অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮৫/১. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তান-সন্ততির (অংশ) সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন...
মোট ৪৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৭৪৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن عثمان اخبرنا عبد الله اخبرنا شعبة عن محمد بن المنكدر قال سمعت جابرا قال دخل علي النبي صلى الله عليه وسلم وانا مريض فدعا بوضوء فتوضا ثم نضح علي من وضوىه فافقت فقلت يا رسول الله انما لي اخوات فنزلت اية الفراىض
৬৭৪৩. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন আর সে সময় আমি অসুস্থ ছিলাম। তিনি অযূর পানি চাইলেন এবং অযূ করলেন। তারপর অযূর অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। তাতে আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোনেরা আছে। সে সময় ফারায়েজ সংক্রান্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। [১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৮৭)
হাদিস নং: ৬৭৪৪
সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء قال اخر اية نزلت خاتمة سورة النساء (يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة)
৬৭৪৪. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হল সূরা নিসার শেষ আয়াতঃ (يَسْتَفْتُونَكَ قُلْ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ)। [৪৩৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৮৮)
হাদিস নং: ৬৭৪৫
সহিহ (Sahih)
محمود اخبرنا عبيد الله عن اسراىيل عن ابي حصين عن ابي صالح عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انا اولى بالمومنين من انفسهم فمن مات وترك مالا فماله لموالي العصبة ومن ترك كلا او ضياعا فانا وليه فلادعى له الكل العيال
وَقَالَ عَلِيٌّ لِلزَّوْجِ النِّصْفُ، وَلِلأَخِ مِنَ الأُمِّ السُّدُسُ، وَمَا بَقِيَ بَيْنَهُمَا نِصْفَانِ.
’আলী (রাঃ) বলেন, স্বামীর অংশ অর্ধেক আর বৈপিত্রেয় ভাই-এর অংশ এক-ষষ্ঠাংশ। অবশিষ্টাংশ দু’এর মাঝে আধাআধি বন্ঠিত হবে।
৬৭৪৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মু’মিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও প্রিয়। তবে যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে মারা যায় তার সম্পদ তার নিকটতম আত্মীয়রা পাবে। আর যে ব্যক্তি ঋণ অথবা নাবালক সন্তানাদি রেখে মারা যায় আমিই তার অভিভাবক। তার জন্য আমাকেই যেন ডাকা হয়। [২২৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৮৯)
’আলী (রাঃ) বলেন, স্বামীর অংশ অর্ধেক আর বৈপিত্রেয় ভাই-এর অংশ এক-ষষ্ঠাংশ। অবশিষ্টাংশ দু’এর মাঝে আধাআধি বন্ঠিত হবে।
৬৭৪৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মু’মিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও প্রিয়। তবে যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে মারা যায় তার সম্পদ তার নিকটতম আত্মীয়রা পাবে। আর যে ব্যক্তি ঋণ অথবা নাবালক সন্তানাদি রেখে মারা যায় আমিই তার অভিভাবক। তার জন্য আমাকেই যেন ডাকা হয়। [২২৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৮৯)
হাদিস নং: ৬৭৪৬
সহিহ (Sahih)
امية بن بسطام حدثنا يزيد بن زريع عن روح عن عبد الله بن طاوس عن ابيه عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الحقوا الفراىض باهلها فما تركت الفراىض فلاولى رجل ذكر
৬৭৪৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুনির্দিষ্ট অংশের হাকদারদের মীরাস দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়দের প্রাপ্য। [৬৭৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯০)
হাদিস নং: ৬৭৪৭
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم قال قلت لابي اسامة حدثكم ادريس حدثنا طلحة عن سعيد بن جبير عن ابن عباس (ولكل جعلنا موالي والذين عاقدت ايمانكم) قال كان المهاجرون حين قدموا المدينة يرث الانصاري المهاجري دون ذوي رحمه للاخوة التي اخى النبي صلى الله عليه وسلم بينهم فلما نزلت (ولكل جعلنا موالي) قال نسختها(والذين عاقدت ايمانكم)
৬৭৪৭. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ) এ আয়াত সম্বন্ধে বলেন, মুহাজিরগণ যখন মদিনায় আসলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মুহাজির ও আনসারগণের মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন জুড়ে দেয়ার কারণে আনসারগণের সঙ্গে যাদের যাবিল আরহাম-এর সম্পর্ক ছিল তাদের ছাড়াও মুহাজিরগণ আনসারগণের সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতেন। অতঃপর وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ..... الآية- অর্থাৎ ’যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছ’ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ অতঃপর আয়াতের বিধান রহিত হয়ে গেল। [২২৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯১)
হাদিস নং: ৬৭৪৮
সহিহ (Sahih)
يحيى بن قزعة حدثنا مالك عن نافع عن ابن عمر ان رجلا لاعن امراته في زمن النبي صلى الله عليه وسلم وانتفى من ولدها ففرق النبي صلى الله عليه وسلم بينهما والحق الولد بالمراة
৬৭৪৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর উপর লি’আন করেছিল। এবং তার সন্তানটিকেও অস্বীকার করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনকে বিচ্ছেদ করে দিলেন এবং সন্তানটি মহিলাকে দিয়ে দিলেন। [৪৭৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯২)
হাদিস নং: ৬৭৪৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن عروة عن عاىشة قالت كان عتبة عهد الى اخيه سعد ان ابن وليدة زمعة مني فاقبضه اليك فلما كان عام الفتح اخذه سعد فقال ابن اخي عهد الي فيه فقام عبد بن زمعة فقال اخي وابن وليدة ابي ولد على فراشه فتساوقا الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال سعد يا رسول الله ابن اخي قد كان عهد الي فيه فقال عبد بن زمعة اخي وابن وليدة ابي ولد على فراشه فقال النبي صلى الله عليه وسلم هو لك يا عبد بن زمعة الولد للفراش وللعاهر الحجر ثم قال لسودة بنت زمعة احتجبي منه لما راى من شبهه بعتبة فما راها حتى لقي الله
৬৭৪৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, ’উত্বাহ তার ভাই সা’দকে ওসীয়্যত করল যে, যামাআ নামক বাঁদীর গর্ভের সন্তানটি আমার। তাই তুমি তাকে তোমার অধিকারে নিয়ে নাও। মক্কা বিজয়ের বছর সা’দ তাকে নিজের অধিকারে নিলেন এবং বললেন যে, এ আমার ভাতিজা। আমার ভাই এর সম্পর্কে ওসীয়্যত করে গিয়েছিলেন। তখন আবদ ইবনু যাম’আহ উত্থান করল এবং বললো, এ তো আমার ভাই। কারণ, এ হল আমার পিতার দাসীর পুত্র। এবং আমার পিতার বিছানায় তার জন্ম হয়েছে। উভয়েই তাঁদের বিবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উত্থাপন করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদ ইবনু যা’মআ, এ ছেলে তুমিই পাবে। কেননা, শয্যা যার, সন্তান তার। আর ব্যভিচারীর জন্য হল পাথর। এরপর তিনি সাওদা বিন্ত যাম’আহকে বললেনঃ এ ছেলে থেকে তুমি পর্দা পালন করবে। কারণ, তিনি ছেলেটির মাঝে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন। কাজেই সে মৃত্যু পর্যন্ত সাওদা (রাঃ)-কে দেখতে পায়নি। [২০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৩)
হাদিস নং: ৬৭৫০
সহিহ (Sahih)
مسدد عن يحيى عن شعبة عن محمد بن زياد انه سمع ابا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الولد لصاحب الفراش
৬৭৫০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সন্তান হল শয্যাধিপতির। [৬৮১৮; মুসলিম ১৭/১০, হাঃ ১৪৫৮, আহমাদ ৭৭৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২৯৪)
হাদিস নং: ৬৭৫১
সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا شعبة عن الحكم عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة قالت اشتريت بريرة فقال النبي صلى الله عليه وسلم اشتريها فان الولاء لمن اعتق واهدي لها شاة فقال هو لها صدقة ولنا هدية قال الحكم وكان زوجها حرا وقول الحكم مرسل وقال ابن عباس رايته عبدا
