অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৭৪/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ হে বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া আর আস্তানা ও ভাগ্য নির্ধারক তীর ঘৃণিত শয়তানী কাজ, তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সাফল্যমন্ডিত হতে পার। সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫ঃ৯০)
মোট ৬৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৫৮০
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا ابو شهاب عبد ربه بن نافع عن يونس عن ثابت البناني عن انس قال حرمت علينا الخمر حين حرمت وما نجد يعني بالمدينة خمر الاعناب الا قليلا وعامة خمرنا البسر والتمر.
৫৫৮০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের উপর মদ হারাম হল, তখন আমরা মদিনায় আঙ্গুর থেকে তৈরী মদ খুব কম পেতাম। সাধারণভাবে আমাদের মদ ছিল কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত। [২৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৭)
হাদিস নং: ৫৫৮১
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن ابي حيان حدثنا عامر عن ابن عمر قام عمر على المنبر فقال اما بعد نزل تحريم الخمر وهي من خمسة العنب والتمر والعسل والحنطة والشعير والخمر ما خامر العقل.
৫৫৮১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলেনঃ অতঃপর জেনে রাখ মদ হারাম করে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা তৈরী হয় পাঁচ রকম জিনিস থেকেঃ আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব। আর মদ হল, যা বুদ্ধিকে বিলোপ করে। [৪৬১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৮)
হাদিস নং: ৫৫৮২
সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن عبد الله قال حدثني مالك بن انس عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس بن مالك قال كنت اسقي ابا عبيدة وابا طلحة وابي بن كعب من فضيخ زهو وتمر فجاءهم ات فقال ان الخمر قد حرمت فقال ابو طلحة قم يا انس فاهرقها فاهرقتها.
৫৫৮২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ’উবাইদাহ, আবূ ত্বলহা ও উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-কে কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত মদ পান করতে দিয়েছিলাম। এমন সময়ে তাদের নিকট এক আগন্তুক এসে বলল, মদ হারাম করা হয়েছে। তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) বললেন, হে আনাস! দাঁড়াও আর এগুলো গড়িয়ে দাও। আমি তখন তা গড়িয়ে দিলাম। [২৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৯)
হাদিস নং: ৫৫৮৩
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا معتمر عن ابيه قال سمعت انسا قال كنت قاىما على الحي اسقيهم عمومتي وانا اصغرهم الفضيخ فقيل حرمت الخمر فقالوا اكفىها فكفاتها قلت لا÷نس ما شرابهم قال رطب وبسر فقال ابو بكر بن انس وكانت خمرهم فلم ينكر انس وحدثني بعض اصحابي انه“ سمع انس بن مالك يقول كانت خمرهم يومىذ.
৫৫৮৩. মু’তামির তার পিতার সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ একটি আসরে দাঁড়িয়ে আমি তাদের অর্থাৎ চাচাদের ’ফাযীখ’ অর্থাৎ কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে প্রস্তুত মদ পান করাচ্ছিলাম। আমি ছিলাম সবার ছোট। এমন সময় বলা হলঃ মদ হারাম করা হয়েছে। তখন তাঁরা বললেনঃ তা গড়িয়ে দাও। সুতরাং আমি তা ঢেলে দিলাম।
রাবী বলেন, আমি আনাস -কে বললামঃ তাঁদের শরাব কিসের ছিল? তিনি বললেনঃ কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে তৈরী। তখন আনাস (রাঃ)-এর পুত্র আবূ বকর বললেনঃ সেটিই কি ছিল তাদের মদ? জবাবে আনাস কোন অসম্মতি জানালেন না। [২৪৬৪]
রাবী আরো বলেন, আমার কতক সঙ্গী বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা আনাস থেকে শুনেছেন তিনি বলেছেন, সেকালে এটিই তাদের মদ ছিল। আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭০)
রাবী বলেন, আমি আনাস -কে বললামঃ তাঁদের শরাব কিসের ছিল? তিনি বললেনঃ কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে তৈরী। তখন আনাস (রাঃ)-এর পুত্র আবূ বকর বললেনঃ সেটিই কি ছিল তাদের মদ? জবাবে আনাস কোন অসম্মতি জানালেন না। [২৪৬৪]
রাবী আরো বলেন, আমার কতক সঙ্গী বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা আনাস থেকে শুনেছেন তিনি বলেছেন, সেকালে এটিই তাদের মদ ছিল। আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭০)
হাদিস নং: ৫৫৮৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر المقدمي حدثنا يوسف ابو معشر البراء قال سمعت سعيد بن عبيد الله قال حدثني بكر بن عبد الله ان انس بن مالك حدثهم ان الخمر حرمت والخمر يومىذ البسر والتمر.
৫৫৮৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মদ হারাম করা হয়েছে। আর সেকালে মদ তৈরী হত কাঁচা ও পাকা খেজুর থেকে। [২৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭১)
হাদিস নং: ৫৫৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، ان عاىشة، قالت سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن البتع فقال " كل شراب اسكر فهو حرام ".
وَقَالَ مَعْنٌ سَأَلْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ عَنِ الْفُقَّاعِ فَقَالَ إِذَا لَمْ يُسْكِرْ فَلاَ بَأْسَ وَقَالَ ابْنُ الدَّرَاوَرْدِيِّ سَأَلْنَا عَنْه“ فَقَالُوا لاَ يُسْكِرُ لاَ بَأْسَ بِهِ.
মা’ন (রহ.) বলেন, আমি মালিক ইবনু আনাসকে ’ফুক্কা’ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেনঃ নেশাগ্রস্ত না করলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। ইবনু দারাওয়ারদী বলেন, আমরা এ সম্পর্কে অনেককে জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন, নেশাগ্রস্ত না করলে তাতে আপত্তি নেই।
৫৫৮৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’বিতা’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সর্বপ্রকার নেশা জাতীয় পানীয় হারাম। [২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭২)
মা’ন (রহ.) বলেন, আমি মালিক ইবনু আনাসকে ’ফুক্কা’ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেনঃ নেশাগ্রস্ত না করলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। ইবনু দারাওয়ারদী বলেন, আমরা এ সম্পর্কে অনেককে জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন, নেশাগ্রস্ত না করলে তাতে আপত্তি নেই।
৫৫৮৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’বিতা’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সর্বপ্রকার নেশা জাতীয় পানীয় হারাম। [২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭২)
হাদিস নং: ৫৫৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن، ان عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن البتع وهو نبيذ العسل، وكان اهل اليمن يشربونه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كل شراب اسكر فهو حرام ".
৫৫৮৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’বিতা’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। ’বিতা’ হচ্ছে মধু হতে তৈরী নবীয। ইয়ামানের লোকেরা তা পান করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে সকল পানীয় নেশার সৃষ্টি করে তা-ই হারাম। যুহরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দুব্বা (কদূর খোল) এর মধ্যে নবীয তৈরী করবে না, মুযাফফাত (আলকাতরা যুক্ত পাত্র)’র মধ্যেও করবে না। [২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৩)
হাদিস নং: ৫৫৮৭
সহিহ (Sahih)
وعن الزهري قال حدثني انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا تنتبذوا في الدباء ولا في المزفت وكان ابو هريرة يلحق معها الحنتم والنقير.
৫৫৮৭. যুহরী বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) এগুলোর সঙ্গে হান্তাম (মাটির সবুজ পাত্র) ও নাকীর (খেজুর বৃক্ষের মূলের খোল) এর কথাও যোগ করতেন। [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ১৯৯২, ১৯৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৩)
হাদিস নং: ৫৫৮৮
সহিহ (Sahih)
احمد ابن ابي رجاء حدثنا يحيى عن ابي حيان التيمي عن الشعبي عن ابن عمر قال خطب عمر على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال انه“ قد نزل تحريم الخمر وهي من خمسة اشياء العنب والتمر والحنطة والشعير والعسل والخمر ما خامر العقل وثلاث وددت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يفارقنا حتى يعهد الينا عهدا الجد والكلالة وابواب من ابواب الربا قال قلت يا ابا عمرو فشيء يصنع بالسند من الارز قال ذاك لم يكن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم او قال على عهد عمر وقال حجاج عن حماد عن ابي حيان مكان العنب الزبيب.
৫৫৮৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’উমার (রাঃ) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, নিশ্চয় মদ হারাম সম্পর্কীয় আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা প্রস্তুত হয় পাঁচটি জিনিস থেকেঃ আঙ্গুর, খেজুর, গম, যব ও মধু। আর খামর মদ) হল তা, যা বিবেক লোপ করে দেয়। আর তিনটি এমন বিষয় আছে যে, আমি চাচ্ছিলাম যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে সেগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা না করা পর্যন্ত তিনি যেন আমাদের নিকট হতে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যান। বিষয়গুলো হল, দাদার মীরাস, কালালার ব্যাখ্যা এবং সুদের প্রকারসমূহ। রাবী আবূ হাইয়্যান বলেন, আমি বললামঃ হে আবূ আমর! এক প্রকারের পানীয় জিনিস যা সিন্ধু অঞ্চলে চাউল দিয়ে তৈরী করা হয়, তার হুকুম কী? তিনি বললেনঃ সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আমলে ছিল না। কিংবা তিনি বলেছেনঃ সেটি ’উমার -এর আমলে ছিল না।
হাম্মাদ সূত্রে আবূ হাইয়্যান থেকে হাজ্জাজ الْعِنَبِ আঙ্গুর) এর জায়গায় الزَّبِيب কিসমিস) বলেছেন। [৪৬১৯; মুসলিম ৫৪০/৬, হাঃ ৩৩২] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৪)
হাম্মাদ সূত্রে আবূ হাইয়্যান থেকে হাজ্জাজ الْعِنَبِ আঙ্গুর) এর জায়গায় الزَّبِيب কিসমিস) বলেছেন। [৪৬১৯; মুসলিম ৫৪০/৬, হাঃ ৩৩২] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৪)
হাদিস নং: ৫৫৮৯
সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا شعبة عن عبد الله بن ابي السفر عن الشعبي عن ابن عمر عن عمر قال الخمر يصنع من خمسة من الزبيب والتمر والحنطة والشعير والعسل.
৫৫৮৯. ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মদ প্রস্তুত করা হয় পাঁচটি বস্ত্ত থেকে। সেগুলো হলঃ কিসমিস, খেজুর, গম, যব ও মধু। [মুসলিম ৫৪/৬, হাঃ ৩০৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৫)
হাদিস নং: ৫৫৯০
সহিহ (Sahih)
وقال هشام بن عمار حدثنا صدقة بن خالد حدثنا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر حدثنا عطية بن قيس الكلابي حدثنا عبد الرحمن بن غنم الاشعري قال حدثني ابو عامر او ابو مالك الاشعري والله ما كذبني سمع النبي صلى الله عليه وسلميقول ليكونن من امتي اقوام يستحلون الحر والحرير والخمر والمعازف ولينزلن اقوام الى جنب علم يروح عليهم بسارحة لهم ياتيهم يعني الفقير لحاجة فيقولون ارجع الينا غدا فيبيتهم الله ويضع العلم ويمسخ اخرين قردة وخنازير الى يوم القيامة.
৫৫৯০. ’আবদুর রহমান ইবনু গানাম আশ’আরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আবূ আমির কিংবা আবূ মালিক আশ’আরী বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাছে মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। তেমনি এমন অনেক দল হবে, যারা পাহাড়ের ধারে বসবাস করবে, বিকাল বেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের নিকট কোন অভাব নিয়ে ফকীর আসলে তারা বলবে, আগামী দিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। পর্বতটি ধ্বসিয়ে দেবেন, আর বাকী লোকদেরকে তিনি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বানর ও শূকর বানিয়ে রাখবেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৬)
হাদিস নং: ৫৫৯১
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن ابي حازم قال سمعت سهلا يقول اتى ابو اسيد الساعدي فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم في عرسه„ فكانت امراته“ خادمهم وهي العروس قال اتدرون ما سقيت رسول الله صلى الله عليه وسلم انقعت له“ تمرات من الليل في تور.
৫৫৯১. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসাইদ সা’ঈদী (রাঃ) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বিয়ের দাওয়াত দিলেন। তখন তাঁর স্ত্রী নববধূ তাঁদের মধ্যে পরিবেশনকারিণী ছিলেন। তিনি বলেন, তোমরা কি জান আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কী জিনিস পান করতে দিয়েছিলাম? তিনি বলেন) আমি রাতেই কয়েকটি খেজুর একটি পাত্রের মধ্যে ভিজিয়ে রেখেছিলাম। [৫১৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৭)
হাদিস নং: ৫৫৯২
সহিহ (Sahih)
يوسف بن موسى حدثنا محمد بن عبد الله ابو احمد الزبيري حدثنا سفيان عن منصور عن سالم عن جابر قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الظروف فقالت الانصار انه“ لا بد لنا منها قال فلا اذا وقال خليفة حدثنا يحيى بن سعيد حدثنا سفيان عن منصور عن سالم بن ابي الجعد عن جابر بهذا حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا سفيان بهذا وقال فيه لما نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الاوعية.
৫৫৯২. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতগুলো পাত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। তখন আনসারগণ বললেনঃ সেগুলো ছাড়া আমাদের কোন গত্যন্তর নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ব্যবহার করতে পার। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৮)
খালীফাহ বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ আমাদের কাছে সুফ্ইয়ান, মানসূর, সালিম ইবনু আবুল জাদ-জাবির (রহ.) থেকে এরকমই বর্ণনা করেন। )আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৯)
খালীফাহ বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ আমাদের কাছে সুফ্ইয়ান, মানসূর, সালিম ইবনু আবুল জাদ-জাবির (রহ.) থেকে এরকমই বর্ণনা করেন। )আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৯)
হাদিস নং: ৫৫৯৩
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن سليمان بن ابي مسلم الاحول عن مجاهد عن ابي عياض عن عبد الله بن عمرو قال لما نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الاسقية قيل للنبي صلى الله عليه وسلم ليس كل الناس يجد سقاء فرخص لهم في الجر غير المزفت.
৫৫৯৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রকমের পাত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলা হল, সব মানুষের নিকট তো মশক মওজুদ নেই। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কলসীর জন্য অনুমতি দেন, তবে আলকাতরার প্রলেপ দেয়া পাত্রের জন্য অনুমতি দেননি। [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ২০০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৭৯)
হাদিস নং: ৫৫৯৪
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن سفيان حدثني سليمان عن ابراهيم التيمي عن الحارث بن سويد عن علي نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الدباء والمزفت حدثنا عثمان حدثنا جرير عن الاعمش بهذا.
৫৫৯৪. ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুব্বা ও মুযাফফাত ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।
’উসমান (রহ.) বলেন, জারীর (রহ.) সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ১৯৯৪, আহমাদ ৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮০)
’উসমান (রহ.) বলেন, জারীর (রহ.) সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ১৯৯৪, আহমাদ ৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮০)
হাদিস নং: ৫৫৯৫
সহিহ (Sahih)
عثمان حدثنا جرير عن منصور عن ابراهيم قلت للاسود هل سالت عاىشة ام المومنين عما يكره“ ان ينتبذ فيه فقال نعم قلت يا ام المومنين عم نهى النبي صلى الله عليه وسلم ان ينتبذ فيه قالت نهانا في ذ‘لك اهل البيت ان ننتبذ في الدباء والمزفت قلت اما ذكرت الجر والحنتم قال انما احدثك ما سمعت افاحدث ما لم اسمع.
৫৫৯৫. ইবরাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসওয়াদকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনি কি উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, কোন্ কোন্ পাত্রের মধ্যে ’নবীয’ তৈরী করা মাকরূহ। তিনি বললেনঃ হাঁ। আমি বলেছিলাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! কোন্ কোন্ পাত্রের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন? তখন তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অর্থাৎ আহলে বায়তকে দুব্বা ও মুযাফফাত নামক পাত্রে নবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন।
(ইবরাহীম বলেন) আমি বললামঃ ’আয়িশাহ (রাঃ) কি জার (মাটির কলসী) ও হানতাম (মাটির সবুজ পাত্র) এর কথা উল্লেখ করেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা শুনেছি কেবল তাই তোমাকে বর্ণনা করেছি। আমি যা শুনিনি তাও কি আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করব? [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ১৯৯৫, আহমাদ ২৪২৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮১)
(ইবরাহীম বলেন) আমি বললামঃ ’আয়িশাহ (রাঃ) কি জার (মাটির কলসী) ও হানতাম (মাটির সবুজ পাত্র) এর কথা উল্লেখ করেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা শুনেছি কেবল তাই তোমাকে বর্ণনা করেছি। আমি যা শুনিনি তাও কি আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করব? [মুসলিম ৩৬/৬, হাঃ ১৯৯৫, আহমাদ ২৪২৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮১)
হাদিস নং: ৫৫৯৬
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عبد الواحد حدثنا الشيباني قال سمعت عبد الله بن ابي اوفى قال نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الجرالاخضر قلت انشرب في الابيض قال لا.
৫৫৯৬. মূসা বিন ইসমাঈল (রহ.) ...... ’আবদুল্লাহ ইবনু আওফা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবুজ রং এর কলসী ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আমি বললামঃ তাহলে সাদা রং এর পাত্রে (নবীয) পান করা যাবে কি? তিনি বললেনঃ না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮২)
হাদিস নং: ৫৫৯৭
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن القاري عن ابي حازم قال سمعت سهل بن سعد الساعدي ان ابا اسيد الساعدي دعا النبي صلى الله عليه وسلم لعرسه„ فكانت امراته“ خادمهم يومىذ وهي العروس فقالت ما تدرون ما انقعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم انقعت له“ تمرات من الليل في تور.
৫৫৯৭. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ উসাইদ সা’ঈদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ওলীমার দাওয়াত করেছিলেন। সেদিন তার স্ত্রী নববধু অবস্থায় সবার খিদমত করছিলেন। তিনি বললেনঃ আপনারা কি জানেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিসের রস পান করতে দিয়েছিলাম? আমি তাঁর জন্য রাতে কতকগুলো খেজুর পাত্রে ভিজিয়ে রেখেছিলাম। [৫১৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮৩)
হাদিস নং: ৫৫৯৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن ابي الجويرية قال سالت ابن عباس عن الباذق فقال سبق محمد صلى الله عليه وسلم الباذق فما اسكر فهو حرام قال الشراب الحلال الطيب قال ليس بعد الحلال الطيب الا الحرام الخبيث.
وَمَنْ نَهٰى عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ مِنَ الأَشْرِبَةِ وَرَأٰى عُمَرُ وَأَبُو عُبَيْدَةَ وَمُعَاذٌ شُرْبَ الطِّلاَءِ عَلٰى الثُّلُثِ وَشَرِبَ الْبَرَاءُ وَأَبُو جُحَيْفَةَ عَلٰى النِّصْفِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ اشْرَبْ الْعَصِيرَ مَا دَامَ طَرِيًّا وَقَالَ عُمَرُ وَجَدْتُ مِنْ عُبَيْدِ اللهِ رِيحَ شَرَابٍ وَأَنَا سَائِلٌ عَنْه“ فَإِنْ كَانَ يُسْكِرُ جَلَدْتُهُ.
এবং যারা নেশা সৃষ্টিকারী সকল পানীয় নিষিদ্ধ বলেন তার বর্ণনা। ’উমার, আবূ ’উবাইদাহ ও মু’আয ’তিলা’ অর্থাৎ আঙ্গুরের যে রসকে পাকিয়ে এক-তৃতীয়াংশ করা হয়েছে, তা পান করা জায়িয মনে করেন। বারা ও আবূ জুহাইফাহ পাকিয়ে অর্ধেক থাকতে রস পান করেছেন। ইবনু ’আব্বাস বলেছেনঃ আমি তাজা অবস্থার আঙ্গুরের রস পান করেছি। ’উমার বলেছেনঃ আমি উবাইদুল্লাহর মুখ হতে শরাবের গন্ধ পেয়েছি এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেসও করেছি। যদি তা নেশার সৃষ্টি করত, তাহলে আমি বেত্রাঘাত করতাম।
৫৫৯৮. আবুল জুওয়াইরিয়া (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে ’বাযাক’ সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তর দিলেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’বাযাক’ উৎপাদনের আগে বিদায় হয়ে গেছেন। কাজেই যে বস্ত্ত নেশা জন্মায় তা-ই হারাম। তিনি বলেনঃ হালাল পানীয় পবিত্র। তিনি বলেন, হালাল ও পবিত্র পানীয় ছাড়া অন্যসব পানীয় ঘৃণ্য হারাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮৪)
এবং যারা নেশা সৃষ্টিকারী সকল পানীয় নিষিদ্ধ বলেন তার বর্ণনা। ’উমার, আবূ ’উবাইদাহ ও মু’আয ’তিলা’ অর্থাৎ আঙ্গুরের যে রসকে পাকিয়ে এক-তৃতীয়াংশ করা হয়েছে, তা পান করা জায়িয মনে করেন। বারা ও আবূ জুহাইফাহ পাকিয়ে অর্ধেক থাকতে রস পান করেছেন। ইবনু ’আব্বাস বলেছেনঃ আমি তাজা অবস্থার আঙ্গুরের রস পান করেছি। ’উমার বলেছেনঃ আমি উবাইদুল্লাহর মুখ হতে শরাবের গন্ধ পেয়েছি এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেসও করেছি। যদি তা নেশার সৃষ্টি করত, তাহলে আমি বেত্রাঘাত করতাম।
৫৫৯৮. আবুল জুওয়াইরিয়া (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে ’বাযাক’ সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তর দিলেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’বাযাক’ উৎপাদনের আগে বিদায় হয়ে গেছেন। কাজেই যে বস্ত্ত নেশা জন্মায় তা-ই হারাম। তিনি বলেনঃ হালাল পানীয় পবিত্র। তিনি বলেন, হালাল ও পবিত্র পানীয় ছাড়া অন্যসব পানীয় ঘৃণ্য হারাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮৪)
হাদিস নং: ৫৫৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن ابي شيبة، حدثنا ابو اسامة، حدثنا هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يحب الحلواء والعسل.
৫৫৯৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন। [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৮৫)