অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫২১১ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا عبد الواحد بن ايمن قال حدثني ابن ابي مليكة عن القاسم عن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا خرج اقرع بين نساىه„ فطارت القرعة لعاىشة وحفصة وكان النبي صلى الله عليه وسلم اذا كان بالليل سار مع عاىشة يتحدث فقالت حفصة الا تركبين الليلة بعيري واركب بعيرك تنظرين وانظر فقالت بلى فركبت فجاء النبي صلى الله عليه وسلم الى جمل عاىشة وعليه حفصة فسلم عليها ثم سار حتى نزلوا وافتقدته“ عاىشة فلما نزلوا جعلت رجليها بين الاذخر وتقول يا رب سلط علي عقربا او حية تلدغني ولا استطيع ان اقول له“ شيىا.
৫২১১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে যাবার ইরাদা করতেন, তখনই স্ত্রীগণের মাঝে লটারী করতেন। এক সফরের সময় ’আয়িশাহ (রাঃ) এবং হাফসাহ (রাঃ)-এর নাম লটারীতে ওঠে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রীতি ছিল যখন রাত হত তখন ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে এক সওয়ারীতে আরোহণ করতেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। এক রাতে হাফসাহ (রাঃ) ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললেন, আজ রাতে তুমি কি আমার উটে আরোহণ করবে এবং আমি তোমার উটে, যাতে করে আমি তোমাকে এবং তুমি আমাকে এক নতুন অবস্থায় দেখতে পাবে? ’আয়িশাহ (রাঃ) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আমি রাযী আছি। সে হিসাবে ’আয়িশাহ (রাঃ) হাফসাহ (রাঃ)-এর উটে এবং হাফসাহ (রাঃ) ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর উটে সওয়ার হলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নির্ধারিত উটের কাছে এলেন, যার ওপর হাফসাহ (রাঃ) বসা ছিলেন। তিনি তাকে সালাম দিলেন এবং তাঁর পার্শ্বে বসে সফর করলেন। পথিমধ্যে এক স্থানে সবাই অবতরণ করলেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হলেন। যখন তাঁরা সকলেই অবতরণ করলেন তখন ’আয়িশাহ (রাঃ) নিজ পা দু’টি ’ইযখির’ নামক ঘাসের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমার জন্য কোন সাপ বা বিচ্ছু পাঠিয়ে দাও, যাতে আমাকে দংশন করে। কেননা, আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু বলতে পারব না। [মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩১)
হাদিস নং: ৫২১২ সহিহ (Sahih)
مالك بن اسماعيل حدثنا زهير عن هشام عن ابيه عن عاىشة ان سودة بنت زمعة وهبت يومها لعاىشة وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقسم لعاىشة بيومها ويوم سودة.
৫২১২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওদা বিনতে যাম’আহ (রাঃ) তাঁর পালার রাত ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে দান করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর জন্য দু’দিন বরাদ্দ করেন- ’আয়িশাহ (রাঃ)-’র দিন এবং সওদা (রাঃ)-’র দিন। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩২)
হাদিস নং: ৫২১৩ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا بشر حدثنا خالد عن ابي قلابة عن انس ولو شىت ان اقول قال النبي صلى الله عليه وسلمولكن قال السنة اذا تزوج البكر اقام عندها سبعا واذا تزوج الثيب اقام عندها ثلاثا.
67/100. بَاب الْعَدْلِ بَيْنَ النِّسَاءِ.
৬৭/১০০. অধ্যায়ঃ আপন স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করা।
(وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ) إِلَى قَوْلِهِ: (وَاسِعًا حَكِيمًا).

