অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৮৬/১. যিনা ও মদ্য পান।
মোট ৮৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৮৫২ সহিহ (Sahih)
عياش بن الوليد حدثنا عبد الاعلى حدثنا معمر عن الزهري عن سالم عن عبد الله بن عمر انهم كانوا يضربون على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اشتروا طعاما جزافا ان يبيعوه في مكانهم حتى يوووه الى رحالهم.
৬৮৫২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় প্রহার করা হত যখন তারা অনুমানের ভিত্তিতে খাদ্যদ্রব্য কেনা বেচা করত। তারা তা যেন তাদের জায়গায় বিক্রি না করে যে পর্যন্ত না তারা তা আপন বিক্রয়ের জায়গায় ওঠায়। [২১২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৮৮)
হাদিস নং: ৬৮৫৩ সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن الزهري اخبرني عروة عن عاىشة قالت ما انتقم رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه في شيء يوتى اليه حتى ينتهك من حرمات الله فينتقم لله.
৬৮৫৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ের কোন প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, যে পর্যন্ত না আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় সীমা অতিক্রম করা হয়। এমন হলে তিনি আল্লাহর জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। [৩৫৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৮৯)
হাদিস নং: ৬৮৫৪ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال الزهري عن سهل بن سعد قال شهدت المتلاعنين وانا ابن خمس عشرة سنة فرق بينهما فقال زوجها كذبت عليها ان امسكتها قال فحفظت ذاك من الزهري ان جاءت به كذا وكذا فهو وان جاءت به كذا وكذا كانه وحرة فهو وسمعت الزهري يقول جاءت به للذي يكره.
৬৮৫৪. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দু’জন লি’আনকারীর ক্ষেত্রে দেখেছি যে, তাদের উভয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়েছে। আমি তখন পনের বছরের যুবক ছিলাম। এরপর তার স্বামী বলল, আমি যদি তাকে রেখে দেই তাহলে তার উপর আমি মিথ্যা আরোপ করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি যুহরী (রহ.) থেকে তা স্মরণ রেখেছি যে, যদি সে এমন এমন গঠনের সন্তান জন্ম দেয় তাহলে সে সত্যবাদী। আর যদি এমন এমন গঠনের সন্তান জন্ম দেয় যেন টিকটিকির মত লাল, তাহলে সে মিথ্যাচারী। আমি যুহরী (রহ.)-কে বলতে শুনেছি যে, সে সন্তানটি ঘৃণ্য আকৃতির জন্ম নেয়। [৪২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৯০)
হাদিস নং: ৬৮৫৫ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان حدثنا ابو الزناد عن القاسم بن محمد قال ذكر ابن عباس المتلاعنين فقال عبد الله بن شداد هي التي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لو كنت راجما امراة عن غير بينة قال لا تلك امراة اعلنت.
৬৮৫৫. কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) দু’জন লি’আনকারীর ব্যাপারে আলোচনা করলেন। তখন ’আবদুল্লাহ্ ইবনু সাদ্দাদ (রহ.) বললেন, এ কি সে মহিলা যার সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যদি কোন মহিলাকে বিনা প্রমাণে পাথর মেরে হত্যা করতাম.....? তিনি বললেন, না। ওটা ঐ নারী যে প্রকাশ্যে অন্যায় কাজ করত। [৫৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৯১)
হাদিস নং: ৬৮৫৬ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثنا يحيى بن سعيد عن عبد الرحمن بن القاسم عن القاسم بن محمد عن ابن عباس ذكر التلاعن عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال عاصم بن عدي في ذلك قولا ثم انصرف واتاه رجل من قومه يشكو انه وجد مع اهله رجلا فقال عاصم ما ابتليت بهذا الا لقولي فذهب به الى النبي صلى الله عليه وسلم فاخبره بالذي وجد عليه امراته وكان ذلك الرجل مصفرا قليل اللحم سبط الشعر وكان الذي ادعى عليه انه وجده عند اهله ادم خدلا كثير اللحم فقال النبي صلى الله عليه وسلم اللهم بين فوضعت شبيها بالرجل الذي ذكر زوجها انه وجده عندها فلاعن النبي صلى الله عليه وسلم بينهما فقال رجل لابن عباس في المجلس هي التي قال النبي صلى الله عليه وسلم لو رجمت احدا بغير بينة رجمت هذه فقال لا تلك امراة كانت تظهر في الاسلام السوء.
৬৮৫৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট লি’আনকারীদের ব্যাপারে আলোচনা করা হল। তখন আসিম ইবনু আদী (রাঃ) তার সম্পর্কে কিছু কটূক্তি করলেন। তারপর তিনি ফিরে গেলেন। তখন তার স্বগোত্রের এক ব্যক্তি তার কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তার স্ত্রীর কাছে অন্য এক লোককে পেয়েছে। আসিম (রাঃ) বলেন, আমি আমার এ উক্তির দরুনই এ পরীক্ষায় পড়েছি। এরপর তিনি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলেন। আর সে তাঁকে ঐ লোক সম্পর্কে জানাল যার সঙ্গে তার স্ত্রীকে পেয়েছে। এ লোকটি গৌর বর্ণ, হাল্কা-পাতলা, সোজা চুলবিশিষ্ট ছিল। আর যে লোক সম্পর্কে দাবি করেছে যে, সে তাকে তার স্ত্রীর কাছে পেয়েছে সে ছিল মেটে বর্ণের, মোটা গোড়ালি, মোটা গোশ্তবিশিষ্ট। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ্! স্পষ্ট করে দিন।

ফলে সে মহিলাটি ঐ লোকের মত সন্তান জন্ম দিল যার কথা তার স্বামী উল্লেখ করেছিল যে, তাকে তার স্ত্রীর সঙ্গে পেয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের মধ্যে লি’আন কার্যকর করলেন। তখন এক লোক এ মজলিসেই ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বলল, এটা কি সেই নারী যার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি আমি কাউকে বিনা প্রমাণে রজম করতাম তাহলে একে রজম করতাম? তিনি বলেন, না। ওটা ঐ নারী যে ইসলামে থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে অন্যায় কাজ করত। [৫৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৯২)
হাদিস নং: ৬৮৫৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، حدثنا سليمان، عن ثور بن زيد، عن ابي الغيث، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ اجتنبوا السبع الموبقات ‏"‏‏.‏ قالوا يا رسول الله وما هن قال ‏"‏ الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حرم الله الا بالحق، واكل الربا، واكل مال اليتيم، والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات المومنات الغافلات ‏"‏‏.‏
(وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلاَ تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ إِلاَّ الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاَتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ)

আর যারা সাধ্বী নারীদের প্রতি অপবাদ দেয় এবং স্বপক্ষে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশীটি বেত্রাঘাত কর....ক্ষমাশীল দয়ালু- (সূরাহ আন্-নূর ২৪/৪-৫)। যারা সাধ্বী, সরলমনা ও বিশ্বাসী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে.....। (সূরাহ আন্-নূর ২৪/২৩)


৬৮৫৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় হতে বেঁচে থাক। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, জাদু, যথার্থ কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করা যা আল্লাহ্ হারাম করেছেন, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল খাওয়া, জিহাদের ময়দান থেকে পিঠ ফিরিয়ে নেয়া, সাধ্বী বিশ্বাসী সরলমনা নারীদের প্রতি অপবাদ দেয়া।[1] [২৭৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৯৩)
নোট: [1] হাদীসে উল্লেখিত موبقة বা ধ্বংসাত্মক বিষয় দ্বারা বড় কবীরা গুনাহ উদ্দেশ্য, যা আবু হুরায়রার (রাঃ) অন্য সূত্রে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন ইমাম বাযযার ও ইবনুল মুনযির আবু হুরায়রার সূত্রে বর্ণনা করেন, الكبائر الشرك بالله وقتل النفس এবং ইমাম নাসায়ী, ইমাম ত্বরাবানী সুহাইবের সূত্রে আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন,

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مامن عبد يصلي الخمس ويجتنب الكبائر السبع الا فتحت له أبواب الجنة।

হাদীসটিকে ইবনে হিববান ও হাকেম সহীহ বলেছেন। কিন্তু উল্লেখিত হাদীসের সব ব্যাখ্যা করেননি। অন্যদিকে ইসমাঈল আল কাজী সহীহ সনদে সাঈদ ইবনু মুসায়্যিব হতে ১০টির কথা উল্লেখ করেন। তিনি হাদীসে উল্লেখিত মূল ৭টির সাথে যা অতিরিক্ত বর্ণনা করেন তা হল, وعقوق الوالدين- واليمين الغموس وشرب الخمر কবীরা গুনাহের সংখ্যা নিরুপণ নিয়ে রয়েছে বিশদ মতভেদ। ইমাম ত্ববারী ও ইসমাঈল ইবনু আববাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তাঁকে ৭টি কবীরা গুনাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ কবীরা গুনাহ ৭৭টিরও অধিক। অন্য আরেক বর্ণনায় ওগুলো প্রায় ৭০টি, আবার আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে, ওগুলোর সংখ্যা ৭শ’টি। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৮৫৮ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد عن فضيل بن غزوان عن ابن ابي نعم عن ابي هريرة قال سمعت ابا القاسم صلى الله عليه وسلم يقول من قذف مملوكه وهو بريء مما قال جلد يوم القيامة الا ان يكون كما قال.
৬৮৫৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে কেউ আপন ক্রীতদাসের প্রতি অপবাদ আরোপ করল- অথচ সে তা থেকে পবিত্র যা সে বলেছে- ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে তাকে কশাঘাত করা হবে। তবে যদি এমনই হয় যেমন সে বলেছে (সে ক্ষেত্রে কশাঘাত করা হবে না)। [মুসলিম ২৭/৯, হাঃ ১৬৬০, আহমাদ ৯৫৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৯৪)
হাদিস নং: ৬৮৫৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا ابن عيينة، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابي هريرة، وزيد بن خالد الجهني، قالا جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال انشدك الله الا قضيت بيننا بكتاب الله‏.‏ فقام خصمه وكان افقه منه فقال صدق، اقض بيننا بكتاب الله، واذن لي يا رسول الله‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قل ‏"‏‏.‏ فقال ان ابني كان عسيفا في اهل، هذا فزنى بامراته، فافتديت منه بماىة شاة وخادم واني سالت رجالا من اهل العلم فاخبروني ان على ابني جلد ماىة وتغريب عام، وان على امراة هذا الرجم‏.‏ فقال ‏"‏ والذي نفسي بيده لاقضين بينكما بكتاب الله، الماىة والخادم رد عليك، وعلى ابنك جلد ماىة وتغريب عام، ويا انيس اغد على امراة هذا فسلها، فان اعترفت فارجمها ‏"‏‏.‏ فاعترفت فرجمها‏.‏
’উমার (রাঃ) এটা করেছেন।


৬৮৫৯-৬৮৬০. আবূ হুরাইরাহ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলল, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফায়সালা করবেন। তখন তার প্রতিপক্ষ দাঁড়াল, সে ছিল তার চেয়ে বেশি বিজ্ঞ এবং বলল, সে ঠিকই বলেছে। আপনি আল্লাহর কিতাব মুতাবিক আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে অনুমতি দিন, হে আল্লাহর রাসূল! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ বল। তখন সে বলল, আমার ছেলে এই লোকের পরিবারে মজুর ছিল, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে বসে। ফলে আমি একশ’ ছাগল ও একটি গোলামের বিনিময়ে তার সঙ্গে আপোস করে নেই। তারপর ক’জন আলিমকে জিজ্ঞেস করি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের ওপর একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। আর

এ ব্যক্তির স্ত্রীর উপর রজম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মুতাবিক তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব। একশ’ (ছাগল) আর গোলাম তোমার কাছে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের উপর আসবে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। হে উনাইস! তুমি সকালে মহিলার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবে। যদি সে স্বীকার করে তবে তাকে রজম করবে। সে স্বীকার করল। কাজেই তাকে সে রজম করল। [২৩১৪, ২৩১৫; মুসলিম ২৯/৫, হাঃ ১৬৯৭, ১৬৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৯৫)
হাদিস নং: ৬৮৬০ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا ابن عيينة، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابي هريرة، وزيد بن خالد الجهني، قالا جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال انشدك الله الا قضيت بيننا بكتاب الله‏.‏ فقام خصمه وكان افقه منه فقال صدق، اقض بيننا بكتاب الله، واذن لي يا رسول الله‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قل ‏"‏‏.‏ فقال ان ابني كان عسيفا في اهل، هذا فزنى بامراته، فافتديت منه بماىة شاة وخادم واني سالت رجالا من اهل العلم فاخبروني ان على ابني جلد ماىة وتغريب عام، وان على امراة هذا الرجم‏.‏ فقال ‏"‏ والذي نفسي بيده لاقضين بينكما بكتاب الله، الماىة والخادم رد عليك، وعلى ابنك جلد ماىة وتغريب عام، ويا انيس اغد على امراة هذا فسلها، فان اعترفت فارجمها ‏"‏‏.‏ فاعترفت فرجمها‏.‏

৬৮৫৯-৬৮৬০. আবূ হুরাইরাহ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলল, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফায়সালা করবেন। তখন তার প্রতিপক্ষ দাঁড়াল, সে ছিল তার চেয়ে বেশি বিজ্ঞ এবং বলল, সে ঠিকই বলেছে। আপনি আল্লাহর কিতাব মুতাবিক আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে অনুমতি দিন, হে আল্লাহর রাসূল! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ বল। তখন সে বলল, আমার ছেলে এই লোকের পরিবারে মজুর ছিল, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে বসে। ফলে আমি একশ’ ছাগল ও একটি গোলামের বিনিময়ে তার সঙ্গে আপোস করে নেই। তারপর ক’জন আলিমকে জিজ্ঞেস করি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের ওপর একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। আর


এ ব্যক্তির স্ত্রীর উপর রজম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মুতাবিক তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব। একশ’ (ছাগল) আর গোলাম তোমার কাছে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের উপর আসবে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। হে উনাইস! তুমি সকালে মহিলার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবে। যদি সে স্বীকার করে তবে তাকে রজম করবে। সে স্বীকার করল। কাজেই তাকে সে রজম করল। [২৩১৪, ২৩১৫; মুসলিম ২৯/৫, হাঃ ১৬৯৭, ১৬৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৯৫)
অধ্যায় তালিকা