অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৭৮/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি মানুষের প্রতি ফরমান জারি করেছি। সূরাহ আনকাবূত ২৯/৮)
মোট ২৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬১৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن نصر، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابن المسيب، عن ابيه، ان اباه، جاء الى النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فقال " ما اسمك ". قال حزن. قال " انت سهل ". قال لا اغير اسما سمانيه ابي. قال ابن المسيب فما زالت الحزونة فينا بعد. حدثنا علي بن عبد الله، ومحمود، قالا حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابن المسيب، عن ابيه، عن جده، بهذا.
৬১৯০. ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তাঁর দাদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার নাম কী? তিনি বললেনঃ ’হায্ন’।[1] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তোমার নাম ’সাহল’। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন, তা অন্য কোন নাম দিয়ে আমি বদলাবো না। ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) বলেনঃ এরপর থেকে আমাদের বংশের মধ্যে দুঃখ-কষ্টই চলে এসেছে। [৬১৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৪৪)
নোট: [1] হাযন কথাটির অর্থ দুঃখ-কষ্ট।
হাদিস নং: ৬১৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، حدثنا ابو غسان، قال حدثني ابو حازم، عن سهل، قال اتي بالمنذر بن ابي اسيد الى النبي صلى الله عليه وسلم حين ولد، فوضعه على فخذه وابو اسيد جالس، فلها النبي صلى الله عليه وسلم بشىء بين يديه، فامر ابو اسيد بابنه فاحتمل من فخذ النبي صلى الله عليه وسلم فاستفاق النبي صلى الله عليه وسلم فقال " اين الصبي ". فقال ابو اسيد قلبناه يا رسول الله. قال " ما اسمه ". قال فلان. قال " ولكن اسمه المنذر ". فسماه يومىذ المنذر.
৬১৯১. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন মুনযির ইবনু আবূ উসায়দ জন্মলাভ করলেন, তখন তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি তাকে নিজের উরুর উপর রাখলেন। আবূ উসায়দ পাশেই উপবিষ্ট ছিলেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনেই কোন জরুরী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ইত্যবসরে আবূ উসায়দ কারো মাধ্যমে তাঁর উরু থেকে তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কাজ থেকে মুক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ শিশুটি কোথায়? আবূ উসায়দ বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তার নাম কী? তিনি বললেনঃ অমুক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তার নাম ’মুনযির’। সে দিন হতে তার নাম রাখলেন ’মুনযির’। [মুসলিম ৩৮/৫, হাঃ ২১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৪৫)
হাদিস নং: ৬১৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا صدقة بن الفضل، اخبرنا محمد بن جعفر، عن شعبة، عن عطاء بن ابي ميمونة، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، ان زينب، كان اسمها برة، فقيل تزكي نفسها. فسماها رسول الله صلى الله عليه وسلم زينب.
৬১৯২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যাইনাব (রাঃ)-এর নাম ছিল ’বাররাহ’ (নেককার)। তখন বলা হল যে, এর দ্বারা তিনি নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রাখলেনঃ ’যাইনাব’। [মুসলিম ৩৮/৩, হাঃ ২১৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৪৬)
হাদিস নং: ৬১৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى، حدثنا هشام، ان ابن جريج، اخبرهم قال اخبرني عبد الحميد بن جبير بن شيبة، قال جلست الى سعيد بن المسيب فحدثني ان جده حزنا قدم على النبي صلى الله عليه وسلم. فقال " ما اسمك ". قال اسمي حزن. قال " بل انت سهل ". قال ما انا بمغير اسما سمانيه ابي. قال ابن المسيب فما زالت فينا الحزونة بعد.
৬১৯৩. সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। একবার তাঁর দাদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার নাম কী? তিনি উত্তর দিলেনঃ আমার নাম হাযন। তিনি বললেনঃ না বরং তোমার নাম ’সাহল’। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আমার যে নাম রেখে গিয়েছেন, তা আমি পাল্টাতে চাই না। ইবনু মুসাইয়্যাব বলেন, ফলে এরপর থেকে আমাদের বংশে দুঃখকষ্টই লেগে আছে। [৬১৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৪৭)
হাদিস নং: ৬১৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن نمير، حدثنا محمد بن بشر، حدثنا اسماعيل، قلت لابن ابي اوفى رايت ابراهيم ابن النبي صلى الله عليه وسلم قال مات صغيرا، ولو قضي ان يكون بعد محمد صلى الله عليه وسلم نبي عاش ابنه، ولكن لا نبي بعده.
وَقَالَ أَنَسٌ قَبَّلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِبْرَاهِيمَ يَعْنِي ابْنَهُ
আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম-কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে।
৬১৯৪. ইসমা’ঈল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুত্র ইবরাহীম-কে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি তো বাল্যাবস্থায় মারা গিয়েছেন। যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে অন্য কেউ নবী হবার বিধান থাকত তবে তাঁর পুত্র জীবিত থাকতেন। কিন্তু তাঁর পরে কোন নবী নাই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৪৮)
আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম-কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে।
৬১৯৪. ইসমা’ঈল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুত্র ইবরাহীম-কে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি তো বাল্যাবস্থায় মারা গিয়েছেন। যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে অন্য কেউ নবী হবার বিধান থাকত তবে তাঁর পুত্র জীবিত থাকতেন। কিন্তু তাঁর পরে কোন নবী নাই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৪৮)
হাদিস নং: ৬১৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، اخبرنا شعبة، عن عدي بن ثابت، قال سمعت البراء، قال لما مات ابراهيم ـ عليه السلام ـ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم" ان له مرضعا في الجنة ".
৬১৯৫. আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) বলেন, আমি বারাআ’ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, যখন ইবরাহীম মারা যান তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার জন্য জান্নাতে দুগ্ধদায়িনী থাকবে। [১৩৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৪৯)
হাদিস নং: ৬১৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، عن حصين بن عبد الرحمن، عن سالم بن ابي الجعد، عن جابر بن عبد الله الانصاري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " سموا باسمي، ولا تكتنوا بكنيتي، فانما انا قاسم اقسم بينكم "
৬১৯৬. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নাম রাখ। কিন্তু আমার কুন্ইয়াতে কারো কুন্ইয়াত রেখ না। কেননা আমিই কাসিম। আমি তোমাদের মধ্যে (আল্লাহর নি’য়ামাত) বণ্টন করি। [৩১১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫০)
হাদিস নং: ৬১৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، حدثنا ابو حصين، عن ابي صالح، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " سموا باسمي ولا تكتنوا بكنيتي، ومن راني في المنام فقد راني، فان الشيطان لا يتمثل صورتي، ومن كذب على متعمدا فليتبوا مقعده من النار ".
৬১৯৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুন্ইয়াতে কারো কুন্ইয়াত রেখো না। আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে, সে অবশ্যই আমাকে দেখেছে। শয়তান আমার সুরত গ্রহণ করতে পারে না। আর যে লোক ইচ্ছাপূর্বক আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামেই তার বাসস্থান করে নেয়। [১১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫১)
হাদিস নং: ৬১৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا ابو اسامة، عن بريد بن عبد الله بن ابي بردة، عن ابي بردة، عن ابي موسى، قال ولد لي غلام، فاتيت به النبي صلى الله عليه وسلم فسماه ابراهيم، فحنكه بتمرة، ودعا له بالبركة، ودفعه الى، وكان اكبر ولد ابي موسى.
৬১৯৮. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি ছেলে জন্মালে আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তিনি তার নাম রেখে দিলেন ইবরাহীম। তারপর তিনি একটা খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিয়ে তার জন্য বারাকাতের দু’আ করলেন এবং তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। রাবী বলেন, সে ছিল আবূ মূসা (রাঃ) এর বড় ছেলে। [৫৪৬৭] (ধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫২)
হাদিস নং: ৬১৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا زاىدة، حدثنا زياد بن علاقة، سمعت المغيرة بن شعبة، قال انكسفت الشمس يوم مات ابراهيم. رواه ابو بكرة عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৬১৯৯. যিয়াদ ইবনু ইলাকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে দিন ইবরাহীম মারা যান, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। এটি আবূ বকরাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [১০৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫৩)
হাদিস নং: ৬২০০
সহিহ (Sahih)
اخبرنا ابو نعيم الفضل بن دكين، حدثنا ابن عيينة، عن الزهري، عن سعيد، عن ابي هريرة، قال لما رفع النبي صلى الله عليه وسلم راسه من الركعة قال " اللهم انج الوليد بن الوليد، وسلمة بن هشام، وعياش بن ابي ربيعة، والمستضعفين بمكة، اللهم اشدد وطاتك على مضر، اللهم اجعلها عليهم سنين كسني يوسف ".
৬২০০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের রুকু থেকে মাথা তুলে দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম, আইয়্যাশ ইবনু আবী রাবী’য়া এবং মক্কার দুর্বল মুসলিমদের শত্রুর জ্বালাতন থেকে মুক্তি দাও। আর হে আল্লাহ! মুযার গোত্রকে শক্তভাবে পাকড়াও করো। হে আল্লাহ্! তুমি তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ দাও, যেমন দুর্ভিক্ষ ইউসুফ (আ.)-এর যুগে দিয়েছিলে। [৭৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫৪)
হাদিস নং: ৬২০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال حدثني ابو سلمة بن عبد الرحمن، ان عاىشة ـ رضى الله عنها ـ زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا عاىش هذا جبريل يقرىك السلام ". قلت وعليه السلام ورحمة الله. قالت وهو يرى ما لا نرى.
وَقَالَ أَبُو حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا أَبَا هِرٍّ
আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ’ইয়া আবা হিররিন’ বলে ডাক দেন।
৬২০১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ’আয়িশাহ! এই যে জিবরীল (আ.) তোমাকে সালাম বলছেন। তিনি বললেনঃ তাঁর উপরও আল্লাহর শান্তি ও রহমত নাযিল হোক। এরপর তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেন, যা আমি দেখি না। [৩২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫৫)
আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ’ইয়া আবা হিররিন’ বলে ডাক দেন।
৬২০১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ’আয়িশাহ! এই যে জিবরীল (আ.) তোমাকে সালাম বলছেন। তিনি বললেনঃ তাঁর উপরও আল্লাহর শান্তি ও রহমত নাযিল হোক। এরপর তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেন, যা আমি দেখি না। [৩২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫৫)
হাদিস নং: ৬২০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا وهيب، حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، عن انس ـ رضى الله عنه ـ قال كانت ام سليم في الثقل وانجشة غلام النبي صلى الله عليه وسلم يسوق بهن، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " يا انجش، رويدك، سوقك بالقوارير ".
৬২০২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার উম্মু সালীম সফরের সামগ্রীবাহী উটে সাওয়ার ছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোলাম আন্জাশ উটগুলোকে জলদি হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওহে আনজাশ! তুমি কাঁচের পাত্র বহনকারী উটগুলো আস্তে আস্তে হাঁকাও। [৬১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫৬)
হাদিস নং: ৬২০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الوارث، عن ابي التياح، عن انس، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم احسن الناس خلقا، وكان لي اخ يقال له ابو عمير ـ قال احسبه فطيم ـ وكان اذا جاء قال " يا ابا عمير ما فعل النغير ". نغر كان يلعب به، فربما حضر الصلاة وهو في بيتنا، فيامر بالبساط الذي تحته فيكنس وينضح، ثم يقوم ونقوم خلفه فيصلي بنا.
৬২০৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে অধিক সদাচারী ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল; ’তাকে আবূ ’উমায়র’ বলে ডাকা হতো। আমার ধারণা যে, সে তখন মায়ের দুধ খেতো না। যখনই সে তাঁর নিকট আসতো, তিনি বলতেনঃ হে আবূ ’উমায়র! কী করছে তোমার নুগায়র? সে নুগায়র পাখিটা নিয়ে খেলতো। আর প্রায়ই যখন সালাতের সময় হতো, আর তিনি আমাদের ঘরে থাকতেন, তখন তাঁর নীচে যে বিছানা থাকতো, একটু পানি ছিটিয়ে ঝেড়ে দেয়ার জন্য আমাদের আদেশ করতেন। তারপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন এবং আমরাও তাঁর পেছনে দাঁড়াতাম। আর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। [৬১২৯; মুসলিম ৩৮/৫, হাঃ ২১৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫৭)
হাদিস নং: ৬২০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا خالد بن مخلد، حدثنا سليمان، قال حدثني ابو حازم، عن سهل بن سعد، قال ان كانت احب اسماء علي ـ رضى الله عنه ـ اليه لابو تراب، وان كان ليفرح ان يدعى بها، وما سماه ابو تراب الا النبي صلى الله عليه وسلم غاضب يوما فاطمة فخرج فاضطجع الى الجدار الى المسجد، فجاءه النبي صلى الله عليه وسلم يتبعه، فقال هو ذا مضطجع في الجدار فجاءه النبي صلى الله عليه وسلم وامتلا ظهره ترابا، فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يمسح التراب عن ظهره يقول " اجلس يا ابا تراب ".
৬২০৪. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’আলী (রাঃ) এর নিকট তাঁর নামগুলোর মধ্যে ’আবূ তুরাব’ কুন্ইয়াত ছিল সবচেয়ে অধিক প্রিয় এবং এ নামে ডাকলে তিনি খুব খুশী হতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই তাকে ’আবূ তুরাব’ কুন্ইয়াতে ডেকেছিলেন। একদিন তিনি ফাতেমাহ (রাঃ) এর সঙ্গে রাগ করে বেরিয়ে এসে মসজিদের দেয়ালের পাশে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তালাশ করছিলেন। এক ব্যক্তি বললঃ তিনি তো ওখানে দেয়ালের পাশে শুয়ে আছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে এমন হালতে পেলেন যে, তাঁর পিঠে ধূলাবালি লেগে আছে। তিনি তাঁর পিঠ থেকে ধূলা ঝাড়তে লাগলেন আর বলতে লাগলেনঃ হে আবূ তুরাব! উঠে বসো। [৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫৮)
হাদিস নং: ৬২০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، حدثنا ابو الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اخنى الاسماء يوم القيامة عند الله رجل تسمى ملك الاملاك ".
৬২০৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার কাছে কিয়ামতের দিনে ঐ লোকের নাম সবচেয়ে ঘৃণিত, যে তার নাম রেখেছে ’রাজাদের রাজা’। [৬২০৬; মুসলিম ৩৮/৪, হাঃ ২১৪৩, আহমাদ ৭৩৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৫৯)
হাদিস নং: ৬২০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، رواية قال " اخنع اسم عند الله ـ وقال سفيان غير مرة اخنع الاسماء عند الله ـ رجل تسمى بملك الاملاك ". قال سفيان يقول غيره تفسيره شاهان شاه.
৬২০৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে খারাপ নামধারী অথবা বলেছেন, সব নামের মধ্যে ঘৃণিত নাম হলো সে ব্যক্তির,যে ’রাজাদের রাজা’ নাম গ্রহণ করেছে।
সুফ্ইয়ান বলেন যে, অন্যেরা এর ব্যাখ্যা করেছেন, ’শাহান শাহ’। [৬২০৫; মুসলিম ৩৮/৪, হাঃ ২১৪৩, আহমাদ ৭৩৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৬০)
সুফ্ইয়ান বলেন যে, অন্যেরা এর ব্যাখ্যা করেছেন, ’শাহান শাহ’। [৬২০৫; মুসলিম ৩৮/৪, হাঃ ২১৪৩, আহমাদ ৭৩৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৬০)
হাদিস নং: ৬২০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، حدثنا اسماعيل، قال حدثني اخي، عن سليمان، عن محمد بن ابي عتيق، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، ان اسامة بن زيد ـ رضى الله عنهما ـ اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ركب على حمار عليه قطيفة فدكية واسامة وراءه، يعود سعد بن عبادة في بني حارث بن الخزرج قبل وقعة بدر، فسارا حتى مرا بمجلس فيه عبد الله بن ابى ابن سلول، وذلك قبل ان يسلم عبد الله بن ابى، فاذا في المجلس اخلاط من المسلمين والمشركين عبدة الاوثان واليهود، وفي المسلمين عبد الله بن رواحة، فلما غشيت المجلس عجاجة الدابة خمر ابن ابى انفه برداىه وقال لا تغبروا علينا. فسلم رسول الله صلى الله عليه وسلم عليهم، ثم وقف فنزل فدعاهم الى الله وقرا عليهم القران، فقال له عبد الله بن ابى ابن سلول ايها المرء لا احسن مما تقول ان كان حقا، فلا توذنا به في مجالسنا، فمن جاءك فاقصص عليه. قال عبد الله بن رواحة بلى يا رسول الله فاغشنا في مجالسنا فانا نحب ذلك. فاستب المسلمون والمشركون واليهود حتى كادوا يتثاورون فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يخفضهم حتى سكتوا، ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم دابته فسار حتى دخل على سعد بن عبادة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اى سعد الم تسمع ما قال ابو حباب ـ يريد عبد الله بن ابى ـ قال كذا وكذا ". فقال سعد بن عبادة اى رسول الله بابي انت، اعف عنه واصفح، فوالذي انزل عليك الكتاب لقد جاء الله بالحق الذي انزل عليك، ولقد اصطلح اهل هذه البحرة على ان يتوجوه ويعصبوه بالعصابة، فلما رد الله ذلك بالحق الذي اعطاك شرق بذلك فذلك فعل به ما رايت. فعفا عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه يعفون عن المشركين واهل الكتاب كما امرهم الله، ويصبرون على الاذى، قال الله تعالى (ولتسمعن من الذين اوتوا الكتاب) الاية، وقال (ود كثير من اهل الكتاب) فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتاول في العفو عنهم ما امره الله به حتى اذن له فيهم، فلما غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم بدرا، فقتل الله بها من قتل من صناديد الكفار، وسادة قريش، فقفل رسول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه منصورين غانمين معهم اسارى من صناديد الكفار وسادة قريش قال ابن ابى ابن سلول، ومن معه من المشركين عبدة الاوثان هذا امر قد توجه فبايعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم على الاسلام فاسلموا.
وَقَالَ مِسْوَرٌ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلميَقُوْلُ إِلاَّ أَنْ يُرِيدَ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ
মিসওয়ার (রাঃ) বলেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিন্তু যদি ইবনু আবূ তালিব চায়।
৬২০৭. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার উপর সাওয়ার ছিলেন। তখন তাঁর গায়ে একখানা ফাদাকী চাদর ছিল এবং তাঁর পেছনে উসামাহ বসাছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধের পূর্বে সা’দ ইবনু ’উবাদাহ (রাঃ) এর শুশ্রূষা করার উদ্দেশে হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্র অভিমুখে রওয়ানা হচ্ছিলেন। তাঁরা চলতে চলতে এক মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল ছিল। এটা ছিল ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উবাইর এর (প্রকাশ্যে) ইসলাম গ্রহণের আগের ঘটনা। মজলিসটি ছিল মিশ্রিত। এতে ছিলেন মুসলিম, মুশরিক, মূর্তিপূজকও ইয়াহূদী।
মুসলিমদের মধ্যে ’আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা ও ছিলেন। সাওয়ারীর চলার কারণে যখন উড়ন্ত ধূলাবালি মজলিসকে ঢেকে ফেলেছিল, তখন ইবনু উবাই তার চাদর দিয়ে তার নাক ঢেকে নিয়ে বললঃ তোমরা আমাদের উপর ধূলি উড়িওনা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সালাম করলেন এবং সাওয়ারী থামিয়ে নামলেন। তারপর তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দা’ওয়াত দিয়ে কুরআন পড়ে শোনালেন। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উবাই ইবনু সালূল তাঁকে বললঃ হে ব্যক্তি! আপনি যা বলেছেন যদি তা ঠিক হয়ে থাকে তবে তার চেয়ে উত্তম কথা আর কিছুই নেই। তবে আপনি আমাদের মজলিসসমূহে এসে আমাদের কষ্ট দিবেন না। যে আপনার কাছে যাবে, তাকেই আপনি নাসীহাত করবেন।
তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা বললেনঃ না, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের মজলিসসমূহে আসবেন। আমরা আপনার এ বক্তব্য পছন্দ করি। তখন মজলিসের মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহূদীরা পরস্পর গালমন্দ করতে লাগল। এমনকি তাদের মধ্যে হাঙ্গামা হবার জোগাড় হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিবৃত্ত করতে লাগলেন, অবশেষে তারা চুপ করল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সওয়ারীর উপর সওয়ার হয়ে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং সা’দ ইবনু ’উবাদাহ (রাঃ) এর নিকট পৌঁছলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সা’দ! আবূ হুবাব অর্থাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই আমাকে যা বলেছে, তা কি তুমি শোননি? সে এমন এমন কথা বলেছে।
তখন সা’দ ইবনু ’উবাদাহ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আপনার প্রতি কুরবান, আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার কথা ছেড়ে দিন। সেই সত্তার কসম! যিনি আপনার উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার তরফ থেকে আপনার প্রতি হক এমন সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যখন এই শহরের অধিবাসীরা পরস্পর পরামর্শ করে স্থির করেছিল যে, তারা তাকে রাজ মুকুট পরাবে এবং (রাজকীয়) পাগড়ী তার মাথায় বাঁধবে। কিন্তু যখন আল্লাহ আপনাকে যে সত্য দিয়েছেন তা দিয়ে সেই সিদ্ধান্তকে বানচাল করে দিলেন, তখন সে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। এজন্যই সে আপনার সাথে এ ধরনের আচরণ করেছে যা আপনি দেখছেন। তারপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। আর আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তো এমনিই মুশরিক ও কিতাবীদের ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের নির্যাতনে ধৈর্য ধারণ করতেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণীঃ ’’তোমরা নিশ্চয়ই তোমাদের আগের কিতাবধারীদের ও মুশরিকদের নিকট হতে দুঃখজনক অনেক কথা শুনবে.....। ’’ (সূরাহ আলে ’ইমরান ৩ঃ ১৮৬) শেষ পর্যন্ত। আল্লাহ আরো বলেছেন, ’’কিতাবীরা অনেকেই কামনা করে.....।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২ঃ ১০৯) তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাদের ক্ষমা করতে থাকেন। অবশেষে তাঁকে তাদের সাথে জিহাদ করার অনুমতি দেয়া হয়। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর অভিযান চালালেন, তখন এর মাধ্যমে আল্লাহ কাফির বীর পুরুষদের এবং কুরাইশ সরদারদের মধ্যে যারা নিহত হবার তাদের হত্যা করেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ বিজয় বেশে গনীমত নিয়ে ফিরলেন। তাঁদের সাথে কাফিরদের অনেক বাহাদুর ও কুরাইশদের অনেক নেতাও বন্দী হয়ে আসে। সে সময় ইবনু ’উবাই ইবনু সালূল ও তাঁর সাথী মূর্তিপূজক মুশরিকরা বললঃ এ ব্যাপার (অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম) তো প্রবল হয়ে পড়ছে। সুতরাং এখন তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে ইসলামের বায়’আত গ্রহণ কর। তারপর তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ করল। [২৯৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৬১)
মিসওয়ার (রাঃ) বলেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিন্তু যদি ইবনু আবূ তালিব চায়।
৬২০৭. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার উপর সাওয়ার ছিলেন। তখন তাঁর গায়ে একখানা ফাদাকী চাদর ছিল এবং তাঁর পেছনে উসামাহ বসাছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধের পূর্বে সা’দ ইবনু ’উবাদাহ (রাঃ) এর শুশ্রূষা করার উদ্দেশে হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্র অভিমুখে রওয়ানা হচ্ছিলেন। তাঁরা চলতে চলতে এক মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল ছিল। এটা ছিল ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উবাইর এর (প্রকাশ্যে) ইসলাম গ্রহণের আগের ঘটনা। মজলিসটি ছিল মিশ্রিত। এতে ছিলেন মুসলিম, মুশরিক, মূর্তিপূজকও ইয়াহূদী।
মুসলিমদের মধ্যে ’আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা ও ছিলেন। সাওয়ারীর চলার কারণে যখন উড়ন্ত ধূলাবালি মজলিসকে ঢেকে ফেলেছিল, তখন ইবনু উবাই তার চাদর দিয়ে তার নাক ঢেকে নিয়ে বললঃ তোমরা আমাদের উপর ধূলি উড়িওনা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সালাম করলেন এবং সাওয়ারী থামিয়ে নামলেন। তারপর তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দা’ওয়াত দিয়ে কুরআন পড়ে শোনালেন। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উবাই ইবনু সালূল তাঁকে বললঃ হে ব্যক্তি! আপনি যা বলেছেন যদি তা ঠিক হয়ে থাকে তবে তার চেয়ে উত্তম কথা আর কিছুই নেই। তবে আপনি আমাদের মজলিসসমূহে এসে আমাদের কষ্ট দিবেন না। যে আপনার কাছে যাবে, তাকেই আপনি নাসীহাত করবেন।
তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা বললেনঃ না, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের মজলিসসমূহে আসবেন। আমরা আপনার এ বক্তব্য পছন্দ করি। তখন মজলিসের মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহূদীরা পরস্পর গালমন্দ করতে লাগল। এমনকি তাদের মধ্যে হাঙ্গামা হবার জোগাড় হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিবৃত্ত করতে লাগলেন, অবশেষে তারা চুপ করল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সওয়ারীর উপর সওয়ার হয়ে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং সা’দ ইবনু ’উবাদাহ (রাঃ) এর নিকট পৌঁছলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সা’দ! আবূ হুবাব অর্থাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই আমাকে যা বলেছে, তা কি তুমি শোননি? সে এমন এমন কথা বলেছে।
তখন সা’দ ইবনু ’উবাদাহ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আপনার প্রতি কুরবান, আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার কথা ছেড়ে দিন। সেই সত্তার কসম! যিনি আপনার উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার তরফ থেকে আপনার প্রতি হক এমন সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যখন এই শহরের অধিবাসীরা পরস্পর পরামর্শ করে স্থির করেছিল যে, তারা তাকে রাজ মুকুট পরাবে এবং (রাজকীয়) পাগড়ী তার মাথায় বাঁধবে। কিন্তু যখন আল্লাহ আপনাকে যে সত্য দিয়েছেন তা দিয়ে সেই সিদ্ধান্তকে বানচাল করে দিলেন, তখন সে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। এজন্যই সে আপনার সাথে এ ধরনের আচরণ করেছে যা আপনি দেখছেন। তারপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। আর আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তো এমনিই মুশরিক ও কিতাবীদের ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের নির্যাতনে ধৈর্য ধারণ করতেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণীঃ ’’তোমরা নিশ্চয়ই তোমাদের আগের কিতাবধারীদের ও মুশরিকদের নিকট হতে দুঃখজনক অনেক কথা শুনবে.....। ’’ (সূরাহ আলে ’ইমরান ৩ঃ ১৮৬) শেষ পর্যন্ত। আল্লাহ আরো বলেছেন, ’’কিতাবীরা অনেকেই কামনা করে.....।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২ঃ ১০৯) তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাদের ক্ষমা করতে থাকেন। অবশেষে তাঁকে তাদের সাথে জিহাদ করার অনুমতি দেয়া হয়। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর অভিযান চালালেন, তখন এর মাধ্যমে আল্লাহ কাফির বীর পুরুষদের এবং কুরাইশ সরদারদের মধ্যে যারা নিহত হবার তাদের হত্যা করেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ বিজয় বেশে গনীমত নিয়ে ফিরলেন। তাঁদের সাথে কাফিরদের অনেক বাহাদুর ও কুরাইশদের অনেক নেতাও বন্দী হয়ে আসে। সে সময় ইবনু ’উবাই ইবনু সালূল ও তাঁর সাথী মূর্তিপূজক মুশরিকরা বললঃ এ ব্যাপার (অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম) তো প্রবল হয়ে পড়ছে। সুতরাং এখন তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে ইসলামের বায়’আত গ্রহণ কর। তারপর তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ করল। [২৯৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৬১)
হাদিস নং: ৬২০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، حدثنا عبد الملك، عن عبد الله بن الحارث بن نوفل، عن عباس بن عبد المطلب، قال يا رسول الله هل نفعت ابا طالب بشىء، فانه كان يحوطك ويغضب لك قال " نعم هو في ضحضاح من نار، لولا انا لكان في الدرك الاسفل من النار ".
৬২০৮. ’আব্বাস ইবনু ’আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আবূ তালিবের কোন উপকার করতে পেরেছেন? তিনি তো সব সময় আপনার হিফাযত করতেন এবং আপনার জন্য অন্যের উপর রাগ করতেন। তিনি বললেন, হাঁ। তিনি এখন জাহান্নামের হালকা স্তরে আছেন। যদি আমি না হতাম, তাহলে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকতেন। [৩৮৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৬২)
হাদিস নং: ৬২০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، عن ثابت البناني، عن انس بن مالك، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم في مسير له فحدا الحادي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ارفق يا انجشة، ويحك، بالقوارير ".
وَقَالَ إِسْحَاقُ سَمِعْتُ أَنَسًا مَاتَ ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ فَقَالَ كَيْفَ الْغُلاَمُ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ هَدَأَ نَفَسُهُ، وَأَرْجُو أَنْ يَكُونَ قَدِ اسْتَرَاحَ. وَظَنَّ أَنَّهَا صَادِقَةٌ
ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি। আবূ ত্বলহার একটি শিশুপুত্র মারা যায়। তিনি এসে (তার স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ ছেলেটি কেমন আছে? উম্মু সুলায়ম বললেনঃ সে শান্ত। আমি আশা করছি, সে আরামেই আছে। তিনি মনে করলেন যে, অবশ্য তিনি সত্য বলেছেন।
৬২০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মহিলাদের সহ) এক সফরে ছিলেন। হুদী গায়ক হুদী[1] গান গেয়ে চলেছিল। তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, আফসোস তোমার প্রতি ওহে আনজাশা! তুমি কাঁচপাত্র তুল্য সাওয়ারীদের সাথে সদয় হও। [৬১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৬৩)
ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি। আবূ ত্বলহার একটি শিশুপুত্র মারা যায়। তিনি এসে (তার স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ ছেলেটি কেমন আছে? উম্মু সুলায়ম বললেনঃ সে শান্ত। আমি আশা করছি, সে আরামেই আছে। তিনি মনে করলেন যে, অবশ্য তিনি সত্য বলেছেন।
৬২০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মহিলাদের সহ) এক সফরে ছিলেন। হুদী গায়ক হুদী[1] গান গেয়ে চলেছিল। তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, আফসোস তোমার প্রতি ওহে আনজাশা! তুমি কাঁচপাত্র তুল্য সাওয়ারীদের সাথে সদয় হও। [৬১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৬৩)
নোট: [1] উট হাঁকানোর তালে যে গান গাওয়া হয় তাকে হুদী বলে।