হাদিস নং: ৯৪৮
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان قال اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سالم بن عبد الله ان عبد الله بن عمر قال اخذ عمر جبة من استبرق تباع في السوق فاخذها فاتى بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ابتع هذه تجمل بها للعيد والوفود فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم انما هذه لباس من لا خلاق له فلبث عمر ما شاء الله ان يلبث ثم ارسل اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم بجبة ديباج فاقبل بها عمر فاتى بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انك قلت انما هذه لباس من لا خلاق له وارسلت الي بهذه الجبة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم تبيعها او تصيب بها حاجتك.
৯৪৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাজারে বিক্রি হচ্ছিল এমন একটি রেশমী জুববা নিয়ে ‘উমার (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি ক্রয় করে নিন। ‘ঈদের সময় এবং প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এটি দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করবেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এটি তো তার পোষাক, যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নেই। এ ঘটনার পর ‘উমার (রাযি.) আল্লাহর যত দিন ইচ্ছা ততদিন অতিবাহিত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট একটি রেশমী জুববা পাঠালেন, ‘উমার (রাযি.) তা গ্রহণ করেন এবং সেটি নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বলেছিলেন, এটা তার পোষাক যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নেই। অথচ আপনি এ জুববা আমার নিকট পাঠিয়েছেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তুমি এটি বিক্রি করে দাও এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে তোমার প্রয়োজন পূরণ কর। (৮৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০১)
হাদিস নং: ৯৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد، قال حدثنا ابن وهب، قال اخبرنا عمرو، ان محمد بن عبد الرحمن الاسدي، حدثه عن عروة، عن عاىشة، قالت دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعندي جاريتان تغنيان بغناء بعاث، فاضطجع على الفراش وحول وجهه، ودخل ابو بكر فانتهرني وقال مزمارة الشيطان عند النبي صلى الله عليه وسلم فاقبل عليه رسول الله ـ عليه السلام ـ فقال " دعهما " فلما غفل غمزتهما فخرجتا.
৯৪৯. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন তখন আমার নিকট দু’টি মেয়ে বু‘আস যুদ্ধ সংক্রান্ত গান গাইছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে রাখলেন। এ সময় আবূ বকর (রাযি.) এসে আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, শয়তানী বাদ্যযন্ত্র* (দফ্) বাজান হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট! তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তাদের ছেড়ে দাও। অতঃপর তিনি যখন অন্য দিকে ফিরলেন তখন আমি তাদের ইঙ্গিত করলাম আর তারা বেরিয়ে গেল। (৯৫২, ৯৮৭, ২৯০৬, ৩৫২৯, ৩৯৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০২)
নোট: * দফ্ এক প্রকার এক মুখো ঢোল।
হাদিস নং: ৯৫০
সহিহ (Sahih)
وكان يوم عيد يلعب السودان بالدرق والحراب، فاما سالت النبي صلى الله عليه وسلم واما قال " تشتهين تنظرين ". فقلت نعم. فاقامني وراءه خدي على خده، وهو يقول " دونكم يا بني ارفدة ". حتى اذا مللت قال " حسبك ". قلت نعم. قال " فاذهبي ".
৯৫০. আর ‘ঈদের দিন সুদানীরা বর্শা ও ঢালের খেলা করত। আমি নিজে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম অথবা তিনি নিজেই বলেছিলেন, তুমি কি তাদের খেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ, অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর পিছনে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে দিলেন যে, আমার গাল ছিল তাঁর গালের সাথে লাগান। তিনি তাদের বললেন, তোমরা যা করছিলে তা করতে থাক, হে বনূ আরফিদা। পরিশেষে আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, তোমার দেখা কি যথেষ্ট হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন, তা হলে চলে যাও। (৪৫৪; মুসলিম ৮/৪, হাঃ ৮৯২, আহমাদ ২৬৩৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০২)
হাদিস নং: ৯৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا حجاج، قال حدثنا شعبة، قال اخبرني زبيد، قال سمعت الشعبي، عن البراء، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يخطب فقال " ان اول ما نبدا من يومنا هذا ان نصلي، ثم نرجع فننحر، فمن فعل فقد اصاب سنتنا ".
৯৫১. বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খুৎবাহ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমাদের আজকের এ দিনে আমরা যে কাজ প্রথম শুরু করব, তাহল সালাত আদায় করা। অতঃপর ফিরে আসব এবং কুরবানী করব। তাই যে এ রকম করে সে আমাদের রীতি সঠিকভাবে মান্য করল। (৯৫৫, ৯৬৫, ৯৬৮, ৯৭৬, ৯৮৩, ৫৫৪৫, ৫৫৫৬, ৫৫৫৭, ৫৫৬০, ৫৫৬৩, ৬৬৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৩)
হাদিস নং: ৯৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، قال حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت دخل ابو بكر وعندي جاريتان من جواري الانصار تغنيان بما تقاولت الانصار يوم بعاث ـ قالت وليستا بمغنيتين ـ فقال ابو بكر امزامير الشيطان في بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وذلك في يوم عيد. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا ابا بكر ان لكل قوم عيدا، وهذا عيدنا ".
৯৫২. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন আমার ঘরে) আবূ বকর (রাযি.) এলেন তখন আমার কাছে আনসারী দু’টি মেয়ে বু‘আস যুদ্ধের দিন আনসারীগণ পরস্পর যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে গান গাইছিল। তিনি বলেন, তারা কোন পেশাদার গায়িকা ছিল না। আবূ বকর (রাযি.) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঘরে শয়তানী বাদ্যযন্ত্র। আর এটি ছিল ‘ঈদের দিন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতির জন্যই আনন্দ উৎসব রয়েছে আর এ হলো আমাদের আনন্দের দিন। (৯৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৪)
হাদিস নং: ৯৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم، حدثنا سعيد بن سليمان، قال حدثنا هشيم، قال اخبرنا عبيد الله بن ابي بكر بن انس، عن انس، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يغدو يوم الفطر حتى ياكل تمرات. وقال مرجى بن رجاء حدثني عبيد الله قال حدثني انس عن النبي صلى الله عليه وسلم وياكلهن وترا.
৯৫৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিত্রের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অপর এক বর্ণনায় আনাস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তা বিজোড় সংখ্যায় খেতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৫)
হাদিস নং: ৯৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال حدثنا اسماعيل، عن ايوب، عن محمد، عن انس، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " من ذبح قبل الصلاة فليعد ". فقام رجل فقال هذا يوم يشتهى فيه اللحم. وذكر من جيرانه فكان النبي صلى الله عليه وسلم صدقه، قال وعندي جذعة احب الى من شاتى لحم، فرخص له النبي صلى الله عليه وسلم فلا ادري ابلغت الرخصة من سواه ام لا.
৯৫৪. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের পূর্বে যে যবেহ করবে তাকে পুনরায় যবেহ করতে হবে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আজকের এ দিনটিতে মাংস খাবার আকাঙ্ক্ষা করা হয়। সে তার প্রতিবেশীদের অবস্থা উল্লেখ করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন তার কথার সত্যতা স্বীকার করলেন। সে বলল, আমার নিকট এখন ছয় মাসের এমন একটি মেষ শাবক আছে, যা আমার নিকট দু’টি হৃষ্টপুষ্ট বকরীর চাইতেও অধিক পছন্দনীয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেটা কুরবানী করার অনুমতি দিলেন। অবশ্য আমি জানি না, এ অনুমতি তাকে ছাড়া অন্যদের জন্যও কি-না? (৯৮৪, ৫৫৪৬, ৫৫৪৯, ৫৫৬১; মুসলিম ৩৫/১, হাঃ ১৯৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৬)
হাদিস নং: ৯৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان، قال حدثنا جرير، عن منصور، عن الشعبي، عن البراء بن عازب ـ رضى الله عنهما ـ قال خطبنا النبي صلى الله عليه وسلم يوم الاضحى بعد الصلاة فقال " من صلى صلاتنا ونسك نسكنا فقد اصاب النسك، ومن نسك قبل الصلاة فانه قبل الصلاة، ولا نسك له ". فقال ابو بردة بن نيار خال البراء يا رسول الله، فاني نسكت شاتي قبل الصلاة، وعرفت ان اليوم يوم اكل وشرب، واحببت ان تكون شاتي اول ما يذبح في بيتي، فذبحت شاتي وتغديت قبل ان اتي الصلاة. قال " شاتك شاة لحم ". قال يا رسول الله، فان عندنا عناقا لنا جذعة هي احب الى من شاتين، افتجزي عني قال " نعم، ولن تجزي عن احد بعدك ".
৯৫৫. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল আযহার দিন সালাতের পর আমাদের উদ্দেশে খুৎবাহ দান করেন। খুৎবাহ্য় তিনি বলেনঃ যে আমাদের মত সালাত আদায় করল এবং আমাদের মত কুরবানী করল, সে কুরবানীর রীতিনীতি যথাযথ পালন করল। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করল তা সালাতের পূর্বে হয়ে গেল, এতে তার কুরবানী হবে না। বারাআ-এর মামা আবূ বুরদাহ্ ইবনু নিয়ার (রাযি.) তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জানা মতে আজকের দিনটি পানাহারের দিন। তাই আমি পছন্দ করলাম যে, আমার ঘরে সর্বপ্রথম যবেহ করা হোক আমার বকরীই। তাই আমি আমার বকরীটি যবেহ করেছি এবং সালাতে আসার পূর্বে তা দিয়ে নাশ্তাও করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার বকরীটি গোশ্তের উদ্দেশ্যে যবেহ করা হয়েছে। তখন তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নিকট এমন একট ছয় মাসের মেষ শাবক আছে যা আমার নিকট দু’টি বকরীর চাইতেও পছন্দনীয়। এটি (কুরবানী করলে) কি আমার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তুমি ছাড়া অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না। (৯৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৭)
হাদিস নং: ৯৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، قال حدثنا محمد بن جعفر، قال اخبرني زيد، عن عياض بن عبد الله بن ابي سرح، عن ابي سعيد الخدري، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر والاضحى الى المصلى، فاول شىء يبدا به الصلاة ثم ينصرف، فيقوم مقابل الناس، والناس جلوس على صفوفهم، فيعظهم ويوصيهم ويامرهم، فان كان يريد ان يقطع بعثا قطعه، او يامر بشىء امر به، ثم ينصرف. قال ابو سعيد فلم يزل الناس على ذلك حتى خرجت مع مروان وهو امير المدينة في اضحى او فطر، فلما اتينا المصلى اذا منبر بناه كثير بن الصلت، فاذا مروان يريد ان يرتقيه قبل ان يصلي، فجبذت بثوبه فجبذني فارتفع، فخطب قبل الصلاة، فقلت له غيرتم والله. فقال ابا سعيد، قد ذهب ما تعلم. فقلت ما اعلم والله خير مما لا اعلم. فقال ان الناس لم يكونوا يجلسون لنا بعد الصلاة فجعلتها قبل الصلاة.
৯৫৬. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিত্র ও ‘ঈদুল আযহার দিন ‘ঈদমাঠে যেতেন এবং সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা হল সালাত। আর সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তাঁরা তাঁদের কাতারে বসে থাকতেন। তিনি তাঁদের নাসীহাত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন। যদি তিনি কোন সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করার ইচ্ছা করতেন তবে তা জারি করতেন। অতঃপর তিনি ফিরে যেতেন। আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বলেন, লোকেরা বরাবর এ নিয়মই অনুসরণ করে আসছিল। অবশেষে যখন মারওয়ান মদিনার ‘আমীর হলেন, তখন ‘ঈদুল আযহা বা ‘ঈদুল ফিত্রের উদ্দেশে আমি তাঁর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন ‘ঈদমাঠে পৌঁছলাম তখন সেখানে একটি মিম্বর দেখতে পেলাম, সেটি কাসীর ইবনু সাল্ত (রাযি.) তৈরি করেছিলেন। মারওয়ান সালাত আদায়ের পূর্বেই এর উপর আরোহণ করতে উদ্যত হলেন। আমি তাঁর কাপড় টেনে ধরলাম। কিন্তু তিনি কাপড় ছাড়িয়ে খুৎবাহ দিলেন। আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম! তোমরা (রাসূলের সুন্নাত) পরিবর্তন করে ফেলেছ। সে বলল, হে আবূ সা‘ঈদ! তোমরা যা জানতে, তা গত হয়ে গেছে। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তা তার চেয়ে ভাল, যা আমি জানি না। সে তখন বলল, লোকজন সালাতের পর আমাদের জন্য বসে থাকে না, তাই ওটা সালাতের আগেই করেছি। (৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৮)
হাদিস নং: ৯৫৭
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر قال حدثنا انس بن عياض عن عبيد الله عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي في الاضحى والفطر ثم يخطب بعد الصلاة.
৯৫৭. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল আযহা ও ‘ঈদুল ফিত্রের দিন সালাত আদায় করতেন। আর সালাতের পরে খুৎবাহ দিতেন। (৯৬৩; মুসলিম ৮/১, হাঃ ৮৮৮ আহমাদ ৪৬০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৯)
হাদিস নং: ৯৫৮
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى قال اخبرنا هشام ان ابن جريج اخبرهم قال اخبرني عطاء عن جابر بن عبد الله قال سمعته يقول ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج يوم الفطر فبدا بالصلاة قبل الخطبة.
৯৫৮. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিত্রের দিন বের হন। অতঃপর খুৎবাহর পূর্বে সালাত শুরু করেন। (৯৬১, ৯৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১০)
হাদিস নং: ৯৫৯
সহিহ (Sahih)
قال واخبرني عطاء ان ابن عباس ارسل الى ابن الزبير في اول ما بويع له انه لم يكن يوذن بالصلاة يوم الفطر انما الخطبة بعد الصلاة
৯৫৯. রাবী বলেন, আমাকে ‘আতা (রহ.) বলেছেন যে, ইবনু যুবায়র (রাযি.) এর বায়‘আত গ্রহণের প্রথম দিকে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) তাঁর কাছে এ ব’লে লোক পাঠালেন যে, ‘ঈদুল ফিত্রের সালাতে আযান দেয়া হতো না এবং খুৎবাহ হল সালাতের পরে। ( ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১০)
হাদিস নং: ৯৬০
সহিহ (Sahih)
و اخبرني عطاء عن ابن عباس وعن جابر بن عبد الله قالا لم يكن يوذن يوم الفطر ولا يوم الاضحى.
৯৬০. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) ও জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের সালাতে কিংবা ‘ঈদুল আযহার সালাতে আযান দেয়া হত না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১০)
হাদিস নং: ৯৬১
সহিহ (Sahih)
وعن جابر بن عبد الله قال سمعته يقول ان النبي صلى الله عليه وسلم قام فبدا بالصلاة ثم خطب الناس بعد فلما فرغ نبي الله نزل فاتى النساء فذكرهن وهو يتوكا على يد بلال وبلال باسط ثوبه يلقي فيه النساء صدقة قلت لعطاء اترى حقا على الامام الان ان ياتي النساء فيذكرهن حين يفرغ قال ان ذلك لحق عليهم وما لهم ان لا يفعلوا.
৯৬১. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে এ-ও বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রথমে সালাত আদায় করলেন এবং পরে লোকদের উদ্দেশে খুৎবাহ দিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ শেষ করলেন, তিনি (মিম্বর হতে) নেমে মহিলাগণের (কাতারের) নিকট আসলেন এবং তাঁদের নাসীহাত করলেন। তখন তিনি বিলাল (রাযি.)-এর হাতে ভর করেছিলেন এবং বিলাল (রাযি.) তাঁর কাপড় ছড়িয়ে ধরলে, নারীরা এতে সাদাকার বস্তু ফেলতে লাগলেন। আমি ‘আতা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এখনো যরুরী মনে করেন যে, ইমাম খুৎবাহ শেষ করে নারীদের নিকট এসে তাদের নাসীহাত করবেন? তিনি বললেন, নিশ্চয় তা তাদের জন্য অবশ্যই জরুরী। তাদের কী হয়েছে যে, তাঁরা তা করবে না? (৯৫৮; মুসলিম ৮/১, হাঃ ৮৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১০)
হাদিস নং: ৯৬২
সহিহ (Sahih)
ابو عاصم قال اخبرنا ابن جريج قال اخبرني الحسن بن مسلم عن طاوس عن ابن عباس قال شهدت العيد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وابي بكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم فكلهم كانوا يصلون قبل الخطبة.
৯৬২. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর, ‘উমার এবং ‘উসমান (রাযি.)-এর সঙ্গে সালাতে হাযির ছিলাম। সকলেই খুৎবাহর আগে সালাত আদায় করতেন। (৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১১)
হাদিস নং: ৯৬৩
সহিহ (Sahih)
يعقوب بن ابراهيم قال حدثنا ابو اسامة قال حدثنا عبيد الله عن نافع عن ابن عمر قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وابو بكر وعمر رضي الله عنهما يصلون العيدين قبل الخطبة.
৯৬৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং ‘উমার (রাযি.) উভয় ‘ঈদের সালাত খুৎবার আগে আদায় করতেন। (৯৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১২)
হাদিস নং: ৯৬৪
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب قال حدثنا شعبة عن عدي بن ثابت عن سعيد بن جبير عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى يوم الفطر ركعتين لم يصل قبلها ولا بعدها ثم اتى النساء ومعه بلال فامرهن بالصدقة فجعلن يلقين تلقي المراة خرصها وسخابها.
৯৬৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিত্রে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি। অতঃপর বিলাল (রাযি.)-কে সঙ্গে নিয়ে নারীদের নিকট এলেন এবং সাদাকা প্রদানের জন্য তাদের নির্দেশ দিলেন। তখন তাঁরা দিতে লাগলেন। নারীদের কেউ দিলেন আংটি, আবার কেউ দিলেন গলার হার। (৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৩)
হাদিস নং: ৯৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، قال حدثنا زبيد، قال سمعت الشعبي، عن البراء بن عازب، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " ان اول ما نبدا في يومنا هذا ان نصلي، ثم نرجع فننحر، فمن فعل ذلك فقد اصاب سنتنا، ومن نحر قبل الصلاة فانما هو لحم قدمه لاهله، ليس من النسك في شىء ". فقال رجل من الانصار يقال له ابو بردة بن نيار يا رسول الله، ذبحت وعندي جذعة خير من مسنة. فقال " اجعله مكانه، ولن توفي او تجزي عن احد بعدك ".
৯৬৫. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজকের এ দিনে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে সালাত আদায় করা। অতঃপর আমরা ফিরে আসব এবং কুরবানী করব। কাজেই যে ব্যক্তি তা করল, সে আমাদের নিয়ম পালন করল। যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করল, তা শুধু গোশ্ত বলেই গণ্য হবে, যা সে পরিবারবর্গের জন্য পূর্বেই করে ফেলেছে। এতে কুরবানীর কিছুই নেই। তখন আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাযি.) নামক এক আনসারী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো যবেহ করে ফেলেছি। এখন আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা এক বছর বয়সের মেষের চেয়ে উৎকৃষ্ট। তিনি বললেন, সেটির স্থলে এটাকে যবেহ করে দাও। তবে তোমার পর অন্য কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না। (৯৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৪)
হাদিস নং: ৯৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا زكرياء بن يحيى ابو السكين، قال حدثنا المحاربي، قال حدثنا محمد بن سوقة، عن سعيد بن جبير، قال كنت مع ابن عمر حين اصابه سنان الرمح في اخمص قدمه، فلزقت قدمه بالركاب، فنزلت فنزعتها وذلك بمنى، فبلغ الحجاج فجعل يعوده فقال الحجاج لو نعلم من اصابك. فقال ابن عمر انت اصبتني. قال وكيف قال حملت السلاح في يوم لم يكن يحمل فيه، وادخلت السلاح الحرم ولم يكن السلاح يدخل الحرم.
وَقَالَ الْحَسَنُ نُهُوا أَنْ يَحْمِلُوا السِّلاَحَ يَوْمَ عِيدٍ إِلاَّ أَنْ يَخَافُوا عَدُوًّا.
হাসান বাসরী (রহ.) বলেছেন, শত্রুর ভয় ছাড়া ‘ঈদের দিনে অস্ত্র বহণ করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছে।
৯৬৬. সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সংগে ছিলাম যখন বর্শার অগ্রভাগ তাঁর পায়ের তলদেশে বিদ্ধ হয়েছিল। ফলে তাঁর পা রেকাবের সঙ্গে আটকে গিয়েছিল। আমি তখন নেমে সেটি টেনে বের করে ফেললাম। এটা ঘটেছিল মিনায়। এ সংবাদ হাজ্জাজের নিকট পৌঁছলে তিনি তাঁকে দেখতে আসেন। হাজ্জাজ বললো, যদি আমি জানতে পারতাম কে আপনাকে আঘাত করেছে, (তবে তাকে শাস্তি দিতাম)। তখন ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমিই আমাকে আঘাত করেছ। সে বলল, তা কিভাবে? ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমিই সেদিন (ঈদের দিন) অস্ত্র ধারণ করেছ, যে দিন অস্ত্র বহন করা হতো না। তুমিই অস্ত্রকে হারামের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছ অথচ হারামের মধ্যে কখনো অস্ত্র প্রবেশ করা হয় না। (৯৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৫)
হাসান বাসরী (রহ.) বলেছেন, শত্রুর ভয় ছাড়া ‘ঈদের দিনে অস্ত্র বহণ করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছে।
৯৬৬. সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সংগে ছিলাম যখন বর্শার অগ্রভাগ তাঁর পায়ের তলদেশে বিদ্ধ হয়েছিল। ফলে তাঁর পা রেকাবের সঙ্গে আটকে গিয়েছিল। আমি তখন নেমে সেটি টেনে বের করে ফেললাম। এটা ঘটেছিল মিনায়। এ সংবাদ হাজ্জাজের নিকট পৌঁছলে তিনি তাঁকে দেখতে আসেন। হাজ্জাজ বললো, যদি আমি জানতে পারতাম কে আপনাকে আঘাত করেছে, (তবে তাকে শাস্তি দিতাম)। তখন ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমিই আমাকে আঘাত করেছ। সে বলল, তা কিভাবে? ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমিই সেদিন (ঈদের দিন) অস্ত্র ধারণ করেছ, যে দিন অস্ত্র বহন করা হতো না। তুমিই অস্ত্রকে হারামের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছ অথচ হারামের মধ্যে কখনো অস্ত্র প্রবেশ করা হয় না। (৯৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৫)
হাদিস নং: ৯৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يعقوب، قال حدثني اسحاق بن سعيد بن عمرو بن سعيد بن العاص، عن ابيه، قال دخل الحجاج على ابن عمر وانا عنده، فقال كيف هو فقال صالح. فقال من اصابك قال اصابني من امر بحمل السلاح في يوم لا يحل فيه حمله، يعني الحجاج.
৯৬৭. সা‘ঈদ ইব্নু আস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইব্নু ‘উমার (রাযি.)-এর নিকট হাজ্জাজ এলো। আমি তখন তাঁর নিকট ছিলাম। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলো, তিনি কেমন আছেন? ইব্নু ‘উমার (রাযি.) বললেন, ভাল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলো, আপনাকে কে আঘাত করেছে? তিনি বললেন, আমাকে সে ব্যক্তি আঘাত করেছে যে, সে দিন অস্ত্র বহনের আদেশ দিয়েছে যে দিন তা বহন করা বৈধ নয়। অর্থাৎ হাজ্জাজ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৬)