হাদিস নং: ৮৮২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا شيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، ان عمر ـ رضى الله عنه ـ بينما هو يخطب يوم الجمعة اذ دخل رجل فقال عمر لم تحتبسون عن الصلاة فقال الرجل ما هو الا سمعت النداء توضات. فقال الم تسمعوا النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا راح احدكم الى الجمعة فليغتسل ".
৮৮২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। জুমু‘আহর দিন ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) খুত্বা দিচ্ছিলেন, এ সময় এক ব্যক্তি মসজিদে আসলে ‘উমার (রাযি.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, সালাতে সময় মত আসতে তোমরা কেন বাধাগ্রস্ত হও? তিনি বললেন, আযান শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি উযূ করেছি। তখন ‘উমার (রাযি.) বললেন, তোমরা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথা বলতে শোননি যে, যখন তোমাদের কেউ জুমু‘আহর সালাতে রওয়ানা দেয়, তখন সে যেন গোসল করে নেয়। (৮৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৮)
হাদিস নং: ৮৮৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، قال حدثنا ابن ابي ذىب، عن سعيد المقبري، قال اخبرني ابي، عن ابن وديعة، عن سلمان الفارسي، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا يغتسل رجل يوم الجمعة، ويتطهر ما استطاع من طهر، ويدهن من دهنه، او يمس من طيب بيته ثم يخرج، فلا يفرق بين اثنين، ثم يصلي ما كتب له، ثم ينصت اذا تكلم الامام، الا غفر له ما بينه وبين الجمعة الاخرى ".
৮৮৩. সালমান ফারিসী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু‘আহর দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল হতে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর বের হয় এবং দু’ জন লোকের মাঝে ফাঁক না করে, অতঃপর তার নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুৎবা দেয়ার সময় চুপ থাকে, তা হলে তার সে জুমু‘আহ হতে আরেক জুমু‘আহ পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (৯১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩২ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৯)
হাদিস নং: ৮৮৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال طاوس قلت لابن عباس ذكروا ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " اغتسلوا يوم الجمعة واغسلوا رءوسكم وان لم تكونوا جنبا، واصيبوا من الطيب ". قال ابن عباس اما الغسل فنعم، واما الطيب فلا ادري.
৮৮৪. তাঊস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললাম, সাহাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমু‘আহর দিন গোসল কর এবং মাথা ধুয়ে ফেল যদিও তোমরা জুনুবী না হয়ে থাক এবং সুগন্ধি ব্যবহার কর। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বললেন, গোসল সম্পর্কে নির্দেশ ঠিকই আছে, কিন্তু সুগন্ধি সম্পর্কে আমি জানি না। (৮৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪০)
হাদিস নং: ৮৮৫
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى قال اخبرنا هشام ان ابن جريج اخبرهم قال اخبرني ابراهيم بن ميسرة عن طاوس عن ابن عباس رضي الله عنهما انه ذكر قول النبي صلى الله عليه وسلم في الغسل يوم الجمعة فقلت لابن عباس ايمس طيبا او دهنا ان كان عند اهله فقال لا اعلمه.
৮৮৫. তাঊস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন, জুমু‘আহর দিন গোসল সম্বন্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীর উল্লেখ করেন তখন আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পরিবার পরিজনের সঙ্গে অবস্থান করতেন তখনও কি তিনি সুগন্ধি বা তেল ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, আমি তা জানি না। (৮৮৫; মুসলিম ৭/১, হাঃ ৮৪৮, আহমাদ ৩০৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪১)
হাদিস নং: ৮৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان عمر بن الخطاب، راى حلة سيراء عند باب المسجد فقال يا رسول الله، لو اشتريت هذه فلبستها يوم الجمعة وللوفد اذا قدموا عليك. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انما يلبس هذه من لا خلاق له في الاخرة ". ثم جاءت رسول الله صلى الله عليه وسلم منها حلل، فاعطى عمر بن الخطاب ـ رضى الله عنه ـ منها حلة فقال عمر يا رسول الله، كسوتنيها وقد قلت في حلة عطارد ما قلت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اني لم اكسكها لتلبسها ". فكساها عمر بن الخطاب ـ رضى الله عنه ـ اخا له بمكة مشركا.
৮৮৬. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) মসজিদে নববীর দরজার নিকটে এক জোড়া রেশমী পোষাক (বিক্রি হতে) দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি এটি আপনি খরিদ করতেন আর জুমু‘আহর দিন এবং যখন আপনার নিকট প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করতেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা তো সে ব্যক্তিই পরিধান করে, আখিরাতে যার (মঙ্গলের) কোন অংশ নেই। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এ ধরনের কয়েক জোড়া পোষাক আসে, তখন তার এক জোড়া তিনি ‘উমার (রাযি.)-কে প্রদান করেন। ‘উমার (রাযি.) আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এটি পরতে দিলেন অথচ আপনি উতারিদের (রেশম) পোষাক সম্পর্কে যা বলার তা তো বলেছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাকে এটি নিজের পরার জন্য দেইনি। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) তখন এটি মক্কা্য় তাঁর এক ভাইকে দিয়ে দেন, যে তখন মুশরিক ছিল।
(৯৪৮,২১০৪, ২৬১২, ২৬১৯, ৩০৫৪, ৫৮৪১, ৫৯৮১, ৬০৮১ মুসলিম ৩৭/ আওয়ালুল কিতাব?, হাঃ ২০৬৮, আহমাদ ৫৮০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪২)
(৯৪৮,২১০৪, ২৬১২, ২৬১৯, ৩০৫৪, ৫৮৪১, ৫৯৮১, ৬০৮১ মুসলিম ৩৭/ আওয়ালুল কিতাব?, হাঃ ২০৬৮, আহমাদ ৫৮০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪২)
হাদিস নং: ৮৮৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرةان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لولا ان اشق على امتي او على الناس لامرتهم بالسواك مع كل صلاة.
وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَنُّ.
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি মিস্ওয়াক করতেন।
৮৮৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিস্ওয়াক করার হুকুম করতাম। (৭২৪০; মুসলিম ২/১৫, হাঃ ২৫২, আহমাদ ৭৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৩)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি মিস্ওয়াক করতেন।
৮৮৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিস্ওয়াক করার হুকুম করতাম। (৭২৪০; মুসলিম ২/১৫, হাঃ ২৫২, আহমাদ ৭৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৩)
হাদিস নং: ৮৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، قال حدثنا عبد الوارث، قال حدثنا شعيب بن الحبحاب، حدثنا انس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اكثرت عليكم في السواك ".
৮৮৮. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মিস্ওয়াক সম্পর্কে তোমাদের যথেষ্ট বলেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৪)
হাদিস নং: ৮৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير، قال اخبرنا سفيان، عن منصور، وحصين، عن ابي واىل، عن حذيفة، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا قام من الليل يشوص فاه.
৮৮৯. হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাতের জন্য উঠতেন তখন দাঁত মেজে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন। (২৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৫)
হাদিস নং: ৮৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني سليمان بن بلال، قال قال هشام بن عروة اخبرني ابي، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت دخل عبد الرحمن بن ابي بكر، ومعه سواك يستن به، فنظر اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت له اعطني هذا السواك يا عبد الرحمن. فاعطانيه فقصمته ثم مضغته، فاعطيته رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستن به وهو مستسند الى صدري.
৮৯০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাযি.) একটি মিস্ওয়াক হাতে নিয়ে দাঁত ঘষতে ঘষতে প্রবেশ করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -তার দিকে তাকালেন। আমি তাঁকে বললাম, হে ‘আবদুর রহমান! মিস্ওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিল। আমি ব্যবহৃত অংশ ভেঙ্গে ফেললাম এবং তা চিবিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দিলাম। তিনি আমার বুকে হেলান দিয়ে তা দিয়ে মিস্ওয়াক করলেন। (১৩৮৯, ৩১০০, ৩৭৭৪, ৪৪৩৮, ৪৪৪৬, ৪৪৪৯, ৪৪৫০, ৪৪৫১, ৫২১৭, ৬৫১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৬)
হাদিস নং: ৮৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا سفيان، عن سعد بن ابراهيم، عن عبد الرحمن ـ هو ابن هرمز ـ عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرا في الجمعة في صلاة الفجر (الم * تنزيل) السجدة و(هل اتى على الانسان)
৮৯১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন ফজরের সালাতে الم تَنْزِيلُ এবং وَهَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِنْ الدَّهْرِ দু’টি সূরাহ্ তিলাওয়াত করতেন। (১০৬৮; মুসলিম ৭/৬৪, হাঃ ৮৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৭)
হাদিস নং: ৮৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، قال حدثنا ابو عامر العقدي، قال حدثنا ابراهيم بن طهمان، عن ابي جمرة الضبعي، عن ابن عباس، انه قال ان اول جمعة جمعت بعد جمعة في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم في مسجد عبد القيس بجواثى من البحرين.
৮৯২. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মসজিদে জুমু‘আহর সালাত অনুষ্ঠিত হবার পর প্রথম জুমু‘আহর সালাত অনুষ্ঠিত হয় বাহরাইনে জুওয়াসা নামক স্থানে অবস্থিত আবদুল কায়স গোত্রের মসজিদে। (৪৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪১ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৮)
হাদিস নং: ৮৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا بشر بن محمد، قال اخبرنا عبد الله، قال اخبرنا يونس، عن الزهري، قال اخبرنا سالم بن عبد الله، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " كلكم راع ". وزاد الليث قال يونس كتب رزيق بن حكيم الى ابن شهاب ـ وانا معه يومىذ بوادي القرى ـ هل ترى ان اجمع. ورزيق عامل على ارض يعملها، وفيها جماعة من السودان وغيرهم، ورزيق يومىذ على ايلة، فكتب ابن شهاب ـ وانا اسمع ـ يامره ان يجمع، يخبره ان سالما حدثه ان عبد الله بن عمر يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " كلكم راع، وكلكم مسىول عن رعيته، الامام راع ومسىول عن رعيته، والرجل راع في اهله وهو مسىول عن رعيته، والمراة راعية في بيت زوجها ومسىولة عن رعيتها، والخادم راع في مال سيده ومسىول عن رعيته ـ قال وحسبت ان قد قال ـ والرجل راع في مال ابيه ومسىول عن رعيته وكلكم راع ومسىول عن رعيته ".
৮৯৩. ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল। লায়স ইবনু সা‘দ (রাযি.) আরো অতিরিক্ত বলেন, (পরবর্তী রাবী) ইউনুস (রহ.) বলেছেন, আমি একদা ইবনু শিহাব (রহ.)-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা নামক স্থানে ছিলাম। তখন রুযাইক (ইবনু হুকায়ম (রহ.) ইবনু শিহাব (রহ.)-এর নিকট লিখলেন, আপনি কী মনে করেন, আমি কি (এখানে) জুমু‘আহর সালাত আদায় করব? রুযায়ক (রহ.) তখন সেখানে তাঁর জমির কৃষি কাজের তত্ত্বাবধান করতেন। সেখানে একদল সুদানী ও অন্যান্য লোক বাস করত। রুযায়ক (রহ.) সে সময় আইলা শহরের (আমীর) ছিলেন। ইবনু শিহাব (রহ.) তাঁকে জুমু‘আহ কায়িম করার নির্দেশ দিয়ে লিখেছিলেন এবং আমি তাকে এ নির্দেশ দিতে শুনলাম। সালিম (রহ.) তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের (দায়িত্ব) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে। ইমাম* একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, তাঁকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। পুরুষ তার পরিবার বর্গের অভিভাবক, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। নারী তার স্বামী-গৃহের কর্ত্রী, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। খাদিম তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, আমার মনে হয়, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ পুত্র তার পিতার ধন-সম্পদের রক্ষক এবং এগুলো সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। তোমরা সবাই দায়িত্বশীল এবং সবাইকে তাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। (২৪০৯, ২৫৫৪, ২৫৫৮, ২৭৫১, ৫১৮৮, ৫৬০০, ৭১৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৯)
নোট: * ইমাম’ শব্দ রাষ্ট্রের কর্ণধার, যে কোন কাজের তত্ত্বাবধায়ক, ব্যবস্থাপক ও সালাতের ইমাম অর্থে ব্যবহৃত হয়।
হাদিস নং: ৮৯৪
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان قال اخبرنا شعيب عن الزهري قال حدثني سالم بن عبد الله انه سمع عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من جاء منكم الجمعة فليغتسل.
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ إِنَّمَا الْغُسْلُ عَلَى مَنْ تَجِبُ عَلَيْهِ الْجُمُعَةُ.
ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেছেন, যাদের উপর জুমু‘আহর সালাত ওয়াজিব, শুধু তাদের গোসল করা প্রয়োজন।
৮৯৪. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, ‘‘যে ব্যক্তি জুমু‘আহর সালাতে আসবে সে যেন গোসল করে।’’ (৮৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫০)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেছেন, যাদের উপর জুমু‘আহর সালাত ওয়াজিব, শুধু তাদের গোসল করা প্রয়োজন।
৮৯৪. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, ‘‘যে ব্যক্তি জুমু‘আহর সালাতে আসবে সে যেন গোসল করে।’’ (৮৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫০)
হাদিস নং: ৮৯৫
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن صفوان بن سليم عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدريان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال غسل يوم الجمعة واجب على كل محتلم.
৮৯৫. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -বলেছেনঃ প্রত্যেক সাবালকের জন্য জুমু‘আহর দিন গোসল করা ওয়াজিব। (৮৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫১)
হাদিস নং: ৮৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسلم بن ابراهيم، قال حدثنا وهيب، قال حدثنا ابن طاوس، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " نحن الاخرون السابقون يوم القيامة، اوتوا الكتاب من قبلنا، واوتيناه من بعدهم، فهذا اليوم الذي اختلفوا فيه فهدانا الله، فغدا
لليهود وبعد غد للنصارى ". فسكت.
لليهود وبعد غد للنصارى ". فسكت.
৮৯৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষে। কিন্তু কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে সবার পূর্বে। তবে তাদের কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে এবং আমাদের তা দেয়া হয়েছে তাদের পরে। অতঃপর এই দিন (শুক্রবার নির্ধারণ) সম্বন্ধে তাদের মধ্যে মতানৈক্য হয়েছে। আল্লাহ্ আমাদের এ শুক্রবার সম্পর্কে হিদায়াত দান করেছেন। পরের দিন (শনিবার) ইয়াহূদীদের এবং তারপরের দিন (রোববার) নাসারাদের। অতঃপর কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। (২৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫২)
হাদিস নং: ৮৯৭
সহিহ (Sahih)
ثم قال حق على كل مسلم ان يغتسل في كل سبعة ايام يوما يغسل فيه راسه وجسده
৮৯৭. অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন প্রত্যেক মুসলিমের উপর হাক্ব রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনের এক দিন সে গোসল করবে, তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে। (৮৯৮, ৩৪৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫২ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৮৯৮
সহিহ (Sahih)
رواه ابان بن صالح عن مجاهد عن طاوس عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لله تعالى على كل مسلم حق ان يغتسل في كل سبعة ايام يوما.
৮৯৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর আল্লাহর হক রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনে একবার সে যেন গোসল করে। (৮৯৭ মুসলিম ৭/২, হাঃ ৮৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই)
হাদিস নং: ৮৯৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا شبابة حدثنا ورقاء عن عمرو بن دينار عن مجاهد عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اىذنوا للنساء بالليل الى المساجد.
৮৯৯. ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা মহিলাদেরকে রাতে (সালাতের জন্য) মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিবে। (৮৬৫ মুসলিম ৪/, হাঃ ৪৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৩)
হাদিস নং: ৯০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا يوسف بن موسى، حدثنا ابو اسامة، حدثنا عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، قال كانت امراة لعمر تشهد صلاة الصبح والعشاء في الجماعة في المسجد، فقيل لها لم تخرجين وقد تعلمين ان عمر يكره ذلك ويغار قالت وما يمنعه ان ينهاني قال يمنعه قول رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تمنعوا اماء الله مساجد الله ".
৯০০. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.)-এর স্ত্রী (আতিকাহ্ বিনত যায়দ) ফজর ও ‘ইশার সালাতের জামা‘আতে মসজিদে হাযির হতেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কেন (সালাতের জন্য) বের হন? অথচ আপনি জানেন যে, ‘উমার (রাযি.) তা অপছন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন। তিনি জবাব দিলেন, তা হলে কিসে বাধা দিচ্ছে যে, ‘উমার (রাযি.) স্বয়ং আমাকে নিষেধ করছেন না? বলা হল, তাঁকে বাধা দেয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বারণ করো না। (৮৬৫; মুসলিম ৪/৩০, হাঃ ৪৪২, আহমাদ ৪৬৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৪)
হাদিস নং: ৯০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال حدثنا اسماعيل، قال اخبرني عبد الحميد، صاحب الزيادي قال حدثنا عبد الله بن الحارث ابن عم، محمد بن سيرين قال ابن عباس لموذنه في يوم مطير اذا قلت اشهد ان محمدا رسول الله. فلا تقل حى على الصلاة. قل صلوا في بيوتكم. فكان الناس استنكروا، قال فعله من هو خير مني، ان الجمعة عزمة، واني كرهت ان اخرجكم، فتمشون في الطين والدحض.
৯০১. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর মুয়ায্যিনকে এক প্রবল বর্ষণের দিনে বললেন, যখন তুমি (আযানে) ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলবে, তখন ‘হাইয়া আলাস্ সালাহ্’ বলবে না, বলবে, ‘‘সাল্লু ফী বুয়ুতিকুম’’ (তোমরা নিজ নিজ বাসগৃহে সালাত আদায় কর)। তা লোকেরা অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেনঃ আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিই (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তা করেছেন। জুমু‘আহ নিঃসন্দেহে জরুরী। আমি অপছন্দ করি তোমাদেরকে মাটি ও কাদার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করার অসুবিধায় ফেলতে। (৬১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৫)