হাদিস নং: ১৪৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن يونس عن الزهري عن سالم ان عبد الله بن عمر قال سمعت عمر يقول كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطيني العطاء فاقول اعطه من هو افقر اليه مني فقال خذه اذا جاءك من هذا المال شيء وانت غير مشرف ولا ساىل فخذه وما لا فلا تتبعه نفسك
(وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ)
(আল্লাহর বাণী) তাদের (ধনীদের) সম্পদে হক রয়েছে যাচ্ঞাকারী ও বঞ্চিতের। (আয্-যারিয়াতঃ ১৯)
১৪৭৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, যে আমার চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্ত, তাকে দিন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তা গ্রহণ কর। যখন তোমার কাছে এসব মালের কিছু আসে অথচ তার প্রতি তোমার অন্তরের লোভ নেই এবং তার জন্য তুমি প্রার্থী নও, তখন তা তুমি গ্রহণ করবে। এরূপ না হলে তুমি তার প্রতি অন্তর ধাবিত করবে না। (৭১৬৩, ৭১৬৪, মুসলিম ১২/৩৬, হাঃ ১০৪৫, আহমাদ ১০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৫)
(আল্লাহর বাণী) তাদের (ধনীদের) সম্পদে হক রয়েছে যাচ্ঞাকারী ও বঞ্চিতের। (আয্-যারিয়াতঃ ১৯)
১৪৭৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, যে আমার চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্ত, তাকে দিন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তা গ্রহণ কর। যখন তোমার কাছে এসব মালের কিছু আসে অথচ তার প্রতি তোমার অন্তরের লোভ নেই এবং তার জন্য তুমি প্রার্থী নও, তখন তা তুমি গ্রহণ করবে। এরূপ না হলে তুমি তার প্রতি অন্তর ধাবিত করবে না। (৭১৬৩, ৭১৬৪, মুসলিম ১২/৩৬, হাঃ ১০৪৫, আহমাদ ১০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৫)
হাদিস নং: ১৪৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عبيد الله بن ابي جعفر قال سمعت حمزة بن عبد الله بن عمر قال سمعت عبد الله بن عمر قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ما يزال الرجل يسال الناس حتى ياتي يوم القيامة ليس في وجهه مزعة لحم
১৪৭৪. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সব সময় মানুষের কাছে চেয়ে থাকে, সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় কোন গোশ্ত থাকবে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৬)
হাদিস নং: ১৪৭৫
সহিহ (Sahih)
وقال ان الشمس تدنو يوم القيامة حتى يبلغ العرق نصف الاذن فبينا هم كذلك استغاثوا بادم ثم بموسى ثم بمحمد وزاد عبد الله بن صالح حدثني الليث حدثني ابن ابي جعفر فيشفع ليقضى بين الخلق فيمشي حتى ياخذ بحلقة الباب فيومىذ يبعثه الله مقاما محمودا يحمده اهل الجمع كلهم وقال معلى حدثنا وهيب عن النعمان بن راشد عن عبد الله بن مسلم اخي الزهري عن حمزة سمع ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم في المسالة
১৪৭৫. তিনি আরো বলেনঃ কিয়ামতের দিন সূর্য তাদের অতি কাছে আসবে, এমনকি ঘাম কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছবে। যখন তারা এই অবস্থায় থাকবে, তখন তারা সাহায্য চাইবে আদম (‘আ.)-এর কাছে, অতঃপর মূসা (‘আ.)-এর কাছে, তারপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে। ‘আবদুল্লাহ (রহ.) লায়স (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু আবূ জা‘ফর (রহ.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির মধ্যে ফয়সালা করার জন্য সুপারিশ করবেন। তিনি যেতে যেতে জান্নাতের ফটকের কড়া ধরবেন। সেদিন আল্লাহ তাঁকে মাকামে মাহমূদে পৌঁছে দিবেন। হাশরের ময়দানে সমবেত সকলেই তাঁর প্রশংসা করবে।
রাবী মু‘আল্লা (রহ.)...ইবনু ‘উমার (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ভিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (৪৭১৮, মুসলিম ১২/৩৫, হাঃ ১০৪০, আহমাদ ৪৬৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৬ শেষাংশ)
রাবী মু‘আল্লা (রহ.)...ইবনু ‘উমার (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ভিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (৪৭১৮, মুসলিম ১২/৩৫, হাঃ ১০৪০, আহমাদ ৪৬৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৬ শেষাংশ)
