترك الا ما بين الدفتين.
৫০১৯. ’আবদুল আযীয ইবনু রুফাই’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং শাদ্দাদ ইবনু মা’কিল ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। শাদ্দাদ ইবনু মা’কিল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন বাদে অন্য কিছু রেখে যাননি? ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই মলাটের মাঝে যা কিছু আছে অর্থাৎ কুরআন ছাড়া অন্য কিছু রেখে যাননি। ’আবদুল আযীয বললেন, আমরা মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার নিকট গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনিই বললেন যে, দুই মলাটের মাঝে (যা আছে তা) ব্যতীত আর কিছু রেখে যাননি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪৯)
হাদিস নং: ৫০২০ সহিহ (Sahih)
هدبة بن خالد ابو خالد حدثنا همام حدثنا قتادة حدثنا انس بن مالك عن ابي موسى الاشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مثل الذي يقرا القران كالاترجة طعمها طيب وريحها طيب والذي لا يقرا القران كالتمرة طعمها طيب ولا ريح لها ومثل الفاجر الذي يقرا القران كمثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر ومثل الفاجر الذي لا يقرا القران كمثل الحنظلة طعمها مر ولا ريح لها.
৫০২০. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এ লেবুর মত যা সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত। আর যে ব্যক্তি (মু’মিন) কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন খেজুরের মত, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর ফাসিক-ফাজির ব্যক্তি যে কুরআন পাঠ করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রায়হান জাতীয় লতার মত, যার সুগন্ধ আছে, কিন্তু খেতে বিস্বাদ। আর ঐ ফাসিক যে কুরআন একেবারেই পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ মাকাল ফলের মত, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যার কোন সুগন্ধও নেই। [৫০৫৯, ৫৪২৭, ৭৫৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫০)
হাদিস নং: ৫০২১ সহিহ (Sahih)
مسدد عن يحيى عن سفيان حدثني عبد الله بن دينار قال سمعت ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال انما اجلكم في اجل من خلا من الامم كما بين صلاة العصر ومغرب الشمس ومثلكم ومثل اليهود والنصارى كمثل رجل استعمل عمالا فقال من يعمل لي الى نصف النهار على قيراط فعملت اليهود فقال من يعمل لي من نصف النهار الى العصر على قيراط فعملت النصارى ثم انتم تعملون من العصر الى المغرب بقيراطين قيراطين قالوا نحن اكثر عملا واقل عطاء قال هل ظلمتكم من حقكم قالوا لا قال فذاك فضلي اوتيه من شىت.
৫০২১. ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতীতের জাতিসমূহের সঙ্গে তোমাদের জীবনকালের তুলনা হচ্ছে আসর ও মাগরিবের সালাতের মধ্যবর্তী সময়কালের মত। তোমাদের এবং ইয়াহূদী-নাসারাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে শ্রমিকদের কাজে নিযুক্ত করে তাদেরকে বলল, ’’তোমাদের মধ্যে কে এক কীরাতের বিনিময়ে দ্বি-প্রহর পর্যন্ত কাজ করবে?’’ ইয়াহূদীরা কাজ করল। তারপর সেই ব্যক্তি আবার বলল, তোমাদের মধ্যে কে এক কীরাতের বিনিময়ে দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত কাজ করবে? নাসারারা কাজ করল। এরপর তোমরা (মুসলিমরা) আসরের সালাতের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত প্রত্যেকে দু’ কীরাতের বিনিময় কাজ করেছ। তারা বলল, আমরা কম মজুরী নিয়েছি এবং অধিক কাজ করেছি। তিনি (আল্লাহ্) বললেন, আমি কি তোমাদের অধিকারের ব্যাপারে জুলুম করেছি? তারা উত্তরে বলবে, না। এরপর আল্লাহ্ বলবেন, এটা আমার দয়া, আমি যাকে ইচ্ছে দিয়ে থাকি। [৫৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫১)
হাদিস নং: ৫০২২ সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا مالك بن مغول حدثنا طلحة قال سالت عبد الله بن ابي اوفى اوصى النبي صلى الله عليه وسلم فقال لا فقلت كيف كتب على الناس الوصية امروا بها ولم يوص قال اوصى بكتاب الله
৫০২২. ত্বলহা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ ’আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোন ওয়াসিয়্যাত করে গেছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, যখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কোন ওয়াসিয়্যাত করে যাননি, তখন কী করে মানুষের জন্য ওয়াসিয়্যাত করাকে (কুরআন মাজীদে) বাধ্যতামূলক করা হল এবং তাদেরকে এজন্য নির্দেশ দেয়া হল। জবাবে তিনি বললেন, তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আল্লাহর কিতাব (অনুসরণ)-এর ওয়াসিয়্যাত করে গেছেন। [২৭৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫২)
হাদিস নং: ৫০২৩ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير قال حدثني الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة انه كان يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لم ياذن الله لشيء ما اذن للنبي ان يتغنى بالقران وقال صاحب له يريد يجهر به.
(أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّآ أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلٰى عَلَيْهِمْ).

’’তাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়।’’ (সূরাহ ’আনকাবূত ২৯/৫১)


৫০২৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা কোন বিষয়ের প্রতি ঐরূপ কান লাগিয়ে শুনেন না যেরূপ তিনি নবীর সুমধুর তিলাওয়াত শুনেন। রাবী বলেন, এর অর্থ সুস্পষ্ট করে আওয়াজের সঙ্গে কুরআন পাঠ করা। [৫০২৩, ৫০২৪, ৭৪৮২, ৭৫৪৪; মুসলিম ৬/৩৪, হাঃ ৭৯২, আহমাদ ৭৬৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫৩)
হাদিস নং: ৫০২৪ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن الزهري عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما اذن الله لشيء ما اذن للنبي صلى الله عليه وسلم ان يتغنى بالقران قال سفيان تفسيره يستغني به.
৫০২৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা কোন বিষয়ের প্রতি এরূপ কান লাগিয়ে শুনেন না যেরূপ তিনি নবীর সুমধুর তিলাওয়াত শুনেন। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, কুরআনই তার জন্য যথেষ্ট। [৫০২৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫৪)
হাদিস নং: ৫০২৫ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال حدثني سالم بن عبد الله ان عبد الله بن عمر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا حسد الا على اثنتين رجل اتاه الله الكتاب وقام به اناء الليل ورجل اعطاه الله مالا فهو يتصدق به اناء الليل والنهار.
৫০২৫. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, দু’টি বিষয় ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে ঈর্ষা করা যায় না। প্রথমত, যাকে আল্লাহ্ তা’আলা কিতাবের জ্ঞান দান করেছেন এবং তিনি তা থেকে গভীর রাতে তিলাওয়াত করেন। দ্বিতীয়ত, যাকে আল্লাহ্ তা’আলা সম্পদ দান করেছেন এবং তিনি সেই সম্পদ দিন-রাত দান করতে থাকেন। [৭৫২৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫৫)
হাদিস নং: ৫০২৬ সহিহ (Sahih)
علي بن ابراهيم حدثنا روح حدثنا شعبة عن سليمان سمعت ذكوان عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا حسد الا في اثنتين رجل علمه الله القران فهو يتلوه اناء الليل واناء النهار فسمعه جار له فقال ليتني اوتيت مثل ما اوتي فلان فعملت مثل ما يعمل ورجل اتاه الله مالا فهو يهلكه في الحق فقال رجل ليتني اوتيت مثل ما اوتي فلان فعملت مثل ما يعمل
৫০২৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও সাথে ঈর্ষা করা যায় না। এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্ তা’আলা কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিন-রাত তিলাওয়াত করে। আর তা শুনে তার প্রতিবেশীরা তাকে বলে, হায়! আমাদেরকে যদি এমন জ্ঞান দেয়া হত, যেমন অমুককে দেয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মত ’আমল করতাম। অন্য আর এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দান করেছেন এবং সে সম্পদ সত্য ও ন্যায়ের পথে খরচ করে। এ অবস্থা দেখে অন্য এক ব্যক্তি বলেঃ হায়! আমাকে যদি অমুক ব্যক্তির মত সম্পদ দেয়া হত, তাহলে সে যেমন ব্যয় করছে, আমিও তেমন ব্যয় করতাম। [৭২৩২, ৭৫২৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৫৬)
হাদিস নং: ৫০২৭ সহিহ (Sahih)
حجاج بن منهال حدثنا شعبة قال اخبرني علقمة بن مرثد سمعت سعد بن عبيدة عن ابي عبد الرحمن السلمي عن عثمان عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خيركم من تعلم القران وعلمه قال واقرا ابو عبد الرحمن في امرة عثمان حتى كان الحجاج قال وذاك الذي اقعدني مقعدي هذا
৫০২৭. ’উসমান (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়। [৫০২৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫৭)
হাদিস নং: ৫০২৮ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن علقمة بن مرثد عن ابي عبد الرحمن السلمي عن عثمان بن عفان قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ان افضلكم من تعلم القران وعلمه
৫০২৮. ’উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম তারা, যারা নিজেরা কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। [৫০২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫৮)
হাদিস নং: ৫০২৯ সহিহ (Sahih)
عمرو بن عون حدثنا حماد عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال اتت النبي صلى الله عليه وسلم امراة فقالت انها قد وهبت نفسها لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم فقال ما لي في النساء من حاجة فقال رجل زوجنيها قال اعطها ثوبا قال لا اجد قال اعطها ولو خاتما من حديد فاعتل له فقال ما معك من القران قال كذا وكذا قال فقد زوجتكها بما معك من القران
৫০২৯. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বলল, সে নিজেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য নিবেদন করার ইচ্ছা করেছে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কোন মহিলার নিষ্প্রোয়োজন। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বলল, একে আমার সঙ্গে বিবাহ করিয়ে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তাকে একখানা কাপড় দাও। ঐ ব্যক্তি তার অপারগতার কথা জানাল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তাকে একখানা লোহার আংটি হলেও দাও। এবারেও লোকটি আগের মত অপারগতা জানাল।

তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার কি কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ আছে? লোকটি উত্তর করল, হাঁ। আমার অমুক অমুক সূরাহ মুখস্থ আছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে পরিমাণ কুরআন তোমার মুখস্থ আছে, তার বিনিময়ে তোমার নিকট এ মহিলাটিকে বিবাহ দিলাম। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৫৯)
হাদিস নং: ৫০৩০ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان امراة جاءت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله جىت لاهب لك نفسي فنظر اليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فصعد النظر اليها وصوبه ثم طاطا راسه فلما رات المراة انه لم يقض فيها شيىا جلست فقام رجل من اصحابه فقال يا رسول الله ان لم يكن لك بها حاجة فزوجنيها فقال هل عندك من شيء فقال لا والله يا رسول الله قال اذهب الى اهلك فانظر هل تجد شيىا فذهب ثم رجع فقال لا والله يا رسول الله ما وجدت شيىا قال انظر ولو خاتما من حديد فذهب ثم رجع فقال لا والله يا رسول الله ولا خاتما من حديد ولكن هذا ازاري قال سهل ما له رداء فلها نصفه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما تصنع بازارك ان لبسته لم يكن عليها منه شيء وان لبسته لم يكن عليك شيء فجلس الرجل حتى طال مجلسه ثم قام فراه رسول الله صلى الله عليه وسلم موليا فامر به فدعي فلما جاء قال ماذا معك من القران قال معي سورة كذا وسورة كذا وسورة كذا عدها قال اتقروهن عن ظهر قلبك قال نعم قال اذهب فقد ملكتكها بما معك من القران.
৫০৩০. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা একা মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসুল! আমি আমার জীবনকে আপনার জন্য দান করতে এসেছি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে তার আপাদমস্তক লক্ষ্য করে মাথা নিচু করলেন। মহিলাটি যখন দেখল যে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ফয়সালা দিচ্ছেন না তখন সে বসে পড়ল। এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের একজন বলল, যদি আপনার কোন প্রয়োজন না থাকে, তবে এ মহিলাটির সঙ্গে আমার শাদী দিয়ে দিন। তিনি বললেন, তোমার কাছে কি কিছু আছে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম কিছুই নেই।

তিনি বললেন, তুমি তোমার পরিজনদের কাছে ফিরে যাও এবং দেখ কিছু পাও কি-না! এরপর লোকটি চলে গেল এবং ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কিছুই পেলাম না। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ একটি লোহার আংটি হলেও! তারপর সে চলে গেল এবং ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম, একটি লোহার আংটিও পেলাম না; কিন্তু এই যে আমার তহবন্দ আছে। সাহল (রাঃ) বলেন, তার কোন চাদর ছিল না। অথচ লোকটি বলল, আমার তহবন্দের অর্ধেক দিতে পারি। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ তহবন্দ দিয়ে কী হবে? যদি তুমি পরিধান কর, তাহলে মহিলাটির কোন আবরণ থাকবে না। আর যদি সে পরিধান করে, তোমার কোন আবরণ থাকবে না।

লোকটি বসে পড়লো, অনেকক্ষণ সে বসে থাকল। এরপর উঠে দাঁড়াল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফিরে যেতে দেখে তাকে ডেকে আনলেন। যখন সে ফিরে আসল, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কুরআনের কতটুকু মুখস্থ আছে? সে উত্তরে বলল, অমুক অমুক সূরাহ মুখস্থ আছে। সে এমনিভাবে একে একে উল্লেখ করতে থাকল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ সকল সূরাহ মুখস্থ তিলাওয়াত করতে পার? সে উত্তর করল, হাঁ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও তুমি যে পরিমাণ কুরআন মুখস্থ রেখেছ, তার বিনিময়ে এ মহিলাটির তোমার সঙ্গে বিবাহ দিলাম। [২৩১০; মুসলিম ১৬/১২, হাঃ ১৪২৫, আহমাদ ২২৯১৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬০)
হাদিস নং: ৫০৩১ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن نافع عن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انما مثل صاحب القران كمثل صاحب الابل المعقلة ان عاهد عليها امسكها وان اطلقها ذهبت.
৫০৩১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্তরে কুরআন গেঁথে (মুখস্থ) রাখে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ মালিকের ন্যায়, যে উট বেঁধে রাখে। যদি সে উট বেঁধে রাখে, তবে সে উট তার নিয়ন্ত্রণে থাকে, কিন্তু যদি সে বাঁধন খুলে দেয়, তবে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। [মুসলিম ৬/৩৩, হাঃ ৭৮৯, আহমাদ ৪৬৬৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬১)
হাদিস নং: ৫০৩২ সহিহ (Sahih)
محمد بن عرعرة حدثنا شعبة عن منصور عن ابي واىل عن عبد الله قال قال النبي صلى الله عليه وسلم بىس ما لاحدهم ان يقول نسيت اية كيت وكيت بل نسي واستذكروا القران فانه اشد تفصيا من صدور الرجال من النعم حدثنا عثمان حدثنا جرير عن منصور مثله تابعه بشر عن ابن المبارك عن شعبة وتابعه ابن جريج عن عبدة عن شقيق سمعت عبد الله سمعت النبي صلى الله عليه وسلم
৫০৩২. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা খুবই খারাপ কথা যে, তোমাদের মধ্যে কেউ বলবে, আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি; বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক কেননা, তা মানুষের অন্তর থেকে উটের চেয়েও দ্রুত গতিতে চলে যায়। [৫০৩৯; মুসলিম ৬/৩৩, হাঃ ৭৯০, আহমাদ ৩৬২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬২)
হাদিস নং: ৫০৩৩ সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا ابو اسامة عن بريد عن ابي بردة عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال تعاهدوا القران فوالذي نفسي بيده لهو اشد تفصيا من الابل في عقلها.
৫০৩৩. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুরআনের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। আল্লাহর কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন! কুরআন বাঁধন ছাড়া উটের চেয়েও দ্রুত গতিতে দৌড়ে যায়। [মুসলিম ৬/৩৩, হাঃ ৭৯১, আহমাদ ১৯৫৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬৩)
হাদিস নং: ৫০৩৪ সহিহ (Sahih)
حجاج بن منهال حدثنا شعبة قال اخبرني ابو اياس قال سمعت عبد الله بن مغفل قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة وهو يقرا على راحلته سورة الفتح.
৫০৩৪. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (উটের পিঠে) আরোহন অবস্থায় ’সূরাহ আল্ ফাত্হ’ তিলাওয়াত করতে দেখেছি। [৪২৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬৪)
হাদিস নং: ৫০৩৫ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن ابي بشر عن سعيد بن جبير قال ان الذي تدعونه المفصل هو المحكم قال وقال ابن عباس توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابن عشر سنين وقد قرات المحكم.
৫০৩৫. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, যে সকল সূরাকে তোমরা মুফাসসাল [1] বলো, তা হচ্ছে মুহ্কাম। [2] রাবী বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন, তখন আমার বয়স দশ বছর এবং আমি ঐ বয়সেই মুহ্কাম আয়াতসমূহ শিখে নিয়েছিলাম। [৫০৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬৫)
নোট: [1] সূরাহ হুজুরাত থেকে সূরাহ নাস পর্যন্ত সূরাসমূহকে মুফাস্সাল বলা হয়।

[2] যে সকল আয়াতের ভাষা প্রাঞ্জল এবং অর্থ নির্ধারণের ব্যাপারে কোন অসুবিধা হয় না ও সন্দেহের অবকাশ নেই তাকে ‘মুহ্কাম আয়াত’ বলে।
হাদিস নং: ৫০৩৬ সহিহ (Sahih)
يعقوب بن ابراهيم حدثنا هشيم اخبرنا ابو بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس جمعت المحكم في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت له وما المحكم قال المفصل.
৫০৩৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’মুহকাম সূরাসমূহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় মুখস্থ করেছিলাম। রাবী সা’ঈদ (রহ.) বলেন, আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, ’মুহকাম’ অর্থ কী? তিনি বললেন, মুফাস্সাল। [৫০৩৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬৬)
হাদিস নং: ৫০৩৭ সহিহ (Sahih)
ربيع بن يحيى حدثنا زاىدة حدثنا هشام عن عروة عن عاىشة قالت سمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلا يقرا في المسجد فقال يرحمه الله لقد اذكرني كذا وكذا اية من سورة كذا.
...- محمد بن عبيد بن ميمون حدثنا عيسى عن هشام وقال اسقطتهن من سورة كذا تابعه علي بن مسهر وعبدة عن هشام.
وَكَذَا وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى : (سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنْسٰى إِلَّا مَا شَآءَ اللهُ).

এবং আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ অবশ্যই আমি তোমাকে পাঠ করাবো, ফলে তুমি ভুলে যাবে না, অবশ্য আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া.....।


৫০৩৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে মসজিদে নাববীতে কুরআন পড়তে শুনলেন। তিনি বললেন, তার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, সে আমাকে অমুক সূরার অমুক আয়াত মনে করিয়ে দিয়েছে। [২৬৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬৭)

হিশাম (রহ.) হতে বর্ণিত পূর্বের হাদীসের অতিরিক্ত রয়েছে, ’’যা ভুলে গেছি অমুক অমুক সূরাহ থেকে।’’ ’আলী এবং ’আবদাহ হিশাম থেকে তার সমর্থন ব্যক্ত করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৬৮)
অধ্যায় তালিকা