আল্লাহ্ বলেন, ’’তোমরা কক্ষনো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না যদিও প্রবল ইচ্ছে কর....আল্লাহ প্রশস্ততার অধিকারী, মহাকুশলী।’’ (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৯-১৩০)


৫২১৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত এই যে, যদি কেউ কুমারী মেয়ে বিয়ে করে, তবে তার সঙ্গে সাত দিন-রাত্রি যাপন করতে হবে আর যদি কেউ কোন বিধবা মহিলাকে বিয়ে করে, তাহলে তার সঙ্গে তিন দিন যাপন করতে হবে। [৫২১৪; মুসলিম ১৭/১২, হাঃ ১৪৬১, আহমাদ ১২৯৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৩)
হাদিস নং: ৫২১৪ সহিহ (Sahih)
يوسف بن راشد حدثنا ابو اسامة عن سفيان حدثنا ايوب وخالد عن ابي قلابة عن انس قال من السنة اذا تزوج الرجل البكر على الثيب اقام عندها سبعا وقسم واذا تزوج الثيب على البكر اقام عندها ثلاثا ثم قسم قال ابو قلابة ولو شىت لقلت ان انسا رفعه“ الى النبي صلى الله عليه وسلم وقال عبد الرزاق اخبرنا سفيان عن ايوب وخالد قال خالد ولو شىت قلت رفعه“ الى النبي صلى الله عليه وسلم.
৫২১৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত হচ্ছে, যদি কেউ বিধবা স্ত্রী থাকা অবস্থায় কুমারী বিয়ে করে তবে সে যেন তার সঙ্গে সাত দিন অতিবাহিত করে এবং এরপর পালা অনুসারে এবং কেউ যদি কোন বিধবাকে বিয়ে করে এবং তার ঘরে পূর্ব থেকেই কুমারী স্ত্রী থাকে তবে সে যেন তার সঙ্গে তিন দিন কাটায় এবং তারপর পালাক্রমে। আবূ কিলাবাহ (রহ.) বলেন, আমি ইচ্ছে করলে বলতে পারতাম যে, আনাস (রাঃ) এ হাদীস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন।

’আবদুর রাযযাক (রহ.) বলেন, আমি ইচ্ছে করলে বলতে পারতাম যে, খালেদ হাদীস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। [৫২১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৪)
হাদিস নং: ৫২১৫ সহিহ (Sahih)
عبد الاعلى بن حماد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد عن قتادة ان انس بن مالك حدثهم ان نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يطوف على نساىه„ في الليلة الواحدة وله“ يومىذ تسع نسوة.
৫২১৫. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই রাত্রে সকল স্ত্রীর নিকট গমন করেছেন। ঐ সময় তাঁর ন’জন স্ত্রী ছিল। [২৬৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৫)
হাদিস নং: ৫২১৬ সহিহ (Sahih)
فروة حدثنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا انصرف من العصر دخل على نساىه„ فيدنو من احداهن فدخل على حفصة فاحتبس اكثر مما كان يحتبس.
৫২১৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আসরের সালাত শেষ করতেন, তখন স্বীয় স্ত্রীদের মধ্য থেকে যে কোন একজনের নিকট গমন করতেন। একদিন তিনি স্ত্রী হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং সাধারণতঃ যে সময় কাটান তার চেয়ে বেশি সময় কাটালেন। [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৬)
হাদিস নং: ৫২১৭ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني سليمان بن بلال قال هشام بن عروة اخبرني ابي عن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسال في مرضه الذي مات فيه اين انا غدا اين انا غدا يريد يوم عاىشة فاذن له“ ازواجه“ يكون حيث شاء فكان في بيت عاىشة حتى مات عندها قالت عاىشة فمات في اليوم الذي كان يدور علي فيه في بيتي فقبضه“ الله وان راسه“ لبين نحري وسحري وخالط ريقه“ ريقي.
৫২১৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যে অসুখে ইন্তিকাল করেছিলেন, সেই অসুখের সময় জিজ্ঞেস করতেন, আগামীকাল আমার কার কাছে থাকার পালা? আগামীকাল আমার কার কাছে থাকার পালা? তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর পালার জন্য এরূপ বলতেন। সুতরাং উম্মাহাতুল মু’মিনীন তাঁকে যার ঘরে ইচ্ছে থাকার অনুমতি দিলেন এবং তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমার পালার দিনই আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে গেলেন এ অবস্থায় যে, আমার বুক ও গলার মাঝখানে তাঁর বুক ও মাথা ছিল এবং তাঁর মুখের লালা আমার মুখের লালার সঙ্গে মিশেছিল।[1][৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৭)
নোট: [1] ‘আয়িশাহ (রাঃ) কাঁচা মিসওয়াক চিবিয়ে রসূলুল্লাহ্ﷺ-কে দিলেন এবং তিনি নিজ দাঁত দ্বারা চিবালেন, এভাবে একজনের মুখের লালা অন্যের মুখের লালার সঙ্গে মিশ্রিত হল।
হাদিস নং: ৫২১৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، حدثنا سليمان، عن يحيى، عن عبيد بن حنين، سمع ابن عباس، عن عمر ـ رضى الله عنهم ـ دخل على حفصة فقال يا بنية لا يغرنك هذه التي اعجبها حسنها حب رسول الله صلى الله عليه وسلم اياها ـ يريد عاىشة ـ فقصصت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فتبسم‏.‏
৫২১৮. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ’উমার (রাঃ) থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন যে, ’উমার (রাঃ) হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, হে আমার কন্যা! তার আচরণ-ব্যবহার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ো না, কারণ সে তার সৌন্দর্য ও তার প্রতি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালবাসার কারণে গর্ব অনুভব করে। এ কথার দ্বারা তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বুঝিয়েছিলেন। তিনি আরো বললেন, আমি এ ঘটনা আল্লাহর রাসূলের কাছে বললাম। তিনি এ কথা শুনে মুচকি হাসলেন। [৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৮)
হাদিস নং: ৫২১৯ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن هشام عن فاطمة عن اسماء عن النبي صلى الله عليه وسلم ح حدثني محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن هشام حدثتني فاطمة عن اسماء ان امراة قالت يا رسول الله ان لي ضرة فهل علي جناح ان تشبعت من زوجي غير الذي يعطيني فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم المتشبع بما لم يعط كلابس ثوبي زور.
৫২১৯. আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, কোন এক মহিলা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সতীন আছে। এখন তাকে রাগানোর জন্য যদি আমার স্বামী আমাকে যা দেয়নি তা বাড়িয়ে বলি, তাতে কি কোন দোষ আছে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যা তোমাকে দেয়া হয়নি, তা দেয়া হয়েছে বলা ঐরূপ প্রতারকের কাজ, যে প্রতারণার জন্য দুপ্রস্থ মিথ্যার পোশাক পরিধান করল। [মুসলিম ৩৭/৩৫, হাঃ ২১৩০, আহমাদ ২৬৯৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৯)
হাদিস নং: ৫২২০ সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش عن شقيق عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من احد اغير من الله من اجل ذ‘لك حرم الفواحش وما احد احب اليه المدح من الله.
وَقَالَ وَرَّادٌ عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ لَوْ رَأَيْتُ رَجُلاً مَعَ امْرَأَتِي لَضَرَبْتُه“ بِالسَّيْفِ غَيْرَ مُصْفَحٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَتَعْجَبُونَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ لأنَا أَغْيَرُ مِنْه“ وَاللهُ أَغْيَرُ مِنِّي.

সা’দ ইবনু ’উবাদাহ (রাঃ) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ? (আল্লাহর কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তার চেয়েও অনেক অধিক এবং আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক অধিক।


৫২২০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাশীল কেউ নয় এবং এ কারণেই তিনি সকল অশ্লীল কাজ হারাম করেছেন আর (আল্লাহর) প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর অধিক প্রিয় কিছু নেই। [৪৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪০)
হাদিস নং: ৫২২১ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ يا امة محمد ما احد اغير من الله ان يرى عبده او امته تزني يا امة محمد لو تعلمون ما اعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا ‏"‏‏.‏
৫২২১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ আর কারো নেই। তিনি তাঁর কোন বান্দা নর হোক কি নারী হোক তার ব্যভিচার তিনি দেখতে চান না। হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! যা আমি জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে হাসতে খুব কম এবং কাঁদতে অধিক অধিক। [১০৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪১)
হাদিস নং: ৫২২২ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا همام عن يحيى عن ابي سلمة ان عروة بن الزبير حدثه“ عن امه„ اسماء انها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلميقول لا شيء اغير من الله
৫২২২. আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ আর কারো নেই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪২)
হাদিস নং: ৫২২৩ সহিহ (Sahih)
وعن يحيى، ان ابا سلمة، حدثه ان ابا هريرة حدثه انه، سمع النبي صلى الله عليه وسلم‏.‏ حدثنا ابو نعيم، حدثنا شيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، انه سمع ابا هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال ‏ "‏ ان الله يغار وغيرة الله ان ياتي المومن ما حرم الله ‏"‏‏.‏
৫২২৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ্ তা’আলার আত্মমর্যাদাবোধ আছে এবং আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ এই যে, যেন কোন মু’মিন বান্দা হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে না পড়ে। [মুসলিম ৪৯/৬, হাঃ ২৭৬২, আহমাদ ৯০৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪৩)
হাদিস নং: ৫২২৪ সহিহ (Sahih)
محمود حدثنا ابو اسامة حدثنا هشام قال اخبرني ابي عن اسماء بنت ابي بكر قالت تزوجني الزبير وما له“ في الارض من مال ولا مملوك ولا شيء غير ناضح وغير فرسه„ فكنت اعلف فرسه“ واستقي الماء واخرز غربه“ واعجن ولم اكن احسن اخبز وكان يخبز جارات لي من الانصار وكن نسوة صدق وكنت انقل النو‘ى من ارض الزبير التي اقطعه“ رسول الله صلى الله عليه وسلم على راسي وهي مني على ثلثي فرسخ فجىت يوما والنو‘ى على راسي فلقيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه“ نفر من الانصار فدعاني ثم قال اخ اخ ليحملني خلفه“ فاستحييت ان اسير مع الرجال وذكرت الزبير وغيرته“ وكان اغير الناس فعرف رسول الله صلى الله عليه وسلم اني قد استحييت فمضى فجىت الزبير فقلت لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى راسي النو‘ى ومعه“ نفر من اصحابه„ فاناخ لا÷ركب فاستحييت منه“ وعرفت غيرتك فقال والله لحملك النو‘ى كان اشد علي من ركوبك معه“ قالت حتى ارسل الي ابو بكر بعد ذ‘لك بخادم تكفيني سياسة الفرس فكانما اعتقني.
৫২২৪. আসমা বিনতে আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুবায়র (রাঃ) আমাকে বিয়ে করলেন, তখন তার কাছে কোন ধন-সম্পদ ছিল না, এমন কি কোন স্থাবর জমি-জমা, দাস-দাসীও ছিল না; শুধুমাত্র কুয়ো থেকে পানি উত্তোলনকারী একটি উট ও একটি ঘোড়া ছিল। আমি তাঁর উট ও ঘোড়া চরাতাম, পানি পান করাতাম এবং পানি উত্তোলনকারী মশক ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতাম, আটা পিষতাম; কিন্তু ভালো রুটি তৈরি করতে পারতাম না। তাই আনসারী প্রতিবেশী মহিলারা আমার রুটি তৈরিতে সাহায্য করত। আর তারা ছিল খুবই উত্তম নারী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র (রাঃ)-কে একখন্ড জমি দিয়েছিলেন। আমি সেখান থেকে মাথায় করে খেজুরের আঁটির বোঝা বহন করে আনতাম। ঐ জমির দূরত্ব ছিল প্রায় দু’মাইল। একদিন আমি মাথায় করে খেজুরের আঁটি বহন করে নিয়ে আসছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাৎ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কয়েকজন আনসারও ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে তাঁর উটের পিঠে বসার জন্য তাঁর উটকে আখ্! আখ্! বললেন, যাতে উটটি বসে এবং আমি তাঁর পিঠে আরোহণ করতে পারি।

আমি পরপুরুষের সঙ্গে একত্রে যাওয়ার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করতে লাগলাম এবং যুবায়র (রাঃ)-এর আত্মসম্মানবোধের কথা আমার মনে পড়ল। কেননা, সে ছিল খুব আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন, আমি খুব লজ্জাবোধ করছি। সুতরাং তিনি এগিয়ে চললেন। আমি যুবায়র (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছলাম এবং বললাম, আমি খেজুরের আঁটির বোঝা মাথায় নিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমার দেখা হয় এবং তাঁর সঙ্গে কিছু সংখ্যক সাহাবী ছিলেন। তিনি তাঁর উটকে হাঁটু গেড়ে বসালেন, যেন আমি তাতে সওয়ার হতে পারি। কিন্তু আমি তোমার আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে লজ্জা অনুভব করলাম। এ কথা শুনে যুবায়র (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! খেজুরের আঁটির বোঝা মাথায় বহন করা তাঁর সঙ্গে উটে চড়ার চেয়ে আমার কাছে অধিক লজ্জাজনক। এরপর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) ঘোড়ার দেখাশুনার জন্য আমার সাহায্যের নিমিত্ত একজন খাদিম পাঠিয়ে দিলেন। এরপরই আমি যেন মুক্ত হলাম। [৩১৫১; মুসলিম ৩৯/১৪, হাঃ ২১৮২, আহমাদ ২৭০০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪৪)
হাদিস নং: ৫২২৫ সহিহ (Sahih)
علي حدثنا ابن علية عن حميد عن انس قال كان النبي صلى الله عليه وسلم عند بعض نساىه„ فارسلت احد‘ى امهات المومنين بصحفة فيها طعام فضربت التي النبي صلى الله عليه وسلم في بيتها يد الخادم فسقطت الصحفة فانفلقت فجمع النبي صلى الله عليه وسلم فلق الصحفة ثم جعل يجمع فيها الطعام الذي كان في الصحفة ويقول غارت امكم ثم حبس الخادم حتى اتي بصحفة من عند التي هو في بيتها فدفع الصحفة الصحيحة الى التي كسرت صحفتها وامسك المكسورة في بيت التي كسرت.
৫২২৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার একজন স্ত্রীর কাছে ছিলেন। ঐ সময় উম্মুহাতুল মু’মিনীনের আর একজন একটি পাত্রে কিছু খাদ্য পাঠালেন। যে স্ত্রীর ঘরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থান করছিলেন সে স্ত্রী খাদিমের হাতে আঘাত করলেন। ফলে খাদ্যের পাত্রটি পড়ে ভেঙ্গে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের ভাঙ্গা টুকরোগুলো কুড়িয়ে একত্রিত করলেন, তারপর খাদ্যগুলো কুড়িয়ে তাতে রাখলেন এবং বললেন, তোমাদের আম্মাজীর আত্মর্যাদাবোধে আঘাত লেগেছে। তারপর তিনি খাদিমকে অপেক্ষা করতে বললেন এবং যে স্ত্রীর কাছে ছিলেন তাঁর নিকট হতে একটি পাত্র নিয়ে যার পাত্র ভেঙ্গেছিল, তার কাছে পাঠালেন এবং ভাঙ্গা পাত্রটি যে ভেঙ্গেছিল তার ঘরেই রাখলেন। [২৪৮১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪৫)
হাদিস নং: ৫২২৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر المقدمي حدثنا معتمر عن عبيد الله عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال دخلت الجنة او اتيت الجنة فابصرت قصرا فقلت لمن هذا قالوا لعمر بن الخطاب فاردت ان ادخله“ فلم يمنعني الا علمي بغيرتك قال عمر بن الخطاب يا رسول الله بابي انت وامي يا نبي الله اوعليك اغار.
৫২২৬. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার প্রাসাদ? তাঁরা (ফেরেশতাগণ) বললেন, এ প্রাসাদটি ’উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)-এর। আমি তার মধ্যে প্রবেশ করতে চাইলাম; কিন্তু [তিনি সেখানে উপস্থিত ’উমার (রাঃ)-এর উদ্দেশে বললেন] তোমার আত্মমর্যাদাবোধ আমাকে সেখানে প্রবেশে বাধা দিল। এ কথা শুনে ’উমার (রাঃ) বললেন, হেআল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনার কাছেও আমি (’উমার) আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করব? [৩৬৭৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪৬)
হাদিস নং: ৫২২৭ সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله عن يونس عن الزهري قال اخبرني ابن المسيب عن ابي هريرة قال بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم جلوس فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما انا ناىم رايتني في الجنة فاذا امراة تتوضا الى جانب قصر فقلت لمن هذا قالوا هذا لعمر فذكرت غيرتك فوليت مدبرا فبكى عمر وهو في المجلس ثم قال اوعليك يا رسول الله اغار.
৫২২৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি একদিন ঘুমন্ত অবস্থায় জান্নাতে একটি প্রাসাদের প্রার্শ্বে একজন মহিলাকে ওযু করতে দেখলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই প্রাসাদটি কার? আমাকে বলা হলো, এটা ’উমার (রাঃ)-এর। তখন আমি ’উমারের আত্মমর্যাদার কথা স্মরণ করে পিছন ফিরে চলে এলাম। এ কথা শুনে ’উমার (রাঃ) সেই মজলিসেই কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছেও কি আত্মসম্মানবোধ প্রকাশ করব। [৩২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪৭)
হাদিস নং: ৫২২৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اني لاعلم اذا كنت عني راضية، واذا كنت على غضبى ‏"‏‏.‏ قالت فقلت من اين تعرف ذلك فقال ‏"‏ اما اذا كنت عني راضية فانك تقولين لا ورب محمد، واذا كنت غضبى قلت لا ورب ابراهيم ‏"‏‏.‏ قالت قلت اجل والله يا رسول الله، ما اهجر الا اسمك‏.‏
৫২২৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ’’আমি জানি কখন তুমি আমার প্রতি খুশী থাক এবং কখন রাগান্বিত হও।’’ আমি বললাম, কী করে আপনি তা বুঝতে সক্ষম হন? তিনি বললেন, তুমি প্রসন্ন থাকলে বল, না! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রব-এর কসম! কিন্তু তুমি আমার প্রতি নারাজ থাকলে বল, না! ইব্রাহীম (’আ.)-এর রব-এর কসম! শুনে আমি বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! সে ক্ষেত্রে শুধু আপনার নাম উচ্চারণ করা থেকেই বিরত থাকি। [৬০৭৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪৮)
হাদিস নং: ৫২২৯ সহিহ (Sahih)
حدثني احمد بن ابي رجاء، حدثنا النضر، عن هشام، قال اخبرني ابي، عن عاىشة، انها قالت ما غرت على امراة لرسول الله صلى الله عليه وسلم كما غرت على خديجة، لكثرة ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم اياها وثناىه عليها، وقد اوحي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يبشرها ببيت لها في الجنة من قصب‏.‏
৫২২৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের মধ্য থেকে খাদীজাহ (রাঃ)-এর চেয়ে অন্য কোন স্ত্রীর প্রতি অধিক হিংসা করিনি। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় তাঁর কথা স্মরণ করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন। তাছাড়াও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহীর মাধ্যমে তাঁকে [খাদীজাহ (রাঃ)]-কে জান্নাতের মধ্যে একটি মতির প্রাসাদের সুসংবাদ দেবার জন্য জ্ঞাত করানো হয়েছিল। [২৬৪৪, ৩৮১৬; মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৩৯, আহমাদ ২৪৩৭২](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪৯)
হাদিস নং: ৫২৩০ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث عن ابن ابي مليكة عن المسور بن مخرمة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلميقول وهو على المنبر ان بني هشام بن المغيرة استاذنوا في ان ينكحوا ابنتهم علي بن ابي طالب فلا اذن ثم لا اذن ثم لا اذن الا ان يريد ابن ابي طالب ان يطلق ابنتي وينكح ابنتهم فانما هي بضعة مني يريبني ما ارابها ويوذيني ما اذاها.
৫২৩০. মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, বনি হিশাম ইবনু মুগীরাহ, ’আলী ইবনু আবূ তালিবের কাছে তাদের মেয়ে বিয়ে দেবার জন্য আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে; কিন্তু আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না ’আলী ইব্নু আবূ তালিব আমার কন্যাকে তালাক দেয় এবং এর পরেই সে তাদের মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। কেননা, ফাতিমা হচ্ছে আমার কলিজার টুকরা এবং সে যা ঘৃণা করে, আমিও তা ঘৃণা করি এবং তাকে যা কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৫০)
অধ্যায় তালিকা