হাদিস নং: ৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، قال حدثنا عبد الوارث، قال حدثنا خالد، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال ضمني رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال " اللهم علمه الكتاب ".
৭৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাকে জাপটে ধরে বললেন, ‘হে আল্লাহ্! আপনি তাকে কিতাবের (কুরআন) জ্ঞান দান করুন।’ (১৪৩, ৩৭৫৬, ৭২৭০; মুসলিম ৪৪/৩০ হাঃ ২৪৭৭, আহমাদ ২৩৯৭, ২৮৮১, ৩০২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫)
হাদিস নং: ৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن ابي اويس، قال حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن عبد الله بن عباس، قال اقبلت راكبا على حمار اتان، وانا يومىذ قد ناهزت الاحتلام، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي بمنى الى غير جدار، فمررت بين يدى بعض الصف وارسلت الاتان ترتع، فدخلت في الصف، فلم ينكر ذلك على.
৭৬. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাবালক হবার নিকটবর্তী বয়সে একদা একটি গাধীর উপর আরোহিত অবস্থায় এলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মিনায় সালাত আদায় করছিলেন তার সামনে কোন দেয়াল না রেখেই। তখন আমি কোন এক কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং গাধীটিকে বিচরণের জন্য ছেড়ে দিলাম। আমি কাতারের ভেতর ঢুকে পড়লাম কিন্তু এতে কেউ আমাকে নিষেধ করেননি। (৪৯৩, ৮৬১, ১৮৫৭, ৪৪১২; মুসলিম ৪/৪৭ হাঃ ৫০৪, আহমাদ ১৮৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬)
হাদিস নং: ৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن يوسف، قال حدثنا ابو مسهر، قال حدثني محمد بن حرب، حدثني الزبيدي، عن الزهري، عن محمود بن الربيع، قال عقلت من النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مجة مجها في وجهي وانا ابن خمس سنين من دلو.
৭৭. মাহমূদ ইবনুর-রাবী‘ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মনে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বালতি থেকে পানি নিয়ে আমার মুখমণ্ডল
ের উপর কুলি করে দিয়েছিলেন, তখন আমি ছিলাম পাঁচ বছরের বালক। (১৮৯, ৮৩৯, ১১৮৫, ৬৩৫৪, ৬৪২২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭)
ের উপর কুলি করে দিয়েছিলেন, তখন আমি ছিলাম পাঁচ বছরের বালক। (১৮৯, ৮৩৯, ১১৮৫, ৬৩৫৪, ৬৪২২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭)
হাদিস নং: ৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو القاسم، خالد بن خلي قال حدثنا محمد بن حرب، قال قال الاوزاعي اخبرنا الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابن عباس، انه تمارى هو والحر بن قيس بن حصن الفزاري في صاحب موسى، فمر بهما ابى بن كعب، فدعاه ابن عباس فقال اني تماريت انا وصاحبي هذا في صاحب موسى الذي سال السبيل الى لقيه، هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر شانه فقال ابى نعم، سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يذكر شانه يقول " بينما موسى في ملا من بني اسراىيل، اذ جاءه رجل فقال اتعلم احدا اعلم منك قال موسى لا. فاوحى الله عز وجل الى موسى بلى، عبدنا خضر، فسال السبيل الى لقيه، فجعل الله له الحوت اية، وقيل له اذا فقدت الحوت فارجع، فانك ستلقاه، فكان موسى صلى الله عليه وسلم يتبع اثر الحوت في البحر. فقال فتى موسى لموسى ارايت اذ اوينا الى الصخرة فاني نسيت الحوت، وما انسانيه الا الشيطان ان اذكره. قال موسى ذلك ما كنا نبغي. فارتدا على اثارهما قصصا، فوجدا خضرا، فكان من شانهما ما قص الله في كتابه ".
وَرَحَلَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ أُنَيْسٍ فِي حَدِيثٍ وَاحِدٍ.
জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাযি.) একটি মাত্র হাদীসের জন্য ’আব্দুল্লাহ্ ইবনু উনায়স (রাযি.)-এর নিকট এক মাসের পথ সফর করে গিয়েছিলেন।
৭৮. ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি এবং হুর ইবনু কায়স ইবনু হিসন আল-ফাযারীর মধ্যে মূসা (আ)-এর সম্পর্কে বাদানুবাদ হলো। ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বললেন, তিনি ছিলেন খিযর। ঘটনাক্রমে তখন তাদের পাশ দিয়ে উবাঈ ইব্ন কা’ব (রাযি.) যাচ্ছিলেন। ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেনঃ আমি ও আমার এ ভাই মূসা (আ)-এর সেই সহচর সম্পর্কে বাদানুবাদ করছি যাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য মূসা (আ) আল্লাহর নিকট পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, একদা মূসা (আ) বনী ইসরাঈলের কোন এক মাজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, ’আপনি কাউকে আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী বলে মনে করেন কি?’ মূসা (আ) বললেন, ’না।’ তখন আল্লাহ্ তা’আলা মূসা (আ)-এর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করলেনঃ ’হ্যাঁ, আমার বান্দা খিযর।’ অতঃপর মূসা (আ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য পথের সন্ধান চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা মাছকে তার জন্য নিদর্শন বানিয়ে দিলেন এবং তাঁকে বলা হল, যখন তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে তখন ফিরে যাবে। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি তাঁর সাথে মিলিত হবে। তখন তিনি সমুদ্রে সে মাছের নিদর্শন অনুসরণ করতে লাগলেন। মূসা (আ)-কে তাঁর সঙ্গী যুবক (ইউশা ইবনু নূন) বললেন, (কুরআন মজীদের ভাষায়ঃ) আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আমরা যখন পাথরের নিকট বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই তার কথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মূসা বললেন, আমরা তো সেটিরই সন্ধান করছিলাম। অতঃপর তারা নিজেদের পদ চিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চলল। (সূরাহ্ কাহাফ ১৮/৬৩-৬৪)
তাঁরা খিযরকে পেলেন। এ হল তাদের দু’জনের ঘটনা, যা আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর কিতাবে বিবৃত করেছেন। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮)
জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাযি.) একটি মাত্র হাদীসের জন্য ’আব্দুল্লাহ্ ইবনু উনায়স (রাযি.)-এর নিকট এক মাসের পথ সফর করে গিয়েছিলেন।
৭৮. ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি এবং হুর ইবনু কায়স ইবনু হিসন আল-ফাযারীর মধ্যে মূসা (আ)-এর সম্পর্কে বাদানুবাদ হলো। ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বললেন, তিনি ছিলেন খিযর। ঘটনাক্রমে তখন তাদের পাশ দিয়ে উবাঈ ইব্ন কা’ব (রাযি.) যাচ্ছিলেন। ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেনঃ আমি ও আমার এ ভাই মূসা (আ)-এর সেই সহচর সম্পর্কে বাদানুবাদ করছি যাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য মূসা (আ) আল্লাহর নিকট পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, একদা মূসা (আ) বনী ইসরাঈলের কোন এক মাজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, ’আপনি কাউকে আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী বলে মনে করেন কি?’ মূসা (আ) বললেন, ’না।’ তখন আল্লাহ্ তা’আলা মূসা (আ)-এর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করলেনঃ ’হ্যাঁ, আমার বান্দা খিযর।’ অতঃপর মূসা (আ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য পথের সন্ধান চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা মাছকে তার জন্য নিদর্শন বানিয়ে দিলেন এবং তাঁকে বলা হল, যখন তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে তখন ফিরে যাবে। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি তাঁর সাথে মিলিত হবে। তখন তিনি সমুদ্রে সে মাছের নিদর্শন অনুসরণ করতে লাগলেন। মূসা (আ)-কে তাঁর সঙ্গী যুবক (ইউশা ইবনু নূন) বললেন, (কুরআন মজীদের ভাষায়ঃ) আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আমরা যখন পাথরের নিকট বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই তার কথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মূসা বললেন, আমরা তো সেটিরই সন্ধান করছিলাম। অতঃপর তারা নিজেদের পদ চিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চলল। (সূরাহ্ কাহাফ ১৮/৬৩-৬৪)
তাঁরা খিযরকে পেলেন। এ হল তাদের দু’জনের ঘটনা, যা আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর কিতাবে বিবৃত করেছেন। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮)
হাদিস নং: ৭৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن العلاء، قال حدثنا حماد بن اسامة، عن بريد بن عبد الله، عن ابي بردة، عن ابي موسى، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " مثل ما بعثني الله به من الهدى والعلم كمثل الغيث الكثير اصاب ارضا، فكان منها نقية قبلت الماء، فانبتت الكلا والعشب الكثير، وكانت منها اجادب امسكت الماء، فنفع الله بها الناس، فشربوا وسقوا وزرعوا، واصابت منها طاىفة اخرى، انما هي قيعان لا تمسك ماء، ولا تنبت كلا، فذلك مثل من فقه في دين الله ونفعه ما بعثني الله به، فعلم وعلم، ومثل من لم يرفع بذلك راسا، ولم يقبل هدى الله الذي ارسلت به ". قال ابو عبد الله قال اسحاق وكان منها طاىفة قيلت الماء. قاع يعلوه الماء، والصفصف المستوي من الارض.
৭৯. আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে যে হিদায়াত ও ‘ইল্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হল যমীনের উপর পতিত প্রবল বর্ষণের ন্যায়। কোন কোন ভূমি থাকে উর্বর যা সে পানি শুষে নিয়ে প্রচুর পরিমাণে ঘাসপাতা এবং সবুজ তরুলতা উৎপাদন করে। আর কোন কোন ভূমি থাকে কঠিন যা পানি আটকে রাখে। পরে আল্লাহ তা‘আলা তা দিয়ে মানুষের উপকার করেন; তারা নিজেরা পান করে ও (পশুপালকে) পান করায় এবং তা দ্বারা চাষাবাদ করে। আবার কোন কোন জমি রয়েছে যা একেবারে মসৃণ ও সমতল; তা না পানি আটকে রাখে, আর না কোন ঘাসপাতা উৎপাদন করে। এই হল সে ব্যক্তির দৃষ্টান্ত যে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করে এবং আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে যা দিয়ে প্রেরণ করেছেন তাতে সে উপকৃত হয়। ফলে সে নিজে শিক্ষা করে এবং অপরকে শিখায়। আর সে ব্যক্তিরও দৃষ্টান্ত- যে সে দিকে মাথা তুলে দেখে না এবং আল্লাহর যে হিদায়াত নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তা গ্রহণও করে না।
আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেনঃ ইসহাক (রহ.) আবূ উসামাহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেনঃ তিনি قلت এর স্থলে قَيَّلَتْ (আটকিয়ে রাখে) ব্যবহার করেছেন। قاع হল এমন ভূমি যার উপর পানি জমে থাকে। আর الصَّفْصَفُ হল সমতল ভূমি। (মুসলিম ৪৩/৫ হাঃ ২২৮২, আহমাদ ১৯৫৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯)
আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেনঃ ইসহাক (রহ.) আবূ উসামাহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেনঃ তিনি قلت এর স্থলে قَيَّلَتْ (আটকিয়ে রাখে) ব্যবহার করেছেন। قاع হল এমন ভূমি যার উপর পানি জমে থাকে। আর الصَّفْصَفُ হল সমতল ভূমি। (মুসলিম ৪৩/৫ হাঃ ২২৮২, আহমাদ ১৯৫৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯)
হাদিস নং: ৮০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمران بن ميسرة، قال حدثنا عبد الوارث، عن ابي التياح، عن انس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان من اشراط الساعة ان يرفع العلم، ويثبت الجهل، ويشرب الخمر، ويظهر الزنا ".
وَقَالَ رَبِيعَةُ لاَ يَنْبَغِي لِأَحَدٍ عِنْدَهُ شَيْءٌ مِنَ الْعِلْمِ أَنْ يُضَيِّعَ نَفْسَهُ.
রাবী’আহ (রহ.) বলেন, ’যার নিকট সামান্য জ্ঞান আছে, তার উচিত নয় নিজেকে অপমানিত করা
৮০. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, কিয়ামতের কিছু ’আলামত হলঃ ’ইল্ম হ্রাস পাবে, অজ্ঞতা প্রসারতা লাভ করবে, মদপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং যেনা ব্যভিচার বিস্তার লাভ করবে। (৮১, ৫২৩১, ৫৫৭৭, ৬৮০৮; মুসলিম ৪৭/৪ হাঃ ২৬৭১, আহমাদ ১৩০৯৩, ১৪০৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০)
রাবী’আহ (রহ.) বলেন, ’যার নিকট সামান্য জ্ঞান আছে, তার উচিত নয় নিজেকে অপমানিত করা
৮০. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, কিয়ামতের কিছু ’আলামত হলঃ ’ইল্ম হ্রাস পাবে, অজ্ঞতা প্রসারতা লাভ করবে, মদপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং যেনা ব্যভিচার বিস্তার লাভ করবে। (৮১, ৫২৩১, ৫৫৭৭, ৬৮০৮; মুসলিম ৪৭/৪ হাঃ ২৬৭১, আহমাদ ১৩০৯৩, ১৪০৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০)
হাদিস নং: ৮১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال حدثنا يحيى، عن شعبة، عن قتادة، عن انس، قال لاحدثنكم حديثا لا يحدثكم احد بعدي سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من اشراط الساعة ان يقل العلم، ويظهر الجهل، ويظهر الزنا، وتكثر النساء ويقل الرجال، حتى يكون لخمسين امراة القيم الواحد ".
৮১. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদীস বর্ণনা করব যা আমার পর তোমাদের নিকট আর কেউ বর্ণনা করবে না। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের কিছু আলামাত হলঃ ‘ইল্ম হ্রাস পাবে, অজ্ঞতার প্রসার ঘটবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, স্ত্রীলোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে, এমনকি প্রতি পঞ্চাশজন স্ত্রীলোকের জন্য মাত্র একজন পুরুষ হবে পরিচালক। (৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১)
হাদিস নং: ৮২
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثني الليث، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، عن حمزة بن عبد الله بن عمر، ان ابن عمر، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " بينا انا ناىم اتيت بقدح لبن، فشربت حتى اني لارى الري يخرج في اظفاري، ثم اعطيت فضلي عمر بن الخطاب ". قالوا فما اولته يا رسول الله قال " العلم ".
৮২. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, একদা আমি নিদ্রাবস্থায় ছিলাম। তখন (স্বপ্নে) আমার নিকট এক পিয়ালা দুধ নিয়ে আসা হল। আমি তা পান করলাম। এমনকি আমার মনে হতে লাগল যে, সে পরিতৃপ্তি আমার নখ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। অতঃপর অবশিষ্টাংশ আমি ‘উমার ইবনুল-খাত্তাবকে দিলাম। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এ স্বপ্নের কী ব্যাখ্যা করেন? তিনি জবাবে বললেনঃ তা হল আল-‘ইলম। (৩৬৮১,৭০০৬,৭০০৭,৭০২৭,৭০৩২; মুসলিম ৪৩/২ হাঃ ২৩৯১, আহমাদ ৫৫৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২)
হাদিস নং: ৮৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن عيسى بن طلحة بن عبيد الله، عن عبد الله بن عمرو بن العاص، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم وقف في حجة الوداع بمنى للناس يسالونه، فجاءه رجل فقال لم اشعر فحلقت قبل ان اذبح. فقال " اذبح ولا حرج ". فجاء اخر فقال لم اشعر، فنحرت قبل ان ارمي. قال " ارم ولا حرج ". فما سىل النبي صلى الله عليه وسلم عن شىء قدم ولا اخر الا قال افعل ولا حرج.
৮৩. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আস (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজ্জের দিবসে মিনায় লোকদের সম্মুখে (বাহনের উপর) দাঁড়ালেন। লোকেরা তাঁকে বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞেস করছিল। জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, আমি ভুলক্রমে কুরবানীর পূর্বেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবেহ কর, কোন ক্ষতি নেই। আর এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ভুলক্রমে কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কঙ্কর ছুঁড়ো, কোন অসুবিধে নেই। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমার (রাযি.) বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন পূর্বে বা পরে করা যে কোন কাজ সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হচ্ছিলেন, তিনি এ কথাই বলেছিলেনঃ কর, কোন ক্ষতি নেই।* (১২৪,১৭৩৬,১৭৩৭,১৭৩৮,৬৬৬৫; মুসলিম ১৫/৫৭ হাঃ ১৩০৬, আহমাদ ৬৪৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩)
নোট: * হানাফি মাযহাব মতে কাফফারা দিতে হবে কিন্তু এর কোন সহিহ হাদিসভিত্তিক দলিল নেই। বরং এটা হাদিস বিরোধী মত।
হাদিস নং: ৮৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا وهيب، قال حدثنا ايوب، عن عكرمة، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم سىل في حجته فقال ذبحت قبل ان ارمي، فاوما بيده قال ولا حرج. قال حلقت قبل ان اذبح. فاوما بيده ولا حرج.
৮৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। হাজ্জের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসিত হলেন। কোন একজন বললঃ আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই যবেহ (কুরবানী) করে ফেলেছি। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেনঃ কোন অসুবিধে নেই। আর এক ব্যক্তি বললঃ আমি যবেহ করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করে ফেলেছি। তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেনঃ কোন ক্ষতি নেই। (১৭২১, ১৭২২, ১৭২৩, ১৭৩৪, ৬৬৬৬ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪)
হাদিস নং: ৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا المكي بن ابراهيم، قال اخبرنا حنظلة بن ابي سفيان، عن سالم، قال سمعت ابا هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " يقبض العلم، ويظهر الجهل والفتن، ويكثر الهرج ". قيل يا رسول الله وما الهرج فقال هكذا بيده، فحرفها، كانه يريد القتل.
৮৫. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (শেষ যামানায়) ‘ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে, অজ্ঞতা ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে এবং ‘হার্জ’ বেড়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! ‘হার্জ’ কী? তিনি হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেনঃ ‘এ রকম’। যেন তিনি এর দ্বারা ‘হত্যা বুঝিয়েছিলেন। (১০৩৬, ১৪১২, ৩৬০৮, ৪৬৩৫, ৬০৩৭, ৬৫০৬, ৬৯৩৫, ৭০৬১, ৭১১৫, ৭১২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫)
হাদিস নং: ৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا وهيب، قال حدثنا هشام، عن فاطمة، عن اسماء، قالت اتيت عاىشة وهي تصلي فقلت ما شان الناس فاشارت الى السماء، فاذا الناس قيام، فقالت سبحان الله. قلت اية فاشارت براسها، اى نعم، فقمت حتى تجلاني الغشى، فجعلت اصب على راسي الماء، فحمد الله عز وجل النبي صلى الله عليه وسلم واثنى عليه، ثم قال " ما من شىء لم اكن اريته الا رايته في مقامي حتى الجنة والنار، فاوحي الى انكم تفتنون في قبوركم، مثل ـ او قريبا لا ادري اى ذلك قالت اسماء ـ من فتنة المسيح الدجال، يقال ما علمك بهذا الرجل فاما المومن ـ او الموقن لا ادري بايهما قالت اسماء ـ فيقول هو محمد رسول الله جاءنا بالبينات والهدى، فاجبنا واتبعنا، هو محمد. ثلاثا، فيقال نم صالحا، قد علمنا ان كنت لموقنا به، واما المنافق ـ او المرتاب لا ادري اى ذلك قالت اسماء ـ فيقول لا ادري، سمعت الناس يقولون شيىا فقلته ".
৮৬. আসমা (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ (রাযি.)-র নিকট আসলাম, তিনি তখন সালাত রত ছিলেন। আমি বললাম, ’মানুষের কী হয়েছে?’ তিনি আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন (সূর্য গ্রহণ লেগেছে)। তখন সকল লোক (সালাতুল কুসূফ এর জন্য) দাঁড়িয়ে রয়েছে। ’আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তিনি মাথা দিয়ে ইঙ্গিত করলেন, ’হ্যাঁ।’ অতঃপর আমি (সালাতে) দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি (দীর্ঘতার কারণে) আমার জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হল। তাই আমি মাথায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর হাম্দ ও সানা পাঠ করলেন। অতঃপর বললেনঃ যা কিছু আমাকে ইতোপূর্বে দেখানো হয়নি, তা আমি আমার এ স্থানেই দেখতে পেয়েছি। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নামও। অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা আমার নিকট ওয়াহী প্রেরণ করলেন, ’দাজ্জালের ন্যায় (কঠিন) পরীক্ষা অথবা তার কাছাকাছি বিপদ দিয়ে তোমাদেরকে কবরে পরীক্ষায় ফেলা হবে।’
ফাতিমাহ (রাযি.) বলেন, আসমা (রাযি.) مثل (অনুরূপ) শব্দ বলেছিলেন, قريب (কাছাকাছি) শব্দ, তা ঠিক আমার স্মরণ নেই। (কবরের মধ্যে) বলা হবে, ’এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী জান?’ তখন মু’মিন ব্যক্তি বা মু’কিন (বিশ্বাসী) ব্যক্তি [ফাতিমাহ (রাযি.) বলেন] আসমা (রাযি.) এর কোন্ শব্দটি বলেছিলেন আমি জানিনা], বলবে, ’তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , তিনি আল্লাহর রাসূল। আমাদের নিকট মু’জিযা ও হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তা গ্রহণ করেছিলাম এবং তাঁর ইততিবা’ করেছিলাম। তিনি মুহাম্মাদ।’ তিনবার এরূপ বলবে। তখন তাকে বলা হবে, আরামে ঘুমিয়ে থাক, আমরা জানতে পারলাম যে, তুমি (দুনিয়ায়) তাঁর উপর বিশ্বাসী ছিলে। আর মুনাফিক অথবা মুরতাব (সন্দেহ পোষণকারী) ফাতিমাহ বলেন, আসমা কোনটি বলেছিলেন, আমি ঠিক মনে করতে পারছি না- বলবে, আমি কিছুই জানি না। মানুষকে (তাঁর সম্পর্কে) যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি। (১৮৪, ৯২২, ১০৫৩, ১০৫৪, ১০৬১, ১২৩৫, ১৩৭৩, ২৫১৯, ২৫২০, ৭২৮৭; মুসলিম ১০/২ হাঃ ৯০৫, আহমাদ ২৬৯৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬)
ফাতিমাহ (রাযি.) বলেন, আসমা (রাযি.) مثل (অনুরূপ) শব্দ বলেছিলেন, قريب (কাছাকাছি) শব্দ, তা ঠিক আমার স্মরণ নেই। (কবরের মধ্যে) বলা হবে, ’এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী জান?’ তখন মু’মিন ব্যক্তি বা মু’কিন (বিশ্বাসী) ব্যক্তি [ফাতিমাহ (রাযি.) বলেন] আসমা (রাযি.) এর কোন্ শব্দটি বলেছিলেন আমি জানিনা], বলবে, ’তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , তিনি আল্লাহর রাসূল। আমাদের নিকট মু’জিযা ও হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তা গ্রহণ করেছিলাম এবং তাঁর ইততিবা’ করেছিলাম। তিনি মুহাম্মাদ।’ তিনবার এরূপ বলবে। তখন তাকে বলা হবে, আরামে ঘুমিয়ে থাক, আমরা জানতে পারলাম যে, তুমি (দুনিয়ায়) তাঁর উপর বিশ্বাসী ছিলে। আর মুনাফিক অথবা মুরতাব (সন্দেহ পোষণকারী) ফাতিমাহ বলেন, আসমা কোনটি বলেছিলেন, আমি ঠিক মনে করতে পারছি না- বলবে, আমি কিছুই জানি না। মানুষকে (তাঁর সম্পর্কে) যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি। (১৮৪, ৯২২, ১০৫৩, ১০৫৪, ১০৬১, ১২৩৫, ১৩৭৩, ২৫১৯, ২৫২০, ৭২৮৭; মুসলিম ১০/২ হাঃ ৯০৫, আহমাদ ২৬৯৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬)
হাদিস নং: ৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا غندر، قال حدثنا شعبة، عن ابي جمرة، قال كنت اترجم بين ابن عباس وبين الناس فقال ان وفد عبد القيس اتوا النبي صلى الله عليه وسلم فقال " من الوفد ـ او من القوم ". قالوا ربيعة. فقال " مرحبا بالقوم ـ او بالوفد ـ غير خزايا ولا ندامى ". قالوا انا ناتيك من شقة بعيدة، وبيننا وبينك هذا الحى من كفار مضر، ولا نستطيع ان ناتيك الا في شهر حرام فمرنا بامر نخبر به من وراءنا، ندخل به الجنة. فامرهم باربع، ونهاهم عن اربع امرهم بالايمان بالله عز وجل وحده. قال " هل تدرون ما الايمان بالله وحده ". قالوا الله ورسوله اعلم. قال " شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله، واقام الصلاة، وايتاء الزكاة، وصوم رمضان، وتعطوا الخمس من المغنم ". ونهاهم عن الدباء والحنتم والمزفت. قال شعبة ربما قال النقير، وربما قال المقير. قال " احفظوه واخبروه من وراءكم ".
وَقَالَ مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ قَالَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ.
মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযি.) বলেন, নবী (সঃ) আমাদের বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের গোত্রের নিকট ফিরে যাও এবং তাদেরকে শিক্ষা দাও।
৮৭. আবূ জামরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) ও লোকদের মধ্যে ভাষান্তরের কাজ করতাম। একদা ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বললেন, ’আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ প্রতিনিধি দল? অথবা বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? তারা বলল, ’রাবী’আহ গোত্রের। তিনি বললেনঃ ’স্বাগতম। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ ও লাঞ্ছিত না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ’আমরা বহু দূর হতে আপনার নিকট এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মধ্যে রয়েছে কাফিরদের এই ’মুযার’ গোত্রের বাস। আমরা নিষিদ্ধ মাস ব্যতীত আপনার নিকট আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছাতে এবং তার ওয়াসীলায় আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।’ তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপনের আদেশ করলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন কীরূপে হয় জান? তারা বললঃ ’আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ’তা হল এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত আদায় করা এবং রমাযান-এর সিয়াম পালন করা আর তোমরা গনীমাতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো কদুর খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরা দ্বারা রঙ করা পাত্র ব্যবহার করতে। শু’বা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরি পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও النَّقِيرِ -এর স্থলে الْمُقَيَّرِ বলেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছে দাও। (৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭)
মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযি.) বলেন, নবী (সঃ) আমাদের বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের গোত্রের নিকট ফিরে যাও এবং তাদেরকে শিক্ষা দাও।
৮৭. আবূ জামরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) ও লোকদের মধ্যে ভাষান্তরের কাজ করতাম। একদা ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বললেন, ’আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ প্রতিনিধি দল? অথবা বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? তারা বলল, ’রাবী’আহ গোত্রের। তিনি বললেনঃ ’স্বাগতম। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ ও লাঞ্ছিত না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ’আমরা বহু দূর হতে আপনার নিকট এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মধ্যে রয়েছে কাফিরদের এই ’মুযার’ গোত্রের বাস। আমরা নিষিদ্ধ মাস ব্যতীত আপনার নিকট আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছাতে এবং তার ওয়াসীলায় আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।’ তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপনের আদেশ করলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন কীরূপে হয় জান? তারা বললঃ ’আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ’তা হল এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত আদায় করা এবং রমাযান-এর সিয়াম পালন করা আর তোমরা গনীমাতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো কদুর খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরা দ্বারা রঙ করা পাত্র ব্যবহার করতে। শু’বা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরি পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও النَّقِيرِ -এর স্থলে الْمُقَيَّرِ বলেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছে দাও। (৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭)
হাদিস নং: ৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن مقاتل ابو الحسن، قال اخبرنا عبد الله، قال اخبرنا عمر بن سعيد بن ابي حسين، قال حدثني عبد الله بن ابي مليكة، عن عقبة بن الحارث، انه تزوج ابنة لابي اهاب بن عزيز، فاتته امراة فقالت اني قد ارضعت عقبة والتي تزوج بها. فقال لها عقبة ما اعلم انك ارضعتني ولا اخبرتني. فركب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة فساله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كيف وقد قيل ". ففارقها عقبة، ونكحت زوجا غيره.
৮৮. ‘উকবাহ ইবনুল হারিস (রাযি.) বর্ণনা করেন, তিনি আবূ ইহাব ইবনু ‘আযীয (রাযি.)-এর কন্যাকে বিয়ে করলে তাঁর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বলল, আমি ‘উকবাহ (রাযি.)-কে এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) দুধ পান করিয়েছি। ‘উকবাহ তাকে বললেন আমি জানি না তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ, আর (ইতোপূর্বে) তুমি আমাকে একথা জানাও নি। অতঃপর তিনি মদিনা্য় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ কথার পর তুমি কীভাবে তার সঙ্গে সংসার করবে? অতঃপর ‘উকবাহ তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং সে মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল। (২০৫২, ২৬৪০, ২৬৫৯, ২৬৬০, ৫১০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮)
হাদিস নং: ৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، ح قال ابو عبد الله وقال ابن وهب اخبرنا يونس، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن ابي ثور، عن عبد الله بن عباس، عن عمر، قال كنت انا وجار، لي من الانصار في بني امية بن زيد، وهى من عوالي المدينة، وكنا نتناوب النزول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يوما وانزل يوما، فاذا نزلت جىته بخبر ذلك اليوم من الوحى وغيره، واذا نزل فعل مثل ذلك، فنزل صاحبي الانصاري يوم نوبته، فضرب بابي ضربا شديدا. فقال اثم هو ففزعت فخرجت اليه فقال قد حدث امر عظيم. قال فدخلت على حفصة فاذا هي تبكي فقلت طلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت لا ادري. ثم دخلت على النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فقلت وانا قاىم اطلقت نساءك قال " لا ". فقلت الله اكبر.
৮৯. ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী বনি উমাইয়াহ ইবনু যায়দের মহল্লায় বাস করতাম। এ মহল্লাটি ছিল মদিনার উঁচু এলাকায় অবস্থিত। আমরা দু’জনে পালাক্রমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হতাম। তিনি একদিন আসতেন আর আমি একদিন আসতাম। আমি যেদিন আসতাম, সেদিনের ওয়াহী প্রভৃতির খবর নিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিতাম। আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তিনিও তাই করতেন। অতঃপর একদা আমার আনসারী সাথী তাঁর পালার দিন আসলেন এবং (সেখান থেকে ফিরে) আমার দরজায় খুব জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন। (আমার নাম নিয়ে) বলতে লাগলেন, তিনি কি এখানে আছেন? আমি ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দিকে গেলাম। তিনি বললেন, এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন]। আমি তখনি (আমার কন্যা) হাফসাহ (রাযি.)-এর নিকট গেলাম। তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘আমি জানি না।’ অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম এবং দাঁড়িয়ে থেকেই বললামঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন? জবাবে তিনি বললেনঃ ‘না।’ আমি তখন বললাম ‘আল্লাহ আকবার’। (২৪৬৮, ৪৯১৩, ৪৯১৫, ৫১৯১, ৫২১৮, ৫৮৪৩, ৭২৫৬, ৭২৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯)
হাদিস নং: ৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير، قال اخبرنا سفيان، عن ابن ابي خالد، عن قيس بن ابي حازم، عن ابي مسعود الانصاري، قال قال رجل يا رسول الله، لا اكاد ادرك الصلاة مما يطول بنا فلان، فما رايت النبي صلى الله عليه وسلم في موعظة اشد غضبا من يومىذ فقال " ايها الناس، انكم منفرون، فمن صلى بالناس فليخفف، فان فيهم المريض والضعيف وذا الحاجة ".
৯০. আবূ মাস‘ঊদ আনসারী (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি সালাতে (জামা‘আতে) শামিল হতে পারি না। কারণ অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। [আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন,] আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কোন নাসীহাতের মাজলিসে সেদিনের তুলনায় অধিক রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর। অতএব যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারণ তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোকও থাকে। (৭০২, ৭০৪, ৬১১০, ৭১৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০)
হাদিস নং: ৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا ابو عامر، قال حدثنا سليمان بن بلال المديني، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، عن يزيد، مولى المنبعث عن زيد بن خالد الجهني، ان النبي صلى الله عليه وسلم ساله رجل عن اللقطة فقال " اعرف وكاءها ـ او قال وعاءها ـ وعفاصها، ثم عرفها سنة، ثم استمتع بها، فان جاء ربها فادها اليه ". قال فضالة الابل فغضب حتى احمرت وجنتاه ـ او قال احمر وجهه ـ فقال " وما لك ولها معها سقاوها وحذاوها، ترد الماء، وترعى الشجر، فذرها حتى يلقاها ربها ". قال فضالة الغنم قال " لك او لاخيك او للذىب ".
৯১. যায়দ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাযি.) হতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তার বাঁধনের রশি অথবা বললেন, থলে-ঝুলি ভাল করে চিনে রাখ। অতঃপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক। তারপর (মালিক পাওয়া না গেলে) তুমি তা ব্যবহার কর। অতঃপর যদি এর প্রাপক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। সে বলল, ‘হারানো উটের ব্যাপারে কী করতে হবে?’ এ কথা শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন রাগ করলেন যে, তাঁর গাল দু’টো লাল হয়ে গেল। অথবা বর্ণণাকারী বলেন, তাঁর মুখমণ্ডল
লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ ‘উট নিয়ে তোমার কী হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির নিকট যেতে পারে এবং গাছ খেতে পারে। কাজেই তাকে ছেড়ে দাও এমন সময়ের মধ্যে তার মালিক তাকে পেয়ে যাবে।’ সে বলল, ‘হারানো ছাগল পাওয়া গেলে?’ তিনি বললেন, ‘সেটি তোমার হবে, নাহলে তোমার ভাইয়ের, না হলে বাঘের।’ (২৩৭২, ২৪২৭, ২৪২৮, ২৪২৯, ২৪৩৬, ২৪৩৮, ৫২৯২, ৬১১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১)
লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ ‘উট নিয়ে তোমার কী হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির নিকট যেতে পারে এবং গাছ খেতে পারে। কাজেই তাকে ছেড়ে দাও এমন সময়ের মধ্যে তার মালিক তাকে পেয়ে যাবে।’ সে বলল, ‘হারানো ছাগল পাওয়া গেলে?’ তিনি বললেন, ‘সেটি তোমার হবে, নাহলে তোমার ভাইয়ের, না হলে বাঘের।’ (২৩৭২, ২৪২৭, ২৪২৮, ২৪২৯, ২৪৩৬, ২৪৩৮, ৫২৯২, ৬১১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১)
হাদিস নং: ৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن العلاء، قال حدثنا ابو اسامة، عن بريد، عن ابي بردة، عن ابي موسى، قال سىل النبي صلى الله عليه وسلم عن اشياء كرهها، فلما اكثر عليه غضب، ثم قال للناس " سلوني عما شىتم ". قال رجل من ابي قال " ابوك حذافة ". فقام اخر فقال من ابي يا رسول الله فقال " ابوك سالم مولى شيبة ". فلما راى عمر ما في وجهه قال يا رسول الله، انا نتوب الى الله عز وجل.
৯২. আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদেরকে বললেনঃ ‘তোমরা আমার নিকট যা ইচ্ছা প্রশ্ন কর।’ জনৈক ব্যক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফাহ।’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হল শায়বার দাস সালিম।’ তখন ‘উমার (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট তওবা করছি।’ (৭২৯১; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২)
হাদিস নং: ৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج، فقام عبد الله بن حذافة فقال من ابي فقال " ابوك حذافة ". ثم اكثر ان يقول " سلوني ". فبرك عمر على ركبتيه فقال رضينا بالله ربا، وبالاسلام دينا، وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبيا، فسكت.
৯৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু হুযাফাহ দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফাহ।’ অতঃপর তিনি বারবার বলতে লাগলেন, ‘তোমরা আমাকে প্রশ্ন কর।’ ‘উমার (রাযি.) তখন জানু পেতে বসে বললেনঃ ‘আমরা আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছি।’ তিনি এ কথা তিনবার বললেন। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হলেন। (৫৪০, ৭৪৯, ৪৬২১, ৬৩৬২, ৬৪৬৮, ৬৪৮৬, ৭০৮৯, ৭০৯০, ৭০৯১, ৭২৯৪, ৭২৯৫; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৫৯, আহমাদ ১২৬৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩)
হাদিস নং: ৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدة، قال حدثنا عبد الصمد، قال حدثنا عبد الله بن المثنى، قال حدثنا ثمامة بن عبد الله، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم انه كان اذا سلم سلم ثلاثا، واذا تكلم بكلمة اعادها ثلاثا.
فَقَالَ أَلاَ وَقَوْلُ الزُّورِ فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَلْ بَلَّغْتُ ثَلاَثًا.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ’মিথ্যা কথা থেকে সাবধান!’ এ কথাটি পুনঃ পুনঃ বলতে লাগলেন। ইবনু ’উমার (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিদায় হাজ্জে) বলেছেন আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? একথা তিনি তিনবার বলেছেন।
৯৪. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম দিতেন, তিনবার সালাম দিতেন। আর যখন কোন কথা বলতেন তখন তা তিনবার বলতেন। (৯৫, ৬২৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ’মিথ্যা কথা থেকে সাবধান!’ এ কথাটি পুনঃ পুনঃ বলতে লাগলেন। ইবনু ’উমার (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিদায় হাজ্জে) বলেছেন আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? একথা তিনি তিনবার বলেছেন।
৯৪. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম দিতেন, তিনবার সালাম দিতেন। আর যখন কোন কথা বলতেন তখন তা তিনবার বলতেন। (৯৫, ৬২৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪)