হাদিস নং: ৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد الله بن موسى، قال اخبرنا حنظلة بن ابي سفيان، عن عكرمة بن خالد، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بني الاسلام على خمس شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله، واقام الصلاة، وايتاء الزكاة، والحج، وصوم رمضان ".
ঈমান (বিশ্বাস)
২/১. بَاب قَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بُنِيَ الْإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ
২/১. নবী সল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।
وَهُوَ قَوْلٌ وَفِعْلٌ وَيَزِيدُ وَيَنْقُصُ قَالَ اللهُ تَعَالَى : )لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى( )وَيَزِيدُ اللهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى( )وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ( وَقَوْلُهُ )وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا( وَقَوْلُهُ )أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا( فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ )فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا( وَقَوْلُهُ تَعَالَى )وَمَا زَادَهُمْ إِلاَّ إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا( وَالْحُبُّ فِي اللهِ وَالْبُغْضُ فِي اللهِ مِنَ الإِيْمَانِ وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ إِنَّ لِلْإِيمَانِ فَرَائِضَ وَشَرَائِعَ وَحُدُودًا وَسُنَنًا فَمَنْ اسْتَكْمَلَهَا اسْتَكْمَلَ الإِيْمَانَ وَمَنْ لَمْ يَسْتَكْمِلْهَا لَمْ يَسْتَكْمِلْ الإِيْمَانَ فَإِنْ أَعِشْ فَسَأُبَيِّنُهَا لَكُمْ حَتَّى تَعْمَلُوا بِهَا وَإِنْ أَمُتْ فَمَا أَنَا عَلَى صُحْبَتِكُمْ بِحَرِيصٍ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ صلى الله عليه وسلم )وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي( وَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ اجْلِسْ بِنَا نُؤْمِنْ سَاعَةً وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ الْيَقِينُ الإِيْمَانُ كُلُّهُ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَبْلُغُ الْعَبْدُ حَقِيقَةَ التَّقْوَى حَتَّى يَدَعَ مَا حَاكَ فِي الصَّدْرِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ )شَرَعَ لَكُمْ( مِنْ الدِّينِ أَوْصَيْنَاكَ يَا مُحَمَّدُ وَإِيَّاهُ دِينًا وَاحِدًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ )شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا( سَبِيلاً وَسُنَّةً
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটিঃ মুখে স্বীকার এবং কাজে পরিণত করাই হচ্ছে ঈমান এবং তা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়।* আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ ’’যাতে তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান মজবুত করে নেয়- (সূরাহ্ ফাত্হ ৪৮/৪)। আমরা তাদের সৎ পথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম- (সূরাহ্ কাহাফ ১৮/১৩)। এবং যারা সৎপথে চলে আল্লাহ্ তাদের অধিক হিদায়াত দান করেন- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯/৭৬)। এবং যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ্ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন এবং তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দেন- (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭/১৭)। যাতে মু’মিনদের ঈমান বেড়ে যায়- (সূরাহ্ মুদ্দাসসির ৭৪/৩১)। আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বাড়িয়ে দিল? যারা মু’মিন এ তো তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয়- (সূরাহ্ আত্-তওবা ৯/১২৪)। এবং তাঁর বাণী, ’’সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর; একথা তাদের ঈমানের দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিল’’- (সূরাহ্ আলে-ইমরান ৩/১৭৩)। ’’এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্য আরও বৃদ্ধি পেল’’- (সূরাহ্ আহযাব ৩৩/২২)।
আর আল্লাহর জন্য ভালবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা ঈমানের অংশ। ’উমার ইবনু ’আবদুল ’আযীয (রহ.) ’আদী ইবনু ’আদী (রহ.)-এর নিকট এক পত্রে লিখেছিলেন, ’ঈমানের কতকগুলো ফার্য (ফরয), কতকগুলো হুকুম-আহকাম, বিধি-নিষেধ এবং সুন্নাত রয়েছে। যে এগুলো পরিপূর্ণরূপে আদায় করে তার ঈমান পূর্ণ হয়। আর যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না। আমি যদি বেঁচে থাকি তবে অচিরেই এগুলো তোমাদের নিকট ব্যক্ত করব, যাতে তোমরা তার উপর ’আমল করতে পার। আর যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে জেনে রাখ, তোমাদের সাহচর্যে থাকার জন্য আমি আকাঙ্ক্ষিত নই।’
ইবরাহীম (’আ.) বলেন, ’তবে এ তো কেবল চিত্ত প্রশান্তির জন্য’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/২৬)। মু’আয (রাঃ) বলেন, ’’এসো আমাদের সঙ্গে বস, কিছুক্ষণ ঈমানের আলোচনা করি।’’ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, ’ইয়াকীন হল পূর্ণ ঈমান।’ ইবনু ’উমার (রাঃ) বলেন, ’বান্দা প্রকৃত তাকওয়ায় পৌঁছতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে, মনে যে বিষয় সন্দেহের সৃষ্টি করে, তা পরিত্যাগ না করে।’ মুজাহিদ (রাঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ’’অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনাকে এবং নূহকে একই ধর্মের আদেশ করেছি’’- (সূরাহ্ শূরা ৪২/১৩)। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ’’অর্থাৎ পথ ও পন্থা’’- (সূরাহ্ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮)।
قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلاَ دُعَاؤُكُمْ( وَمَعْنَى الدُّعَاءِ فِي اللُّغَةِ الإِيْمَانُ.)
এ মর্মে আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ’’বলে দিন, আমার প্রতিপালক তোমাদের একটুও পরোয়া করবেন না যদি তোমরা ’ইবাদাত না কর’’- (সূরাহ্ আল-ফুরক্বান ২৫/৭৭)। অভিধানে দু’আর অর্থ করা হয়েছেঃ ’’ঈমান’’।
৮. ইবন ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি। ১. আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. সালাত কায়িম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হাজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রমাযানের সিয়ামব্রত পালন করা। (৪৫১৪; মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭)
২/১. بَاب قَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بُنِيَ الْإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ
২/১. নবী সল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।
وَهُوَ قَوْلٌ وَفِعْلٌ وَيَزِيدُ وَيَنْقُصُ قَالَ اللهُ تَعَالَى : )لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى( )وَيَزِيدُ اللهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى( )وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ( وَقَوْلُهُ )وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا( وَقَوْلُهُ )أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا( فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ )فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا( وَقَوْلُهُ تَعَالَى )وَمَا زَادَهُمْ إِلاَّ إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا( وَالْحُبُّ فِي اللهِ وَالْبُغْضُ فِي اللهِ مِنَ الإِيْمَانِ وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ إِنَّ لِلْإِيمَانِ فَرَائِضَ وَشَرَائِعَ وَحُدُودًا وَسُنَنًا فَمَنْ اسْتَكْمَلَهَا اسْتَكْمَلَ الإِيْمَانَ وَمَنْ لَمْ يَسْتَكْمِلْهَا لَمْ يَسْتَكْمِلْ الإِيْمَانَ فَإِنْ أَعِشْ فَسَأُبَيِّنُهَا لَكُمْ حَتَّى تَعْمَلُوا بِهَا وَإِنْ أَمُتْ فَمَا أَنَا عَلَى صُحْبَتِكُمْ بِحَرِيصٍ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ صلى الله عليه وسلم )وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي( وَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ اجْلِسْ بِنَا نُؤْمِنْ سَاعَةً وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ الْيَقِينُ الإِيْمَانُ كُلُّهُ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَبْلُغُ الْعَبْدُ حَقِيقَةَ التَّقْوَى حَتَّى يَدَعَ مَا حَاكَ فِي الصَّدْرِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ )شَرَعَ لَكُمْ( مِنْ الدِّينِ أَوْصَيْنَاكَ يَا مُحَمَّدُ وَإِيَّاهُ دِينًا وَاحِدًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ )شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا( سَبِيلاً وَسُنَّةً
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটিঃ মুখে স্বীকার এবং কাজে পরিণত করাই হচ্ছে ঈমান এবং তা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়।* আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ ’’যাতে তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান মজবুত করে নেয়- (সূরাহ্ ফাত্হ ৪৮/৪)। আমরা তাদের সৎ পথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম- (সূরাহ্ কাহাফ ১৮/১৩)। এবং যারা সৎপথে চলে আল্লাহ্ তাদের অধিক হিদায়াত দান করেন- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯/৭৬)। এবং যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ্ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন এবং তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দেন- (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭/১৭)। যাতে মু’মিনদের ঈমান বেড়ে যায়- (সূরাহ্ মুদ্দাসসির ৭৪/৩১)। আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বাড়িয়ে দিল? যারা মু’মিন এ তো তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয়- (সূরাহ্ আত্-তওবা ৯/১২৪)। এবং তাঁর বাণী, ’’সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর; একথা তাদের ঈমানের দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিল’’- (সূরাহ্ আলে-ইমরান ৩/১৭৩)। ’’এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্য আরও বৃদ্ধি পেল’’- (সূরাহ্ আহযাব ৩৩/২২)।
আর আল্লাহর জন্য ভালবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা ঈমানের অংশ। ’উমার ইবনু ’আবদুল ’আযীয (রহ.) ’আদী ইবনু ’আদী (রহ.)-এর নিকট এক পত্রে লিখেছিলেন, ’ঈমানের কতকগুলো ফার্য (ফরয), কতকগুলো হুকুম-আহকাম, বিধি-নিষেধ এবং সুন্নাত রয়েছে। যে এগুলো পরিপূর্ণরূপে আদায় করে তার ঈমান পূর্ণ হয়। আর যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না। আমি যদি বেঁচে থাকি তবে অচিরেই এগুলো তোমাদের নিকট ব্যক্ত করব, যাতে তোমরা তার উপর ’আমল করতে পার। আর যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে জেনে রাখ, তোমাদের সাহচর্যে থাকার জন্য আমি আকাঙ্ক্ষিত নই।’
ইবরাহীম (’আ.) বলেন, ’তবে এ তো কেবল চিত্ত প্রশান্তির জন্য’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/২৬)। মু’আয (রাঃ) বলেন, ’’এসো আমাদের সঙ্গে বস, কিছুক্ষণ ঈমানের আলোচনা করি।’’ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, ’ইয়াকীন হল পূর্ণ ঈমান।’ ইবনু ’উমার (রাঃ) বলেন, ’বান্দা প্রকৃত তাকওয়ায় পৌঁছতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে, মনে যে বিষয় সন্দেহের সৃষ্টি করে, তা পরিত্যাগ না করে।’ মুজাহিদ (রাঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ’’অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনাকে এবং নূহকে একই ধর্মের আদেশ করেছি’’- (সূরাহ্ শূরা ৪২/১৩)। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ’’অর্থাৎ পথ ও পন্থা’’- (সূরাহ্ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮)।
قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلاَ دُعَاؤُكُمْ( وَمَعْنَى الدُّعَاءِ فِي اللُّغَةِ الإِيْمَانُ.)
এ মর্মে আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ’’বলে দিন, আমার প্রতিপালক তোমাদের একটুও পরোয়া করবেন না যদি তোমরা ’ইবাদাত না কর’’- (সূরাহ্ আল-ফুরক্বান ২৫/৭৭)। অভিধানে দু’আর অর্থ করা হয়েছেঃ ’’ঈমান’’।
৮. ইবন ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি। ১. আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. সালাত কায়িম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হাজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রমাযানের সিয়ামব্রত পালন করা। (৪৫১৪; মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭)
নোট: * কোন কোন ফকীহদের নিকট ঈমান বাড়েও না কমেও না। বরং সমান থাকে। তাদের নিকট একজন নবীর ঈমান ও ইবলিসের ঈমান এক সমান। তাদের এই ‘আকীদাহ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। এটা মুরজি’আহ সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত ‘আকীদাহর অন্তর্ভুক্ত।
হাদিস নং: ৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا ابو عامر العقدي، قال حدثنا سليمان بن بلال، عن عبد الله بن دينار، عن ابي صالح، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " الايمان بضع وستون شعبة، والحياء شعبة من الايمان ".
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى: )لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمْ الْمُتَّقُونَ( وَقَوْلِهِ )قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ( الآيَةَ.
আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’’কোন পুণ্য নেই পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ ঈমান আনলে আল্লাহর উপর, আখিরাতের উপর, ফেরেশতাদের উপর, সকল কিতাবের উপর, আর সকল নবী-রাসূলদের উপর, এবং অর্থ দান করলে আল্লাহ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাস মুক্তির জন্য, সালাত কায়িম করলে, যাকাত দিলে, কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলে আর অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধ বিভ্রাটে ধৈর্যধারণ করলে। এরাই হল প্রকৃত সত্যপরায়ণ, আর এরাই মুত্তাকী’’- (আল-বাক্বারাহ ২/১৭৭)। ’’অবশ্যই সফলতা লাভ করেছে মুমিনগণ’’- (সূরাহ্ মুমিনূন ২৩/১)।
৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮)
আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’’কোন পুণ্য নেই পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ ঈমান আনলে আল্লাহর উপর, আখিরাতের উপর, ফেরেশতাদের উপর, সকল কিতাবের উপর, আর সকল নবী-রাসূলদের উপর, এবং অর্থ দান করলে আল্লাহ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাস মুক্তির জন্য, সালাত কায়িম করলে, যাকাত দিলে, কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলে আর অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধ বিভ্রাটে ধৈর্যধারণ করলে। এরাই হল প্রকৃত সত্যপরায়ণ, আর এরাই মুত্তাকী’’- (আল-বাক্বারাহ ২/১৭৭)। ’’অবশ্যই সফলতা লাভ করেছে মুমিনগণ’’- (সূরাহ্ মুমিনূন ২৩/১)।
৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮)
হাদিস নং: ১০
সহিহ (Sahih)
ادم بن ابي اياس قال حدثنا شعبة عن عبد الله بن ابي السفر واسماعيل بن ابي خالد عن الشعبي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه
قال ابو عبد الله وقال ابو معاوية حدثنا داود هو ابن ابي هند عن عامر قال سمعت عبد الله يعني ابن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم وقال عبد الاعلى عن داود عن عامر عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم
قال ابو عبد الله وقال ابو معاوية حدثنا داود هو ابن ابي هند عن عامر قال سمعت عبد الله يعني ابن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم وقال عبد الاعلى عن داود عن عامر عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم
১০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে। (৬৪৮৪; মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪০, আহমাদ ৬৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯)
হাদিস নং: ১১
সহিহ (Sahih)
سعيد بن يحيى بن سعيد القرشي قال حدثنا ابي قال حدثنا ابو بردة بن عبد الله بن ابي بردة عن ابي بردة عن ابي موسى قال قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اي الاسلام افضل قال من سلم المسلمون من لسانه ويده.
১১. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা (সাহাবাগণ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামে কোন্ জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহবা ও হাত হতে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে। (মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২, আহমাদ ৬৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০)
হাদিস নং: ১২
সহিহ (Sahih)
عمرو بن خالد قال حدثنا الليث عن يزيد عن ابي الخير عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما ان رجلا سال النبي اي الاسلام خير قال تطعم الطعام وتقرا السلام على من عرفت ومن لم تعرف.
১২. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন্ জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে। (২৮, ৬২৩৬; মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২, আহমাদ ৬৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১)
হাদিস নং: ১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال حدثنا يحيى، عن شعبة، عن قتادة، عن انس ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم.
قال " لا يومن احدكم حتى يحب لاخيه ما يحب لنفسه ".
قال " لا يومن احدكم حتى يحب لاخيه ما يحب لنفسه ".
১৩. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে। (মুসলিম ১/১৭ হাঃ ৪৫, আহমাদ ১২৮০১, ১৩৮৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২)
হাদিস নং: ১৪
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان قال اخبرنا شعيب قال حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرةان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فوالذي نفسي بيده لا يومن احدكم حتى اكون احب اليه من والده وولده
১৪. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই আল্লাহর শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদির চেয়ে অধিক ভালবাসার পাত্র হই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩)
হাদিস নং: ১৫
সহিহ (Sahih)
يعقوب بن ابراهيم قال حدثنا ابن علية عن عبد العزيز بن صهيب عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم ح و حدثنا ادم قال حدثنا شعبة عن قتادة عن انس قال قال النبي لا يومن احدكم حتى اكون احب اليه من والده وولده والناس اجمعين.
১৫. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের অপেক্ষা অধিক প্রিয়পাত্র হই। (মুসলিম ১/১৬ হাঃ ৪৪, আহমাদ ১২৮১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪)
হাদিস নং: ১৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى قال حدثنا عبد الوهاب الثقفي قال حدثنا ايوب عن ابي قلابة عن انس بن مالكعن النبي صلى الله عليه وسلم قال ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الايمان ان يكون الله ورسوله احب اليه مما سواهما وان يحب المرء لا يحبه الا لله وان يكره ان يعود في الكفر كما يكره ان يقذف في النار.
১৬. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেঃ ১। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তার নিকট অন্য সকল কিছু হতে অধিক প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসা; ৩। কুফরীতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মত অপছন্দ করা। (২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম ১/১৫ হাঃ ৪৩, আহমাদ ১২০০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৫)
হাদিস নং: ১৭
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد قال حدثنا شعبة قال اخبرني عبد الله بن عبد الله بن جبر قال سمعت انسا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اية الايمان حب الانصار واية النفاق بغض الانصار.
১৭. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ঈমানের আলামত হল আনসারকে ভালবাসা এবং মুনাফিকীর চিহ্ন হল আনসারের প্রতি শত্রুতা পোষণ করা। (৩৭৮৪; মুসলিম ১/৩৩ হাঃ ৭৪, আহমাদ ১৩৬০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬)
হাদিস নং: ১৮
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان قال اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني ابو ادريس عاىذ الله بن عبد الله ان عبادة بن الصامتوكان شهد بدرا وهو احد النقباء ليلة العقبة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وحوله عصابة من اصحابه بايعوني على ان لا تشركوا بالله شيىا ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا اولادكم ولا تاتوا ببهتان تفترونه بين ايديكم وارجلكم ولا تعصوا في معروف فمن وفى منكم فاجره على الله ومن اصاب من ذلك شيىا فعوقب في الدنيا فهو كفارة له ومن اصاب من ذلك شيىا ثم ستره الله فهو الى الله ان شاء عفا عنه وان شاء عاقبه فبايعناه على ذلك.
১৮. ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযি.) যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযি.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পাশে একজন সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি বলেনঃ তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়‘আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে না এবং সৎকাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হলো এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মার্জনা করবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। আমরা এর উপর বায়‘আত গ্রহণ করলাম।
(৩৮৯২, ৩৮৯৩, ৩৯৯৯, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১, ৬৮৭৩, ৭০৫৫, ৭১৯৯, ৭২১৩, ৭৪৬৮; মুসলিম ২৯/১০ হাঃ ১৭০৯, আহমাদ ২২৭৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭)
(৩৮৯২, ৩৮৯৩, ৩৯৯৯, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১, ৬৮৭৩, ৭০৫৫, ৭১৯৯, ৭২১৩, ৭৪৬৮; মুসলিম ২৯/১০ হাঃ ১৭০৯, আহমাদ ২২৭৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭)
হাদিস নং: ১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الرحمن بن ابي صعصعة، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يوشك ان يكون خير مال المسلم غنم يتبع بها شعف الجبال ومواقع القطر، يفر بدينه من الفتن ".
১৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা হতে সে তার ধর্ম সহকারে পলায়ন করবে। (৩৩০০, ৩৬০০, ৬৪৯৫, ৭০৮৮) (১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮)
হাদিস নং: ২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سلام، قال اخبرنا عبدة، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا امرهم امرهم من الاعمال بما يطيقون قالوا انا لسنا كهيىتك يا رسول الله، ان الله قد غفر لك ما تقدم من ذنبك وما تاخر. فيغضب حتى يعرف الغضب في وجهه ثم يقول " ان اتقاكم واعلمكم بالله انا ".
(لِقَوْلِ اللهِ تَعَالَى) وَ لٰکِنۡ یُّؤَاخِذُکُمۡ بِمَا کَسَبَتۡ قُلُوۡبُکُمۡ ؕ
যেমন আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ ’’কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্য পাকড়াও করবেন।’’ (সূরাহ্ বাক্বারাহ ২/২২৫)
২০. ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের যখন কোন কাজের নির্দেশ দিতেন, তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তা’আলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ তা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের চেয়ে আমিই আল্লাহকে অধিক ভয় করি ও বেশী জানি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯)
যেমন আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ ’’কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্য পাকড়াও করবেন।’’ (সূরাহ্ বাক্বারাহ ২/২২৫)
২০. ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের যখন কোন কাজের নির্দেশ দিতেন, তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তা’আলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ তা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের চেয়ে আমিই আল্লাহকে অধিক ভয় করি ও বেশী জানি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯)
হাদিস নং: ২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، قال حدثنا شعبة، عن قتادة، عن انس ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الايمان من كان الله ورسوله احب اليه مما سواهما، ومن احب عبدا لا يحبه الا لله، ومن يكره ان يعود في الكفر بعد اذ انقذه الله، كما يكره ان يلقى في النار ".
২১. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান, সে ঈমানের স্বাদ পায়- (১) যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সকল বস্তু হতে অধিক প্রিয়; (২) যে একমাত্র আল্লাহরই জন্য কোন বান্দাকে ভালবাসে এবং (৩) আল্লাহ্ তা‘আলা কুফর হতে মুক্তি প্রদানের পর যে কুফর-এ প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মতোই অপছন্দ করে। (১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০)
হাদিস নং: ২২
সহিহ (Sahih)
دثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن عمرو بن يحيى المازني، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " يدخل اهل الجنة الجنة، واهل النار النار، ثم يقول الله تعالى اخرجوا من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من ايمان. فيخرجون منها قد اسودوا فيلقون في نهر الحيا ـ او الحياة، شك مالك ـ فينبتون كما تنبت الحبة في جانب السيل، الم تر انها تخرج صفراء ملتوية ". قال وهيب حدثنا عمرو " الحياة ". وقال " خردل من خير
২২. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বেহেশতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা মালাকদের বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করে আনো। তারপর তাদের জাহান্নাম হতে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক (রহ.) শব্দ দু’টির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন] নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাও না সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের হয় ও ঘন হয়ে গজায়? উহাইব (রহ.) বলেন, ‘আমর (রহ.) আমাদের নিকট الْحَيَا এর স্থলে لْحَيَاةِ এবং خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ এর স্থলে خَرْدَلٍ مِنْ خَيْرٍ বর্ণনা করেছেন। (৪৫৮১, ৪৯১৯,৬৫৬০,৬৫৭৪,৭৪৩৮,৭৪৩৯; মুসলিম ১/৮২ হাঃ ১৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১)
হাদিস নং: ২৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبيد الله، قال حدثنا ابراهيم بن سعد، عن صالح، عن ابن شهاب، عن ابي امامة بن سهل، انه سمع ابا سعيد الخدري، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بينا انا ناىم رايت الناس يعرضون على، وعليهم قمص منها ما يبلغ الثدي، ومنها ما دون ذلك، وعرض على عمر بن الخطاب وعليه قميص يجره ". قالوا فما اولت ذلك يا رسول الله قال " الدين ".
২৩. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি নিদ্রাবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে আনা হচ্ছে। আর তাদের পরণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-কে আমার সামনে আনা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জামা (অধিক লম্বা হওয়ায়) টেনে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী তা’বীর করেছেন? তিনি বললেনঃ (এ জামা অর্থ) দ্বীন। (৩৬৯১, ৭০০৮, ৭০০৯; মুসলিম ৪৪/২ হাঃ ২৩৯০, আহমাদ ১১৮১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২)
হাদিস নং: ২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك بن انس، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر على رجل من الانصار وهو يعظ اخاه في الحياء، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " دعه فان الحياء من الايمان ".
২৪. আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নাসীহাত করছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। (৬১১৮; মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৬, আহমাদ ৪৫৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩)
হাদিস নং: ২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد المسندي، قال حدثنا ابو روح الحرمي بن عمارة، قال حدثنا شعبة، عن واقد بن محمد، قال سمعت ابي يحدث، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " امرت ان اقاتل الناس حتى يشهدوا ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله، ويقيموا الصلاة، ويوتوا الزكاة، فاذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم واموالهم الا بحق الاسلام، وحسابهم على الله ".
২৫. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলো করে, তবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর অর্পিত। (মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪)
হাদিস নং: ২৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس، وموسى بن اسماعيل، قالا حدثنا ابراهيم بن سعد، قال حدثنا ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سىل اى العمل افضل فقال " ايمان بالله ورسوله ". قيل ثم ماذا قال " الجهاد في سبيل الله ". قيل ثم ماذا قال " حج مبرور ".
)وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ( وَقَالَ عِدَّةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى )فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ( عَنْ قَوْلِ لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَقَالَ )لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلْ الْعَامِلُونَ(
আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণীর পরিপ্রেক্ষিতঃ এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ। (সূরাহ্ যুখরুফ ৪৩/৭২)
সুতরাং শপথ আপনার প্রতিপালকের আমি তাদের সকলকে জিজ্ঞেস করবই সে বিষয়ে, যা তারা করে- (সূরাহ্ হিজ্র ১৫/৯০)। আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আলিমদের এক দল বলেন, لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ এর স্বীকারোক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ এরূপ সাফল্যের জন্য ‘আমলকারীদের উচিত ‘আমল করা। (সূরাহ্ সাফ্ফাত ৩৭/৬১)
২৬. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন্ ‘আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।’* জিজ্ঞেস করা হলো, ‘অতঃপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘অতঃপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘মাকবূল হাজ্জ সম্পাদন করা।’‘ (১৫১৯; মুসলিম ১/৩৬ হাঃ ৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫, .ফা. ২৫)
আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণীর পরিপ্রেক্ষিতঃ এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ। (সূরাহ্ যুখরুফ ৪৩/৭২)
সুতরাং শপথ আপনার প্রতিপালকের আমি তাদের সকলকে জিজ্ঞেস করবই সে বিষয়ে, যা তারা করে- (সূরাহ্ হিজ্র ১৫/৯০)। আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আলিমদের এক দল বলেন, لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ এর স্বীকারোক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ এরূপ সাফল্যের জন্য ‘আমলকারীদের উচিত ‘আমল করা। (সূরাহ্ সাফ্ফাত ৩৭/৬১)
২৬. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন্ ‘আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।’* জিজ্ঞেস করা হলো, ‘অতঃপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘অতঃপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘মাকবূল হাজ্জ সম্পাদন করা।’‘ (১৫১৯; মুসলিম ১/৩৬ হাঃ ৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫, .ফা. ২৫)
নোট: * মুরজি'আহদের নিকট শুধু অন্তরে বিশ্বাসের নাম ঈমান। মুখে স্বীকার করা রুকন বা শর্ত নয় এবং আমল ঈমানের হাকীকাতের বাইরে। ঈমান আনার পর গুনাহর কাজ ক্ষতিকর নয় এমনকি কবীরা গুনাহ করলেও নয়। (মিরআত ৩৬ পৃষ্ঠা)।
হাদিস নং: ২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عامر بن سعد بن ابي وقاص، عن سعد، رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعطى رهطا وسعد جالس، فترك رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا هو اعجبهم الى فقلت يا رسول الله ما لك عن فلان فوالله اني لاراه مومنا. فقال " او مسلما ". فسكت قليلا، ثم غلبني ما اعلم منه فعدت لمقالتي فقلت ما لك عن فلان فوالله اني لاراه مومنا فقال " او مسلما ". ثم غلبني ما اعلم منه فعدت لمقالتي وعاد رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال " يا سعد، اني لاعطي الرجل وغيره احب الى منه، خشية ان يكبه الله في النار ". ورواه يونس وصالح ومعمر وابن اخي الزهري عن الزهري.
لِقَوْلِهِ تَعَالَى )قَالَتْ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا( فَإِذَا كَانَ عَلَى الْحَقِيقَةِ فَهُوَ عَلَى قَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ )إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللهِ الإِسْلاَمُ ( )وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْأِسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ(
মহান আল্লাহর এ বাণী অনুযায়ী হবেঃ ‘‘আরব মরুবাসীরা বলে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম; আপনি বলে দিন, ‘‘তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং তোমরা বল, ‘আমরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিম হয়েছি।’’ (সূরাহ্ হুজরাত ৪৯/১৪)
আর ইসলাম গ্রহণ খাঁটি হলে তা হবে আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণী অনুযায়ীঃ ‘‘নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন’’- (সূরাহ্ আলে ‘ইমরান ৩/১৯)। ‘‘আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন অন্বেষণ করবে তবে তা গৃহীত হবে না।’’ (সূরাহ্ আলে ‘ইমরান ৩/৮৫)
২৭. সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা‘দ (রাযি.) সেখানে বসেছিলেন। সা‘দ (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না, মুসলিম। তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান থেকে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আবার বললাম, আপনি অমুককে দান হতে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ ‘সা‘দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্যলোক আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন।
এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা‘মার এবং যুহরী (রহ.)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র যুহরী (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন। (১৪৭৮; মুসলিম ১/৬৮ হাঃ ১৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬)
মহান আল্লাহর এ বাণী অনুযায়ী হবেঃ ‘‘আরব মরুবাসীরা বলে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম; আপনি বলে দিন, ‘‘তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং তোমরা বল, ‘আমরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিম হয়েছি।’’ (সূরাহ্ হুজরাত ৪৯/১৪)
আর ইসলাম গ্রহণ খাঁটি হলে তা হবে আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণী অনুযায়ীঃ ‘‘নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন’’- (সূরাহ্ আলে ‘ইমরান ৩/১৯)। ‘‘আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন অন্বেষণ করবে তবে তা গৃহীত হবে না।’’ (সূরাহ্ আলে ‘ইমরান ৩/৮৫)
২৭. সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা‘দ (রাযি.) সেখানে বসেছিলেন। সা‘দ (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না, মুসলিম। তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান থেকে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আবার বললাম, আপনি অমুককে দান হতে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ ‘সা‘দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্যলোক আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন।
এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা‘মার এবং যুহরী (রহ.)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র যুহরী (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন। (১৪৭৮; মুসলিম ১/৬৮ হাঃ ১৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬)