হাদিস নং: ৬৩৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن سلام، اخبرنا وكيع، عن ابن ابي خالد، قال سمعت ابن ابي اوفى ـ رضى الله عنهما ـ قال دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم على الاحزاب فقال " اللهم منزل الكتاب، سريع الحساب، اهزم الاحزاب، اهزمهم وزلزلهم ".
وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوسُفَ وَقَالَ اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلٍ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ دَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا حَتّٰى أَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ لَكَ مِنْ الأَمْرِ شَيْءٌ.
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করুন যেমন দুর্ভিক্ষের সাত বছর দিয়ে ইউসুফ (আঃ)-কে সাহায্য করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আবূ জাহলকে শাস্তি দিন। ইবনু ’উমার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে বদ দু’আ করলেন। হে আল্লাহ! অমুককে লা’নত করুন ও অমুককে লা’নাত করুন। তখনই ওয়াহী অবতীর্ণ হলোঃ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই। (সূরাহ আলে ’ইমরান ৩/১২৮)
৬৩৯২. ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খন্দকের যুদ্ধে) শত্রু বাহিনীর উপর বদ দু’আ করেছেনঃ হে আল্লাহ! হে কিতাব নাযিলকারী! হে তড়িৎ হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করুন। তাদের পরাস্ত করুন এবং তাদের প্রকম্পিত করে দিন। [২৯৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৭)
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করুন যেমন দুর্ভিক্ষের সাত বছর দিয়ে ইউসুফ (আঃ)-কে সাহায্য করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আবূ জাহলকে শাস্তি দিন। ইবনু ’উমার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে বদ দু’আ করলেন। হে আল্লাহ! অমুককে লা’নত করুন ও অমুককে লা’নাত করুন। তখনই ওয়াহী অবতীর্ণ হলোঃ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই। (সূরাহ আলে ’ইমরান ৩/১২৮)
৬৩৯২. ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খন্দকের যুদ্ধে) শত্রু বাহিনীর উপর বদ দু’আ করেছেনঃ হে আল্লাহ! হে কিতাব নাযিলকারী! হে তড়িৎ হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করুন। তাদের পরাস্ত করুন এবং তাদের প্রকম্পিত করে দিন। [২৯৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৭)
হাদিস নং: ৬৩৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا معاذ بن فضالة، حدثنا هشام، عن يحيى، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا قال " سمع الله لمن حمده ". في الركعة الاخرة من صلاة العشاء قنت " اللهم انج عياش بن ابي ربيعة، اللهم انج الوليد بن الوليد، اللهم انج سلمة بن هشام، اللهم انج المستضعفين من المومنين، اللهم اشدد وطاتك على مضر، اللهم اجعلها سنين كسني يوسف ".
৬৩৯৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সালাতের শেষ রাক’আতে যখন ’সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলতেন তখন কুনূতে (নাযিলা) পড়তেনঃ হে আল্লাহ! আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী’আহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! আপনি দুর্বল মু’মিনদের মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুযার গোত্রকে ভয়াবহ শাস্তি দিন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (আ.)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের বছরের মত দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন। [৭৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৮)
হাদিস নং: ৬৩৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن الربيع، حدثنا ابو الاحوص، عن عاصم، عن انس ـ رضى الله عنه ـ قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية يقال لهم القراء فاصيبوا، فما رايت النبي صلى الله عليه وسلم وجد على شىء ما وجد عليهم، فقنت شهرا في صلاة الفجر ويقول " ان عصية عصوا الله ورسوله ".
৬৩৯৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা সারীয়্যা (ক্ষুদ্র বাহিনী) প্রেরণ করলেন। তাদের কুররা বলা হতো। তাদের হত্যা করা হলো। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এদের ব্যাপারে যেরূপ রাগান্বিত দেখেছি অন্য কারণে তেমন রাগান্বিত দেখিনি। এজন্য তিনি ফজরের সালাতে এক মাস ধরে কুনূত পড়লেন। তিনি বলতেনঃ উসায়্যা গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। [১০০১; মুসলিম ৫/৫৪, হাঃ ৬৭৭, আহমাদ ১২১৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৯)
হাদিস নং: ৬৩৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا هشام، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت كان اليهود يسلمون على النبي صلى الله عليه وسلم يقولون السام عليك. ففطنت عاىشة الى قولهم فقالت عليكم السام واللعنة. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " مهلا يا عاىشة، ان الله يحب الرفق في الامر كله ". فقالت يا نبي الله اولم تسمع ما يقولون قال " اولم تسمعي اني ارد ذلك عليهم فاقول وعليكم ".
৬৩৯৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করার সময় বলতো ’আসসামু ’আলাইকা’ (ধ্বংস তোমার প্রতি)। ’আয়িশাহ (রাঃ) তাদের এ কথার খারাপ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বললেনঃ ’আলাইকুমুসসাম ওয়াল্লা’নত’ (ধ্বংস তোমাদের প্রতি ও লা’নত)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ’আয়িশাহ থামো! আল্লাহ তা’আলা সকল বিষয়েই নম্রতা পছন্দ করেন। ’আয়িশাহ বললেনঃ তারা কী বলেছে আপনি কি তা শুনেননি? তিনি বললেন, আমি তাদের কথার জওয়াবে ’ওয়া’আলাইকুম’ বলেছি- তা তুমি শুননি? আমি বলেছি, তোমাদের উপরও। [২৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪০)
হাদিস নং: ৬৩৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا الانصاري، حدثنا هشام بن حسان، حدثنا محمد بن سيرين، حدثنا عبيدة، حدثنا علي بن ابي طالب ـ رضى الله عنه ـ قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يوم الخندق، فقال " ملا الله قبورهم وبيوتهم نارا، كما شغلونا عن صلاة الوسطى حتى غابت الشمس ". وهى صلاة العصر.
৬৩৯৬. ’আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তাদের গৃহ এবং কবরকে আগুন দিয়ে ভর্তি করে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে ’সালাতুল উস্তা’ থেকে বারিত করে রেখেছে। এমনকি সূর্য ডুবে গেল। আর ’সালাতুল উস্তা’ হলো আসর সালাত। [২৯৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪১)
হাদিস নং: ৬৩৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي، حدثنا سفيان، حدثنا ابو الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قدم الطفيل بن عمرو على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ان دوسا قد عصت وابت، فادع الله عليها. فظن الناس انه يدعو عليهم، فقال " اللهم اهد دوسا وات بهم ".
৬৩৯৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তুফাইল ইবনু ’আমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ দাওস গোত্র বিরুদ্ধাচরণ করেছে ও অবাধ্য হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। সুতরাং আপনি তাদের উপর বদ দু’আ করুন। সাহাবীগণ ভাবলেন যে, তিনি তাদের উপর বদ দু’আই করবেন। কিন্তু তিনি (তাদের জন্য) দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত দান করুন। আর তাদের মুসলিম করে নিয়ে আসুন। [২৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪২)
হাদিস নং: ৬৩৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الملك بن صباح، حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، عن ابن ابي موسى، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان يدعو بهذا الدعاء " رب اغفر لي خطيىتي وجهلي واسرافي في امري كله، وما انت اعلم به مني، اللهم اغفر لي خطاياى وعمدي وجهلي وهزلي، وكل ذلك عندي، اللهم اغفر لي ما قدمت وما اخرت وما اسررت وما اعلنت، انت المقدم، وانت الموخر، وانت على كل شىء قدير ". وقال عبيد الله بن معاذ وحدثنا ابي، حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، عن ابي بردة بن ابي موسى، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه.
৬৩৯৮. ইবন আবূ মূসা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পশ্চাদবর্তী করেন এবং আপনিই সব বিষয়োপরি সর্বশক্তিমান। [৬৩৯৯; মুসলিম ৪৮/১৮, হাঃ ২৭১৯, আহমাদ ১৯৭৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৩)
হাদিস নং: ৬৩৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبيد الله بن عبد المجيد، حدثنا اسراىيل، حدثنا ابو اسحاق، عن ابي بكر بن ابي موسى، وابي، بردة ـ احسبه ـ عن ابي موسى الاشعري، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان يدعو " اللهم اغفر لي خطيىتي وجهلي واسرافي في امري، وما انت اعلم به مني، اللهم اغفر لي هزلي وجدي وخطاى وعمدي، وكل ذلك عندي ".
৬৩৯৯. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনিক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটিজনিত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার বাড়াবাড়ি এবং আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার হাসি-ঠাট্টামূলক গুনাহ, আমার প্রকৃত গুনাহ, আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ এবং ইচ্ছাকৃত গুনাহ, আর এসব গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। [৬৩৯৮; মুসলিম ৪৮/১৮, হাঃ ২৭১৯, আহমাদ ১৯৭৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৪)
হাদিস নং: ৬৪০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، اخبرنا ايوب، عن محمد، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال ابو القاسم صلى الله عليه وسلم " في الجمعة ساعة لا يوافقها مسلم وهو قاىم يصلي يسال خيرا الا اعطاه ". وقال بيده قلنا يقللها يزهدها.
৬৪০০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমু’আহর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি সে মুহূর্তটিতে কোন মুসলিম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণের জন্য দু’আ করলে তা আল্লাহ তাকে দান করবেন। তিনি এ হাদীস বর্ণনার সময় আপন হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলে আমরা বললাম (বুঝলাম) যে, মুহূর্তটির সময় খুবই স্বল্প। [৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৫)
হাদিস নং: ৬৪০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا عبد الوهاب، حدثنا ايوب، عن ابن ابي مليكة، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ان اليهود، اتوا النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا السام عليك. قال " وعليكم ". فقالت عاىشة السام عليكم، ولعنكم الله وغضب عليكم. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " مهلا يا عاىشة، عليك بالرفق، واياك والعنف او الفحش ". قالت اولم تسمع ما قالوا قال " اولم تسمعي ما قلت رددت عليهم، فيستجاب لي فيهم، ولا يستجاب لهم في ".
৬৪০১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার একদল ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে সালাম দিতে গিয়ে বললোঃ ’আস্সামু ’আলাইকা’। তিনি বললেনঃ ’ওয়াআলাইকুম’। কিন্তু ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ ’আসসামু ’আলাইকুম ওয়া লা’য়ানাকুমুল্লাহ ওয়া গাযিবা ’আলাইকুম’ (তোমরা ধ্বংস হও, আল্লাহ তোমাদের উপর লা’নাত করুন, আর তোমাদের উপর গযব অবতীর্ণ করুন)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ’আয়িশাহ তুমি থামো! তুমি নম্রতা অবলম্বন করো, আর তুমি কঠোরতা বর্জন করো। ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ তারা কী বলেছে আপনি কি শুনেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা বলেছি, তা কি তুমি শুননি? আমি তো তাদের কথাটা তাদের উপরই ফিরিয়ে দিলাম। কাজেই তাদের উপর আমার বদ্ দু’আ কবূল হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ব্যাপারে তাদের বদ্ দু’আ কবূল হবে না। [২৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৬)
হাদিস নং: ৬৪০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، قال الزهري حدثناه عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " اذا امن القارى فامنوا، فان الملاىكة تومن، فمن وافق تامينه تامين الملاىكة غفر له ما تقدم من ذنبه ".
৬৪০২. ’আলী ইবনু ’আবদুল্লাহ (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী বলেছেন, যখন ক্বারী ’আমীন’ বলবে তখন তোমরাও আমীন বলবে। কারণ এ সময় ফেরেশতা আমীন বলে থাকেন। সুতরাং যার আমীন বলা ফেরেশতার আমীন বলার সঙ্গে মিলে যাবে, তার পূর্বের সব গুনাহক্ষমা করে দেয়া হবে। [৭৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৭)
হাদিস নং: ৬৪০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن سمى، عن ابي صالح، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من قال لا اله الا الله، وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شىء قدير. في يوم ماىة مرة، كانت له عدل عشر رقاب، وكتب له ماىة حسنة، ومحيت عنه ماىة سيىة، وكانت له حرزا من الشيطان يومه ذلك، حتى يمسي، ولم يات احد بافضل مما جاء به الا رجل عمل اكثر منه ".
৬৪০৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনের মধ্যে একশ’ বার পড়বে ’আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।’ সে দশটি গোলাম মুক্ত করার সাওয়াব লাভ করবে এবং তার জন্য একশ’টি নেকী লেখা হবে, আর তার একশ’টি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে। আর সে দিন সন্ধ্যা অবধি এটা তার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং তার চেয়ে অধিক ফাযীলাতপূর্ণ ’আমল আর কারো হবে না। তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে ব্যক্তি এ ’আমল তার চেয়েও অধিক করবে। [২৩৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৮)
হাদিস নং: ৬৪০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الملك بن عمرو، حدثنا عمر بن ابي زاىدة، عن ابي اسحاق، عن عمرو بن ميمون، قال من قال عشرا كان كمن اعتق رقبة من ولد اسماعيل. قال عمر بن ابي زاىدة وحدثنا عبد الله بن ابي السفر عن الشعبي عن ربيع بن خثيم مثله. فقلت للربيع ممن سمعته فقال من عمرو بن ميمون. فاتيت عمرو بن ميمون فقلت ممن سمعته فقال من ابن ابي ليلى. فاتيت ابن ابي ليلى فقلت ممن سمعته فقال من ابي ايوب الانصاري يحدثه عن النبي صلى الله عليه وسلم وقال ابراهيم بن يوسف عن ابيه عن ابي اسحاق حدثني عمرو بن ميمون عن عبد الرحمن بن ابي ليلى عن ابي ايوب قوله عن النبي صلى الله عليه وسلم. وقال موسى حدثنا وهيب، عن داود، عن عامر، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن ابي ايوب، عن النبي صلى الله عليه وسلم. وقال اسماعيل عن الشعبي عن الربيع قوله. وقال ادم حدثنا شعبة حدثنا عبد الملك بن ميسرة سمعت هلال بن يساف عن الربيع بن خثيم وعمرو بن ميمون عن ابن مسعود قوله. وقال الاعمش وحصين عن هلال عن الربيع عن عبد الله قوله. ورواه ابو محمد الحضرمي عن ابي ايوب عن النبي صلى الله عليه وسلم كان كمن اعتق رقبة من ولد اسماعيل قال ابو عبد الله والصحيح قول عبد الملك بن عمرو.
৬৪০৪. ’আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক (এ কথাগুলো) দশবার পড়বে সে ঐ লোকের সমান হয়ে যাবে, সে লোক ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশ থেকে একটা গোলাম মুক্ত করে দিয়েছে। শাবীও রাবী ইবনু খুসাইম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ’আমর ইবনু মায়মূন হতে। আমর ইবনু মায়মূনের নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বলেন, ’আমর ইবনু মায়মূন হতে। ’আমর ইবনু মায়মূনের নিকট গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনি এ হাদীস কার নিকট হতে শুনেছেন? তিনি বললেন, ইবনু আবূ লায়লা হতে। আমি ইবনু আবূ লায়লার নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এটি কার নিকট হতে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি এটি আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৯)
কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন সনদে অনুরূপ হাদীস আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসটি তাঁর নিকটেও বলেছেন।
আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে ইসমাঈলের বংশধরের কোন গোলামকে আযাদ করলো। আবূ ’আবদুল্লাহ বুখারী বলেন, ’আবদুল মালিক বিন ’আমর এর উক্তিটিই সঠিক।
কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন সনদে অনুরূপ হাদীস আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসটি তাঁর নিকটেও বলেছেন।
আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে ইসমাঈলের বংশধরের কোন গোলামকে আযাদ করলো। আবূ ’আবদুল্লাহ বুখারী বলেন, ’আবদুল মালিক বিন ’আমর এর উক্তিটিই সঠিক।
হাদিস নং: ৬৪০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن سمى، عن ابي صالح، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من قال سبحان الله وبحمده. في يوم ماىة مرة حطت خطاياه، وان كانت مثل زبد البحر ".
৬৪০৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক প্রতিদিন একশ’বার সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও। [মুসলিম ৪৮/১০, হাঃ ২৬৯১, আহমাদ ৮০১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫০)
হাদিস নং: ৬৪০৬
সহিহ (Sahih)
زهير بن حرب حدثنا ابن فضيل عن عمارة عن ابي زرعة عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال كلمتان خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان حبيبتان الى الرحمنسبحان الله العظيم سبحان الله وبحمده„.
৬৪০৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি বাক্য এমন যা মুখে উচ্চারণ করা অতি সহজ, পাল্লায় অতি ভারী, আর আল্লাহর নিকট অতি প্রিয়। তা হলোঃ সুবহানাল্লাহিল আযীম, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ।[৬৬৮২, ৭৫৬৩; মুসলিম ৪৮/১০, হাঃ ২৬৯৪, আহমাদ ৭১৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫১)
হাদিস নং: ৬৪০৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا ابو اسامة عن بريد بن عبد الله عن ابي بردة عن ابي موسى قال قال النبي صلى الله عليه وسلم مثل الذي يذكر ربه“ والذي لا يذكر ربه“ مثل الحي والميت.
৬৪০৭. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি। [মুসলিম ৬/২৯, হাঃ ৭৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫২)
হাদিস নং: ৬৪০৮
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن الاعمش عن ابي صالح عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لله ملاىكة يطوفون في الطرق يلتمسون اهل الذكر فاذا وجدوا قوما يذكرون الله تنادوا هلموا الى حاجتكم قال فيحفونهم باجنحتهم الى السماء الدنيا قال فيسالهم ربهم وهو اعلم منهم ما يقول عبادي قالوا يقولون يسبحونك ويكبرونك ويحمدونك ويمجدونك قال فيقول هل راوني قال فيقولون لا والله ما راوك قال فيقول وكيف لو راوني قال يقولون لو راوك كانوا اشد لك عبادة واشد لك تمجيدا وتحميدا واكثر لك تسبيحا قال يقول فما يسالوني قال يسالونك الجنة قال يقول وهل راوها قال يقولون لا والله يا رب ما راوها قال يقول فكيف لو انهم راوها قال يقولون لو انهم راوها كانوا اشد عليها حرصا واشد لها طلبا واعظم فيها رغبة قال فمم يتعوذون قال يقولون من النار قال يقول وهل راوها قال يقولون لا والله يا رب ما راوها قال يقول فكيف لو راوها قال يقولون لو راوها كانوا اشد منها فرارا واشد لها مخافة قال فيقول فاشهدكم اني قد غفرت لهم قال يقول ملك من الملاىكة فيهم فلان ليس منهم انما جاء لحاجة قال هم الجلساء لا يشقى بهم جليسهم
رواه“ شعبة عن الاعمش ولم يرفعه“ ورواه“ سهيل عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
رواه“ شعبة عن الاعمش ولم يرفعه“ ورواه“ سهيل عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৬৪০৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছেন, যাঁরা আল্লাহর যিকরে রত লোকেদের খোঁজে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। যখন তাঁরা কোথাও আল্লাহর যিকরে রত লোকেদের দেখতে পান, তখন ফেরেশতারা পরস্পরকে ডাক দিয়ে বলেন, তোমরা আপন আপন কাজ করার জন্য এগিয়ে এসো। তখন তাঁরা তাঁদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটবর্তী আকাশ পর্যন্ত। তখন তাঁদের প্রতিপালক তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন (যদিও ফেরেশতাদের চেয়ে তিনিই অধিক জানেন) আমার বান্দারা কী বলছে?
তখন তাঁরা বলে, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিচ্ছে, তারা আপনার গুণগান করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্যপ্রকাশ করছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তাঁরা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার শপথ! তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলবেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও অধিক পরিমাণে আপনার ’ইবাদাত করত, আরো অধিক আপনার মাহাত্ম্য ঘোষণা করত, আরো অধিক পরিমাণে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।
বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহ বলবেন, তারা আমার কাছে কী চায়? তাঁরা বলবে, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার কসম! হে রব! তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা দেখত তবে তারা কী করত? তাঁরা বলবে, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো অধিক লোভ করত, আরো বেশি চাইত এবং এর জন্য আরো বেশি বেশি আকৃষ্ট হত।। আল্লাহ্ তা’আলা জিজ্ঞেস করবেন, তারা কী থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তাঁরা জবাব দেবে, আল্লাহর কসম! হে প্রতিপালক! তারা জাহান্নাম দেখেনি।
তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কী হত? তাঁরা বলবে, যদি তারা তা দেখত, তাহলে তারা তাত্থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে অত্যন্ত বেশি ভয় করত। তখন আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদেরক্ষমা করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলবে, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, তারা এমন উপবেশনকারী যাদের মাজলিসে উপবেশনকারী বিমুখ হয় না। [মুসলিম ৪৮/৮, হাঃ ২৬৮৯, আহমাদ ৭৪৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫৩)
শু’বা এটিকে আ’মাশ হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তাকে চিনেন না। সুহাইল তার পিতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি বর্ণনা করেছেন।
তখন তাঁরা বলে, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিচ্ছে, তারা আপনার গুণগান করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্যপ্রকাশ করছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তাঁরা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার শপথ! তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলবেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও অধিক পরিমাণে আপনার ’ইবাদাত করত, আরো অধিক আপনার মাহাত্ম্য ঘোষণা করত, আরো অধিক পরিমাণে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।
বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহ বলবেন, তারা আমার কাছে কী চায়? তাঁরা বলবে, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার কসম! হে রব! তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা দেখত তবে তারা কী করত? তাঁরা বলবে, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো অধিক লোভ করত, আরো বেশি চাইত এবং এর জন্য আরো বেশি বেশি আকৃষ্ট হত।। আল্লাহ্ তা’আলা জিজ্ঞেস করবেন, তারা কী থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তাঁরা জবাব দেবে, আল্লাহর কসম! হে প্রতিপালক! তারা জাহান্নাম দেখেনি।
তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কী হত? তাঁরা বলবে, যদি তারা তা দেখত, তাহলে তারা তাত্থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে অত্যন্ত বেশি ভয় করত। তখন আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদেরক্ষমা করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলবে, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, তারা এমন উপবেশনকারী যাদের মাজলিসে উপবেশনকারী বিমুখ হয় না। [মুসলিম ৪৮/৮, হাঃ ২৬৮৯, আহমাদ ৭৪৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫৩)
শু’বা এটিকে আ’মাশ হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তাকে চিনেন না। সুহাইল তার পিতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৬৪০৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل ابو الحسن اخبرنا عبد الله اخبرنا سليمان التيمي عن ابي عثمان عن ابي موسى الاشعري قال اخذ النبي صلى الله عليه وسلم في عقبة او قال في ثنية قال فلما علا عليها رجل ناد‘ى فرفع صوته“ لا اله الا الله والله اكبر قال ورسول الله صلى الله عليه وسلم على بغلته„ قال فانكم لا تدعون اصم ولا غاىبا ثم قال يا ابا موسى او يا عبد الله الا ادلك على كلمة من كنز الجنة قلت بلى قال لا حول ولا قوة الا بالله.
৬৪০৯. আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গিরিপথ দিয়ে অথবা বর্ণনাকারী বলেন, একটি চূড়া হয়ে যাচ্ছিলেন, যখন তার উপর উঠলেন তখন এক ব্যক্তি উচ্চকণ্ঠে বলল, ’লা ইলাহা ইলাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’। বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খচ্চরের উপরে ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তো কোন বধির কিংবা কোন অনুপস্থিত কাউকে ডাকছো না। তারপর তিনি বললেনঃ হে আবূ মূসা, অথবা বললেনঃ হে ’আবদুল্লাহ্। আমি কি তোমাকে জান্নাতের ধন ভান্ডারের একটি বাক্য বলে দেব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, বলে দিন। তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে’লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্’।[২৯৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫৪)
হাদিস নং: ৬৪১০
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال حفظناه“ من ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة رواية قال لله تسعة وتسعون اسما ماىة الا واحدا لا يحفظها احد الا دخل الجنة وهو وتر يحب الوتر
৬৪১০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা’আলার নিরানব্বই নাম আছে, এক কম একশত নাম। যে ব্যক্তি এ (নাম) গুলোর হিফাযাত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ্ বিজোড়। তিনি বিজোড় পছন্দ করেন। [২৭৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫৫)
হাদিস নং: ৬৪১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، قال حدثني شقيق، قال كنا ننتظر عبد الله اذ جاء يزيد بن معاوية فقلنا الا تجلس قال لا ولكن ادخل فاخرج اليكم صاحبكم، والا جىت انا. فجلست فخرج عبد الله وهو اخذ بيده فقام علينا فقال اما اني اخبر بمكانكم، ولكنه يمنعني من الخروج اليكم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يتخولنا بالموعظة في الايام، كراهية السامة علينا.
৬৪১১. শাক্বীক্ব (রহ.) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমরা ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)-এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় ইয়াযিদ ইবনু মু’আবিয়াহ এসে পড়লেন। তখন আমরা তাঁকে বললাম, আপনি কি বসবেন না? তিনি বললেন, না, বরং আমি ভেতরে যাব এবং আপনাদের নিকট আপনাদের সঙ্গীকে নিয়ে আসব। নইলে আমি ফিরে এসে বসব। সুতরাং ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বেরিয়ে এলেন। তিনি আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, আমি তো আপনাদের মাঝে উপস্থিত হবার কথা অবহিত ছিলাম। কিন্তু আপনাদের নিকট বেরিয়ে আসার ব্যাপারে আমাকে বাধা দিচ্ছিল এ কথাটা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ায নাসীহাত করতে আমাদের বিরতি দিতেন, যাতে আমাদের বিরক্তি বোধ না হয়। [৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫৬)