অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৭৭/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘বল, ‘যে সব সৌন্দর্য-শোভামন্ডিত বস্তু ও পবিত্র জীবিকা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কে তা হারাম করল’?’’সূরাহ আল-আ‘রাফ ৭ঃ ৩২)
মোট ১৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৮৮৩
সহিহ (Sahih)
حجاج بن منهال حدثنا شعبة قال اخبرني عدي قال سمعت سعيدا عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى يوم العيد ركعتين لم يصل قبلها ولا بعدها ثم اتى النساء ومعه“ بلال فامرهن بالصدقة فجعلت المراة تلقي قرطها.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَمَرَهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالصَّدَقَةِ فَرَأَيْتُهُنَّ يَهْوِينَ إِلٰى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) মহিলাদের সাদাকা করার নির্দেশ দেন। তখন আমি দেখলাম, তারা তাদের নিজ নিজ কান ও গলার দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
৫৮৮৩. ইবনু ’আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) ঈদের দিনে দু’রাকআত সালাত আদায় করেন। না এর আগে তিনি কোন সালাত আদায় করেন, না এর পরে। অতঃপর তিনি মহিলাদের কাছে আসেন, তখন তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল তিনি মহিলাদেরকে সাদাকা করার নির্দেশ প্রদান করেন। তারা নিজেদের কানের দুল নিক্ষেপ করতে লাগল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫১)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) মহিলাদের সাদাকা করার নির্দেশ দেন। তখন আমি দেখলাম, তারা তাদের নিজ নিজ কান ও গলার দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
৫৮৮৩. ইবনু ’আব্বাস হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) ঈদের দিনে দু’রাকআত সালাত আদায় করেন। না এর আগে তিনি কোন সালাত আদায় করেন, না এর পরে। অতঃপর তিনি মহিলাদের কাছে আসেন, তখন তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল তিনি মহিলাদেরকে সাদাকা করার নির্দেশ প্রদান করেন। তারা নিজেদের কানের দুল নিক্ষেপ করতে লাগল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫১)
হাদিস নং: ৫৮৮৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم الحنظلي اخبرنا يحيى بن ادم حدثنا ورقاء بن عمر عن عبيد الله بن ابي يزيد عن نافع بن جبير عن ابي هريرة قال كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سوق من اسواق المدينة فانصرف فانصرفت فقال اين لكع ثلاثا ادع الحسن بن علي فقام الحسن بن علي يمشي وفي عنقه السخاب فقال النبي صلى الله عليه وسلم بيده„ هكذا فقال الحسن بيده„ هكذا فالتزمه“ فقال اللهم اني احبه“ فاحبه“ واحب من يحبه“ وقال ابو هريرة فما كان احد احب الي من الحسن بن علي بعد ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قال.
৫৮৮৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মদিনার কোন এক বাজারে ছিলাম। তিনি (বাজার থেকে) ফিরলেন। আমিও ফিরলাম। তিনি বললেনঃ ছোট শিশুটি কোথায়? এ কথা তিনবার বললেন। হাসান ইবনু ’আলীকে ডাক। দেখা গেল হাসান ইবনু ’আলী হেঁটে চলেছে। তাঁর গলায় ছিল মালা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে তাঁর হাত উঠালেন। হাসানও এভাবে নিজের হাত উঠালো। তারপর তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, আপনিও তাকে ভালবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাকে ভালবাসে, তাকেও আপনি ভালবাসুন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথা বলার পর থেকে হাসান ইবনু ’আলীর চেয়ে অন্য কেউ আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হয়নি। [২১২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫২)
হাদিস নং: ৫৮৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن قتادة، عن عكرمة، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المتشبهين من الرجال بالنساء، والمتشبهات من النساء بالرجال. تابعه عمرو اخبرنا شعبة.
৫৮৮৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব পুরুষকে লা’নত করেছেন যারা নারীর বেশ ধরে এবং ঐসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধরে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৩)
’আমরও এরকমই বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে শু’য়বা এ সংবাদ দিয়েছেন।
’আমরও এরকমই বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে শু’য়বা এ সংবাদ দিয়েছেন।
হাদিস নং: ৫৮৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا معاذ بن فضالة، حدثنا هشام، عن يحيى، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال لعن النبي صلى الله عليه وسلم المخنثين من الرجال، والمترجلات من النساء وقال " اخرجوهم من بيوتكم ". قال فاخرج النبي صلى الله عليه وسلم فلانا، واخرج عمر فلانا.
৫৮৮৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশধারী মহিলাদের উপর লা’নত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ ওদেরকে ঘর থেকে বের করে দাও। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুককে বের করেছেন এবং ’উমার (রাঃ) অমুককে বের করে দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৪)
হাদিস নং: ৫৮৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا مالك بن اسماعيل، حدثنا زهير، حدثنا هشام بن عروة، ان عروة، اخبره ان زينب ابنة ابي سلمة اخبرته ان ام سلمة اخبرتها ان النبي صلى الله عليه وسلم كان عندها وفي البيت مخنث، فقال لعبد الله اخي ام سلمة يا عبد الله ان فتح لكم غدا الطاىف، فاني ادلك على بنت غيلان، فانها تقبل باربع وتدبر بثمان. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا يدخلن هولاء عليكن ". قال ابو عبد الله تقبل باربع وتدبر بثمان يعني اربع عكن بطنها، فهى تقبل بهن، وقوله وتدبر بثمان. يعني اطراف هذه العكن الاربع، لانها محيطة بالجنبين حتى لحقت وانما قال بثمان. ولم يقل بثمانية. وواحد الاطراف وهو ذكر، لانه لم يقل ثمانية اطراف.
৫৮৮৭. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা তাঁর ঘরে ছিলেন। তখন ঐ ঘরে এক হিজড়া ছিল। সে উম্মু সালামাহর ভাই ’আবদুল্লাহকে বললঃ হে ’আবদুল্লাহ! আগামীকাল তায়েফের উপর যদি তোমরা জয়ী হও, তবে আমি তোমাকে বিন্ত গাইলানকে দেখাব। সে সামনের দিকে আসলে, (তার পেটে) চার ভাঁজ দেখা যায়। আর যখন সে পিছনের দিকে যায়, তখন (তার পিঠে) আট ভাঁজ দেখা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওরা যেন তোমাদের কাছে কক্ষনো না আসে। [৪৩২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৫)
হাদিস নং: ৫৮৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا المكي بن ابراهيم، عن حنظلة، عن نافع، قال اصحابنا عن المكي، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " من الفطرة قص الشارب ".
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُحْفِي شَارِبَهُ حَتَّى يُنْظَرَ إِلَى بَيَاضِ الْجِلْدِ، وَيَأْخُذُ هَذَيْنِ، يَعْنِي بَيْنَ الشَّارِبِ وَاللِّحْيَةِ.
ইবনু ’উমার (রাঃ) গোঁফ এত ছোট করতেন যে, চামড়ার শুভ্রতা দেখা যেত এবং তিনি গোঁফ ও দাড়ির মাঝের পশমও কেটে ফেলতেন।
৫৮৮৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ গোঁফ কেটে ফেলা ফিতরাত স্বভাবের) অন্তর্ভুক্ত। [৫৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৬)
ইবনু ’উমার (রাঃ) গোঁফ এত ছোট করতেন যে, চামড়ার শুভ্রতা দেখা যেত এবং তিনি গোঁফ ও দাড়ির মাঝের পশমও কেটে ফেলতেন।
৫৮৮৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ গোঁফ কেটে ফেলা ফিতরাত স্বভাবের) অন্তর্ভুক্ত। [৫৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৬)
হাদিস নং: ৫৮৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي، حدثنا سفيان، قال الزهري حدثنا عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، رواية " الفطرة خمس ـ او خمس من الفطرة ـ الختان، والاستحداد، ونتف الابط، وتقليم الاظفار، وقص الشارب ".
৫৮৮৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ফিতরাত (অর্থাৎ মানুষের জন্মগত স্বভাব) পাঁচটিঃ খাতনা করা, ক্ষুর ব্যবহার করা (নাভির নিম্নে), বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ খাটো করা। [1] [৫৮৯১, ২৬৯৭; মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৭, আহমাদ ৭১৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৭)
নোট: [1]. গোঁফ ছোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এগুলো মুখের ভিতর এসে না পড়ে। গোঁফ বেশী দীর্ঘ হলে নাকের এবং বাইরের ময়লা মিশে মুখের ভিতরে ঢোকে। পানি পান করার সময় এবং আহারের সময় গোঁফে আটকানো নাকের ও বাইরের রোগজীবানু ও ময়লাগুলো মুখের ভিতরে প্রবেশ করে নানাবিধ রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইসলামে গোঁফ লম্বা করে রাখা নিষিদ্ধ। কেননা এটা স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিরোধীও বটে। যথাসময়ে গোঁফ কাটা, গুপ্তস্থানে ক্ষৌরকার্য্য করা, বগলের চুল ছেঁড়া ও নখ কাটা উচিত। ৪০ রাত বা দিন যেন অতিক্রম না করে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়াও উচিত। কারণ রসূল এগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার সময় নির্ধারণ করতে গিয়ে বলেছেনঃ ৪০ রাত বা দিন যেন অতিক্রান্ত না হয় মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্ ও আহমাদ)
হাদিস নং: ৫৮৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن ابي رجاء، حدثنا اسحاق بن سليمان، قال سمعت حنظلة، عن نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من الفطرة حلق العانة، وتقليم الاظفار، وقص الشارب ".
৫৮৯০. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নাভির নীচের পশম কামানো, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা মানুষের স্বভাব। [1] [৫৮৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৮)
নোট: [1] . পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইসলামের মহানাবী (ﷺ) পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে খুবই তাগিদ দিয়েছেন। কোন ঈমানদার ব্যক্তি এমন হতে পারে না যে, গোসল না করার কারণে তার শরীর থেকে গন্ধ বের হবে যাতে সকলেই তাকে ঘৃণা করবে। মুখ পরিষ্কার না করার কারণে মুখ থেকে গন্ধ আসবে, মাথার চুলে জট দেখা দিবে, বড় বড় গোঁফে মুখ ঢেকে যাবে, নখগুলো হবে হিংস্র জন্তুর মত, সারা দেহে ময়লার স্ত্তপ জমবে- কোন ঈমানদার ব্যক্তি কক্ষনো এরকম হতে পারে না। সে হতে পারে না জটাজটধারী গাঁজার কলকিওয়ালা দুর্গন্ধে ভরপুর ইসলামের আদর্শ বিবর্জিত আশ্রমবাসীর মত।
হাদিস নং: ৫৮৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا ابراهيم بن سعد، حدثنا ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " الفطرة خمس الختان، والاستحداد، وقص الشارب، وتقليم الاظفار، ونتف الاباط ".
৫৮৯১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- ফিতরাত পাঁচটিঃ খাতনা করা, (নাভির নীচে) ক্ষুর ব্যবহার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা ও বগলের পশম উপড়ে ফেলা। [৫৮৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৯)
হাদিস নং: ৫৮৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن منهال، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا عمر بن محمد بن زيد، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " خالفوا المشركين، وفروا اللحى، واحفوا الشوارب ". وكان ابن عمر اذا حج او اعتمر قبض على لحيته، فما فضل اخذه.
৫৮৯২. ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে- দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে।
ইবনু ’উমার (রাঃ) যখন হাজ্জ বা ’উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। [৫৮৯৩; মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৯, আহমাদ ৪৬৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬০)
ইবনু ’উমার (রাঃ) যখন হাজ্জ বা ’উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। [৫৮৯৩; মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৯, আহমাদ ৪৬৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬০)
হাদিস নং: ৫৮৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد، اخبرنا عبدة، اخبرنا عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انهكوا الشوارب، واعفوا اللحى ".
عَفَوْا كَثُرُوا وَكَثُرَتْ أَمْوَالُهُمْ.
’আফাও’ অর্থ বর্ধিত করা। তাদের মাল বর্ধিত হয়েছে।
৫৮৯৩. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দিবে (বড় রাখবে)। [৫৮৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৫৪৬৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬১)
’আফাও’ অর্থ বর্ধিত করা। তাদের মাল বর্ধিত হয়েছে।
৫৮৯৩. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দিবে (বড় রাখবে)। [৫৮৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৫৪৬৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬১)
হাদিস নং: ৫৮৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا معلى بن اسد، حدثنا وهيب، عن ايوب، عن محمد بن سيرين، قال سالت انسا اخضب النبي صلى الله عليه وسلم قال لم يبلغ الشيب الا قليلا.
৫৮৯৪. মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি খিযাব লাগিয়েছেন? তিনি বললেনঃ বার্ধক্য তাঁকে অতি অল্পই পেয়েছিল। [৩৫৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬২)
হাদিস নং: ৫৮৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن زيد، عن ثابت، قال سىل انس عن خضاب النبي صلى الله عليه وسلم، صلى الله عليه وسلم فقال انه لم يبلغ ما يخضب، لو شىت ان اعد شمطاته في لحيته.
৫৮৯৫. সাবিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিযাব লাগানোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খিযাব লাগানোর অবস্থা পর্যন্ত পৌঁছেননি। আমি তাঁর সাদা দাড়িগুলো গুণতে চাইলে, সহজেই গুণতে পারতাম। [৩৫৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৩)
হাদিস নং: ৫৮৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا مالك بن اسماعيل، حدثنا اسراىيل، عن عثمان بن عبد الله بن موهب، قال ارسلني اهلي الى ام سلمة بقدح من ماء ـ وقبض اسراىيل ثلاث اصابع ـ من فضة فيه شعر من شعر النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وكان اذا اصاب الانسان عين او شىء بعث اليها مخضبه، فاطلعت في الجلجل فرايت شعرات حمرا.
৫৮৯৬. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ উম্মু সালামাহর কাছে পাঠাল। (উম্মু সালামাহর কাছে রক্ষিত) একটি পানির পাত্র হতে (আনাসের পুত্র) ইসরাঈল তিনটি আঙ্গুল দিয়ে কিছু পানি তুলে নিল। ঐ পাত্রের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি চুল ছিল। কারো চোখ লাগলে কিংবা কোন রোগ দেখা দিলে, উম্মু সালামাহর নিকট হতে পানি আনার জন্য একটি পাত্র পাঠিয়ে দিত। আমি সে পাত্রের মধ্যে একবার তাকালাম, দেখলাম লাল রং-এর কয়েকটি চুল। [৫৮৯৭, ৫৮৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৪)
হাদিস নং: ৫৮৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا سلام، عن عثمان بن عبد الله بن موهب، قال دخلت على ام سلمة فاخرجت الينا شعرا من شعر النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مخضوبا.
৫৮৯৭. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি চুল বের করলেন, যাতে খিযাব লাগানো ছিল। [৫৮৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৫)
হাদিস নং: ৫৮৯৮
সহিহ (Sahih)
وقال لنا ابو نعيم حدثنا نصير بن ابي الاشعث، عن ابن موهب، ان ام سلمة، ارته شعر النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم احمر.
৫৮৯৮. আবূ নু’আয়ম .... ইবনু মাওহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু সালামাহ তাকে (ইবনু মাওহাবকে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লাল রং এর চুল দেখিয়েছেন। [৫৮৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৫)
হাদিস নং: ৫৮৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا الزهري، عن ابي سلمة، وسليمان بن يسار، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال النبي صلى الله عليه وسلم " ان اليهود والنصارى لا يصبغون فخالفوهم ".
৫৮৯৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়াহূদ ও নাসারারা (চুল ও দাড়িতে) রং লাগায় না। কাজেই তোমরা তাদের উল্টো কর। [৩৪৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৬)
হাদিস নং: ৫৯০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك بن انس، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ انه سمعه يقول كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بالطويل الباىن، ولا بالقصير، وليس بالابيض الامهق، وليس بالادم، وليس بالجعد القطط، ولا بالسبط، بعثه الله على راس اربعين سنة، فاقام بمكة عشر سنين، وبالمدينة عشر سنين، وتوفاه الله على راس ستين سنة، وليس في راسه ولحيته عشرون شعرة بيضاء.
৫৯০০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না অতিরিক্ত লম্বা ছিলেন, না বেঁটে ছিলেন; না ধবধবে সাদা ছিলেন, আর না ফ্যাকাশে সাদা ছিলেন; চুল অতিশয় কোঁকড়ানোও ছিল না, আর সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে আল্লাহ তাঁকে নবুওত দান করেন। এরপর মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। ষাট বছর বয়সকালে আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেন। এ সময় তাঁর মাথায় ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা হয়নি। [1] [৩৫৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৭)
নোট: [1] নাবী (ﷺ) এর জন্মের বছর, হিজরাতের বছর ও মৃত্যুর বছরসমূহকে যারা পূর্ণ বছর গণনা করেছেন তাদের মতানুযায়ী ৬৩ বছর। এবং যারাপূর্ণ ১২ মাসের বছর না হবার কারণে উক্ত বছরগুলো ছেড়ে দিয়েছেন তাদের মতানুসারে ৬০ বছর। মূলতঃ ৬৩ বছর বয়স পাওয়ার হাদীসের সাথে এ হাদীসের কোন দন্দ্ব নেই।
হাদিস নং: ৫৯০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مالك بن اسماعيل، حدثنا اسراىيل، عن ابي اسحاق، سمعت البراء، يقول ما رايت احدا احسن في حلة حمراء من النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم. قال بعض اصحابي عن مالك ان جمته لتضرب قريبا من منكبيه. قال ابو اسحاق سمعته يحدثه غير مرة، ما حدث به قط الا ضحك. تابعه شعبة شعره يبلغ شحمة اذنيه.
৫৯০১. বারাআ’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লাল জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্য কাউকে আমি অধিক সুন্দর দেখিনি। (ইমাম বুখারী বলেন) আমার জনৈক সঙ্গী মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার চুল প্রায় তাঁর কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছত। আবূ ইসহাক (রহ.) বলেনঃ আমি বারাআ’ (রাঃ)-কে কয়েককবার এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। যখনই তিনি এ হাদীস বর্ণনা করতেন, তখনই হাসতেন। শু’বাহ বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুল তাঁর উভয় কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছতো। [৩৫৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৮)
হাদিস নং: ৫৯০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر ـ رضى الله عنهما ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اراني الليلة عند الكعبة، فرايت رجلا ادم كاحسن ما انت راء من ادم الرجال، له لمة كاحسن ما انت راء من اللمم، قد رجلها، فهى تقطر ماء متكىا على رجلين، او على عواتق رجلين، يطوف بالبيت فسالت من هذا فقيل المسيح ابن مريم. واذا انا برجل جعد، قطط، اعور العين اليمنى كانها عنبة طافية، فسالت من هذا فقيل المسيح الدجال ".
৫৯০২. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এক রাত্রিতে স্বপ্নে কা’বা ঘরের সন্নিকটে এক গেরুয়া রঙের পুরুষ লোক দেখতে পেলাম। এমন সুন্দর গেরুয়া লোক তুমি কখনও দেখনি। তাঁর মাথার চুল ছিল কাঁধ পর্যন্ত। কাঁধ পর্যন্ত লম্বা এমন সুন্দর চুল তুমি কখনও দেখনি। লোকটি চুল আঁচড়িয়েছে, আর তাত্থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে। সে দু’জন লোকের উপর ভর দিয়ে কিংবা দু’জন লোকের স্কন্ধে ভর করে কা’বা ঘর প্রদক্ষিণ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ লোকটি কে? জবাব দেয়া হলোঃ ইনি মরিয়মের পুত্র ’ঈসা) মাসীহ্! অন্য আরেকজন লোক দেখলাম, যার চুল ছিল খুবই কোঁকড়ান, ডান চোখ টেরা, ফুলে উঠা আঙ্গুর যেন। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ লোকটি কে? বলা হলোঃ ইনি মাসীহ্ দাজ্জাল। [৩৪৪০] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৯)