অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৭০/১. আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ
মোট ৯৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৪১৩ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا يعقوب عن ابي حازم قال سالت سهل بن سعد فقلت هل اكل رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي فقال سهل ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي من حين ابتعثه الله حتى قبضه الله قال فقلت هل كانت لكم في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم مناخل قال ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم منخلا من حين ابتعثه الله حتى قبضه الله قال قلت كيف كنتم تاكلون الشعير غير منخول قال كنا نطحنه“ وننفخه“ فيطير ما طار وما بقي ثريناه“ فاكلناه.
৫৪১৩. আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল -কে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ময়দা খেয়েছেন? সাহল বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাঠিয়েছেন তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ময়দা দেখেননি। তিনি আবার তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে কি আপনাদের চালুনি ছিল? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাঠানোর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি চালুনিও দেখেননি। আবূ হাযিম বলেন, আমি বললামঃ তাহলে আপনারা না চেলে যবের আটা কিভাবে খেতেন? তিনি বললেনঃ আমরা যব পিষে তাতে ফুঁক দিতাম, এতে যা উড়ার তা উড়ে যেত, আর যা বাকী থাকত তা মথে নিতাম, তারপর তা খেতাম। [৫৪১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৬)
হাদিস নং: ৫৪১৪ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم اخبرنا روح بن عبادة حدثنا ابن ابي ذىب عن سعيد المقبري عن ابي هريرة انه“ مر بقوم بين ايديهم شاة مصلية فدعوه“ فابى ان ياكل وقال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلممن الدنيا ولم يشبع من خبز الشعير
৫৪১৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদের সামনে ছিল একটি ভুনা বকরী। তারা তাঁকে খেতে) ডাকল। তিনি খেতে অস্বীকার করলেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবী থেকে চলে গেছেন অথচ তিনি কোন দিন যবের রুটিও পেট ভরে খাননি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৭)
হাদিস নং: ৫৪১৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي الاسود حدثنا معاذ حدثني ابي عن يونس عن قتادة عن انس بن مالك قال ما اكل النبي صلى الله عليه وسلم على خوان ولا في سكرجة ولا خبز له“ مرقق قلت لقتادة علام ياكلون قال على السفر.
৫৪১৫. আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ’খিওয়ান’ টেবিলের মত উঁচু স্থানে-এর উপর খাবার রেখে আহার করেননি এবং ছোট ছোট বাটিতেও তিনি আহার করেননি। আর তাঁর জন্য কখনো পাতলা রুটি তৈরী করা হয়নি। ইউনুস বলেন, আমি ক্বাতাদাহ্কে জিজ্ঞেস করলামঃ তা হলে তাঁরা কিসের উপর আহার করতেন? তিনি বললেনঃ দস্তরখানের উপর।[1] [৫৩৮৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৮)
নোট: [1]. প্যাথলজী এর এক প্রফেসার এ রহস্য উদঘাটন করেছেন যে, যদি সকলে মিলে একত্রে খাবার খায় তাহলে সকল খাবার গ্রহণকারীদের জীবাণু মিলিত হয়ে যায়, যা অন্য সকল রোগ জীবাণুকে নিঃশেষ করে দেয়, এভাবে ঐ খাবার দুষণমুক্ত হয়ে যায়। আবার কখনো খাবারে রোগ আরোগ্যের জীবাণু মিলিত হয়ে সমগ্র খাবারকে আরোগ্য বানিয়ে দেয়, যা পাকস্থলীর রোগের জন্য খবুই উপকারী।
হাদিস নং: ৫৪১৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت ما شبع ال محمد صلى الله عليه وسلم منذ قدم المدينة من طعام البر ثلاث ليال تباعا، حتى قبض‏.‏
৫৪১৬. কুতাইবাহ (রহ.) ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পরিবারের লোকেরা এক নাগাড়ে তিন রাত গমের রুটি পেট পুরে খাননি। [৬৪৫৪; মুসলিম পর্ব ৫৩/হাঃ ২৯৭০, আহমাদ ২৬৪২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯০৯)
হাদিস নং: ৫৪১৭ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها كانت اذا مات الميت من اهلها فاجتمع لذ‘لك النساء ثم تفرقن الا اهلها وخاصتها امرت ببرمة من تلبينة فطبخت ثم صنع ثريد فصبت التلبينة عليها ثم قالت كلن منها فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلميقول التلبينة مجمة لفواد المريض تذهب ببعض الحزن.
৫৪১৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীআয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁর পরিবারের কোন ব্যক্তি মারা গেলে মহিলারা এসে জড় হলো। তারপর তাঁর আত্মীয়রা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠ মহিলারা ব্যতীত বাকী সবাই চলে গেলে, তিনি ডেগে ’তালবীনা’ (আটা, মধু ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার) পাক করতে বললেন। তা পাকানো হলো। এরপর ’সারীদ’ (মাংসের মধ্যে রুটির টুকরো দিয়ে তৈরী খাবার) প্রস্তুত করা হলো এবং তাতে তালবীনা ঢালা হলো। তিনি বললেনঃ তোমরা এ থেকে খাও। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ’তালবীনা’ রুগ্ন ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং শোক দুঃখ কিছুটা দূর করে।[1] [৫৬৮৯, ৫৬৯০; মুসলিম ৩৯/৩০, হাঃ ২২১৬, আহমাদ ২৫২৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১০)
নোট: [1] আধুনিক গবেষণা এবং নাবী (ﷺ) এর হাদীস অনুযায়ী যবের উপকারিতাসমূহ অপরিসীম। পাকস্থলী এবং অন্ত্রতে আলসারের রুগীদেরকে সকালের নাস্তায় নাবীর (ﷺ) যামানায় উন্নত মানের ব্যবস্থা পত্র স্বরূপ তালবীনা প্রদান করা হত যব পিষিয়ে, দুধে পাকিয়ে তাতে মধু মিশ্রিত করলে তাকে তালবীনা বলা হয়) এতে আলসারের প্রতিটি রুগী ২/৩ মাসের মধ্যে আরোগ্য লাভ করত। প্রস্রাবের সাথে রক্ত ও পূঁজ পড়া রুগীদের জন্য, তা যে কারণেই হোক না কেন, উপযুক্ত চিকিৎসার সাথে সাথে যবের পানি যদি মধুর সাথে মিশ্রণ করে পান করান যায় তাহলে এ রোগ পনের দিনের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আবার কখনো এ পদ্ধতি পেটের পাথর বের করার জন্যও খুব কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। পুরাতন কোষ্ট কাঠিন্যের জন্য যবের দলিয়া থেকে উত্তম কোন ঔষধ পাওয়া মুশকিল।
হাদিস নং: ৫৪১৮ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة الجملي عن مرة الهمداني عن ابي موسى الاشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال كمل من الرجال كثير ولم يكمل من النساء الا مريم بنت عمران واسية امراة فرعون وفضل عاىشة على النساء كفضل الثريد على ساىر الطعام.
৫৪১৮. আবূ মূসা আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের মধ্যে অনেকেই কামেল হতে পেরেছে। কিন্তু স্ত্রীলোকদের মধ্য ’ইমরান কন্যা মারইয়াম এবং ফিরাউন পত্নী আসিয়া ছাড়া অন্য কেউই কামেল হতে পারেনি। স্ত্রী লোকদের মধ্যে ’আয়িশাহর মর্যাদাও তেমন, খাদ্যের মধ্যে যেমন সারীদের মর্যাদা। [৩৪১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১১)
হাদিস নং: ৫৪১৯ সহিহ (Sahih)
عمرو بن عون حدثنا خالد بن عبد الله عن ابي طوالة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فضل عاىشة على النساء كفضل الثريد على ساىر الطعام.
৫৪১৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত স্ত্রী লোকদের মধ্যে ’আয়িশাহর মর্যাদা তেমন, খাদ্যের মধ্যে যেমন সারীদের মর্যাদা। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১২)
হাদিস নং: ৫৪২০ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن منير سمع ابا حاتم الاشهل بن حاتم حدثنا ابن عون عن ثمامة بن انس عن انس قال دخلت مع النبي صلى الله عليه وسلم على غلام له“ خياط فقدم اليه قصعة فيها ثريد قال واقبل على عمله„ قال فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يتتبع الدباء قال فجعلت اتتبعه“ فاضعه“ بين يديه قال فما زلت بعد احب الدباء.
৫৪২০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তাঁর এক দর্জি গোলামের বাড়ীতে গেলাম। সে তাঁর সম্মুখে সারীদের পেয়ালা হাজির করল এবং নিজের কাজে লেগে গেল। আনাস বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদু বেছে নিতে শুরু করলে আমি কদুর টুকরাগুলো বেছে তাঁর সামনে দিতে লাগলাম এবং তখন থেকে আমি কদু পছন্দ করতে শুরু করি। [২০৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৩)
হাদিস নং: ৫৪২১ সহিহ (Sahih)
هدبة بن خالد حدثنا همام بن يحيى عن قتادة قال كنا ناتي انس بن مالك وخبازه“ قاىم قال كلوا فما اعلم النبي صلى الله عليه وسلم راى رغيفا مرققا حتى لحق بالله ولا راى شاة سميطا بعينه„ قط.
৫৪২১. ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিকের কাছে গেলাম। তাঁর বাবুর্চি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি বললেনঃ আহার কর! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত পাতলা রুটি দেখেছেন বলে আমার জানা নেই এবং তিনি ভুনা বকরী কখনও চোখে দেখেননি। [৫৩৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৪)
হাদিস নং: ৫৪২২ সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر عن الزهري عن جعفر بن عمرو بن امية الضمري عن ابيه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يحتز من كتف شاة فاكل منها فدعي الى الصلاة فقام فطرح السكين فصلى ولم يتوضا.
৫৪২২. ’আমর ইবনু উমাইয়্যাহ যামরী (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বকরীর ঘাড় থেকে গোশ্ত কাটতে দেখেছি। তিনি তা থেকে আহার করলেন। তারপর যখন সালাতের দিকে আহবান করা হল, তখন তিনি উঠলেন এবং চাকুটি রেখে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। অথচ তিনি নতুন করে) অযূ করেননি। [২০৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৫)
হাদিস নং: ৫৪২৩ সহিহ (Sahih)
خلاد بن يحيى حدثنا سفيان عن عبد الرحمن بن عابس عن ابيه قال قلت لعاىشة انهى النبي صلى الله عليه وسلم ان توكل لحوم الاضاحي فوق ثلاث قالت ما فعله“ الا في عام جاع الناس فيه فاراد ان يطعم الغني الفقير وان كنا لنرفع الكراع فناكله“ بعد خمس عشرة قيل ما اضطركم اليه فضحكت قالت ما شبع ال محمد صلى الله عليه وسلم من خبز بر مادوم ثلاثة ايام حتى لحق بالله وقال ابن كثير اخبرنا سفيان حدثنا عبد الرحمن بن عابس بهذا.
وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَأَسْمَاءُ صَنَعْنَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ سُفْرَةً.

আবূ বকরের কন্যা ’আয়িশাহ ও আসমা (রাঃ) বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকরের জন্য (হিজরতের প্রাক্কালে) পথের খাবার তৈরি করে দিয়েছিলাম।


৫৪২৩. ’আবিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কুরবানীর গোশ্ত তিন দিনের অধিক সময় খেতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেনঃ সেই বছরেই কেবল নিষেধ করেছিলেন, যে বছর মানুষ অনাহারের কবলে পড়েছিল। তখন তিনি চেয়েছিলেন যেন ধনীরা গরীবদের খাওয়ায়। আমরা তো বকরীর পায়াগুলো তুলে রাখতাম এবং পনের দিন পর তা খেতাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলঃ কিসে আপনাদের এগুলো খেতে বাধ্য করত? তিনি হেসে বললেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর পরিবার পরিজন এক নাগাড়ে তিনদিন তরকারীসহ গমের রুটি পেট ভরে খাননি। অন্য সনদে ইবনু কাসীর বলেছেন, সুফ্ইয়ান (রহ.) ’আবদুর রহমান ইবনু ’আবিস সূত্রে উক্ত হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। [৫৪২৮, ৫৫৭০, ৬৬৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৬)
হাদিস নং: ৫৪২৪ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا سفيان عن عمرو عن عطاء عن جابر قال كنا نتزود لحوم الهدي على عهد النبي صلى الله عليه وسلم الى المدينة تابعه“ محمد عن ابن عيينة وقال ابن جريج قلت لعطاء اقال حتى جىنا المدينة قال لا.
৫৪২৪. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা কুরবানীর গোশ্ত মদিনা পর্যন্ত সফরের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতাম। মুহাম্মাদ (রহ.) ইবনু ’উয়াইনাহ থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরাইয বলেন, আমি ’আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, জাবির (রাঃ) কি এ কথা বলেছেন যে, ’এমন কি আমরা মদিনা পর্যন্ত এলাম’। তিনি বললেনঃ না। [১৭১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৭)
হাদিস নং: ৫৪২৫ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا اسماعيل بن جعفر عن عمرو بن ابي عمرو مولى المطلب بن عبد الله بن حنطب انه“ سمع انس بن مالك يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا÷بي طلحة التمس غلاما من غلمانكم يخدمني فخرج بي ابو طلحة يردفني وراءه“فكنت اخدم رسول الله صلى الله عليه وسلم كلما نزل فكنت اسمعه“ يكثر ان يقول اللهم اني اعوذ بك من الهم والحزن والعجز والكسل والبخل والجبن وضلع الدين وغلبة الرجال فلم ازل اخدمه“ حتى اقبلنا من خيبر واقبل بصفية بنت حيي قد حازها فكنت اراه“ يحوي لها وراءه“ بعباءة او بكساء ثم يردفها وراءه“ حتى اذا كنا بالصهباء صنع حيسا في نطع ثم ارسلني فدعوت رجالا فاكلوا وكان ذ‘لك بناءه“ بها ثم اقبل حتى اذا بدا له“ احد قال هذا جبل يحبنا ونحبه“ فلما اشرف على المدينة قال اللهم اني احرم ما بين جبليها مثل ما حرم به„ ابراهيم مكة اللهم بارك لهم في مدهم وصاعهم.
৫৪২৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ত্বলহাকে বললেনঃ তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খিদমত করবে। আবূ ত্বলহা আমাকেই তাঁর সাওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে আসলেন। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করতে থাকলাম। যখনই তিনি কোন মনযিলে অবতরণ করতেন, আমি তাকে প্রায়ই বলতে শুনতাম, আয় আল্লাহ! আমি তোমার কাছে, অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি সর্বদা তাঁর খিদমতে নিয়োজিত ছিলাম। এই অবস্থায় আমরা খাইবার থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম। তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] গনীমত হিসাবে প্রাপ্ত সফিয়্যা বিন্ত হুয়ায়কে সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন।

আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি তাঁর সাওয়ারীর পেছনের দিকে তাঁর চাদর দিয়ে ঘিরে সেখানে তাঁর পিছনে তাঁকে সাওয়ার করলেন। এভাবে যখন ’আমর সাহবা নামক স্থানে হাজির হলাম, তখন তিনি চামড়ার দস্তরখানে হাইস তৈরী করলেন। তারপর তিনি আমাকে পাঠালেন। আমি লোকজনকে দাওয়াত করলাম। তারা এসে) আহার করল। এই ছিল তাঁর সঙ্গে তাঁর বাসর যাপন। তারপর তিনি এগিয়ে চললেন। ওহুদ পর্বত নজরে পড়ল, তিনি বললেনঃ এ পর্বতটি আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি।[1] তারপর যখন মদিনা তাঁর নজরে পড়ল, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ! আমি এর দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী এলাকাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করছি, যেভাবে ইবরাহীম আঃ) মক্কাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করেছিলেন। হে আল্লাহ! এর অধিবাসীদের মুদ্ ও সা’ এর মধ্যে তুমি বারাকাত দাও। [৩৭১; মুসলিম ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৬৫, আহমাদ ১২৬১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৮)
নোট: [1]. আমরা সবাই ভাবব ‘আল্লাহর রসূল (ﷺ) এর কথা ‘উহুদ পাহাড় আমাদের ভালবাসে- এ আবার কেমন কথা? এই মাটি, পাথর, ঘরবাড়ী এদের আবার ভালবাসা, ঘৃণা, হাসি-কান্না আছে নাকি?

জবাবে বলা যায় অবশ্যই আছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আল-কুরআনে ঘোষণা করেছেনঃ

{تُسَبِّحُ لَهُ السَّمٰوَاتُ السَّبْعُ وَالأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلاَّ يُسَبِّحُ بِحَمْدَهِ وَلٰكِن لاَّ تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّه كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا}

আকাশমন্ডলীতে আর যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর মহানত্ব বর্ণনা করছে। এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর মহানত্ব ও পবিত্রতা আর মহিমা বর্ণনা করে না; কিন্তু তাদের প্রবিত্রতা ও মহানত্ব বর্ণনা তোমরা অনুধাবন করতে পার না; নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।সূরা ইসরা ১৭ঃ ৪৪)

এ আয়াত প্রমাণ করছে যে, এমন কোন কিছু নেই [তা শুকনা হোক আর কাঁচা হোক] যা আল্লাহর তাসবীহ্ পাঠ করে না।

আমরা পশু, পাখী, কীট পতঙ্গের ভাষা বুঝতে পারি না, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা এ সবগুলোর ভাষা বুঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন সোলায়মান আঃ) কে। হুদহুদ পাখী তাঁর নির্দেশে সাবার রানী বিলকিসের নিকট তার পত্র প্রত্যর্পন করেছিল। পিঁপড়াদের কথা শুনে সোলায়মান (আঃ) হেসেছিলেন। জড় পদার্থের আবেগ অনুভূতির আরো একটি বড় প্রমাণ এই যে, আমাদের প্রিয় নাবী ﷺ এর জন্য একটি নতুন মিম্বর নির্মিত হলে তিনি সেটির উপর খুৎবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তখন সেই খুঁটিটি ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল যাতে হেলান দিয়ে রসূল (ﷺ) এতদিন খুৎবা দিয়ে আসছিলেন। দুনিয়াতে আমরা মুখ দিয়ে কথা বলছি, কিন্তু হাত, পা, কান, চোখ কথা বলতে পারে না। কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নির্দেশে আমাদের এই হাত-পাগুলোই কথা বলবে দুনিয়ায় আমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।
হাদিস নং: ৫৪২৬ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سيف بن ابي سليمان قال سمعت مجاهدا يقول حدثني عبد الرحمن بن ابي ليلى انهم كانوا عند حذيفة فاستسقى فسقاه“ مجوسي فلما وضع القدح في يده„ رماه“به„ وقال لولا اني نهيته“ غير مرة ولا مرتين كانه“يقول لم افعل هذا ولكني سمعت النبي صلى الله عليه وسلميقول لا تلبسوا الحرير ولا الديباج ولا تشربوا في انية الذهب والفضة ولا تاكلوا في صحافها فانها لهم في الدنيا ولنا في الاخرة.
৫৪২৬. ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তাঁরা হুযাইফাহ -এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তাঁর হাতে রাখল, তিনি সেটি ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, আমি যদি একবার বা দু’বারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইলেন, তা হলেও আমি এমন করতাম না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো নাএবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না।[1] কেননা দুন্ইয়াতে এগুলো কাফিরদের জন্য আর আখিরাতে তোমাদের জন্য। [৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১, ৫৮৩৭; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৭, আহমাদ ২৩৩৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১৯)
নোট: [1]. ডাঃ ব্রাউন বলেন যে, একবার কিং এডওয়ার্ড নিজের শরীরে তীব্র তাপ ও অস্থিরতা অনুভব করলেন এবং স্বীয় প্রকৃতিতে ক্রোধের প্রকাশ বুঝতে পারলেন। অথচ ইতোপূর্বে এ ধরনের অবস্থা তার কখনো সৃষ্টি হয়নি।

এ ব্যাপারে তিনি ডাক্তারের পরামর্শ নিলেন। ডাক্তারগণ তাকে শরীরে প্রলেপ ও সেবনের জন্য কিছু ঔষধ দিলেন। কিন্তু কোনই ফল হল না। তখন তিনি সর্বদা রেশমী পোষাক পরিধান করতেন। একবার তিনি রেশমী পোষাক খুলতেই কিছু শান্তি অনুভব করলেন, তিনি দু’ দিন যাবৎ অন্য পোষাক পরলেন, দেখতে পেলেন অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এবার তিনি কিছুদিনের জন্য রেশমী পোষাক ছেড়ে দিলেন। এতে তিনি পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন।
হাদিস নং: ৫৪২৭ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا ابو عوانة عن قتادة عن انس عن ابي موسى الاشعري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل المومن الذي يقرا القران كمثل الاترجة ريحها طيب وطعمها طيب ومثل المومن الذي لا يقرا القران كمثل التمرة لا ريح لها وطعمها حلو ومثل المنافق الذي يقرا القران مثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر ومثل المنافق الذي لا يقرا القران كمثل الحنظلة ليس لها ريح وطعمها مر.
৫৪২৭. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারী মু’মিনের দৃষ্টান্ত কমলার মত, যার ঘ্রাণও চমৎকার স্বাদও মজাদার। যে মু’মিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের মত, যার কোন সুঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ রায়হানার মত, যার সুঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হন্যালা ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রাণও নাই, স্বাদও তিক্ত। [৫০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯২০)
হাদিস নং: ৫৪২৮ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا خالد حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فضل عاىشة على النساء كفضل الثريد على ساىر الطعام.
৫৪২৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত খাদ্যের মধ্যে ’সারীদের’ যেমন মর্যাদা আছে, তেমনি স্ত্রীলোকদের মধ্যে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯২১)
হাদিস নং: ৫৪২৯ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا مالك عن سمي عن ابي صالح عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال السفر قطعة من العذاب يمنع احدكم نومه“ وطعامه“ فاذا قضى نهمته“ من وجهه„ فليعجل الى اهله.
৫৪২৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফর হলো ’আযাবের একটা টুকরা, যা তোমাদের সফরকারীকে নিদ্রা ও আহার থেকে বিরত রাখে। তাই তোমাদের কারো প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেলে সে যেন শীঘ্র তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে। [১৮০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯২২)
হাদিস নং: ৫৪৩০ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا اسماعيل بن جعفر عن ربيعة انه“ سمع القاسم بن محمد يقول كان في بريرة ثلاث سنن ارادت عاىشة ان تشتريها فتعتقها فقال اهلها ولنا الولاء فذكرت ذ‘لك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لو شىت شرطتيه لهم فانما الولاء لمن اعتق قال واعتقت فخيرت في ان تقر تحت زوجها او تفارقه“ ودخل رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما بيت عاىشة وعلى النار برمة تفور فدعا بالغداء فاتي بخبز وادم من ادم البيت فقال الم ار لحما قالوا بلى يا رسول الله ولكنه“ لحم تصدق به„ على بريرة فاهدته“ لنا فقال هو صدقة عليها وهدية لنا.
৫৪৩০. কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার ঘটনায় শরীয়তের তিনটি বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। ’আয়িশাহ (রাঃ)তাকে ক্রয় করে মুক্ত করতে চাইলে তার মালিকেরা বলল, ’ওলা’ উত্তরাধিকার) আমাদের থাকবে। ’আয়িশাহ (রাঃ)বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি ইচ্ছে করলে তাদের জন্য ওলীর শর্ত মেনে নাও। কারণ, প্রকৃতপক্ষে ওলীর অধিকারী হল মুক্তিদাতা। তাকে আযাদ করে এখ্তিয়ার দেয়া হলো, ইচ্ছে হলে পূর্ব স্বামীর সংসারে থাকতে কিংবা ইচ্ছে করলে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ’আয়িশাহর গৃহে প্রবেশ করলেন। সে সময় চুলার উপর ডেকচি ফুটছিল। তিনি সকালের খাবার আনতে বললে তাঁর কাছে রুটি ও ঘরের কিছু তরকারী আনা হল। তিনি বললেন, আমি কি গোশ্ত দেখিনি? তাঁরা বললেনঃ হাঁ, (মাংস রয়েছে) হে আল্লাহর রাসূল! কিন্তু তা ঐ গোশ্ত যা বারীরাহ্কে সাদাকা করা হয়েছিল। এরপর সে তা আমাদের হাদিয়া দিয়েছে। তিনি বললেনঃ এটা তার জন্য সাদাকা, কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া স্বরূপ। [৪৫৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯২৩)
হাদিস নং: ৫৪৩১ সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق بن ابراهيم الحنظلي، عن ابي اسامة، عن هشام، قال اخبرني ابي، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب الحلواء والعسل‏.‏
৫৪৩১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাল্ওয়া ও মধু ভালবাসতেন। [1] [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯২৪)
নোট: [1]. জ্ঞান, তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও সুকৌশলের দিক দিয়ে মধুমক্ষিকা সমস্ত পতঙ্গের মধ্যে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। মৌমাছি বিভিন্ন প্রকার ফুল ও ফলের রস চুষে। এই রস তাদের পেটে মধুতে রূপান্তরিত হয়। মধু হলো মধুমক্ষিকা ও তাদের সন্তানদের খাবার এবং এটি আমাদের সকলের জন্য সুস্বাদু খাদ্য এবং রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থা পত্র বলে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন। খাদ্য ও ঋতুর বিভিন্নতার কারণে মধুর রং ভিন্ন হয়। এ কারণেই কোন বিশেষ অঞ্চলে কোন বিশেষ ফল-ফুলের প্রাচুর্য্য থাকলে সেই এলাকার মধুতে তার প্রভাব ও স্বাদ পরিলক্ষিত হয়। একটি ছোট প্রাণীর পেট থেকে কেমন সুস্বাদু ও উপাদেয় পানীয় বের হয় অথচ প্রাণীটি স্বয়ং বিষাক্ত। বিষাক্ত প্রাণীর দেহে এই রোগ প্রতিষেধক তরল খাদ্য বাস্তবিকই আল্লাহ তা‘আলার অপার শক্তির মহিমার নিদর্শন এবং চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য চিন্তার খোরাক। মুধ বলকারক খাদ্য এবং রসনার জন্য আনন্দ ও তৃপ্তিদায়ক, আবার রোগ ব্যাধির জন্যও ফলপ্রদক ব্যবস্থাপত্র। কবিরাজ ও হেকিমগণ সালসা তৈরি করতে এটি ব্যবহার করেন।

মধু নিজেও নষ্ট হয় না এবং অন্য বস্ত্তকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত নষ্ট হতে দেয় না। এ কারণেই হেকিম কবিরাজগণ একে এলকোহল এর স্থলে ব্যবহার করেন। মধু বিরোচক এবং পেট থেকে দুষিত পদার্থ অপসারক। অনেকেই বিষনাষক হিসেবে এর ব্যবহার করে থাকেন। মধুর নিরাময় শক্তি ব্যাপক ও স্বতন্ত্র। সাহাবীগণ (রাযি.) মধুর মাধ্যমে ফোঁড়া ও চোখের চিকিৎসা করতেন। ইবনে উমার রাযি.) হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁর শরীরে ফোঁড়া বের হলে তিনি তাতে মধুর প্রলেপ দিতেন (কুরতুবী)। নাবী মোস্তফা ﷺ মধু খুব পছন্দ করতেন। প্রাচীনকাল থেকে আহত স্থান ড্রেসিং করার জন্য মধু ব্যবহার হতো। গবেষকগণ বলেন যে, মধু ত্বকের ক্ষতের জন্য নিরাময়ী। গবেষকদের ধারণা মৌমাছিরা মধু তৈরি করছে আনুমানিক ১০-২০ মিলিয়ন বছর থেকে। সেই প্রাচীনকাল থেকে মানুষ যদিও দেহের ক্ষত স্থান ড্রেসিং করার জন্য এবং আরো অন্যান্য অসুখে মুধ ব্যবহার করত তবুও বিজ্ঞানীরা বলছেন মধুর নিরাময়ী ক্ষমতা এখনো সম্পূর্ণ উন্মোচিত হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা গত বছর পোড়া, ক্ষত ও আঘাতের চিকিৎসার জন্য বিশুদ্ধ মধু ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। এখন উন্নত দেশের বাজারে মধুজাত এবং মধু থেকে সংগৃহীত দ্রব্য দেদারসে আসছে।
হাদিস নং: ৫৪৩২ সহিহ (Sahih)
عبد الرحمن بن شيبة قال اخبرني ابن ابي الفديك عن ابن ابي ذىب عن المقبري عن ابي هريرة قال كنت الزم النبي صلى الله عليه وسلم لشبع بطني حين لا اكل الخمير ولا البس الحرير ولا يخدمني فلان ولا فلانة والصق بطني بالحصباء واستقرى الرجل الاية وهي معي كي ينقلب بي فيطعمني وخير الناس للمساكين جعفر بن ابي طالب ينقلب بنا فيطعمنا ما كان في بيته„ حتى ان كان ليخرج الينا العكة ليس فيها شيء فنشتقها فنلعق ما فيها
৫৪৩২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পেট ভরার জন্য যা পেতাম তাতে সন্তুষ্ট হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সব সময় লেগে থাকতাম। সে সময় রুটি খেতে পেতাম না, রেশমী কাপড় পরতাম না, কোন চাকর-চাকরাণীও আমার খিদমতে ছিল না। আমি পাথরের সঙ্গে পেট লাগিয়ে রাখতাম। আয়াত জানা সত্ত্বেও কাউকে তা পাঠ করার জন্য বলতাম, যাতে সে আমাকে ঘরে নিয়ে যায় এবং আহার করায়। মিসকীনদের প্রতি অত্যন্ত দরদী ব্যক্তি ছিলেন জা’ফর ইবনু আবূ তালিব। তিনি আমাদের নিয়ে যেতেন এবং ঘরে যা থাকত তাই আমাদের খাওয়াতেন। এমনকি তিনি আমাদের কাছে ঘি’র পাত্রটিও বের করে আনতেন, যাতে ঘি থাকত না। আমরা ওটাই ফেড়ে ফেলতাম আর যা থাকত তাই চাটতাম। [৩৭০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯২৫)
অধ্যায় তালিকা