হাদিস নং: ১৪৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا حجاج بن منهال حدثنا شعبة اخبرني محمد بن زياد قال سمعت ابا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ليس المسكين الذي ترده الاكلة والاكلتان ولكن المسكين الذي ليس له غنى ويستحيي او لا يسال الناس الحافا
وَقَوْلِ النَّبِيِّ وَلاَ يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ لِقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللهِ لاَ يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الأرْضِ إِلَى قَوْلِهِ (فَإِنَّ اللهَ بِهِ عَلِيمٌ)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ ‘‘এবং এতটুকু পরিমাণ সম্পদ তার কাছে নেই, যা তাকে অভাবমুক্ত করতে পারবে।’’ (আল্লাহ বলেন) এ ব্যয় ঐ সব অভাবগ্রস্ত লোকদের জন্য যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত হয়ে পড়েছে যে, তারা জীবিকার সন্ধানে যমীনে ঘোরাফেরা করতে পারে না। ভিক্ষা না করার দরুন অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত বলে মনে করে। তাদের লক্ষণ দেখলেই তুমি তাদের চিনতে পারবে। কাকুতি-মিনতি করে তারা মানুষের কাছে ভিক্ষা চায় না। আর যে সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত। (আল-বাকারাহঃ ২৭৩)
১৪৭৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে ব্যক্তি প্রকৃত মিসকীন নয়, যাকে এক দু’ লোকমা ফিরিয়ে দেয় (যথেষ্ট হয়) বরং সে-ই প্রকৃত মিসকীন যার কোন সম্পদ নেই, অথচ সে (চাইতে) লজ্জাবোধ করে অথবা লোকদেরকে আঁকড়ে ধরে যাচ্ঞা করে না। (১৪৭৯, ৪৫২৯, মুসলিম ১২/৩৪, হাঃ ১০৩৯, আহমাদ ৮১৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৭)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ ‘‘এবং এতটুকু পরিমাণ সম্পদ তার কাছে নেই, যা তাকে অভাবমুক্ত করতে পারবে।’’ (আল্লাহ বলেন) এ ব্যয় ঐ সব অভাবগ্রস্ত লোকদের জন্য যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত হয়ে পড়েছে যে, তারা জীবিকার সন্ধানে যমীনে ঘোরাফেরা করতে পারে না। ভিক্ষা না করার দরুন অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত বলে মনে করে। তাদের লক্ষণ দেখলেই তুমি তাদের চিনতে পারবে। কাকুতি-মিনতি করে তারা মানুষের কাছে ভিক্ষা চায় না। আর যে সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত। (আল-বাকারাহঃ ২৭৩)
১৪৭৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে ব্যক্তি প্রকৃত মিসকীন নয়, যাকে এক দু’ লোকমা ফিরিয়ে দেয় (যথেষ্ট হয়) বরং সে-ই প্রকৃত মিসকীন যার কোন সম্পদ নেই, অথচ সে (চাইতে) লজ্জাবোধ করে অথবা লোকদেরকে আঁকড়ে ধরে যাচ্ঞা করে না। (১৪৭৯, ৪৫২৯, মুসলিম ১২/৩৪, হাঃ ১০৩৯, আহমাদ ৮১৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৭)
হাদিস নং: ১৪৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم حدثنا اسماعيل بن علية حدثنا خالد الحذاء عن ابن اشوع عن الشعبي حدثني كاتب المغيرة بن شعبة قال كتب معاوية الى المغيرة بن شعبة ان اكتب الي بشيء سمعته من النبي فكتب اليه سمعت النبي يقول ان الله كره لكم ثلاثا قيل وقال واضاعة المال وكثرة السوال
১৪৭৭. শা‘বী (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মুগীরা ইবনু শু‘বাহ্ (রহ.)-এর কাতিব (একান্ত সচিব) বলেছেন, মু‘আবিয়া (রাঃ) মুগীরা ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ)-এর কাছে লিখে পাঠালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছ হতে আপনি যা শুনেছেন তার কিছু আমাকে লিখে জানান। তিনি তাঁর কাছে লিখলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজ অপছন্দ করেন- (১) অনর্থক কথাবার্তা, (২) সম্পদ নষ্ট করা এবং (৩) অত্যধিক সওয়াল করা। (৮৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৮)
হাদিস নং: ১৪৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن غرير الزهري حدثنا يعقوب بن ابراهيم عن ابيه عن صالح بن كيسان عن ابن شهاب قال اخبرني عامر بن سعد عن ابيه قال اعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم رهطا وانا جالس فيهم قال فترك رسول الله صلى الله عليه وسلم منهم رجلا لم يعطه وهو اعجبهم الي فقمت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فساررته فقلت ما لك عن فلان والله اني لاراه مومنا قال او مسلما قال فسكت قليلا ثم غلبني ما اعلم فيه فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لك عن فلان والله اني لاراه مومنا قال او مسلما قال فسكت قليلا ثم غلبني ما اعلم فيه فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لك عن فلان والله اني لا×راه مومنا قال او مسلما يعني فقال اني لاعطي الرجل وغيره احب الي منه خشية ان يكب في النار على وجهه وعن ابيه عن صالح عن اسماعيل بن محمد انه قال سمعت ابي يحدث بهذا فقال في حديثه فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده فجمع بين عنقي وكتفي ثم قال اقبل اي سعد اني لاعطي الرجل قال ابو عبد الله (فكبكبوا) قلبوا فكبوا (مكبا) اكب الرجل اذا كان فعله غير واقع على احد فاذا وقع الفعل قلت كبه الله لوجهه وكببته انا
১৪৭৮. সা‘দ ইবনু আবূ ওক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। আমি তাদের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না। অথচ সে ছিল আমার বিবেচনায় তাদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে চুপে চুপে বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আমি তো তাকে অবশ্য মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেনঃ বরং মুসলিম (বল)। সা’দ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেনঃ বরং মুসলিম। এবারও কিছুক্ষণ নীরব রইলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে মু’মিন বলে মনি করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অথবা মুসলিম! এভাবে তিনবার বললেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি একজনকে দিয়ে থাকি অথচ অন্য ব্যক্তি আমার কাছে অধিক প্রিয় এই আশঙ্কায় যে, তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অপর সনদে ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এভাবে বলতে শুনেছি, তিনি হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাঁধে হাত রাখলেন, এরপর বললেন, হে সা‘দ! অগ্রসর হও। আমি সে লোকটিকে (এখন) অবশ্যই দিব।
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন,(فَكُبْكِبُوْا) অর্থ ‘‘উল্টিয়ে দেয়া হয়েছে।’’ (আল-ইসরা/বনী ইসরাঈলঃ ৯৪) (مُكِبً) আরবী বাগধারা অনুসারে أَكَبِّ الرَّجُلُ হতে গৃহীত হয়েছে অর্থাৎ কর্তার কর্ম যখন কারো প্রতি না বর্তায় তখনই এরূপ বলা হয়ে থাকে। আর যদি কর্ম কারোর উপর বর্তায়, তখন বলা হয় كَبَّهُ اللهُ لِوَجْهِهِ ও كَبَبْتُهُ أَنَا। (২৭, মুসলিম ১/৬৮, হাঃ ১৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৯)
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন,(فَكُبْكِبُوْا) অর্থ ‘‘উল্টিয়ে দেয়া হয়েছে।’’ (আল-ইসরা/বনী ইসরাঈলঃ ৯৪) (مُكِبً) আরবী বাগধারা অনুসারে أَكَبِّ الرَّجُلُ হতে গৃহীত হয়েছে অর্থাৎ কর্তার কর্ম যখন কারো প্রতি না বর্তায় তখনই এরূপ বলা হয়ে থাকে। আর যদি কর্ম কারোর উপর বর্তায়, তখন বলা হয় كَبَّهُ اللهُ لِوَجْهِهِ ও كَبَبْتُهُ أَنَا। (২৭, মুসলিম ১/৬৮, হাঃ ১৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৯)
হাদিস নং: ১৪৭৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله قال حدثني مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليس المسكين الذي يطوف على الناس ترده اللقمة واللقمتان والتمرة والتمرتان ولكن المسكين الذي لا يجد غنى يغنيه ولا يفطن به فيتصدق عليه ولا يقوم فيسال الناس
১৪৭৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত মিসকীন সে নয় যে মানুষের কাছে ভিক্ষার জন্য ঘুরে বেড়ায় এবং এক-দু’ লুকমা অথবা এক-দু’টি খেজুর পেলে ফিরে যায় বরং প্রকৃত মিসকীন সেই ব্যক্তি, যার এতটুকু সম্পদ নেই যাতে তার প্রয়োজন মিটতে পারে এবং তার অবস্থা সেরূপ বোঝা যায় না যে, তাকে দান খয়রাত করা যাবে আর সে মানুষের কাছে যাচ্ঞা করে বেড়ায় না। (১৪৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯০)
হাদিস নং: ১৪৮০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثنا ابو صالح عن ابي هريرة عن النبي قال لان ياخذ احدكم حبله ثم يغدو احسبه قال الى الجبل فيحتطب فيبيع فياكل ويتصدق خير له من ان يسال الناس قال ابو عبد الله صالح بن كيسان اكبر من الزهري وهو قد ادرك ابن عمر
১৪৮০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি রশি নিয়ে সকাল বেলা বের হয়, (রাবী বলেন) আমার ধারণা যে, তিনি বলেছেন, পাহাড়ের দিকে, অতঃপর লাকড়ী সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং দানও করে, তা তার পক্ষে লোকের কাছে যাঞ্চা করার চেয়ে উত্তম। (১৪৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯১)
হাদিস নং: ১৪৮১
সহিহ (Sahih)
حدثنا سهل بن بكار حدثنا وهيب عن عمرو بن يحيى عن عباس الساعدي عن ابي حميد الساعدي قال غزونا مع النبي صلى الله عليه وسلم غزوة تبوك فلما جاء وادي القرى اذا امراة في حديقة لها فقال النبي لاصحابه اخرصوا وخرص رسول الله صلى الله عليه وسلم عشرة اوسق فقال لها احصي ما يخرج منها فلما اتينا تبوك قال اما انها ستهب الليلة ريح شديدة فلا يقومن احد ومن كان معه بعير فليعقله فعقلناها وهبت ريح شديدة فقام رجل فالقته بجبل طيء واهدى ملك ايلة للنبي بغلة بيضاء وكساه بردا وكتب له ببحرهم فلما اتى وادي القرى قال للمراة كم جاء حديقتك قالت عشرة اوسق خرص رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم اني متعجل الى المدينة فمن اراد منكم ان يتعجل معي فليتعجل فلما قال ابن بكار كلمة معناها اشرف على المدينة قال هذه طابة فلما راى احدا قال هذا جبيل يحبنا ونحبه الا اخبركم بخير دور الانصار قالوا بلى قال دور بني النجار ثم دور بني عبد الاشهل ثم دور بني ساعدة او دور بني الحارث بن الخزرج وفي كل دور الانصار يعني خيرا
১৪৮১. আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাবূকের যুদ্ধে শরীক হয়েছি। যখন তিনি ওয়াদিউল কুরা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন এক মহিলা তার নিজের বাগানে উপস্থিত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা এই বাগানের ফলগুলোর পরিমাণ আন্দাজ কর। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে দশ ওয়াসাক পরিমাণ আন্দাজ করলেন। অতঃপর মহিলাকে বললেনঃ উৎপন্ন ফলের হিসাব রেখো। আমরা তাবূক পৌঁছলে, তিনি বললেনঃ সাবধান! আজ রাতে প্রবল ঝড় প্রবাহিত হবে। কাজেই কেউ যেন দাঁড়িয়ে না থাকে এবং প্রত্যেকেই যেন তার উট বেঁধে রাখে। তখন আমরা নিজ নিজ উট বেঁধে নিলাম। প্রবল ঝড় হতে লাগল। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেলে ঝড় তাকে তায় নামক পর্বতে নিক্ষেপ করল। আয়লা নগরীর শাসনকর্তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য একটি সাদা খচ্চর ও চাদর হাদিয়া দিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেখানকার শাসনকর্তারূপে বহাল থাকার লিখিত নির্দেশ দিলেন। (ফেরার পথে) ওয়াদিল কুরা পৌঁছে সেই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার বাগানে কী পরিমাণ ফল হয়েছে? মহিলা বলল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুমিত পরিমাণ, দশ ওয়াসাকই হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দ্রুত মাদ্বীনায় পৌঁছতে ইচ্ছুক। তোমাদের কেউ আমার সাথে দ্রুত যেতে চাইলে দ্রুত কর। ইবনু বাক্কার (রহ.) এমন একটি বাক্য বললেন, যার অর্থ, যখন তিনি মাদ্বীনা দেখতে পেলেন তখন বললেনঃ এটা ত্বাবা (মাদ্বীনার অপর নাম)। এরপর যখন তিনি উহুদ পর্বত দেখতে পেলেন তখন বললেনঃ এই পর্বত আমাদেরকে ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। আনসারদের সর্বোত্তম গোত্রটি সম্পর্কে আমি তোমাদের খবর দিব কি? তারা বললেন, হাঁ। তিনি বললেনঃ বনূ নাজ্জার গোত্র, অতঃপর বনূ ‘আবদুল আশহাল গোত্র, এরপর বনূ সা‘য়ীদা গোত্র অথবা বনূ হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্র। আনসারদের সকল গোত্রেই কল্যাণ রয়েছে। (১৮৭২, ৩১৬১, ৩৭৯১, ৪৪২২, মুসলিম ১৫/৯৩, হাঃ ১৩৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯২)
হাদিস নং: ১৪৮২
সহিহ (Sahih)
وقال سليمان بن بلال حدثني عمرو ثم دار بني الحارث ثم بني ساعدة وقال سليمان عن سعد بن سعيد عن عمارة بن غزية عن عباس عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال احد جبل يحبنا ونحبه قال ابو عبد الله كل بستان عليه حاىط فهو حديقة وما لم يكن عليه حاىط لم يقل حديقة
১৪৮২. সাহল ইবনু বাক্কার (রহ.) সুলায়মান ইবনু বিলাল সূত্রে ‘আমর (রহ.) হতে বর্ণনা করেনঃ এরপর বনূ হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্র, এরপর বনূ সা‘য়িদা গোত্র এবং সুলায়মান (রহ.)...নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ পর্বত আমাদেরকে ভালবাসে, আমরাও তাকে ভালবাসি।
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, যে বাগান দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত তাকে বলা হয় حَدِيْقَةٌ এবং যা দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত নয় তাকে حَدِيْقَةٌ বলা হয় না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৩)
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, যে বাগান দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত তাকে বলা হয় حَدِيْقَةٌ এবং যা দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত নয় তাকে حَدِيْقَةٌ বলা হয় না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৩)
হাদিস নং: ১৪৮৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم حدثنا عبد الله بن وهب قال اخبرني يونس بن يزيد عن الزهري عن سالم بن عبد الله عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فيما سقت السماء والعيون او كان عثريا العشر وما سقي بالنضح نصف العشر قال ابو عبد الله هذا تفسير الاول لانه لم يوقت في الاول يعني حديث ابن عمر وفيما سقت السماء العشر وبين في هذا ووقت والزيادة مقبولة والمفسر يقضي على المبهم اذا رواه اهل الثبت كما روى الفضل بن عباس ان النبي لم يصل في الكعبة وقال بلال قد صلى فاخذ بقول بلال وترك قول الفضل
وَلَمْ يَرَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي الْعَسَلِ شَيْئًا
‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) মধুর উপর (উশর) ওয়াজিব মনে করেননি।
১৪৮৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বৃষ্টি ও প্রবাহিত পানি দ্বারা সিক্ত ভূমিতে উৎপাদিত ফসল বা সেচ ব্যতীত উর্বরতার ফলে উৎপন্ন ফসলের উপর (দশমাংশ) ‘উশর ওয়াজিব হয়। আর সেচ দ্বারা উৎপাদিত ফসলের উপর অর্ধ (বিশ ভাগের এক ভাগ) ‘উশর। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৭)
ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, এই হাদীসটি প্রথম হাদীসের ব্যাখ্যাস্বরূপ। কেননা, প্রথম হাদীস অর্থাৎ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে ‘উশর বা অর্ধ ‘উশর-এর ক্ষেত্র নির্দিষ্টরূপে বর্ণিত হয়নি। আর এই হাদীসে তার নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বর্ণিত হয়েছে। রাবী নির্ভরযোগ্য হলে তাঁর বর্ণনায় অন্য সূত্রের বর্ণনা অপেক্ষা বর্ধিত অংশ থাকলে গ্রহণযোগ্য হয় এবং এ ধরনের বিস্তারিত বর্ণনা অস্পষ্ট বর্ণনার ফয়সালাকারী হয়। যেমন, উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ফাযল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা গৃহে সালাত আদায় করেননি। বিলাল (রাঃ) বলেন, সালাত আদায় করেছেন। এক্ষেত্রে বিলাল (রাঃ)-এর বর্ণনা গৃহীত হয়েছে আর ফাযল (রাঃ)-এর বর্ণনা গৃহীত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৩)
‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) মধুর উপর (উশর) ওয়াজিব মনে করেননি।
১৪৮৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বৃষ্টি ও প্রবাহিত পানি দ্বারা সিক্ত ভূমিতে উৎপাদিত ফসল বা সেচ ব্যতীত উর্বরতার ফলে উৎপন্ন ফসলের উপর (দশমাংশ) ‘উশর ওয়াজিব হয়। আর সেচ দ্বারা উৎপাদিত ফসলের উপর অর্ধ (বিশ ভাগের এক ভাগ) ‘উশর। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৭)
ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, এই হাদীসটি প্রথম হাদীসের ব্যাখ্যাস্বরূপ। কেননা, প্রথম হাদীস অর্থাৎ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে ‘উশর বা অর্ধ ‘উশর-এর ক্ষেত্র নির্দিষ্টরূপে বর্ণিত হয়নি। আর এই হাদীসে তার নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বর্ণিত হয়েছে। রাবী নির্ভরযোগ্য হলে তাঁর বর্ণনায় অন্য সূত্রের বর্ণনা অপেক্ষা বর্ধিত অংশ থাকলে গ্রহণযোগ্য হয় এবং এ ধরনের বিস্তারিত বর্ণনা অস্পষ্ট বর্ণনার ফয়সালাকারী হয়। যেমন, উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ফাযল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা গৃহে সালাত আদায় করেননি। বিলাল (রাঃ) বলেন, সালাত আদায় করেছেন। এক্ষেত্রে বিলাল (রাঃ)-এর বর্ণনা গৃহীত হয়েছে আর ফাযল (রাঃ)-এর বর্ণনা গৃহীত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৩)
হাদিস নং: ১৪৮৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى حدثنا مالك قال حدثني محمد بن عبد الله بن عبد الرحمن بن ابي صعصعة عن ابيه عن ابي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ليس فيما اقل من خمسة اوسق صدقة ولا في اقل من خمسة من الابل الذود صدقة ولا في اقل من خمس اواق من الورق صدقة
قال ابو عبد الله هذا تفسير الاول اذا قال (ليس فيما دون خمسة اوسق صدقة) ويوخذ ابدا في العلم بما زاد اهل الثبت او بينوا
قال ابو عبد الله هذا تفسير الاول اذا قال (ليس فيما دون خمسة اوسق صدقة) ويوخذ ابدا في العلم بما زاد اهل الثبت او بينوا
১৪৮৪. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াসাক-এর কম উৎপন্ন দ্রব্যের যাকাত নেই এবং পাঁচটির কম উটের যাকাত নেই। এমনিভাবে পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রৌপ্যেরও যাকাত নেই। (১৪০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৪)
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, এটি প্রথমটির ব্যাখ্যায়, যখন বলা হয় পাঁচ ওয়াসাক-এর কম উৎপাদিত পণ্যের যাকাত নেই। জ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞানের অধিকারীগণ যা কিছু বৃদ্ধি করেছেন অথবা বর্ণনা করেছেন তা সর্বদা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত।
আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, এটি প্রথমটির ব্যাখ্যায়, যখন বলা হয় পাঁচ ওয়াসাক-এর কম উৎপাদিত পণ্যের যাকাত নেই। জ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞানের অধিকারীগণ যা কিছু বৃদ্ধি করেছেন অথবা বর্ণনা করেছেন তা সর্বদা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত।
হাদিস নং: ১৪৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن محمد بن الحسن الاسدي حدثنا ابي حدثنا ابراهيم بن طهمان عن محمد بن زياد عن ابي هريرة قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتى بالتمر عند صرام النخل فيجيء هذا بتمره وهذا من تمره حتى يصير عنده كوما من تمر فجعل الحسن والحسين يلعبان بذلك التمر فاخذ احدهما تمرة فجعلها في فيه فنظر اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخرجها من فيه فقال اما علمت ان ال محمد لا ياكلون الصدقة
১৪৮৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খেজুর কাটার মৌসুমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে (সাদাকার) খেজুর আনা হতো। অমুকে তার খেজুর নিয়ে আসতো, অমুকে এর খেজুর নিয়ে আসতো। এভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে খেজুর স্তূপ হয়ে গেলো। হাসান ও হুসাইন (রাঃ) সে খেজুর নিয়ে খেলতে লাগলেন, তাদের একজন একটি খেজুর নিয়ে তা মুখে দিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং তার মুখ হতে খেজুর বের করে বললেন, তুমি কি জানো না যে, মুহাম্মাদের বংশধর (বনূ হাশিম) সাদাকা ভক্ষণ করে না। (১৪৯১, ৩০৭২, মুসলিম ১২/৫০, হাঃ ১০৬৯, আহমাদ ৯৩১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৫)
হাদিস নং: ১৪৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا حجاج حدثنا شعبة اخبرني عبد الله بن دينار سمعت ابن عمر نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن بيع الثمرة حتى يبدو صلاحها وكان اذا سىل عن صلاحها قال حتى تذهب عاهته
وَقَوْلُ النَّبِيِّ لاَ تَبِيعُوا الثَّمَرَةَ حَتَّى يَبْدُوَ صَلاَحُهَا فَلَمْ يَحْظُرْ الْبَيْعَ بَعْدَ الصَّلاَحِ عَلَى أَحَدٍ وَلَمْ يَخُصَّ مَنْ وَجَبَ عَلَيْهِ الزَّكَاةُ مِمَّنْ لَمْ تَجِبْ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উক্তিঃ ব্যবহারযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত ফল বিক্রয় করবে না, কাজেই ব্যবহারযোগ্য হওয়ার পর কাউকেও বিক্রি করতে নিষেধ করেননি এবং কার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে আর কার উপর ওয়াজিব হবে না, তা নির্দিষ্ট করেননি।
১৪৮৬. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ব্যবহারযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। যখন তাঁকে ব্যবহারযোগ্যতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি বললেনঃ ফল নষ্ট হওয়া হতে নিরাপদ হওয়া। (২১৮৩, ২১৯৪, ২১৯৯, ২২৪৭, ২২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৬)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উক্তিঃ ব্যবহারযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত ফল বিক্রয় করবে না, কাজেই ব্যবহারযোগ্য হওয়ার পর কাউকেও বিক্রি করতে নিষেধ করেননি এবং কার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে আর কার উপর ওয়াজিব হবে না, তা নির্দিষ্ট করেননি।
১৪৮৬. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ব্যবহারযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। যখন তাঁকে ব্যবহারযোগ্যতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি বললেনঃ ফল নষ্ট হওয়া হতে নিরাপদ হওয়া। (২১৮৩, ২১৯৪, ২১৯৯, ২২৪৭, ২২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৬)
হাদিস নং: ১৪৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثني الليث حدثني خالد بن يزيد عن عطاء بن ابي رباح عن جابر بن عبد الله نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن بيع الثمار حتى يبدو صلاحها
১৪৮৭. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফল ব্যবহারযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (২১৮৯, ২১৯৬, ২৩৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৭)
হাদিস নং: ১৪৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة عن مالك عن حميد عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الثمار حتى تزهي قال حتى تحمار
১৪৮৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধরার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, حَتَّى تَحْمَارَّ এর অর্থ লালচে হওয়া। (২১৯৫, ২১৯৭, ২১৯৮, ২২০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৮)
হাদিস নং: ১৪৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن سالم ان عبد الله بن عمر كان يحدث ان عمر بن الخطاب تصدق بفرس في سبيل الله فوجده يباع فاراد ان يشتريه ثم اتى النبي صلى الله عليه وسلم فاستامره فقال لا تعد في صدقتك فبذلك كان ابن عمر لا يترك ان يبتاع شيىا تصدق به الا جعله صدقة
وَلاَ بَأْسَ أَنْ يَشْتَرِيَ صَدَقَتَهُ غَيْرُهُ لأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا نَهَى الْمُتَصَدِّقَ خَاصَّةً عَنِ الشِّرَاءِ وَلَمْ يَنْهَ غَيْرَهُ
অন্যের সাদাকাকৃত বস্তু ক্রয় করতে কোন দোষ নেই। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষভাবে সাদাকা প্রদানকারীকে তা ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, অন্যকে নিষেধ করেননি।
১৪৮৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করতেন যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আল্লাহর রাস্তায় তাঁর একটি ঘোড়া সাদাকা করেছিলেন। পরে তা বিক্রয় করা হচ্ছে জেনে তিনি নিজেই তা ব্যয় করার ইচ্ছায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে তাঁর মত জানতে চাইলেন। তিনি বললেনঃ তোমার সাদাকা ফিরিয়ে নিবে না। সে নির্দেশের কারণে ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর অভ্যাস ছিল নিজের দেয়া সাদাকার বস্তু কিনে ফেললে সেটি সাদাকা না করে ছাড়তেন না। (২৭৭৫, ২৯৭১, ৩০০২, মুসলিম ২৪/১, হাঃ ১৬২০, আহমাদ ৪৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৯)
অন্যের সাদাকাকৃত বস্তু ক্রয় করতে কোন দোষ নেই। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষভাবে সাদাকা প্রদানকারীকে তা ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, অন্যকে নিষেধ করেননি।
১৪৮৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করতেন যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আল্লাহর রাস্তায় তাঁর একটি ঘোড়া সাদাকা করেছিলেন। পরে তা বিক্রয় করা হচ্ছে জেনে তিনি নিজেই তা ব্যয় করার ইচ্ছায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে তাঁর মত জানতে চাইলেন। তিনি বললেনঃ তোমার সাদাকা ফিরিয়ে নিবে না। সে নির্দেশের কারণে ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর অভ্যাস ছিল নিজের দেয়া সাদাকার বস্তু কিনে ফেললে সেটি সাদাকা না করে ছাড়তেন না। (২৭৭৫, ২৯৭১, ৩০০২, মুসলিম ২৪/১, হাঃ ১৬২০, আহমাদ ৪৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯৯)
হাদিস নং: ১৪৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك بن انس عن زيد بن اسلم عن ابيه قال سمعت عمر يقول حملت على فرس في سبيل الله فاضاعه الذي كان عنده فاردت ان اشتريه وظننت انه يبيعه برخص فسالت النبي صلى الله عليه وسلم فقال لا تشتري ولا تعد في صدقتك وان اعطاكه بدرهم فان العاىد في صدقته كالعاىد في قيىه
১৪৯০. ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করলাম। যার কাছে ঘোড়াটি ছিল সে এর হাক আদায় করতে পারল না। তখন আমি তা ক্রয় করতে চাইলাম এবং আমার ধারণা ছিল যে, সে সেটি কম মূল্যে বিক্রি করবে। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ তুমি ক্রয় করবে না এবং তোমার সাদাকা ফিরিয়ে নিবে না, সে তা এক দিরহামের বিনিময়ে দিলেও। কেননা, যে ব্যক্তি নিজের সাদাকা ফিরিয়ে নেয় সে যেন নিজের বমি পুনঃ ভক্ষণ করে। (৩৬২৩, ২৬৩৬, ২/৯৭০, ৩০০৩, মুসলিম ২৪/১, হাঃ ১৬২০, আহমাদ ৪৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪০০)
হাদিস নং: ১৪৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة حدثنا محمد بن زياد قال سمعت ابا هريرة قال اخذ الحسن بن علي تمرة من تمر الصدقة فجعلها في فيه فقال النبي صلى الله عليه وسلم كخ كخ ليطرحها ثم قال اما شعرت انا لا ناكل الصدقة
১৪৯১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) সাদাকার একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ফেলে দেয়ার জন্য ওয়াক ওয়াক (বমির পূর্বের আওয়াজের মত) বললেন। অতঃপর বললেনঃ তুমি কি জানো না যে, আমরা সাদাকা ভক্ষণ করি না! (১৪৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪০১)
হাদিস নং: ১৪৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير حدثنا ابن وهب عن يونس عن ابن شهاب حدثني عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس قال وجد النبي صلى الله عليه وسلم شاة ميتة اعطيتها مولاة لميمونة من الصدقة فقال النبي هلا انتفعتم بجلدها قالوا انها ميتة قال انما حرم اكلها
১৪৯২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মায়মূনা (রাঃ) কর্তৃক আযাদকৃত জনৈক দাসীকে সাদাকা স্বরূপ প্রদত্ত একটি বকরীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এর চামড়া দিয়ে উপকৃত হও না কেন? তারা বললেনঃ এটা তো মৃত। তিনি বললেন, এটা কেবল ভক্ষণ হারাম করা হয়েছে। (২২২১, ৫৫৩১, ৫৫৩২, মুসলিম ৩/২৭, হাঃ ৩৬৩, আহমাদ ২০০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪০২)