হাদিস নং: ৫৪০৭
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا محمد بن جعفر عن ابي حازم عن عبد الله بن ابي قتادة السلمي عن ابيه انه“ قال كنت يوما جالسا مع رجال من اصحاب النبيصلى الله عليه وسلم في منزل في طريق مكة ورسول الله صلى الله عليه وسلم نازل امامنا والقوم محرمون وانا غير محرم فابصروا حمارا وحشيا وانا مشغول اخصف نعلي فلم يوذنوني له“ واحبوا لو اني ابصرته“ فالتفت فابصرته“ فقمت الى الفرس فاسرجته“ ثم ركبت ونسيت السوط والرمح فقلت لهم ناولوني السوط والرمح فقالوا لا والله لا نعينك عليه بشيء فغضبت فنزلت فاخذتهما ثم ركبت فشددت على الحمار فعقرته“ ثم جىت به„ وقد مات فوقعوا فيه ياكلونه“ ثم انهم شكوا في اكلهم اياه“ وهم حرم فرحنا وخبات العضد معي فادركنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فسالناه“ عن ذ‘لك فقال معكم منه“ شيء فناولته العضد فاكلها حتى تعرقها وهو محرم قال محمد بن جعفر وحدثني زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي قتادة مثله.
৫৪০৭. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সংখ্যক সাহাবীর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনেই অবস্থান করছিলেন। আমি ব্যতীত দলের সকলেই ছিলেন ইহরাম অবস্থায়। আমি আমার জুতা সেলাই করতে ব্যস্ত ছিলাম। এমন সময় তারা একটি বন্য গাধা দেখতে পেল। কিন্তু আমাকে জানাল না। তবে তারা আশা করছিল, যদি আমি ওটা দেখতাম! তারপর আমি চোখ ফেরাতেই ওটা দেখে ফেললাম। এরপর আমি ঘোড়ার কাছে গিয়ে তার পিঠে জিন লাগিয়ে তার উপর আরোহণ করলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শার কথা ভুলে গেলাম। কাজেই আমি তাদের বললাম, চাবুক ও বর্শাটি আমাকে তুলে দাও! তারা বললঃ না, আল্লাহর কসম! এ কাজে তোমাকে আমরা কিছুই সাহায্য করব না।
এতে আমি রাগাম্বিত হলাম এবং নীচে নেমে ওদু’টি নিয়ে পুনরায় সাওয়ার হলাম। তারপর আমি গাধাটির পেছনে দ্রুত তাড়া করে তাকে ঘায়েল করে ফেললাম। তখন সেটি মরে গেল এবং আমি তা নিয়ে এলাম। পাকানোর পর) তারা সকলে এটা খাওয়া শুরু করল। তারপর ইহরাম অবস্থায় এটা খাওয়া নিয়ে তারা সন্দেহে পড়ল। আমি সন্ধ্যার দিকে রওনা হলাম এবং এর একটি বাহু লুকিয়ে রাখলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে এর কিছু আছে? এ কথা শুনে আমি বাহুটি তাঁর সামনে পেশ করলাম। তিনি মুহরিম অবস্থায় তা খেলেন, এমন কি এর হাড়ের সঙ্গে সংলগ্ন মাংসও দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেলেন।
ইবনু জা’ফর বলেছেনঃ যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.) ’আত্বা ইবনু ইয়াসার-এর সূত্রে আবূ ক্বাতাদাহ থেকে এরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। [১৮২১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০০)
এতে আমি রাগাম্বিত হলাম এবং নীচে নেমে ওদু’টি নিয়ে পুনরায় সাওয়ার হলাম। তারপর আমি গাধাটির পেছনে দ্রুত তাড়া করে তাকে ঘায়েল করে ফেললাম। তখন সেটি মরে গেল এবং আমি তা নিয়ে এলাম। পাকানোর পর) তারা সকলে এটা খাওয়া শুরু করল। তারপর ইহরাম অবস্থায় এটা খাওয়া নিয়ে তারা সন্দেহে পড়ল। আমি সন্ধ্যার দিকে রওনা হলাম এবং এর একটি বাহু লুকিয়ে রাখলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে এর কিছু আছে? এ কথা শুনে আমি বাহুটি তাঁর সামনে পেশ করলাম। তিনি মুহরিম অবস্থায় তা খেলেন, এমন কি এর হাড়ের সঙ্গে সংলগ্ন মাংসও দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেলেন।
ইবনু জা’ফর বলেছেনঃ যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.) ’আত্বা ইবনু ইয়াসার-এর সূত্রে আবূ ক্বাতাদাহ থেকে এরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। [১৮২১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০০)
হাদিস নং: ৫৪০৮
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني جعفر بن عمرو بن امية ان اباه“ عمرو بن امية اخبره“ انه“ راى النبي صلى الله عليه وسلم يحتز من كتف شاة في يده„ فدعي الى الصلاة فالقاها والسكين التي يحتز بها ثم قام فصلى ولم يتوضا.
৫৪০৮. ’আমর ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) থেকে বণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রান্না করা বকরীর কাঁধের মাংস নিজ হাতে খেতে দেখেছেন। সালাতের জন্য তাঁকে ডাকা হলে তিনি তা এবং যে চাকু দিয়ে কাটছিলেন সেটিও রেখে দেন। অতঃপর উঠে গিয়ে সালাত আদায় করেন। অথচ তিনি নতুনভাবে অযূ করেননি। [২০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০১)
হাদিস নং: ৫৪০৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن الاعمش عن ابي حازم عن ابي هريرة قال ما عاب النبي صلى الله عليه وسلم طعاما قط ان اشتهاه“ اكله“ وان كرهه“ تركه.
৫৪০৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোন খাবারের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করেননি। ভাল লাগলে তিনি খেতেন এবং খারাপ লাগলে রেখে দিতেন। [৩৫৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০২)
হাদিস নং: ৫৪১০
সহিহ (Sahih)
سعيد بن ابي مريم حدثنا ابو غسان قال حدثني ابو حازم انه“ سال سهلا هل رايتم في زمان النبي صلى الله عليه وسلم النقي قال لا فقلت فهل كنتم تنخلون الشعير قال لاولكن كنا ننفخه.
৫৪১০. আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি সাহল (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আপনারা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ময়দা দেখেছেন? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ আপনারা কি যবের আটা চালুনিতে চালতেন? তিনি বললেনঃ না। আমরা ওতে ফুঁক দিতাম। [৫৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৩)
হাদিস নং: ৫৪১১
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن عباس الجريري عن ابي عثمان النهدي عن ابي هريرة قال قسم النبي صلى الله عليه وسلم يوما بين اصحابه„ تمرا فاعطى كل انسان سبع تمرات فاعطاني سبع تمرات احداهن حشفة فلم يكن فيهن تمرة اعجب الي منها شدت في مضاغي.
৫৪১১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কিছু বন্টন করে দিলেন। তিনি প্রত্যেককে সাতটি করে খেজুর দিলেন। আমাকেও সাতটি খেজুর দিলেন। তার মধ্যে একটি খেজুর ছিল খারাপ। তবে সাতটি খেজুরের মধ্যে এটিই ছিল আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। কারণ, এটি চিবাতে আমার কাছে খুব শক্ত লাগছিল। তাই এটি বেশি সময় ধরে আমার মুখে ছিল।) [৫৪৪১, ৫৪৪১মিম] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৪)
হাদিস নং: ৫৪১২
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا وهب بن جرير حدثنا شعبة عن اسماعيل عن قيس عن سعد قال رايتني سابع سبعة مع النبي صلى الله عليه وسلم ما لنا طعام الا ورق الحبلة او الحبلة حتى يضع احدنا ما تضع الشاة ثم اصبحت بنو اسد تعزرني على الاسلام خسرت اذا وضل سعيي.
৫৪১২. সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছিলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে সপ্তম। হুবলা কাঁটা যুক্ত গাছ বা হাবলা এক জাতীয় গাছ) ব্যতীত আমাদের খাওয়ার আর কিছুই ছিল না। এমনকি আমাদের কেউ কেউ বকরীর মত মলত্যাগ করত। এরপরও বনূ আসাদ আমাকে ইসলামের ব্যাপারে তিরস্কার করছে? তাহলে তো আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি আর আমি পন্ডশ্রম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৫)
হাদিস নং: ৫৪১৩
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا يعقوب عن ابي حازم قال سالت سهل بن سعد فقلت هل اكل رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي فقال سهل ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي من حين ابتعثه الله حتى قبضه الله قال فقلت هل كانت لكم في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم مناخل قال ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم منخلا من حين ابتعثه الله حتى قبضه الله قال قلت كيف كنتم تاكلون الشعير غير منخول قال كنا نطحنه“ وننفخه“ فيطير ما طار وما بقي ثريناه“ فاكلناه.
৫৪১৩. আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল -কে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ময়দা খেয়েছেন? সাহল বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাঠিয়েছেন তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ময়দা দেখেননি। তিনি আবার তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে কি আপনাদের চালুনি ছিল? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাঠানোর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি চালুনিও দেখেননি। আবূ হাযিম বলেন, আমি বললামঃ তাহলে আপনারা না চেলে যবের আটা কিভাবে খেতেন? তিনি বললেনঃ আমরা যব পিষে তাতে ফুঁক দিতাম, এতে যা উড়ার তা উড়ে যেত, আর যা বাকী থাকত তা মথে নিতাম, তারপর তা খেতাম। [৫৪১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৬)
হাদিস নং: ৫৪১৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم اخبرنا روح بن عبادة حدثنا ابن ابي ذىب عن سعيد المقبري عن ابي هريرة انه“ مر بقوم بين ايديهم شاة مصلية فدعوه“ فابى ان ياكل وقال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلممن الدنيا ولم يشبع من خبز الشعير
৫৪১৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদের সামনে ছিল একটি ভুনা বকরী। তারা তাঁকে খেতে) ডাকল। তিনি খেতে অস্বীকার করলেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবী থেকে চলে গেছেন অথচ তিনি কোন দিন যবের রুটিও পেট ভরে খাননি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৭)
হাদিস নং: ৫৪১৫
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي الاسود حدثنا معاذ حدثني ابي عن يونس عن قتادة عن انس بن مالك قال ما اكل النبي صلى الله عليه وسلم على خوان ولا في سكرجة ولا خبز له“ مرقق قلت لقتادة علام ياكلون قال على السفر.
৫৪১৫. আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ’খিওয়ান’ টেবিলের মত উঁচু স্থানে-এর উপর খাবার রেখে আহার করেননি এবং ছোট ছোট বাটিতেও তিনি আহার করেননি। আর তাঁর জন্য কখনো পাতলা রুটি তৈরী করা হয়নি। ইউনুস বলেন, আমি ক্বাতাদাহ্কে জিজ্ঞেস করলামঃ তা হলে তাঁরা কিসের উপর আহার করতেন? তিনি বললেনঃ দস্তরখানের উপর।[1] [৫৩৮৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৮)
নোট: [1]. প্যাথলজী এর এক প্রফেসার এ রহস্য উদঘাটন করেছেন যে, যদি সকলে মিলে একত্রে খাবার খায় তাহলে সকল খাবার গ্রহণকারীদের জীবাণু মিলিত হয়ে যায়, যা অন্য সকল রোগ জীবাণুকে নিঃশেষ করে দেয়, এভাবে ঐ খাবার দুষণমুক্ত হয়ে যায়। আবার কখনো খাবারে রোগ আরোগ্যের জীবাণু মিলিত হয়ে সমগ্র খাবারকে আরোগ্য বানিয়ে দেয়, যা পাকস্থলীর রোগের জন্য খবুই উপকারী।
হাদিস নং: ৫৪১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت ما شبع ال محمد صلى الله عليه وسلم منذ قدم المدينة من طعام البر ثلاث ليال تباعا، حتى قبض.
৫৪১৬. কুতাইবাহ (রহ.) ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পরিবারের লোকেরা এক নাগাড়ে তিন রাত গমের রুটি পেট পুরে খাননি। [৬৪৫৪; মুসলিম পর্ব ৫৩/হাঃ ২৯৭০, আহমাদ ২৬৪২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৯)
হাদিস নং: ৫৪১৭
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها كانت اذا مات الميت من اهلها فاجتمع لذ‘لك النساء ثم تفرقن الا اهلها وخاصتها امرت ببرمة من تلبينة فطبخت ثم صنع ثريد فصبت التلبينة عليها ثم قالت كلن منها فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلميقول التلبينة مجمة لفواد المريض تذهب ببعض الحزن.
৫৪১৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীআয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁর পরিবারের কোন ব্যক্তি মারা গেলে মহিলারা এসে জড় হলো। তারপর তাঁর আত্মীয়রা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠ মহিলারা ব্যতীত বাকী সবাই চলে গেলে, তিনি ডেগে ’তালবীনা’ (আটা, মধু ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার) পাক করতে বললেন। তা পাকানো হলো। এরপর ’সারীদ’ (মাংসের মধ্যে রুটির টুকরো দিয়ে তৈরী খাবার) প্রস্তুত করা হলো এবং তাতে তালবীনা ঢালা হলো। তিনি বললেনঃ তোমরা এ থেকে খাও। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ’তালবীনা’ রুগ্ন ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং শোক দুঃখ কিছুটা দূর করে।[1] [৫৬৮৯, ৫৬৯০; মুসলিম ৩৯/৩০, হাঃ ২২১৬, আহমাদ ২৫২৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১০)
নোট: [1] আধুনিক গবেষণা এবং নাবী (ﷺ) এর হাদীস অনুযায়ী যবের উপকারিতাসমূহ অপরিসীম। পাকস্থলী এবং অন্ত্রতে আলসারের রুগীদেরকে সকালের নাস্তায় নাবীর (ﷺ) যামানায় উন্নত মানের ব্যবস্থা পত্র স্বরূপ তালবীনা প্রদান করা হত যব পিষিয়ে, দুধে পাকিয়ে তাতে মধু মিশ্রিত করলে তাকে তালবীনা বলা হয়) এতে আলসারের প্রতিটি রুগী ২/৩ মাসের মধ্যে আরোগ্য লাভ করত। প্রস্রাবের সাথে রক্ত ও পূঁজ পড়া রুগীদের জন্য, তা যে কারণেই হোক না কেন, উপযুক্ত চিকিৎসার সাথে সাথে যবের পানি যদি মধুর সাথে মিশ্রণ করে পান করান যায় তাহলে এ রোগ পনের দিনের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আবার কখনো এ পদ্ধতি পেটের পাথর বের করার জন্যও খুব কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। পুরাতন কোষ্ট কাঠিন্যের জন্য যবের দলিয়া থেকে উত্তম কোন ঔষধ পাওয়া মুশকিল।
হাদিস নং: ৫৪১৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة الجملي عن مرة الهمداني عن ابي موسى الاشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال كمل من الرجال كثير ولم يكمل من النساء الا مريم بنت عمران واسية امراة فرعون وفضل عاىشة على النساء كفضل الثريد على ساىر الطعام.
৫৪১৮. আবূ মূসা আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের মধ্যে অনেকেই কামেল হতে পেরেছে। কিন্তু স্ত্রীলোকদের মধ্য ’ইমরান কন্যা মারইয়াম এবং ফিরাউন পত্নী আসিয়া ছাড়া অন্য কেউই কামেল হতে পারেনি। স্ত্রী লোকদের মধ্যে ’আয়িশাহর মর্যাদাও তেমন, খাদ্যের মধ্যে যেমন সারীদের মর্যাদা। [৩৪১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১১)
হাদিস নং: ৫৪১৯
সহিহ (Sahih)
عمرو بن عون حدثنا خالد بن عبد الله عن ابي طوالة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فضل عاىشة على النساء كفضل الثريد على ساىر الطعام.
৫৪১৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত স্ত্রী লোকদের মধ্যে ’আয়িশাহর মর্যাদা তেমন, খাদ্যের মধ্যে যেমন সারীদের মর্যাদা। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১২)
হাদিস নং: ৫৪২০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن منير سمع ابا حاتم الاشهل بن حاتم حدثنا ابن عون عن ثمامة بن انس عن انس قال دخلت مع النبي صلى الله عليه وسلم على غلام له“ خياط فقدم اليه قصعة فيها ثريد قال واقبل على عمله„ قال فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يتتبع الدباء قال فجعلت اتتبعه“ فاضعه“ بين يديه قال فما زلت بعد احب الدباء.
৫৪২০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তাঁর এক দর্জি গোলামের বাড়ীতে গেলাম। সে তাঁর সম্মুখে সারীদের পেয়ালা হাজির করল এবং নিজের কাজে লেগে গেল। আনাস বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদু বেছে নিতে শুরু করলে আমি কদুর টুকরাগুলো বেছে তাঁর সামনে দিতে লাগলাম এবং তখন থেকে আমি কদু পছন্দ করতে শুরু করি। [২০৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৩)
হাদিস নং: ৫৪২১
সহিহ (Sahih)
هدبة بن خالد حدثنا همام بن يحيى عن قتادة قال كنا ناتي انس بن مالك وخبازه“ قاىم قال كلوا فما اعلم النبي صلى الله عليه وسلم راى رغيفا مرققا حتى لحق بالله ولا راى شاة سميطا بعينه„ قط.
৫৪২১. ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিকের কাছে গেলাম। তাঁর বাবুর্চি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি বললেনঃ আহার কর! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত পাতলা রুটি দেখেছেন বলে আমার জানা নেই এবং তিনি ভুনা বকরী কখনও চোখে দেখেননি। [৫৩৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৪)
হাদিস নং: ৫৪২২
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر عن الزهري عن جعفر بن عمرو بن امية الضمري عن ابيه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يحتز من كتف شاة فاكل منها فدعي الى الصلاة فقام فطرح السكين فصلى ولم يتوضا.
৫৪২২. ’আমর ইবনু উমাইয়্যাহ যামরী (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বকরীর ঘাড় থেকে গোশ্ত কাটতে দেখেছি। তিনি তা থেকে আহার করলেন। তারপর যখন সালাতের দিকে আহবান করা হল, তখন তিনি উঠলেন এবং চাকুটি রেখে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। অথচ তিনি নতুন করে) অযূ করেননি। [২০৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৫)
হাদিস নং: ৫৪২৩
সহিহ (Sahih)
خلاد بن يحيى حدثنا سفيان عن عبد الرحمن بن عابس عن ابيه قال قلت لعاىشة انهى النبي صلى الله عليه وسلم ان توكل لحوم الاضاحي فوق ثلاث قالت ما فعله“ الا في عام جاع الناس فيه فاراد ان يطعم الغني الفقير وان كنا لنرفع الكراع فناكله“ بعد خمس عشرة قيل ما اضطركم اليه فضحكت قالت ما شبع ال محمد صلى الله عليه وسلم من خبز بر مادوم ثلاثة ايام حتى لحق بالله وقال ابن كثير اخبرنا سفيان حدثنا عبد الرحمن بن عابس بهذا.
وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَأَسْمَاءُ صَنَعْنَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ سُفْرَةً.
আবূ বকরের কন্যা ’আয়িশাহ ও আসমা (রাঃ) বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকরের জন্য (হিজরতের প্রাক্কালে) পথের খাবার তৈরি করে দিয়েছিলাম।
৫৪২৩. ’আবিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কুরবানীর গোশ্ত তিন দিনের অধিক সময় খেতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেনঃ সেই বছরেই কেবল নিষেধ করেছিলেন, যে বছর মানুষ অনাহারের কবলে পড়েছিল। তখন তিনি চেয়েছিলেন যেন ধনীরা গরীবদের খাওয়ায়। আমরা তো বকরীর পায়াগুলো তুলে রাখতাম এবং পনের দিন পর তা খেতাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলঃ কিসে আপনাদের এগুলো খেতে বাধ্য করত? তিনি হেসে বললেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর পরিবার পরিজন এক নাগাড়ে তিনদিন তরকারীসহ গমের রুটি পেট ভরে খাননি। অন্য সনদে ইবনু কাসীর বলেছেন, সুফ্ইয়ান (রহ.) ’আবদুর রহমান ইবনু ’আবিস সূত্রে উক্ত হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। [৫৪২৮, ৫৫৭০, ৬৬৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৬)
আবূ বকরের কন্যা ’আয়িশাহ ও আসমা (রাঃ) বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকরের জন্য (হিজরতের প্রাক্কালে) পথের খাবার তৈরি করে দিয়েছিলাম।
৫৪২৩. ’আবিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কুরবানীর গোশ্ত তিন দিনের অধিক সময় খেতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেনঃ সেই বছরেই কেবল নিষেধ করেছিলেন, যে বছর মানুষ অনাহারের কবলে পড়েছিল। তখন তিনি চেয়েছিলেন যেন ধনীরা গরীবদের খাওয়ায়। আমরা তো বকরীর পায়াগুলো তুলে রাখতাম এবং পনের দিন পর তা খেতাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলঃ কিসে আপনাদের এগুলো খেতে বাধ্য করত? তিনি হেসে বললেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর পরিবার পরিজন এক নাগাড়ে তিনদিন তরকারীসহ গমের রুটি পেট ভরে খাননি। অন্য সনদে ইবনু কাসীর বলেছেন, সুফ্ইয়ান (রহ.) ’আবদুর রহমান ইবনু ’আবিস সূত্রে উক্ত হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। [৫৪২৮, ৫৫৭০, ৬৬৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৬)
হাদিস নং: ৫৪২৪
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا سفيان عن عمرو عن عطاء عن جابر قال كنا نتزود لحوم الهدي على عهد النبي صلى الله عليه وسلم الى المدينة تابعه“ محمد عن ابن عيينة وقال ابن جريج قلت لعطاء اقال حتى جىنا المدينة قال لا.
৫৪২৪. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা কুরবানীর গোশ্ত মদিনা পর্যন্ত সফরের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতাম। মুহাম্মাদ (রহ.) ইবনু ’উয়াইনাহ থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরাইয বলেন, আমি ’আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, জাবির (রাঃ) কি এ কথা বলেছেন যে, ’এমন কি আমরা মদিনা পর্যন্ত এলাম’। তিনি বললেনঃ না। [১৭১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৭)
হাদিস নং: ৫৪২৫
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا اسماعيل بن جعفر عن عمرو بن ابي عمرو مولى المطلب بن عبد الله بن حنطب انه“ سمع انس بن مالك يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا÷بي طلحة التمس غلاما من غلمانكم يخدمني فخرج بي ابو طلحة يردفني وراءه“فكنت اخدم رسول الله صلى الله عليه وسلم كلما نزل فكنت اسمعه“ يكثر ان يقول اللهم اني اعوذ بك من الهم والحزن والعجز والكسل والبخل والجبن وضلع الدين وغلبة الرجال فلم ازل اخدمه“ حتى اقبلنا من خيبر واقبل بصفية بنت حيي قد حازها فكنت اراه“ يحوي لها وراءه“ بعباءة او بكساء ثم يردفها وراءه“ حتى اذا كنا بالصهباء صنع حيسا في نطع ثم ارسلني فدعوت رجالا فاكلوا وكان ذ‘لك بناءه“ بها ثم اقبل حتى اذا بدا له“ احد قال هذا جبل يحبنا ونحبه“ فلما اشرف على المدينة قال اللهم اني احرم ما بين جبليها مثل ما حرم به„ ابراهيم مكة اللهم بارك لهم في مدهم وصاعهم.
৫৪২৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ত্বলহাকে বললেনঃ তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খিদমত করবে। আবূ ত্বলহা আমাকেই তাঁর সাওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে আসলেন। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করতে থাকলাম। যখনই তিনি কোন মনযিলে অবতরণ করতেন, আমি তাকে প্রায়ই বলতে শুনতাম, আয় আল্লাহ! আমি তোমার কাছে, অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি সর্বদা তাঁর খিদমতে নিয়োজিত ছিলাম। এই অবস্থায় আমরা খাইবার থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম। তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] গনীমত হিসাবে প্রাপ্ত সফিয়্যা বিন্ত হুয়ায়কে সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন।
আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি তাঁর সাওয়ারীর পেছনের দিকে তাঁর চাদর দিয়ে ঘিরে সেখানে তাঁর পিছনে তাঁকে সাওয়ার করলেন। এভাবে যখন ’আমর সাহবা নামক স্থানে হাজির হলাম, তখন তিনি চামড়ার দস্তরখানে হাইস তৈরী করলেন। তারপর তিনি আমাকে পাঠালেন। আমি লোকজনকে দাওয়াত করলাম। তারা এসে) আহার করল। এই ছিল তাঁর সঙ্গে তাঁর বাসর যাপন। তারপর তিনি এগিয়ে চললেন। ওহুদ পর্বত নজরে পড়ল, তিনি বললেনঃ এ পর্বতটি আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি।[1] তারপর যখন মদিনা তাঁর নজরে পড়ল, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ! আমি এর দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী এলাকাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করছি, যেভাবে ইবরাহীম আঃ) মক্কাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করেছিলেন। হে আল্লাহ! এর অধিবাসীদের মুদ্ ও সা’ এর মধ্যে তুমি বারাকাত দাও। [৩৭১; মুসলিম ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৬৫, আহমাদ ১২৬১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৮)
আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি তাঁর সাওয়ারীর পেছনের দিকে তাঁর চাদর দিয়ে ঘিরে সেখানে তাঁর পিছনে তাঁকে সাওয়ার করলেন। এভাবে যখন ’আমর সাহবা নামক স্থানে হাজির হলাম, তখন তিনি চামড়ার দস্তরখানে হাইস তৈরী করলেন। তারপর তিনি আমাকে পাঠালেন। আমি লোকজনকে দাওয়াত করলাম। তারা এসে) আহার করল। এই ছিল তাঁর সঙ্গে তাঁর বাসর যাপন। তারপর তিনি এগিয়ে চললেন। ওহুদ পর্বত নজরে পড়ল, তিনি বললেনঃ এ পর্বতটি আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি।[1] তারপর যখন মদিনা তাঁর নজরে পড়ল, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ! আমি এর দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী এলাকাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করছি, যেভাবে ইবরাহীম আঃ) মক্কাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করেছিলেন। হে আল্লাহ! এর অধিবাসীদের মুদ্ ও সা’ এর মধ্যে তুমি বারাকাত দাও। [৩৭১; মুসলিম ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৬৫, আহমাদ ১২৬১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৮)
নোট: [1]. আমরা সবাই ভাবব ‘আল্লাহর রসূল (ﷺ) এর কথা ‘উহুদ পাহাড় আমাদের ভালবাসে- এ আবার কেমন কথা? এই মাটি, পাথর, ঘরবাড়ী এদের আবার ভালবাসা, ঘৃণা, হাসি-কান্না আছে নাকি?
জবাবে বলা যায় অবশ্যই আছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আল-কুরআনে ঘোষণা করেছেনঃ
{تُسَبِّحُ لَهُ السَّمٰوَاتُ السَّبْعُ وَالأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلاَّ يُسَبِّحُ بِحَمْدَهِ وَلٰكِن لاَّ تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّه كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا}
আকাশমন্ডলীতে আর যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর মহানত্ব বর্ণনা করছে। এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর মহানত্ব ও পবিত্রতা আর মহিমা বর্ণনা করে না; কিন্তু তাদের প্রবিত্রতা ও মহানত্ব বর্ণনা তোমরা অনুধাবন করতে পার না; নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।সূরা ইসরা ১৭ঃ ৪৪)
এ আয়াত প্রমাণ করছে যে, এমন কোন কিছু নেই [তা শুকনা হোক আর কাঁচা হোক] যা আল্লাহর তাসবীহ্ পাঠ করে না।
আমরা পশু, পাখী, কীট পতঙ্গের ভাষা বুঝতে পারি না, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা এ সবগুলোর ভাষা বুঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন সোলায়মান আঃ) কে। হুদহুদ পাখী তাঁর নির্দেশে সাবার রানী বিলকিসের নিকট তার পত্র প্রত্যর্পন করেছিল। পিঁপড়াদের কথা শুনে সোলায়মান (আঃ) হেসেছিলেন। জড় পদার্থের আবেগ অনুভূতির আরো একটি বড় প্রমাণ এই যে, আমাদের প্রিয় নাবী ﷺ এর জন্য একটি নতুন মিম্বর নির্মিত হলে তিনি সেটির উপর খুৎবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তখন সেই খুঁটিটি ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল যাতে হেলান দিয়ে রসূল (ﷺ) এতদিন খুৎবা দিয়ে আসছিলেন। দুনিয়াতে আমরা মুখ দিয়ে কথা বলছি, কিন্তু হাত, পা, কান, চোখ কথা বলতে পারে না। কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নির্দেশে আমাদের এই হাত-পাগুলোই কথা বলবে দুনিয়ায় আমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।
জবাবে বলা যায় অবশ্যই আছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আল-কুরআনে ঘোষণা করেছেনঃ
{تُسَبِّحُ لَهُ السَّمٰوَاتُ السَّبْعُ وَالأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلاَّ يُسَبِّحُ بِحَمْدَهِ وَلٰكِن لاَّ تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّه كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا}
আকাশমন্ডলীতে আর যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর মহানত্ব বর্ণনা করছে। এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর মহানত্ব ও পবিত্রতা আর মহিমা বর্ণনা করে না; কিন্তু তাদের প্রবিত্রতা ও মহানত্ব বর্ণনা তোমরা অনুধাবন করতে পার না; নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।সূরা ইসরা ১৭ঃ ৪৪)
এ আয়াত প্রমাণ করছে যে, এমন কোন কিছু নেই [তা শুকনা হোক আর কাঁচা হোক] যা আল্লাহর তাসবীহ্ পাঠ করে না।
আমরা পশু, পাখী, কীট পতঙ্গের ভাষা বুঝতে পারি না, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা এ সবগুলোর ভাষা বুঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন সোলায়মান আঃ) কে। হুদহুদ পাখী তাঁর নির্দেশে সাবার রানী বিলকিসের নিকট তার পত্র প্রত্যর্পন করেছিল। পিঁপড়াদের কথা শুনে সোলায়মান (আঃ) হেসেছিলেন। জড় পদার্থের আবেগ অনুভূতির আরো একটি বড় প্রমাণ এই যে, আমাদের প্রিয় নাবী ﷺ এর জন্য একটি নতুন মিম্বর নির্মিত হলে তিনি সেটির উপর খুৎবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তখন সেই খুঁটিটি ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল যাতে হেলান দিয়ে রসূল (ﷺ) এতদিন খুৎবা দিয়ে আসছিলেন। দুনিয়াতে আমরা মুখ দিয়ে কথা বলছি, কিন্তু হাত, পা, কান, চোখ কথা বলতে পারে না। কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নির্দেশে আমাদের এই হাত-পাগুলোই কথা বলবে দুনিয়ায় আমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।
হাদিস নং: ৫৪২৬
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سيف بن ابي سليمان قال سمعت مجاهدا يقول حدثني عبد الرحمن بن ابي ليلى انهم كانوا عند حذيفة فاستسقى فسقاه“ مجوسي فلما وضع القدح في يده„ رماه“به„ وقال لولا اني نهيته“ غير مرة ولا مرتين كانه“يقول لم افعل هذا ولكني سمعت النبي صلى الله عليه وسلميقول لا تلبسوا الحرير ولا الديباج ولا تشربوا في انية الذهب والفضة ولا تاكلوا في صحافها فانها لهم في الدنيا ولنا في الاخرة.
৫৪২৬. ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তাঁরা হুযাইফাহ -এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তাঁর হাতে রাখল, তিনি সেটি ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, আমি যদি একবার বা দু’বারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইলেন, তা হলেও আমি এমন করতাম না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো নাএবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না।[1] কেননা দুন্ইয়াতে এগুলো কাফিরদের জন্য আর আখিরাতে তোমাদের জন্য। [৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১, ৫৮৩৭; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৭, আহমাদ ২৩৩৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৯)
নোট: [1]. ডাঃ ব্রাউন বলেন যে, একবার কিং এডওয়ার্ড নিজের শরীরে তীব্র তাপ ও অস্থিরতা অনুভব করলেন এবং স্বীয় প্রকৃতিতে ক্রোধের প্রকাশ বুঝতে পারলেন। অথচ ইতোপূর্বে এ ধরনের অবস্থা তার কখনো সৃষ্টি হয়নি।
এ ব্যাপারে তিনি ডাক্তারের পরামর্শ নিলেন। ডাক্তারগণ তাকে শরীরে প্রলেপ ও সেবনের জন্য কিছু ঔষধ দিলেন। কিন্তু কোনই ফল হল না। তখন তিনি সর্বদা রেশমী পোষাক পরিধান করতেন। একবার তিনি রেশমী পোষাক খুলতেই কিছু শান্তি অনুভব করলেন, তিনি দু’ দিন যাবৎ অন্য পোষাক পরলেন, দেখতে পেলেন অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এবার তিনি কিছুদিনের জন্য রেশমী পোষাক ছেড়ে দিলেন। এতে তিনি পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন।
এ ব্যাপারে তিনি ডাক্তারের পরামর্শ নিলেন। ডাক্তারগণ তাকে শরীরে প্রলেপ ও সেবনের জন্য কিছু ঔষধ দিলেন। কিন্তু কোনই ফল হল না। তখন তিনি সর্বদা রেশমী পোষাক পরিধান করতেন। একবার তিনি রেশমী পোষাক খুলতেই কিছু শান্তি অনুভব করলেন, তিনি দু’ দিন যাবৎ অন্য পোষাক পরলেন, দেখতে পেলেন অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এবার তিনি কিছুদিনের জন্য রেশমী পোষাক ছেড়ে দিলেন। এতে তিনি পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন।