হাদিস নং: ৪০১
সহিহ (Sahih)
عثمان قال حدثنا جرير عن منصور عن ابراهيم عن علقمة قال قال عبد الله صلى النبي قال ابراهيم لا ادري زاد او نقص فلما سلم قيل له يا رسول الله صلى الله عليه وسلم احدث في الصلاة شيء قال وما ذاك قالوا صليت كذا وكذا فثنى رجليه واستقبل القبلة وسجد سجدتين ثم سلم فلما اقبل علينا بوجهه قال انه لو حدث في الصلاة شيء لنباتكم به ولكن انما انا بشر مثلكم انسى كما تنسون فاذا نسيت فذكروني واذا شك احدكم في صلاته فليتحر الصواب فليتم عليه ثم ليسلم ثم يسجد سجدتين.
৪০১. ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। রাবী ইব্রাহীম (রহ.) বলেনঃ আমার জানা নেই, তিনি বেশী করেছেন বা কম করেছেন। সালাম ফিরানোর পর তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতের মধ্যে নতুন কিছু হয়েছে কি? তিনি বললেনঃ তা কী? তাঁরা বললেনঃ আপনি তো এরূপ এরূপ সালাত আদায় করলেন। তিনি তখন তাঁর দু’পা ঘুরিয়ে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হলেন। আর দু’টি সিজদা আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরলেন। পরে তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ যদি সালাত সম্পর্কে নতুন কিছু হতো, তবে অবশ্যই তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম। কিন্তু আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সালাত সম্বন্ধে সন্দেহে পতিত হলে সে যেন নিঃসন্দেহ হবার চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী সালাত পূর্ণ করে। অতঃপর যেন সালাম ফিরিয়ে দু’টি সিজদা দেয়। (৪০৪, ১২২৬, ৬৬৭১, ৭২৪৯; মুসলিম ৫/১৯, হাঃ ৫৭২, ৪১৭৪ আহমাদ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২)
হাদিস নং: ৪০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن عون، قال حدثنا هشيم، عن حميد، عن انس، قال قال عمر وافقت ربي في ثلاث، فقلت يا رسول الله لو اتخذنا من مقام ابراهيم مصلى فنزلت (واتخذوا من مقام ابراهيم مصلى) واية الحجاب قلت يا رسول الله، لو امرت نساءك ان يحتجبن، فانه يكلمهن البر والفاجر. فنزلت اية الحجاب، واجتمع نساء النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم في الغيرة عليه فقلت لهن عسى ربه ان طلقكن ان يبدله ازواجا خيرا منكن. فنزلت هذه الاية.
قال ابو عبد الله و حدثنا ابن ابي مريم قال اخبرنا يحيى بن ايوب قال حدثني حميد قال سمعت انسا بهذا.
قال ابو عبد الله و حدثنا ابن ابي مريم قال اخبرنا يحيى بن ايوب قال حدثني حميد قال سمعت انسا بهذا.
وَقَدْ سَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رَكْعَتَيْ الظُّهْرِ وَأَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ ثُمَّ أَتَمَّ مَا بَقِيَ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে মুসল্লীগণের দিকে মুখ করলেন। অতঃপর বাকী সালাত পূর্ণ করলেন।
৪০২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর ওয়াহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাও’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১২৫)। (দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আপনার সহধর্মিণীগণকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাঁদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়। আর একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে একত্রে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাঁদেরকে বললামঃ ‘‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের ত্বলাক (তালাক) দেন, তাহলে তাঁর রব তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম অনুগত স্ত্রী দান করবেন’’- (সূরাহ্ তাহরীম ৬৬/৫)। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (৪৪৮৩, ৪৭৯০, ৪৯১৬)
অপর সনদে হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রাযি.) হতে অনুরূপ শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে মুসল্লীগণের দিকে মুখ করলেন। অতঃপর বাকী সালাত পূর্ণ করলেন।
৪০২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর ওয়াহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাও’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১২৫)। (দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আপনার সহধর্মিণীগণকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাঁদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়। আর একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে একত্রে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাঁদেরকে বললামঃ ‘‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের ত্বলাক (তালাক) দেন, তাহলে তাঁর রব তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম অনুগত স্ত্রী দান করবেন’’- (সূরাহ্ তাহরীম ৬৬/৫)। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (৪৪৮৩, ৪৭৯০, ৪৯১৬)
অপর সনদে হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রাযি.) হতে অনুরূপ শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩)
হাদিস নং: ৪০৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك بن انس عن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر قال بينا الناس بقباء في صلاة الصبح اذ جاءهم ات فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد انزل عليه الليلة قران وقد امر ان يستقبل الكعبة فاستقبلوها وكانت وجوههم الى الشام فاستداروا الى الكعبة.
৪০৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা লোকেরা কুবা নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন যে, এ রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হয়েছে। আর তাঁকে কা‘বামুখী হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই তোমারা কা‘বার দিকে মুখ কর। তখন তাঁদের চেহারা ছিল শামের (বায়তুল মুকাদ্দাসের) দিকে। একথা শুনে তাঁরা কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। (৪৪৮৮, ৪৪৯০, ৪৪৯১, ৪৪৯৩, ৪৪৯৪, ৭২৫১; মুসলিম ৫/২, হাঃ ৫২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪)
হাদিস নং: ৪০৪
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يحيى عن شعبة عن الحكم عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله قال صلى النبي الظهر خمسا فقالوا ازيد في الصلاة قال وما ذاك قالوا صليت خمسا فثنى رجليه وسجد سجدتين.
৪০৪. ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেন। তখন মুসল্লীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ সালাতে কি কিছু বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ তা কী? তারা বললেনঃ আপনি যে পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। রাবী বলেন, তিনি নিজের পা ঘুরিয়ে (ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে) দু’ সিজদা (সিজদা সাহু) করে নিলেন। (৪০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫)
হাদিস নং: ৪০৫
সহিহ (Sahih)
قتيبة قال حدثنا اسماعيل بن جعفر عن حميد عن انس بن مالك ان النبي راى نخامة في القبلة فشق ذلك عليه حتى رىي في وجهه فقام فحكه بيده فقال ان احدكم اذا قام في صلاته فانه يناجي ربه او ان ربه بينه وبين القبلة فلا يبزقن احدكم قبل قبلته ولكن عن يساره او تحت قدميه ثم اخذ طرف رداىه فبصق فيه ثم رد بعضه على بعض فقال او يفعل هكذا.
৪০৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে (দেয়ালে) ‘কফ’ দেখলেন। এটা তাঁর নিকট কষ্টদায়ক মনে হলো। এমনকি তাঁর চেহারায় তা ফুটে উঠলো। তিনি উঠে গিয়ে তা হাত দিয়ে পরিষ্কার করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন সে তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে। অথবা বলেছেন, তার ও ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর মাঝখানে তার রব আছেন। কাজেই, তোমাদের কেউ যেন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে থুথু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নীচে তা ফেলে। অতঃপর চাদরের আঁচল নিয়ে তাতে তিনি থুথু ফেললেন এবং তার এক অংশকে অন্য অংশের উপর ভাঁজ করলেন এবং বললেনঃ অথবা সে এমন করবে। (২৪১; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৫১, আহমাদ ১২৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৬)
হাদিস নং: ৪০৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى بصاقا في جدار القبلة فحكه ثم اقبل على الناس فقال اذا كان احدكم يصلي فلا يبصق قبل وجهه فان الله قبل وجهه اذا صلى.
৪০৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকের দেওয়ালে থুথু দেখে তা পরিষ্কার করে দিলেন। অতঃপর লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। কেননা, সে যখন সালাত আদায় করে তখন তার সামনের দিকে আল্লাহ তা‘আলা থাকেন। (৭৫৩, ১২১৩, ৬১১১; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৪৭, আহমাদ ৪৮৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৭)
হাদিস নং: ৪০৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة ام المومنين ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى في جدار القبلة مخاطا او بصاقا او نخامة فحكه.
৪০৭. উম্মুল ‘মুমিনীন ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকের দেয়ালে নাকের শ্লেষ্মা, থুথু কিংবা কফ দেখলেন এবং তা পরিষ্কার করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৮)
হাদিস নং: ৪০৮
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل قال اخبرنا ابراهيم بن سعد اخبرنا ابن شهاب عن حميد بن عبد الرحمن ان ابا هريرة وابا سعيد حدثاه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى نخامة في جدار المسجد فتناول حصاة فحكها فقال اذا تنخم احدكم فلا يتنخمن قبل وجهه ولا عن يمينه وليبصق عن يساره او تحت قدمه اليسرى.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنْ وَطِئْتَ عَلَى قَذَرٍ رَطْبٍ فَاغْسِلْهُ وَإِنْ كَانَ يَابِسًا فَلاَ.
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বলেছেনঃ যদি আর্দ্র আবর্জনায় তোমার পা ফেল, তখন তা ধুয়ে ফেলবে, আর শুকনো হলে ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
৪০৮-৪০৯. আবূ হুরাইরাহ্ ও আবূ সা’ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখে কাঁকর নিয়ে তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন সামনের দিকে অথবা ডান দিকে কফ না ফেলে, বরং সে যেন তা তার বাম দিকে অথবা তার বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪১০, ৪১১, ৪১৪, ৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯)
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বলেছেনঃ যদি আর্দ্র আবর্জনায় তোমার পা ফেল, তখন তা ধুয়ে ফেলবে, আর শুকনো হলে ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
৪০৮-৪০৯. আবূ হুরাইরাহ্ ও আবূ সা’ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখে কাঁকর নিয়ে তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন সামনের দিকে অথবা ডান দিকে কফ না ফেলে, বরং সে যেন তা তার বাম দিকে অথবা তার বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪১০, ৪১১, ৪১৪, ৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯)
হাদিস নং: ৪০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال اخبرنا ابراهيم بن سعد، اخبرنا ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة، وابا، سعيد حدثاه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى نخامة في جدار المسجد، فتناول حصاة فحكها فقال " اذا تنخم احدكم فلا يتنخمن قبل وجهه ولا عن يمينه، وليبصق عن يساره او تحت قدمه اليسرى ".
৪০৮-৪০৯. আবূ হুরাইরাহ্ ও আবূ সা‘ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখে কাঁকর নিয়ে তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন সামনের দিকে অথবা ডান দিকে কফ না ফেলে, বরং সে যেন তা তার বাম দিকে অথবা তার বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪১০, ৪১১, ৪১৪, ৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯)
হাদিস নং: ৪১০
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير قال حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن حميد بن عبد الرحمن ان ابا هريرة وابا سعيد اخبراه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى نخامة في حاىط المسجد فتناول رسول الله صلى الله عليه وسلم حصاة فحتها ثم قال اذا تنخم احدكم فلا يتنخم قبل وجهه ولا عن يمينه وليبصق عن يساره او تحت قدمه اليسرى.
৪১০-৪১১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) ও আবূ সা’ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু কাঁকর নিলেন এবং তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ কফ ফেললে তা যেন সে সামনে অথবা ডানে না ফেলে। বরং সে বাম দিকে কিংবা বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪০৮, ৪০৯; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৪৮, আহমাদ ১১০২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০)
হাদিস নং: ৪১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، قال حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة، وابا، سعيد اخبراه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى نخامة في حاىط المسجد، فتناول رسول الله صلى الله عليه وسلم حصاة فحتها ثم قال " اذا تنخم احدكم فلا يتنخم قبل وجهه ولا عن يمينه، وليبصق عن يساره، او تحت قدمه اليسرى ".
৪১০-৪১১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) ও আবূ সা‘ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু কাঁকর নিলেন এবং তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ কফ ফেললে তা যেন সে সামনে অথবা ডানে না ফেলে। বরং সে বাম দিকে কিংবা বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪০৮, ৪০৯; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৪৮, আহমাদ ১১০২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০)
হাদিস নং: ৪১২
সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر قال حدثنا شعبة قال اخبرني قتادة قال سمعت انس بن مالك قال قال النبي لا يتفلن احدكم بين يديه ولا عن يمينه ولكن عن يساره او تحت رجله.
৪১২. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার সামনে বা ডানে থুথু নিক্ষেপ না করে; বরং তার বামে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলে। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১)
হাদিস নং: ৪১৩
সহিহ (Sahih)
ادم قال حدثنا شعبة قال حدثنا قتادة قال سمعت انس بن مالك قال قال النبي ان المومن اذا كان في الصلاة فانما يناجي ربه فلا يبزقن بين يديه ولا عن يمينه ولكن عن يساره او تحت قدمه.
৪১৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন যখন সালাতে থাকে, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে নিভৃতে কথা বলে। কাজেই সে যেন তার সামনে, ডানে থুথু না ফেলে, বরং তার বাম দিকে অথবা (বাম) পায়ের নীচে ফেলে। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০২)
হাদিস নং: ৪১৪
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله قال حدثنا سفيان حدثنا الزهري عن حميد بن عبد الرحمن عن ابي سعيد ان النبي ابصر نخامة في قبلة المسجد فحكها بحصاة ثم نهى ان يبزق الرجل بين يديه او عن يمينه ولكن عن يساره او تحت قدمه اليسرى وعن الزهري سمع حميدا عن ابي سعيد نحوه.
৪১৪. আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মসজিদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকের দেয়ালে কফ দেখলেন, তখন তিনি কাঁকর দিয়ে তা মুছে দিলেন। অতঃপর সামনের দিকে অথবা ডান দিকে থুথু ফেলতে নিষেধ করলেন। কিন্তু (প্রয়োজনে) বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নীচে ফেলতে বললেন। যুহরী (রহ.) হুমাইদ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে অনুরূপ রিওয়ায়াত আছে। (৪০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩)
হাদিস নং: ৪১৫
সহিহ (Sahih)
ادم قال حدثنا شعبة قال حدثنا قتادة قال سمعت انس بن مالك قال قال النبي البزاق في المسجد خطيىة وكفارتها دفنها.
৪১৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহের কাজ, আর তার কাফফারাহ (প্রতিকার) হচ্ছে তা দাবিয়ে দেয়া (মুছে ফেলা)। (মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৫২, আহমাদ ১২৭৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪)
হাদিস নং: ৪১৬
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر قال حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن همام سمع ابا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا قام احدكم الى الصلاة فلا يبصق امامه فانما يناجي الله ما دام في مصلاه ولا عن يمينه فان عن يمينه ملكا وليبصق عن يساره او تحت قدمه فيدفنها.
৪১৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ালে সে তার সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। কেননা সে যতক্ষণ তার মুসল্লায় থাকে, ততক্ষণ মহান আল্লাহর সাথে চুপে চুপে কথা বলে। আর ডান দিকেও ফেলবে না। তার ডান দিকে থাকেন ফেরেশতা। সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নীচে থুথু ফেলে এবং পরে তা দাবিয়ে দেয়। (৪০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৫)
হাদিস নং: ৪১৭
সহিহ (Sahih)
مالك بن اسماعيل قال حدثنا زهير قال حدثنا حميد عن انس بن مالك ان النبي راى نخامة في القبلة فحكها بيده ورىي منه كراهية او رىي كراهيته لذلك وشدته عليه وقال ان احدكم اذا قام في صلاته فانما يناجي ربه او ربه بينه وبين قبلته فلا يبزقن في قبلته ولكن عن يساره او تحت قدمه ثم اخذ طرف رداىه فبزق فيه ورد بعضه على بعض قال او يفعل هكذا.
৪১৭. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে (দেয়ালে) কফ দেখে তা নিজ হাতে মুছে ফেললেন আর তাঁর চেহারায় অসন্তোষ প্রকাশ পেল। বা সে কারণে তাঁর চেহারায় অসন্তোষ প্রকাশ পেলো এবং এর প্রতি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ পেল। তিনি বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে চুপে চুপে কথা বলে। অথবা (বলেছেন) তখন তার প্রতিপালক, ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ ও তার মাঝখানে থাকেন। কাজেই সে যেন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে থুথু না ফেলে, বরং (প্রয়োজনে) তার বাম দিকে বা পায়ের নীচে ফেলবে। অতঃপর তিনি চাদরের কোণ ধরে তাতে থুথু ফেলে এক অংশের উপর অপর অংশ ভাঁজ করে দিলেন এবং বললেনঃ অথবা এমন করবে। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৬)
হাদিস নং: ৪১৮
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هل ترون قبلتي ها هنا فوالله ما يخفى علي خشوعكم ولا ركوعكم اني لاراكم من وراء ظهري.
৪১৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি মনে কর যে, আমার দৃষ্টি (কেবল) ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে? আল্লাহর কসম! আমার নিকট তোমাদের খূশু’ (বিনয়) ও রুকূ’ কিছুই গোপন থাকে না। অবশ্যই আমি আমার পেছন হতেও তোমাদের দেখতে পাই। (৭৪১; মুসলিম ৪/২৪, হাঃ ৪২৪, আহমাদ ৮০৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৭)
হাদিস নং: ৪১৯
সহিহ (Sahih)
يحيى بن صالح قال حدثنا فليح بن سليمان عن هلال بن علي عن انس بن مالك قال صلى بنا النبي صلاة ثم رقي المنبر فقال في الصلاة وفي الركوع اني لاراكم من وراىي كما اراكم.
৪১৯. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বারে উঠলেন এবং ইরশাদ করলেনঃ তোমাদের সালাতে ও রুকূ‘তে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আমার পেছন হতে দেখে থাকি, যেমন এখন তোমাদেরকে দেখতে পাচ্ছি। (৭৪২, ৬৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৮)
হাদিস নং: ৪২০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سابق بين الخيل التي اضمرت من الحفياء وامدها ثنية الوداع وسابق بين الخيل التي لم تضمر من الثنية الى مسجد بني زريق وان عبد الله بن عمر كان فيمن سابق بها.
৪২০. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের জন্যে তৈরি ঘোড়াকে ‘হাফ্য়া’ (নামক স্থান) হতে ‘সানিয়াতুল ওয়াদা’ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর যে ঘোড়া যুদ্ধের জন্যে তৈরি নয়, সে ঘোড়াকে ‘সানিয়া’ হতে যুরাইক গোত্রের মাসজিদ পর্যন্ত দৌঁড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর এই প্রতিযোগিতায় ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) অগ্রগামী ছিলেন। (২৮৬৮, ২৮৬৯, ২৮৭০, ৭৩৩৬; মুসলিম ৩৩/২৫, হাঃ ১৮৭০, আহমাদ ৪৪৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯)