অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

১০/১. আযান
মোট ২৭৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭৭৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا همام، عن يحيى، عن عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرا في الظهر في الاوليين بام الكتاب وسورتين، وفي الركعتين الاخريين بام الكتاب، ويسمعنا الاية، ويطول في الركعة الاولى ما لا يطول في الركعة الثانية، وهكذا في العصر وهكذا في الصبح‏.‏
৭৭৬. আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দু’রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা ও দু’টি সূরাহ্ পড়তেন এবং শেষ দু’রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পাঠ করতেন এবং তিনি কোন কোন আয়াত আমাদের শোনাতেন, আর তিনি প্রথম রাক‘আতে যত দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাক‘আতে তত দীর্ঘ করতেন না। ‘আসরে এবং ফজরেও এ রকম করতেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪০)
হাদিস নং: ৭৭৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، قال حدثنا جرير، عن الاعمش، عن عمارة بن عمير، عن ابي معمر، قلت لخباب اكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا في الظهر والعصر قال نعم‏.‏ قلنا من اين علمت قال باضطراب لحيته‏.‏
৭৭৭. আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কী করে বুঝলেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ি নড়াচড়া দেখে। (৭৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪১)
হাদিস নং: ৭৭৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا الاوزاعي، حدثني يحيى بن ابي كثير، حدثني عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرا بام الكتاب وسورة معها في الركعتين الاوليين من صلاة الظهر وصلاة العصر، ويسمعنا الاية احيانا، وكان يطيل في الركعة الاولى‏.‏
৭৭৮. আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাতের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ ফাতিহার সাথে আরেকটি সুরা পড়তেন। কখনো কোন কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন এবং তিনি প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪২)
হাদিস নং: ৭৭৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا هشام، عن يحيى بن ابي كثير، عن عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يطول في الركعة الاولى من صلاة الظهر، ويقصر في الثانية، ويفعل ذلك في صلاة الصبح‏.‏
৭৭৯. আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাতের প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন ও দ্বিতীয় রাক‘আতে সংক্ষিপ্ত করতেন এবং এ রকম করতেন ফজরের সালাতেও। (৭৫৯)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৩)
হাদিস নং: ৭৮০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، وابي، سلمة بن عبد الرحمن انهما اخبراه عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ اذا امن الامام فامنوا فانه من وافق تامينه تامين الملاىكة غفر له ما تقدم من ذنبه ‏"‏‏.‏ وقال ابن شهاب وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏"‏ امين ‏"‏‏.‏
وَقَالَ عَطَاءٌ آمِينَ دُعَاءٌ أَمَّنَ ابْنُ الزُّبَيْرِ وَمَنْ وَرَاءَهُ حَتَّى إِنَّ لِلْمَسْجِدِ لَلَجَّةً وَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُنَادِي الْإِمَامَ لاَ تَفُتْنِي بِآمِينَ وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَدَعُهُ وَيَحُضُّهُمْ وَسَمِعْتُ مِنْهُ فِي ذَلِكَ خَيْرًا.

‘আত্বা (রহ.) বলেন, ‘আমীন’ হল দু‘আ। তিনি আরও বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযি.) ও তাঁর পিছনের মুসুল্লীগণ এমনভাবে ‘আমীন’ বলতেন যে, মসজিদে গুমগুম আওয়ায হতো। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) ইমামকে ডেকে বলতেন, আমাকে ‘আমীন’ বলার সুযোগ হতে বঞ্চিত করবেন না। নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) কখনই ‘আমীন’ বলা ছাড়তেন না এবং তিনি তাদের (আমীন বলার জন্য) উৎসাহিত করতেন। আমি তাঁর কাছ হতে এ সম্পর্কে হাদীস শুনেছি।


৭৮০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম যখন ‘আমীন’ বলেন, তখন তোমরাও ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার ‘আমীন’ (বলা) ও মালাইকাহর ‘আমীন’ (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মা‘ফ করে দেয়া হয়। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আমীন’ বলতেন। (৬৪০২; মুসলিম ৪/১৮, হাঃ ৪১০, আহমাদ ৮২৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৪)
 
হাদিস নং: ৭৮১ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرةان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اذا قال احدكم امين وقالت الملاىكة في السماء امين فوافقت احداهما الاخرى غفر له ما تقدم من ذنبه.
৭৮১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) ‘আমীন’ বলে, আর আসমানে মালাইকাহ্ ‘আমীন’ বলেন এবং উভয়ের ‘আমীন’ একই সময় হলে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৫)
নোট: * যেহরী সালাতে উচ্চস্বরে আমীন না বলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবাদের আমলের বিপরীত, বরং ইমাম ও মুক্তাদির সকলেরই সরবে আমীন বলতে হবে। কেননা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেহ্‌রী সালাতে উচ্চস্বরে আমীন বলতেন এবং ইমাম যখন আমীন বলে তখন মুক্তাদিকে আমীন বলার নির্দেশ দিতেন যেমন ৭৮০ নং হাদীস বর্ণিত। এছাড়াও তিরমিযী বর্ণিত হাদীসে আছেঃ
ওয়ায়িল বিন হুজর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে “গায়রিল মাগযূবি ‘আলাইহিম অলায্‌যাল্লীন” পড়তে শুনেছি। অতঃপর তিনি নিজের স্বরকে উচ্চ করে আমীন বলেছেন ।
(বুখারী ১ম ১০৭-১০৮ পৃষ্ঠা; মুসলিম ১৭৬ পৃষ্ঠা। আবূ দাউদ ১৩৪ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ৫৭-৫৮ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪০ পৃষ্ঠা। ইব্‌নু মাজাহ ৬২ পৃষ্ঠা। মেশকাত ১ম খণ্ড ৭৯-৮০ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তামালেক ১০৮ পৃষ্ঠা। ইব্‌নু খুযায়মাহ ১ম ২৮৭ পৃষ্ঠা। যাদুল মায়াদ ১ম খণ্ড ১৩২ পৃষ্ঠা। হিদায়া হিরায়াহ ১০৮ পৃষ্ঠা। মেশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ২য় খণ্ড ও মাদ্‌রাসা পাঠ্য হাদীস নং ৭৬৮-৭৮৭। বুখারী আযীযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪৫৩, বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭৩৬-৭৩৮, বুখারী ইসলামিত ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড অনুচ্ছেদসহ হাদীস নং ৭৪১-৭৪৩। মুসলিম ইঃফাঃ ২য় খণ্ড হাদীস নং-৭৯৭-৮০৪ পর্যন্ত। আবূ দাউদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৯৩২। তিরমিযী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৪৮, বুলূগুল মারাম বাংলা ৮৫ পৃষ্ঠা, কিমিয়ায়ে সায়াদাত ১ম খণ্ড ১৯০ পৃষ্ঠা। ইসলামিয়াত বি-এ হাদীস পর্ব ১৫৭ পৃষ্ঠা)

সাহাবীদের উচ্চস্বরে ‘আমীন’বলাঃ
আত্বা বলেনঃ “আমীন একটি দু‘আ। ইব্‌নু জুবায়র (রাঃ) আমীন বলেছেন এবং তাঁর পিছনের লোকেরা বলেছেন এমন কি মসজিদ আমীন ধ্বনিতে গুঞ্জরিত হয়েছিল ।” (বুখারী, তাগলীকুত তা‘লীক ২/৩১৮, হাফিয ইব্‌নু হাজার)

বড় পীর সাহেবের উচ্চস্বরে ‘আমীন’ বলা
শায়খ আবদুল ক্বাদীর জীলানী (রহঃ) ‘গুনায়তুত্‌ তালেবীন’ গ্রন্থে সালাতের সুন্নাতসমূহ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেনঃ
“এবং উচ্চস্বরে কেরাত পড়া ও ‘আমীন’ বলা। (গুনয়াতুত তালেবীন পৃঃ ১০, আইয়ুবিয়া প্রেসে প্রকাশিত)

মুজাদ্দিদে আল্‌ফেসানী (রহঃ)-এর উচ্চস্বরে ‘আমীন’ বলা । মুজাদ্দিদে আলফেসানী শায়খ আহমাদ সারহিন্দী (রহঃ) বলেনঃ “উচ্চস্বরে ‘আমীন’ বলার হাদীছ সমূহ বেশী এবং অতি শুদ্ধ ।” (আবকারূল মিনান পৃষ্ঠ ১৮৯)

হানাফী ‘আলিমগণের উচ্চস্বরে ‘আমীন’ বলা-

শায়খ ‘আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলবী (রহঃ) বলেনঃ
“রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা ফাতিহার শেষে আমীন বলতেন জাহরী সালাতে (অর্থাৎ মাগরিব, ইশা ও ফজরে) উচ্চস্বরে আর সিররী ছলাতে (অর্থাৎ যুহর ও ‘আসরে) নিম্নস্বরে। (মাদারিজুন নুবুওয়াত পৃষ্ঠা ২০১)

আল্লামা আবদুল হাই লক্ষ্মৌবী (রহঃ) বলেনঃ
“ন্যায়সঙ্গত কথা হলো, দলীল অনুযায়ী উচ্চস্বরে ‘আমীন’ বলা মজবুত ।” (আত্ তা‘লীকুল মুমাজ্জাদ ১০৩ পৃষ্ঠা)

তিনি আরো বলেনঃ
“গভীর চিন্তা গবেষণার পর আমরা উচ্চস্বরে ‘আমীন’ বলাকেই অতি সঠিক পেলাম। কেননা এটা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াতের সাথে মিলে। আর নিম্নস্বরে ‘আমীন’ বলার রিওয়ায়াতগুলো দূর্বল তাই উচ্চস্বরে বলার রিওয়ায়াতের সমকক্ষতা করতে পারবে না ।” (আস্ সিআয়া ১/১৩৬) আমীন বলার স্বপক্ষে ১৭টি হাদীস এসেছে। (রওযাতুন নাদিইয়াহ ১/২৭১) যার মধ্যে আমীন আস্তে বলার পক্ষে শু‘বা হতে একটি রিওয়ায়াত আহমাদ ও দারাকুৎনীতে এসেছে جفض أو أخفى بهما صوته অর্থাৎ আমীন বলার সময় রসূলুল্লাহ্ সল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আওয়ায নিম্ন হত। একই রিওয়ায়াতে সুফ্ইয়ান সত্তরূ (রহঃ) হতে এসেছে رفع بهما صوته অর্থাৎ তাঁর আওয়ায উচ্চ হত। হাদীস বিশারদগণের নিকট শু‘বা থেকে বর্ণিত নিম্নস্বরে আমীন বলার হাদীসটি মুযতারাব। যার সনদ ও মতনে নাম ও শব্দগত ভুল থাকার কারণে য’ঈফ। পক্ষান্তরে সুফ্ইয়ান সত্তরী (রহঃ) বর্ণিত সরবে আমীন বলার হাদীসটি এসব ক্রটি হতে মুক্ত হবার কারণে সহীহ। (দারাকুতনী হাঃ ১২৫৬ এর ভাষ্য, রওযাতুন নাদিয়াহ ১/২৭২, নায়লুল আওত্বার ৩/৭৫)

শু‘বাহ্‌র ভুলঃ
শু‘বাহ্‌র প্রথম ভুল এই যে, তিনি হুজরকে আমবাসের পিতা বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃত কথা এই যে, হুজর আমবাসের পিতা নন, পুত্র। আর তার কুনিয়াত হচ্ছে আবা সাকান। (তিরমিযী, আহমদী ছাপা ৪৯ পৃষ্ঠা)

ও তাঁর দ্বিতীয় ভ্রান্তি এই যে, এই হাদীসের সনদে আলকামা বিন অয়েলকে অতিরিক্ত আমদানী করা হয়েছে। অথচ সনদে তাঁর উল্লেখ নাই। তাঁর তৃতীয় ভূল এই যে, হাদীসের মতনে তিনি যেখানে বলেন-রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমীন শব্দটি আস্তে বললেন প্রকৃত প্রস্তাবে তা হবে যে, তিনি আমীন সশব্দে উচ্চারণ করলেন । স্বয়ং মোল্লা আলী কারী হানাফী তদীয় মিশকাতের শরাহ মিরকাতে আকুন্ঠ ভাষায় স্বীকার করেছেন যে, হাদীসবিদগণ শো‘বার এই ভূল সম্পর্কে একমত। তিনি বলেন, সর্বস্বীকৃত সঠিক কথা হচ্ছে ‘মাদ্দাবিহা সাওতাহু ও রাফা’আ বেহা সাওতাহু অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমীনের শব্দ দারাজ করে পড়লেন এবং উচ্চকন্ঠে পড়লেন। লম্বা করে টেনে পড়ার কথা তিরমিযী, আহমাদ ও ইব্‌নু আবী শায়বা রিওয়ায়াত করেছেন আর উচ্চকন্ঠে পড়ার কথা আবু দাউদ রিওয়ায়াত করেছেন। এতদ্ব্যতীত বাইহাকী তদীয় হাদীস গ্রন্থে ও ইব্‌নু হিব্বান স্বীয় সহীতে ‘আতার বাচনিক রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি বলেন, “আমি সাহাবীগণের মধ্যে এমন দু’শত জনকে পেয়েছি যারা ইমাম ওয়ালায্যাল্লীন বলার পর বুলন্দ আওয়াজে আমীন বলতেন ।” শু’বাহ্‌র হাদীস যে যয়ীফ সে সম্পর্কে তাঁর উপরোল্লিখিত ৩টি ভ্রান্তি এবং মোল্লা আলী কারীর উপরোদ্ধৃত মন্তব্যের পর কোনই সন্দেহ থাকতে পারে না। এর উপর তার বর্ণিত সনদে দেখা যায়, আলকামা তদীয় পিতা অয়েল হতে এই হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু মজার কথা এই যে, তিনি তাঁর পিতার নিকট এই হাদীস শুনেননি-শুনতে পারেন না। এ সম্পর্কে হাফিয ইব্‌নু হাজার তদীয় ‘তক্‌রীবুত্ তাহ্‌যীব’ নামক রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থে কী বলেন- পাঠক মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন! তিনি বলেনঃ ‘আলক্বামাহ বিল অয়েল বিন হুজর-(পেশযুক্ত হা ও সাকিনযুক্ত জীম) হাজরামী কুফী (রাবী হিসাবে) সত্যবাদী (সন্দেহ নাই)। কিন্তু নিশ্চিত কথা এই যে, তিনি তাঁর পিতা হতে হাদীস শ্রবণ করেননি। পিতার নিকট হতে পুত্র কোন হাদীস শ্রবণ করতে পারেননি সে কথার রহস্য উদঘাটন করে দিয়েছেন শায়খ ইব্‌নু হুমাম হানাফী স্বীয় ফাতহুল কাদীর গ্রন্থে। তিনি ওটাতে লিখেছেনঃ অর্থাৎ ইমাম তিরমিযী স্বীয় ইলালে কবীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইমাম বুখারীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আলকামা কি স্বীয় পিতার নিকট হাদীস শ্রবণ করেছিলেন?” তদুত্তরে ইমাম বুখারী (হাঁ, ‘না কিছুই না বলে) বললেন, তিনি (‘আলক্বামাহ) স্বীয় পিতার মৃত্যুর ৬ মাস পর জন্মগ্রহণ করেন। (দেখুন ফাতহুল কাদীর, নলকিশোর ছাপা, ১ম খণ্ড ১২১ পৃষ্ঠা)
হাদিস নং: ৭৮২ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن سمى، مولى ابي بكر عن ابي صالح، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ اذا قال الامام ‏(‏غير المغضوب عليهم ولا الضالين‏)‏ فقولوا امين‏.‏ فانه من وافق قوله قول الملاىكة غفر له ما تقدم من ذنبه ‏"‏‏.‏ تابعه محمد بن عمرو عن ابي سلمة عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم ونعيم المجمر عن ابي هريرة رضى الله عنه‏.‏
৭৮২. আবু হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ পড়লে তোমরা ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার এ (আমীন) বলা মালাকগণের (আমীন) বলার সাথে একই সময় হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহ.) আবূ সালামাহ (রহ.) সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এবং নু‘আইম- মুজমির (রহ.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে হাদীস বর্ণনায় সুমাই (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৪৪৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৬)
হাদিস নং: ৭৮৩ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل قال حدثنا همام عن الاعلم وهو زياد عن الحسن عن ابي بكرة انه انتهى الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو راكع فركع قبل ان يصل الى الصف فذكر ذلك للنبي فقال زادك الله حرصا ولا تعد.
৭৮৩. আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এমন অবস্থায় পৌঁছলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রুকূ‘তে ছিলেন। তখন কাতার পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই তিনি রুকূ‘তে চলে যান। এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ব্যক্ত করা হলে, তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিন। তবে এ রকম আর করবে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৭)
হাদিস নং: ৭৮৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق الواسطي، قال حدثنا خالد، عن الجريري، عن ابي العلاء، عن مطرف، عن عمران بن حصين، قال صلى مع علي ـ رضى الله عنه ـ بالبصرة فقال ذكرنا هذا الرجل صلاة كنا نصليها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم‏.‏ فذكر انه كان يكبر كلما رفع وكلما وضع‏.‏
قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ.

এ ব্যাপারে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে মালিক ইবনু হুওয়ারিস (রাযি.) হতেও রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে।


৭৮৪. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বসরায় ‘আলী (রাযি.)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, ইনি [‘আলী (রাযি.)] আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আদায়কৃত সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আর তিনি উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবার (মাথা) উঠাতে ও নামাতে তাকবীর বলতেন। (৭৮৬, ৮২৬; মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯৩, আহমাদ ১৯৯৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৮)
হাদিস নং: ৭৮৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، انه كان يصلي بهم، فيكبر كلما خفض ورفع، فاذا انصرف قال اني لاشبهكم صلاة برسول الله صلى الله عليه وسلم‏.‏
৭৮৫. আবূ সালামাহ ... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাদের সঙ্গে সালাত আদায় করতেন এবং প্রতিবার উঠা বসার সময় তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার সালাতই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। (৭৮৯, ৭৯৫, ৮০৩ মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯২ আহমাদ ৮২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৯)
হাদিস নং: ৭৮৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان، قال حدثنا حماد، عن غيلان بن جرير، عن مطرف بن عبد الله، قال صليت خلف علي بن ابي طالب ـ رضى الله عنه ـ انا وعمران بن حصين،، فكان اذا سجد كبر، واذا رفع راسه كبر، واذا نهض من الركعتين كبر، فلما قضى الصلاة اخذ بيدي عمران بن حصين فقال قد ذكرني هذا صلاة محمد صلى الله عليه وسلم‏.‏ او قال لقد صلى بنا صلاة محمد صلى الله عليه وسلم‏.‏
৭৮৬. মুতাররিফ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) ‘আলী ইবনু তালিব (রাযি.)-এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন সিজদা্য় গেলেন তখন তাকবীর বললেন, সিজদা্ হতে যখন মাথা উঠালেন তখনও তাকবীর বললেন, আবার দু’ রাক‘আতের পর যখন দাঁড়ালেন তখনও তাকবীর বললেন। তিনি যখন সালাত শেষ করলেন তখন ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) আমার হাত ধরে বললেন, ইনি [‘আলী (রাযি.)] আমাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বা তিনি বলেছিলেন, আমাদের নিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করেছেন। (৭৮৪)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৪২ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫০)
হাদিস নং: ৭৮৭ সহিহ (Sahih)
عمرو بن عون قال حدثنا هشيم عن ابي بشر عن عكرمة قال رايت رجلا عند المقام يكبر في كل خفض ورفع واذا قام واذا وضع فاخبرت ابن عباسقال اوليس تلك صلاة النبي صلى الله عليه وسلم لا ام لك.
৭৮৭. ‘ইকরিমাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাকামে (ইব্রাহীমের নিকট) এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে, প্রতিবার উঠা ও ঝুঁকার সময় এবং দাঁড়ানো ও বসার সময় তাকবীর বলছেন। আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে এ কথা জানালে তিনি বললেন, তুমি মাতৃহীন হও,* একি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত নয়? (৭৮৮)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫১)
নোট: * এটা তিরস্কার স্বরূপ বলা হয়েছে, খারাপ উদ্দেশে নয় ।
হাদিস নং: ৭৮৮ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل قال اخبرنا همام عن قتادة عن عكرمة قال صليت خلف شيخ بمكة فكبر ثنتين وعشرين تكبيرة فقلت لابن عباس انه احمق فقال ثكلتك امك سنة ابي القاسم وقال موسى حدثنا ابان حدثنا قتادة حدثنا عكرمة.
৭৮৮. ‘ইকরিমাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা্য় এক বৃদ্ধের পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি বাইশবার তাকবীর বললেন। আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললাম, লোকটি তো আহাম্মক। তিনি বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। এ যে আবুল কাসিম-এর সুন্নাত। মূসা (রহ.) বলেন, আবান (রহ.) ক্বাতাদাহ্ (রহ.) সূত্রেও ‘ইকরিমাহ (রাযি.) হতে এ হাদীসটি সরাসরি বর্ণনা করেছেন।  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫২)
হাদিস নং: ৭৮৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، قال حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني ابو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث، انه سمع ابا هريرة، يقول كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قام الى الصلاة يكبر حين يقوم، ثم يكبر حين يركع، ثم يقول سمع الله لمن حمده‏.‏ حين يرفع صلبه من الركعة، ثم يقول وهو قاىم ربنا لك الحمد ـ قال عبد الله ‏(‏بن صالح عن الليث‏)‏ ولك الحمد ـ ثم يكبر حين يهوي، ثم يكبر حين يرفع راسه، ثم يكبر حين يسجد، ثم يكبر حين يرفع راسه، ثم يفعل ذلك في الصلاة كلها حتى يقضيها، ويكبر حين يقوم من الثنتين بعد الجلوس‏.‏
৭৮৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। অতঃপর রুকূ‘তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকূ‘ হতে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে قَائِمٌ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সিজদা্য় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সিজদা্য় যেতে তাকবীর বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ করতেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর বলতেন। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু সালিহ্ (রহ.) লাইস (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে وَلَكَ الْحَمْدُ  উল্লেখ করেছেন। (৭৮৫; মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯২, আহমাদ ৮২৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৩)
হাদিস নং: ৭৯০ সহিহ (Sahih)
ابو الوليد قال حدثنا شعبة عن ابي يعفور قال سمعت مصعب بن سعد يقول صليت الى جنب ابي فطبقت بين كفي ثم وضعتهما بين فخذي فنهاني ابي وقال كنا نفعله فنهينا عنه وامرنا ان نضع ايدينا على الركب.
وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ فِي أَصْحَابِهِ أَمْكَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ.

আবূ হুমায়দ (রাযি.) তাঁর সঙ্গীদের সামনে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রুকূ‘র সময়) দু’ হাত দিয়ে উভয় হাঁটুতে ভর দিতেন।


৭৯০. মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। এবং (রুকু‘র সময়) দু’ হাত জোড় করে উভয় উরুর মাঝে রাখলাম। আমার পিতা আমাকে এমন করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, আগে আমরা এমন করতাম; পরে আমাদেরকে এ হতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাত হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (মুসলিম ৫/৫, হাঃ ৫৩৫, আহমাদ ১৫৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৪)
হাদিস নং: ৭৯১ সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر قال حدثنا شعبة عن سليمان قال سمعت زيد بن وهب قال راى حذيفة رجلا لا يتم الركوع والسجود قال ما صليت ولو مت مت على غير الفطرة التي فطر الله محمدا صلى الله عليه وسلم عليها.
৭৯১. যায়দ ইবনু ওয়াহব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফা (রাযি.) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে রুকূ‘ ও সিজদা্ ঠিকমত আদায় করছে না। তিনি তাকে বললেন, তোমার সালাত হয়নি। যদি তুমি (এই অবস্থায়) মারা যাও, তাহলে আল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যে আদর্শ দিয়েছেন সে আদর্শ হতে বিচ্যুত অবস্থায় তুমি মারা যাবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৫)
হাদিস নং: ৭৯২ সহিহ (Sahih)
بدل بن المحبر قال حدثنا شعبة قال اخبرني الحكم عن ابن ابي ليلى عن البراء قال كان ركوع النبي صلى الله عليه وسلم وسجوده وبين السجدتين واذا رفع راسه من الركوع ما خلا القيام والقعود قريبا من السواء.
10/120. بَاب اسْتِوَاءِ الظَّهْرِ فِي الرُّكُوعِ

১০/১২০. অধ্যায়: রুকূ’তে পিঠ সোজা রাখা।

আবূ হুমাইদ (রাযি.) তাঁর সাথীদের সামনে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ’ করতেন এবং রুকূ’তে পিঠ সোজা রাখতেন।

৭৯২. বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে দাঁড়ানো ও বসা অবস্থা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রুকূ’, সিজদা্ এবং দু’ সিজদার মধ্যবর্তী সময় এবং রুকূ’ হতে উঠে দাঁড়ানো, এগুলো প্রায় সমপরিমাণ ছিল। (৮০১, ৮২০; মুসলিম ৪/৩৮ হাঃ ৪৭১, আহমাদ ১৮৬২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৬)
হাদিস নং: ৭৯৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال اخبرني يحيى بن سعيد، عن عبيد الله، قال حدثنا سعيد المقبري، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل المسجد فدخل رجل فصلى ثم جاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فرد النبي صلى الله عليه وسلم عليه السلام فقال ‏"‏ ارجع فصل فانك لم تصل ‏"‏ فصلى، ثم جاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ ارجع فصل فانك لم تصل ‏"‏‏.‏ ثلاثا‏.‏ فقال والذي بعثك بالحق فما احسن غيره فعلمني‏.‏ قال ‏"‏ اذا قمت الى الصلاة فكبر، ثم اقرا ما تيسر معك من القران، ثم اركع حتى تطمىن راكعا، ثم ارفع حتى تعتدل قاىما، ثم اسجد حتى تطمىن ساجدا، ثم ارفع حتى تطمىن جالسا، ثم اسجد حتى تطمىن ساجدا، ثم افعل ذلك في صلاتك كلها ‏"‏‏.‏
৭৯৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একসময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাশরীফ আনলেন, তখন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো। অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি আবার সালাত আদায় করল এবং আবার এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম দিল। তিনি বললেনঃ আবার গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। অতঃপর লোকটি বলল, সে মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে সুন্দর সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই, আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যতটুকু তোমার পক্ষে সহজ ততটুকু পড়বে। অতঃপর রুকূ‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ আদায় করবে। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। ধীরস্থিরভাবে সিজদা্ করবে। অতঃপর সিজদা্ হতে উঠে স্থিরভাবে বসবে এবং পুনরায় সিজদা্য় গিয়ে স্থিরভাবে সিজদা্ করবে। অতঃপর পুরো সালাত এভাবে আদায় করবে। (৭৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৭)
হাদিস নং: ৭৯৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر، قال حدثنا شعبة، عن منصور، عن ابي الضحى، عن مسروق، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في ركوعه وسجوده ‏ "‏ سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي ‏"‏‏.‏
৭৯৪. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ ও সিজদা্য় এ দু‘আ পড়তেন-سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘‘হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’’।* (৮১৭, ৪২৯৩, ৪৯৬৭, ৪৯৬৮)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৮)
নোট: * আধুনিক প্রকাশনীর ৭৫০ নম্বর হাদীসের টীকায় লিখা হয়েছে “রুকু‘ ও সিজদা্য় এ দু‘আ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের প্রথম দিকে পড়তেন। তখন রুকু‘তে সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম ও সিজদা্য় সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা পড়ার নির্দেশ হয়নি। পরে এ দু’টি দু‘আ নাযিল হলে এবং তা পড়বার আদেশ হলে পূর্বে উল্লেখিত দু‘আ মানসূখ বা বাতিল হয়ে যায়।”

এটি একেবারেই মনগড়া ও হাদীস বিরোধী কথা যার কোন দলীল নেই। ইমাম ইবনু কাইয়্যিম যাদুল মা‘আদে এবং নাসিরউদ্দিন আলবানী স্বীয় সিফাত গ্রন্থে রুকু‘ ও সিজদা্র দু‘আর অর্থের পর লিখেছেন - “তিনি কুরআনের উপর ‘আমল করতঃ রুকু‘ ও সিজদা্তে এ দু‘আটি বেশী বেশী করে পড়তেন।” (বুখারী হাদীস নং ৮১৭) আর এ সূরাটি নাযিল হয়েছে আল্লাহর রসূলের ইন্তিকালের অল্প কিছুদিন পূর্বে। সূরা নাসর হচ্ছে সর্বশেষ নাযিলকৃত সূরা। তাই উক্ত টীকার দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অজ্ঞতাপূর্ণ ।
হাদিস নং: ৭৯৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، قال حدثنا ابن ابي ذىب، عن سعيد المقبري، عن ابي هريرة، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا قال ‏"‏ سمع الله لمن حمده ‏"‏‏.‏ قال ‏"‏ اللهم ربنا ولك الحمد ‏"‏‏.‏ وكان النبي صلى الله عليه وسلم اذا ركع واذا رفع راسه يكبر، واذا قام من السجدتين قال ‏"‏ الله اكبر ‏"‏‏.‏
৭৯৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ  বলে (রুকূ‘ হতে উঠতেন) তখন اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ  বলতেন, আর তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন এবং রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন, তখন তাকবীর বলতেন এবং উভয় সিজদা্ হতে যখন দাঁড়াতেন, তখন اللهُ أَكْبَرُ বলতেন। (৭৮৫)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৯)
অধ্যায় তালিকা