অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫২০৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا مروان بن معاوية، حدثنا ابو يعفور، قال تذاكرنا عند ابي الضحى فقال حدثنا ابن عباس، قال اصبحنا يوما ونساء النبي صلى الله عليه وسلم يبكين، عند كل امراة منهن اهلها، فخرجت الى المسجد، فاذا هو ملان من الناس فجاء عمر بن الخطاب فصعد الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو في غرفة له، فسلم فلم يجبه احد، ثم سلم فلم يجبه احد، ثم سلم فلم يجبه احد، فناداه فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم فقال اطلقت نساءك فقال ‏ "‏ لا ولكن اليت منهن شهرا ‏"‏‏.‏ فمكث تسعا وعشرين، ثم دخل على نساىه‏.‏
৫২০৩. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদিন প্রত্যুষে দেখতে পেলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ কাঁদছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে পরিবারের লোকজনও রয়েছে। আমি মসজিদে গেলাম এবং সেখানকার অবস্থা ছিল জনাকীর্ণ। ’উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) সেখানে এলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপরিস্থিত কক্ষে আরোহণ করলেন এবং সালাম করলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উত্তর দিলেন না। পুনরায় তিনি সালাম দিলেন; কিন্তু কেউ কোনরূপ সাড়া দিল না। আবার তিনি সালাম দিলেন; কিন্তু কেউ কোনরূপ জবাব দিল না। এরপর খাদিমকে ডাকলেন এবং তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি আপনার স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেন, না, কিন্তু আমি শপথ করেছি যে, তাদের কাছে এক মাস পর্যন্ত যাব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঊনত্রিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে তাঁর স্ত্রীগণের কাছে গমন করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৪)
হাদিস নং: ৫২০৪ সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن هشام عن ابيه عن عبد الله بن زمعة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا يجلد احدكم امراته“ جلد العبد ثم يجامعها في اخر اليوم
৫২০৪. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু যাম’আহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কেউ নিজ স্ত্রীদেরকে গোলামের মত প্রহার করো না। কেননা, দিনের শেষে তার সঙ্গে তো মিলিত হবে। [৩৩৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৫)
হাদিস নং: ৫২০৫ সহিহ (Sahih)
خلاد بن يحيى حدثنا ابراهيم بن نافع عن الحسن هو ابن مسلم عن صفية عن عاىشة ان امراة من الانصار زوجت ابنتها فتمعط شعر راسها فجاءت الى النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذ‘لك له“ فقالت ان زوجها امرني ان اصل في شعرها فقال لا انه“ قد لعن الموصلات.
৫২০৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক আনসারী মহিলা তার মেয়েকে বিয়ে দিলেন। কিন্তু তার মাথার চুলগুলো উঠে যেতে লাগল। এরপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করে বলল, তার স্বামী আমাকে বলেছে আমি যেন আমার মেয়ের মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করাই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না তা করো না, কারণ, আল্লাহ্ তা’আলা এ ধরনের মহিলাদের ওপর লা’নত বর্ষণ করেন, যারা মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করে। [৫৯৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৬)
হাদিস নং: ৫২০৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن سلام، اخبرنا ابو معاوية، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ‏(‏وان امراة خافت من بعلها نشوزا او اعراضا‏)‏ قالت هي المراة تكون عند الرجل، لا يستكثر منها فيريد طلاقها، ويتزوج غيرها، تقول له امسكني ولا تطلقني، ثم تزوج غيري، فانت في حل من النفقة على والقسمة لي، فذلك قوله تعالى ‏(‏فلا جناح عليهما ان يصالحا بينهما صلحا والصلح خير‏)‏
৫২০৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ’’এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে’’ এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ মহিলা সম্পর্কে, যার স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে চায় না; বরং তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করতে চায়। তখন তার স্ত্রী তাকে বলে, আমাকে রাখ এবং তালাক দিও না বরং অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করে নাও এবং তুমি ইচ্ছে করলে আমাকে খোরপোষ না-ও দিতে পার, আর আমাকে শয্যাসঙ্গিনী না-ও করতে পার। আল্লাহ্ তা’আলার উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, ’’তবে তারা পরস্পর আপোষ করলে তাদের কোন গুনাহ নেই, বস্তুতঃ আপোষ করাই উত্তম।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৮)[২৪৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৭)
হাদিস নং: ৫২০৭ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد عن ابن جريج عن عطاء عن جابر قال كنا نعزل على عهد النبي صلى الله عليه وسلم
৫২০৭. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমরা ’আযল করতাম। [৫২০৮, ৫২০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৮)
হাদিস নং: ৫২০৮ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال عمرو اخبرني عطاء سمع جابرا قال كنا نعزل والقران ينزل
৫২০৮. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ’আযল করতাম। সে সময় কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল। [৫২০৭](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৯)
হাদিস নং: ৫২০৯ সহিহ (Sahih)
وعن عمرو عن عطاء عن جابر قال كنا نعزل على عهد النبي صلى الله عليه وسلم والقران ينزل.
৫২০৯. অন্য সূত্র থেকেও জাবির (রাঃ) এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এবং কুরআন অবতীর্ণ হওয়াকালে ’আযল করতাম। [৫২০৭; মুসলিম ত্বলাক (তালাক)/২১, হাঃ ১৪৪০, আহমাদ ১৪৩২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৯)
হাদিস নং: ৫২১০ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد بن اسماء حدثنا جويرية عن مالك بن انس عن الزهري عن ابن محيريز عن ابي سعيد الخدري قال اصبنا سبيا فكنا نعزل فسالنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اوانكم لتفعلون قالها ثلاثا ما من نسمة كاىنة الى يوم القيامة الا هي كاىنة.
৫২১০. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধকালীন সময়ে গানীমাত হিসাবে কিছু দাসী পেয়েছিলাম। আমরা তাদের সঙ্গে ’আযল করতাম। এরপর আমরা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি উত্তরে বললেনঃ কী! তোমরা কি এমন কাজও কর? একই প্রশ্ন তিনি তিনবার করলেন এবং পরে বললেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত যে রূহ পয়দা হবার, তা অবশ্যই পয়দা হবে। [1] [৫২০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩০)
নোট: [1] স্বামী-স্ত্রী মিলনের সময় স্ত্রী-অঙ্গের বাইরে শুক্র স্খলিত করার নাম আযল। নাবীযুগে কোন কোন সাহাবী একাজ করতেন। বুখারী ও মুসলিমে আবূ সাঈদ (রাঃ) বর্ণিত অপর হাদীস থেকে বুঝা যায় তারা সাময়িক অসুবিধা এড়ানোর জন্য এমন কাজ করতেন। সন্তান জন্মিলে তার রিযিকের ব্যবস্থা করা যাবে না- এমন কোন আশঙ্কা বা ভয়ে তারা তা করতেন না। যে মানুষই জন্মিবে, আল্লাহই যে তার রিযিকদাতা এ ব্যাপারে তাঁরা বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করতেন না। সন্তানের জন্মদানকে আপাতত ঠেকানো যাবে এরকম সুবিধালাভের আশায় তারা আযল করতেন। আযল দ্বারা যে সন্তানের জন্মদানকে ঠেকানো যাবে না তা আল্লাহর রসূলের কথায় অতি স্পষ্ট হয়ে গেছে। ইবনে সিরীন- এর মতে আযল সম্পর্কে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও তা যে নিষেধের একেবারে কাছাকাছি তাতে কোন সন্দেহ নেই। হাসান বসরী বলেছেন- আল্লাহর শপথ! রসূলের কথায় আযল সম্পর্কে স্পষ্ট ভৎর্সনা ও হুমকি রয়েছে। ইমাম কুরতুবী বলেছেন- সাহাবীগণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্ত কথা থেকে নিষেধই বুঝেছিলেন- ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়- রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন বলেছেন- তোমরা আযল কর না, তা না করাই তোমাদের কর্তব্য।

বর্তমানে সন্তানের জন্মদানকে বন্ধ করার জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণের নানান পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আর এ কথা সবারই জানা যে, এ পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে এ কথা বলে যে, মানুষ বেশি হলে অভাব দারিদ্র দেখা দিবে, রিযিকের ঘাটতি পড়ে যাবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ ঘোষণা করছেন-

قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ ۖ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۖ وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ ۖ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ ۖ وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ۖ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ۚ ذَٰلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

‘‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না দারিদ্রের কারণে, আমিই তোমাদের রিযিক দান করি এবং তাদেরও আমি করব’’- (আন‘আম ৬ঃ ১৫১)। আল্লাহ আরো বলেন-

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ۖ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ۚ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا

‘‘এবং তোমরা হত্যা কর না তোমাদের সন্তানদের দারিদ্রের ভয়ে, আমি তাদের রিযিক দেব এবং তোমাদেরও; নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা বিরাট ভুল’’- (বানী ইসরাঈল ১৭ঃ ৩১)।

ভবিষ্যতে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় যারা সন্তান জন্মদানে ভয় পায়, যারা মনে করে যে, আরো অধিক সন্তান হলে জীবনযাত্রার মান রক্ষা করা সম্ভব হবে না, এবং এজন্য জন্মনিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের পন্থা গ্রহণ করে, উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে তাদের সম্পর্কে নিষেধবানী উচ্চারণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে- বর্তমানে তোমাদের যেমন আমিই রিযিক দিচ্ছি, তোমাদের সন্তান হলে অভিষ্যতে আমিই তাদের রিযিক দেব, ভয়ের কোন কারণ নেই।

এখানে দু’টি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, (১) জন্মনিরোধ (সম্পূর্ণরূপে সন্তান দানের ক্ষমতাকে বিলুপ্ত করে দেয়া)। আর (২) জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা। জন্মনিরোধ করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। তবে যদি মহিলার অবস্থা এরূপ হয় যে, সে কয়েকটি সন্তান নিয়েছে আর প্রতিবারই তার জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। এমতাবস্থায় ডাক্তার যদি পরামর্শ দেয় যে, এরপরে সন্তান নিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আলেমগণ ফাতওয়া দিয়েছেন যে, এ অবস্থায় সন্তান জন্মের উৎসকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করলে হারাম বলা যাবে না। বরং সৎ পরামর্শ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে।

আর জন্ম নিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ সন্তান জন্মের পরে তাড়াতাড়ি না করে এক/দুই বছর পরে সন্তান গ্রহণ করা। এ ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় সন্তান জন্মের পরে তার মায়ের অবস্থা খুবই নাজুক ও শারীরিকভাবে এমনই দুর্বল যে, এখনই পুনরায় সন্তান গ্রহণ করলে রোগাক্রান্ত হয়ে যেতে পারে এবং তার জীবনের উপরে ঝুঁকি আসতে পারে অথবা বর্তমান শিশু সন্তানের দেখা-শুনার ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাহলে শুধুমাত্র এ ক্ষেত্রে বাচ্চার মায়ের শরীরের দিকে লক্ষ্য রেখে এক/দুই বছর দেরীতে সন্তান নিলে এরূপ দেরী করাকে বিশেষজ্ঞ আলেমগণ সমর্থন দিয়েছেন।
হাদিস নং: ৫২১১ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا عبد الواحد بن ايمن قال حدثني ابن ابي مليكة عن القاسم عن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا خرج اقرع بين نساىه„ فطارت القرعة لعاىشة وحفصة وكان النبي صلى الله عليه وسلم اذا كان بالليل سار مع عاىشة يتحدث فقالت حفصة الا تركبين الليلة بعيري واركب بعيرك تنظرين وانظر فقالت بلى فركبت فجاء النبي صلى الله عليه وسلم الى جمل عاىشة وعليه حفصة فسلم عليها ثم سار حتى نزلوا وافتقدته“ عاىشة فلما نزلوا جعلت رجليها بين الاذخر وتقول يا رب سلط علي عقربا او حية تلدغني ولا استطيع ان اقول له“ شيىا.
৫২১১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে যাবার ইরাদা করতেন, তখনই স্ত্রীগণের মাঝে লটারী করতেন। এক সফরের সময় ’আয়িশাহ (রাঃ) এবং হাফসাহ (রাঃ)-এর নাম লটারীতে ওঠে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রীতি ছিল যখন রাত হত তখন ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে এক সওয়ারীতে আরোহণ করতেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। এক রাতে হাফসাহ (রাঃ) ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললেন, আজ রাতে তুমি কি আমার উটে আরোহণ করবে এবং আমি তোমার উটে, যাতে করে আমি তোমাকে এবং তুমি আমাকে এক নতুন অবস্থায় দেখতে পাবে? ’আয়িশাহ (রাঃ) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আমি রাযী আছি। সে হিসাবে ’আয়িশাহ (রাঃ) হাফসাহ (রাঃ)-এর উটে এবং হাফসাহ (রাঃ) ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর উটে সওয়ার হলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নির্ধারিত উটের কাছে এলেন, যার ওপর হাফসাহ (রাঃ) বসা ছিলেন। তিনি তাকে সালাম দিলেন এবং তাঁর পার্শ্বে বসে সফর করলেন। পথিমধ্যে এক স্থানে সবাই অবতরণ করলেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হলেন। যখন তাঁরা সকলেই অবতরণ করলেন তখন ’আয়িশাহ (রাঃ) নিজ পা দু’টি ’ইযখির’ নামক ঘাসের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমার জন্য কোন সাপ বা বিচ্ছু পাঠিয়ে দাও, যাতে আমাকে দংশন করে। কেননা, আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু বলতে পারব না। [মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩১)
হাদিস নং: ৫২১২ সহিহ (Sahih)
مالك بن اسماعيل حدثنا زهير عن هشام عن ابيه عن عاىشة ان سودة بنت زمعة وهبت يومها لعاىشة وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقسم لعاىشة بيومها ويوم سودة.
৫২১২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওদা বিনতে যাম’আহ (রাঃ) তাঁর পালার রাত ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে দান করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর জন্য দু’দিন বরাদ্দ করেন- ’আয়িশাহ (রাঃ)-’র দিন এবং সওদা (রাঃ)-’র দিন। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩২)
হাদিস নং: ৫২১৩ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا بشر حدثنا خالد عن ابي قلابة عن انس ولو شىت ان اقول قال النبي صلى الله عليه وسلمولكن قال السنة اذا تزوج البكر اقام عندها سبعا واذا تزوج الثيب اقام عندها ثلاثا.
67/100. بَاب الْعَدْلِ بَيْنَ النِّسَاءِ.
৬৭/১০০. অধ্যায়ঃ আপন স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করা।
(وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ) إِلَى قَوْلِهِ: (وَاسِعًا حَكِيمًا).

আল্লাহ্ বলেন, ’’তোমরা কক্ষনো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না যদিও প্রবল ইচ্ছে কর....আল্লাহ প্রশস্ততার অধিকারী, মহাকুশলী।’’ (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৯-১৩০)


৫২১৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত এই যে, যদি কেউ কুমারী মেয়ে বিয়ে করে, তবে তার সঙ্গে সাত দিন-রাত্রি যাপন করতে হবে আর যদি কেউ কোন বিধবা মহিলাকে বিয়ে করে, তাহলে তার সঙ্গে তিন দিন যাপন করতে হবে। [৫২১৪; মুসলিম ১৭/১২, হাঃ ১৪৬১, আহমাদ ১২৯৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৩)
হাদিস নং: ৫২১৪ সহিহ (Sahih)
يوسف بن راشد حدثنا ابو اسامة عن سفيان حدثنا ايوب وخالد عن ابي قلابة عن انس قال من السنة اذا تزوج الرجل البكر على الثيب اقام عندها سبعا وقسم واذا تزوج الثيب على البكر اقام عندها ثلاثا ثم قسم قال ابو قلابة ولو شىت لقلت ان انسا رفعه“ الى النبي صلى الله عليه وسلم وقال عبد الرزاق اخبرنا سفيان عن ايوب وخالد قال خالد ولو شىت قلت رفعه“ الى النبي صلى الله عليه وسلم.
৫২১৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত হচ্ছে, যদি কেউ বিধবা স্ত্রী থাকা অবস্থায় কুমারী বিয়ে করে তবে সে যেন তার সঙ্গে সাত দিন অতিবাহিত করে এবং এরপর পালা অনুসারে এবং কেউ যদি কোন বিধবাকে বিয়ে করে এবং তার ঘরে পূর্ব থেকেই কুমারী স্ত্রী থাকে তবে সে যেন তার সঙ্গে তিন দিন কাটায় এবং তারপর পালাক্রমে। আবূ কিলাবাহ (রহ.) বলেন, আমি ইচ্ছে করলে বলতে পারতাম যে, আনাস (রাঃ) এ হাদীস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন।

’আবদুর রাযযাক (রহ.) বলেন, আমি ইচ্ছে করলে বলতে পারতাম যে, খালেদ হাদীস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। [৫২১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৪)
হাদিস নং: ৫২১৫ সহিহ (Sahih)
عبد الاعلى بن حماد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد عن قتادة ان انس بن مالك حدثهم ان نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يطوف على نساىه„ في الليلة الواحدة وله“ يومىذ تسع نسوة.
৫২১৫. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই রাত্রে সকল স্ত্রীর নিকট গমন করেছেন। ঐ সময় তাঁর ন’জন স্ত্রী ছিল। [২৬৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৫)
হাদিস নং: ৫২১৬ সহিহ (Sahih)
فروة حدثنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا انصرف من العصر دخل على نساىه„ فيدنو من احداهن فدخل على حفصة فاحتبس اكثر مما كان يحتبس.
৫২১৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আসরের সালাত শেষ করতেন, তখন স্বীয় স্ত্রীদের মধ্য থেকে যে কোন একজনের নিকট গমন করতেন। একদিন তিনি স্ত্রী হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং সাধারণতঃ যে সময় কাটান তার চেয়ে বেশি সময় কাটালেন। [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৬)
হাদিস নং: ৫২১৭ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني سليمان بن بلال قال هشام بن عروة اخبرني ابي عن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسال في مرضه الذي مات فيه اين انا غدا اين انا غدا يريد يوم عاىشة فاذن له“ ازواجه“ يكون حيث شاء فكان في بيت عاىشة حتى مات عندها قالت عاىشة فمات في اليوم الذي كان يدور علي فيه في بيتي فقبضه“ الله وان راسه“ لبين نحري وسحري وخالط ريقه“ ريقي.
৫২১৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যে অসুখে ইন্তিকাল করেছিলেন, সেই অসুখের সময় জিজ্ঞেস করতেন, আগামীকাল আমার কার কাছে থাকার পালা? আগামীকাল আমার কার কাছে থাকার পালা? তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর পালার জন্য এরূপ বলতেন। সুতরাং উম্মাহাতুল মু’মিনীন তাঁকে যার ঘরে ইচ্ছে থাকার অনুমতি দিলেন এবং তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমার পালার দিনই আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে গেলেন এ অবস্থায় যে, আমার বুক ও গলার মাঝখানে তাঁর বুক ও মাথা ছিল এবং তাঁর মুখের লালা আমার মুখের লালার সঙ্গে মিশেছিল।[1][৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৭)
নোট: [1] ‘আয়িশাহ (রাঃ) কাঁচা মিসওয়াক চিবিয়ে রসূলুল্লাহ্ﷺ-কে দিলেন এবং তিনি নিজ দাঁত দ্বারা চিবালেন, এভাবে একজনের মুখের লালা অন্যের মুখের লালার সঙ্গে মিশ্রিত হল।
হাদিস নং: ৫২১৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، حدثنا سليمان، عن يحيى، عن عبيد بن حنين، سمع ابن عباس، عن عمر ـ رضى الله عنهم ـ دخل على حفصة فقال يا بنية لا يغرنك هذه التي اعجبها حسنها حب رسول الله صلى الله عليه وسلم اياها ـ يريد عاىشة ـ فقصصت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فتبسم‏.‏
৫২১৮. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ’উমার (রাঃ) থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন যে, ’উমার (রাঃ) হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, হে আমার কন্যা! তার আচরণ-ব্যবহার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ো না, কারণ সে তার সৌন্দর্য ও তার প্রতি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালবাসার কারণে গর্ব অনুভব করে। এ কথার দ্বারা তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বুঝিয়েছিলেন। তিনি আরো বললেন, আমি এ ঘটনা আল্লাহর রাসূলের কাছে বললাম। তিনি এ কথা শুনে মুচকি হাসলেন। [৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৮)
হাদিস নং: ৫২১৯ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن هشام عن فاطمة عن اسماء عن النبي صلى الله عليه وسلم ح حدثني محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن هشام حدثتني فاطمة عن اسماء ان امراة قالت يا رسول الله ان لي ضرة فهل علي جناح ان تشبعت من زوجي غير الذي يعطيني فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم المتشبع بما لم يعط كلابس ثوبي زور.
৫২১৯. আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, কোন এক মহিলা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সতীন আছে। এখন তাকে রাগানোর জন্য যদি আমার স্বামী আমাকে যা দেয়নি তা বাড়িয়ে বলি, তাতে কি কোন দোষ আছে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যা তোমাকে দেয়া হয়নি, তা দেয়া হয়েছে বলা ঐরূপ প্রতারকের কাজ, যে প্রতারণার জন্য দুপ্রস্থ মিথ্যার পোশাক পরিধান করল। [মুসলিম ৩৭/৩৫, হাঃ ২১৩০, আহমাদ ২৬৯৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৯)
হাদিস নং: ৫২২০ সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش عن شقيق عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من احد اغير من الله من اجل ذ‘لك حرم الفواحش وما احد احب اليه المدح من الله.
وَقَالَ وَرَّادٌ عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ لَوْ رَأَيْتُ رَجُلاً مَعَ امْرَأَتِي لَضَرَبْتُه“ بِالسَّيْفِ غَيْرَ مُصْفَحٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَتَعْجَبُونَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ لأنَا أَغْيَرُ مِنْه“ وَاللهُ أَغْيَرُ مِنِّي.

সা’দ ইবনু ’উবাদাহ (রাঃ) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ? (আল্লাহর কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তার চেয়েও অনেক অধিক এবং আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক অধিক।


৫২২০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাশীল কেউ নয় এবং এ কারণেই তিনি সকল অশ্লীল কাজ হারাম করেছেন আর (আল্লাহর) প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর অধিক প্রিয় কিছু নেই। [৪৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪০)
হাদিস নং: ৫২২১ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ يا امة محمد ما احد اغير من الله ان يرى عبده او امته تزني يا امة محمد لو تعلمون ما اعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا ‏"‏‏.‏
৫২২১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ আর কারো নেই। তিনি তাঁর কোন বান্দা নর হোক কি নারী হোক তার ব্যভিচার তিনি দেখতে চান না। হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! যা আমি জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে হাসতে খুব কম এবং কাঁদতে অধিক অধিক। [১০৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪১)
হাদিস নং: ৫২২২ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا همام عن يحيى عن ابي سلمة ان عروة بن الزبير حدثه“ عن امه„ اسماء انها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلميقول لا شيء اغير من الله
৫২২২. আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ আর কারো নেই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪২)
অধ্যায় তালিকা