৬৭৫১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারীরা (নামক এক দাসীকে)-কে কিনতে চাইলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও। কারণ, তার পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা তার হবে যে তাকে আযাদ করবে। বারীরাকে (একদা একটি বকরী) সাদাকা দেয়া হল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি তার জন্য সাদাকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া বা উপঢৌকন।[1]
হাকাম বলেন, বারীরার স্বামী ছিল একজন আযাদ ব্যক্তি। আবূ ’আবদুল্লাহ্ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, হাকামের বর্ণনা মুরসাল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তাকে (অর্থাৎ বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি। [৪৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৫)
হাকাম বলেন, বারীরার স্বামী ছিল একজন আযাদ ব্যক্তি। আবূ ’আবদুল্লাহ্ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, হাকামের বর্ণনা মুরসাল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তাকে (অর্থাৎ বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি। [৪৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৫)
নোট: [1] আট প্রকারের লোক কেবল যাকাত নিতে পারবে (সূরা তাওবাহ্ঃ ৬০), কিন্তু যাকাত-গ্রহীতা দাওয়াত খাওয়ালে যে কোন মানুষ খেতে পারবে।
হাদিস নং: ৬৭৫২
সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن عبد الله قال حدثني مالك عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال انما الولاء لمن اعتق
৬৭৫২. ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ দাস-দাসীর পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক হবে যে তাকে আযাদ করবে। [২১৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৬)
হাদিস নং: ৬৭৫৩
সহিহ (Sahih)
قبيصة بن عقبة حدثنا سفيان عن ابي قيس عن هزيل عن عبد الله قال ان اهل الاسلام لا يسيبون وان اهل الجاهلية كانوا يسيبون
৬৭৫৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের ধারক বাহকরা সায়বা বানায় না। জাহিলী যুগের লোকেরা সায়বা বানাত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৭)
হাদিস নং: ৬৭৫৪
সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا ابو عوانة عن منصور عن ابراهيم عن الاسود ان عاىشة اشترت بريرة لتعتقها واشترط اهلها ولاءها فقالت يا رسول الله اني اشتريت بريرة لاعتقها وان اهلها يشترطون ولاءها فقال اعتقيها فانما الولاء لمن اعتق او قال اعطى الثمن قال فاشترتها فاعتقتها قال وخيرت فاختارت نفسها وقالت لو اعطيت كذا وكذا ما كنت معه قال الاسود وكان زوجها حرا قول الاسود منقطع وقول ابن عباس رايته عبدا اصح
৬৭৫৪. আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ সিদ্দিকা (রাঃ) বারীরাকে আযাদ করার উদ্দেশে ক্রয় করলেন। তখন তার মনিব শর্ত করল যে বারীরার পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা বিক্রয়কারীর থাকবে। তখন ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি বারীরাকে আযাদ করার উদ্দেশে কিনতে চাই। কিন্তু তার মনিবরা তার ওয়ালা তাদের কাছে রাখার শর্ত করছে। তিনি বললেনঃ তাকে (কিনে) আযাদ কর। কারণ, ওয়ালা হল তার যে আযাদ করে। অথবা তিনি বললেনঃ তার মূল্য দিয়ে দাও। রাবী বলেন, তখন তিনি তাকে ক্রয় করলেন এবং আযাদ করে দিলেন। রাবী আরও বললেন, তাকে তার (স্বামীর সঙ্গে) থাকা না থাকার ব্যাপারে যে কোন একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেয়া হল। স্বামীর সঙ্গ থেকে নিজের মুক্তিকেই সে গ্রহণ করল এবং বলল, আমাকে যদি এত এত কিছু দেয়াও হয় তবুও আমি তার সাথী হব না।
আসওয়াদ (রহ.) বলেন, তার স্বামী আযাদ ছিল। আবূ ’আবদুল্লাহ্ [বুখারী (রহ.)] বলেন, আসওয়াদ-এর বক্তব্য সূত্র ছিন্ন। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্য ’আমি তাকে (বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি’ অধিকতর শুদ্ধ। [৪৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৮)
আসওয়াদ (রহ.) বলেন, তার স্বামী আযাদ ছিল। আবূ ’আবদুল্লাহ্ [বুখারী (রহ.)] বলেন, আসওয়াদ-এর বক্তব্য সূত্র ছিন্ন। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্য ’আমি তাকে (বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি’ অধিকতর শুদ্ধ। [৪৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৮)
হাদিস নং: ৬৭৫৫
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن الاعمش عن ابراهيم التيمي عن ابيه قال قال علي ما عندنا كتاب نقروه الا كتاب الله غير هذه الصحيفة قال فاخرجها فاذا فيها اشياء من الجراحات واسنان الابل قال وفيها المدينة حرم ما بين عير الى ثور فمن احدث فيها حدثا او اوى محدثا فعليه لعنة الله والملاىكة والناس اجمعين لا يقبل منه يوم القيامة صرف ولا عدل ومن والى قوما بغير اذن مواليه فعليه لعنة الله والملاىكة والناس اجمعين لا يقبل منه يوم القيامة صرف ولا عدل وذمة المسلمين واحدة يسعى بها ادناهم فمن اخفر مسلما فعليه لعنة الله والملاىكة والناس اجمعين لا يقبل منه يوم القيامة صرف ولا عدل
৬৭৫৫. ইবরাহীম তামীমীর পিতা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আলী (রাঃ) বলেছেন, কিতাবুল্লাহ্ ছাড়া আমাদের কাছে আর কোন কিতাব তো নেই যা আমরা পাঠ করতে পারি। অবশ্য এ লিপিখানা আছে। রাবী বলেন, এরপর তিনি তা বের করলেন। দেখা গেল যে, তাতে যখম ও উটের বয়সের ব্যাপারে লেখা আছে। রাবী বলেন, তাতে আরও লিপিবদ্ধ ছিল যে, (মাদ্বীনার) আইর থেকে নিয়ে অমুক স্থানের মধ্যবর্তী স্থান হারাম (বা সম্মানিত)। এখানে যে বিদআত করবে বা বিদআতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশতা, মানুষ এবং সকলের লা’নাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার কোন ফরজ ’আমল এবং কোন নফল কবূল করবেন না। যে ব্যক্তি মনিবের অনুমতি ব্যতীত কোন গোলামকে আশ্রয় প্রদান করে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশ্তা এবং সমস্ত মানুষের লা’নাত। তার কোন ফরজ বা নফল কিয়ামতের দিন কবুল করা হবে না। সমস্ত মুসলিমের দায়িত্ব-কর্তব্য-অঙ্গীকার এক, একজন সাধারণ মুসলিমও তা মেনে চলবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের আশ্রয় প্রদানকে বানচাল করে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লা’নাত। কিয়ামতের দিন তার কোন ফরজ ও নফল কবূল করা হবে না। [১১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৯)
হাদিস নং: ৬৭৫৬
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر قال نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن بيع الولاء وعن هبته
৬৭৫৬. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালা (গোলামের পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা) বিক্রয় এবং হেবা করতে নিষেধ করেছেন। [২৫৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০০)
হাদিস নং: ৬৭৫৭
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد عن مالك عن نافع عن ابن عمر ان عاىشة ام المومنين ارادت ان تشتري جارية تعتقها فقال اهلها نبيعكها على ان ولاءها لنا فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لا يمنعك ذلك فانما الولاء لمن اعتق
وَكَانَ الْحَسَنُ لاَ يَرَى لَهُ وِلاَيَةً وَقَالَ النَّبِيُّصلى الله عليه وسلم الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَيُذْكَرُ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ رَفَعَهُ قَالَ هُوَ أَوْلَى النَّاسِ بِمَحْيَاهُ وَمَمَاتِهِ وَاخْتَلَفُوا فِي صِحَّةِ هَذَا الْخَبَرِ
তবে হাসান (রহ.) তার জন্য ওয়ালার স্বীকৃতি দিতেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ওয়ালা তার জন্য যে আযাদ করে। তামীমে দারী (রাঃ) থেকে মারফু’ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ওয়ালার জীবন ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার আযাদকারী সর্বাধিক প্রাধান্যযোগ্য। তবে এ খবরের সত্যতা সম্পর্কে অন্যেরা মতভেদ করেছেন।
৬৭৫৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ (রাঃ) একটি বাঁদী ক্রয় করলেন এবং তাকে মুক্ত করলেন। তখন তার মালিকরা তাঁকে বলল যে, আমরা এ বাঁদী আপনার কাছে এ শর্তে বিক্রি করতে পারি যে, ওয়ালা আমাদের থাকবে। তিনি ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ এটা তোমার জন্য বাধা হবে না। কারণ, ওয়ালা তার যে আযাদ করে। [২১৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০১)
তবে হাসান (রহ.) তার জন্য ওয়ালার স্বীকৃতি দিতেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ওয়ালা তার জন্য যে আযাদ করে। তামীমে দারী (রাঃ) থেকে মারফু’ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ওয়ালার জীবন ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার আযাদকারী সর্বাধিক প্রাধান্যযোগ্য। তবে এ খবরের সত্যতা সম্পর্কে অন্যেরা মতভেদ করেছেন।
৬৭৫৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ (রাঃ) একটি বাঁদী ক্রয় করলেন এবং তাকে মুক্ত করলেন। তখন তার মালিকরা তাঁকে বলল যে, আমরা এ বাঁদী আপনার কাছে এ শর্তে বিক্রি করতে পারি যে, ওয়ালা আমাদের থাকবে। তিনি ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ এটা তোমার জন্য বাধা হবে না। কারণ, ওয়ালা তার যে আযাদ করে। [২১৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০১)
হাদিস নং: ৬৭৫৮
সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا جرير عن منصور عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة قالت اشتريت بريرة فاشترط اهلها ولاءها فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال اعتقيها فان الولاء لمن اعطى الورق قالت فاعتقتها قالت فدعاها رسول الله صلى الله عليه وسلم فخيرها من زوجها فقالت لو اعطاني كذا وكذا ما بت عنده فاختارت نفسها قال وكان زوجها حرا
৬৭৫৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা বাঁদীকে আমি ক্রয় করলাম। তখন তার মালিকেরা তার ওয়ালার শর্ত করল (যে ওয়ালার মালিক তারাই থাকবে)। ব্যাপারটি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আযাদ করে দাও। কেননা, ওয়ালা তার যে মূল্য প্রদান করে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরাকে ডাকলেন এবং তার স্বামীর (স্ত্রী হয়ে থাকা বা না থাকার) ব্যাপারে তাকে স্বাধীনতা দিলেন। তখন সে বলল, সে যদি আমাকে এত এত মালও দেয় তবুও আমি তার সঙ্গে রাত্রি যাপন করব না এবং সে নিজেকেই স্বাধীন করে নিল। রাবী বলেন, তার স্বামী স্বাধীন ব্যক্তি ছিল। [৪৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০২)
হাদিস নং: ৬৭৫৯
সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا همام عن نافع عن ابن عمر قال ارادت عاىشة ان تشتري بريرة فقالت للنبي صلى الله عليه وسلم انهم يشترطون الولاء فقال النبي صلى الله عليه وسلم اشتريها فانما الولاء لمن اعتق
৬৭৫৯. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ (রাঃ) বারীরাকে কিনতে চাইলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বললেন যে, ওয়ালা তাদেরই থাকবে বলে শর্ত করছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও। কারণ, ওয়ালা তার, যে আযাদ করে। [২১৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০৩)
হাদিস নং: ৬৭৬০
সহিহ (Sahih)
ابن سلام اخبرنا وكيع عن سفيان عن منصور عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الولاء لمن اعطى الورق وولي النعمة
৬৭৬০. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ওয়ালা হল ঐ ব্যক্তির জন্য যে রৌপ্য (মূল্য) প্রদান করে। আর সে নিয়ামতের অধিকারী হয়। [৪৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০৪)
হাদিস নং: ৬৭৬১
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا معاوية بن قرة وقتادة عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مولى القوم من انفسهم او كما قال
৬৭৬১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন কাওমের (আযাদকৃত) গোলাম তাদেরই অন্তর্ভুক্ত অথবা এ জাতীয় কোন কথা বলেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০৫)
হাদিস নং: ৬৭৬২
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا شعبة عن قتادة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ابن اخت القوم منهم او من انفسهم
৬৭৬২. আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন কাওমের বোনের পুত্র সে কাওমেরই অন্তর্ভুক্ত। এখানে مِنْهُمْ বলেছেন অথবা مِنْ أَنْفُسِهِمْ বলেছেন। [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০৬)