হাদিস নং: ৬৫৬
সহিহ (Sahih)
وقال ابن ابي مريم اخبرنا يحيى بن ايوب حدثني حميد حدثني انس ان بني سلمة ارادوا ان يتحولوا عن منازلهم فينزلوا قريبا من النبي صلى الله عليه وسلم قال فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يعروا المدينة فقال الا تحتسبون اثاركم قال مجاهد خطاهم اثارهم ان يمشى في الارض بارجلهم.
৬৫৬. ইবনু মারইয়াম (রহ.) বলেন, আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। বানী সালিমা গোত্রের লোকেরা নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিল। আনাস (রাযি.) বলেন, কিন্তু মাদ্বীনার কোনো এলাকা একেবারে শূন্য হওয়াটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করেননি। তাই তিনি বলেনঃ তোমরা কি (মসজিদে আসা যাওয়ায়) তোমাদের পদচিহ্নগুলোর সওয়াব কামনা কর না? মুজাহিদ (রহ) বলেন, خُطَاهُمْ آثَارُهُمْ অর্থাৎ যমীনে চলার পদচিহ্নসমূহ। (৬৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৩)
হাদিস নং: ৬৫৭
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص قال حدثنا ابي قال حدثنا الاعمش قال حدثني ابو صالح عن ابي هريرة قال قال النبي ليس صلاة اثقل على المنافقين من الفجر والعشاء ولو يعلمون ما فيهما لاتوهما ولو حبوا لقد هممت ان امر الموذن فيقيم ثم امر رجلا يوم الناس ثم اخذ شعلا من نار فاحرق على من لا يخرج الى الصلاة بعد.
৬৫৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ‘ইশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়ায্যিনকে ইকামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই। (৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৪)
হাদিস নং: ৬৫৮
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يزيد بن زريع قال حدثنا خالد الحذاء عن ابي قلابة عن مالك بن الحويرث عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا حضرت الصلاة فاذنا واقيما ثم ليومكما اكبركما
৬৫৮. মালিক ইব্নু হুওয়াইরিস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে র্বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের সময় হলে তোমাদের দু’জনের একজন আযান দিবে এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলবে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে বয়সে অধিক বড় সে ইমামাত করবে। (৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৫)
হাদিস নং: ৬৫৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الملاىكة تصلي على احدكم ما دام في مصلاه ما لم يحدث اللهم اغفر له اللهم ارحمه لا يزال احدكم في صلاة ما دامت الصلاة تحبسه لا يمنعه ان ينقلب الى اهله الا الصلاة.
৬৫৯. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে তার উযূ ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য মালাকগণ এ বলে দু‘আ করেন যে, হে আল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ্! আপনি তার উপর রহম করুন। আর তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তির সালাতই তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া হতে বিরত রাখে, সে সালাতে রত আছে বলে পরিগণিত হবে। (১৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৬)
হাদিস নং: ৬৬০
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار بندار قال حدثنا يحيى عن عبيد الله قال حدثني خبيب بن عبد الرحمن عن حفص بن عاصم عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل الا ظله الامام العادل وشاب نشا في عبادة ربه ورجل قلبه معلق في المساجد ورجلان تحابا في الله اجتمعا عليه وتفرقا عليه ورجل طلبته امراة ذات منصب وجمال فقال اني اخاف الله ورجل تصدق اخفى حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه ورجل ذكر الله خاليا ففاضت عيناه.
৬৬০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে দিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবেন।
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক,
২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে,
৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে,
৪. সে দু’ ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য,
৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহবান জানায়, কিন্তু সে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’,
৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না,
৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে, ফলে তার দু’ চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।
(১৪২৩, ৬৪৭৯; মুসলিম ১২/৩০, হাঃ ১০৩১,আহমদ ৯৬৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৭)
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক,
২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে,
৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে,
৪. সে দু’ ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য,
৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহবান জানায়, কিন্তু সে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’,
৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না,
৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে, ফলে তার দু’ চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।
(১৪২৩, ৬৪৭৯; মুসলিম ১২/৩০, হাঃ ১০৩১,আহমদ ৯৬৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৭)
হাদিস নং: ৬৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، قال حدثنا اسماعيل بن جعفر، عن حميد، قال سىل انس هل اتخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم خاتما فقال نعم، اخر ليلة صلاة العشاء الى شطر الليل، ثم اقبل علينا بوجهه بعد ما صلى فقال " صلى الناس ورقدوا ولم تزالوا في صلاة منذ انتظرتموها ". قال فكاني انظر الى وبيص خاتمه.
৬৬১. হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আংটি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক রাতে তিনি ‘ইশার সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করলেন। সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ সালাতে রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে। আনাস (রাযি.) বলেন, এ সময় আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আংটির উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছিলাম। (৫৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৮)
হাদিস নং: ৬৬২
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله قال حدثنا يزيد بن هارون قال اخبرنا محمد بن مطرف عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من غدا الى المسجد وراح اعد الله له نزله من الجنة كلما غدا او راح.
৬৬২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ্ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করে রাখেন। (মুসলিম ৫/৫১, হাঃ ৬৬৯, আহমাদ ১০৬১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৯)
হাদিস নং: ৬৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، قال حدثنا ابراهيم بن سعد، عن ابيه، عن حفص بن عاصم، عن عبد الله بن مالك ابن بحينة، قال مر النبي صلى الله عليه وسلم برجل. قال وحدثني عبد الرحمن، قال حدثنا بهز بن اسد، قال حدثنا شعبة، قال اخبرني سعد بن ابراهيم، قال سمعت حفص بن عاصم، قال سمعت رجلا، من الازد يقال له مالك ابن بحينة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى رجلا وقد اقيمت الصلاة يصلي ركعتين، فلما انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم لاث به الناس، وقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " الصبح اربعا، الصبح اربعا ". تابعه غندر ومعاذ عن شعبة في مالك. وقال ابن اسحاق عن سعد عن حفص عن عبد الله ابن بحينة. وقال حماد اخبرنا سعد عن حفص عن مالك.
৬৬৩. ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মালিক ইব্নু বুহাইনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন। অন্য সূত্রে ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘আবদুর রহমান (রহ.)....হাফ্স ইব্নু আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মালিক ইব্নু বুহাইনাহ নামক আয্দ গোত্রীয় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে গেছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, লোকেরা সে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন ঃ ফজর কি চার রাক‘আত? ফাজ্র কি চার রাক‘আত?* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৩)
গুনদার ও মু‘আয (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু ইসহাক (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে সে হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (এ বর্ণনাটিই সঠিক) তবে হাম্মাদ (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে তিনি হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে মালিক ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (মুসলিম ৬/৯, হাঃ ৭১১, আহমাদ ২১৩০) ( ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩০)
গুনদার ও মু‘আয (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু ইসহাক (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে সে হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (এ বর্ণনাটিই সঠিক) তবে হাম্মাদ (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে তিনি হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে মালিক ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (মুসলিম ৬/৯, হাঃ ৭১১, আহমাদ ২১৩০) ( ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩০)
নোট: * ইক্বামাত হয়ে গেলে কোন নফল সালাত আদায় করা যাবে না। এ সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় অনেকে ইক্বামাত হয়ে যাবার পরও নফল সালাত আদায় করতে থাকেন। বিশেষ করে ফজরের সালাত চলাকালীন সময়ে অনেককেই দেখা যায় সুন্নাত দু’ রাকা‘আত সালাত আদায় করতে। ফজরের জামা‘আত চলতে থাকলে ঐ জামা‘আতে শামিল না হয়ে তাড়াহুড়ো করে সুন্নাত পড়ে জামা‘আতে শামিল হওয়া হাদীসের বিরোধিতা করার শামিল । প্রমাণ নিম্নের হাদীসগুলোঃ ‘আবদুল্লাহ ইব্নু সারজাস বলেন, এক ব্যক্তি এল। তখন (রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের সালাতে ছিলেন। ফলে লোকটি দু’ রাক‘আত আদায় করে জামা‘আতে প্রবেশ করল। (রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শেষ করে তাকে বললেন, ওহো অমুক! সালাত কোনটি! যেটি আমাদের সঙ্গে আদায় করলে সেটি না যেটি তুমি একা আদায় করলে? (নাসায়ী, মাবসূত ১ম খণ্ড ১০১ পৃষ্ঠা লাহোরী ছাপা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন ফারয সালাতের তাকবীর দেয়া হয়ে যায় তখন ফারয সালাত ব্যতীত অন্য কোন (নফল বা সুন্নাত) সালাত হবে না। (মুসলিম, মিশকাত ৯৬ পৃষ্ঠা)
হানাফী ইমাম মুহাম্মাদ বলেন, সুন্নাত না আদায় করে জামা‘আতেই ঢুকতে হবে। (মাবসূত ১ম খণ্ড ১৬৭ পৃষ্ঠা) ফজরের সুন্নাত সালাত ছুটে গেলে ফারয সালাত আদায়ের পর পরই পড়ে নিবে অথবা কোন জরুরী প্রয়োজন থাকলে এ দু’ রাক‘আত সালাত সূর্যোদয়ের পরেও পড়তে পারবেন। (তিরমিযী ১ম খণ্ড)
হানাফী ইমাম মুহাম্মাদ বলেন, সুন্নাত না আদায় করে জামা‘আতেই ঢুকতে হবে। (মাবসূত ১ম খণ্ড ১৬৭ পৃষ্ঠা) ফজরের সুন্নাত সালাত ছুটে গেলে ফারয সালাত আদায়ের পর পরই পড়ে নিবে অথবা কোন জরুরী প্রয়োজন থাকলে এ দু’ রাক‘আত সালাত সূর্যোদয়ের পরেও পড়তে পারবেন। (তিরমিযী ১ম খণ্ড)
হাদিস নং: ৬৬৪
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث قال حدثني ابي قال حدثنا الاعمش عن ابراهيم عن الاسود قال كنا عند عاىشة رضي الله عنها فذكرنا المواظبة على الصلاة والتعظيم لها قالت لما مرض رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مرضه الذي مات فيه فحضرت الصلاة فاذن فقال مروا ابا بكر فليصل بالناس فقيل له ان ابا بكر رجل اسيف اذا قام في مقامك لم يستطع ان يصلي بالناس واعاد فاعادوا له فاعاد الثالثة فقال انكن صواحب يوسف مروا ابا بكر فليصل بالناس فخرج ابو بكر فصلى فوجد النبي من نفسه خفة فخرج يهادى بين رجلين كاني انظر رجليه تخطان من الوجع فاراد ابو بكر ان يتاخر فاوما اليه النبي ان مكانك ثم اتي به حتى جلس الى جنبه
قيل للاعمش وكان النبي يصلي وابو بكر يصلي بصلاته والناس يصلون بصلاة ابي بكر فقال براسه نعم رواه ابو داود عن شعبة عن الاعمش بعضه وزاد ابو معاوية جلس عن يسار ابي بكر فكان ابو بكر يصلي قاىما.
قيل للاعمش وكان النبي يصلي وابو بكر يصلي بصلاته والناس يصلون بصلاة ابي بكر فقال براسه نعم رواه ابو داود عن شعبة عن الاعمش بعضه وزاد ابو معاوية جلس عن يسار ابي بكر فكان ابو بكر يصلي قاىما.
৬৬৪. আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট বসে নিয়মিত সালাত আদায় ও তার মর্যাদা সম্বন্ধে আলোচনা করছিলাম। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন সালাতের সময় হলে আযান দেয়া হলো। তখন তিনি বললেন, আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তাঁকে বলা হলো যে, আবু বাকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার সে কথা বললেন এবং তারাও আবার তা-ই বললেন। তৃতীয়বারও তিনি সে কথা ব’লে বললেন, তোমরা ইউসুফের সাথীদের মত। আবূ বকরকে নির্দেশ দাও যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আবূ বকর (রাযি.) এগিয়ে গিয়ে সালাত শুরু করলেন। এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে একটু হাল্কাবোধ করলেন। দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে বেরিয়ে এলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন,) আমার চোখে এখনও স্পষ্ট ভাসছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর দু’পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। তখন আবূ বকর (রাযি.) পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আনা হলো, তিনি আবূ বকর (রাযি.)-এর পাশে বসলেন।
আ‘মাশকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামাত করছিলেন। আর আবূ বকর (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসরণে সালাত আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবু বাকর (রাযি.)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল। আ‘মাশ (রাযি.) মাথার ইঙ্গিতে বললেন, হ্যাঁ। আবূ দাঊদ (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে আ‘মাশ (রাযি.) হতে হাদীসের কিয়দংশ উল্লেখ করেছেন। আবূ মু‘আবিয়াহ (রহ.) অতিরিক্ত বলেছেন, তিনি আবূ বকর (রাযি.)-এর বাঁ দিকে বসেছিলেন এবং আবূ বকর (রাযি.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। (১৯৮; মুসলিম ৪/২১, হাঃ ৪১৮, ২৬১৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩১)
আ‘মাশকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামাত করছিলেন। আর আবূ বকর (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসরণে সালাত আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবু বাকর (রাযি.)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল। আ‘মাশ (রাযি.) মাথার ইঙ্গিতে বললেন, হ্যাঁ। আবূ দাঊদ (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে আ‘মাশ (রাযি.) হতে হাদীসের কিয়দংশ উল্লেখ করেছেন। আবূ মু‘আবিয়াহ (রহ.) অতিরিক্ত বলেছেন, তিনি আবূ বকর (রাযি.)-এর বাঁ দিকে বসেছিলেন এবং আবূ বকর (রাযি.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। (১৯৮; মুসলিম ৪/২১, হাঃ ৪১৮, ২৬১৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩১)
হাদিস নং: ৬৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى، قال اخبرنا هشام بن يوسف، عن معمر، عن الزهري، قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله، قال قالت عاىشة لما ثقل النبي صلى الله عليه وسلم واشتد وجعه استاذن ازواجه ان يمرض في بيتي فاذن له، فخرج بين رجلين تخط رجلاه الارض، وكان بين العباس ورجل اخر. قال عبيد الله فذكرت ذلك لابن عباس ما قالت عاىشة فقال لي وهل تدري من الرجل الذي لم تسم عاىشة قلت لا. قال هو علي بن ابي طالب.
৬৬৫. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন একেবারে কাতর হয়ে গেলেন এবং তাঁর রোগের তীব্রতা বেড়ে গেলো, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষার জন্য তাঁর অন্যান্য স্ত্রীগণের নিকট সম্মতি চাইলেন। তাঁরা সম্মতি দিলেন। সে সময় দু’ জন লোকের কাঁধে ভর করে (সালাতের জন্য) তিনি বের হলেন, তাঁর দু’ পা মাটিতে হেঁচড়িয়ে যাচ্ছিল। তিনি ছিলেন ‘আব্বাস (রাযি.) ও অপর এক সাহাবীর মাঝখানে। (বর্ণনাকারী) উবাইদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর বর্ণিত এ ঘটনা ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর নিকট ব্যক্ত করি। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, তিনি কে ছিলেন, যার নাম ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেননি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩২)
হাদিস নং: ৬৬৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن نافع ان ابن عمر اذن بالصلاة في ليلة ذات برد وريح ثم قال الا صلوا في الرحال ثم قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يامر الموذن اذا كانت ليلة ذات برد ومطر يقول الا صلوا في الرحال.
৬৬৬. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) একদা তীব্র শীত ও বাতাসের রাতে সালাতের আযান দিলেন। অতঃপর ঘোষণা করলেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করে নাও, অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচন্ড শীত ও বৃষ্টির রাত হলে মুআয্যিনকে এ কথা বলার নির্দেশ দিতেন- ‘‘প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করে নাও।’’ (৬৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৩)
হাদিস নং: ৬৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن محمود بن الربيع الانصاري، ان عتبان بن مالك، كان يوم قومه وهو اعمى، وانه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله، انها تكون الظلمة والسيل وانا رجل ضرير البصر، فصل يا رسول الله في بيتي مكانا اتخذه مصلى، فجاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " اين تحب ان اصلي ". فاشار الى مكان من البيت، فصلى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم.
৬৬৭. মাহমূদ ইবনু রাবী ‘আল-আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘ইত্বান ইবনু মালিক (রাযি.) তাঁর নিজ গোত্রের ইমামাত করতেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো ঘোর অন্ধকার ও বর্ষণ প্রবাহিত হয়ে পড়ে। অথচ আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার ঘরে কোন এক স্থানে সালাত আদায় করুন যে স্থানটিকে আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্ধারিত করবো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে এলেন এবং বললেনঃ আমার সালাত আদায়ের জন্য কোন্ জায়গাটি তুমি ভাল মনে কর? তিনি ইঙ্গিত করে ঘরের জায়গা দেখিয়ে দিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে স্থানে সালাত আদায় করলেন। (৪২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৪)
হাদিস নং: ৬৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، قال حدثنا حماد بن زيد، قال حدثنا عبد الحميد، صاحب الزيادي قال سمعت عبد الله بن الحارث، قال خطبنا ابن عباس في يوم ذي ردغ، فامر الموذن لما بلغ حى على الصلاة. قال قل الصلاة في الرحال، فنظر بعضهم الى بعض، فكانهم انكروا فقال كانكم انكرتم هذا ان هذا فعله من هو خير مني ـ يعني النبي صلى الله عليه وسلم ـ انها عزمة، واني كرهت ان احرجكم. وعن حماد عن عاصم عن عبد الله بن الحارث عن ابن عباس نحوه، غير انه قال كرهت ان اوثمكم، فتجيىون تدوسون الطين الى ركبكم.
৬৬৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ঝড়-বৃষ্টির দিনে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাদের উদ্দেশে খুৎবা দিচ্ছিলেন। মুয়াযযিন যখন حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِপর্যন্ত পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে, ‘‘সালাত যার যার আবাসস্থলে।’’ এ শুনে লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগলো- যেন তারা বিষয়টাকে অপছন্দ করলো। তিনি তাদের লক্ষ্য করে বললেন, মনে হয় তোমরা বিষয়টি অপছন্দ করছ। তবে, আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনিই এরূপ করেছেন। একথা সত্য যে, জুমু‘আর সালাত ওয়াজিব। তবে তোমাদের অসুবিধায় ফেলা আমি পছন্দ করি না। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ সূত্রে এমন উল্লেখ আছে, আমি তোমাদের গুনাহর অভিযোগে ফেলতে পছন্দ করি না যে, তোমরা হাঁটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসবে। (৬১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৫)
হাদিস নং: ৬৬৯
সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم قال حدثنا هشام عن يحيى عن ابي سلمة قال سالت ابا سعيد الخدري فقال جاءت سحابة فمطرت حتى سال السقف وكان من جريد النخل فاقيمت الصلاة فرايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يسجد في الماء والطين حتى رايت اثر الطين في جبهته.
৬৬৯. আবূ সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-কে (লাইলাতুল কাদর সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এক খন্ড মেঘ এসে এমনভাবে বর্ষণ শুরু করল যে, যার ফলে (মসজিদে নাববীর) ছাদ দিয়ে পানি পড়া শুরু হল। কেননা, (তখন মসজিদের) ছাদ ছিল খেজুরের ডালের তৈরি। এমন সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলো, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পানি ও কাদার উপর সিজদা্ করতে দেখলাম, এমন কি আমি তাঁর কপালেও কাদামাটির চিহ্ন দেখলাম। (৮১৩, ৮৩৬, ২০১৬, ২০১৮, ২০২৭, ২০৩৬, ২০৪০; মুসলিম ১৩/৪০ হাঃ ১১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৬)
হাদিস নং: ৬৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، قال حدثنا انس بن سيرين، قال سمعت انسا، يقول قال رجل من الانصار اني لا استطيع الصلاة معك. وكان رجلا ضخما، فصنع للنبي صلى الله عليه وسلم طعاما فدعاه الى منزله، فبسط له حصيرا ونضح طرف الحصير، صلى عليه ركعتين. فقال رجل من ال الجارود لانس اكان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يصلي الضحى قال ما رايته صلاها الا يومىذ.
৬৭০. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি যে, এক আনসারী (সাহাবী) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, আমি আপনার সাথে মসজিদে এসে সালাত আদায় করতে অপারগ। তিনি ছিলেন মোটা। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করলেন এবং তাঁকে বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে গেলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এর জন্য একটি চাটাই পেতে দিলেন এবং চাটাইয়ের এক প্রান্তে কিছু পানি ছিটিয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে চাটাইয়ের উপর দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন। জারূদ গোত্রের এক ব্যক্তি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলো, নবী কি চাশ্তের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, ঐ দিন ছাড়া আর কোন দিন তাঁকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি। (১১৭৯,২০৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৭)
হাদিস নং: ৬৭১
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يحيى عن هشام قال حدثني ابي قال سمعت عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال اذا وضع العشاء واقيمت الصلاة فابدءوا بالعشاء.
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَبْدَأُ بِالْعَشَاءِ وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ مِنْ فِقْهِ الْمَرْءِ إِقْبَالُهُ عَلَى حَاجَتِهِ حَتَّى يُقْبِلَ عَلَى صَلاَتِهِ وَقَلْبُهُ فَارِغٌ
ইব্নু ’উমার (রাযি.) (সালাতের) পূর্বে রাতের খাবার খেয়ে নিতেন। আবূ দারদা (রাযি.) বলেছেন, জ্ঞানীর পরিচয় হল, প্রথমে নিজের প্রয়োজন মেটানো, যাতে নিশ্চিতভাবে সালাতে মনোনিবেশ করতে পারে।
৬৭১. ’আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর সে সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যায়, তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নাও। (৫৪৬৫; মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৬০, আহমাদ ২৪২২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৮)
ইব্নু ’উমার (রাযি.) (সালাতের) পূর্বে রাতের খাবার খেয়ে নিতেন। আবূ দারদা (রাযি.) বলেছেন, জ্ঞানীর পরিচয় হল, প্রথমে নিজের প্রয়োজন মেটানো, যাতে নিশ্চিতভাবে সালাতে মনোনিবেশ করতে পারে।
৬৭১. ’আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর সে সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যায়, তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নাও। (৫৪৬৫; মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৬০, আহমাদ ২৪২২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৮)
হাদিস নং: ৬৭২
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير قال حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اذا قدم العشاء فابدءوا به قبل ان تصلوا صلاة المغرب ولا تعجلوا عن عشاىكم.
৬৭২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিকেলের খাবার পরিবেশন করা হলে মাগরিবের সালাতের পূর্বে তা খেয়ে নিবে খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না। (৫৪৬৩; মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৯)
হাদিস নং: ৬৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، عن ابي اسامة، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا وضع عشاء احدكم واقيمت الصلاة فابدءوا بالعشاء، ولا يعجل حتى يفرغ منه ". وكان ابن عمر يوضع له الطعام وتقام الصلاة فلا ياتيها حتى يفرغ، وانه ليسمع قراءة الامام.
৬৭৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার এসে পড়ে, অপরদিকে সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যায়। তখন পূর্বে খাবার খেয়ে নিবে। খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর জন্য খাবার পরিবেশন করা হত, সে সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হত, তিনি খাবার শেষ না করে সালাতে আসতেন না। অথচ তিনি ইমামের কিরাআত শুনতে পেতেন। (৬৭৪, ৫৪৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৬৩৩ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪০)
হাদিস নং: ৬৭৪
সহিহ (Sahih)
وقال زهير ووهب بن عثمان عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " اذا كان احدكم على الطعام فلا يعجل حتى يقضي حاجته منه، وان اقيمت الصلاة ". رواه ابراهيم بن المنذر عن وهب بن عثمان، ووهب مديني.
৬৭৪. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খেতে থাক, তখন সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে গেলেও খাওয়া শেষ না করে তাড়াহুড়া করবে না। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আমাকে ইব্রাহীম ইবনু মুনযির (রহ.) এ হাদীসটি ওয়াহ্ব ইবনু উসমান (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন এবং ওয়াহ্ব হলেন মদিনা্বাসী। (মুসলিম ৫/১৬,হাঃ ৫৫৯ আহমাদ ৪৭০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪০ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৬৭৫
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله قال حدثنا ابراهيم عن صالح عن ابن شهاب قال اخبرني جعفر بن عمرو بن امية ان اباه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم ياكل ذراعا يحتز منها فدعي الى الصلاة فقام فطرح السكين فصلى ولم يتوضا.
৬৭৫. ‘আমর ইবনু উমাইয়াহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (বকরীর) সামনের রানের গোশ্ত কেটে খেতে দেখতে পেলাম, এমন সময় তাঁকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি ছুরি রেখে দিয়ে উঠে গেলেন ও নতুন উযূ না করেই সালাত আদায় করলেন। (২০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪১)