অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯৩/১. আল্লাহর বাণীঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও...
মোট ৮৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭১৩৭
সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله عن يونس عن الزهري اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن انه سمع ابا هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من اطاعني فقد اطاع الله ومن عصاني فقد عصى الله ومن اطاع اميري فقد اطاعني ومن عصى اميري فقد عصاني.
৭১৩৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে আল্লাহরই নাফরমানী করল। এবং যে আমার (নির্বাচিত) আমীরের আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল। আর যে আমার (নির্বাচিত) আমীরের নাফরমানী করল সে আমারই নাফরমানী করল।[1] [২৯৫৭; মুসলিম ৩৩/৮, হাঃ ১৮৩৫, আহমাদ ৯৩৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫২)
নোট: [1] যে আমীর কুরআন ও আল্লাহর রাসূলের সহীহ হাদীস মোতাবেক নেতৃত্ব করেন তিনিই রাসূল (সাঃ) এর আমীর। এ আমীরের নাফরমানী করলে রাসূল (সাঃ)’র নাফরমানী করা হবে। আমীর কোন অপছন্দনীয় কাজ করলেও তার বিরুদ্ধাচারণ না করে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।
হাদিস নং: ৭১৩৮
সহিহ (Sahih)
اسماعيل حدثني مالك عن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال الا كلكم راع وكلكم مسىول عن رعيته فالامام الذي على الناس راع وهو مسىول عن رعيته والرجل راع على اهل بيته وهو مسىول عن رعيته والمراة راعية على اهل بيت زوجها وولده وهي مسىولة عنهم وعبد الرجل راع على مال سيده وهو مسىول عنه الا فكلكم راع وكلكم مسىول عن رعيته.
৭১৩৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম, যিনি জনগণের দায়িত্বশীল, তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল; সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কোন ব্যক্তির দাস স্বীয় মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল; সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব জেনে রাখ, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। [৮৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৩)
হাদিস নং: ৭১৩৯
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال كان محمد بن جبير بن مطعم يحدث انه بلغ معاوية وهو عنده في وفد من قريش ان عبد الله بن عمرو يحدث انه سيكون ملك من قحطان فغضب فقام فاثنى على الله بما هو اهله ثم قال اما بعد فانه بلغني ان رجالا منكم يحدثون احاديث ليست في كتاب الله ولا توثر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم واولىك جهالكم فاياكم والاماني التي تضل اهلها فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان هذا الامر في قريش لا يعاديهم احد الا كبه الله في النار على وجهه ما اقاموا الدين تابعه نعيم عن ابن المبارك عن معمر عن الزهري عن محمد بن جبير.
৭১৩৯. মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র ইবনু মুতঈম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তারা কুরাইশের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মু’আবিয়াহ (রাঃ)-এর নিকট ছিলেন। তখন মু’আবিয়াহ (রাঃ)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, অচিরেই কাহতান গোত্র থেকে একজন বাদশাহ্ হবেন। এ শুনে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন এবং দাঁড়ালেন। এরপর তিনি আল্লাহ্ তা’আলার যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন, তারপর তিনি বললেন, যা হোক! আমার নিকট এ মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমাদের কিছু লোক এমন কথা বলে থাকে যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণিত নেই। এরাই তোমাদের মাঝে সবচেয়ে জাহিল। সুতরাং তোমরা এ সকল মনগড়া কথা থেকে যা স্বয়ং বক্তাকেই পথভ্রষ্ট করে- সতর্ক থাক। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, (খিলাফাতের) এ বিষয়টি কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যদ্দিন তারা দ্বীনের উপর দৃঢ় থাকবে। যে কেউ তাদের বিরোধিতা করে তবে আল্লাহ্ তাকেই অধোমুখে নিপতিত করবেন।[1] [৩৫০০]
নু’আয়ম (রহ.) .... মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র (রহ.) সূত্রে শুআয়ব-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৪)
নু’আয়ম (রহ.) .... মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র (রহ.) সূত্রে শুআয়ব-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৪)
নোট: [1] যতদিন ইসলামী হুকুমাত কুরাইশ প্রভাবিত এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল ততদিন কুরাইশরাই ছিলেন ইমারাতের হকদার। কারণ কুরাইশগণ হলেন দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কুরাইশ প্রভাবিত ভূখন্ডে কুরাইশদের বর্তমানে অন্য কেউ আমীর হলে তিনি সকলের নিকট গ্রহণীয় হতেন না, সেখানে কুরাইশরাই সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য। আরব ভূখন্ডে ইসলামী হুকুমাতের প্রেক্ষাপটে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এ কথা বলেছিলেন। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাই মুসলিমদের নেতৃত্ব দিবে।
হাদিস নং: ৭১৪০
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا عاصم بن محمد سمعت ابي يقول قال ابن عمر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يزال هذا الامر في قريش ما بقي منهم اثنان.
৭১৪০. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (খিলাফাতের) এই বিষয়টি সব সময় কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতদিন তাদের থেকে দু’জন লোকও অবশিষ্ট থাকবে। [৩৫০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৫)
হাদিস নং: ৭১৪১
সহিহ (Sahih)
شهاب بن عباد حدثنا ابراهيم بن حميد عن اسماعيل عن قيس عن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا حسد الا في اثنتين رجل اتاه الله مالا فسلطه على هلكته في الحق واخر اتاه الله حكمة فهو يقضي بها ويعلمها.
৭১৪১. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’রকমের লোক ব্যতীত অন্য কারো প্রতি ঈর্ষা করা যায় না। একজন হলো এমন লোক, যাকে আল্লাহ্ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে তা সৎপথে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন। অন্যজন হল, যাকে আল্লাহ্ হিকমাত (সঠিক জ্ঞান) দান করেছেন, সে তার দ্বারা বিচার ফয়সালা করে এবং তা অন্যকে শিক্ষা দেয়। [৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৬)
হাদিস নং: ৭১৪২
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد عن شعبة عن ابي التياح عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اسمعوا واطيعوا وان استعمل عليكم عبد حبشي كان راسه زبيبة.
৭১৪২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের উপর এমন কোন হাবশী দাসকেও শাসক নিযুক্ত করা হয়, যার মাথাটি কিশমিশের মত তবুও তার কথা শোন ও তার আনুগত্য কর। [৬৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৭)
হাদিস নং: ৭১৪৩
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد عن الجعد عن ابي رجاء عن ابن عباس يرويه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم من راى من اميره شيىا فكرهه فليصبر فانه ليس احد يفارق الجماعة شبرا فيموت الا مات ميتة جاهلية.
৭১৪৩. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি তার আমীর (ক্ষমতাসীন) থেকে এমন কিছু দেখে, যা সে অপছন্দ করে, তাহলে সে যেন ধৈর্য ধরে। কারণ, যে কেউ জামা’আত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে মারা যাবে, তার মৃত্যু হবে জাহিলীয়্যাতের মৃত্যু। [৭০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৮)
হাদিস নং: ৭১৪৪
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد عن عبيد الله حدثني نافع عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال السمع والطاعة على المرء المسلم فيما احب وكره ما لم يومر بمعصية فاذا امر بمعصية فلا سمع ولا طاعة.
৭১৪৪. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যতক্ষণ আল্লাহর নাফরমানীর নির্দেশ দেয়া না হয়, ততক্ষণ পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় সকল বিষয়ে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তার মান্যতা ও আনুগত্য করা কর্তব্য। যখন নাফরমানীর নির্দেশ দেয়া হয়, তখন আর কোন মান্যতা ও আনুগত্য নেই। [২৯৫৫; মুসলিম ৩৩/৮, হাঃ ১৮৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৯)
হাদিস নং: ৭১৪৫
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثنا سعد بن عبيدة عن ابي عبد الرحمن عن علي قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية وامر عليهم رجلا من الانصار وامرهم ان يطيعوه فغضب عليهم وقال اليس قد امر النبي صلى الله عليه وسلم ان تطيعوني قالوا بلى قال قد عزمت عليكم لما جمعتم حطبا واوقدتم نارا ثم دخلتم فيها فجمعوا حطبا فاوقدوا نارا فلما هموا بالدخول فقام ينظر بعضهم الى بعض قال بعضهم انما تبعنا النبي صلى الله عليه وسلم فرارا من النار افندخلها فبينما هم كذلك اذ خمدت النار وسكن غضبه فذكر للنبي صلى الله عليه وسلم فقال لو دخلوها ما خرجوا منها ابدا انما الطاعة في المعروف.
৭১৪৫. ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ষুদ্র সৈন্যদল পাঠালেন এবং একজন আনসারীকে তাঁদের আমীর নিযুক্ত করে সেনাবাহিনীকে তার আনুগত্য করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি (’আমীর) তাদের উপর রাগান্বিত হলেন এবং বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করার নির্দেশ দেননি? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের দৃঢ়ভাবে বলছি যে, তোমরা কাঠ জড় কর এবং তাতে আগুন জ্বালাও। এরপর তোমরা তাতে প্রবেশকরবে। তারা কাঠ জড় করল এবং তাতে আগুন জ্বালাল। এরপর যখন তারা প্রবেশ করতে ইচ্ছা করল, তখন একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগল।
তাঁদের কেউ কেউ বলল, আগুন থেকে পরিত্রাণের জন্যই তো আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করেছি। তাহলে কি আমরা (সবশেষে) আগুনেই প্রবেশ করব? তাঁদের এসব কথোপকথনের মাঝে হঠাৎ আগুন নিভে যায়। আর তাঁর (’আমীরের) ক্রোধও দমিত হয়ে যায়। এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি বললেনঃ যদি তারা তাতে প্রবেশ করত, তাহলে কোন দিন আর এ থেকে বের হত না। জেনে রেখো! আনুগত্য কেবল বৈধ কাজেই হয়ে থাকে। [৪৩৪০; মুসলিম ৩৩/৮, হাঃ ১৮৪০, আহমাদ ৭২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬০)
তাঁদের কেউ কেউ বলল, আগুন থেকে পরিত্রাণের জন্যই তো আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করেছি। তাহলে কি আমরা (সবশেষে) আগুনেই প্রবেশ করব? তাঁদের এসব কথোপকথনের মাঝে হঠাৎ আগুন নিভে যায়। আর তাঁর (’আমীরের) ক্রোধও দমিত হয়ে যায়। এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি বললেনঃ যদি তারা তাতে প্রবেশ করত, তাহলে কোন দিন আর এ থেকে বের হত না। জেনে রেখো! আনুগত্য কেবল বৈধ কাজেই হয়ে থাকে। [৪৩৪০; মুসলিম ৩৩/৮, হাঃ ১৮৪০, আহমাদ ৭২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬০)
হাদিস নং: ৭১৪৬
সহিহ (Sahih)
حجاج بن منهال حدثنا جرير بن حازم عن الحسن عن عبد الرحمن بن سمرة قال قال لي النبي صلى الله عليه وسلم يا عبد الرحمن بن سمرة لا تسال الامارة فانك ان اعطيتها عن مسالة وكلت اليها وان اعطيتها عن غير مسالة اعنت عليها واذا حلفت على يمين فرايت غيرها خيرا منها فكفر عن يمينك وات الذي هو خير.
৭১৪৬. ’আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে ’আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ! তুমি নেতৃত্ব চেও না। কারণ চাওয়ার পর যদি তোমাকে তা দেয়া হয়, তবে তার দায়িত্ব তোমার উপরই বর্তাবে। আর যদি চাওয়া ছাড়াই তা তোমাকে দেয়া হয় তবে এ ক্ষেত্রে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর কোন বিষয়ে কসম করার পর, তার বিপরীত দিকটিকে যদি তার চেয়ে কল্যাণকর মনে কর, তাহলে কসমের কাফ্ফারা আদায় কর এবং কল্যাণকর কাজটি বাস্তবায়িত করো।[1] [৬৬২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬১)
নোট: [1] হাদীসটি এই ইঙ্গিত বহন করে যে, শাসনকার্য চেয়ে নেয়া মাকরূহ। যেমন বুখারীর অন্য রেওয়ায়েতে আছে, إنا لا نولي هذا من سأله ولا من حرص عليه।
যার পরিপ্রেক্ষিতে রসূল (সাঃ) শাসনকার্য চেয়ে নেয়ার ভয়াবহতা বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তিকে তার প্রার্থনার ফলে শাসনকার্য দেয়া হয় তাকে তার উপর সোপর্দ করে দেয়া হয় (অর্থাৎ আল্লাহর তরফ থেকে সে কোন প্রকার সাহায্য পাবে না)।
আর যে ব্যক্তিকে বিনা প্রার্থনায় শাসনকার্য দেয়া হয় তাকে আল্লাহর তরফ হতে সাহায্য দেয়া হয়। ইমাম মুহাল্লাব বলেন : এ ব্যাপারে সাহায্যের ব্যাখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে।
আনাস (রাঃ) হতে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে :
من طلب القضاء واستعان عليه باشفعاء وكل إلى نفس، ومن أكره عليه أنزل الله عليك ملكا يسدده
(ফাতহুল বারী)
যার পরিপ্রেক্ষিতে রসূল (সাঃ) শাসনকার্য চেয়ে নেয়ার ভয়াবহতা বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তিকে তার প্রার্থনার ফলে শাসনকার্য দেয়া হয় তাকে তার উপর সোপর্দ করে দেয়া হয় (অর্থাৎ আল্লাহর তরফ থেকে সে কোন প্রকার সাহায্য পাবে না)।
আর যে ব্যক্তিকে বিনা প্রার্থনায় শাসনকার্য দেয়া হয় তাকে আল্লাহর তরফ হতে সাহায্য দেয়া হয়। ইমাম মুহাল্লাব বলেন : এ ব্যাপারে সাহায্যের ব্যাখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে।
আনাস (রাঃ) হতে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে :
من طلب القضاء واستعان عليه باشفعاء وكل إلى نفس، ومن أكره عليه أنزل الله عليك ملكا يسدده
(ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৭১৪৭
সহিহ (Sahih)
ابو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا يونس عن الحسن قال حدثني عبد الرحمن بن سمرة قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم يا عبد الرحمن بن سمرة لا تسال الامارة فان اعطيتها عن مسالة وكلت اليها وان اعطيتها عن غير مسالة اعنت عليها واذا حلفت على يمين فرايت غيرها خيرا منها فات الذي هو خير وكفر عن يمينك.
৭১৪৭. ’আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ হে ’আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ! নেতৃত্ব চেয়ে নিও না। কেননা, যদি চাওয়ার পর তোমাকে তা দেয়া হয়, তাহলে তার সকল দায়িত্বভার তোমার উপরই অর্পিত হবে। আর যদি না চাওয়া সত্ত্বেও তোমাকে তা দেয়া হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সহযোগিতা করা হবে। আর কোন বিষয়ে কসম করার পর তার বিপরীত দিকটিকে যদি উত্তম বলে মনে কর, তাহলে উত্তম কাজটিই করবে আর তোমার কসমের কাফ্ফারা আদায় করে দিবে। [৬৬২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬২)
হাদিস নং: ৭১৪৮
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا ابن ابي ذىب عن سعيد المقبري عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال انكم ستحرصون على الامارة وستكون ندامة يوم القيامة فنعم المرضعة وبىست الفاطمة وقال محمد بن بشار حدثنا عبد الله بن حمران حدثنا عبد الحميد بن جعفر عن سعيد المقبري عن عمر بن الحكم عن ابي هريرة قوله.
৭১৪৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ তোমরা নিশ্চয়ই নেতৃত্বের লোভ কর, অথচ কিয়ামতের দিন তা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কত উত্তম দুগ্ধদায়িনী এবং কত মন্দ দুগ্ধ পানে বাধা দানকারিণী (এটা) (অর্থাৎ এর প্রথম দিক দুগ্ধদানের মত তৃপ্তিকর, আর পরিণাম দুধ ছাড়ানোর মত যন্ত্রণাদায়ক)। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৩)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার .... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর ভাষ্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৩)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার .... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর ভাষ্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৩)
হাদিস নং: ৭১৪৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا ابو اسامة عن بريد عن ابي بردة عن ابي موسى قال دخلت على النبي صلى الله عليه وسلم انا ورجلان من قومي فقال احد الرجلين امرنا يا رسول الله وقال الاخر مثله فقال انا لا نولي هذا من ساله ولا من حرص عليه.
৭১৪৯. আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, আমি ও আমার কওমের দু’ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। সে দু’জনের একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে (কোন বিষয়ে) ’আমীর নিযুক্ত করুন। অন্যজনও ঐরূপ কথা বলল। তখন তিনি বললেনঃ যারা নেতৃত্ব চায় এবং এর লোভ করে, আমরা তাদেরকে এ পদে নিয়োগ করি না। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৪)
হাদিস নং: ৭১৫০
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا ابو الاشهب عن الحسن ان عبيد الله بن زياد عاد معقل بن يسار في مرضه الذي مات فيه فقال له معقل اني محدثك حديثا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول ما من عبد استرعاه الله رعية فلم يحطها بنصيحة الا لم يجد راىحة الجنة.
৭১৫০. হাসান বাসরী (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ’উবাইদুল্লাহ্ ইবনু যিয়াদ (রহ.) মাকিল ইবনু ইয়াসারের মৃত্যুশয্যায় তাকে দেখতে গেলেন। তখন মাকিল (রাঃ) তাকে বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করছি যা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি যে, কোন বান্দাকে যদি আল্লাহ্ জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করেন, আর সে কল্যাণ কামনার সঙ্গে তাদের তত্ত্বাবধান না করে, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।[1] [মুসলিম ১/৬৩, হাঃ ১৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৫)
নোট: [1] নেতাদের জন্য জনগণের তত্ত্বাবধান করা ইসলামে একটি ফরয কাজ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
হাদিস নং: ৭১৫১
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور اخبرنا حسين الجعفي قال زاىدة ذكره عن هشام عن الحسن قال اتينا معقل بن يسار نعوده فدخل علينا عبيد الله فقال له معقل احدثك حديثا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ما من وال يلي رعية من المسلمين فيموت وهو غاش لهم الا حرم الله عليه الجنة.
৭১৫১. হাসান বাসরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মা’কিল ইবনু ইয়াসারের কাছে তার সেবা-শুশ্রূষার জন্য আসলাম। এ সময় ’উবাইদুল্লাহ্ প্রবেশ করল। তখন মালিক (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করে শোনাব, যা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মুসলিম জনসাধারণের দায়িত্ব লাভ করল এবং তার মৃত্যু হল এ হালতে যে, সে ছিল খিয়ানাতকারী, তাহলে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন। [মুসলিম ১/৬৩, হাঃ ১৪২, আহমাদ ২০১৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৬)
হাদিস নং: ৭১৫২
সহিহ (Sahih)
اسحاق الواسطي حدثنا خالد عن الجريري عن طريف ابي تميمة قال شهدت صفوان وجندبا واصحابه وهو يوصيهم فقالوا هل سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم شيىا قال سمعته يقول من سمع سمع الله به يوم القيامة قال ومن يشاقق يشقق الله عليه يوم القيامة فقالوا اوصنا فقال ان اول ما ينتن من الانسان بطنه فمن استطاع ان لا ياكل الا طيبا فليفعل ومن استطاع ان لا يحال بينه وبين الجنة بملء كفه من دم اهراقه فليفعل قلت لابي عبد الله من يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم جندب قال نعم جندب.
৭১৫২. তারীফ আবূ তামীমা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাফওয়ান (রহ.), জুনদাব (রাঃ) ও তাঁর সাথীদের কাছে ছিলাম। তখন তিনি তাদের নাসীহাত করছিলেন। তারা জিজ্ঞেস করল, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- থেকে কোন কথা শুনেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, যারা মানুষকে শোনাবার জন্য কোন কাজ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার এ কথা শুনিয়ে দেবেন। আর যারা অন্যের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা তার প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করবেন। তাঁরা পুনরায় বলল, আমাদেরকে কিছু নাসীহাত করুন। তিনি বললেন, মানুষের দেহের যে অংশ প্রথম দুর্গন্ধময় হবে, তা হল তার পেট। কাজেই যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে যে একমাত্র পবিত্র (হালাল) খাদ্য ব্যতীত আর কিছু সে আহার করবে না, সে যেন তাই করতে চেষ্টা করে। আর যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে যে এক আঁজলা পরিমাণ রক্তপাত ঘটিয়ে তার ও জান্নাতের মাঝে বাধা সৃষ্টি করবে না, সে যেন অবশ্যই তা করে। [ইমাম বুখারী (রহ.)-এর ছাত্র ফেরাবরী] বলেন, আমি আবূ ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) (ইমাম বুখারী)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমি শুনেছি- এ কথা কি জুন্দাব বলেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, জুনদাবই। [৬৪৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৭)
হাদিস নং: ৭১৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن سالم بن ابي الجعد، حدثنا انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال بينما انا والنبي، صلى الله عليه وسلم خارجان من المسجد فلقينا رجل عند سدة المسجد فقال يا رسول الله متى الساعة قال النبي صلى الله عليه وسلم " ما اعددت لها " فكان الرجل استكان ثم قال يا رسول الله ما اعددت لها كبير صيام ولا صلاة ولا صدقة، ولكني احب الله ورسوله. قال " انت مع من احببت ".
وَقَضَى يَحْيَى بْنُ يَعْمَرَ فِي الطَّرِيقِ وَقَضَى الشَّعْبِيُّ عَلَى بَابِ دَارِهِ
ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়ামার (রহ.) রাস্তায় বিচার কার্য করেছেন। শা’বী (রহ.) তাঁর ঘরের দরজায় বিচার কার্য করেছেন।
৭১৫৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জনে মাসজিদ থেকে বের হচ্ছিলাম। এমন সময় এক লোক মসজিদের আঙ্গিণায় আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলল,হে আল্লাহর রাসূল! ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কখন হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? এতে লোকটি যেন কিছুটা লজ্জিত হল। তারপর বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সওম, সালাত, সাদাকা খুব একটা তার জন্য করতে পারিনি। তবে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি বললেনঃ তুমি যাকে ভালবাসো কিয়ামতে তার সঙ্গেই থাকবে।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৮)
ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়ামার (রহ.) রাস্তায় বিচার কার্য করেছেন। শা’বী (রহ.) তাঁর ঘরের দরজায় বিচার কার্য করেছেন।
৭১৫৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জনে মাসজিদ থেকে বের হচ্ছিলাম। এমন সময় এক লোক মসজিদের আঙ্গিণায় আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলল,হে আল্লাহর রাসূল! ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কখন হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? এতে লোকটি যেন কিছুটা লজ্জিত হল। তারপর বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সওম, সালাত, সাদাকা খুব একটা তার জন্য করতে পারিনি। তবে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি বললেনঃ তুমি যাকে ভালবাসো কিয়ামতে তার সঙ্গেই থাকবে।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৮)
নোট: [1] ইবনু বাত্তাল বলেন, হাদীসটি হতে জানা যায় :
১. কোন মাসআলাহ যদি জানা না থাকে তাহলে সে ব্যাপারে প্রশ্নকারীর জবাব দান হতে আলেমের চুপ থাকার বৈধতা।
২. মানুষের অপ্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেয়া হতে আলেমের চুপ থাকার বৈধতা।
৩. ফিৎনা-ফাসাদের আশঙ্কা রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর দান হতে আলেমের চুপ থাকার বৈধতা।
চলমান অবস্থায় বিচার করা সম্পর্কে ইমামদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে :
ইমাম আশহাব বলেন : যদি উপলব্ধি করা হতে (অন্য কোন বিষয় তাকে) ব্যস্ত না রাখে তাহলে কোন অসুবিধা নাই। ইমাম সাহনুন বলেন : চলন্ত অবস্থায় বিচার করা উচিত নয়। ইমাম ইবনে হাবীব বলেন : সাধারণ কোন বিষয়ে কোন অসুবিধা নেই। ইমাম ইবনু বাত্তাল বলেন : এটাই উত্তম, আর ইমাম আশহাবের মতটি দলীলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইবনু ত্বীন বলেন : ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য বিষয়ে বিচার করা জায়েয নাই। ইমাম ইবনুল মুনীর বলেন : ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় ইলম সম্পর্কিত কথাবার্তা বলা যারা নিষিদ্ধ বলেন তাদের দলীল সঠিক নয়।
উপসংহারে ইবনু হাজার ’আসকালানী (রহ.) বলেন : পায়ে হাঁটা ও আরোহী হয়ে চলমান অবস্থায় রসূল (সাঃ)-কে সাহাবীদের প্রশ্ন করা সম্পর্কিত অনেক হাদীস রয়েছে। (ফাতহুল বারী)
১. কোন মাসআলাহ যদি জানা না থাকে তাহলে সে ব্যাপারে প্রশ্নকারীর জবাব দান হতে আলেমের চুপ থাকার বৈধতা।
২. মানুষের অপ্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেয়া হতে আলেমের চুপ থাকার বৈধতা।
৩. ফিৎনা-ফাসাদের আশঙ্কা রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর দান হতে আলেমের চুপ থাকার বৈধতা।
চলমান অবস্থায় বিচার করা সম্পর্কে ইমামদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে :
ইমাম আশহাব বলেন : যদি উপলব্ধি করা হতে (অন্য কোন বিষয় তাকে) ব্যস্ত না রাখে তাহলে কোন অসুবিধা নাই। ইমাম সাহনুন বলেন : চলন্ত অবস্থায় বিচার করা উচিত নয়। ইমাম ইবনে হাবীব বলেন : সাধারণ কোন বিষয়ে কোন অসুবিধা নেই। ইমাম ইবনু বাত্তাল বলেন : এটাই উত্তম, আর ইমাম আশহাবের মতটি দলীলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইবনু ত্বীন বলেন : ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য বিষয়ে বিচার করা জায়েয নাই। ইমাম ইবনুল মুনীর বলেন : ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় ইলম সম্পর্কিত কথাবার্তা বলা যারা নিষিদ্ধ বলেন তাদের দলীল সঠিক নয়।
উপসংহারে ইবনু হাজার ’আসকালানী (রহ.) বলেন : পায়ে হাঁটা ও আরোহী হয়ে চলমান অবস্থায় রসূল (সাঃ)-কে সাহাবীদের প্রশ্ন করা সম্পর্কিত অনেক হাদীস রয়েছে। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৭১৫৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور اخبرنا عبد الصمد حدثنا شعبة حدثنا ثابت البناني قال سمعت انس بن مالك يقول لامراة من اهله تعرفين فلانة قالت نعم قال فان النبي صلى الله عليه وسلم مر بها وهي تبكي عند قبر فقال اتقي الله واصبري فقالت اليك عني فانك خلو من مصيبتي قال فجاوزها ومضى فمر بها رجل فقال ما قال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت ما عرفته قال انه لرسول الله صلى الله عليه وسلم قال فجاءت الى بابه فلم تجد عليه بوابا فقالت يا رسول الله والله ما عرفتك فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان الصبر عند اول صدمة.
৭১৫৪. সাবিত বুনানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে তাঁর পরিবারের একজন মহিলাকে এ মর্মে বলতে শুনেছি যে, তুমি কি অমুক মহিলাকে চেন? সে বলল, হ্যাঁ। আনাস (রাঃ) বললেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তখন একটি কবরের পাশে কাঁদছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর। তখন সে বলল, আমার নিকট হতে সরে যাও, কেননা, তুমি আমার বিপদ থেকে মুক্ত। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অতিক্রম করে চলে গেলেন।
এ সময় অপর লোক তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাকে জিজ্ঞেস করল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কী বললেন। মহিলাটি বলল, আমি তো তাঁকে চিনতে পারিনি। লোকটি বলল, ইনিই তো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বললেন, পরে সে (মহিলাটি) রাসূলুল্লাহ্-এর দরজায় এল। তবে দরজায় কোন দ্বাররক্ষী দেখতে পেল না। তখন সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আঘাতের প্রথম চোটেই ধৈর্য ধারণ করতে হয়। [১২৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৮)
এ সময় অপর লোক তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাকে জিজ্ঞেস করল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কী বললেন। মহিলাটি বলল, আমি তো তাঁকে চিনতে পারিনি। লোকটি বলল, ইনিই তো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বললেন, পরে সে (মহিলাটি) রাসূলুল্লাহ্-এর দরজায় এল। তবে দরজায় কোন দ্বাররক্ষী দেখতে পেল না। তখন সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আঘাতের প্রথম চোটেই ধৈর্য ধারণ করতে হয়। [১২৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৮)
হাদিস নং: ৭১৫৫
সহিহ (Sahih)
محمد بن خالد الذهلي حدثنا الانصاري محمد بن عبد الله قال حدثني ابي عن ثمامة عن انس بن مالك قال ان قيس بن سعد كان يكون بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم بمنزلة صاحب الشرط من الامير.
৭১৫৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কায়স ইবনু সা’দ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এরূপ থাকতেন যেরূপ আমীরের (রাষ্ট্রপ্রধানের) সামনে পুলিশ প্রধান থাকেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭০)
হাদিস নং: ৭১৫৬
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى هو القطان عن قرة بن خالد حدثني حميد بن هلال حدثنا ابو بردة عن ابي موسى ان النبي صلى الله عليه وسلم بعثه واتبعه بمعاذ.
৭১৫৬. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (শাসনকর্তা) পাঠালেন এবং তার পশ্চাতে মু’আয (রাঃ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেও পাঠালেন। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭১)