হাদিস নং: ৩৮৯
সহিহ (Sahih)
اخبرنا الصلت بن محمد اخبرنا مهدي عن واصل عن ابي واىل عن حذيفة راى رجلا لا يتم ركوعه ولا سجوده فلما قضى صلاته قال له حذيفة ما صليت قال واحسبه قال لو مت مت على غير سنة محمد صلى الله عليه وسلم .
৩৮৯. হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার রুকু-সিজদা পুরোপুরি আদায় করছিল না। সে যখন সালাত শেষ করলো তখন তাকে হুযাইফাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমার সালাত ঠিক হয়নি। রাবী বলেনঃ আমার মনে হয় তিনি (হুযাইফাহ) এ কথাও বলেছেন, (এ অবস্থায়) তোমার মৃত্যু হলে তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তরীকার বাইরে হবে। (৭৯১, ৮০৮ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২)
হাদিস নং: ৩৯০
সহিহ (Sahih)
اخبرنا يحيى بن بكير حدثنا بكر بن مضر عن جعفر بن ربيعة عن ابن هرمز عن عبد الله بن مالك ابن بحينة ان النبي كان اذا صلى فرج بين يديه حتى يبدو بياض ابطيه وقال الليث حدثني جعفر بن ربيعة نحوه.
৩৯০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সময় উভয় বাহু পৃথক রাখতেন। এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো। লাইস (রহ.) বলেনঃ জা’ফর ইবনু রবী‘আহ্ (রহ.) আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৮০৭, ৩৫৬৪; মুসলিম ৪/৪৫, হাঃ ৪৯৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৩৭৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৩)৩৯০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সময় উভয় বাহু পৃথক রাখতেন। এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো। লাইস (রহ.) বলেনঃ জা’ফর ইবনু রবী‘আহ্ (রহ.) আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৮০৭, ৩৫৬৪; মুসলিম ৪/৪৫, হাঃ ৪৯৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৩৭৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৩)
হাদিস নং: ৩৯১
সহিহ (Sahih)
عمرو بن عباس قال حدثنا ابن المهدي قال حدثنا منصور بن سعد عن ميمون بن سياه عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صلى صلاتنا واستقبل قبلتنا واكل ذبيحتنا فذلك المسلم الذي له ذمة الله وذمة رسوله فلا تخفروا الله في ذمته.
يَسْتَقْبِلُ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
আবূ হুমায়দ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩৯১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করে, আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয় আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সে-ই মুসলিম, যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যিম্মাদার। সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে বিশ্বাসঘাতকতা করো না। (৩৯২, ৩৯৩ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৪)
আবূ হুমায়দ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩৯১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করে, আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয় আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সে-ই মুসলিম, যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যিম্মাদার। সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে বিশ্বাসঘাতকতা করো না। (৩৯২, ৩৯৩ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৪)
হাদিস নং: ৩৯২
সহিহ (Sahih)
نعيم قال حدثنا ابن المبارك عن حميد الطويل عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فاذا قالوها وصلوا صلاتنا واستقبلوا قبلتنا وذبحوا ذبيحتنا فقد حرمت علينا دماوهم واموالهم الا بحقها وحسابهم على الله
৩৯২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে লোকের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’’ স্বীকার করবে। যখন তারা তা স্বীকার করে নেয়, আমাদের মত সালাত আদায় করে, আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয় এবং আমাদের যবহ করা প্রাণী খায়, তখন তাদের জান-মালসমূহ আমাদের জন্যে হারাম হয়ে যায়। অবশ্য রক্তের বা সম্পদের দাবীর কথা ভিন্ন। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৫)
হাদিস নং: ৩৯৩
সহিহ (Sahih)
قال ابن ابي مريم اخبرنا يحيى بن ايوب حدثنا حميد حدثنا انس عن النبي صلى الله عليه وسلم وقال علي بن عبد الله حدثنا خالد بن الحارث قال حدثنا حميد قال سال ميمون بن سياه انس بن مالك قال يا ابا حمزة ما يحرم دم العبد وماله فقال من شهد ان لا اله الا الله واستقبل قبلتنا وصلى صلاتنا واكل ذبيحتنا فهو المسلم له ما للمسلم وعليه ما على المسلم.
৩৯৩. ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হুমায়দ হতে (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মায়মূন ইবনু সিয়াহ আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবূ হামযাহ! কিসে মানুষের জান-মাল হারাম হয়? তিনি জবাব দিলেন, যে ব্যক্তি ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্’র সাক্ষ্য দেয়, আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়, আমাদের মত সালাত আদায় করে, আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সেই মুসলিম। অন্য মুসলিমের মতই তার অধিকার রয়েছে। আর অন্য মুসলিমদের মতই তাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে। ইবনু আবূ মারইয়াম, ইয়াহ্ইয়া ইবনু আয়ুব (রহ.).....আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (অনুরূপ) বর্ণনা করেন। (৩৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৫ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৯৪
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله قال حدثنا سفيان قال حدثنا الزهري عن عطاء بن يزيد الليثي عن ابي ايوب الانصاري ان النبي قال اذا اتيتم الغاىط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها ولكن شرقوا او غربوا
قال ابو ايوب فقدمنا الشام فوجدنا مراحيض بنيت قبل القبلة فننحرف ونستغفر الله تعالى وعن الزهري عن عطاء قال سمعت ابا ايوب عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.
قال ابو ايوب فقدمنا الشام فوجدنا مراحيض بنيت قبل القبلة فننحرف ونستغفر الله تعالى وعن الزهري عن عطاء قال سمعت ابا ايوب عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.
لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পায়খানা বা পেশাব করতে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হবে না, বরং তোমরা (উত্তর অঞ্চলের অধিবাসীরা) পূর্বদিকে কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরাবে।
৩৯৪. আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা পায়খানা করতে যাও, তখন ক্বিবলাহর (কিবলা/কেবলা) দিকে মুখ করবে না কিংবা পিঠও দিবে না, বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে।
আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযি.) বলেনঃ আমরা যখন সিরিয়ায় এলাম তখন পায়খানাগুলো ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী বানানো পেলাম। আমরা কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহ তা’আলার নিকট তওবা ইসতিগফার করতাম। যুহরী (রহ.) ’আত্বা (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমি আবূ আইয়ূব (রাযি.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। (১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৬)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পায়খানা বা পেশাব করতে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হবে না, বরং তোমরা (উত্তর অঞ্চলের অধিবাসীরা) পূর্বদিকে কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরাবে।
৩৯৪. আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা পায়খানা করতে যাও, তখন ক্বিবলাহর (কিবলা/কেবলা) দিকে মুখ করবে না কিংবা পিঠও দিবে না, বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে।
আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযি.) বলেনঃ আমরা যখন সিরিয়ায় এলাম তখন পায়খানাগুলো ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী বানানো পেলাম। আমরা কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহ তা’আলার নিকট তওবা ইসতিগফার করতাম। যুহরী (রহ.) ’আত্বা (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমি আবূ আইয়ূব (রাযি.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। (১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৬)
হাদিস নং: ৩৯৫
সহিহ (Sahih)
الحميدي قال حدثنا سفيان قال حدثنا عمرو بن دينار قال سالنا ابن عمر عن رجل طاف بالبيت العمرة ولم يطف بين الصفا والمروة اياتي امراته فقال قدم النبي فطاف بالبيت سبعا وصلى خلف المقام ركعتين وطاف بين الصفا والمروة صلى الله عليه وسلموقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة
৩৯৫. ‘আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) বলেনঃ আমরা ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম- যে ব্যক্তি ‘উমরাহর ন্যায় বাইতুল্লাহর ত্বওয়াফ করেছে কিন্তু সাফা-মারওয়ায় সা‘ঈ করে নি, সে কি তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করতে পারবে? তিনি জবাব দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন, মাকামে ইবরাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন আর সাফা-মারওয়ায় সা‘ঈ করেছেন। তোমাদের জন্যে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (১৬২৩, ১৬২৭, ১৬৪৫, ১৬৪৭, ১৭৯৩ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৭)
হাদিস নং: ৩৯৬
সহিহ (Sahih)
وسالنا جابر بن عبد الله فقال لا يقربنها حتى يطوف بين الصفا والمروة
৩৯৬. আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি বলেছেনঃ সাফা-মারওয়ায় সা‘ঈ করার আগ পর্যন্ত স্ত্রীর নিকটবর্তী (সহবাস) হবে না। (১৬২৪, ১৬৪৬, ১৭৯৪; মুসলিম ১৫/২৮, হাঃ ১২৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৭ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৯৭
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يحيى عن سيف يعني ابن سليمان قال سمعت مجاهدا قال اتي ابن عمر فقيل له هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل الكعبة فقال ابن عمر فاقبلت والنبي قد خرج واجد بلالا قاىما بين البابين فسالت بلالا فقلت اصلى النبي في الكعبة قال نعم ركعتين بين الساريتين اللتين على يساره اذا دخلت ثم خرج فصلى في وجه الكعبة ركعتين.
৩৯৭. মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর নিকট এলেন, এবং বললেনঃ ইনি হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , তিনি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেছেন। ইবনু ‘উমার বলেনঃ আমি সেদিকে এগিয়ে গেলাম এবং দেখলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বা হতে বেরিয়ে পড়েছেন। আমি বিলাল (রাযি.)-কে দুই কপাটের মাঝখানে দাঁড়ানো দেখে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কা‘বা ঘরের অভ্যন্তরে সালাত আদায় করেছেন? তিনি জবাব দিলেন, হাঁ, কা‘বায় প্রবেশ করার সময় তোমার বাঁ দিকের দুই স্তম্ভের মাঝখানে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং কা‘বার সামনে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। (৪৬৮, ৫০৪, ৫০৫, ৫০৬, ১১৬৭, ১৫৯৮, ১৫৯৯, ২৯৮৮, ৪২৮৯, ৪৪০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৩৮২ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮)
হাদিস নং: ৩৯৮
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر قال حدثنا عبد الرزاق اخبرنا ابن جريج عن عطاء قال سمعت ابن عباس قال لما دخل النبي البيت دعا في نواحيه كلها ولم يصل حتى خرج منه فلما خرج ركع ركعتين في قبل الكعبة وقال هذه القبلة.
৩৯৮. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বায় প্রবেশ করেন, তখন তার সকল দিকে দু‘আ করেছেন, সালাত আদায় না করেই বেরিয়ে এসেছেন এবং বের হবার পর কা‘বার সামনে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন, এবং বলেছেন, এটাই ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ। (১৬০১, ৩৩৫১, ৩৩৫২, ৪২২৮; মুসলিম ১৫/৬৮ হাঃ ১৩৩০, আহমাদ ২১৮১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯)
হাদিস নং: ৩৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن رجاء، قال حدثنا اسراىيل، عن ابي اسحاق، عن البراء بن عازب ـ رضى الله عنهما ـ قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى نحو بيت المقدس ستة عشر او سبعة عشر شهرا، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب ان يوجه الى الكعبة، فانزل الله (قد نرى تقلب وجهك في السماء) فتوجه نحو الكعبة، وقال السفهاء من الناس ـ وهم اليهود ـ ما ولاهم عن قبلتهم التي كانوا عليها (قل لله المشرق والمغرب يهدي من يشاء الى صراط مستقيم) فصلى مع النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رجل ثم خرج بعد ما صلى، فمر على قوم من الانصار في صلاة العصر نحو بيت المقدس فقال هو يشهد انه صلى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، وانه توجه نحو الكعبة. فتحرف القوم حتى توجهوا نحو الكعبة.
وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَكَبِّرْ
আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ্কে সামনে কর এবং তাকবীর বল।
৩৯৯. বারাআ ’ইবনু ’আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল মুকাদ্দাসমুখী হয়ে ষোল বা সতের মাস সালাত আদায় করেছেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার দিকে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ করা পছন্দ করতেন। মহান আল্লাহ নাযিল করেনঃ ’’আকাশের দিকে আপনার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করছি’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৪)। অতঃপর তিনি কা’বার দিকে মুখ করেন। আর নির্বোধ লোকেরা- তারা ইয়াহুদী- বলতো, ’’তারা এ যাবত যে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ অনুসরণ করে আসছিলো, তা হতে কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল? বলুনঃ (হে নবী) পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১৪২)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে এক ব্যক্তি সালাত আদায় করলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। তিনি আসরের সালাতের সময় আনসারগণের এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ (তিনি নিজেই) সাক্ষী যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তিনি সালাত আদায় করেছেন, আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার দিকে মুখ করেছেন। তখন সে গোত্রের লোকজন ঘুরে কা’বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। (৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০)
আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ্কে সামনে কর এবং তাকবীর বল।
৩৯৯. বারাআ ’ইবনু ’আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল মুকাদ্দাসমুখী হয়ে ষোল বা সতের মাস সালাত আদায় করেছেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার দিকে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ করা পছন্দ করতেন। মহান আল্লাহ নাযিল করেনঃ ’’আকাশের দিকে আপনার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করছি’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৪)। অতঃপর তিনি কা’বার দিকে মুখ করেন। আর নির্বোধ লোকেরা- তারা ইয়াহুদী- বলতো, ’’তারা এ যাবত যে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ অনুসরণ করে আসছিলো, তা হতে কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল? বলুনঃ (হে নবী) পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১৪২)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে এক ব্যক্তি সালাত আদায় করলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। তিনি আসরের সালাতের সময় আনসারগণের এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ (তিনি নিজেই) সাক্ষী যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তিনি সালাত আদায় করেছেন, আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার দিকে মুখ করেছেন। তখন সে গোত্রের লোকজন ঘুরে কা’বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। (৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০)
হাদিস নং: ৪০০
সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم قال حدثنا هشام بن ابي عبد الله قال حدثنا يحيى بن ابي كثير عن محمد بن عبد الرحمن عن جابر بن عبد الله قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي على راحلته حيث توجهت فاذا اراد الفريضة نزل فاستقبل القبلة.
৪০০. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সওয়ারীর উপর (নফল) সালাত আদায় করতেন- সওয়ারী তাঁকে নিয়ে যে দিকেই মুখ করত না কেন। কিন্তু যখন ফরজ সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতেন, তখন নেমে পড়তেন এবং ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হতেন। (১০৯৪, ১০৯৯, ৪১৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১)
হাদিস নং: ৪০১
সহিহ (Sahih)
عثمان قال حدثنا جرير عن منصور عن ابراهيم عن علقمة قال قال عبد الله صلى النبي قال ابراهيم لا ادري زاد او نقص فلما سلم قيل له يا رسول الله صلى الله عليه وسلم احدث في الصلاة شيء قال وما ذاك قالوا صليت كذا وكذا فثنى رجليه واستقبل القبلة وسجد سجدتين ثم سلم فلما اقبل علينا بوجهه قال انه لو حدث في الصلاة شيء لنباتكم به ولكن انما انا بشر مثلكم انسى كما تنسون فاذا نسيت فذكروني واذا شك احدكم في صلاته فليتحر الصواب فليتم عليه ثم ليسلم ثم يسجد سجدتين.
৪০১. ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। রাবী ইব্রাহীম (রহ.) বলেনঃ আমার জানা নেই, তিনি বেশী করেছেন বা কম করেছেন। সালাম ফিরানোর পর তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতের মধ্যে নতুন কিছু হয়েছে কি? তিনি বললেনঃ তা কী? তাঁরা বললেনঃ আপনি তো এরূপ এরূপ সালাত আদায় করলেন। তিনি তখন তাঁর দু’পা ঘুরিয়ে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হলেন। আর দু’টি সিজদা আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরলেন। পরে তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ যদি সালাত সম্পর্কে নতুন কিছু হতো, তবে অবশ্যই তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম। কিন্তু আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সালাত সম্বন্ধে সন্দেহে পতিত হলে সে যেন নিঃসন্দেহ হবার চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী সালাত পূর্ণ করে। অতঃপর যেন সালাম ফিরিয়ে দু’টি সিজদা দেয়। (৪০৪, ১২২৬, ৬৬৭১, ৭২৪৯; মুসলিম ৫/১৯, হাঃ ৫৭২, ৪১৭৪ আহমাদ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২)
হাদিস নং: ৪০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن عون، قال حدثنا هشيم، عن حميد، عن انس، قال قال عمر وافقت ربي في ثلاث، فقلت يا رسول الله لو اتخذنا من مقام ابراهيم مصلى فنزلت (واتخذوا من مقام ابراهيم مصلى) واية الحجاب قلت يا رسول الله، لو امرت نساءك ان يحتجبن، فانه يكلمهن البر والفاجر. فنزلت اية الحجاب، واجتمع نساء النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم في الغيرة عليه فقلت لهن عسى ربه ان طلقكن ان يبدله ازواجا خيرا منكن. فنزلت هذه الاية.
قال ابو عبد الله و حدثنا ابن ابي مريم قال اخبرنا يحيى بن ايوب قال حدثني حميد قال سمعت انسا بهذا.
قال ابو عبد الله و حدثنا ابن ابي مريم قال اخبرنا يحيى بن ايوب قال حدثني حميد قال سمعت انسا بهذا.
وَقَدْ سَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رَكْعَتَيْ الظُّهْرِ وَأَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ ثُمَّ أَتَمَّ مَا بَقِيَ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে মুসল্লীগণের দিকে মুখ করলেন। অতঃপর বাকী সালাত পূর্ণ করলেন।
৪০২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর ওয়াহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাও’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১২৫)। (দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আপনার সহধর্মিণীগণকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাঁদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়। আর একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে একত্রে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাঁদেরকে বললামঃ ‘‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের ত্বলাক (তালাক) দেন, তাহলে তাঁর রব তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম অনুগত স্ত্রী দান করবেন’’- (সূরাহ্ তাহরীম ৬৬/৫)। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (৪৪৮৩, ৪৭৯০, ৪৯১৬)
অপর সনদে হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রাযি.) হতে অনুরূপ শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে মুসল্লীগণের দিকে মুখ করলেন। অতঃপর বাকী সালাত পূর্ণ করলেন।
৪০২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর ওয়াহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান বানাও’’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১২৫)। (দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আপনার সহধর্মিণীগণকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাঁদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়। আর একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে একত্রে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাঁদেরকে বললামঃ ‘‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের ত্বলাক (তালাক) দেন, তাহলে তাঁর রব তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম অনুগত স্ত্রী দান করবেন’’- (সূরাহ্ তাহরীম ৬৬/৫)। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (৪৪৮৩, ৪৭৯০, ৪৯১৬)
অপর সনদে হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রাযি.) হতে অনুরূপ শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩)
হাদিস নং: ৪০৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك بن انس عن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر قال بينا الناس بقباء في صلاة الصبح اذ جاءهم ات فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد انزل عليه الليلة قران وقد امر ان يستقبل الكعبة فاستقبلوها وكانت وجوههم الى الشام فاستداروا الى الكعبة.
৪০৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা লোকেরা কুবা নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন যে, এ রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হয়েছে। আর তাঁকে কা‘বামুখী হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই তোমারা কা‘বার দিকে মুখ কর। তখন তাঁদের চেহারা ছিল শামের (বায়তুল মুকাদ্দাসের) দিকে। একথা শুনে তাঁরা কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। (৪৪৮৮, ৪৪৯০, ৪৪৯১, ৪৪৯৩, ৪৪৯৪, ৭২৫১; মুসলিম ৫/২, হাঃ ৫২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪)
হাদিস নং: ৪০৪
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يحيى عن شعبة عن الحكم عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله قال صلى النبي الظهر خمسا فقالوا ازيد في الصلاة قال وما ذاك قالوا صليت خمسا فثنى رجليه وسجد سجدتين.
৪০৪. ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেন। তখন মুসল্লীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ সালাতে কি কিছু বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ তা কী? তারা বললেনঃ আপনি যে পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। রাবী বলেন, তিনি নিজের পা ঘুরিয়ে (ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে) দু’ সিজদা (সিজদা সাহু) করে নিলেন। (৪০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫)
হাদিস নং: ৪০৫
সহিহ (Sahih)
قتيبة قال حدثنا اسماعيل بن جعفر عن حميد عن انس بن مالك ان النبي راى نخامة في القبلة فشق ذلك عليه حتى رىي في وجهه فقام فحكه بيده فقال ان احدكم اذا قام في صلاته فانه يناجي ربه او ان ربه بينه وبين القبلة فلا يبزقن احدكم قبل قبلته ولكن عن يساره او تحت قدميه ثم اخذ طرف رداىه فبصق فيه ثم رد بعضه على بعض فقال او يفعل هكذا.
৪০৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে (দেয়ালে) ‘কফ’ দেখলেন। এটা তাঁর নিকট কষ্টদায়ক মনে হলো। এমনকি তাঁর চেহারায় তা ফুটে উঠলো। তিনি উঠে গিয়ে তা হাত দিয়ে পরিষ্কার করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন সে তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে। অথবা বলেছেন, তার ও ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর মাঝখানে তার রব আছেন। কাজেই, তোমাদের কেউ যেন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে থুথু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নীচে তা ফেলে। অতঃপর চাদরের আঁচল নিয়ে তাতে তিনি থুথু ফেললেন এবং তার এক অংশকে অন্য অংশের উপর ভাঁজ করলেন এবং বললেনঃ অথবা সে এমন করবে। (২৪১; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৫১, আহমাদ ১২৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৬)
হাদিস নং: ৪০৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى بصاقا في جدار القبلة فحكه ثم اقبل على الناس فقال اذا كان احدكم يصلي فلا يبصق قبل وجهه فان الله قبل وجهه اذا صلى.
৪০৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকের দেওয়ালে থুথু দেখে তা পরিষ্কার করে দিলেন। অতঃপর লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। কেননা, সে যখন সালাত আদায় করে তখন তার সামনের দিকে আল্লাহ তা‘আলা থাকেন। (৭৫৩, ১২১৩, ৬১১১; মুসলিম ৫/১৩, হাঃ ৫৪৭, আহমাদ ৪৮৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৭)
হাদিস নং: ৪০৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة ام المومنين ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى في جدار القبلة مخاطا او بصاقا او نخامة فحكه.
৪০৭. উম্মুল ‘মুমিনীন ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকের দেয়ালে নাকের শ্লেষ্মা, থুথু কিংবা কফ দেখলেন এবং তা পরিষ্কার করলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৮)
হাদিস নং: ৪০৮
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل قال اخبرنا ابراهيم بن سعد اخبرنا ابن شهاب عن حميد بن عبد الرحمن ان ابا هريرة وابا سعيد حدثاه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى نخامة في جدار المسجد فتناول حصاة فحكها فقال اذا تنخم احدكم فلا يتنخمن قبل وجهه ولا عن يمينه وليبصق عن يساره او تحت قدمه اليسرى.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنْ وَطِئْتَ عَلَى قَذَرٍ رَطْبٍ فَاغْسِلْهُ وَإِنْ كَانَ يَابِسًا فَلاَ.
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বলেছেনঃ যদি আর্দ্র আবর্জনায় তোমার পা ফেল, তখন তা ধুয়ে ফেলবে, আর শুকনো হলে ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
৪০৮-৪০৯. আবূ হুরাইরাহ্ ও আবূ সা’ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখে কাঁকর নিয়ে তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন সামনের দিকে অথবা ডান দিকে কফ না ফেলে, বরং সে যেন তা তার বাম দিকে অথবা তার বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪১০, ৪১১, ৪১৪, ৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯)
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বলেছেনঃ যদি আর্দ্র আবর্জনায় তোমার পা ফেল, তখন তা ধুয়ে ফেলবে, আর শুকনো হলে ধোয়ার প্রয়োজন নেই।
৪০৮-৪০৯. আবূ হুরাইরাহ্ ও আবূ সা’ঈদ (খুদরী) (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখে কাঁকর নিয়ে তা মুছে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন সামনের দিকে অথবা ডান দিকে কফ না ফেলে, বরং সে যেন তা তার বাম দিকে অথবা তার বাম পায়ের নীচে ফেলে। (৪১০, ৪১১, ৪১৪, ৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯)