অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮৩/১. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না...
মোট ৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৬৪৮
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عبد العزيز بن مسلم حدثنا عبد الله بن دينار قال سمعت عبد الله بن عمر يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تحلفوا باباىكم
৬৬৪৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের নামে শপথ করো না। [২৬৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৩)
হাদিস নং: ৬৬৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الوهاب، عن ايوب، عن ابي قلابة، والقاسم التميمي، عن زهدم، قال كان بين هذا الحى من جرم وبين الاشعريين ود واخاء، فكنا عند ابي موسى الاشعري، فقرب اليه طعام فيه لحم دجاج وعنده رجل من بني تيم الله احمر كانه من الموالي، فدعاه الى الطعام فقال اني رايته ياكل شيىا فقذرته، فحلفت ان لا اكله. فقال قم فلاحدثنك عن ذاك، اني اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في نفر من الاشعريين نستحمله فقال " والله لا احملكم، وما عندي ما احملكم ". فاتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بنهب ابل فسال عنا. فقال " اين النفر الاشعريون ". فامر لنا بخمس ذود غر الذرى، فلما انطلقنا قلنا ما صنعنا حلف رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحملنا وما عنده ما يحملنا ثم حملنا، تغفلنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يمينه، والله لا نفلح ابدا، فرجعنا اليه فقلنا له انا اتيناك لتحملنا فحلفت ان لا تحملنا، وما عندك ما تحملنا. فقال " اني لست انا حملتكم، ولكن الله حملكم، والله لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها، الا اتيت الذي هو خير وتحللتها ".
৬৬৪৯. যাহদাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের গোত্র জারাম এবং আশ’আরী গোত্রের মাঝে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব ছিল। আমরা (একবার) আবূ মূসা আশ’আরীর সাথে ছিলাম। তাঁর কাছে খাবার উপস্থিত করা হল, যাতে ছিল মুরগীর মাংস। তাইমিল্লাহ্ গোত্রের এক লাল রঙের ব্যক্তি তাঁর কাছে ছিল। সে দেখতে গোলামদের মত। তিনি তাকে খাবার খেতে ডাকলেন। তখন সে লোকটি বলল, আমি মুরগীকে এমন জিনিস খেতে দেখেছি যার জন্য আমি তাকে ঘৃণা করি। তাই আমি কসম করেছি যে, মুরগী খাব না। তিনি বললেন, ওঠ, আমি এ সম্পর্কে অবশ্যই তোমাকে একখানা হাদীস বলব। একবার আমি কতক আশ’আরীর সাথে বাহন সংগ্রহের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। তোমাদের বাহন দেয়ার জন্য কিছুই আমার কাছে নেই।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট এল। তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেনঃ আশ’আরী দলটি কোথায়? এরপর আমাদের জন্য পাঁচটি উত্তম সুন্দর উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমরা যখন চলে গেলাম, তখন চিন্তা করলাম আমরা এ কী করলাম? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো শপথ করেছিলেন আমাদেরকে বাহন দেবেন না। আর তাঁর কাছে কোন বাহন তো ছিলও না। কিন্তু এরপর তিনি তো আমাদেরকে আরোহণের বাহন দিলেন। আমরা রাসূলুল্লাহকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তার কসমের ব্যাপারে অন্যমনস্ক রেখেছিলাম।
আল্লাহর কসম! এ বাহন আমাদের কোন উপকারে আসবে না। কাজেই আমরা তাঁর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে বললাম যে, আমাদেরকে আপনি আরোহণ করাবেন এ উদ্দেশে আমরা তো আপনার কাছে এসেছিলাম। আপনি কসম করেছিলেন যে, আপনি আমাদেরকে কোন বাহন দিবেন না। আর আপনার কাছে এমন কোন কিছু ছিলও না, যাতে আমাদেরকে আরোহণ করাতে পারেন। তখন তিনি বলেছিলেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! আমি যখন শপথ করি আর তার অন্যটির মাঝে যদি অধিক কল্যাণ দেখতে পাই, তা হলে যা কল্যাণকর তাই বাস্তবায়িত করি এবং আমি শপথ ভঙ্গ করি। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৪)
এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট এল। তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেনঃ আশ’আরী দলটি কোথায়? এরপর আমাদের জন্য পাঁচটি উত্তম সুন্দর উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমরা যখন চলে গেলাম, তখন চিন্তা করলাম আমরা এ কী করলাম? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো শপথ করেছিলেন আমাদেরকে বাহন দেবেন না। আর তাঁর কাছে কোন বাহন তো ছিলও না। কিন্তু এরপর তিনি তো আমাদেরকে আরোহণের বাহন দিলেন। আমরা রাসূলুল্লাহকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তার কসমের ব্যাপারে অন্যমনস্ক রেখেছিলাম।
আল্লাহর কসম! এ বাহন আমাদের কোন উপকারে আসবে না। কাজেই আমরা তাঁর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে বললাম যে, আমাদেরকে আপনি আরোহণ করাবেন এ উদ্দেশে আমরা তো আপনার কাছে এসেছিলাম। আপনি কসম করেছিলেন যে, আপনি আমাদেরকে কোন বাহন দিবেন না। আর আপনার কাছে এমন কোন কিছু ছিলও না, যাতে আমাদেরকে আরোহণ করাতে পারেন। তখন তিনি বলেছিলেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! আমি যখন শপথ করি আর তার অন্যটির মাঝে যদি অধিক কল্যাণ দেখতে পাই, তা হলে যা কল্যাণকর তাই বাস্তবায়িত করি এবং আমি শপথ ভঙ্গ করি। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৪)
হাদিস নং: ৬৬৫০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا هشام بن يوسف اخبرنا معمر عن الزهري عن حميد بن عبد الرحمن عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من حلف فقال في حلفه باللات والعزى فليقل لا اله الا الله ومن قال لصاحبه تعال اقامرك فليتصدق
৬৬৫০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শপথ করে এবং বলে, ’লাত ও উয্যার শপথ’, তখন সে যেন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ বলে আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে ’এসো জুয়া খেলি’ তাহলে সে যেন সাদাকা দেয়।[1] [৪৮৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৫)
নোট: [1] লাত ও উযযার নামে (শুধুমাত্র) শপথ করার পাপ لا إله إلا الله বলার দ্বারা মুছে যায় আর জুয়া খেলার জন্য (জড়িত না হয়ে শুধুমাত্র) আহবানের পাপ সাদাকা করার দ্বারা মুছে যায়।
হাদিস নং: ৬৬৫১
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث عن نافع عن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اصطنع خاتما من ذهب وكان يلبسه فيجعل فصه في باطن كفه فصنع الناس خواتيم ثم انه جلس على المنبر فنزعه فقال اني كنت البس هذا الخاتم واجعل فصه من داخل فرمى به ثم قال والله لا البسه ابدا فنبذ الناس خواتيمهم
৬৬৫১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি স্বর্ণের আংটি তৈরি করালেন এবং তিনি সেটা ব্যবহার করতেন। ব্যবহারকালে তাঁর পাথরটি হাতের ভিতরের দিকে রাখতেন। তখন লোকেরাও এরূপ করল। এরপর তিনি মিম্বরের উপর বসে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি এ আংটি পরেছিলাম এবং তার পাথর হাতের ভিতরের দিকে রেখেছিলাম। অতঃপর তিনি তা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। আর বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এ আংটি আর কোনদিন ব্যবহার করব না! তখন লোকেরাও তাদের নিজেদের আংটিগুলো খুলে ফেলল। [৫৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৬)
হাদিস নং: ৬৬৫২
সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا وهيب عن ايوب عن ابي قلابة عن ثابت بن الضحاك قال قال النبي صلى الله عليه وسلم من حلف بغير ملة الاسلام فهو كما قال قال ومن قتل نفسه بشيء عذب به في نار جهنم ولعن المومن كقتله ومن رمى مومنا بكفر فهو كقتله
وَقَالَ النَّبِيُّصلى الله عليه وسلم مَنْ حَلَفَ بِاللاَّتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ وَلَمْ يَنْسُبْهُ إِلَى الْكُفْرِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি লাত ও উযযার কসম করে তবে সে যেন لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ বলে কিন্তু তিনি এমন ব্যক্তিকে কাফের বলেননি।
৬৬৫২. সাবিত ইবনু যহ্হাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের কসম করলে সেটা ঐ রকমই হবে, যেমন সে বলল। তিনি (আরও বলেছেন) কেউ কোন জিনিসের দ্বারা আত্মহত্যা করলে, জাহান্নামের আগুনে তাকে ঐ জিনিস দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে। কোন মু’মিনকে লা’নত করা তাকে হত্যা করা তুল্য। আর কোন মু’মিনকে কুফরীর অপবাদ দেয়াও তাকে হত্যা করার তুল্য। [১৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৭)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি লাত ও উযযার কসম করে তবে সে যেন لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ বলে কিন্তু তিনি এমন ব্যক্তিকে কাফের বলেননি।
৬৬৫২. সাবিত ইবনু যহ্হাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের কসম করলে সেটা ঐ রকমই হবে, যেমন সে বলল। তিনি (আরও বলেছেন) কেউ কোন জিনিসের দ্বারা আত্মহত্যা করলে, জাহান্নামের আগুনে তাকে ঐ জিনিস দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে। কোন মু’মিনকে লা’নত করা তাকে হত্যা করা তুল্য। আর কোন মু’মিনকে কুফরীর অপবাদ দেয়াও তাকে হত্যা করার তুল্য। [১৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৭)
হাদিস নং: ৬৬৫৩
সহিহ (Sahih)
وقال عمرو بن عاصم حدثنا همام حدثنا اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة حدثنا عبد الرحمن بن ابي عمرة ان ابا هريرة حدثه انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ان ثلاثة في بني اسراىيل اراد الله ان يبتليهم فبعث ملكا فاتى الابرص فقال تقطعت بي الحبال فلا بلاغ لي الا بالله ثم بك فذكر الحديث
৬৬৫৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, বনী ইসরাঈল গোত্রের তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ পরীক্ষা করতে চাইলেন। অতঃপর একজন ফেরেশ্তা পাঠালেন। ফেরেশ্তা কুষ্ঠরোগীর কাছে এল। সে বলল, আমার সমস্ত উপায়-উপকরণ ছিন্ন হয়ে গেছে। কাজেই আমার জন্য আল্লাহ্ ব্যতীত, অতঃপর তুমি ব্যতীত কোন উপায় নেই। এরপর পুরো হাদীস বর্ণনা করলেন। [৩৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৮)
হাদিস নং: ৬৬৫৪
সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن اشعث عن معاوية بن سويد بن مقرن عن البراء عن النبي صلى الله عليه وسلم ح و حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن اشعث عن معاوية بن سويد بن مقرن عن البراء قال امرنا النبي صلى الله عليه وسلم بابرار المقسم
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَوَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ لَتُحَدِّثَنِّي بِالَّذِي أَخْطَأْتُ فِي الرُّؤْيَا قَالَ لاَ تُقْسِمْ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি স্বপ্নের ব্যাখা করতে যে ভুল করেছি তা আপনি অবশ্যই আমাকে বলে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি শপথ করো না।
৬৬৫৪. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কসম পূর্ণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। [১৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৯)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি স্বপ্নের ব্যাখা করতে যে ভুল করেছি তা আপনি অবশ্যই আমাকে বলে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি শপথ করো না।
৬৬৫৪. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কসম পূর্ণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। [১৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৯)
হাদিস নং: ৬৬৫৫
সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا شعبة اخبرنا عاصم الاحول سمعت ابا عثمان يحدث عن اسامة ان بنتا لرسول الله صلى الله عليه وسلم ارسلت اليه ومع رسول الله صلى الله عليه وسلم اسامة بن زيد وسعد وابي ان ابني قد احتضر فاشهدنا فارسل يقرا السلام ويقول ان لله ما اخذ وما اعطى وكل شيء عنده مسمى فلتصبر وتحتسب فارسلت اليه تقسم عليه فقام وقمنا معه فلما قعد رفع اليه فاقعده في حجره ونفس الصبي جىث ففاضت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال سعد ما هذا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هذه رحمة يضعها الله في قلوب من يشاء من عباده وانما يرحم الله من عباده الرحماء
৬৬৫৫. উসামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার উসামাহ ইবনু যায়দ, সা’দ ও ’উবাই (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক কন্যা তাঁর কাছে খবর পাঠালেন যে, আমার পুত্র মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। কাজেই তিনি যেন আমাদের নিকট আসেন। তিনি সালামের সঙ্গে এ কথা বলে পাঠালেন যে, আল্লাহ্ যা দান করেন আর যা নিয়ে নেন সব কিছুই আল্লাহর জন্য। আর সব কিছুই আল্লাহর নিকট নির্ধারিত আছে। অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সাওয়াবের আশা কর। এরপর তাঁর কন্যা কসম দিয়ে আবার খবর পাঠালেন। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম।
(সেখানে গিয়ে) তিনি যখন বসলেন, শিশুটিকে তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসালেন, আর শিশুটির শ্বাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’চোখ অশ্রু প্রবাহিত করল। তখন সা’দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ কী ব্যাপার? তিনি বললেনঃ এ হল রহমত, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তার মনের ভিতরে দিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ্ কেবলমাত্র তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপরই দয়া করে থাকেন।[1] [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০০)
(সেখানে গিয়ে) তিনি যখন বসলেন, শিশুটিকে তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসালেন, আর শিশুটির শ্বাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’চোখ অশ্রু প্রবাহিত করল। তখন সা’দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ কী ব্যাপার? তিনি বললেনঃ এ হল রহমত, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তার মনের ভিতরে দিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ্ কেবলমাত্র তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপরই দয়া করে থাকেন।[1] [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০০)
নোট: [1] কারো মৃত্যুতে চোখ দিয়ে পানি বের হলে তা নিষিদ্ধ নয়, বরং রাহমাত। নিষিদ্ধ হল চেঁচিয়ে কান্নাকাটি করা, বিলাপ করা, গালে বুকে হাত দিয়ে আঘাত করা, জামা কাপড় ছেঁড়া ইত্যাদি।
হাদিস নং: ৬৬৫৬
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ابن شهاب عن ابن المسيب عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يموت لاحد من المسلمين ثلاثة من الولد تمسه النار الا تحلة القسم
৬৬৫৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা গেছে (সে যদি ধৈর্য ধরে) তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। তবে কসম পূর্ণ করার জন্য (তাকে পুলসিরাতের উপর দিয়ে নেয়া হবে)। [১২৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০১)
হাদিস নং: ৬৬৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثني غندر، حدثنا شعبة، عن معبد بن خالد، سمعت حارثة بن وهب، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " الا ادلكم على اهل الجنة، كل ضعيف متضعف، لو اقسم على الله لابره، واهل النار كل جواظ عتل مستكبر ".
৬৬৫৭. হারিসাহ ইবনু ওয়াহ্ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের সম্পর্কে জানাব না? তারা হবে (দুনিয়াতে) দুর্বল, মাযলুম। তারা যদি আল্লাহর ওপর কসম করে, তবে আল্লাহ্ তা পূর্ণ করে দেন। আর জাহান্নামের অধিবাসী হবে অবাধ্য, ঝগড়াটে ও অহংকারীরা। [৪৯১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০২)
হাদিস নং: ৬৬৫৮
সহিহ (Sahih)
سعد بن حفص حدثنا شيبان عن منصور عن ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله قال سىل النبي صلى الله عليه وسلم اي الناس خير قال قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم ثم يجيء قوم تسبق شهادة احدهم يمينه ويمينه شهادته قال ابراهيم وكان اصحابنا ينهونا ونحن غلمان ان نحلف بالشهادة والعهد
৬৬৫৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একবার জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ মানুষ সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আমার সময়ের মানুষ। এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা, এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা। এরপরে এমন লোক আসবে যে তাদের সাক্ষ্য কসমের উপর অগ্রগামী হবে, আর কসম সাক্ষ্যের উপর অগ্রগামী হবে। রাবী ইবরাহীম বলেন যে, আমরা যখন বালক ছিলাম তখন আমাদের সঙ্গীরা সাক্ষ্য এবং অঙ্গীকারের সঙ্গে কসম করতে নিষেধ করতেন। [২৬৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৩)
হাদিস নং: ৬৬৫৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا ابن ابي عدي عن شعبة عن سليمان ومنصور عن ابي واىل عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من حلف على يمين كاذبة يقتطع بها مال رجل مسلم او قال اخيه لقي الله وهو عليه غضبان فانزل الله تصديقه (ان الذين يشترون بعهد الله)
৬৬৫৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন মুসলিমের মাল আত্মসাৎ করার জন্য অথবা বলেছেনঃ তার ভাইয়ের মাল আত্মসাৎ করার জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করবে, আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এমন অবস্থায় যে আল্লাহ্ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। এ কথারই সত্যতায় আল্লাহ্ তা’আলা-অবতীর্ণ করেনঃ নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের নি’মাতের কোন অংশই পাবে না।
হাদিস নং: ৬৬৬০
সহিহ (Sahih)
قال سليمان في حديثه فمر الاشعث بن قيس فقال ما يحدثكم عبد الله قالوا له فقال الاشعث نزلت في وفي صاحب لي في بىر كانت بيننا
৬৬৬০. রাবী সুলায়মান তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন, আশ’আস ইবনু কায়স্ (রাঃ) যখন পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন জিজ্ঞেস করেন, ’আবদুল্লাহ্ তোমাদের কাছে কী বর্ণনা করেছেন? জবাবে লোকেরা তাঁকে কিছু বলল। তখন আশ’আস (রাঃ) বললেন, এ আয়াত আমার আর আমার এক সাথী সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমাদের দু’ জনের মাঝে একটি কূপ নিয়ে বিবাদ ছিল। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৪)
হাদিস নং: ৬৬৬১
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شيبان حدثنا قتادة عن انس بن مالك قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تزال جهنم تقول هل من مزيد حتى يضع رب العزة فيها قدمه فتقول قط قط وعزتك ويزوى بعضها الى بعض رواه شعبة عن قتادة
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَانَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْقَى رَجُلٌ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَيَقُولُ يَا رَبِّ اصْرِفْ وَجْهِي عَنْ النَّارِ لاَ وَعِزَّتِكَ لاَ أَسْأَلُكَ غَيْرَهَا وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ لَكَ ذَلِكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ وَقَالَ أَيُّوبُ وَعِزَّتِكَ لاَ غِنَى بِي عَنْ بَرَكَتِكَ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ (আল্লাহ্) আমি তোমার ইয্যতের আশ্রয় চাই। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝের স্থানে থাকবে। সে তখন নিবেদন করবে, হে প্রতিপালক! আমার চেহারাটি জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। তোমার ইযযতের কসম! এছাড়া আর কিছুই আমি তোমার কাছে চাই না। আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ বলবেন, এ পুরস্কার তোমার আর এরূপ দশ গুণ। আইউব (আঃ) বলেন, তোমার ইয্যতের কসম! তোমার বরকত হতে আমি অমুখাপেক্ষী নই। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৫)
৬৬৬১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম সর্বদাই বলতে থাকবে- আরও কি আছে? এমন কি রাববুল ইয্যত তাতে তাঁর পা রাখবেন। ’বাস, বাস’ জাহান্নাম বলবে, তোমার ইয্যতের কসম! সেদিন তার একাংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাবে। শু’বা, ক্বাতাদাহ (রহ.) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৪৮৪৮; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৮, আহমাদ ১২৩৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৬)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ (আল্লাহ্) আমি তোমার ইয্যতের আশ্রয় চাই। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝের স্থানে থাকবে। সে তখন নিবেদন করবে, হে প্রতিপালক! আমার চেহারাটি জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। তোমার ইযযতের কসম! এছাড়া আর কিছুই আমি তোমার কাছে চাই না। আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ বলবেন, এ পুরস্কার তোমার আর এরূপ দশ গুণ। আইউব (আঃ) বলেন, তোমার ইয্যতের কসম! তোমার বরকত হতে আমি অমুখাপেক্ষী নই। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৫)
৬৬৬১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম সর্বদাই বলতে থাকবে- আরও কি আছে? এমন কি রাববুল ইয্যত তাতে তাঁর পা রাখবেন। ’বাস, বাস’ জাহান্নাম বলবে, তোমার ইয্যতের কসম! সেদিন তার একাংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাবে। শু’বা, ক্বাতাদাহ (রহ.) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৪৮৪৮; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৮, আহমাদ ১২৩৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৬)
হাদিস নং: ৬৬৬২
সহিহ (Sahih)
الاويسي حدثنا ابراهيم عن صالح عن ابن شهاب ح و حدثنا حجاج بن منهال حدثنا عبد الله بن عمر النميري حدثنا يونس قال سمعت الزهري قال سمعت عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص وعبيد الله بن عبد الله عن حديث عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين قال لها اهل الافك ما قالوا فبراها الله وكل حدثني طاىفة من الحديث وفيه فقام النبي صلى الله عليه وسلم فاستعذر من عبد الله بن ابي فقام اسيد بن حضير فقال لسعد بن عبادة لعمر الله لنقتلنه
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: (لَعَمْرُكَ) لَعَيْشُكَ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, (لَعَمْرُكَ) অর্থ لَعَيْشُكَ (সূরাহ আল-হিজর ১৫/৭২) অর্থাৎ তোমার জীবনের কসম।
৬৬৬২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর অপবাদ বিষয়ক হাদীস বর্ণনা করেন। অপবাদ রটনাকারীরা যখন তাঁর সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই অপবাদ রটালো, তখন আল্লাহ্ তাঁকে পূত-পবিত্র বলে প্রকাশ করে দিলেন। রাবী বলেন, উপর্যুক্ত বর্ণনাকারীগণ প্রত্যেকেই হাদীসের এক একটি অংশ আমার কাছে বর্ণনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উবাই এর মিথ্যা রটনা থেকে নিরাপত্তা চাইলেন। এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং সা’দ ইবনু ’উবাদাহ সম্পর্কে বললেন, আল্লাহর কসম, অবশ্য অবশ্যই আমরা তাকে হত্যা করব। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৭)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, (لَعَمْرُكَ) অর্থ لَعَيْشُكَ (সূরাহ আল-হিজর ১৫/৭২) অর্থাৎ তোমার জীবনের কসম।
৬৬৬২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর অপবাদ বিষয়ক হাদীস বর্ণনা করেন। অপবাদ রটনাকারীরা যখন তাঁর সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই অপবাদ রটালো, তখন আল্লাহ্ তাঁকে পূত-পবিত্র বলে প্রকাশ করে দিলেন। রাবী বলেন, উপর্যুক্ত বর্ণনাকারীগণ প্রত্যেকেই হাদীসের এক একটি অংশ আমার কাছে বর্ণনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উবাই এর মিথ্যা রটনা থেকে নিরাপত্তা চাইলেন। এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং সা’দ ইবনু ’উবাদাহ সম্পর্কে বললেন, আল্লাহর কসম, অবশ্য অবশ্যই আমরা তাকে হত্যা করব। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৭)
হাদিস নং: ৬৬৬৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن هشام قال اخبرني ابي عن عاىشة (لا يواخذكم الله باللغو) في ايمانكم قال قالت انزلت في قوله لا والله بلى والله
৬৬৬৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (لاَ يُؤَاخِذُكُمْ اللهُ) আয়াতটি- لاَ وَاللهِ (না, আল্লাহর শপথ) এবং بَلَى وَاللهِ
(হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ) এ জাতীয় কথা বলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়। [৪৬১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৮)
(হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ) এ জাতীয় কথা বলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়। [৪৬১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৮)
হাদিস নং: ৬৬৬৪
সহিহ (Sahih)
خلاد بن يحيى حدثنا مسعر حدثنا قتادة حدثنا زرارة بن اوفى عن ابي هريرة يرفعه قال ان الله تجاوز لامتي عما وسوست او حدثت به انفسها ما لم تعمل به او تكلم
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ).
وَقَالَ: (لاَ تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ).
এবং আল্লাহর বাণীঃ এ ব্যাপারে তোমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তোমাদের কোন গুনাহ্ নেই - (সূরাহ আহযাব ৩৩/৫); এবং আল্লাহর বাণীঃ আমার ভুলের জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না- (সূরাহ আহকাফ ১৮/৭৩)।
৬৬৬৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) অন্যত্র হাদীস মারফূ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আমার উম্মাতের ঐ সকল ওয়াস্ওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন যা তাদের মনে উদিত হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষণ না তা বাস্তবে করে বা সে সম্পর্কে কথা বলে। [২৫২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৯)
وَقَالَ: (لاَ تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ).
এবং আল্লাহর বাণীঃ এ ব্যাপারে তোমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তোমাদের কোন গুনাহ্ নেই - (সূরাহ আহযাব ৩৩/৫); এবং আল্লাহর বাণীঃ আমার ভুলের জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না- (সূরাহ আহকাফ ১৮/৭৩)।
৬৬৬৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) অন্যত্র হাদীস মারফূ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আমার উম্মাতের ঐ সকল ওয়াস্ওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন যা তাদের মনে উদিত হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষণ না তা বাস্তবে করে বা সে সম্পর্কে কথা বলে। [২৫২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৯)
হাদিস নং: ৬৬৬৫
সহিহ (Sahih)
عثمان بن الهيثم او محمد عنه عن ابن جريج قال سمعت ابن شهاب يقول حدثني عيسى بن طلحة ان عبد الله بن عمرو بن العاص حدثه ان النبي صلى الله عليه وسلم بينما هو يخطب يوم النحر اذ قام اليه رجل فقال كنت احسب يا رسول الله كذا وكذا قبل كذا وكذا ثم قام اخر فقال يا رسول الله كنت احسب كذا وكذا لهولاء الثلاث فقال النبي صلى الله عليه وسلم افعل ولا حرج لهن كلهن يومىذ فما سىل يومىذ عن شيء الا قال افعل ولا حرج
৬৬৬৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর ইবনু ’আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে নিবেদন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধারণা করলাম যে, অমুক অমুক রুকনের পূর্বে অমুক অমুক রুকন হবে। এরপর আরেক জন উঠে দাঁড়াল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক অমুক আমলের পূর্বে অমুক ’আমল হবে, (অর্থাৎ তারা যবেহ, হলক্ ও তাওয়াফ) এ তিনটি কাজ সম্পর্কে জানতে চাইল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ করতে পার, কোন দোষ নেই। ঐ দিন যে সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞেসিত হলেন, বললেনঃ করতে পার, কোন দোষ নেই। [৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১০)
হাদিস নং: ৬৬৬৬
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا ابو بكر بن عياش عن عبد العزيز بن رفيع عن عطاء عن ابن عباس قال قال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم زرت قبل ان ارمي قال لا حرج قال اخر حلقت قبل ان اذبح قال لا حرج قال اخر ذبحت قبل ان ارمي قال لا حرج
৬৬৬৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল যে, আমি পাথর নিক্ষেপের আগে যিয়ারাত করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। আরেক ব্যক্তি বলল, আমি তো যবেহ করার আগে মাথা মুন্ডন করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। আরেক জন বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের আগে যবেহ করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। [৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১১)
হাদিস নং: ৬৬৬৭
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور حدثنا ابو اسامة حدثنا عبيد الله بن عمر عن سعيد بن ابي سعيد عن ابي هريرة ان رجلا دخل المسجد فصلى ورسول الله صلى الله عليه وسلم في ناحية المسجد فجاء فسلم عليه فقال له ارجع فصل فانك لم تصل فرجع فصلى ثم سلم فقال وعليك ارجع فصل فانك لم تصل قال في الثالثة فاعلمني قال اذا قمت الى الصلاة فاسبغ الوضوء ثم استقبل القبلة فكبر واقرا بما تيسر معك من القران ثم اركع حتى تطمىن راكعا ثم ارفع راسك حتى تعتدل قاىما ثم اسجد حتى تطمىن ساجدا ثم ارفع حتى تستوي وتطمىن جالسا ثم اسجد حتى تطمىن ساجدا ثم ارفع حتى تستوي قاىما ثم افعل ذلك في صلاتك كلها
৬৬৬৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মসজিদের এক কোণে অবস্থান করছিলেন। লোকটি এসে তাঁকে সালাম করল। তিনি বললেনঃ ফিরে যাও এবং সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। তখন সে ফিরে গেল এবং সালাত আদায় করল। আবার এসে তাঁকে সালাম করল। তিনি বললেনঃ তোমার উপরও সালাম। তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় কর। কারণ, তুমি সালাত আদায় করনি। তৃতীয়বারে লোকটি বলল, আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দন্ডায়মান হবে তখন খুব ভালভাবে ’উযূ করবে। এরপর কিবলামুখী হবে। তারপর তাকবীর বলবে। এরপর কুরআন থেকে যা তোমার জন্য সহজ তা তিলাওয়াত করবে। এরপর ধীরস্থিরভাবে রুকূ করবে। এরপর মাথা উঠাবে। এমনকি সঠিকভাবে দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর সিজদা করবে ধীরস্থিরভাবে। এরপর মাথা তুলে সোজা হবে এবং ধীরস্থিরভাবে বসে যাবে। এরপর আবার ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। তারপর সি্জদা থেকে মাথা উঠিয়ে স্থির হয়ে বসবে। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর তোমার পুরো সালাতেই এরূপ করবে।[1] [৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১২)
নোট: [1] এ হাদীসটি খুবই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে যে, সালাতের যাবতীয় কার্যাদি ধীরস্থিরভাবে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে করতে হবে। তাড়াহুড়া করে কেবল উঠক বৈঠক করলে তা মোটেই সালাত বলে গণ্য হবে না। এ হাদীসের আলোকে আমরা যেন সালাতে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করি।