অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯৭/১. আল্লাহর তাওহীদের দিকে উম্মাতের প্রতি নাবী...
মোট ১৯৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭৫২৪
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا ابو عوانة عن موسى بن ابي عاىشة عن سعيد بن جبير عن ابن عباس في قوله تعالى (لا تحرك به لسانك) قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يعالج من التنزيل شدة وكان يحرك شفتيه فقال لي ابن عباس فانا احركهما لك كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحركهما فقال سعيد انا احركهما كما كان ابن عباس يحركهما فحرك شفتيه فانزل الله عز وجل (لا تحرك به لسانك لتعجل به ان علينا جمعه وقرانه) قال جمعه في صدرك ثم تقروه فاذا قراناه فاتبع قرانه قال فاستمع له وانصت (ثم ان علينا) ان تقراه قال فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اتاه جبريل عليه السلام استمع فاذا انطلق جبريل قراه النبي صلى الله عليه وسلم كما اقراه
وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ تَعَالَى أَنَا مَعَ عَبْدِي حَيْثُمَا ذَكَرَنِي وَتَحَرَّكَتْ بِي شَفَتَاهُ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ বলেন, আমি আমার বান্দার সঙ্গে ততক্ষণ থাকি, যতক্ষণ সে আমাকে স্মরণ করে এবং আমার জন্য তার ঠোঁট দু’টো নাড়াচাড়া করে।
৭৫২৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ ’’কুরআনের কারণে আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না’, এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়া শুরু হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই কষ্টের অবস্থার সম্মুখীন হতেন, যে কারণে তিনি তার ঠোঁট দুটি নাড়াতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে বোঝানোর জন্য ঠোঁট দু’টি সেভাবে নাড়ছি, যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দু’টো নেড়েছিলেন। এরপর বর্ণনাকারী সা’ঈদ (রহ.) বললেন, আমিও ঠোঁট দু’টি তেমনি নেড়ে দেখাচ্ছি, যেমনি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) নেড়ে আমাকে দেখিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ঠোঁট দু’টি নাড়লেন। এ অবস্থায় আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ ’’তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহবা দ্রুততার সঙ্গে চালিত করো না, এর সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই’’- (সূরাহ আল-ক্বিয়ামহ ৭৫/১৬-১৭)।
তিনি বলেন, جَمْعُهُ -এর অর্থ আপনার বুকে এভাবে সংরক্ষণ করা, যেন পরে তা পড়তে সক্ষম হন। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর- (সূরাহ আল-ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৮)। এর অর্থ হচ্ছে আপনি তা শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর আপনি কুরআন পাঠ করবেন সে দায়িত্ব আমাদের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিব্রীল (আঃ) যখন আসতেন, তিনি তখন মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। জিব্রীল (আঃ) চলে গেলে তিনি ঠিক তেমনি পাঠ করতেন, যেমনি তাঁকে পাঠ করানো হয়েছিল। [৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০১৬)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ বলেন, আমি আমার বান্দার সঙ্গে ততক্ষণ থাকি, যতক্ষণ সে আমাকে স্মরণ করে এবং আমার জন্য তার ঠোঁট দু’টো নাড়াচাড়া করে।
৭৫২৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ ’’কুরআনের কারণে আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না’, এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়া শুরু হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই কষ্টের অবস্থার সম্মুখীন হতেন, যে কারণে তিনি তার ঠোঁট দুটি নাড়াতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে বোঝানোর জন্য ঠোঁট দু’টি সেভাবে নাড়ছি, যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দু’টো নেড়েছিলেন। এরপর বর্ণনাকারী সা’ঈদ (রহ.) বললেন, আমিও ঠোঁট দু’টি তেমনি নেড়ে দেখাচ্ছি, যেমনি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) নেড়ে আমাকে দেখিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ঠোঁট দু’টি নাড়লেন। এ অবস্থায় আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ ’’তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহবা দ্রুততার সঙ্গে চালিত করো না, এর সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই’’- (সূরাহ আল-ক্বিয়ামহ ৭৫/১৬-১৭)।
তিনি বলেন, جَمْعُهُ -এর অর্থ আপনার বুকে এভাবে সংরক্ষণ করা, যেন পরে তা পড়তে সক্ষম হন। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর- (সূরাহ আল-ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৮)। এর অর্থ হচ্ছে আপনি তা শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর আপনি কুরআন পাঠ করবেন সে দায়িত্ব আমাদের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিব্রীল (আঃ) যখন আসতেন, তিনি তখন মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। জিব্রীল (আঃ) চলে গেলে তিনি ঠিক তেমনি পাঠ করতেন, যেমনি তাঁকে পাঠ করানো হয়েছিল। [৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০১৬)
হাদিস নং: ৭৫২৫
সহিহ (Sahih)
عمرو بن زرارة عن هشيم اخبرنا ابو بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس في قوله تعالى (ولا تجهر بصلاتك ولا تخافت بها) قال نزلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم مختف بمكة فكان اذا صلى باصحابه رفع صوته بالقران فاذا سمعه المشركون سبوا القران ومن انزله ومن جاء به فقال الله لنبيه صلى الله عليه وسلم (ولا تجهر بصلاتك) اي بقراءتك فيسمع المشركون فيسبوا القران (ولا تخافت بها) عن اصحابك فلا تسمعهم (وابتغ بين ذلك سبيلا)
৭৫২৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ তোমার সালাতে স্বর উচ্চ করো না, আর তা খুব নীচুও করো না..... (সূরাহ ইসরা ১৭/১১০)। এ প্রসঙ্গে বলেন, এ আদেশ যখন নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় গোপনে অবস্থান করতেন। অথচ তিনি যখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন, কুরআন উচ্চস্বরে পড়তেন। মুশরিকরা এ কুরআন শুনলে কুরআন, কুরআনের নাযিলকারী আর যিনি এনেছেন সবাইকে গালমন্দ করত। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ্ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলে দিলেন, وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ আপনার সালাতকে এমন উচ্চস্বরে করবেন না অর্থাৎ আপনার কিরাআতকে। তাহলে মুশরিকরা শুনতে পেয়ে কুরআন সম্পর্কে গালমন্দ করবে। আর এ কুরআন আপনার সাহাবীদের কাছে এত ক্ষীণ শব্দেও পড়বেন না, যাতে আপনার কিরাআত তারা শুনতে না পায়। বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি পথ অবলম্বন করুন। [৪৭২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০১৭)
হাদিস নং: ৭৫২৬
সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه عن عاىشة قالت نزلت هذه الاية (ولا تجهر بصلاتك ولا تخافت بها) في الدعاء.
৭৫২৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’’তোমার সালাতে স্বর উচ্চ করো না, আর তা খুব নীচুও করো না’’ এ আয়াতটি দু’আ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। [৪৭২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০১৮)
হাদিস নং: ৭৫২৭
সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا ابو عاصم اخبرنا ابن جريج اخبرنا ابن شهاب عن ابي سلمة عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس منا من لم يتغن بالقران وزاد غيره يجهر به
৭৫২৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সুন্দর আওয়াজে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের নয়। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) ব্যতীত অন্যরা يَجْهَرُ بِهِ ’উচ্চস্বরে কুরআন পড়ে না’ কথাটুকু বৃদ্ধি করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০১৯)
হাদিস নং: ৭৫২৮
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا جرير عن الاعمش عن ابي صالح عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تحاسد الا في اثنتين رجل اتاه الله القران فهو يتلوه اناء الليل واناء النهار فهو يقول لو اوتيت مثل ما اوتي هذا لفعلت كما يفعل ورجل اتاه الله مالا فهو ينفقه في حقه فيقول لو اوتيت مثل ما اوتي عملت فيه مثل ما يعمل
وَرَجُلٌ يَقُولُ لَوْ أُوتِيتُ مِثْلَ مَا أُوتِيَ هَذَا فَعَلْتُ كَمَا يَفْعَلُ
فَبَيَّنَ أَنَّ قِيَامَهُ بِالْكِتَابِ هُوَ فِعْلُهُ وَقَالَ (وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ) وَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ (وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ)
আরেক ব্যক্তি বলে, এ ব্যক্তিকে যা দেয়া হয়েছে, আমাকে যদি তা দেয়া হতো, আমিও তেমন করতাম যেমন সে করছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ স্পষ্ট করে বলেন, লোকটির কুরআনের সঙ্গে কায়িম থাকার অর্থ তার কুরআন তিলাওয়াত করা এবং তিনি বললেন, তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল, আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা- (সূরাহ আর্-রূম ৩০/২২)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন, وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ সৎকর্ম কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার- (সূরাহ হাজ্জ ২২/৭৭)।
৭৫২৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি বিষয় ব্যতীত হিংসা করা যায় না। এক ব্যক্তি হচ্ছে, আল্লাহ্ যাকে কুরআন দান করেছেন, আর সে দিনরাত তা তিলাওয়াত করে। অন্য লোকটি বলে, এ লোকটিকে যা দেয়া হয়েছে, আমাকে যদি তেমন দেয়া হতো, তাহলে আমিও তেমন করতাম, সে যেমন করছে। আরেক লোক হচ্ছে সে, যাকে আল্লাহ্ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। ফলে সে তা যথাযথভাবে ব্যয় করছে। তখন অন্য লোক বলে, একে যা দেয়া হয়েছে, আমাকেও যদি তেমন দেয়া হতো, আমিও তাই করতাম, যা সে করছে। [৫০২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২০)
فَبَيَّنَ أَنَّ قِيَامَهُ بِالْكِتَابِ هُوَ فِعْلُهُ وَقَالَ (وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ) وَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ (وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ)
আরেক ব্যক্তি বলে, এ ব্যক্তিকে যা দেয়া হয়েছে, আমাকে যদি তা দেয়া হতো, আমিও তেমন করতাম যেমন সে করছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ স্পষ্ট করে বলেন, লোকটির কুরআনের সঙ্গে কায়িম থাকার অর্থ তার কুরআন তিলাওয়াত করা এবং তিনি বললেন, তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল, আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা- (সূরাহ আর্-রূম ৩০/২২)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন, وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ সৎকর্ম কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার- (সূরাহ হাজ্জ ২২/৭৭)।
৭৫২৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি বিষয় ব্যতীত হিংসা করা যায় না। এক ব্যক্তি হচ্ছে, আল্লাহ্ যাকে কুরআন দান করেছেন, আর সে দিনরাত তা তিলাওয়াত করে। অন্য লোকটি বলে, এ লোকটিকে যা দেয়া হয়েছে, আমাকে যদি তেমন দেয়া হতো, তাহলে আমিও তেমন করতাম, সে যেমন করছে। আরেক লোক হচ্ছে সে, যাকে আল্লাহ্ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। ফলে সে তা যথাযথভাবে ব্যয় করছে। তখন অন্য লোক বলে, একে যা দেয়া হয়েছে, আমাকেও যদি তেমন দেয়া হতো, আমিও তাই করতাম, যা সে করছে। [৫০২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২০)
হাদিস নং: ৭৫২৯
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال الزهري عن سالم عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا حسد الا في اثنتين رجل اتاه الله القران فهو يتلوه اناء الليل واناء النهار ورجل اتاه الله مالا فهو ينفقه اناء الليل واناء النهار سمعت سفيان مرارا لم اسمعه يذكر الخبر وهو من صحيح حديثه
৭৫২৯. সালিম তার পিতা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একমাত্র দু’টি বিষয়েই হিংসা করা যায়। একজন হচ্ছে, যাকে আল্লাহ্ কুরআন দান করেছেন, আর সে তা রাতদিন তিলাওয়াত করে, আরেকজন হল, যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন আর সে রাতদিন তা ব্যয় করে। [৫০২৫; মুসলিম ৬/৪৭, হাঃ ৮১৫, আহমাদ ৪৫৫০]
আমি সুফ্ইয়ান (রহ.) হতে কয়েকবার শুনেছি কিন্তু তাকে الْخَبَرَ উল্লেখ করতে শুনিনি। অর্থাৎ এটি তার বিশুদ্ধ হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২১)
আমি সুফ্ইয়ান (রহ.) হতে কয়েকবার শুনেছি কিন্তু তাকে الْخَبَرَ উল্লেখ করতে শুনিনি। অর্থাৎ এটি তার বিশুদ্ধ হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২১)
হাদিস নং: ৭৫৩০
সহিহ (Sahih)
الفضل بن يعقوب حدثنا عبد الله بن جعفر الرقي حدثنا المعتمر بن سليمان حدثنا سعيد بن عبيد الله الثقفي حدثنا بكر بن عبد الله المزني وزياد بن جبير بن حية عن جبير بن حية قال المغيرة اخبرنا نبينا صلى الله عليه وسلم عن رسالة ربنا انه من قتل منا صار الى الجنة
وَقَالَ الزُّهْرِيُّ مِنْ اللهِ الرِّسَالَةُ وَعَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَلاَغُ وَعَلَيْنَا التَّسْلِيمُ
وَقَالَ اللهُ تَعَالَى(لِيَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَبْلَغُوا رِسَالاَتِ رَبِّهِمْ) وَقَالَ تَعَالَى( أُبْلِغُكُمْ رِسَالاَتِ رَبِّي) وَقَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (فَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ) وَالْمُؤْمِنُونَ وَقَالَتْ عَائِشَةُ إِذَا أَعْجَبَكَ حُسْنُ عَمَلِ امْرِئٍ فَقُلْ (اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ) وَلاَ يَسْتَخِفَّنَّكَ أَحَدٌ وَقَالَ مَعْمَرٌ (ذَلِكَ الْكِتَابُ) هَذَا الْقُرْآنُ (هُدًى لِلْمُتَّقِينَ) بَيَانٌ وَدِلاَلَةٌ كَقَوْلِهِ تَعَالَى (ذَلِكُمْ حُكْمُ اللهِ) هَذَا حُكْمُ اللهِ (لاَ رَيْبَ) لاَ شَكَّ (تِلْكَ آيَاتُ) يَعْنِي هَذِهِ أَعْلاَمُ الْقُرْآنِ وَمِثْلُهُ (حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ) يَعْنِي بِكُمْ وَقَالَ أَنَسٌ بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالَهُ حَرَامًا إِلَى قَوْمِهِ وَقَالَ أَتُؤْمِنُونِي أُبَلِّغُ رِسَالَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُمْ
যুহরী (রহ.) বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে হচ্ছে বার্তা পাঠানো আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেয়া (মানুষের কাছে) আর আমাদের দায়িত্ব হলো মেনে নেয়া। আল্লাহ্ বলেনঃ রাসূলগণ তাঁদের প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন কিনা তা জানার জন্য- (সূরাহ জ্বিন ৭২/২৮)। তিনি আরো বলেনঃ আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর বার্তাসমূহ পৌঁছে দিচ্ছি। কাব ইবনু মালিক (রাঃ) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (তাবূক যুদ্ধ) থেকে পিছনে রয়ে গেলেন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আল্লাহ্ তো তোমাদের কাজকর্ম দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মু’মিনগণও- (সূরাহ আত্ তওবা ৯/১০৫)। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কারো ভালো কাজে তোমাকে আনন্দিত করলে বলো, ’আমল কর, তোমার এ ’আমল আল্লাহ্, আল্লাহর রাসূল, সমস্ত মু’মিন দেখবেন। আর তোমাকে কেউ যেন বিচলিত করতে না পারে।
মা’মার (রহ.) বলেন, ذَلِكَ الْكِتَابُ -এর অর্থ এ কুরআন, هُدًى لِلْمُتَّقِينَ -এর অর্থ বর্ণনা করা ও পথ দেখানো। আল্লাহর এ বাণীর মত ذَلِكُمْ حُكْمُ اللهِ -এর অর্থ এটি আল্লাহর হুকুম। لاَ رَيْبَ -এর অর্থ এতে কোন সন্দেহ নেই। تِلْكَ آيَاتُ অর্থাৎ এগুলো কুরআনের নিদর্শন। এর দৃষ্টান্ত আল্লাহরই বাণীঃ যখন তোমরা নৌকায় অবস্থান করো আর চলতে থাকে সেগুলো তাদের নিয়ে। এখানে بِهِمْ এর অর্থ بِكُمْ অর্থাৎ তোমাদের নিয়ে। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মামা হারমকে তাঁর কাওমের কাছে পাঠালেন। তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর কি? আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। এই বলে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন
৭৫৩০ মুগীরাহ (রাঃ) বলেন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আমাদের রবের বার্তা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে আমাদের মধ্য থেকে যে, নিহত হবে, সে জান্নাতে চলে যাবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২২)
وَقَالَ اللهُ تَعَالَى(لِيَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَبْلَغُوا رِسَالاَتِ رَبِّهِمْ) وَقَالَ تَعَالَى( أُبْلِغُكُمْ رِسَالاَتِ رَبِّي) وَقَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (فَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ) وَالْمُؤْمِنُونَ وَقَالَتْ عَائِشَةُ إِذَا أَعْجَبَكَ حُسْنُ عَمَلِ امْرِئٍ فَقُلْ (اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ) وَلاَ يَسْتَخِفَّنَّكَ أَحَدٌ وَقَالَ مَعْمَرٌ (ذَلِكَ الْكِتَابُ) هَذَا الْقُرْآنُ (هُدًى لِلْمُتَّقِينَ) بَيَانٌ وَدِلاَلَةٌ كَقَوْلِهِ تَعَالَى (ذَلِكُمْ حُكْمُ اللهِ) هَذَا حُكْمُ اللهِ (لاَ رَيْبَ) لاَ شَكَّ (تِلْكَ آيَاتُ) يَعْنِي هَذِهِ أَعْلاَمُ الْقُرْآنِ وَمِثْلُهُ (حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ) يَعْنِي بِكُمْ وَقَالَ أَنَسٌ بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالَهُ حَرَامًا إِلَى قَوْمِهِ وَقَالَ أَتُؤْمِنُونِي أُبَلِّغُ رِسَالَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُمْ
যুহরী (রহ.) বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে হচ্ছে বার্তা পাঠানো আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেয়া (মানুষের কাছে) আর আমাদের দায়িত্ব হলো মেনে নেয়া। আল্লাহ্ বলেনঃ রাসূলগণ তাঁদের প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন কিনা তা জানার জন্য- (সূরাহ জ্বিন ৭২/২৮)। তিনি আরো বলেনঃ আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর বার্তাসমূহ পৌঁছে দিচ্ছি। কাব ইবনু মালিক (রাঃ) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (তাবূক যুদ্ধ) থেকে পিছনে রয়ে গেলেন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আল্লাহ্ তো তোমাদের কাজকর্ম দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মু’মিনগণও- (সূরাহ আত্ তওবা ৯/১০৫)। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কারো ভালো কাজে তোমাকে আনন্দিত করলে বলো, ’আমল কর, তোমার এ ’আমল আল্লাহ্, আল্লাহর রাসূল, সমস্ত মু’মিন দেখবেন। আর তোমাকে কেউ যেন বিচলিত করতে না পারে।
মা’মার (রহ.) বলেন, ذَلِكَ الْكِتَابُ -এর অর্থ এ কুরআন, هُدًى لِلْمُتَّقِينَ -এর অর্থ বর্ণনা করা ও পথ দেখানো। আল্লাহর এ বাণীর মত ذَلِكُمْ حُكْمُ اللهِ -এর অর্থ এটি আল্লাহর হুকুম। لاَ رَيْبَ -এর অর্থ এতে কোন সন্দেহ নেই। تِلْكَ آيَاتُ অর্থাৎ এগুলো কুরআনের নিদর্শন। এর দৃষ্টান্ত আল্লাহরই বাণীঃ যখন তোমরা নৌকায় অবস্থান করো আর চলতে থাকে সেগুলো তাদের নিয়ে। এখানে بِهِمْ এর অর্থ بِكُمْ অর্থাৎ তোমাদের নিয়ে। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মামা হারমকে তাঁর কাওমের কাছে পাঠালেন। তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর কি? আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। এই বলে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন
৭৫৩০ মুগীরাহ (রাঃ) বলেন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আমাদের রবের বার্তা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে আমাদের মধ্য থেকে যে, নিহত হবে, সে জান্নাতে চলে যাবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২২)
হাদিস নং: ৭৫৩১
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن اسماعيل عن الشعبي عن مسروق عن عاىشة قالت من حدثك ان محمدا صلى الله عليه وسلم كتم شيىا وقال محمد حدثنا ابو عامر العقدي حدثنا شعبة عن اسماعيل بن ابي خالد عن الشعبي عن مسروق عن عاىشة قالت من حدثك ان النبي صلى الله عليه وسلم كتم شيىا من الوحي فلا تصدقه ان الله تعالى يقول (يا ايها الرسول بلغ ما انزل اليك من ربك وان لم تفعل فما بلغت رسالته)
৭৫৩১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাকে যে বলবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ওয়াহীর) কিছু বিষয় গোপন করেছেন। মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন.....’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, যে লোক তোমার কাছে বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর কোন কিছু গোপন করেছেন, তাকে তুমি সত্যবাদী মনে করো না। আল্লাহ্ বলেনঃ হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার কর- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬৭)। [৩১৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৩)
হাদিস নং: ৭৫৩২
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن الاعمش عن ابي واىل عن عمرو بن شرحبيل قال قال عبد الله قال رجل يا رسول الله اي الذنب اكبر عند الله قال ان تدعو لله ندا وهو خلقك قال ثم اي قال ثم ان تقتل ولدك مخافة ان يطعم معك قال ثم اي قال ان تزاني حليلة جارك فانزل الله تصديقها والذين (لا يدعون مع الله الها اخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق ولا يزنون ومن يفعل ذلك يلق اثاما يضاعف له العذاب) الاية
৭৫৩২. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে কোন্ গুনাহ্টি সব চেয়ে বড়? তিনি বললেনঃ আল্লাহর বিপরীতে কাউকে ডাকা অথচ তিনিই (আল্লাহ্) তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সে বলল, এরপর কোন্টি? তিনি বললেনঃ এরপর তোমার সঙ্গে আহার করবে এ ভয়ে (তোমার) সন্তানকে হত্যা করা। সে বলল, এরপর কোন্টি? তিনি বললেনঃ এরপর তোমাদের প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করা। এরই সমর্থনে আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ্কে ডাকে না। আর যথার্থতা ব্যতীত কোন প্রাণ হত্যা করে না যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন আর তারা ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করে সে শাস্তির সাক্ষাৎ লাভ করবে। তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে..... (সূরাহ আল-ফুরক্বান ২৫/৬৮)। [৪৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৪)
হাদিস নং: ৭৫৩৩
সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن الزهري اخبرني سالم عن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انما بقاوكم فيمن سلف من الامم كما بين صلاة العصر الى غروب الشمس اوتي اهل التوراة التوراة فعملوا بها حتى انتصف النهار ثم عجزوا فاعطوا قيراطا قيراطا ثم اوتي اهل الانجيل الانجيل فعملوا به حتى صليت العصر ثم عجزوا فاعطوا قيراطا قيراطا ثم اوتيتم القران فعملتم به حتى غربت الشمس فاعطيتم قيراطين قيراطين فقال اهل الكتاب هولاء اقل منا عملا واكثر اجرا قال الله هل ظلمتكم من حقكم شيىا قالوا لا قال فهو فضلي اوتيه من اشاء
وَقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُعْطِيَ أَهْلُ التَّوْرَاةِ التَّوْرَاةَ فَعَمِلُوا بِهَا وَأُعْطِيَ أَهْلُ الإِنْجِيلِ الإِنْجِيلَ فَعَمِلُوا بِهِ وَأُعْطِيتُمْ الْقُرْآنَ فَعَمِلْتُمْ بِهِ وَقَالَ أَبُو رَزِينٍ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاَوَتِهِ يَتَّبِعُونَهُ وَيَعْمَلُونَ بِهِ حَقَّ عَمَلِهِ يُقَالُ يُتْلَى يُقْرَأُ حَسَنُ التِّلاَوَةِ حَسَنُ الْقِرَاءَةِ لِلْقُرْآنِ لاَ يَمَسُّهُ لاَ يَجِدُ طَعْمَهُ وَنَفْعَهُ إِلاَّ مَنْ آمَنَ بِالْقُرْآنِ وَلاَ يَحْمِلُهُ بِحَقِّهِ إِلاَّ الْمُوقِنُ لِقَوْلِهِ تَعَالَى (مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللهِ وَاللهُ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ) وَسَمَّى النَّبِيُّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الإِسْلاَمَ وَالإِيمَانَ وَالصَّلاَةَ عَمَلاً قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبِلاَلٍ أَخْبِرْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ فِي الإِسْلاَمِ قَالَ مَا عَمِلْتُ عَمَلاً أَرْجَى عِنْدِي أَنِّي لَمْ أَتَطَهَّرْ إِلاَّ صَلَّيْتُ وَسُئِلَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ الْجِهَادُ ثُمَّ حَجٌّ مَبْرُورٌ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ তাওরাত ওয়ালাদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ’আমল করল। ইঞ্জিল ওয়ালাদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলে তারাও সে মোতাবেক ’আমল করল। তোমাদেরকে দেয়া হলো কুরআন, সুতরাং তোমরা এ মোতাবেক ’আমল কর।
আবূ রাযীন (রহ.) বলেন يَتْلُونَه -এর অর্থ তাঁর হুকুমকে যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে অনুসরণ করা। আবূ ’আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, يُتْلَى অর্থ। يُقْرَأُ পাঠ করা হয়। حَسَنُ التِّلاَوَةِ অর্থাৎ কুরআন সুন্দরভাবে পাঠ করা। لاَ يَمَسُّهُ এর অর্থ কুরআনের স্বাদ ও উপকারিতা কুরআনের বিশ্বাসীদের ছাড়া না পাওয়া। কুরআনের উপর সঠিক আস্থা স্থাপনকারী ছাড়া কেউই তা যথাযথভাবে বহন করতে পারবে না। কেননা, আল্লাহ্ বলেনঃ যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি (অর্থাৎ তারা তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেনি) তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধার মত, যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে (কিন্তু তা বুঝে না)। যে সম্প্রদায় আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে, তাদের দৃষ্টান্ত কতইনা নিকৃষ্ট! যালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন না। (সূরাহ আল-জুমু’আহ ৬২/৫)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম, ঈমান ও সালাতকে ’আমল নামে আখ্যায়িত করেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ ইসলামে থাকা অবস্থায় যেটি দ্বারা তুমি মুক্তির বেশী আশাবাদী, আমাকে তুমি সে ’আমলটি সম্পর্কে জানাও। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমার মতে মুক্তির বেশী আশা রাখতে পারি যে ’আমলটি দ্বারা, তা হচ্ছে আমি যখনই ওযু করেছি, তখন সালাত আদায় করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো- কোন্ ’আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, এরপর জিহাদ, এরপর কবূল হওয়া হজ্জ।
৭৫৩৩. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্বের উম্মাতদের তুলনায় তোমাদের অবস্থানকালের দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ’আসরের সালাত এবং সূর্যাস্তের মাঝের সময়টুকু। তাওরাতধারীদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ’আমল করল। এ ভাবে দুপুর হয়ে গেল এবং তারাও দুর্বল হয়ে পড়ল। তাদেরকে এক কীরাত করে মজুরী দেয়া হল। তারপর ইঞ্জিল ধারীদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ’আমল করল। এ অবস্থায় ’আসরের সালাত আদায় করা হল। তারাও ক্লান্ত হয়ে গেল। তারপর তাদেরকেও এক কীরাত করে দেয়া হল। শেষে তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হয়। তোমরা সে মোতাবেক ’আমল করেছ। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল। আর তোমাদেরকে দেয়া হল দু’কীরাত করে। ফলে কিতাবীগণ বলল, এরা তো আমাদের তুলনায় কাজ করল কম, অথচ মজুরী পেল বেশী। এতে আল্লাহ্ বললেন, তোমাদের হকের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোন যুলুম করা হয়েছে কি? এরা বলবে, না। আল্লাহ্ বললেনঃ এটা আমার অনুগ্রহ, তা আমি যাকে চাই তাকে দিয়ে থাকি। [৫৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৫)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ তাওরাত ওয়ালাদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ’আমল করল। ইঞ্জিল ওয়ালাদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলে তারাও সে মোতাবেক ’আমল করল। তোমাদেরকে দেয়া হলো কুরআন, সুতরাং তোমরা এ মোতাবেক ’আমল কর।
আবূ রাযীন (রহ.) বলেন يَتْلُونَه -এর অর্থ তাঁর হুকুমকে যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে অনুসরণ করা। আবূ ’আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, يُتْلَى অর্থ। يُقْرَأُ পাঠ করা হয়। حَسَنُ التِّلاَوَةِ অর্থাৎ কুরআন সুন্দরভাবে পাঠ করা। لاَ يَمَسُّهُ এর অর্থ কুরআনের স্বাদ ও উপকারিতা কুরআনের বিশ্বাসীদের ছাড়া না পাওয়া। কুরআনের উপর সঠিক আস্থা স্থাপনকারী ছাড়া কেউই তা যথাযথভাবে বহন করতে পারবে না। কেননা, আল্লাহ্ বলেনঃ যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি (অর্থাৎ তারা তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেনি) তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধার মত, যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে (কিন্তু তা বুঝে না)। যে সম্প্রদায় আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে, তাদের দৃষ্টান্ত কতইনা নিকৃষ্ট! যালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন না। (সূরাহ আল-জুমু’আহ ৬২/৫)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম, ঈমান ও সালাতকে ’আমল নামে আখ্যায়িত করেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ ইসলামে থাকা অবস্থায় যেটি দ্বারা তুমি মুক্তির বেশী আশাবাদী, আমাকে তুমি সে ’আমলটি সম্পর্কে জানাও। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমার মতে মুক্তির বেশী আশা রাখতে পারি যে ’আমলটি দ্বারা, তা হচ্ছে আমি যখনই ওযু করেছি, তখন সালাত আদায় করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো- কোন্ ’আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, এরপর জিহাদ, এরপর কবূল হওয়া হজ্জ।
৭৫৩৩. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্বের উম্মাতদের তুলনায় তোমাদের অবস্থানকালের দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ’আসরের সালাত এবং সূর্যাস্তের মাঝের সময়টুকু। তাওরাতধারীদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ’আমল করল। এ ভাবে দুপুর হয়ে গেল এবং তারাও দুর্বল হয়ে পড়ল। তাদেরকে এক কীরাত করে মজুরী দেয়া হল। তারপর ইঞ্জিল ধারীদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ’আমল করল। এ অবস্থায় ’আসরের সালাত আদায় করা হল। তারাও ক্লান্ত হয়ে গেল। তারপর তাদেরকেও এক কীরাত করে দেয়া হল। শেষে তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হয়। তোমরা সে মোতাবেক ’আমল করেছ। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল। আর তোমাদেরকে দেয়া হল দু’কীরাত করে। ফলে কিতাবীগণ বলল, এরা তো আমাদের তুলনায় কাজ করল কম, অথচ মজুরী পেল বেশী। এতে আল্লাহ্ বললেন, তোমাদের হকের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোন যুলুম করা হয়েছে কি? এরা বলবে, না। আল্লাহ্ বললেনঃ এটা আমার অনুগ্রহ, তা আমি যাকে চাই তাকে দিয়ে থাকি। [৫৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৫)
হাদিস নং: ৭৫৩৪
সহিহ (Sahih)
سليمان حدثنا شعبة عن الوليد ح و حدثني عباد بن يعقوب الاسدي اخبرنا عباد بن العوام عن الشيباني عن الوليد بن العيزار عن ابي عمرو الشيباني عن ابن مسعود ان رجلا سال النبي صلى الله عليه وسلم اي الاعمال افضل قال الصلاة لوقتها وبر الوالدين ثم الجهاد في سبيل الله
وَقَالَلاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ল না, তার সালাত আদায় হল না।
৭৫৩৪. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক (সাহাবী) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ ’আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ যথা সময়ে সালাত আদায় করা, মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। [৫২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৬)
তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ল না, তার সালাত আদায় হল না।
৭৫৩৪. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক (সাহাবী) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ ’আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ যথা সময়ে সালাত আদায় করা, মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। [৫২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৬)
হাদিস নং: ৭৫৩৫
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا جرير بن حازم عن الحسن حدثنا عمرو بن تغلب قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم مال فاعطى قوما ومنع اخرين فبلغه انهم عتبوا فقال اني اعطي الرجل وادع الرجل والذي ادع احب الي من الذي اعطي اعطي اقواما لما في قلوبهم من الجزع والهلع واكل اقواما الى ما جعل الله في قلوبهم من الغنى والخير منهم عمرو بن تغلب فقال عمرو ما احب ان لي بكلمة رسول الله صلى الله عليه وسلم حمر النعم
৭৫৩৫. আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু মাল এল। এ থেকে তিনি এক দলকে দিলেন। অন্য দলটিকে দিলেন না। অতঃপর তাঁর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, যারা পেলো না তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। এতে তিনি বললেনঃ আমি একজনকে দেই আবার অন্য জনকে দেই না। কিন্তু যাকে আমি দেই না, সে-ই আমার কাছে বেশী প্রিয় যাকে দেই তার থেকে। এমন কিছু কাওমকে আমি দেই, যাদের হৃদয়ে আছে অস্থিরতা ও দ্বনদ্ব। আর কিছু কাওমকে আমি মাল না দিয়ে তাদের হৃদয়ে আল্লাহ্ যে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন তার উপর সোপর্দ করি। এদেরই একজন হলেন, ’আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ)। ’আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার বিনিময়ে আমি একপাল লাল রং এর উটের মালিক হওয়াও অধিক পছন্দ করি না। [৯২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৭)
হাদিস নং: ৭৫৩৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الرحيم حدثنا ابو زيد سعيد بن الربيع الهروي حدثنا شعبة عن قتادة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم يرويه عن ربه قال اذا تقرب العبد الي شبرا تقربت اليه ذراعا واذا تقرب مني ذراعا تقربت منه باعا واذا اتاني مشيا اتيته هرولة
৭৫৩৬. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। আর সে যখন আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে দু’হাত নিকটবর্তী হই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৮)
হাদিস নং: ৭৫৩৭
সহিহ (Sahih)
مسدد عن يحيى عن التيمي عن انس بن مالك عن ابي هريرة قال ربما ذكر النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا تقرب العبد مني شبرا تقربت منه ذراعا واذا تقرب مني ذراعا تقربت منه باعا او بوعا وقال معتمر سمعت ابي سمعت انسا عن النبي صلى الله عليه وسلم يرويه عن ربه عز وجل
৭৫৩৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিকবার বর্ণনা করেছেন যে, (আল্লাহ্ বলেন) : আমার বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে দু হাত নিকটবর্তী হই। বর্ণনাকারী এখানে بَاعًا কিংবা بُوعًا বলেছেন। মুতামির (রহ.) বলেন, আমি আমার পিতা থেকে শুনেছি, তিনি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছেন, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেছেন। [৭৪০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৯)
হাদিস নং: ৭৫৩৮
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا محمد بن زياد قال سمعت ابا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم يرويه عن ربكم قال لكل عمل كفارة والصوم لي وانا اجزي به ولخلوف فم الصاىم اطيب عند الله من ريح المسك
৭৫৩৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ প্রতিটি আমলের কাফ্ফারা রয়েছে, সে সব আমলের ত্রুটি দূর করার জন্য। কিন্তু সওম আমার জন্যই, এতে লোক দেখানোর কিছু নেই, তাই আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। সওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিস্কের চেয়েও বেশি সুগন্ধময়। [১৮৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩০)
হাদিস নং: ৭৫৩৯
সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا شعبة عن قتادة ح و قال لي خليفة حدثنا يزيد بن زريع عن سعيد عن قتادة عن ابي العالية عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه قال لا ينبغي لعبد ان يقول انه خير من يونس بن متى ونسبه الى ابيه
৭৫৩৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালকের নিকট হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ বলেনঃ কোন বান্দার জন্য এ দাবী করা শোভনীয় নয় যে, সে ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে ভাল। এখানে ইউনুস (আঃ)-কে তাঁর পিতার দিকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে। [৩৩৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩১)
হাদিস নং: ৭৫৪০
সহিহ (Sahih)
احمد بن ابي سريج اخبرنا شبابة حدثنا شعبة عن معاوية بن قرة عن عبد الله بن مغفل المزني قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح على ناقة له يقرا سورة الفتح او من سورة الفتح قال فرجع فيها قال ثم قرا معاوية يحكي قراءة ابن مغفل وقال لولا ان يجتمع الناس عليكم لرجعت كما رجع ابن مغفل يحكي النبي صلى الله عليه وسلم فقلت لمعاوية كيف كان ترجيعه قال ا ا ا ثلاث مرات
৭৫৪০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল আলমুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর উটনীর উপর বসা অবস্থায় সূরাহ ফাত্হ কিংবা সূরা ফাতহের কিছু অংশ পড়তে দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তারজীসহ তা পাঠ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, মু’আবিয়া (রহ.) ইবনুল মুগাফ্ফালের কিরাআত নকল করে পড়ছিলেন। তিনি বললেন, যদি তোমাদের কাছে লোকের ভিড় করার ভয় না হত, তাহলে আমিও তারজী করে ঠিক ঐভাবে পাঠ করতাম, যেভাবে ইবনুল মুগাফফাল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাআত নকল করে তারজীসহ পাঠ করেছিলেন। তারপর আমি মু’আবীয়াহ (রাঃ)-কে বললাম, তাঁর তারজী কেমন ছিল? তিন বললেন, আ, আ, আ, তিনবার। [৪২৮১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩২)
হাদিস নং: ৭৫৪১
সহিহ (Sahih)
وقال ابن عباس اخبرني ابو سفيان بن حرب ان هرقل دعا ترجمانه ثم دعا بكتاب النبي صلى الله عليه وسلم فقراه بسم الله الرحمن الرحيم من محمد عبد الله ورسوله الى هرقل و (يا اهل الكتاب تعالوا الى كلمة سواء بيننا وبينكم) الاية
৭৫৪১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারব (রাঃ) আমাকে এ খবর দিয়েছেন, হিরাক্লিয়াস তাঁর তর্জমাকারীকে ডাকলেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিঠিখানা আনার জন্য হুকুম করলেন এবং তা পড়লেন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম- আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে হিরাক্লিয়াসের প্রতি এ চিঠি পাঠানো হল। তাতে আরও লেখা ছিল يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ (হে আহলে কিতাব! এমন এক কথার দিকে আসো, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই,)। [৭] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৭৫৪২
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا عثمان بن عمر اخبرنا علي بن المبارك عن يحيى بن ابي كثير عن ابي سلمة عن ابي هريرة قال كان اهل الكتاب يقرءون التوراة بالعبرانية ويفسرونها بالعربية لاهل الاسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تصدقوا اهل الكتاب ولا تكذبوهم (قولوا امنا بالله وما انزل) الاية
৭৫৪২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব তাওরাত হিব্রু ভাষায় পাঠ করত, আর মুসলিমদের জন্য আরবী ভাষায় এর ব্যাখ্যা করত। এ প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিতাবধারীদেরকে তোমার বিশ্বাস করো না আবার তাদেরকে মিথ্যেবাদী সাব্যস্তও করো না। বরং তোমরা আল্লাহর এ বাণীটি قُولُوا آمَنَّا بِاللهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا (তোমরা বল, ’আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে) বল। (সূরাহ বাকারাহ ২/১৩৬) [৪৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩৩)
হাদিস নং: ৭৫৪৩
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا اسماعيل عن ايوب عن نافع عن ابن عمر قال اتي النبي صلى الله عليه وسلم برجل وامراة من اليهود قد زنيا فقال لليهود ما تصنعون بهما قالوا نسخم وجوههما ونخزيهما قال (فاتوا بالتوراة فاتلوها ان كنتم صادقين) فجاءوا فقالوا لرجل ممن يرضون يا اعور اقرا فقرا حتى انتهى الى موضع منها فوضع يده عليه قال ارفع يدك فرفع يده فاذا فيه اية الرجم تلوح فقال يا محمد ان عليهما الرجم ولكنا نكاتمه بيننا فامر بهما فرجما فرايته يجانى عليها الحجارة
৭৫৪৩. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’জন ইয়াহূদী নারী-পুরুষকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। তারা যিনা করেছিল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ইয়াহূদীর এদের সাথে কী আচরণ করে থাক? তারা বলল, আমরা এদের মুখ কালো করি ও লাঞ্ছিত করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো, এবং তা পাঠ কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা তাওরাত নিয়ে আসল এবং তাদেরই ইচ্ছেমত এক লোককে ডেকে বলল, হে আওয়ার! তুমি পাঠ কর। সে পাঠ করতে লাগল, শেষে এক স্থানে এসে সে তাতে আপন হাত রেখে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার হাতটি উঠাও। সে হাত উঠাল। তখন যিনার শাস্তি পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা আয়াতটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তিলাওয়াতকারী বলল, হে মুহাম্মাদ! এদের মাঝে শাস্তি আসলে রজমই, কিন্তু আমরা তা গোপন করছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রজম করার হুকুম দিলে তাদেরকে রজম করা হল। বর্ণনাকারী বলেন, যিনাকারী পুরুষটিকে স্ত্রী লোকটির উপর ঝুঁকে পড়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষার চেষ্টা করতে দেখেছি। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩৪)