অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৯৭/১. আল্লাহর তাওহীদের দিকে উম্মাতের প্রতি নাবী...
মোট ১৯৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭৫৪৪ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن حمزة حدثني ابن ابي حازم عن يزيد عن محمد بن ابراهيم عن ابي سلمة عن ابي هريرة انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ما اذن الله لشيء ما اذن لنبي حسن الصوت بالقران يجهر به
৭৫৪৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ উচ্চস্বরে সুমধুর কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর প্রতি যত সন্তোষ প্রকাশ করেন, অন্য কোন কিছুর প্রতি তত সন্তোষ প্রকাশ করেন না। [৫০২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩৫)
হাদিস নং: ৭৫৪৫ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن يونس عن ابن شهاب اخبرني عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص وعبيد الله بن عبد الله عن حديث عاىشة حين قال لها اهل الافك ما قالوا وكل حدثني طاىفة من الحديث قالت فاضطجعت على فراشي وانا حينىذ اعلم اني بريىة وان الله يبرىني ولكني والله ما كنت اظن ان الله ينزل في شاني وحيا يتلى ولشاني في نفسي كان احقر من ان يتكلم الله في بامر يتلى وانزل الله عز وجل (ان الذين جاءوا بالافك عصبة منكم) العشر الايات كلها
৭৫৪৫. ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব, ’আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস, ’উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রহ.), ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর হাদীস সম্পর্কে বলেছেন। অপবাদকারীরা যখন তার উপর অপবাদ দিয়েছিল। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, বর্ণনাকারীদের একেকজন সে সম্পর্কে আমার কাছে হাদীসের একেক অংশের বর্ণনা দিয়েছেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এর ফলে আমি আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। অথচ আমি তখন জানি, আমি নির্দোষ পবিত্র এবং আল্লাহ্ আমাকে নির্দোষ বলে প্রমাণ করবেন। আল্লাহর শপথ! কিন্তু আমার মর্যাদা আমার কাছে এমন যোগ্য ছিল না যে, এ ব্যাপারে ওয়াহীই অবতীর্ণ করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। আমার মর্যাদা আমার কাছে এর চেয়ে তুচ্ছ ছিল যে, আল্লাহ্ আমার সম্পর্কে এমন কোন কালাম করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ যারা এমন জঘন্য অপবাদ এনেছে ..... পুরো দশটি আয়াত (সূরা আন্-নূর ২৪/১১-২০)। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩৬)
হাদিস নং: ৭৫৪৬ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا مسعر عن عدي بن ثابت اراه قال سمعت البراء قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرا في العشاء (والتين والزيتون) فما سمعت احدا احسن صوتا او قراءة منه
৭৫৪৬. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এশার সালাতে সূরা وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ পড়তে শুনেছি। স্বর কিংবা কিরআতের দিক থেকে তার চেয়ে সুন্দর আমি আর কাউকে দেখিনি। [৭৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩৭)
হাদিস নং: ৭৫৪৭ সহিহ (Sahih)
حجاج بن منهال حدثنا هشيم عن ابي بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال كان النبي صلى الله عليه وسلم متواريا بمكة وكان يرفع صوته فاذا سمع المشركون سبوا القران ومن جاء به فقال الله عز وجل لنبيه صلى الله عليه وسلم (ولا تجهر بصلاتك ولا تخافت بها)
৭৫৪৭. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় লুকিয়ে থাকতেন। আর তিনি উচ্চস্বরে (তিলাওয়াত) করতেন। যখন তা মুশরিকরা শুনল, তারা কুরআন ও তাঁর বাহককে গালমন্দ করল। এ অবস্থায় আল্লাহ্ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানিয়ে দিলেন, আপনি আপনার সালাতে কুরআন উচ্চস্বরেও পড়বেন না এবং খুব চুপে চুপেও পড়বেন না। [৪৭২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩৮)
হাদিস নং: ৭৫৪৮ সহিহ (Sahih)
اسماعيل حدثني مالك عن عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الرحمن بن ابي صعصعة عن ابيه انه اخبره ان ابا سعيد الخدري قال له اني اراك تحب الغنم والبادية فاذا كنت في غنمك او باديتك فاذنت للصلاة فارفع صوتك بالنداء فانه لا يسمع مدى صوت الموذن جن ولا انس ولا شيء الا شهد له يوم القيامة قال ابو سعيد سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم
৭৫৪৮. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ স’স’আহ (রহ.)-কে বললেন, আমি তোমাকে দেখেছি, তুমি বকরীপাল ও ময়দানকে ভালবাসো। সুতরাং তুমি যখন বকরীর পাল কিংবা ময়দানে থাকবে, তখন সালাতের জন্য উচ্চস্বরে আযান দেবে। কারণ মুআয্যিনের আযানের স্বর যতদূর পৌঁছবে, ততদূরের জ্বিন, ইনসান, অন্যান্য জিনিস যারাই শুনবে, কিয়ামতের দিন তারা তার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেবে। আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। [৬০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩৯)
হাদিস নং: ৭৫৪৯ সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن منصور عن امه عن عاىشة قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرا القران وراسه في حجري وانا حاىض
৭৫৪৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরআন পড়তেন তখন তাঁর মাথা থাকত আমার কোলে যদিও আমি থাকতাম ঋতুমতী। [২৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪০)
হাদিস নং: ৭৫৫০ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب حدثني عروة ان المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن عبد القاري حدثاه انهما سمعا عمر بن الخطاب يقول سمعت هشام بن حكيم يقرا سورة الفرقان في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستمعت لقراءته فاذا هو يقرا على حروف كثيرة لم يقرىنيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فكدت اساوره في الصلاة فتصبرت حتى سلم فلببته برداىه فقلت من اقراك هذه السورة التي سمعتك تقرا قال اقرانيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت كذبت اقرانيها على غير ما قرات فانطلقت به اقوده الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت اني سمعت هذا يقرا سورة الفرقان على حروف لم تقرىنيها فقال ارسله اقرا يا هشام فقرا القراءة التي سمعته فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذلك انزلت ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرا يا عمر فقرات التي اقراني فقال كذلك انزلت ان هذا القران انزل على سبعة احرف فاقرءوا ما تيسر منه
৭৫৫০. মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রহ.) ও ’আবদুর রহমান ইবনু ’আবদুল ক্বারী (রহ.) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবিত অবস্থায় আমি হিশাম ইবনু হাকীম (রাঃ)-কে (সালাতে) সূরায়ে ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি। আমি একাগ্রমনে তাঁর তিলাওয়াত শুনছিলাম। তিনি এমন অনেকগুলো শব্দ তিলাওয়াত করছিলেন, যেগুলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিলাওয়াত করাননি। এতে আমি তাঁকে সালাতের অবস্থায় ধরে ফেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সালাম ফেরানো অবধি আমি ধৈর্য ধরলাম। তারপর আমি তাঁর চাদর দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম। আর বললাম, আমি তোমাকে যে সূরা পাঠ করতে শুনলাম, তা তোমাকে কে শিখিয়েছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, তুমি মিথ্যে বলেছ, তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, তবে তোমার কিরাআতের মত নয়।

তারপর আমি তাঁকে টেনে টেনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে চললাম। এরপর আমি বললাম, আমি শুনলাম একে ভিন্ন শব্দ দ্বারা সূরাহ ফুরকান পাঠ করতে, যা আপনি আমাকে শিখাননি। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ আচ্ছা, তাকে ছেড়ে দাও। তুমি পড়, হে হিশাম! এরপর আমি যেমন কিরাআত শুনেছিলাম তিনি তেমন কিরাআত পড়লেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কুরআন এভাবেই নাযিল হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ’উমার! তুমি পড়। আমি সেভাবে পড়লাম যেভাবে আমাকে শিখানো হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবেই নাযিল হয়েছে। এ কুরআন সাত হরফে (কিরাআতে) নাযিল করা হয়েছে। কাজেই যেভাবে সহজ হয়, সেভাবে তা পাঠ কর। [২৪১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪১)
হাদিস নং: ৭৫৫১ সহিহ (Sahih)
ابو معمر حدثنا عبد الوارث قال يزيد حدثني مطرف بن عبد الله عن عمران قال قلت يا رسول الله فيما يعمل العاملون قال كل ميسر لما خلق له
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ يُقَالُ مُيَسَّرٌ مُهَيَّأٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ بِلِسَانِكَ هَوَّنَّا قِرَاءَتَهُ عَلَيْكَ وَقَالَ مَطَرٌ الْوَرَّاقُ (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) قَالَ هَلْ مِنْ طَالِبِ عِلْمٍ فَيُعَانَ عَلَيْهِ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজ করে দেয়া হয়। مُيَسَّرٌ অর্থ প্রস্তুতকৃত। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ بِلِسَانِكَ -এর অর্থ আমি কুরআন পাঠ আপনার জন্য সহজ করে দিয়েছি।


৭৫৫১. ’ইমরান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ’আমলকারীরা কিসে ’আমল করছে? তিনি বললেন, যাকে যে কাজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ করা সহজ করে দেয়া হয়। [৬৫৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪২)
হাদিস নং: ৭৫৫২ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن منصور والاعمش سمعا سعد بن عبيدة عن ابي عبد الرحمن عن علي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان في جنازة فاخذ عودا فجعل ينكت في الارض فقال ما منكم من احد الا كتب مقعده من النار او من الجنة قالوا الا نتكل قال اعملوا فكل ميسر (فاما من اعطى واتقى الاية)
৭৫৫২. ’আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একবার কোন জানাযায় ছিলেন। তারপর তিনি একটি কাঠের টুকরা হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খোঁচাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, তোমাদে র মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা জাহান্নাম কিংবা জান্নাতে নির্দিষ্ট করা হয়নি। সাহাবীগণ বললেন, তা হলে আমরা কি এর উপর নির্ভর করব না? তিনি বললেনঃ তোমরা ’আমল করতে থাক। প্রত্যেকের জন্য সহজ করে দেয়া হয়। (অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ .....فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى। সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে.....। [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৩)
হাদিস নং: ৭৫৫৩ সহিহ (Sahih)
و قال لي خليفة بن خياط حدثنا معتمر سمعت ابي عن قتادة عن ابي رافع عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لما قضى الله الخلق كتب كتابا عنده غلبت او قال سبقت رحمتي غضبي فهو عنده فوق العرش
قَالَ قَتَادَةُ مَكْتُوبٌ يَسْطُرُونَ يَخُطُّونَ (فِي أُمِّ الْكِتَابِ) جُمْلَةِ الْكِتَابِ وَأَصْلِهِ (مَا يَلْفِظُ) مَا يَتَكَلَّمُ مِنْ شَيْءٍ إِلاَّ كُتِبَ عَلَيْهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُكْتَبُ الْخَيْرُ وَالشَّرُّ (يُحَرِّفُونَ) يُزِيلُونَ وَلَيْسَ أَحَدٌ يُزِيلُ لَفْظَ كِتَابٍ مِنْ كُتُبِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلَكِنَّهُمْ يُحَرِّفُونَهُ يَتَأَوَّلُونَهُ عَلَى غَيْرِ تَأْوِيلِهِ (دِرَاسَتُهُمْ) تِلاَوَتُهُمْ (وَاعِيَةٌ) حَافِظَةٌ (وَتَعِيَهَا) تَحْفَظُهَا (وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ) يَعْنِي أَهْلَ مَكَّةَ (وَمَنْ بَلَغَ) هَذَا الْقُرْآنُ فَهُوَ لَهُ نَذِيرٌ.

ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, (مَسْطُورٍ) অর্থ লিপিবদ্ধ ’يَسْطُرُونَ’ অর্থ তারা লিখছে (أُمِّ الْكِتَابِ)। অর্থাৎ কিতাবের স্তর ও মূল (مَا يَلْفِظُ) অর্থ যা কিছু বলা হয়, তা লিপিবদ্ধ হয়। এর ব্যাখ্যায় ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ভালমন্দ সব লিপিবদ্ধ করা হয়। (مَا يَلْفِظُ) এর অর্থ পরিবর্তন করা। এমন কেউ নেই, যে আল্লাহর কোন কিতাবের শব্দ পরিবর্তন করতে পারে। তবে তারা তাহরীফ তথা অপব্যাখ্যা করতে পারে। (دِرَاسَتُهُمْ) অর্থ তাদের তিলাওয়াত, (وَاعِيَةٌ) অর্থ সংরক্ষণকারী, (تَعِيَهَا) অর্থ তা সংরক্ষণ করে। এবং এ কুরআন আমার কাছে পাঠানো হয়েছে, যেন তোমাদেরকে এর দ্বারা আমি সতর্ক করি- (সূরাহ আন’আম ৬/১৯)। অর্থাৎ মক্কাবাসী এবং যাদের কাছে এ কুরআন প্রচারিত হবে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য সতর্ককারী।


৭৫৫৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন তাঁর মাখলূকাত সৃষ্টি করলেন, তাঁর কাছে একটি কিতাব লিপিবদ্ধ রাখলেন। আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে’ এটি তাঁর কাছে আরশের ওপর আছে। [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৭৫৫৪ সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي غالب حدثنا محمد بن اسماعيل حدثنا معتمر سمعت ابي يقول حدثنا قتادة ان ابا رافع حدثه انه سمع ابا هريرة يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان الله كتب كتابا قبل ان يخلق الخلق ان رحمتي سبقت غضبي فهو مكتوب عنده فوق العرش
৭৫৫৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগে একটি লেখা লিখে রেখেছেন। তা হলো ’’আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে’’, এটি তাঁরই নিকটে আরশের ওপর লেখা আছে। [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৪)
হাদিস নং: ৭৫৫৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، حدثنا عبد الوهاب، حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، والقاسم التميمي، عن زهدم، قال كان بين هذا الحى من جرم وبين الاشعريين ود واخاء، فكنا عند ابي موسى الاشعري فقرب اليه الطعام فيه لحم دجاج، وعنده رجل من بني تيم الله كانه من الموالي، فدعاه اليه فقال اني رايته ياكل شيىا فقذرته، فحلفت لا اكله‏.‏ فقال هلم فلاحدثك عن ذاك، اني اتيت النبي صلى الله عليه وسلم في نفر من الاشعريين نستحمله قال ‏"‏ والله لا احملكم وما عندي ما احملكم ‏"‏‏.‏ فاتي النبي صلى الله عليه وسلم بنهب ابل فسال عنا فقال ‏"‏ اين النفر الاشعريون ‏"‏‏.‏ فامر لنا بخمس ذود غر الذرى، ثم انطلقنا قلنا ما صنعنا حلف رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحملنا، وما عنده ما يحملنا، ثم حملنا، تغفلنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يمينه، والله لا نفلح ابدا، فرجعنا اليه فقلنا له فقال ‏"‏ لست انا احملكم، ولكن الله حملكم، اني والله لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها، الا اتيت الذي هو خير منه، وتحللتها ‏"‏‏.‏
وَيُقَالُ لِلْمُصَوِّرِينَ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ.
(إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ). قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ بَيَّنَ اللَّهُ الْخَلْقَ مِنَ الأَمْرِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ). وَسَمَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الإِيمَانَ عَمَلاً. قَالَ أَبُو ذَرٍّ وَأَبُو هُرَيْرَةَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ.
وَقَالَ: (جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ)
وَقَالَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْنَا بِجُمَلٍ مِنَ الأَمْرِ إِنْ عَمِلْنَا بِهَا دَخَلْنَا الْجَنَّةَ. فَأَمَرَهُمْ بِالإِيمَانِ وَالشَّهَادَةِ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، فَجَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ عَمَلاً

ছবি নির্মাতাদের বলা হবে, তোমরা যা তৈরি করেছ, তাতে জীবন দাও। তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি ছয় দিনে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। দিনকে তিনি রাতের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেন, তারা একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে এবং সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি তাঁরই আজ্ঞাবহ। জেনে রেখ, সৃষ্টি তাঁর, হুকুমও (চলবে) তাঁর, মহীয়ান, গরীয়ান আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪)

ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহ্ সৃষ্টিকে হুকুম থেকে পৃথক করে বর্ণনা করেছেন। কেননা তার বাণী হলোঃ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ জেনে রাখ সৃষ্টি ও হুকুম তাঁরই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানকেও ’আমল বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ যার (রহ.) ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন ’আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর পথে জিহাদ করা। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ (جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) এটা তাদের কাজেরই প্রতিদান। ’আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমাদের কিছু সংক্ষিপ্ত বিষয়ের নির্দেশ দিন, যেগুলো মেনে চললে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি তাদের আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান, সালাত কায়িম করা এবং যাকাত আদায়ের হুকুম দিলেন। এ সবকেই তিনি ’আমলরূপে উল্লেখ করেছেন।


৭৫৫৫. যাহদাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জারমের এ কাওমটির সঙ্গে আশ’আরী কাওমের গভীর ভালবাসা ও ভ্রাত্বভাব ছিল। এক সময় আমরা আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তাঁর কাছে খাদ্য আনা হল। এতে মুরগীর মাংসও ছিল। এ সময় তাঁর নিকট বানী তায়মুল্লাহর এক লোক ছিল। সে (দেখতে) যেন আযাদকৃত গোলাম। তাকেও আবূ মূসা (রাঃ) খেতে ডাকলেন। সে বলল, আমি এ মুরগীকে এমন কিছু জিনিস খেতে দেখেছি, যার ফলে এটি খেতে আমি ঘৃণা করি। এ জন্য শপথ করেছি, আমি তা খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, তুমি এদিকে এসো, এ ব্যাপারে আমি তোমাকে একটি হাদীস শোনাব। আমি এক সময় আশ’আরী কওমের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য গেলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের বাহন দেব না। আর তোমাদের দেয়ার মত আমার কাছে বাহন নেই।

তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট আনা হলে তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, আশ’আরীদের দলটি কোথায়? তারপর তিনি পাঁচটি মোটা তাজা ও উৎকৃষ্ট উট আমাদের দেয়ার জন্য হুকুম করলেন। আমরা এগুলো নিয়ে রওনা দেয়ার সময় বললাম, আমরা কী কর্মটি করলাম! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করে বললেন, আমাদের বাহন দেবেন না এবং তাঁর কাছে দেয়ার মত বাহন নেই। তারপরও তো তিনি আমাদের বাহন দিয়ে দিলেন। হয়ত আমরা তাঁকে তাঁর শপথ সম্পর্কে বেখেয়াল করে দিয়েছি। আল্লাহর শপথ! আমরা কক্ষনো সফলকাম হবো না। তাই আমরা তাঁর কাছে আবার গেলাম এবং তা তাঁকে বললাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে বাহন দেইনি, বরং দিয়েছেন আল্লাহ্। আল্লাহর শপথ! আমি কোন বিষয়ে শপথ করি আর যদি তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পাই, তবে তাতেই ফিরে আসি এবং (কাফ্ফারা আদায় করে) তা বৈধ করে নেই। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৫)
হাদিস নং: ৭৫৫৬ সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا ابو عاصم حدثنا قرة بن خالد حدثنا ابو جمرة الضبعي قلت لابن عباس فقال قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا ان بيننا وبينك المشركين من مضر وانا لا نصل اليك الا في اشهر حرم فمرنا بجمل من الامر ان عملنا به دخلنا الجنة وندعو اليها من وراءنا قال امركم باربع وانهاكم عن اربع امركم بالايمان بالله وهل تدرون ما الايمان بالله شهادة ان لا اله الا الله واقام الصلاة وايتاء الزكاة وتعطوا من المغنم الخمس وانهاكم عن اربع لا تشربوا في الدباء والنقير والظروف المزفتة والحنتمة
৭৫৫৬. আবূ জামরাহ দুবায়ী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম। তিনি বললেন, ’আবদুল কায়সের প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমাদের এবং আপনাদের মাঝখানে মুযার গোত্রের মুশরিকরা আছে। সে কারণে আমরা সম্মানিত মাস (আশহুরে হুরুম) ব্যতীত আর কোন সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে সংক্ষিপ্ত কিছু বিষয়ের হুকুম দিন, যার উপর আমল করলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব এবং আমরা যাদের রেখে এসেছি তাদেরও এ পথে আহবান জানাতে পারব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের হুকুম করছি।

আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছি। আমি তোমাদেরকে হুকুম দিচ্ছি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার। আর তোমরা জান কি, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কাকে বলে? তা হলো, সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, গনীমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দেয়া। তোমাদের চারটি বিষয় হতে নিষেধ করছি, লাউয়ের খোল দিয়ে তৈরি পাত্রে, খেজুর গাছের মূল খোদাই করে তৈরি পাত্রে, আলকাত্রা ইত্যাদি দিয়ে প্রলেপ দেয়া পাত্রে, এবং মাটির সবুজ ঘটিতে তোমরা পান করবে না। [৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৬)
হাদিস নং: ৭৫৫৭ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا الليث عن نافع عن القاسم بن محمد عن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيامة ويقال لهم احيوا ما خلقتم
৭৫৫৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এসব ছবি নির্মাতাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তোমরা যা বানিয়েছ, তা জীবিত কর। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৭)
হাদিস নং: ৭৫৫৮ সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن نافع عن ابن عمر قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيامة ويقال لهم احيوا ما خلقتم
৭৫৫৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এসব ছবি নির্মাতাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছ, তাকে জীবিত কর। [৫৯৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৮)
হাদিস নং: ৭৫৫৯ সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا ابن فضيل عن عمارة عن ابي زرعة سمع ابا هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول قال الله عز وجل ومن اظلم ممن ذهب يخلق كخلقي فليخلقوا ذرة او ليخلقوا حبة او شعيرة
৭৫৫৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ বলেছেনঃ তাদের চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে যে আমার সৃষ্টির মত সৃষ্টি করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে? তা হলে তারা একটা অণু কিংবা শস্যদানা কিংবা যব তৈরি করুক। [৫৯৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৯)
হাদিস নং: ৭৫৬০ সহিহ (Sahih)
هدبة بن خالد حدثنا همام حدثنا قتادة حدثنا انس عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مثل المومن الذي يقرا القران كالاترجة طعمها طيب وريحها طيب ومثل الذي لا يقرا كالتمرة طعمها طيب ولا ريح لها ومثل الفاجر الذي يقرا القران كمثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر ومثل الفاجر الذي لا يقرا القران كمثل الحنظلة طعمها مر ولا ريح لها
৭৫৬০. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন তিলাওয়াতকারী ঈমানদারের দৃষ্টান্ত উত্রুজ্জার (কমলালেবু) মত। এর স্বাদও উৎকৃষ্ট এবং সুগন্ধও উৎকৃষ্ট। আর যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত যেন খেজুরের মত। এটি খেতে সুস্বাদু বটে, তবে তার কোন সুঘ্রাণ নেই। কুরআন তিলাওয়াতকারী পাপী ব্যক্তিটি সুগন্ধি ফুলের মত। এর সুগন্ধ আছে বটে, তবে স্বাদে তিক্ত। আর যে অতি পাপী হয়ে আবার কুরআনও তিলাওয়াত করে না সে মাকাল ফলের মত। এ ফল স্বাদেও তিক্ত আর এর কোন সুগন্ধ নেই। [৫০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৫০)
হাদিস নং: ৭৫৬১ সহিহ (Sahih)
علي حدثنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري ح و حدثني احمد بن صالح حدثنا عنبسة حدثنا يونس عن ابن شهاب اخبرني يحيى بن عروة بن الزبير انه سمع عروة بن الزبير قالت عاىشة سال اناس النبي صلى الله عليه وسلم عن الكهان فقال انهم ليسوا بشيء فقالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فانهم يحدثون بالشيء يكون حقا قال فقال النبي صلى الله عليه وسلم تلك الكلمة من الحق يخطفها الجني فيقرقرها في اذن وليه كقرقرة الدجاجة فيخلطون فيه اكثر من ماىة كذبة
৭৫৬১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জ্যোতিষদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তারা কিছুই নয়। তারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো তারা তো এমন কিছুও বলে যা সত্য হয়। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওগুলো সত্য কথার অর্ন্তভূক্ত। জ্বিনেরা এসব ছোঁ মেরে শোনে, পরে তাদের বন্ধুদের কানে মুরগির মত করকর করে নিক্ষেপ করে দেয়। এরপর এসব জ্যোতিষী এতে শত মিথ্যা মিশিয়ে দেয়। [৩২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৫১)
হাদিস নং: ৭৫৬২ সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا مهدي بن ميمون سمعت محمد بن سيرين يحدث عن معبد بن سيرين عن ابي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يخرج ناس من قبل المشرق ويقرءون القران لا يجاوز تراقيهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية ثم لا يعودون فيه حتى يعود السهم الى فوقه قيل ما سيماهم قال سيماهم التحليق او قال التسبيد
৭৫৬২. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ব এলাকা থেকে একদল লোক উত্থিত হবে। তারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তাদের এ পাঠ তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসবে না, যে পর্যন্ত তীর ধনুকের ছিলায় ফিরে না আসে। বলা হল, তাদের চিহ্ন কী? তিনি বললেন, তাদের চিহ্ন হল মাথা মুন্ডন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৫২)
হাদিস নং: ৭৫৬৩ সহিহ (Sahih)
احمد بن اشكاب حدثنا محمد بن فضيل عن عمارة بن القعقاع عن ابي زرعة عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم كلمتان حبيبتان الى الرحمن خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم
لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ وَأَنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ وَقَوْلَهُمْ يُوزَنُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْقُسْطَاسُ الْعَدْلُ بِالرُّومِيَّةِ وَيُقَالُ الْقِسْطُ مَصْدَرُ الْمُقْسِطِ وَهُوَ الْعَادِلُ وَأَمَّا الْقَاسِطُ فَهُوَ الْجَائِرُ

আদম সন্তানদের ’আমল ও কথা ওজন করা হবে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, রোমীয়দের ভাষায় الْقُسْطَاسُ অর্থ ন্যায় ও ইনসাফ। الْمُقْسِطِ শব্দ মূল الْمُقْسِطِ الْقِسْطُ অর্থ ন্যায়পরায়ণ। অন্য দিকে الْقَاسِطُ এর অর্থ (কিন্তু) জালিম।


৭৫৬৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি কালিমাহ আছে, যেগুলো দয়াময়ের কাছে অতি প্রিয়, মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, দাঁড়িপাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (বাণী দু’টো হচ্ছে), সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহান্নাল্লাহিল আযীম;- আমরা আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, মহান আল্লাহ্ (যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে) অতি পবিত্র। [৬৪০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৫৩)
অধ্যায় তালিকা