অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯১/১. রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওয়াহীর শুরু হয় ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে।
মোট ৬৬ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭০০২
সহিহ (Sahih)
قالت فقلت ما يضحكك يا رسول الله قال " ناس من امتي عرضوا على، غزاة في سبيل الله، يركبون ثبج هذا البحر، ملوكا على الاسرة او مثل الملوك على الاسرة ". شك اسحاق. قالت فقلت يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم، فدعا لها رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم وضع راسه ثم استيقظ وهو يضحك. فقلت ما يضحكك يا رسول الله قال " ناس من امتي عرضوا على، غزاة في سبيل الله ". كما قال في الاولى. قالت فقلت يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم. قال " انت من الاولين ". فركبت البحر في زمان معاوية بن ابي سفيان فصرعت عن دابتها حين خرجت من البحر، فهلكت.
৭০০২. উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোককে আমার কাছে পেশ করা হয়েছে। যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত সাগরের মধ্যে জাহাজের ওপর আরোহণ করে বাদশাহর সিংহাসনে অথবা বাদশাহ্দের মত তারা সিংহাসনে বসে আছে। ইসহাক রাবী সন্দেহ করেছেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু’আ করলেন। এরপর আবার তিনি মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হেসে হেসে জেগে উঠলেন। আমি বললাম, আপনি হাসলেন কেন হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে লিপ্ত আমার একদল উম্মাতকে আমার কাছে পেশ করা হয়েছে। আগের মত এ দল সম্পর্কেও বললেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে এ দলভুক্ত করে দেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। উম্মু হারাম (রাঃ) মু’আবীয়াহ ইবনু সুফ্ইয়ান (রাঃ)-এর আমলে সামুদ্রিক জাহাজে উঠেন এবং সমুদ্র থেকে পেরিয়ে আসার সময় আপন সাওয়ারী থেকে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারা যান। [৬৭৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩০)
হাদিস নং: ৭০০৩
সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير حدثني الليث حدثني عقيل عن ابن شهاب اخبرني خارجة بن زيد بن ثابت ان ام العلاء امراة من الانصار بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم اخبرته انهم اقتسموا المهاجرين قرعة قالت فطار لنا عثمان بن مظعون وانزلناه في ابياتنا فوجع وجعه الذي توفي فيه فلما توفي غسل وكفن في اثوابه دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت رحمة الله عليك ابا الساىب فشهادتي عليك لقد اكرمك الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وما يدريك ان الله اكرمه فقلت بابي انت يا رسول الله فمن يكرمه الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اما هو فوالله لقد جاءه اليقين والله اني لارجو له الخير و والله ما ادري وانا رسول الله صلى الله عليه وسلم ماذا يفعل بي فقالت والله لا ازكي بعده احدا ابدا.
৭০০৩. খারিজাহ ইবনু যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, উম্মুল আলা নামক এক আনসারী মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাই’আত গ্রহণ করেন। তিনি তাঁকে জানান যে, আনসারগণ লটারির সাহায্যে মুহাজিরগণকে ভাগ করে নিয়েছিল। আমাদের ভাগে আসলেন ’উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)। আমরা তাকে আমাদের ঘরের মেহমান করে নিলাম। এরপর তিনি এমন এক ব্যথায় আক্রান্ত হলেন যে, সে ব্যথায় তার মৃত্যু হল। মৃত্যুর পর তাঁকে গোসল দেয়া হল। তাঁর কাপড় দিয়েই তাঁকে কাফন পরানো হল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। উম্মুল আলা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, তোমার ওপর আল্লাহর রহমত হোক, হে আবূ সাইব! আমার সাক্ষ্য তোমার বেলায় এটাই যে আল্লাহ্ তোমাকে সম্মানিত করেছেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কী করে জানলে যে আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক! তাহলে কাকে আল্লাহ্ সম্মানিত করবেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ আল্লাহর কসম! তাঁর ব্যাপার তো হল, তার মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! তার জন্য আমি কল্যাণই আশা করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? তখন উম্মুল আলা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আগামীতে কখনো কারো পবিত্র হওয়ার সাক্ষ্য দেব না। [১২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩১)
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কী করে জানলে যে আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক! তাহলে কাকে আল্লাহ্ সম্মানিত করবেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ আল্লাহর কসম! তাঁর ব্যাপার তো হল, তার মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! তার জন্য আমি কল্যাণই আশা করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? তখন উম্মুল আলা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আগামীতে কখনো কারো পবিত্র হওয়ার সাক্ষ্য দেব না। [১২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩১)
হাদিস নং: ৭০০৪
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري بهذا وقال ما ادري ما يفعل به قالت واحزنني فنمت فرايت لعثمان عينا تجري فاخبرت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ذلك عمله.
৭০০৪. যুহরী (রহ.) থেকে এ হাদীসে বলা হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি জানি না, তার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? উম্মুল আলা (রাঃ) বললেন, আমি এতে চিন্তিত হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। তখন আমি স্বপ্নে ’উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)এর জন্য প্রবহমান ঝর্ণা দেখতে পেলাম। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সম্পর্কে জানালাম। তিনি বললেনঃ এটা তার ’আমল। [১২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩২)
হাদিস নং: ৭০০৫
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن ابي سلمة ان ابا قتادة الانصاري وكان من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وفرسانه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول الرويا من الله والحلم من الشيطان فاذا حلم احدكم الحلم يكرهه فليبصق عن يساره وليستعذ بالله منه فلن يضره.
৭০০৫. আবূ ক্বাতাদাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ও অশ্বারোহী যোদ্ধা ছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে এবং খারাপ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে। যখন তোমাদের কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে অপছন্দনীয় মনে হয়, তখন সে যেন তার বামদিকে থু থু নিক্ষেপ করে এবং এ স্বপ্ন থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়। সেক্ষেত্রে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করবে না। [৩২৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৩)
হাদিস নং: ৭০০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان، اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس، عن الزهري، اخبرني حمزة بن عبد الله، ان ابن عمر، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " بينا انا ناىم اتيت بقدح لبن، فشربت منه، حتى اني لارى الري يخرج من اظفاري، ثم اعطيت فضلي ". يعني عمر. قالوا فما اولته يا رسول الله قال " العلم ".
৭০০৬. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি একবার ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার কাছে একটি দুধের পেয়ালা পেশ করা হল, আমি তা থেকে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করলাম। তৃপ্তির চিহ্ন আমার নখ দিয়ে প্রকাশ পেতে লাগল। অতঃপর বাকী অংশ অবশিষ্টাংশ ’উমারকে দিলাম। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেনঃ ইলম। [৩২৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৪)
হাদিস নং: ৭০০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا ابي، عن صالح، عن ابن شهاب، حدثني حمزة بن عبد الله بن عمر، انه سمع عبد الله بن عمر ـ رضى الله عنهما ـ يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بينا انا ناىم اتيت بقدح لبن، فشربت منه، حتى اني لارى الري يخرج من اطرافي، فاعطيت فضلي عمر بن الخطاب ". فقال من حوله فما اولت ذلك يا رسول الله قال " العلم ".
৭০০৭. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমার কাছে দুধের একটি পেয়ালা হাজির করা হল। আমি পরিতৃপ্ত হয়ে তা থেকে পান করলাম। এমনকি তৃপ্তির চিহ্ন আমার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। অতঃপর বাকী অংশ ’উমার ইবনু খাত্তাবকে দিলাম। তাঁর পাশের লোকজন জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ ইলম।[1] [৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৫)
নোট: [1] স্বপ্নের মধ্যে দুধ দেখলে তার কি ব্যাখ্যা করা হবে-এ সম্পর্কে ইমাম মুহাল্লাব বলেন, দুধ ফিতরাত, সুন্নাত, কোরআন ও ইলমের প্রমাণ বহন করে। উল্লেখিত হাদীস হতে আরও জানা যায় :
(১) বড়দের দেখা স্বপ্ন তাদের চেয়ে ছোটদের নিকট বর্ণনা করার বৈধতা।
(২) আল্লাহ সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জ্ঞানের যে পরিমাণ সে পর্যন্ত কেউ পৌঁছতে পারবে না। (ফাতহুল বারী)
স্বপ্ন মূলত তিন প্রকারঃ
ভাল ও সৎ স্বপ্নঃ এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ এবং নবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। [এ মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে]।
অপছন্দনীয় খারাপ স্বপ্নঃ এ স্বপ্ন শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে দেখানো হয়ে থাকে, যাতে এর দ্বারা আদম সন্তান চিন্তিত হয় এবং শয়তান তাকে নিয়ে ঘুমের মধ্যে খেলা করতে পারে।
জাগ্রত অবস্থায় যে বিষয়ে মানুষ নিজে নিজে কথা বলে অথবা চিন্তা করে সে বিষয়টি ঘুমের মধ্যে দেখা। এ তৃতীয় প্রকারের স্বপ্নের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখবে তার জাগ্রত অবস্থার অভ্যাসগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন কোন ব্যক্তির অভ্যাস হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য খাওয়া কিন্তু সে সে সময়ে ঘুমিয়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখে যে, সে খাচ্ছে, অথবা সে পানাহার না করে ঘুমিয়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখে যে বমি করছে।
[উল্লেখ্য কোন ব্যক্তি মন্দ বা অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে, সে সে স্বপ্ন দেখার সময় যেদিকে কাত হয়ে শুয়ে ছিল সেদিক পরিবর্তন করে অন্য দিকে কাত হয়ে শুবে, তিনবার আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম পাঠ করবে, বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলবে। এতেও স্বাভাবিকতা ফিরে না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে অযূ করে দু’রাক‘আত নফল সালাত আদায় করবে। এ ধরনের স্বপ্ন কাউকে জানাবে না। আর কোন খুশির স্বপ্ন দেখলে তা শুধুমাত্র সে ব্যক্তিকেই জানাবে যে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।
(১) বড়দের দেখা স্বপ্ন তাদের চেয়ে ছোটদের নিকট বর্ণনা করার বৈধতা।
(২) আল্লাহ সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জ্ঞানের যে পরিমাণ সে পর্যন্ত কেউ পৌঁছতে পারবে না। (ফাতহুল বারী)
স্বপ্ন মূলত তিন প্রকারঃ
ভাল ও সৎ স্বপ্নঃ এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ এবং নবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। [এ মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে]।
অপছন্দনীয় খারাপ স্বপ্নঃ এ স্বপ্ন শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে দেখানো হয়ে থাকে, যাতে এর দ্বারা আদম সন্তান চিন্তিত হয় এবং শয়তান তাকে নিয়ে ঘুমের মধ্যে খেলা করতে পারে।
জাগ্রত অবস্থায় যে বিষয়ে মানুষ নিজে নিজে কথা বলে অথবা চিন্তা করে সে বিষয়টি ঘুমের মধ্যে দেখা। এ তৃতীয় প্রকারের স্বপ্নের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখবে তার জাগ্রত অবস্থার অভ্যাসগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন কোন ব্যক্তির অভ্যাস হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য খাওয়া কিন্তু সে সে সময়ে ঘুমিয়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখে যে, সে খাচ্ছে, অথবা সে পানাহার না করে ঘুমিয়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখে যে বমি করছে।
[উল্লেখ্য কোন ব্যক্তি মন্দ বা অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে, সে সে স্বপ্ন দেখার সময় যেদিকে কাত হয়ে শুয়ে ছিল সেদিক পরিবর্তন করে অন্য দিকে কাত হয়ে শুবে, তিনবার আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম পাঠ করবে, বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলবে। এতেও স্বাভাবিকতা ফিরে না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে অযূ করে দু’রাক‘আত নফল সালাত আদায় করবে। এ ধরনের স্বপ্ন কাউকে জানাবে না। আর কোন খুশির স্বপ্ন দেখলে তা শুধুমাত্র সে ব্যক্তিকেই জানাবে যে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।
হাদিস নং: ৭০০৮
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا يعقوب بن ابراهيم حدثني ابي عن صالح عن ابن شهاب قال حدثني ابو امامة بن سهل انه سمع ابا سعيد الخدري يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينما انا ناىم رايت الناس يعرضون علي وعليهم قمص منها ما يبلغ الثدي ومنها ما يبلغ دون ذلك ومر علي عمر بن الخطاب وعليه قميص يجره قالوا ما اولته يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الدين.
৭০০৮ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি একবার ঘুমিয়েছিলাম। একদল লোককে স্বপ্নে দেখলাম, তাদেরকে আমার কাছে আনা হচ্ছে। তাদের গায়ে ছিল জামা। কারো কারো জামা স্তন পর্যন্ত, আর কারো কারো তার নিচ পর্যন্ত। ’উমার ইবনু খাত্তাব আমার নিকট দিয়ে গেল। তার গায়ের জামা মাটিতে হেঁচড়ে চলছিল। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কী ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেনঃ দ্বীন। [২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৬)
হাদিস নং: ৭০০৯
সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير حدثني الليث حدثني عقيل عن ابن شهاب اخبرني ابو امامة بن سهل عن ابي سعيد الخدري انه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بينا انا ناىم رايت الناس عرضوا علي وعليهم قمص فمنها ما يبلغ الثدي ومنها ما يبلغ دون ذلك وعرض علي عمر بن الخطاب وعليه قميص يجتره قالوا فما اولته يا رسول الله قال الدين.
৭০০৯. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমি একসময় ঘুমিয়ে ছিলাম। আমি দেখলাম, আমরা কাছে একদল লোককে আনা হল, তাদের গায়ে ছিল জামা। কারো কারো জামা স্তন পর্যন্ত। আর কারো কারো এর নিচ পর্যন্ত। আর ’উমার ইবনু খাত্তাবকে এমন অবস্থায় আমার কাছে আনা হল যে, সে তার গায়ের জামা হেঁচড়িয়ে চলছিল। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেনঃ দ্বীন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৭)
হাদিস নং: ৭০১০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد الجعفي حدثنا حرمي بن عمارة حدثنا قرة بن خالد عن محمد بن سيرين قال قال قيس بن عباد كنت في حلقة فيها سعد بن مالك وابن عمر فمر عبد الله بن سلام فقالوا هذا رجل من اهل الجنة فقلت له انهم قالوا كذا وكذا قال سبحان الله ما كان ينبغي لهم ان يقولوا ما ليس لهم به علم انما رايت كانما عمود وضع في روضة خضراء فنصب فيها وفي راسها عروة وفي اسفلها منصف والمنصف الوصيف فقيل ارقه فرقيته حتى اخذت بالعروة فقصصتها على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يموت عبد الله وهو اخذ بالعروة الوثقى.
৭০১০. কায়স ইবনু ’উবাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক মজলিসে ছিলাম। যেখানে সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ) এবং ইবনু ’উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। এ সময় ’আবদুল্লাহ্ ইবনু সালাম (রাঃ) ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকেরা বলল, ঐ লোকটি জান্নাতবাসীদের একজন। আমি তাঁকে বললাম, লোকেরা এমন এমন বলছে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ্! তাদের জন্য উচিত নয় মতামত ব্যক্ত করা, যে বিষয় সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম, যেন একটা স্তম্ভ একটি সবুজ বাগানে রাখা হয়েছে এবং সেটা যেখানে রাখা হয়েছে তার উপর ভাগে একটি রশি ছিল। আর নিচের দিকে ছিল একজন খাদিম। ’মিনসাফ’ অর্থ খাদিম। বলা হল, এ স্তম্ভ বেয়ে উপরে উঠ। আমি উপরের দিকে উঠে রশিটি ধরে ফেললাম। এরপর এ স্বপ্ন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, ’আবদুল্লাহ্ মযবূত রশি ধরা অবস্থায় মারা যাবে। [৩৮১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৮)
হাদিস নং: ৭০১১
সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه عن عاىشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اريتك في المنام مرتين اذا رجل يحملك في سرقة من حرير فيقول هذه امراتك فاكشفها فاذا هي انت فاقول ان يكن هذا من عند الله يمضه
৭০১১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাকে আমায় দু’বার স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম, এক ব্যক্তি তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বয়ে নিয়ে আসছে আর বলছে ইনি আপনার স্ত্রী। আমি তার নিকাব উন্মোচন করে দেখতে পাই যে ঐ মহিলাটি তুমিই এবং আমি বলছি, যদি এটা আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে তা হলে তিনি তা সত্যে পরিণত করবেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৯)
হাদিস নং: ৭০১২
সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا ابو معاوية اخبرنا هشام عن ابيه عن عاىشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اريتك قبل ان اتزوجك مرتين رايت الملك يحملك في سرقة من حرير فقلت له اكشف فكشف فاذا هي انت فقلت ان يكن هذا من عند الله يمضه ثم اريتك يحملك في سرقة من حرير فقلت اكشف فكشف فاذا هي انت فقلت ان يك هذا من عند الله يمضه.
৭০১২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাকে (’আয়িশাহকে) বিয়ে করার আগে দু’বার আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি দেখেছি, একজন ফেরেশতা তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বয়ে নিয়ে আসছে। আমি বললাম, আপনি নিকাব সরিয়ে দিন। যখন সে নিকার সরিয়ে দিল তখন আমি দেখতে পেলাম যে, সেই মহিলা তুমিই। আমি তখন বললাম, এটা যদি আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি তা সত্যে পরিণত করবেন। এরপর আবার আমাকে দেখানো হল যে, ফেরেশতা তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বহন করে নিয়ে আসছে। আমি বললাম, আপনি (তার নিকাব) সরিয়ে দিন। সে তা সরিয়ে দিলে আমি দেখতে পাই যে, সেই মহিলা তুমিই। তখন আমি বললামঃ এটা যদি আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি সত্যে পরিণত করবেন। [৩৮৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪০)
হাদিস নং: ৭০১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير، حدثنا الليث، حدثني عقيل، عن ابن شهاب، اخبرني سعيد بن المسيب، ان ابا هريرة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " بعثت بجوامع الكلم، ونصرت بالرعب، وبينا انا ناىم اتيت بمفاتيح خزاىن الارض، فوضعت في يدي ". قال محمد وبلغني ان جوامع الكلم ان الله يجمع الامور الكثيرة التي كانت تكتب في الكتب قبله في الامر الواحد والامرين. او نحو ذلك.
৭০১৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ বিস্তারিত অর্থবহ বাণী দিয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ভীতি সঞ্চারকারী প্রভাব দিয়ে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমার কাছে পৃথিবীর ভান্ডারসমূহের চাবি পেশ করে আমার সামনে দেয়া হল। (আবূ ’আবদুল্লাহ্) মুহাম্মাদ বুখারী (রহ.) বলেন, আমার কাছে এ কথা পৌঁছেছে যে, ’সংক্ষিপ্ত অথচ বিশদ অর্থবহ বাণী’-এর অর্থ হল, আল্লাহর অনেক বিষয় যা আগের কিতাবসমূহে লেখা হত একটি অথবা দু’টি বিষয়ে বিন্যস্ত করে দেন। অথবা এর অর্থ তেমনি কিছু। [২৯৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪১)
হাদিস নং: ৭০১৪
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا ازهر عن ابن عون ح و حدثني خليفة حدثنا معاذ حدثنا ابن عون عن محمد حدثنا قيس بن عباد عن عبد الله بن سلام قال رايت كاني في روضة ووسط الروضة عمود في اعلى العمود عروة فقيل لي ارقه قلت لا استطيع فاتاني وصيف فرفع ثيابي فرقيت فاستمسكت بالعروة فانتبهت وانا مستمسك بها فقصصتها على النبي صلى الله عليه وسلم فقال تلك الروضة روضة الاسلام وذلك العمود عمود الاسلام وتلك العروة عروة الوثقى لا تزال مستمسكا بالاسلام حتى تموت
৭০১৪. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি একটি বাগানে আছি। বাগানের মাঝে একটি স্তম্ভ। স্তম্ভের শিরোভাগে একটি হাতল। তখন আমাকে বলা হল, উপরের দিকে উঠ। আমি বললাম, পারছি না। তখন আমার কাছে একজন খাদিম আসল এবং আমার কাপড় গুটিয়ে দিল। আমি উপরের দিকে উঠতে উঠতে হাতলটি ধরে ফেললাম। হাতলটি ধরে থাকা অবস্থায় আমি জেগে গেলাম। তারপর এ স্বপ্ন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ ঐ বাগান ইসলামের বাগান, ঐ স্তম্ভ ইসলামের স্তম্ভ, আর ঐ হাতল হল মযবুত হাতল। তুমি মৃত্যু অবধি ইসলামকে শক্তভাবে ধরে থাকবে। [৩৮১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪২)
হাদিস নং: ৭০১৫
সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا وهيب عن ايوب عن نافع عن ابن عمر قال رايت في المنام كان في يدي سرقة من حرير لا اهوي بها الى مكان في الجنة الا طارت بي اليه فقصصتها على حفصة.
91/24. بَاب عَمُودِ الْفُسْطَاطِ تَحْتَ وِسَادَتِهِ
৯১/২৪. অধ্যায়: স্বপ্নের ভিতর নিজের বালিশের নিচে তাঁবুর খুঁটি দেখা।
৭০১৫. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পাই, আমার হাতে যেন রেশমী এক টুকরা কাপড়। জান্নাতের যেখানেই তা আমি নিক্ষেপ করি তা আমাকে সেখানেই উড়িয়ে নিয়ে যায়। এ স্বপ্ন আমি হাফসাহ (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। [৪৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩০ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৩ প্রথমাংশ)
৯১/২৪. অধ্যায়: স্বপ্নের ভিতর নিজের বালিশের নিচে তাঁবুর খুঁটি দেখা।
৭০১৫. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পাই, আমার হাতে যেন রেশমী এক টুকরা কাপড়। জান্নাতের যেখানেই তা আমি নিক্ষেপ করি তা আমাকে সেখানেই উড়িয়ে নিয়ে যায়। এ স্বপ্ন আমি হাফসাহ (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। [৪৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩০ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৩ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৭০১৬
সহিহ (Sahih)
فقصتها حفصة على النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان اخاك رجل صالح او قال ان عبد الله رجل صالح
৭০১৬. আর হাফসাহ (রাঃ) তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমার ভাই একজন নেককার লোক। অথবা বললেনঃ ’আবদুল্লাহ্ তো একজন নেককার লোক। [১১২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৩ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৭০১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن صباح، حدثنا معتمر، سمعت عوفا، حدثنا محمد بن سيرين، انه سمع ابا هريرة، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم" اذا اقترب الزمان لم تكد تكذب رويا المومن، ورويا المومن جزء من ستة واربعين جزءا من النبوة. " قال محمد وانا اقول هذه قال وكان يقال الرويا ثلاث حديث النفس، وتخويف الشيطان، وبشرى من الله، فمن راى شيىا يكرهه فلا يقصه على احد، وليقم فليصل. قال وكان يكره الغل في النوم، وكان يعجبهم القيد، ويقال القيد ثبات في الدين. وروى قتادة ويونس وهشام وابو هلال عن ابن سيرين عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم وادرجه بعضهم كله في الحديث، وحديث عوف ابين. وقال يونس لا احسبه الا عن النبي صلى الله عليه وسلم في القيد. قال ابو عبد الله لا تكون الاغلال الا في الاعناق.
৭০১৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) নিকটবর্তী হবে তখন মু’মিনের স্বপ্ন খুব কমই অবাস্তবায়িত থাকবে। আর মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আর নবুয়তের কোন কিছুই অসত্য হতে পারে না। রাবী মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন, আমি এমন বলছি। তিনি বলেন, এ কথা বলা হয় যে, স্বপ্ন তিন প্রকার, মনের কল্পনা, শয়তানের তরফ থেকে ভয় দেখানো এবং আল্লাহর তরফ হতে সুসংবাদ। তাই যদি কেউ অপছন্দনীয় কিছু দেখে তবে সে যেন তা কারো কাছে বর্ণনা না করে। বরং উঠে যেন (নফল) সালাত আদায় করে নেয়। রাবী বলেন, স্বপ্নে শিকল দেখা অপছন্দনীয় মনে করা হত এবং পায়ে বেড়ি দেখাকে তারা পছন্দ করতেন। বলা হত, পায়ে বেড়ি দেখার ব্যাখ্যা হলো দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা।
ক্বাতাদাহ, ইউনুস, হিশাম ও আবূ হিলাল (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত হাদীসকে বর্ণনা করেছেন। আর কেউ কেউ এসবকে হাদীসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (অপরদিকে) আউফের বর্ণনা কৃত হাদীস সুস্পষ্ট। ইউনুস (রহ.) বলেছেন, আমি বন্ধনের ব্যাখ্যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরফ থেকেই মনে করি। আবূ ’আবদুল্লাহ্ [ইমামু বুখারী (রহ.)] বলেন, শিকল গলাতেই বাঁধা হয়। [মুসলিম পর্ব ৪২/হাঃ ২২৬৩, আহমাদ ১০৫৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৪)
ক্বাতাদাহ, ইউনুস, হিশাম ও আবূ হিলাল (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত হাদীসকে বর্ণনা করেছেন। আর কেউ কেউ এসবকে হাদীসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (অপরদিকে) আউফের বর্ণনা কৃত হাদীস সুস্পষ্ট। ইউনুস (রহ.) বলেছেন, আমি বন্ধনের ব্যাখ্যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরফ থেকেই মনে করি। আবূ ’আবদুল্লাহ্ [ইমামু বুখারী (রহ.)] বলেন, শিকল গলাতেই বাঁধা হয়। [মুসলিম পর্ব ৪২/হাঃ ২২৬৩, আহমাদ ১০৫৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৪)
হাদিস নং: ৭০১৮
সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر عن الزهري عن خارجة بن زيد بن ثابت عن ام العلاء وهي امراة من نساىهم بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت طار لنا عثمان بن مظعون في السكنى حين اقترعت الانصار على سكنى المهاجرين فاشتكى فمرضناه حتى توفي ثم جعلناه في اثوابه فدخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت رحمة الله عليك ابا الساىب فشهادتي عليك لقد اكرمك الله قال وما يدريك قلت لا ادري والله قال اما هو فقد جاءه اليقين اني لارجو له الخير من الله والله ما ادري وانا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يفعل بي ولا بكم قالت ام العلاء فوالله لا ازكي احدا بعده قالت ورايت لعثمان في النوم عينا تجري فجىت رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له فقال ذاك عمله يجري له.
৭০১৮. উম্মুল ’আলা (রাঃ) হতে বর্ণিত। যিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়’আত করেছিলেন তিনি তাদের একজন। তিনি বলেন, যখন মুহাজিরদের বাসস্থান নির্ধারণের জন্য আনসারগণ লটারী দিলেন, তখন আমাদের ঘরে বসবাসের জন্য ’উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ) আমাদের ভাগে পড়েন। তিনি রোগগ্রস্ত হয়ে পড়লে আমরা তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করি। অবশেষে তিনি মারা যান। এরপর আমরা তাকে তার কাপড় দিয়েই কাফন পরিয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরে আসলেন। আমি বললাম, হে আবূ সাঈব! তোমার ওপর আল্লাহর রহমত হোক। তোমার বেলায় আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ্ তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তিনি বললেনঃ তুমি কী করে জানলে? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি জানি না। তিনি বললেনঃ তার তো মৃত্যু হয়ে গেছে, আমি তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণই আশা করছি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না যে, আমার সঙ্গে এবং তোমাদের সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? উম্মুল আলা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আর কক্ষনো কারো পবিত্রতার প্রত্যয়ন করব না। উম্মুল আলা (রাঃ) বলেন, আমি স্বপ্নে ’উসমান (রাঃ)-এর জন্য প্রবাহিত ঝর্ণা দেখেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সেটা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ এটা তাঁর ’আমল’ তার জন্য জারি থাকবে। [১২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৫)
হাদিস নং: ৭০১৯
সহিহ (Sahih)
يعقوب بن ابراهيم بن كثير حدثنا شعيب بن حرب حدثنا صخر بن جويرية حدثنا نافع ان ابن عمر حدثه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينا انا على بىر انزع منها اذ جاء ابو بكر وعمر فاخذ ابو بكر الدلو فنزع ذنوبا او ذنوبين وفي نزعه ضعف فغفر الله له ثم اخذها عمر بن الخطاب من يد ابي بكر فاستحالت في يده غربا فلم ار عبقريا من الناس يفري فريه حتى ضرب الناس بعطن.
৭০১৯. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ঃ একবার (আমি স্বপ্নে দেখলাম) আমি একটি কুপের কাছে বসে কূপ থেকে পানি তুলছি। এমন সময় আমার কাছে আবূ বকর ও ’উমার আসল। আবূ বকর বালতিটি হাতে নিয়ে এক বা দু’বালতি পানি উঠাল। আর তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করুন। এরপর আবূ বকরের হাত থেকে ’উমার তা নিল। তার হাতে বালতিটি বেশ বড় হয়ে গেল। আমি কোন শক্তিশালী লোককে ’উমারের মত এত অভিজ্ঞ কর্মঠ দেখিনি। যার ফলে লোকেরা তাদের পরিতৃপ্ত উটগুলো নিয়ে বাসস্থানে পৌঁছে গেল।[1] [৩৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৬)
নোট: [1] ইসলামের নিয়ম নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনকে এখানে বালতি দিয়ে পানি উঠানো দ্বারা বুঝানো হয়েছে। আল্লাহর রসূলের পর প্রথম খলীফা আবূ বকরের আমলে যুদ্ধ-বিদ্রোহের কারণে খেলাফাত পরিচালনা ও তাত্থেকে সুফল লাভের ধারা বিঘ্নিত হয়। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে খেলাফাত পরিচালনা করেন। ইসলামী হুকুমাত রাজ্যে রাজ্যে বিস্তৃতি লাভ করে এবং মানুষেরা এর সুফল লাভ করে চরমভাবে তৃপ্ত হয়।
হাদিস নং: ৭০২০
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا زهير حدثنا موسى بن عقبة عن سالم عن ابيه عن رويا النبي صلى الله عليه وسلم في ابي بكر وعمر قال رايت الناس اجتمعوا فقام ابو بكر فنزع ذنوبا او ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ثم قام ابن الخطاب فاستحالت غربا فما رايت من الناس من يفري فريه حتى ضرب الناس بعطن.
৭০২০. সালিমের পিতা [’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি আবূ বকর ও ’উমার (রাঃ) সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বপ্ন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি লোকদেরকে জড় হতে দেখলাম। তখন আবূ বকর দাঁড়িয়ে এক বা দু’বালতি পানি উঠালো। আর তার উঠানোতে কিছু দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করুন। এরপর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়াল। আর তার হাতে বালতিটি বেশ বড় হয়ে গেল। আমি লোকদের মধ্যে ’উমারের মত এতটা অভিজ্ঞ কর্মঠ কাউকে দেখিনি। যার ফলে লোকেরা তাদের পরিতৃপ্ত উটগুলো নিয়ে বাসস্থানে পৌঁছে গেল। [৩৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৭)
হাদিস নং: ৭০২১
সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير حدثني الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب اخبرني سعيد ان ابا هريرة اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا انا ناىم رايتني على قليب وعليها دلو فنزعت منها ما شاء الله ثم اخذها ابن ابي قحافة فنزع منها ذنوبا او ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ثم استحالت غربا فاخذها عمر بن الخطاب فلم ار عبقريا من الناس ينزع نزع عمر بن الخطاب حتى ضرب الناس بعطن.
৭০২১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দেখলাম, আমি একটি কূপের কাছে আছি। আর এর নিকট একটি বালতি আছে। আমি কুপ থেকে পানি উঠালাম- যতখানি আল্লাহর ইচ্ছা ছিল। এরপর বালতিটি ইবনু আবূ কুহাফা নিলেন। তিনি কূপ থেকে এক বা দু’বালতি পানি উঠালেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করুন। তারপর বালতিটি বেশ বড় হয়ে গেল। তখন তা ’উমার ইবনুল খাত্তাব নিলেন। আমি কোন শক্তিশালী লোককে ’উমারের মত পানি উঠাতে দেখিনি। অবশেষে লোকেরা তাদের পরিতৃপ্ত উটগুলো নিয়ে বাসস্থানে পৌঁছে গেল। [৩৬৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৮)